২১ জুলাই ২০২৫, ৩:১৩ পিএম

এক বছরেরও বেশি সময় পর মিরপুরে টি-টোয়েন্টিতে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ বাংলাদেশ দল জয় দিয়ে রাঙালেও আলোচনায় এসেছে উইকেটের আচরণ। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের চিরচেনা ধীরগতির উইকেট অবশ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দেখা যায়নি। এরপরও মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া পাকিস্তান কোচ মাইক হেসন সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন উইকেটকে, যা তার কাছে মনে হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য অগ্রহণযোগ্য। আসলেই কি তাই?
মিরপুরের উইকেট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে ২০ ওভারের ক্রিকেটে যেখানে আবেদন থাকে স্পোর্টিং উইকেটের, সেখানে অধিকাংশ সময়ই এখানে দেখা মেলে বেশ স্লো, টার্নিং ও নিচু বাউন্সের। ফলে ব্যাটাররা পারেন না সহজাত আগ্রাসী ব্যাটিং করতে, আর বোলাররা দেখান দাপট। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়, বোর্ডে রান হয় কম আর ম্যাচ হয় লো-স্কোরিং।
মোটা দাগে রাখলে রোববার বাংলাদেশ-পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচটিকে সেই কাতারে আপনি রাখতেই পারেন। কারণ, আগে ব্যাট করা দল মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর সেটা তাড়া করতে প্রতিপক্ষকে খেলতে হয়েছে ১৬তম ওভার পর্যন্ত। ম্যাচটি যদি ২০২১-২২ সালের দিকেও হত, হেসনের দাবিকে আপনি যৌক্তিক মনে করতেই পারতেন। তবে এটা তো ২০২৫ সালের ম্যাচ এবং বাংলাদেশ দল তাদের ব্যাটিংয়ের সময় দেখিয়ে দিয়েছে, মিরপুরের উইকেট অন্তত এদিন লো-স্কোরিং ছিল না।
অবশ্য বাংলাদেশের আগে আনা যেতে পারে পাকিস্তানের ইনিংসের কথাও। বাংলাদেশকে চাপে ফেলে প্রথম তিন ওভারেই দলটি তুলে ফেলেছিল ৩২ রান। তবে অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং অর্ডার। উইকেটের আচরণের সাথে তাল না মিলিয়ে বারবার বড় শট খেলতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন পাকিস্তান ব্যাটাররা। ৪৬ রানেই তাতে হারাতে হয় ৫ উইকেট।
এর মাঝেও ফখর জামান খেলেন ৩৪ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় ৪৪ রানের ইনিংস, যেখানে আবার তিনি জীবন পান দুই বার। এরপর আউট হন বিব্রতকর এক রান আউটে। পাকিস্তানের ইনিংসে এটি ছাড়াও ছিল আরও দুটি রান আউটের ঘটনা। একটি দলের তিন ব্যাটার যখন রান আউটের শিকার হন, ব্যাটিং বিপর্যয় তখন প্রায় অবধারিতই।
এর সাথে যোগ হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে একেবারেই না বুঝতে পারা। এটা বলার তো অপেক্ষা রাখে না যে, মিরপুরের উইকেটে মুস্তাফিজুর বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর পেসার। তার স্লোয়ার, কাঁটার এখানে ভীষণ কার্যকর হয়। প্রথম ম্যাচে তিনি আবার ছিলেন নিজের সেরা ছন্দে। চার ওভারে ১৮টি ডট দিয়ে মাত্র ৬ রানে নেন ২ উইকেট।
তার মানে, বাকি ১৫.৩ ওভারে পাকিস্তান করেছে মোটে ১০৪ রান! এই ফরম্যাটে প্রতিপক্ষের একজন বোলার যদি চার ওভারে দেন মাত্র ৬ রান, তাহলে নিশ্চিতভাবে ব্যাটিং করা দলকে অন্য বোলারদের ওপর ভীষণ চড়াও হতেই হবে। পাকিস্তান দল সেটাও পারেনি। অধিকাংশ ব্যাটাররা বাজে শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন। ফলে ফখরের ইনিংস ও শেষের দিকে আব্বাস আফ্রিফির ক্যামিও বাদে রানের জন্য বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে সালমান আঘার দলকে।
ম্যাচ শেষে হেসন অবশ্য ব্যাটারদের ব্যর্থতা আড়াল করে অনেকটাই দায় চাপান উইকেটের ওপর। “এই উইকেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এটা কোনো দলের জন্যই আদর্শ নয়। আমরা যে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটার দায় আমাদেরই। তবে এই ধরনের উইকেট আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্যবহার করা ঠিক নয়। হ্যাঁ, ফখর শুরুতে কিছু শট খেলেছিল। আর সেজন্যই আমাদের মনে হয়েছিল উইকেট হয়ত সহজ। কিন্তু আসলে তা ছিল না। বল মুভ করছিল বেশ, হঠাৎ হঠাৎ লাফ দিচ্ছিল। আর তখনই আমাদের ব্যাটাররা ভুল শট বেছে নিয়েছে। সাথে তিনটি রান আউটও আমাদের কাজটা আরও কঠিন করেছে।”
হেসনের মন্ত্যবের প্রেক্ষিতে আসা যাক বাংলাদেশের ইনিংস। তানজিদ হাসান তামিম ও লিটন দাস যখন আউট হন, তখন ২.২ ওভারে বোর্ডে রান মাত্র ৭। সেখান থেকে বাংলাদেশ ম্যাচ শেষ করেছে ২৭ বল হাতে রেখে। অর্থাৎ, পাকিস্তানের মত চাপের মুখে ছিল বাংলাদেশও, তবে এই উইকেটে সেটা কীভাবে কাউন্টার করতে হয়, সেই ব্যাপারে পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয় রেখেছিলেন স্বচ্ছ ধারণা। জুটিতে তাই একজন বলের মেধা বুঝে আক্রমণে গেছেন, অন্যজন আবার অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করেছেন।
টার্গেট ছোট হওয়ায় এটাই ছিল ব্যাট করার সেরা উপায়। শেষ পর্যন্ত তাওহীদ ৩৭ বলে ৩৬ করে আউট হলেও ইমন ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। খেলেন মাত্র ৩৯ বলে ৫৬ রানের ইনিংস, যা তিনি সাজান ৫ ছক্কা ও ৩ বাউন্ডারিতে। সাথে শেষের দিকে ১৫ রানের ক্যামিও খেলেন জাকের আলি অনিক।
এই তিনজনের ব্যাটিংই বলে দেয়, দ্বিতীয় ইনিংসেও মিরপুরের উইকেট মোটেও ব্যাটিং বিরুদ্ধ ছিল না। টার্গেট নাগালের মধ্যে থাকায় রয়েসয়ে ব্যাট করেছে বাংলাদেশ। নাহলে অনায়াসেই তারা এই রান ১২-১৩ ওভারের মধ্যেও তাড়া করতে পারতেন। সব মিলিয়ে তাই বলা যায়, পাকিস্তান তাদের ব্যাটিং পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়ন করতে পারত, তাহলে ১৫০-১৬০ রান খুব সম্ভব ছিল তাদের জন্য। বাংলাদেশের ইনিংস তারই প্রমাণ।
অথচ হেসন কিনা অতীতের মিরপুরের উইকেটের সাথে এই ম্যাচের উইকেটের মিল টেনে দিয়েছেন সতর্ক বার্তা। “ভালো ক্রিকেটার তৈরি করতে হলে ভালো মানের উইকেট দরকার। বিপিএলে কিছু ভালো উইকেট দেখা গেছে ঠিকই, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে এই উইকেটের কোনো মিল নেই। বাংলাদেশ দল যখন বিদেশে খেলে, তখন এমন উইকেট কিন্তু তাদের কোনো সাহায্য করে না। আপনি জানেন না এখানে ১০০, ১৩০ বা ১৫০ – কোনটা ভালো স্কোর। এটা কোনো দলের জন্যই ইতিবাচক নয়।”
হেসন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা কোচদের একজন। ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবেও তার জুড়ি মেলা ভার। ক্রিকেটে ডাটার ব্যবহার তিনি বেশ করেন। অথচ পাকিস্তান কোচ কিনা তার দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতা আড়াল করলেন উইকেটের ওপর দোষ চাপিয়ে, যা বেশ হতাশাজনকই। তিনি যদি ঠিক হতেন, তাহলে একই উইকেটে বাংলাদেশ দলকেও করতে হত অনেক সংগ্রাম। ১১১ রান করতেই দেখা যেত উইকেটে চলে গেছে ৭-৮টি, আর ম্যাচ গড়িয়েছে ১৯-২০ ওভারে। এর কোনোটিই যেহেতু হয়নি, তাই হেসনের অভিযোগ আর ধোপে টেকে না, অন্তত এই ম্যাচের প্রেক্ষাপটে।
No posts available.

মুম্বাইয়ের গর্জন থামাতে চান স্যাম কারান। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এমন প্রত্যয়ই ব্যক্ত করেছেন ইংল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার।
আজ মুম্বাইয়ে অনুশীলনের আগে কারান বলেন, ছোটবেলায় যে স্বপ্ন দেখতেন, তার একটি ছিল ভারতে ভারতের বিপক্ষে খেলা,
‘শ্রীলঙ্কা থেকে মুম্বাইয়ে উড়ে আসার সময় ভাবছিলাম, ছোটবেলায় কী স্বপ্ন দেখতাম। ভারতের বিপক্ষে ভারতে খেলাটা নিশ্চয়ই তার একটি। এটা দারুণ অভিজ্ঞতা।’
সেমিফাইনালটি হবে ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক সমর্থকদের উপস্থিতিতে গ্যালারি থাকবে সরব—এমনটাই প্রত্যাশা ইংল্যান্ড শিবিরের। তবে সেটিকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন কারান। বললেন,
‘স্টেডিয়াম খুব জোরে গর্জে উঠবে। এটাকে রোমাঞ্চকর সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। যদি গ্যালারি নীরব হয়ে যায়, বুঝতে হবে ইংল্যান্ড ভালো করছে—আমরা সেটাই ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছি।’
চলমান আসরে ইংল্যান্ড দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই নিয়মিত খেলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে। ফলে ভারতীয় দর্শকদের আবেগঘন সমর্থনের সঙ্গে তারা পরিচিত। কারানের মতে, সেই অভিজ্ঞতাই কাজে দেবে। কারন বলেন,
‘আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, আমরা ভারতে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। এখানে খেলতে খেলতে আপনি শব্দকে উপেক্ষা করতে শিখে যান। অবশ্যই পরিবেশটা উপভোগ্য। অনেক তরুণ ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলার।’
কারান আশা করছেন, ম্যাচের পরিস্থিতি এমন হবে যাতে গ্যালারি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যায়,
‘আশা করি স্টেডিয়ামটা নীরব হবে। তবে নিশ্চিতভাবেই খুব জোরে সমর্থন থাকবে। দুইটি দুর্দান্ত দল মুখোমুখি হচ্ছে। গত চার–পাঁচ সপ্তাহের পরিশ্রম আমাদের এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। আশা করি, আমরা আরেক ধাপ এগিয়ে ফাইনালের পথে যেতে পারব।’
সব মিলিয়ে মুম্বাইয়ের উত্তপ্ত পরিবেশেই বড় চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। তবে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে স্বাগতিকদের গ্যালারি স্তব্ধ করেই ফাইনালে উঠতে চায় তারা।

আগামীকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মাড়ে গড়াবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচ। আর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
কুড়ি কুড়ি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ কারা পরিচালনা করবেন, জানিয়ে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি। মঙ্গলবার দু’টি সেমিফাইনালের ম্যাচ রেফারি এবং আম্পায়ারদের নাম জানিয়েছে তারা।
বুধবার ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ডের ম্যাচে মাঠের দুই আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ এবং অ্যালেক্স হোয়ার্থ। কলকাতায় তৃতীয় আম্পায়ার নিতিন মেনন। চতুর্থ আম্পায়ার রড ট্যাকার। ম্যাচ রেফারি জ্যাভগল শ্রীনাথ।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারত ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে ম্যাচে আম্পায়ারিং করবেন ক্রিস গাফানি এবং আলাউদ্দিন পালেকর। তৃতীয় ও চতুর্থ আম্পায়ার যথাক্রমে অ্যাড্রিয়ান হোল্ডস্টক ও পল রাইফেল। ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন অ্যান্ডি পাইক্রফট। এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হ্যান্ডশেক বিতর্কে ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
২০২৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচেও গাফানি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আর আলাউদ্দিন এ বারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দু’টি ম্যাচে আম্পায়ার হিসাবে ছিলেন। ভারত-নেদারল্যান্ডস ম্যাচেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আগামী পরশু দেখা হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ডের। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন মাইকেল ভন।
ভারতের চেয়ে ইংল্যান্ডের স্পিন আক্রমণ ভালো¬—এমনই দাবি করেছেন ভন। সাবেক ইংলিশ অধিনায়কের ‘মজার এক অনুভূতি’ হচ্ছে, মুম্বাইয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয় পেতে পারে ইংল্যান্ড।
বিবিসির টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল পডকাস্টে ভন বলেন, ‘ইংল্যান্ডের স্পিন আক্রমণ ভারতের চেয়ে ভালো। ডসন, রশিদ ও উইল জ্যাকস—স্পিনে এই তিনজনই টুর্নামেন্টের সেরা ত্রয়ী।’
ভারত টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে শুরু করলেও সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে এবং গ্রুপ পর্বেও কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড এখনো পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স দিতে না পারলেও টানা পাঁচ জয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে।
ভনের ভাষায়, ‘ওরা জয়ের পথ খুঁজে নিচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়মরক্ষার ছিল, কিন্তু যেভাবে শেষ পর্যন্ত জিতেছে, সেটা দারুণ প্রচেষ্টা।’
ইংল্যান্ডের স্পিন বিভাগে আছেন আদিল রশিদ, লিয়াম ডসন ও উইল জ্যাকস। ভনের মতে, ভারতের বরুণ চক্রবর্তীকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চাপে ফেলা গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি যথাক্রমে ৪০ ও ৪৭ রান দিয়েছেন।
ভারতের হাতে বিকল্প হিসেবে আছেন বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব, যাঁর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো রেকর্ড রয়েছে। তবে এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র তিন ওভার বল করেছেন তিনি।
ভন বলেন, ‘ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং অসাধারণ। ওদের সতর্কতা চোখে পড়ার মতো। উইকেটের মধ্যে দৌড়ও দারুণ। ছোট ছোট যে বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেগুলো ইংল্যান্ড খুব ভালোভাবে করছে।’তিনি যোগ করেন, ‘আমার ভেতরে একটা মজার অনুভূতি কাজ করছে—মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ড কাজটা করে ফেলতে পারে।’
ওপেনার জস বাটলার টানা পাঁচ ইনিংসে এক অঙ্কে আউট হয়েছেন। ভনের মতে, বাটলার হয়তো টেকনিক নিয়ে বেশি ভাবছেন। ভন বলেন, ‘যখন আপনি ভালো অনুভব করেন না, তখন টেকনিক নিয়ে ভাবেন। কিন্তু জস হ্যান্ড-আই খেলোয়াড়। বলের দিকে তাকাও, প্রতিক্রিয়া দেখাও। বাটলারের র্যাম্প শট দেখা যাচ্ছে না। এই উইকেট ওই শটের জন্য ভালো হতে পারে। ভালো খেললে শুরুতেই সে শট বের করে আনে।’
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ড। ২০২২ সালে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ড ১০ উইকেটে জিতেছিল, ২০২৪ বিশ্বকাপে গায়ানায় জয় পায় ভারত। দুই দলই পরে শিরোপা জিতেছিল।
ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারান বলেন, ২০২২ সালের জয়ই হতে পারে আদর্শ উদাহরণ। নিখুঁত ম্যাচ খুঁজতে গেলে ২০২২ সালের ম্যাচটাই মডেল হতে পারে, বলেন তিনি।
সব মিলিয়ে ভনের মতে, স্পিন, ফিল্ডিং ও ছোট ছোট দিকগুলোতে এগিয়ে থাকাই ইংল্যান্ডকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মুম্বাইয়ের গর্জনমুখর পরিবেশে সেই বিশ্বাস কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পর অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপ, এরপর এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ- পরপর তিনটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে নেই এনামুল হক বিজয়। বিপিএল ও অদম্য টি-টোয়েন্টি থেকে তাকে বাদ দিয়েছে বিসিবি। তবে বিসিএলে নিজ থেকেই খেলেননি অভিজ্ঞ ওপেনার।
শুধু তাই নয়, বিসিবির তরফ থেকে সম্মান ফেরত না পেলে আর কখনও ক্রিকেট খেলবেন না সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়। শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বিকেলে আচমকা ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেছেন একসময়ের জাতীয় দলের ওপেনার।
২০২৪-২৫ মৌসুমের বিপিএলে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলেছিলেন বিজয়। ওই টুর্নামেন্টে ফিক্সিংয়ের সন্দেহভাজন তালিকায় আসে তার নাম। পরে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের পরামর্শ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমের বিপিএলে খেলতে দেওয়া হয়নি বিজয়কে।
তবে এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও, ওই বিপিএলে বিজয়ের ফিক্সিং কাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি বিসিবি। তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সুনির্দিষ্ট কোনো শাস্তির ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। তাই এখন এই বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান ও নিজের হারানো সম্মান ফেরত চান বিজয়।
“আমি সিম্পল একটা কথা বলি, আমার ক্রিকেট খেলার দরকার নাই। যতক্ষণ পর্যন্ত না ওনারা আমাকে সম্মান ফেরত দিচ্ছেন, সসম্মানে সবাইকে জানাচ্ছে যে, বিজয় অপরাধী না, বিজয়ের পারিশ্রমিক শোধ হয়েছে, বিজয়ের সঙ্গে (ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে) যা হয়েছে, এই নামগুলো ভুলে এসেছে, সন্দেহের তালিকায় ছিল এখন জিনিসটা সুন্দর (সমাধান) হয়ে গেছে, সব ধরনের খেলাও খেলতে পারবে। সুন্দর করে বিসিবি যখন বলবে তখন আমি ক্রিকেট খেলব।”
“এমন না যে... এই বিসিএল খেললে এমন কি! এর আগেও আমি বহুত সেঞ্চুরি করেছি। এ মাঠে আমার অনেক সেঞ্চুরি আছে। অন্য জায়গায় যেখানেই খেলি অনেক সেঞ্চুরি আছে। আপনারা অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন, অনেক পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ! আমার এখন সম্মান দরকার। সম্মানের জন্য ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলে আসছি, টাকার জন্য না। সেটা আমি আবার ফেরত পাইতে চাই।”
তাহলে এটা কি অবসরের ঘোষণা কি না, তা জানতে চাওয়া হয় বিজয়ের কাছে। প্রশ্নের উত্তরে প্রচ্ছন সেই ইঙ্গিত দিয়ে রাখেন স্বীকৃত ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৫১টি সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার।
“এটা এক ধরনের যদি বলেন, আমাকে যদি তারা উপযুক্ত সম্মান, ঠিকভাবে না দেয়, আমার কাছে মনে হয় যে আমি (ক্রিকেটে) ফিরব না। আমার দরকার নাই ক্রিকেট খেলার।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সনাথ জয়াসুরিয়া। সাবেক এই ক্রিকেটারের বিদায়ের পর দাসুন শানাকার দলের নতুন হেড কোচ কে হবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপ হতাশাজনকভাবে শেষ হলেও ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই চক কষছে শ্রীলঙ্কা।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠন এবং অভিজ্ঞ ও প্রমাণিত কোনো কোচকে দায়িত্ব দিতে আগ্রহী শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। এসএলসির সে শর্টলিস্টে তিন অভিজ্ঞ কোচ—ট্রেভর বেলিস, অ্যালান ডোনাল্ড ও জনাথন ট্রট।
ট্রেভর শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে পরিচিত মুখ। ২০০৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত লঙ্কান ক্রিকেটের প্রধান কোচ ছিলেন। টম মুডির পর দায়িত্ব নিয়ে দলকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখেছিলেন বেলিস। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকে বিদায় নিলেও ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। শেষ পর্যন্ত রানার্স-আপ হয় শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট সংস্কৃতি ও খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ভালো ধারণা ট্রেভরের।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেস কিংবদন্তি ডোনাল্ড আছেন শর্টলিস্টে। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বোলিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক—দুই পর্যায়েই কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে ডোনাল্ডের।
২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ ছিলেন ডোনাল্ড। তাঁর ট্যাকটিকস ও তরুণ সম্ভাবনাময় পেসারদের গড়ে তোলার ক্ষমতা রয়েছে তার।
ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার জনাথন ট্রট রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায়। ২০২২ সালে আফগানিস্তানের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন তিনি। তাঁর অধীনে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে মোহাম্মদ নবীরা। সেমিফাইনালের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল আফগানিস্তান।
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আফগানিস্তানকে সেমিফাইনালে তুলতে ভূমিকা রাখেন ট্রট। তরুণ প্রতিভা গড়ে তোলা ও লড়াকু দল তৈরি করার দক্ষতা তাকে শ্রীলঙ্কার জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প করে তুলেছে।