
‘আপনি দেখেননি? ট্রফি ছিল তো আমার হাতে!’- ফাইনালের পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এভাবেই মজা করলেন সূর্যকুমার যাদব। তার পাশেই থাকা অভিষেক শর্মাও হাসি দিয়ে বললেন, ‘আমরা তো ট্রফি দেখেছি। ওজন কত ছিল তাও বুঝতে পেরেছি।’
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এই ট্রফি। প্রায় ৩০ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে তাই সূর্যকুমার যাদবকে বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে ট্রফি নিয়ে। যেখানে তিনি বলেছেন, দলের সদস্যরাই তার আসল ট্রফি।
দুবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার রাতে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। তবে ম্যাচ শেষে তাদের হাতে ওঠেনি কোনো ট্রফি। তাই অদৃশ্য এক ট্রফি নিয়েই নিজেদের মতো উদযাপন সারেন ভারতের ক্রিকেটাররা।
গত কয়েক মাস ধরে চলমান ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের ফাটল আরও বড় হয়ে গেছে। সেই ধারবাহিকতায় পুরো এশিয়া কাপে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলায়নি ভারতের ক্রিকেটাররা।
পরে ফাইনাল শেষে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) চেয়ারম্যান, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান ও পাকিস্তান সরকারের ইন্টেরিয়র মিনিস্টার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমমান) মহসিন নাকভির হাত থেকেও ট্রফি নিতে রাজি হয়নি ভারত।
ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, নাকভির হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করবে না তারা। নাকভিও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তিনিই তুলে দেবেন বিজয়ী দলের হাতে। দুই পক্ষের এমন সিদ্ধান্তের পর ফাইনাল শেষে আর ট্রফিই দেওয়া হয়নি চ্যাম্পিয়ন দলকে।
খেলা শেষ হওয়ার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা লেগে যায় পুরস্কার বিতরণ শুরু হতে। যে কারণে সংবাদ সম্মেলন হয় আরও দেরিতে। যেখানে ট্রফি-কাণ্ড নিয়েই প্রথম প্রশ্ন করা হয় সূর্যকুমারের কাছে। অল্প কথায় পুরো ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করেন ভারত অধিনায়ক।
“আমি ক্রিকেট খেলা বা ক্রিকেট দেখার শুরুর পর থেকে এবারই প্রথম দেখলাম যে, একটা চ্যাম্পিয়ন দলকে কোনো ট্রফি দেওয়া হলো না। সেটিও এমন এক চ্যাম্পিয়নশিপ, যা খুব কষ্ট করে জিতেছি। এমন না যে সহজে জিতে গেছি।”
“আমার মতে, আমাদের এটি প্রাপ্য ছিল। আমি এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না। আমার মনে হয়, আমি ভালোভাবে পুরোটা বলেছি। আর ট্রফির কথা বললে, ড্রেসিং রুমে আমার ১৪ ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফই আসল ট্রফি। যারা এই যাত্রার শুরু থেকে দুর্দান্ত ছিল। তারাই আসল ট্রফি।”
লম্বা অপেক্ষার পর শুরু হওয়া পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত পুরস্কার গ্রহণ করেন তিলক ভার্মা, কুলদিপ যাদব ও অভিষেক শর্মা। রানার্স-আপ হওয়া পাকিস্তান ক্রিকেট দলকেও দেওয়া হয় তাদের মেডেল ও ৭৫ হাজার ডলারের ডামি চেক।
এরপর সঞ্চালক সাইমন ডুল বলেন, পুরস্কার নেবে না ভারতীয় দল। তাই মঞ্চ ছেড়ে চলে যান নাকভি ও অন্যান্য অতিথিরা। এরপর অদৃশ্য ট্রফি নিয়ে নিজেদের মতো করে উদযাপন করেন ভারতের ক্রিকেটাররা। সংবাদ সম্মেলনে সেটি নিয়ে হাস্যরসও করেন সূর্যকুমার ও অভিষেক।
আর ভারত অধিনায়ক জানান, ট্রফি না পেলেও, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দই তাদের কাছে বেশি।
“ম্যাচ শেষে দেখেছেন হয়তো, বড় পর্দায় লেখা ছিল, ‘ভারত- এশিয়া কাপ ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন।’ এর চেয়ে ভালো আর কী দেখার আছে। যতগুলো বোর্ড আছে, সব জায়গায় লেখা ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত। খেলি তো এসবের জন্যই। আমি জানি, (দলের) সবাই এটিই বলবে।”
No posts available.
১ মে ২০২৬, ৫:০৮ পিএম

শেষ দুই ওভারে জয়ের সমীকরণ ছিল ২৮ রান। ১৯তম ওভারে ফাহিম আশরাফ ও ক্রিস গ্রিন মিলে ২২ রান তুললে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পায় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ রান, কিন্তু অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে মাত্র ৩ রান খরচ করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হুনাইন শাহ।
পিএসএলের দ্বিতীয় এলিমেনটরে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ২ রানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে হায়দরাবাদ কিংসম্যান। আগামীকাল রোববার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাবর আজম-নাহিদ রানার পেশাওয়ার জালমির মুখোমুখি হবে টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশগ্রহণ করা হায়দরাবাদ।
শুক্রবার রাতে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় এলিমিনেটরে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান সংগ্রহ করে হায়দরাবাদ কিংসম্যান। জবাবে ৭ উইকেটে ১৮৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি ইসলামাবাদ।
আরও পড়ুন
| সিঙ্গেল-লিগ ফরম্যাটেই ডিপিএল |
|
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় হায়দরাবাদ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই খাতা খোলার আগে ফেরেন ওপেনার মাজ সাদাকাত। দ্বিতীয় উইকেটে সাইম আইয়ুব (৩৮) ও অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন (৪০) ৭০ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন। মাঝপথে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও লাবুশেন দ্রুত বিদায় নিলে ৮৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে হায়দরাবাদ।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন উসমান খান ও কুশল পেরেরা। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৪৬ বলে ১০১ রানের জুটিতে ১৮০ পেরোয় হায়দরাবাদ। উসমান ৩০ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন, আর পেরেরা করেন ২১ বলে ৩৭ রান। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় হায়দরাবাদ।
১৮৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ইসলামাবাদের। ১৫ রানেই দুই ব্যাটারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে তারা। অধিনায়ক শাদাব খান (২২) ও ডেভন কনওয়ে (৩০) মিলে ৪২ রানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন।
এরপর জয়ের কাজটা সহজ করে দিয়েছিলেন মার্ক চ্যাপম্যান ও হায়দার আলী। চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৬৪ রানের জুটি। চ্যাপম্যান ২৬ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন।
এই দুজন ফেরার পর শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় ২৮ রান। ১৯তম ওভারে মোহাম্মদ আলীর বোলিংয়ে ২২ রান তুলে ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন ফাহিম আশরাফ ও ক্রিস গ্রিন। সেখান থেকে হুনাইন শাহর দুর্দান্ত ডেথ বোলিংয়ে জয় পায় নবাগত হায়দরাবাদ।

প্রথম ম্যাচের কল্যাণে একটা সম্ভাবনা জেগেছিল বৈকি। ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে আরও একবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের সেই উচ্চাশা ভিজিয়ে দেয় অগত্যা বৃষ্টি। অবশ্য আশা এখনও মরে যায়নি। শনিবার দুপুর দুইটায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ রাঙাতে পারলেই ২০২১ সালের পর আরও একবার কিউইদের টি-টোয়েন্টিতে হারানোর স্বাদ পাবে বাংলাদেশ।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ৬ উইকেটের জয়ে নিউ জিল্যান্ডের সিরিজ জয়ের কোনো সুযোগ নেই। শেষ ম্যাচটি জিতলে অন্তত ড্র করে ফিরতে পারবেন নিক কেলিরা। এক্ষেত্রেও অতিথিদের জন্য বড় প্রতিবন্ধক—অনাহূত বৃষ্টি। সিরিজ বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় ফিরলেও বৃষ্টি হয়ে ওঠেছে শঙ্কার কারণ।
টি-টোয়েন্টিতে র্যাঙ্কিং কিংবা শক্তিমত্তা—সবদিক দিয়েই বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে নিউ জিল্যান্ড। মুখোমুখি লড়াইয়ে ২০ ম্যাচের চারটিতে জয় বাংলাদেশের। তবে ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম কুড়ি কুড়িতে লিটন দাসরা যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে, তা জুগিয়েছে চোখের শান্তি। অভয়ের কারণ হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টেরও। অন্তত লিটন দাস ব্রিগেড বুঝিয়েছেন, এভাবে খেলবে সিরিজ জেতা কোনো ব্যাপারই না!
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ছয় ব্যাটারের সবাই দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করেছেন। তার মধ্যে তাওহীদ হৃদয়ের ১৮৮.৮৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে শেষদিকে শামীম পাটোয়ারীর ক্যামিও ইনিংস বাহবা কুড়িয়েছে বেশ। বল হাতে রিশাদ হোসেন, তানজিম সাকিবরা দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা। এই দলটির ওপরই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ভরসা টিম ম্যানেজমেন্টের। তাদের চাওয়া— বরং উইনিং কম্বিনেশন নড়চড় নয়।
ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শামীম পাটোয়ারী এই ইঙ্গিতটাই দিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা স্পিন অলরাউন্ডার বলেন, ‘(প্রথম ম্যাচে) আমরা ভালো খেলতে পেরেছি। ইন্টেন্ট দেখাতে পেরেছি। পরের ম্যাচে এটা ধরে রাখতে চাই।’
শুধুই ইন্টেন্ট ধরে রাখা? অবশ্য নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দ্বিতীয় কোনো সিরিজ জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী তিনি, ‘আমাদের ভালো একটি সুযোগ আছে সিরিজ জয়ের। অবশ্যই চাইব জেতার জন্য খেলার।’
বাংলাদেশের মতো অভিন্ন লক্ষ্য নিউ জিল্যান্ডের। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অতিথি দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা ডিন ফক্সক্রফট জানিয়েছেন, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তৃতীয় ম্যাচ রাঙাতে চান তারা।
নিউ জিল্যান্ড অলরাউন্ডার বলেন, ‘শেষ ম্যাচটা বৃষ্টির ফলে বাতিল হয়েছে। এখানে এসে সিরিজে সমতায ফেরানোর একটা সুযোগ পেয়েছি। দলের আবহ বেশ ভালো। সবাই ইতিবাচক আছে। প্রথম ম্যাচের পর ভাবার জন্য আমরা কয়েকদিন সময় পেয়েছি। ওই ম্যাচে আমরা অনেক কিছুই ভালো করেছি এবং অবশ্যই কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা বোলিং এবং ব্যাটিংয়ের নানা কিছু ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।’
মিরপুরের শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আরও একটি ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের হাতছানি লিটনদের সামনে। তবে বৃষ্টির চোখরাঙানি এড়িয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে এবং আত্মবিশ্বাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে কিউইদের বিপক্ষে আরও একটি স্মরণীয় জয় উদযাপনের সুযোগ রয়েছে স্বাগতিকদের। এখন শুধু মাঠে নিজেদের মেলে ধরার অপেক্ষা।

৪ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) থেকে সুপার লিগ ও রেলিগেশন বাদ দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের লিগ সিঙ্গেল-লিগ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে।
মিরপুর জাতীয় স্টেডিয়ামসহ ছয় ভেন্যুতে অনুষ্ঠিতব্য ৫০ ওভারের এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে ১১ জুন। লিগ কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসরে মোট ৬৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কোনো অপ্রত্যাশিত বাধার ক্ষেত্রে ম্যাচ সম্পন্ন করা নিশ্চিত করতে রিজার্ভ ডে রাখা হবে।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটিকে চ্যাম্পিয়ন এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটিকে রানার্স-আপ ঘোষণা করা হবে। পয়েন্ট টেবিলের তলানির দুটি দল ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অবনমিত হবে।
লিগে অংশগ্রহণকারী ১২টি ক্লাব হলো শিরোপাধারী আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স (ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব), রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড, সিটি ক্লাব ও ঢাকা লেপার্ডস।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য অপরিবর্তিত থাকছে বাংলাদেশ দল। শনিবার দুপুর দুইটায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচ।
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়। ফলে তৃতীয় ম্যাচ হয়ে উঠেছে অঘোষিত ফাইনাল। এই ম্যাচ জয়ে রাঙাতে পারলে সিরিজ হবে লিটন দাসদের। আর কিউইরা হারলে পড়তে হবে হোয়াইটওয়াশড লজ্জায়।
বাংলাদেশ দল: লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান, মোহাম্মদ সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল, সাইফ উদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

বার্ষিক র্যাঙ্কিং হালনাগাদ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। পুরুষদের টেস্ট এবং নারীদের ওয়ানডে—উভয় ফরম্যাটেই শীর্ষস্থান দাপট ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানকে টপকে নারী ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে টেস্টে অপরিবর্তিত নাজমুল হোসেন শান্তদের অবস্থান।
র্যাঙ্কিংয়ের এই নতুন হিসাবে ২০২৫ সালের মে থেকে খেলা সব ম্যাচের ফলাফলকে শতভাগ এবং এর আগের দুই বছরের ফলাফলকে ৫০ শতাংশ হিসেব করা হয়েছে। নতুন এই সমীকরণে পুরুষদের টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে নারীদের ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের চেয়ে ৩৫ পয়েন্ট বেশি নিয়ে চূড়ায় অবস্থান করছে অজিরা।
পুরুষদের টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ৩ রেটিং পয়েন্ট যোগ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ এখন ১৩১ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ১১৯। বড় পরিবর্তন এসেছে পরের অবস্থানগুলোতে; ৭ রেটিং পয়েন্ট হারিয়ে চারে স্থানে নেমে গেছে ইংল্যান্ড (১০২)। তাদের টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত (১০৪)। মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে ইংল্যান্ডের ঠিক পরেই (পঞ্চম স্থানে) অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড।
লাল বলের ক্রিকেটে র্যাঙ্কিংয়ে বড় এক লাফ দিয়েছে পাকিস্তান (৮৯)। শ্রীলঙ্কাকে (৮৬) টপকে তারা এখন ষষ্ঠ অবস্থানে। ইংল্যান্ডের কাছে ঘরের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে হারের হিসাব বাদ পড়া এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের কাছে ২-০ ব্যবধানে হারের গুরুত্ব অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব পড়েনি পাকিস্তানের।
নির্দিষ্ট সময়ে ন্যূনতম ৮টি ম্যাচ না খেলায় র্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে গেছে আয়ারল্যান্ড। র্যাঙ্কিংয়ে পুনরায় ফিরতে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান—উভয় দলকেই আগামী এক বছরের মধ্যে অন্তত আরও দুটি করে টেস্ট ম্যাচ খেলতে হবে।
নারী ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ছয়টি অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অস্ট্রেলিয়ার রেটিং ৪ পয়েন্ট কমলেও ১৬৩ রেটিং নিয়ে তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। ভারতের সঙ্গে ব্যবধান ১ থেকে ৪ পয়েন্টে বাড়িয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড; ১২৮ রেটিং নিয়ে তারা আছে দ্বিতীয় স্থানে। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে আছে ভারত (১২৪), দক্ষিণ আফ্রিকা (১০০), নিউজিল্যান্ড (৯৩) ও শ্রীলঙ্কা (৮৯)।
আইসিসির বার্ষিক এই হালনাগাদে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ৬ পয়েন্ট পাওয়ায় নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তাদের ব্যবধান ১৩ থেকে কমে চারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানকে টপকে নারী ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
গত তিন বছরে ন্যূনতম ৮টি ওয়ানডে ম্যাচ না খেলায় থাইল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস আপাতত র্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে গেছে। র্যাঙ্কিংয়ে ফিরতে থাইল্যান্ডের একটি এবং নেদারল্যান্ডসের দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে হবে।
আইসিসি আগামী ৫ মে পুরুষ ও নারী দলের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং এবং ৭ মে পুরুষ ওয়ানডে দলের বার্ষিক হালনাগাদ প্রকাশ করবে।