৮ মে ২০২৬, ৪:০৮ পিএম

আইপিএলে 'অসদাচরণ এবং প্রোটোকল লঙ্ঘনের' কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনার তথ্য পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিসিসিআই)। বোর্ডের দুর্নীতি দমন ইউনিটের (এসিইউ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে আইপিএল খেলোয়াড়দের হোটেলের রুমে পূর্ব অনুমতি ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। মূলত সম্ভাব্য ‘হানি ট্র্যাপ’, আইনি জটিলতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইপিএলের ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য পাঠানো এক বিস্তারিত নির্দেশনায় বিসিসিআই জানিয়েছে, খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের রুমে কোনো অতিথির প্রবেশের জন্য এখন থেকে টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক। খেলা চলাকালীন মালিকদের খেলোয়াড়দের সঙ্গে যেকোনো ধরণের কথা বলা বা দেখা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিসিসিআই।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, ‘চলমান মৌসুমে লক্ষ্য করা কিছু ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত সকল অংশীজনদের মধ্যে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা সচেতনতা এবং প্রোটোকল মেনে চলার মানদণ্ড আরও শক্তিশালী করা।’
আরও পড়ুন
| লাল বলেও শান্ত দ্যুতি |
|
তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, ‘বিসিসিআইয়ের নজরে এসেছে যে, বর্তমান আইপিএল চলাকালীন খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ এবং দলের কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছু অসদাচরণ ও প্রোটোকল লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়গুলো যদি এখনই সমাধান করা না হয়, তবে তা টুর্নামেন্ট, সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিসিসিআইয়ের সম্মানের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে গুরুতর আইনি দায়বদ্ধতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।’
বোর্ড বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, কিছু খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফ সদস্য সংশ্লিষ্ট টিম ম্যানেজারের অজান্তে বা অনুমতি ছাড়াই অননুমোদিত ব্যক্তিদের নিজ নিজ হোটেলের রুমে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, টিম ম্যানেজার এই ধরণের অতিথিদের উপস্থিতির বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন। এই চর্চা অবিলম্বে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হলো।’ এখন থেকে টুর্নামেন্টের বাকি সময়ের জন্য সব খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা নির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে।
নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, ‘টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো অতিথিকেই হোটেলের ব্যক্তিগত রুমে নিয়ে যাওয়া যাবে না। বিসিসিআই সকল ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পরিকল্পিত আপস এবং ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মতো সুপরিচিত ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করছে, যা হাই-প্রোফাইল ক্রীড়াঙ্গনে সবসময় বিরাজমান থাকে।’
সাইকিয়া আরও জানান, এই নির্দেশিকাগুলো সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে বিসিসিআই বা আইপিএল অপারেশনস টিম সময়ে সময়ে আকস্মিক তল্লাশি চালাতে পারে। কোনো ধরনের নিয়মভঙ্গ ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা থেকে শুরু করে বহিষ্কার বা নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বোর্ডের ভাষায়, ‘আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এবং তাদের প্রতিনিধিদের জন্য ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউট, ড্রেসিংরুম বা খেলার মাঠে থাকা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা বা সেখানে প্রবেশ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র নির্ধারিত এবং অনুমোদিত চ্যানেল ছাড়া কোনোভাবেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে না।’
No posts available.
৭ মে ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
৭ মে ২০২৬, ৭:০৮ পিএম

ভুল করে কেউ নিউ জিল্যান্ডের হ্যামিল্টন, ওয়েলিংটন, মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে কিংবা অস্ট্রেলিয়ার ওয়েকা ক্রিকেট গ্র্যাউন্ড ভাবতে পারেন। আসলে এটি শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের পিচ। এক দেখাতেই যে কেউ অবাক হতে পারেন। মাত্র ৬ দিন আগে যে স্টেডিয়ামে ন্যাড়া পিচ দেখেছে দর্শক, সেই স্টেডিয়ামে পিচের চেহারা রাতারাতি বদলে গেল কিভাবে ?
সম্প্রতি সব ফরম্যাটের ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসাররা যেভাবে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন, প্রতিপক্ষের উপর আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলেছেন, তাতে হোম অ্যাডভানটেজ নিতে স্পোর্টিং পিচ প্রস্তুত করতে কিউরেটরকে নির্দেশনা দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
পিচের উপর টোকা দিচ্ছেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ ফিল সিমন্স। ছবি-শামীম চৌধুরী
নিউ জিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের সবুজ পিচে স্বাগতিক দলকে বিধ্বস্ত করার অতীত থেকে টনিক নিতে এমন পিচের পক্ষেই কথা বলেছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত-কোচ ফিল সিমন্স।
সাত সকালে টিমকে নিয়ে ওয়ার্ম আপ করতে এসে পিচ দেখে অভিভুত বাংলাদেশ দলের হেড কোচ ফিল সিমন্স। পিচের উপর টোকা দিয়ে একগাল হেসেছেন তিনি। সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে পিচের উপর
এমন সবুজ উইকেটে বাংলাদেশ একাদশে প্রধান বোলিং অস্ত্র তিন পেসার তাসকিন, নাহিদ রানা, এবাদত। পাকিস্তানের একাদশেও পেস অ্যাটাকে রাখা হয়েছে তিনজন-শাহিন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলী, মোহাম্মদ আব্বাস। ১৬ মাস পর টেস্টে ফিরেছেন মোহাম্মদ আব্বাস।
তবে এমন সবুজ পিচে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বাংলাদেশ ব্যাটাররা। কারণ, টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ।
হোমে অ্যাডভানটেজ নিতে টেস্টে ন্যাড়া উইকেট বেছে নেয়াকে দীর্ঘদিন ধরে যারা উত্তম মনে করতেন, একাদশে পেস বোলাররা থাকতো সৎ ভাইয়ের মতো। টেস্টে এক পেসার নিয়ে হোম টিমকে খেলার অতীতও দেখেছে বাংলাদেশের দর্শক। তিন-চারজন জেনুইন স্পিনারের পাশে বড়জোর দুই পেসার নির্ভর একদশের পক্ষে রায় দিতেন নির্বাচক-টিম ম্যানেজমেন্ট, তাঁরাই এখন স্পোর্টিং পিচে টেস্ট খেলার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিন পেসার-দুই স্পিনারে পাকিস্তানকে হতভম্ব করার কৌশলে হেঁটেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পরিবর্তিত এই ফর্মূলা কতোটা কাজে আসে, সময়ই তা বলে দিবে।

দীর্ঘ বিরতির পর সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরল বাংলাদেশ দল। মিরপুরে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। পাকিস্তানের হয়ে অভিষেক করেছেন আজান আওয়াইজ ও আবদুল্লাহ ফজল।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে রয়েছেন দুই স্পিনার ও তিন পেসার। স্পিন বিভাগ সামলাবেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। আর পেস আক্রমণে তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও ইবাদত হোসেন। ওপেনিংয়ে সাদমান ইসলামের সঙ্গী মাহমুদুল হাসান জয়।
সবশেষ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে গত বছরের নভেম্বরে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজে আইরিশদের হোয়াইট ওয়াশ করেছিল লিটন-মুশফিকরা।
বাংলাদেশ একাদশ
নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও ইবাদত হোসেন।
পাকিস্তান একাদশ
আজান আওয়াইজ, আবদুল্লাহ ফজল, ইমাম উল হক, শান মাসুদ (অধিনায়ক), সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আগা, শাহিন আফ্রিদি, নোমান আলী, হাসান আলী ও মুহাম্মদ আব্বাস।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। এই ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে অতিথি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাঁ-হাঁটুর চোটের কারণে নাজমুল হোসেন শান্তদের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না বাবর আজম।
বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। দলের সঙ্গে থাকা মেডিকেল প্যানেল অভিজ্ঞ ব্যাটারের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
৩ মে বাবর আজম ও খুররম শাহজাদকে ছাড়াই বাংলাদেশে পৌঁছে শান মাসুদ নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান টেস্ট দল। ওই দিন লাহোরে পাকিস্তান সুপার (পিএসএল) লিগের ফাইনাল ছিল এই দুই ক্রিকেটারের। শিরোপা উৎসব শেষে সোমবার (পরের দিন) দিবাগত রাত ১টায় বাংলাদেশে এসে পৌঁছান বাবর।
সদ্য শেষ হওয়া পিএসএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন বাবর। ১১ ইনিংসে দুই সেঞ্চুরি ও তিন অর্ধশতকে ৫৮৮ রান করেছেন তিনি। খুররম পেশোয়ারের হয়ে দুই ম্যাচ খেলার সুযোগ পান।
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষটি ১৬ মে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। এই টেস্ট সিরিজ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের অংশ।
এখন পর্যন্ত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রে দু’টি করে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। একটি করে হার ও ড্র’তে ১৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে বাংলাদেশ। একটি করে জয়-হারে ৫০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে পাকিস্তান।
পাকিস্তান টেস্ট দল : শান মাসুদ (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস, হাসান আলী, ইমাম-উল-হক, খুররম শেহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মুহাম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটরক্ষক), নোমান আলী, সাজিদ খান, সালমান আলী, সৌদ শাকিল ও শাহিন শাহ আফ্রিদি।

১০ ছক্কায় বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে আবাহনী লিমিটেডকে বড় সংগ্রহ এনে দিলেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। পরে বল হাতেও নিলেন ৩ উইকেট। তবু দলকে জেতাতে পারলেন না তিনি। কারণ শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে সিটি ক্লাবকে জেতালেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছিলেন সাকলাইন। এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও সেটির ছাপ রাখলেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিতে ২৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে আবাহনীকে ২ উইকেটে হারিয়েছে সিটি ক্লাব। আগে ব্যাটে মোসাদ্দেকের সেঞ্চুরিতে ২০৯ রান করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। জবাবে ২৫.৪ ওভারে জিতে যায় সিটি ক্লাব।
এ নিয়ে পরপর দুই ম্যাচই হারল আবাহনী। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে তাদের জন্য বড় ধাক্কাই বটে।
২৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে শুরুতে আবাহনীর হয়ে ঝড় তোলেন জিসান আলম। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তরুণ ওপেনার।
পরে ৫ নম্বরে নেমে তাণ্ডব চালান মোসাদ্দেক। ৬ চারের সঙ্গে ১০টি ছক্কা মেরে ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আবাহনী অধিনায়ক। লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এটিই দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।
এর আগে ২০২৩ সালের বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) হাবিবুর রহমান সোহানও ৪৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এছাড়া ২০১৬ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মাশরাফি বিন মুর্তজা সেঞ্চুরি করেছিলেন ৫০ বলে।
সিটি ক্লাবের পক্ষে ৬ ওভারে ২ মেডেনসহ ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেন নিহাদউজ্জামান।
রান তাড়ায় নিয়মিত উইকেট হারায় সিটি ক্লাব। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন মেহেদী মারুফ। ১৯তম ওভারে তিনিও ধরেন ড্রেসিং রুমের পথ। এর আগে খেলেন ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৬ বলে ৭১ রানের ইনিংস।
পরে ১৫৮ রানের মাথায় ৭ উইকেট হারিয়ে ফেললে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে সিটি ক্লাব। তখনও তাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৭ বলে ৫২ রান। হাতে ছিল মাত্র ৩ উইকেট।
সেখান থেকে মাত্র ২৪ বলে ৪৮ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন গাজী তাহজিবুল ইসলাম, আব্দুল গাফফার সাকলাইন। এই জুটিতেই ম্যাচ চলে আসে হাতের মুঠোয়। ১ চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ১১ বলে ২৫ রান করে ফেরেন সাকলাইন। ৩টি করে চার-ছক্কায় ২৮ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন তাহজিবুল।
বিধ্বংসী সেঞ্চুরির পর বল হাতে ৪৭ রানে ৩ উইকেট নেন মোসাদ্দেক। কিন্তু পরাজিত দলেই থাকতে হয় তাকে।
দিনের অন্য ম্যাচে ঢাকা লেপার্ডসকে ৩১ রানে হারিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ইমরুল কায়েস ৬০ বলে ৬৪ ও জাহিদ জাভেদ ৮৫ বলে ৬৬ রান করলে ২৪৬ রানের পুঁজি পায় তারা। জবাবে ২১৫ রানের বেশি করতে পারেনি লেপার্ডস।
এছাড়া আরেক ম্যাচে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ৩২ রানে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ৩৬ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৯ উইকেটে ২০০ রান করে তারা। ৬৬ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেন শাহাদাত হোসেন দীপু। জবাবে ১৬৮ রানের বেশি করতে পারেনি গুলশান। ৫৭ বলে ৬৭ রান করেন মইনুল ইসলাম তন্ময়।

বিপিএলে দুর্নীতি, ফিক্সিং ও তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে ১ জন ঘরোয়া ক্রিকেটার ও ৪ জন দলীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি করাপশন কোডের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিসিবির দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিপিএলের দ্বাদশ আসরকে কেন্দ্র করে সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তথ্য গোপন বা নষ্ট করার অভিযোগের তদন্ত চালানো হয়।
পরে ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পঞ্চম ব্যক্তিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান ও রেজওয়ান কবির সিদ্দিক, ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ ও ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার।
মো. লাবলুর রহমান ও তৌহিদুল হকের বিরুদ্ধে ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ অনুচ্ছেদে তদন্তে সহযোগিতা না করা, বিসিবির দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার নোটিশের জবাব না দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বা যোগাযোগ গোপন কিংবা মুছে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্য দিকে অমিত মজুমদার ও রেজওয়ান কবির সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ২.২.১ অনুচ্ছেদে ক্রিকেট ম্যাচের ফল, অগ্রগতি বা অন্য কোনো বিষয়ে বাজিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি। অভিযোগপত্র পাওয়ার পর তাদের জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করবে না বলেও জানিয়েছে বিসিবি।
এছাড়া একাধিক বিপিএল আসরে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘এক্সক্লুশন অর্ডার’ জারি করেছে বিসিবি। তার বিরুদ্ধে বেটিংসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, ক্রিকেটার ও এজেন্টদের কাছে দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া ও দেশি-বিদেশি বেটিং চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসর ঘিরে এসব অভিযোগের তদন্ত হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর সামিনুর রহমান আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না নিয়ে নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছেন।