২৩ অক্টোবর ২০২৫, ৭:৪৮ পিএম

সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডেতে পাত্তাই পেল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রেকর্ড ব্যবধানে জয়ে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ। টানা ৪ সিরিজ হারের পর ওয়ানডেতে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল তারা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সিরিজের শেষ ম্যাচে ১৭৯ রানে জিতল বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে ২৯৬ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে ৩০.১ ওভারে ১১৭ রানে অলআউট হয়ে যায় ক্যারিবিয়ানরা।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের এর চেয়ে বড় জয় আছে আর একটি। ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮৩ রানে জিতেছিল তারা।
মিরপুরে অবশ্য এটিই সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৩ রানে হারায় তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের বড় জয়ের রেকর্ড ছিল ১৬০ রানের, ২০১২ সালে।
বাংলাদেশের বড় জয়ে ৩টি করে উইকেট নেন নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন। সব মিলিয়ে সিরিজে তার শিকার ১২টি উইকেট। ২০১৫ সালের পর এই প্রথম কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বাংলাদেশের কোনো বোলার ১০ বা তার বেশি উইকেট নিলেন।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাওয়ার প্লের মধ্যে তাদের টপ-অর্ডার তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন নাসুম আহমেদ। এরপর উইকেট শিকারে যোগ দেন তানভির ইসলাম। পঞ্চাশের আগে ৪ উইকেট হারায় সফরকারীরা।
আগের দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবারও চমৎকার বোলিং করেন রিশাদ। নাসুমের মতো তিনি নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া তানভির ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার ২টি করে উইকেট।
উইন্ডিজের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন দশ নম্বরে নামা আকিল হোসেন। এছাড়া আর কেউ ২০ রানও করতে পারেননি।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৯৬ রান। হোম অব ক্রিকেটে ৭ বছরের মধ্যে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩২০ রান করেছিল তারা।
অথচ একপর্যায়ে ২৫ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল বিনা উইকেটে ১৭৬ রান। সেখান থেকে ইনিংসের বাকি অর্ধেকে আর কাঙ্খিত রান পায়নি স্বাগতিকরা। বাকি ২৫ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় মাত্র ১২০ রান।
পুরো ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটাররা মারেন মোট ১৪টি ছক্কা। সাইফের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৬টি ছক্কা। এছাড়া সৌম্য সরকার ৪ ও নাজমুল হোসেন শান্ত মারেন ৩টি ছক্কা। শেষে নুরুল হাসান সোহানের ছক্কায় নিজেদের রেকর্ড স্পর্শ করে তারা।
২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১৪টি ছক্কা মেরেছিল বাংলাদেশ। সেদিন তামিম ইকবাল ৬টি ও লিটন কুমার দাস মেরেছিলেন ৮টি ছক্কা।
দলের তিনশ ছুঁইছুঁই সংগ্রহের কারিগর দুই ওপেনার সৌম্য ও সাইফ। দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড গড়ে ১৭৬ রান যোগ করেন তারা দুজন। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৯২ রানের জুটি গড়েছিলেন তামিম ও লিটন।
তবে আশা জাগিয়েও সেঞ্চুরি করতে পারেননি সাইফ ও সৌম্য। ৬টি করে চার-ছক্কায় ৮০ রান করে ক্যাচ আউট হন সাইফ। আর সৌম্যর ব্যাট থেকে আসে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৯১ রান।
ওপেনারদের বিদায়ের পর আর বাড়েনি রানের গতি। উল্টো পেছন পানে হাঁটা ধরে বাংলাদেশ। দুইবার জীবন পেয়েও ৫৫ বলে ৪৪ রানের বেশি করতে পারেননি শান্ত। তিন নম্বরে নামা হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ বলে ২৮ রান।
আগের দুই ম্যাচে ঝড় তোলা রিশাদ হোসেনকে নামানো হয় ছয় নম্বরে। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। আকিল হোসেনের করা ৪৬তম ওভারে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ ও নাসুম আহমেদের উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
পরে অষ্টম উইকেটে ২৪ বলে ৩৫ রান যোগ করেন নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৭ বলে ১৭ রান করেন মিরাজ আর সোহানের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ১৬ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন আকিল হোসেন। তাদের ফিল্ডাররা ছেড়ে দেয় ৬টি ক্যাচ। এর মাশুল দিয়ে বড় পরাজয়ের সিরিজটিও হেরে যায় তারা।
চট্টগ্রামে আগামী সোমবার শুরু হবে দুই দলের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯৬/৮ (সাইফ ৮০, সৌম্য ৯১, হৃদয় ২৮, শান্ত ৪৪, অঙ্কন ৬, রিশাদ ৩, নাসুম ১, সোহান ১৬*, মিরাজ ১৭; আকিল ১০-১-৪১-৪, চেজ ৮-১-৫৩-১, পিয়েরে ১০-০-৪৬-০, গ্রিভস ৭-০-৬১-০, মোতি ৮-০-৫৩-১, আথানেজ ৭-০-৩৭-২)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩০.১ ওভারে ১১৭ (আথানেজ ১৫, কিং ১৮, অগাস্ত ০, কার্টি ১৫, হোপ ৪, রাদারফোর্ড ১২, চেজ ০, গ্রিভস ১৫, মোতি ৭, আকিল ২৭, পিয়েরে ০*; নাসুম ৬-১-১১-৩, মিরাজ ৭-০-৩৫-১, তানভির ৮-০-১৬-২, রিশাদ ৯-০-৫৪-৩)
ফল: বাংলাদেশ ১৭৯ রানে জয়ী
No posts available.

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এবং পাকিস্তান সুপার লিগের ( পিএসএল) ধাক্কা ভালই লেগেছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটে। বোর্ডের অনাপত্তিপত্র নিয়ে এই দুটি ফ্রাঞ্চাইজি লিগে নিউ জিল্যান্ডের সেরা ক্রিকেটাররা এখন খেলছেন। সে কারণেই নিউ জিল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক স্যান্টনার, গ্লেন ফিলিপ এবং রাচিন রবীন্দ্রকে বাইরে রেখে বাংলাদেশ সফরের ওডিআই স্কোয়াড ঘোষণা করতে হয়েছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটকে।
১৫ সদস্যের স্কোয়াডে অধিনায়ক টম ল্যাথাম, হেনরি নিকোলাস এবং ইস সোধি ছাড়া অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নেই তেমন একটা। দলের মিডল অর্ডার বেভন জ্যাকবসের হয়নি ওডিআই অভিষেক। লেগ স্পিনার জসুয়া ক্লার্কসন এবং পেসার ম্যাট ফিশার খেলেছেন ৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ মাত্র ১টি। বাঁ হাতি স্পিনার জায়দান লিনাক্স সেখানে খেলেছেন ২টি ওডিআই। পেস বোলার ক্রিস্টার্ন ক্লার্ক, বাঁ হাতি স্পিনার নিক বেলি এবং লেগ স্পিনার অদ্বিতীয়া অশোকার ওডিআই ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা মাত্র ৩টি করে।
পরিস্থিতির মুখে ইনজুরি থেকে ফেরা জাতীয় দলের ৩ অনিয়মিত পেসার ম্যাট ফিশার, ও রোর্কে এবং ব্লেয়ার টিকনারকে নিয়ে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড গঠন করতে হয়েছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটকে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটানোর পর অফ-স্পিনিং অলরাউন্ডার ডিন ফক্সক্রফট সাদা বলের দলে ফিরেছেন। নিউজিল্যান্ড 'এ' দলের হয়ে দারুণ পারফর্ম করে মোহাম্মদ আব্বাস, আদিত্য অশোক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক এবং বেন সিয়ার্সের মতো খেলোয়াড়রা ওডিআই স্কোয়াডে ঢুকেছেন।
আগামী ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পা রাখার কথা নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দলের। আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে ৩ ম্যাচের ওডিআই এবং ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ ম্যাটের টি-২০ সিরিজের জন্য ইতোমধ্যে দুটি পৃথক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট। উভয় দলকে নেতৃত্ব দিবেন টম ল্যাথাম।
বাংলাদেশ সফরে নিউজিল্যান্ড ওডিআই স্কোয়াড: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ আব্বাস, আদিত্য অশোক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লিভার, ডিন ফক্সক্রফট, নিক কেলি, জেডেন লেনক্স, হেনরি নিকোলস, উইল ও'রোর্ক, বেন সিয়ার্স, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার এবং উইল ইয়ং।
বাংলাদেশ সফরে নিউ জিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), কেটেন ক্লার্ক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লিভার, ম্যাট ফিশার, ডিন ফক্সক্রফট, বেভন জ্যাকবস, নিক কেলি, জেডেন লেনক্স, টিম রবিনসন, বেন সিয়ার্স, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, ব্লেয়ার টিকনার।

দীর্ঘদিন ভারত জাতীয় দলে উপেক্ষিত মোহাম্মদ শামি। টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের পর টেস্ট দলেও এখন ব্রাত্য এই পেসার। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলে ডাক না পাওয়ায় নিজের হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারেননি শামি।
সবশেষ ২০২৫ সালের মার্চে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফাইনালে ভারতের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন শামি। পুরোপুরি ফিট হওয়া সত্ত্বেও এরপর জাতীয় দলে আর ফেরা হয়নি তাঁর। ২০২৫-২৬ ঘরোয়া মৌসুমে ৬৭টি উইকেট নিয়েছেন শামি। তবুও মন গলেনি ভারতের প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকারের।
ভারতের জনপ্রিয় সাংবাদিক শুভঙ্কর মিশ্র শুভঙ্কর মিশ্রর পডকাস্টে নিজের হতাশা ঝাড়েন শামি,
‘আইপিএলের কথাই ধরুন, আমার রেকর্ড দেখুন। অন্য কোনো ভারতীয় বোলার আমার ধারেকাছে নেই। তবুও বলা হয় আমি টি-টোয়েন্টি বোলার নই। গত ৫-৬ বছরে আমি প্রায় ১৩০টি উইকেট নিয়েছি। আর কী চান আপনারা?’
২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক হয় শামির। ভারতের জার্সিতে সব ফরম্যাট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নিয়েছেন ৪৬২ উইকেট। বিরাট কোহলি-রবি শাস্ত্রী যুগে ভারতীয় বোলিং আক্রমণে বড় অস্ত্র ছিলেন ৩৫ বছর বয়সী পেসার।
তিনটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা শামি ঘরের মাঠে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ২৪ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে (২০১৮-১৯ এবং ২০২০-২১) টানা দুটি টেস্ট সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই পেসার।
অবশ্য ভারতের হয়ে এখন পর্যন্ত যত সাফল্য পেয়েছেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে চাচ্ছেন শামি। দলে আবার সুযোগ পাওয়া নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না তিনি,
‘সত্যি বলতে, আমার তাতে কিছু যায় আসে না। আমার ঘরোয়া রেকর্ড দেখুন; বল দিলে তো আমি উইকেট নেব, তা না হলে আমি বড়জোর 'ওয়াটার বয়' হিসেবে কাজ করতে পারি। কিন্তু আমি এই নিয়ে খুব একটা বিচলিত নই। ভারতের হয়ে যতটুকুই খেলেছি, অনেক নাম, যশ আর অর্থ পেয়েছি। আমি দেশের জন্য অনেকগুলো বছর দিয়েছি এবং অনেকগুলো বিশ্বকাপ খেলেছি, এতেই আমি তৃপ্ত।‘
এবারের আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টসের (এলএসজি) হয়ে খেলবেন শামি। গত নভেম্বরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ থেকে ১০ কোটি রুপিতে ট্রেডে তাকে দলে ভেড়ায় লখনউ।

প্রথমবার বিগ ব্যাশে নাম লিখিয়েই অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া রিশাদ হোসেন পেলেন বিশেষ এক স্বীকৃতি। ক্রিকেট তাসমানিয়ার বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশী এই লেগ স্পিনার। আনুষ্ঠানিকভাবে আজ তারা রিশাদের নাম ঘোষণা করে।
বিগ ব্যাশের ২০২৫-২৬ মৌসুমে ব্যাট-বল হাতে পারফরমেন্সের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দিয়ে থাকে ক্রিকেট তাসমানিয়া। রিশাদের সঙ্গে বর্ষসেরা বিগ ব্যাশ খেলোয়াড়ের মনোনয়ন পেয়েছেন নাথান এলিস, ক্রিস জর্ডান এবং নিখিল চৌধুরী।
রিশাদকে বর্ষসেরা মনোনয়নের ব্যাখ্যায় ক্রিকেট তাসমানিয়া নিজেদের ওয়েবসাইটে লিখেছিল, ‘বেগুনি জার্সিতে নিজের প্রথম বছরেই দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন বাংলাদেশের লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেন।’
বল হাতে নিয়মিত আলো ছড়িয়ে হোবার্ট হারিকেন্সকে প্লে-অফে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রিশাদ। সবশেষ বিগ ব্যাশের প্লে অফ থেকে বিদায় নিয়েছে হোবার্ট। আসরে ১১ ইনিংসে ১৫ উইকেট নেন রিশাদ। হ্যারিকেন্সের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী বোলার ছিলেন তিনি। ওভারপ্রতি খরচ করেছেন ৭.৮২ রান, বোলিং গড় ২০.৮৬। ২৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট রিশাদের সেরা বোলিং।

গত বছরের স্থগিত হওয়া সিরিজ খেলতে আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের। সেই সফরের সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এর আগে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়েতে যাবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
বুধবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের সূচি প্রকাশ করেছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেসি)। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ২৩, ২৫ ও ২৬ জুলাই হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় শুরু হবে সব খেলা।
আরও পড়ুন
| আইপিএলে টাকা কম, তাই পিএসএল খেলছেন জাম্পা |
|
২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর এটিই হবে ভারতের প্রথম জিম্বাবুয়ে সফর। এরপর আবার ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে তিন ওয়ানডে খেলতে ভারতে যাবে জিম্বাবুয়ে দল। ২০০২ সালের পর সেটিই হবে জিম্বাবুয়ের প্রথম ভারত সফর।
সবশেষ চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও জিম্বাবুয়ে। সুপার এইটের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২৫৬ রানের পুঁজি নিয়ে জিম্বাবুয়েকে সেদিন ৭২ রানে হারায় ভারত।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিভমোর মাকোনি বলেছেন, ভারতের বিপক্ষে এই সিরিজটি খেলোয়াড় ও সমর্থক- উভয়ের জন্যই বড় একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
“ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে খেলা আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করার দারুণ সুযোগ।”
“বিশ্বকাপে আমাদের উৎসাহব্যঞ্জক পারফরম্যান্সের পর এই সিরিজ আমাদের জন্য গতি ধরে রাখার ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিযোগিতামূলক শক্তি হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।”
দুই দশকের বেশি সময় পর ভারতের মাটিতে জিম্বাবুয়ের সামনের সফরটিও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট।
আরও পড়ুন
| ম্যাচ জিতে দুঃসংবাদ পেলেন শ্রেয়াস আইয়ার |
|
“দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ভারতে যাওয়া জিম্বাবুয়ের জন্য একটি মাইলফলক মুহূর্ত। বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য, তাই এই সফর আমাদের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি খেলোয়াড়দের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ।”
“আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উচ্চমানের ক্রিকেট দেখার অপেক্ষায় আছি। একই সঙ্গে বিশ্বাস করি, এই সিরিজ দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং আমাদের দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা এনে দেবে।”

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলার জন্য মুখিয়ে থাকেন বিভিন্ন দেশের নামী ক্রিকেটাররা। সেই আইপিএল বাদ দিয়ে এবার পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলছেন অ্যাডাম জাম্পা। আর পিএসএল বেছে নেওয়ার পেছনে অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার জানিয়েছেন, আইপিএলে পারিশ্রমিক কম ও সূচি বেশ দীর্ঘ।
২০২৫ সালের আইপিএলের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলেছেন জাম্পা। গত ডিসেম্বরে নিলামের আগে তাকে ছেড়ে দেয় ফ্রাঞ্চাইজিটি। এরপর ১৬ ডিসেম্বরে হওয়া নিলাম তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করেননি জাম্পা।
আরও পড়ুন
| কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ ম্যাক্সওয়েল, প্রথমবার ডগেট |
|
পরে পিএসএলে করাচি কিংসে নাম লেখান অস্ট্রেলিয়ার তারকা লেগ স্পিনার। টুর্নামেন্ট চলাকালেই জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম এআরওয়াই নিউজের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এআরওয়াই পডকাস্টে আইপিএল ছাড়ার কারণ জানিয়েছেন জাম্পা।
“এই বছর আইপিএল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। সত্যি বলতে, আমার মতো দক্ষতা যাদের আছে, তারা অন্যান্য ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের মতো অত টাকা পায় না। আইপিএলের পেছনে যতটা সময় দিতে হয়, সেই বিবেচনায় টুর্নামেন্টটি চালিয়ে যাওয়া খুব একটা যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি।”
জাম্পা এখন পর্যন্ত পাঁচটি আইপিএল মৌসুম খেলেছেন। এই লেগস্পিনারকে গত বছর মেগা নিলামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ২.৪০ কোটি টাকায় দলে নিয়েছিল। ভারতের লিগটি থেকে এটিই এক মৌসুমে জাম্পার সর্বোচ্চ আয়।
আইপিএলে না থাকলেও বর্তমানে ডেভিড ওয়ার্নারের নেতৃত্বে করাচি কিংসের হয়ে পিএসএলে খেলছেন জাম্পা। নিলামে করাচি কিংস তাকে ৪.৫ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে দলে নিয়েছে।
হঠাৎ বিশ্রাম বাদ দিয়ে পিএসএলে যোগ দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন জাম্পা।
আরও পড়ুন
| উচ্চগতিতে গাড়ি চালিয়ে ৭ মাস পর জরিমানা দিলেন ডাকেট |
|
“বিশ্রামে থাকতে চেয়েছিলাম, কিন্তু মাসখানেক আগে পিএসএলের বিষয়টি সামনে আসে। সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে গেল, তবে আমি এখানে খেলা উপভোগ করছি।”
পিএসএলের চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে ৪.৬২ ইকোনমি রেটে ৩টি উইকেট শিকার করেছেন জাম্পা।
চলতি আইপিএলে না থাকলেও, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে স্পিনার হিসেবে সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ডটি এখনও তার দখলেই। ২০১৬ সালে নিজের অভিষেক মৌসুমে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের হয়ে ১৯ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।