
বিপিএলের ৭ম সংস্করণে ক্যারিবিয়ান লিজেন্ডারি আন্দ্রে রাসেলকে হাতে অধিনায়কত্ব দিয়ে তার সুফল পেয়েছিল রাজশাহী রয়্যালস। বিপিএলের প্রথম ১১টি সংস্করণে রাজশাহীর ট্রফি ওই একবারই। বিপিএলের দ্বাদশ সংস্করণে নাবিল গ্রুপকে ফ্রাঞ্চাইজি হিসেবে পেয়ে রাজশাহী ওরিয়র্স পেলো ট্রফির স্বাদ। বিকেলে হেলিকপ্টারে করে ফাইনালের ভেন্যু শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মহামূল্যবান ট্রফিটির আগমনকে ঘিরে কৌতুহল, ট্রফির সামনে নাজমুল হোসেন শান্ত-শেখ মেহেদীর ফটো সেশন পর্বে শান্ত'র ছটফটানি ছিল ট্রফি'র দিকে। ফাইনালে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি (১০০), পেসার বিনুরা ফার্নান্ডোর ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের (৪/৯) পাশে বাঁ হাতি স্পিনার হাসান মুরাদের ছোবলে (৩/১৫) চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৪ রানে হারিয়ে ট্রফির সঙ্গে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রাইজমানি জিতে নিয়েছে রাজশাহী ওরিয়র্স।
সময়ের হিসেবে মাত্র ১২ মাস। এই সময়েই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে নিজেকে অন্য উচ্চতায় উঠিয়ে এনেছেন তানজিদ হাসান তামিম। বিপিএলের একাদশ সংস্করণে ১২ ম্যাচে ৪৮৫ রানে (গড় ৪৪.০৯) নাঈম শেখের ( ১৪ ম্যাচে ৫১১ রান) পেছনে ছিলেন। বছরের শুরুতে বিপিএলের পারফরমেন্সে উদ্বুদ্ধ তানজিদ হাসান তামিম সে বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ছিলেন সফল।
গত বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ব্যাটারদের মধ্যে রান সংগ্রহে ছিলেন সবার উপরে। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ব্যাটারদের মধ্যে জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেট (২৫ ম্যাচে ৯৩৬ রান) এবং ভারতের অভিষেক শর্মার (২১ ম্যাচে ৮৫৯ রান) পর সংক্ষিপ্ত সংস্করণের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে করেছেন তানজিদ হাসান তামিম ৭৭৫ রান। ৮ ফিফটি, ৩২.২৯ গড়ে ৭৭৫ রান করেছেন তিনি ১৩৫.২৫ স্ট্রাইক রেটে। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আদর্শ ওপেনার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা তানজিদ হাসান তামিম বিপিএলের দ্বাদশ সংস্করণেও চেনা রূপে হাজির। ১১ দিন আগে সিলেটে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে পেয়েছিলেন আসরে নিজের প্রথম ফিফটি (৭৬)। বিপিএলের ফাইনালে এসে পেলেন সেঞ্চুরির দেখা। চার-এর চেয়ে ছক্কায় বেশি পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তিনি ফাইনালে। ৬২ বলে ৬ চার, ৭ ছক্কায় ১০০ রানের ইনিংসটি তার থেমেছে মুগ্ধ'র বলে কাউ কর্নারে ক্যাচ দিয়ে।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শরীফুলকে পর পর ২ বলে ছক্কা এবং বাউন্ডারিতে জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই রাতটি হতে যাচ্ছে তার। প্রথমে ব্যাট করে রাজশাহী ওরিয়র্সের ১৭৪/৪ স্কোরে তার অবদান ১০০। ফাইনালে একাই টেনে নিয়ে গেছেন রাজশাহী ওরিয়র্সকে। প্রথম উইকেট জুটিতে ৬৩ বলে ৮৩, দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৩২ বলে ৪৭ রানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। ৩৫ বলে ফিফটিতে মেরেছেন ২টি চারের পাশে ৬টি ছক্কা। যে ৬টি ছক্কার মধ্যে শেখ মেহেদীকে ৩টি, মীর্জা তাহির বেগকে ২টি এবং তানভিরকে মেরেছেন ১টি ছক্কা। পরের ফিফটিতে লেগেছে তার ২৫টি বল। ১৯তম ওভারে মুগ্ধকে এক্সট্রা কভারে ঠেলে সিঙ্গল নিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয় এবং বিপিএল ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন।
তানজিদ হাসান তামিমের এমন জাত চেনানো সেঞ্চুরির পাশে পাকিস্তানী শাহিবজাদা ফারহানের ৩০ বলে ৩০, কিউই লিজেন্ডারি কেন উইলিয়ামসের ১৫ বলে ২৪ ছিল উল্লেখ করার মতো। শেষ পাওয়ার প্লে'র ৩০ বলে রাজশাহী ওরিয়র্স ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান যোগ করেছে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটিংয়ে। ভাগ্যটাও ভাল তানজিদের। ৫৪ রানের মাথায় আমির জামালের বলে ডিপ স্কোয়ার লেগে মুগ্ধ'র হাত থেকে এবং ৮৮ রানের মাথায় সেই আমির জামালের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে আসিফ আলীর হাত থেকে বেঁচে গেছেন তানজিদ হাসান তামিম।
২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের টিমমেট শরীফুল বিপিএল ফাইনালে তানজিদের প্রতিপক্ষ দল চট্টগ্রাম রয়্যালসের জার্সিতে এবার করেছেন রেকর্ড। বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ ২৫ উইকেটের রেকর্ড ছিল এতোদিন দুর্বার রাজশাহীর তাসকিন আহমেদের (১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট)। তাসকিনের সেই কৃতিত্বকে ছাড়িয়ে যেয়ে শরীফুলের দরকার ছিল ২টি উইকেট। দ্বিতীয় স্পেলে (১-১-১১-১) কেন উইলিয়ামসকে লং অনে ক্যাচে পরিণত করে এবং ইনিংসের শেষ বলে শান্তকে রিটার্ন ক্যাচে ফিরিয়ে দিয়ে কাঙ্খিত লক্ষে পৌছে গেছেন। বিপিএলের এক আসরে সর্বাধিক উইকেটের মালিক এখন শরীফুল (১২ ম্যাচে ২৬ উইকেট, গড় ১০.০৭, ইকোনমি ৬.৪৯)। তবে রেকর্ড গড়ার ম্যাচে বোলিংটা হয়নি আশানুরূপ (৪-০-৩৩-২)।
রাজশাহীর ৯ ছক্কা, ১১ বাউন্ডারির ইনিংসে ৪৫টি ডট। চট্টগ্রাম পেসার মুকিদুল মুগ্ধ'র বোলিংটা (৪-০-২০-২) বলার মতো। তবে অফ স্পিনার শেখ মেহেদী এদিন খেয়েছেন একটু বেশি মার (৪-০-৪৮-০)।
১৭৫ রানের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য শুরু থেকে আক্রমনাত্মক ব্যাটিংয়ে মনোনিবেশ করেনি চট্টগ্রাম রয়্যালস। রাজশাহী ওরিয়র্সের শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্ডোর প্রথম স্পেলে (২-০-৭-২) ২ বলের ব্যবধানে নাঈম শেখ (১০ বলে ৯), মাহামুদুল হাসান জয় (২ বলে ০) ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে (৪০/৩) ফিরে গেলে বড় ঝাঁকুনি খায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। ইনিংসের মাঝপথে বাঁ হাতি স্পিনার হাসান মুরাদের মিতব্যয়ী ২টি স্পেল (২-০-৯-১ ও ২-০-৬-২) চট্টগ্রাম রয়্যালসের চ্যালেঞ্জটা কঠিন করে দিয়েছে। শেষ ৩০ বলে ৭৫ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে পারেনি চট্টগ্রাম রয়্যালস। বিনুরা ফার্নান্ডোর ১ ওভারের শেষ স্পেলে (১-০-২-২) চট্টগ্রাম রয়্যালস করেছে অসহায় আত্মসমর্পন। ১৪ বল বাকি থাকতে ইনিংস গুটিয়ে (১১১/১০) ফেলেছে।
দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ৪-০-১৯-৪, এটাই ছিল বিনুরা ফার্নান্ডোর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। ফাইনালে নিজেকে নিজে গেছেন ছাড়িয়ে (৩-০-৯-৪)! দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১৭টি ডট, ফাইনালে সেখানে ১৮টির মধ্যে ১৩টি ডট।
No posts available.
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:২১ পিএম
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:০৮ পিএম
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪১ এম

বিগ ব্যাশে দারুণ উজ্জ্বল রিশাদ হোসেন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে গুছানো বোলিংয়ে দুই উইকেট নিয়েছেন হোবার্ট হারিকেনসের বাংলাদেশি লেগস্পিনার।
আজ সিডনিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ১৯৮ রান করেছে সিডনি সিক্সার্স। ৪ ওভারে ৩৩ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ।
সিডনির ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে আসেন রিশাদ। প্রথম ওভারে খরচ করেন ৬ রান। অষ্টম ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভারের জন্য আসেন রিশাদ, এই ওভারে দেন ৮ রান।
ইনিংসের ১৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে জোড়া আঘাত হানেন রিশাদ। ওভারের প্রথম বলেই ৬৫ রানে থাকা সিক্সার্সের অধিনায়ক স্টিভ স্মিথকে ফেরান। শেষ বলে শিকার হন মোয়েসেস হেনরিকস।
১৭তম ওভারে মাত্র ৪ রান দেন রিশাদ। তাঁর শেষ ওভারে কোন বাউন্ডারি বের করতে পারেননি সিডনি সিক্সার্সের ব্যাটাররা। ৩৩ রানে দুই উইকেট নিয়ে বোলিংয়ের কোটা শেষ করেন রিশাদ।
চলতি বিগ ব্যাশে ১১ ইনিংসে ১৫ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। স্পিনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় সবার উপরে এই লেগস্পিনার। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন রিশাদ।

চট্টগ্রাম রয়্যালসের স্বপ্ন ভেঙে বিপিএলের ১২তম আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবারের ফাইনাল ম্যাচে চট্টগ্রামকে ৬৩ রানে হারাল তারা।
আগে ব্যাট করে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরির সৌজন্যে ১৭৪ রানের পুঁজি পায় রাজশাহী। জবাবে ১৩ বল বাকি থাকতে ১১১ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম।
টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরিতে ঠিক ১০০ রানের ইনিংস খেলেন তামিম। ৬২ বলের ইনিংসে ৬ চারের সঙ্গে মারেন ৭টি ছক্কা। বিপিএলের ফাইনালে তৃতীয় সেঞ্চুরি এটি।
এছাড়া আর কেউই তেমন বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৩০ রান করতে ৩০ বল খেলেন সাহিবজাদা ফারহান ও কেন উইলিয়ামসনের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৪ রান।
চট্টগ্রামের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও শরিফুল ইসলাম।
পরে রান তাড়ায় চট্টগ্রামের পক্ষে কেউই তেমন কিছু করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৩৯ রানের ইনিংস খেলতে ৩৬ বল নেন মির্জা তাহির বেগ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করেন আসিফ আলি।
বল হাতে মাত্র ৯ রানে ৪ উইকেট নেন বিনুরা ফার্নান্দো। বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ ১৫ রানে নেন ৩ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৭৪/৪ (সাহিবজাদা ৩০, তানজিদ ১০০, উইলিয়ামসন ২৪, নিশাম ৭*, শান্ত ১১; শরিফুল ৪-০-৩৩-২, মুকিদুল ৪-০-২০-২, তানভির ৩-০-১৭-০, মেহেদি ৪-০-৪৮-০, মির্জা ১-০-১৩-০, জামাল ৪-০-৪৩-০)
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৭.৫ ওভারে ১১১ (মির্জা ৩৯, নাঈম ৯, জয় ০, নাওয়াজ ১১, জাহিদুজ্জামান ১১, মেহেদি ৪, আসিফ ২১, আমির ৮, শরিফুল ০, তানভির ১*, মুকিদুল ১ ; বিনুরা ৩-০-৯-৪, নিশাম ৪-০-২৪-২, তানজিম ৩-০-৩৭-০, সাকলাইন ৩.৫-০-২৪-১, মুরাদ ৪-০-১৫-৩)
ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৬৩ রানে জয়ী

শ্রীলঙ্কাকে ৬-৩ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর এবার আরও বড় জয় পেল বাংলাদেশ। সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে এবার সাবিনা খাতুনদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে রীতমতো বিধ্বস্ত হলো পাকিস্তান।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ননথাবুরি হলে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশে। চারগোল করেছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। জোড়া গোল পেয়েছেন কৃষ্ণা রানী সরকার ও নৌশিন জাহান। অন্য গোলটি নিলুফা ইয়াসমিন নীলার।
প্রতিযোগিতায় এ নিয়ে পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ জয়ে শিরোপার আরও কাছে পোঁছে গেল বাংলাদেশ। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান পোক্ত করল সাবিনারা। দুইয়ে থাকা ভারতের পয়েন্ট ৯।
রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে হওয়া এই টুর্নামেন্টে আজ ভুটানের বিপক্ষে ভারত হারলেই চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশে মেয়েরা। অথবা মালদ্বিপের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয় পেলেই সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশ।
গুছিয়ে উঠতে শুরুতে খানিকটা সময় নেয় বাংলাদেশ। ৭ মিনিটে শুরু হয় পাকিস্তানের জালে বল পাঠানোর উৎসব। মাতসুশিমা সুমাইয়ার বাড়ানো বল থেকে গোল করেন সাবিনা খাতুন। কৃষ্ণার পাস ধরে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা মাতসুশিমা সুমাইয়া বল বাড়ান গোলমুখে। ফাঁকায় থাকা সাবিনা নিখুঁত ট্যাপে বল জড়িয়ে দেন জালে। পরের মিনিটেই ব্যবধান ২-০ করেন নীলা। ১০ মিনিটে আরেক দফা পাকিস্তানের জালে বল পাঠায় বাংলাদেশ, এবার গোলদাতা নৌশিন। দুই মিনিট পর নিজের জোড়া আর দলের চতুর্থ গোলটি করেন তিনি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে এক মিনিটের মধ্যে আরও দুই গোল করে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে ফেলে বাংলাদেশ। সুমাইয়ার পাস প্রথম স্পর্শে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে, জায়গা বানিয়ে বাম পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন কৃষ্ণা। এরপর নীলার পাসে বাম পায়ের প্লেসিং শটে জাল খুঁজে নেন সাবিনা। সাফ নারী ফুটসালে এবারের আসরে প্রথমার্ধে ৬ গোল করতে পারেনি আর কোনো দলই।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের বেগ কিছুটা কমায় বাংলাদেশ। ২৭ মিনিটে গোলও হজম করতে পারত। তবে সে যাত্রায় জাল অক্ষুণ্ণ রেখে ৩২ মিনিটে কৃষ্ণা রাণীর গোলে ব্যবধান দাড়ায় ৭-০। তাঁর শট প্রথমবার পাকিস্তানের গোলকিপার, তবে ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে না পারায় বল পেয়ে জাল খুঁজে নেন কৃষ্ণা।
৩৩ মিনিটে গোল একমাত্র গোলটি হজম করে বাংলাদেশ। পরের মিনিটেই সুমাইয়ার একটি শট বক্সের বাইরে এসে হাত দিয়ে ঠেকিয়ে লাল কার্ড দেখেন পাকিস্তানের গোলকিপার। এরপর ফ্রি কিক থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাবিনা। শেষ মিনিটে আরও একটি গোল করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

ক্রিকেট উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোর করতে একটি সমঝোতা স্বারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)।
প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ হাই-কমিশন চ্যান্সারিতে গত ১৬ জানুয়ারি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিসিবির পক্ষে স্বাক্ষর করেন দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফি এবং সিএসএর পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফোলেতেসি মোসেকি।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের উদীয়মান ক্রিকেটাররা প্রিটোরিয়ায় সিএসএর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে উঁচুমানের প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি আম্পায়ার ও কিউরেটরদের জন্য প্রশিক্ষণের সঙ্গে বিনিময় কর্মসূচি রাখা হয়েছে চুক্তিতে। নারী ও পুরুষ উভয় দলেরই দ্বিপাক্ষিক সফর বাড়ানোর ব্যাপারটিও সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে কোচিং উন্নয়ন, কারিগরি জ্ঞান বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে দুই বোর্ড একসঙ্গে কাজ করবে। চুক্তির মেয়াদ তিন বছর। সংশ্লিষ্টদের আশা, দুই দেশের ক্রিকেপ সম্পর্ককে আরও পোক্ত করবে এই চুক্তি।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই বিপিএলের ১২তম সংস্করণের ট্রফি নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ নেই সবার। বিসিবির পক্ষ থেকে শুরুতেই জানানো হয়েছিল, এবার ভিন্ন ডিজাইনের নতুন ট্রফি দেবেন তারা। কিন্তু ফাইনালের আগের দিন পর্যন্ত দেখা মেলেনি সেই ট্রফির।
দর্শকদের জন্য একপ্রকার চমক হিসেবেই রাখা হয়েছে এটি। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার ফাইনাল ম্যাচ শুরুর ঘণ্টা দেড়েক আগে প্রথমবার দেখা যাবে হীরাখচিত বিশেষ এই ট্রফি।
ফাইনাল ম্যাচের দিনের সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে ট্রফিটি নিয়ে মাঠে নামবেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুন ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক আকবর আলি।
২০১৮ সালে সালমার নেতৃত্বে নারী এশিয়া কাপ জিতেছিল বাংলাদেশ আর ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক আকবর। তাদের হাত দিয়েই মাঠে নামবে বিপিএলের হীরাখচিত ট্রফি। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আগেই জানিয়েছেন, এই ট্রফিটির বানাতে খরচ প্রায় ২৫ হাজার ডলার।
এরপর বিপিএলের দুই ফাইনালিস্ট চট্টগ্রাম রয়্যালস অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করবেন বিপিএল ট্রফির। পরবর্তী আধঘন্টা ধরে মাঠে ঘুরে বেড়াবে বিশেষ এই ট্রফি।
খেলা শুরুর আগে মাঠে আগত দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন তিশার নৃত্য পরিবেশন। পরে টসের আগমুহূর্তে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হবে ট্রফি। আর ৫টা ৩০ মিনিটে টস করে ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবেন দুই অধিনায়ক।