২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল ভারত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য হয়ে গিয়েছিল বাঁচা-মরার লড়াই। সেখানে দারুণ জবাবই দিল স্বাগতিকরা। বিশ্বকাপের রেকর্ড গড়েই সেমি-ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল তারা।
চেন্নাইয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭২ রানে হারিয়েছে ভারত। আগে ব্যাট করে তাদের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২৫৬ রান। জবাবে ব্রায়ান বেনেটের ৯৭ রানের পরও ১৮৪ রানের বেশি করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।
চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছে ভারত। আর সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর চেয়ে বড় দলীয় স্কোর আছে শুধু একটি। ২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ৬ উইকেটে ২৬০ রান।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচেই ৬ উইকেটে ২৫৪ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেটি টপকে বড় জয়ই পেয়েছে ভারত।
স্বাগতিকদের জয়ে সুপার এইট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল পরপর দুই ম্যাচ হেরে যাওয়া জিম্বাবুয়ের। আর প্রথম দুই ম্যাচ জিতে রাখা দক্ষিণ আফ্রিকা পেয়ে গেল সেমি-ফাইনালের টিকেট।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে এদিন ওপেনিং জুটিতে বদলে আনে ভারত। অভিষেক শর্মার সঙ্গে নামানো হয় সাঞ্জু স্যামসন। একাদশে ফিরে ঝড়ো শুরু করেন স্যামসন। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৫ বলে ২৪ রান করে আউট হন স্যামন।
তিন নম্বরে নেমে ইশান কিষানও একই ছন্দে এগোতে থাকেন। অন্য প্রান্তে অভিষেকও ফর্ম ফিরে পেলে পাওয়ার প্লেতে ৮০ রান করে ফেলে ভারত। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪২ বলে ৭২ রান যোগ করেন অভিষেক ও ইশান।
২৪ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন ইশান। দলকে দেড়শ পূরণ করে দিয়ে ফেরেন অভিষেক। আগের ৪ ইনিংসে হতাশ করা বাঁহাতি ওপেনার এবার ৪টি করে চার-ছক্কায় খেলেন ৩০ বলে ৫৫ রানের ইনিংস।
চার নম্বরে নেমে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ব্যাট থেকে আসে ৩ চার ও ২ ছক্কায় মাত্র ১৩ বলে ৩৩ রান। পরে ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে নেন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। টপ-অর্ডারের বদলে পাঁচ নম্বরে নেমে উত্তাল ব্যাটিংই করেন তিলক।
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে শেষের ৩১ বলে ৮৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন হার্দিক ও তিলক। জুটির রান করার হার ওভারপ্রতি ১৬.২৫ রান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওভারপ্রতি এর চেয়ে বেশি রানের জুটি আছে আর মাত্র একটি। ২০০৭ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে সনৎ জয়সুরিয়া ও মাহেলা জয়াবর্ধনে ওভারপ্রতি ১৮ গড়ে ২৯ বলে যোগ করেন ৮৭ রান।
ইনিংসের শেষ দুই বলে ছক্কা মেরে মাত্র ২৩ বলে ফিফটি করেন হার্দিক। আর ২ চার ও ৪ ছক্কায় ১৬ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিলক।
পুরো ইনিংসে সব মিলিয়ে ১৭টি ছক্কা মারে ভারত। বিশ্বকাপে এক ইনিংসে এটিই তাদের রেকর্ড। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তারা মেরেছিল ১৫টি ছক্কা। এছাড়া চলতি আসরে এখন পর্যন্ত তাদের ছক্কা ৬৩টি। এটিও এক বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।
প্রায় অসম্ভব এক রান তাড়ায় পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট হারায়নি জিম্বাবুয়ে। এক প্রান্তে চমৎকার ব্যাটিং করেন ব্রায়ান বেনেট। সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফেরেন ২০ বলে ২০ রান করা তাদিওয়ানাশে মারুমানি। তিন নম্বরে নামা ডিয়ন মায়ার্স করেন ৯ বলে ৬ রান।
দশম ওভারে জুটি বাধেন সিকান্দার রাজা ও বেনেট। চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৩৪ বলে ফিফটি করেন বেনেট। চলতি বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে এটি তার তৃতীয় ফিফটি।
১৫তম ওভারে শিবাম দুবের বলে ২৬ রান নেয় জিম্বাবুয়ে। বিশ্বকাপে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে এক ওভারে এটিই সর্বোচ্চ রান খরচের রেকর্ড। ২০০৭ সালের সংস্করণে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫ রান দিয়েছিলেন যুবরাজ সিং।
নতুন স্পেলে ফিরে ৪২ বলে গড়া ৭২ রানের জুটি ভাঙেন আর্শদিপ সিং। ২১ বলে ৩১ রান করে আউট হন রাজা। একই ওভারে রানের খাতা খোলার আগে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন রায়ান বার্ল।
শেষ দিকে শুধু বাকি ছিল একটি অপেক্ষা, বেনেট কি সেঞ্চুরি করতে পারবেন কিনা। শেষ ওভারে তার একশ হতে প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। বোলিং করতে আসেন দুবে। তিন বল স্ট্রাইক পেয়ে ছক্কা ও চার মেরে ১১ রান নিতে পারেন বেনেট।
শেষ পর্যন্ত ৮ চার ও ৬ ছক্কায় ৫৯ বলে ৯৭ রান করেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৫ ইনিংসে ২৭৭ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। এটি অবশ্য দলের বড় পরাজয় এড়াতে পারেনি।
৪ ওভারে মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন আর্শদিপ। বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে তার উইকেট হলো ৩৫টি। এই টুর্নামেন্টে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল ট্রেন্ট বোল্টের, ৩৪টি।
No posts available.
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৪ পিএম
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:১২ পিএম
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:০৫ পিএম

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সর্বোচ্চ রান তুলেছে ভারত। তাদের তোলা ২৫৬ রান কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপে এক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ২৫৪ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তা আজ ছাড়িয়ে গেছে ভারত।
চেন্নাইয়ে বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ও পার্টনারশিপে মনে রাখার মতো বেশ কিছু কীর্তি গড়েছে ভারত। আজ তারা ১৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫টি ছক্কা মেরেছিল তারা। এবার সেটাকে ছাড়িয়ে গেছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৬৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছে ভারত। এটি এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ভারতের। যা ২০২৪ সালের ৬১টি ছক্কাকে ছাপিয়ে গেছে। এই মৌসুমে একমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছ্ক্কা ভারতের চেয়ে বেশি। ক্যারিবিয়ানদের ছক্কা সংখ্যা ৬৬টি।
হার্দিক পাণ্ডিয়া ও তিলক ভার্মা ৩১ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের জুটি গড়েছেন। তারা ওভার প্রতি ১৬.২৫ করে রান তুলেন। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি রান এবং আরও ভালো রানের গতি কেবল একটি জুটিই করেছে। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৯ বলে ৮৭ রানের জুটি গড়েছিলেন সনাৎ জয়সুরিয়া ও মাহেলা জয়াবর্ধনে। যেখানে ওভার প্রতি ১৮ রান করে নিয়েছেন দুজন।
আজ ভারতের ৬ জন ব্যাটসম্যান দেড়শর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালিয়েছেন—টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি প্রথমবারের ঘটনা, যেখানে ছয় বা তার বেশি ব্যাটসম্যান ২০ বা তার বেশি রান করেছেন এবং দেড়শর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালিয়েছেন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের মাত্র ২৬টি ডট বল পড়েছে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্পূর্ণ ২০ ওভারের কোনো ইনিংসে এটি সর্বনিম্নের মধ্যে একটি; ২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেও ২৬টি ডট বল খেলেছিল।
চেন্নাইয়ে আজ ভারতের ২৫৬ রান বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কুড়ি কুড়ির বৈশ্বিক আসরে সর্বোচ্চ রান শ্রীলঙ্কার। ২০০৭ সালে ২৬০ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। তৃতীয় সর্বোচ্চ রান হয়েছে এবারের বিশ্বকাপের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৫৪ করেছিল।

সুপার এইটে টানা দুই ম্যাচ হেরে সেমিফাইনাল স্বপ্ন শেষ শ্রীলঙ্কার। ২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকদের শনিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি কেবল নিয়মরক্ষার। এ নিয়ে টানা পাঁচ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা হয়নি লঙ্কানদের।
সুপার এইটে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ২ উইকেটে হারায় ইংল্যান্ড। তাদের দ্বিতীয় হার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। কিউইদের বিপক্ষে হারের পরই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া নিশ্চিত হয়ে পড়ে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। নিউ জিল্যান্ডের কাছে বাজে হারের পর সামাজিকমাধ্যম এক্সে নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন দলটির সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটার কুমার সাঙ্গাকারা। তাঁর মতে, একই ধারার চললে ভালো ফল আশা করা বোকামি।
সাঙ্গাকারা বলেন,
“চারদিকে ভীষণ কষ্ট। সমর্থকরা বিধ্বস্ত, হতাশ, ক্ষুব্ধ। ক্রিকেটাররাও অনেক কষ্ট পাচ্ছে। এমন একটা ড্রেসিং রুমে আমিও ছিলাম। এটা সহজ নয়।”
হারের কষ্ট কঠিন হলেও, দেশের জার্সি গায়ে জড়ানো সম্মান মনে করেন লঙ্কানদের ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক সাঙ্গাকারা।
তিনি বলেন,
“দেশ ও দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা যেমন বোঝা, তেমন বিশাল সম্মানেরও। সঠিক পথে ফেরার জন্য সব স্তরেই অনেক কাজ করতে হবে। বারবার একই কাজ করে আমরা ভিন্ন ফল আশা করতে পারি না, যেখানে আমাদের চারপাশের ক্রিকেট বিশ্ব খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। আমরা এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারিনি, আর এতে আমরা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছি।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের ধারা থেমেছে আজ। আহমেদাবাদে সুপার এইটে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হারল তারা। আগে ব্যাটিং করে ১৭৬ রান করেছিল উইন্ডিজ, ১৬.১ ওভারে১ উইকেট হারিয়েই সে রান তাড়া করে জিতে প্রোটিয়ারা।
সুপার এইটে টানা দ্বিতীয় জয়ে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্যারিবিয়নদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বড় ভূমিকা ছিল এইডেন মার্করামের। ৪৬ বলে ৮২* রান করেন তিনি। প্রোটিয়া অধিনায়ক জানালেন, কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাওয়ার কারণেই তাদের এই উন্নতি।
ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের সময় মার্করাম বলেন,
‘আমরা ভালোই বোলিং করেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দল সবসময়ই ম্যাচটা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। উইকেট একটু ধীরগতির ছিল। শুরুতে বল একটু মুভ করছিল, তাই আমরা লেন্থ ফুল রাখার চেষ্টা করেছি। পিচের আঠালোভাব থেকেই অতিরিক্ত বাউন্স এসেছে। ভাগ্যক্রমে টসে আমরা সুবিধাজনক অবস্থায় ছিলাম। বোলারদের অনেক কৃতিত্ব দিতে হবে।’
তিনি যোগ করেন,
‘আমরা যখন বোলিং করছিলাম, মনে হয়েছে সময়ের সঙ্গে উইকেট আরও ভালো হয়ে উঠছিল। শেষের দিকে যখন ফুল লেন্থ, ইয়র্কার আর গতি পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি, সেগুলো তেমন কাজ করেনি।’
দলের তিন নম্বর পজিশন ও নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে মার্করাম বলেন,
‘রিকস (রায়ান রিকেলটন) এসে তিন নম্বর পজিশনটা নিজের করে নিয়েছে। এই টুর্নামেন্টে কোনো ধাপই সহজ নয়। আশা করি আমরা এগিয়ে যেতে পারব।’
আহমেদাবাদের উইকেট শুরুর দিকে কিছুটা স্লো ছিল। পর্যায়ক্রমে তা ব্যাটারদের অনুকূলে আসে। প্রথম দিকে ৮৩ রাতে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে কামব্যাক করে তারা। অষ্টম উইকেট জুটিতে শেফার্ডকে সঙ্গে নিয়ে ৫৭ বলে ৮৯ রানের জুটি গড়েছেন হোল্ডার।
মার্করাম বলেন,
‘আহমেদাবাদের কন্ডিশন দারুণ লাগছে। খুব বেশি দূরের কথা ভাবছি না, তবে ছেলেরা এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে।’

টি-টোয়েন্টিতে ১৭৭ রান চ্যালেঞ্জিং বটে! তবে এ চ্যালেঞ্জ মামুলি বানিয়ে ছেড়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেওয়া লক্ষ্য ১৬.১ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়েই জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল প্রোটিয়ারা।
আহমেদাবাদে বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭৬ রান সংগ্রহ করে ক্যারিবিয়ানরা। জবাব দিতে নেমে খুব একটা হ্যাপা পোহাতে হয়নি এইডেন মার্করামদের। ৯ উইকেট ও ২৩ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। দক্ষিণ আফ্রিকাই এখন বিশ্বকাপে একমাত্র অপরাজিত দল।
জয়ের লক্ষ্যে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঝড়ো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক এবং এইডেন মার্করাম। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৯ রান তোলে প্রোটিয়ারা।
পাওয়ারপ্লে শেষেও আগ্রাসী ব্যাটিং ধরে রাখেন ডি কক এবং মার্করাম। ওপেনিং জুটির ৪৮ বলে আসে ৯৫ রান। ফিফটির খুব কাছে গেলেও ছুঁতে পারেননি ডি কক। ২৪ বলে ৪৭ রান করে বিদায় নেন তিনি।
এরপর মার্করামদের সাথে যোগ দেন রায়ান রিকেলটন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে জয় বন্দরে নিয়ে যান দুজন। ৪৬ বলে ৮২ রান করে টিকে ছিলেন মার্করাম। রিকেলটন অপরাজিত ছিলেন ২৮ বলে ৪৫ রান করে।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে অষ্টম উইকেট জুটিতে শেফার্ডকে সঙ্গে নিয়ে ৫৭ বলে ৮৯ রানের জুটি গড়েন হোল্ডার। তাতে ৮৩ রানে ৭ উইকেট হারানোর পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৭৭ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে।
১০০ রানের নিচে ৭ উইকেট হারানোর পর আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অষ্টম বা তার পরবর্তী উইকেটগুলোতে এ পর্যন্ত আটবার ৫০ বা তার বেশি রানের জুটি হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি জুটিতেই যুক্ত ছিলেন শেফার্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৭৬/৮ (শেফার্ড ৫২*, হোল্ডার ৪৯; এনগিদি ৩/৩০, বশ ২/৩১)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬.১ ওভারে ১৭৭/১ (মার্করাম ৮২*, ডি কক ৪৭; চেজ ১/৪৬)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: এইডেন মার্করাম

ওপরের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বেড়ে গিয়েছিল রানের চাপ। প্রমোশন পেয়ে ছয় নম্বরে নেমে সেটি দারুণভাবেই সামাল দিলেন আবু হায়দার রনি। তাকে দারুণ সঙ্গ দিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। শঙ্কা উড়িয়ে জয় পেল সেন্ট্রাল জোন।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ইস্ট জোনকে ৫ উইকেটে হারায় সেন্ট্রাল জোন। রনির ঝড়ো ফিফটিতে ২৩৮ রানের লক্ষ্য ২৭ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের নেতৃত্বাধীন দল।
ম্যাচের দুই ইনিংসেই আম্পায়ারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইস্ট জোনের অধিনায়ক ইয়াসির আলি চৌধুরি রাব্বি। প্রথম ইনিংসে তার নিজের আউটের সিদ্ধান্ত নিয়েই আক্রোশ ঝারতে দেখা যায় তাকে। পরে ফিল্ডিংয়ের সময় আরিফুল ইসলামের কট বিহাইন্ড নিয়েও রাগ প্রকাশ করেন তিনি।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলার আভাস দেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে ২২ বলে ২৭ রানের বেশি করতে পারেননি বাঁহাতি ওপেনার। আরেক ওপেনার জাকির হাসান খেলেন ৫১ বলে ৪৫ রানের ইনিংস।
তিন নম্বরে নেমে অমিত হাসানও (৪২ বলে ২৬) ইনিংস বড় করতে পারেননি।
চতুর্থ উইকেটে ৬১ রানের জুটি গড়েন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক ও ইয়াসির রাব্বি। ৩৪তম ওভারে ভাঙে এই জুটি। সাইফ হাসানের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় রকিবুল হাসানের হাতে ধরা পড়েন ৩৭ রান করা ইয়াসির।
খালি চোখে বোঝার উপায় ছিল না, সেটি ছক্কা হয়েছে নাকি আউট। তবে ভিডিও রিপ্লে ও বিভিন্ন ফুটেজে দেখা যায়, ক্যাচ নেওয়ার সময় সীমানা দড়িতে ছিল রকিবুলের পা। তাই সেটি ছক্কা হওয়ার কথা। কিন্তু টিভি আম্পায়ার না থাকায় মাঠের আম্পায়াররাই আউট দেন।
এটি নিয়ে চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ তর্ক করেন ইয়াসির। তাতে অবশ্য লাভ হয়নি কোনো।
পরে শামীম হোসেন শূন্য ও মুমিনুল হক ৩৪ রান করে আউট হয়ে গেলে দুইশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে ইস্ট জোন। নাঈম হাসান ৪৭ বলে ২৬, সৈয়দ খালেদ আহমেদ ১৩ ও মুশফিক হাসান ১১ রান করে দলকে আড়াইশর কাছে নিয়ে যান।
কিপটে বোলিংয়ে ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রকিবুল।
রান তাড়ায় শুরুতে সাইফের উইকেট হারায় সেন্ট্রাল জোন। পরে মাহফিজুল ইসলাম রবিন (২৯), অঙ্কন (১২) ও আরিফুল (২১) ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন নাঈম।
ইনিংসের ৩৩তম ওভারে মুশফিক হাসানের দ্বিতীয় বলে আরিফুলের বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের জোরাল আবেদন করে ইস্ট জোন। তবে তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। সঙ্গে সঙ্গে রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইয়াসির রাব্বি, নাসুম আহমেদ, মুশফিকরা।
তাতেও কোনো ফায়দা হয়নি। তবে ওই ওভারেই আরিফুল ফিরে গেলে কিছুটা স্বস্তি ফেরে ইস্ট জোন শিবিরে।
তখনও জয়ের জন্য বাকি ছিল ৯৭ বলে ১০৭ রান। সেখান থেকেই শুরু হয় রনির ঝড়। নাঈমের সঙ্গে মাত্র ৫২ বলে তিনি গড়েন ৭৪ রানের জুটি। দলকে দুইশ পার করিয়ে বিদায় দেন ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৯৮ বলে ৮৩ রান করা নাঈম।
পরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে বাকি কাজ সারেন রনি। মাত্র ২৮ বলে ফিফটি করা এই ব্যাটার ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন। সৈকতের ব্যাট থেকে আসে ১ চার ও ২ ছক্কায় ১১ বলে ২০ রান।
দুই ম্যাচে সেন্ট্রাল জোনের এটি প্রথম জয়। শেষ ম্যাচে নর্থ জোনের বিপক্ষে জিততে পারলে ফাইনালের টিকেট পেতে পারে তারা। অন্য দিকে পরপর দুই ম্যাচ হেরে ফাইনালে ওঠার সব আশা শেষ হয়ে গেল ইস্ট জোনের।