
অবশেষে স্বস্তির খবর প্যাট কামিন্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জন্য। সর্বশেষ পিঠের স্ক্যানের পর ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। আর সব ঠিক থাকলে আইপিএলে তিনি ফিরবেন এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে।
সিডনিতে করানো পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোগানো তার লাম্বার স্ট্রেস ইনজুরি পুরোপুরি সেরে গেছে। এর আগে ইনজুরির কারণে গত জুলাইয়ের পর থেকে মাত্র একটি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন কামিন্স।
ফলে আইপিএলের শুরুতে দলের সঙ্গে থাকলেও পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দেশে ফিরে যেতে হয়েছিল তাকে।
নিজের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কামিন্স জানিয়েছেন, শুক্রবারই ভারতের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন, লক্ষ্য আগামী ২৫ এপ্রিল জয়পুরে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে মাঠে নামা।
আরও পড়ুন
| এক ভেন্যুতে রানের রাজত্ব কোহলির, সেরা পাঁচে মুশফিক ও তামিম |
|
এই ইনজুরির শুরুটা গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময়, যদিও বিষয়টি গুরুতর আকার নেয় আগস্টে। পরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে একমাত্র ম্যাচ খেলেই ছয় উইকেট নিয়ে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, যা অ্যাশেজ ধরে রাখতে সাহায্য করে অস্ট্রেলিয়াকে।
শুরুর দিকে আশা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দেখা যাবে তাকে, এমনকি প্রাথমিক দলেও নাম ছিল। কিন্তু বাস্তবে সময়টা হয়ে ওঠেনি অনুকূল- আইপিএলের শুরুটাও তাই মিস করতে হয়েছে।
কামিন্সের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইশান কিশান। প্রধান কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি জানিয়েছেন, দলের সঙ্গে থেকে অধিনায়কত্ব নিয়ে ইশানের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করেছেন কামিন্স- যা দলকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে।
বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে হায়দরাবাদ, পাঁচ ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে।
No posts available.
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৮:২৫ পিএম
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম

ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলছে লাল-সবুজ দল। তিন ম্যাচের সিরিজ শেষে কুড়ি কুড়ির লড়াইয়ে নামবে দু’দল। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিশ্চিত করেছে, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট টিম আসছে বাংলাদেশে।
বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আগামী ৩ মে ঢাকায় পা রাখবে পাকিস্তান টেস্ট দল। সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু ৮ মে। হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরেবাংলায় গড়াবে এই ম্যাচ। ১৬ মে থেকে শুরু দ্বিতীয় টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ম্যাচগুলো ২০২৫-২০২৭ আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের অংশ।
২০২৪ সালের আগস্টে সবশেষ টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের রাওয়ালাপিন্ডির সেই ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল সফরকারী নাজমুল হোসেন শান্তরা।
পাকিস্তানের বাংলাদেশের সফরের পর জুনে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে অস্ট্রেলিয়া। ওয়ানডে সিরিজ শুরু ৯ জুন এবং টি-টোয়েন্টি ১৭ জুন। ১৫ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসছে অস্ট্রেলিয়া।

বোলারদের কল্যাণে নিউ জিল্যান্ডকে নাগালের মধ্যে রাখলেও, ব্যাটারদের ব্যর্থতায় মেলেনি জয়। কিছুটা বোলিং সহায়ক উইকেটে প্রত্যাশামাফিক ব্যাটিং করতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ম্যাচ শেষে তাই উইকেটের কোনো অজুহাত দিতে চাননি দলের সেরা পারফর্মার সাইফ হাসান।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবারের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২৪৭ রানের বেশি করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। জবাবে সাইফ হাসানের ফিফটি ও লিটন কুমার দাসের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে জয়ের আশা জাগায় বাংলাদেশ।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজ তারা সারতে পারেনি। শেষ দিকে তাওহিদ হৃদয়ের ফিফটি ছাড়া দলের আর কেউ তেমন বলার মতো কিছুই করতে পারেননি। যে কারণে ৯ বল বাকি থাকতেই ২২১ রানে গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। ঘরের মাঠে পরাজয়ে শুরু হয়েছে সিরিজ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বড় অংশ জুড়ে উইকেট। তবে এটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর পক্ষে নন ৭৬ বলে ৫৭ রান করা সাইফ।
আরও পড়ুন
| প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কা নারী দল |
|
“উইকেট তো একটু (অসম) ছিল ঠিক আছে। একটা ধারণা ছিল যে কিরকম হতে পারে। তবে আজকে কিছুটা বেশি আনইভেন হয়েছে। তবে আমার মনে হয় ঐ অজুহাত দিয়ে আসলে বাঁচার কোনো উপায় নেই। আমরা ম্যাচে ছিলাম...২২-২৩ ওভার পর্যন্ত আমরা ম্যাচে ছিলাম। ঐ ভুল সময়ে কিছু উইকেট পড়াতে আমরা ঐখান থেকে পিছিয়ে গেছি।”
শুরুতে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারালেও, সাইফ ও লিটনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। দুজন মিলে গড়েছিলেন ৯৩ রানের জুটি। তবে ২৩তম ওভারে সাইফের বিদায়ের পর বদলাতে থাকে দৃশ্যপট। এরপর আর কার্যকর কোনো জুটি পায়নি বাংলাদেশ।
সাইফের মতে, ভুল সময়ে উইকেট হারানোয় পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।
“আমার মনে হয় উইকেটটা শুরু থেকে একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিছু ভুল সময়ে আমাদের উইকেটগুলো পড়েছে। আমার উইকেটটা যদি আমি আরেকটু টেনে নিতে পারতাম... সেট ব্যাটসম্যানের জন্য একটু সহজ ছিল। নতুন ব্যাটসম্যানের জন্য একটু কঠিন ছিল। আমি যদি আরেকটু টেনে নিতে পারতাম আরেকটু সহজ হতো। এটাই আরকি আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।”
আরও পড়ুন
| উল্টো স্লো উইকেটের ফাঁদে পড়লো বাংলাদেশ |
|
ম্যাচের উইকেটে শুরু থেকেই বাউন্স ছিল অসম। কিছু বল হঠাৎ লাফিয়েছে। আবার নিচু হয়েছে কিছু ডেলিভারি। দ্বিতীয় ইনিংসে স্লোয়ারের দারুণ ব্যবহার করে উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের বোলাররা।
অথচ গত মাসেই পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উইকেট ছিল বেশ ভালো। গতি ও বাউন্স ছিল সমান। সেখান থেকে হুট করেই ভিন্ন আচরণের উইকেটে খেলতে হয়েছে বাংলাদেশের। তবে এটিকে বড় করে দেখতে চান না সাইফ।
“পাকিস্তান সিরিজের উইকেটে তো দেখেছেন, ট্রু উইকেট ছিল। এখানেও উইকেট ভালো ছিল। এমন কোনো খারাপ ছিল না। তবে আমরা যদি একটু ভালোমতো মানিয়ে নিতে পারতাম... একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে এটা অজুহাত দেওয়ার কিছু নেই। যেহেতু আমরা আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি। তো আমাদের সেই স্কিল সেট অবশ্যই আছে। দূর্ভাগ্যবশত আজকে আমরা করতে পারিনি।”
ঘরের মাঠে এ নিয়ে পরপর তিন সিরিজে তিন ধরনের উইকেটে খেলল বাংলাদেশ। গত বছর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ছিল পুরোপুরি স্পিন সহায়ক উইকেট। মাঝে পাকিস্তানের বিপক্ষে তুলনামূলক পেস সহায়ক স্পোর্টিং উইকেট। আর এবার প্রথম ম্যাচটি অসম বাউন্সের।
আরও পড়ুন
| ব্যাটিং ব্যর্থতায় পরাজয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের |
|
নিজের ঘরের মাঠে এমন ভিন্ন ভিন্ন উইকেটে খেলার ব্যাপারে মানিয়ে নেওয়ার কথাই বারবার বললেন সাইফ।
“ভিন্ন উইকেটে আসলে এডজাস্টমেন্ট আমাদের করতে হবে। যেহেতু পেশাদার ক্রিকেটার আমাদের এটি করতেই হবে। এখানে কোনো অজুহাত নেই। তবে আসলে এটা আমাদের হাতে নেই। উইকেট একেক দিন একেকরকম হতে পারে। জিনিসটা হচ্ছে, আমরা ওখানে যেয়ে কতটুকু মানিয়ে নিতে পারছি।”

চামারি আতাপাত্তুর নেতৃত্বে সাদা বলের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল। এটি বাংলাদেশের মাটিতে লঙ্কান নন্দিনীদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। এর আগে ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিকেল পাঁচটায় রাজশাহীর উদ্দেশে উড়াল দেয় সফরকারীরা। সিরিজের তিনটি ওয়ানডে ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে।
আগামী ২০ এপ্রিল শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ ২২ ও ২৫ এপ্রিল। ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দল সরাসরি সিলেটে যাবে। সেখানে ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ ৩০ এপ্রিল ও ২ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
এই সফরের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে।
ওয়ানডে স্কোয়াড: চামারি আতাপাত্তু (অধিনায়ক), হাসিনি পেরেরা, ইমেশা দুলানি, হানসিমা করুণারত্নে, কাউশিনি নুথ্যাঙ্গানা, হর্ষিতা সমরাবিক্রমা, নিলাক্ষিকা সিলভা, পিউমি ওয়াথসালা, কাভিশা দিলহারি, ডেউমি বিহাঙ্গা, মালকি মাদারা, কাভ্যা কাভিন্দি, চেথানা বিমুক্তি, ইনোকা রানাওয়েরা, সুগান্ধিকা কুমারি, নিমেশা মাদুশানি।

ক্রিকেট সিজনের শেষ দিকে এসে পিচ হয়ে পড়ে ব্যাটিং বান্ধব। এমন পিচ নিউ জিল্যান্ডকে উপহার দিলে তা হবে বুমেরাং। সে কারণেই অতীতের মতো নিজেদের ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্লো পিচ প্রস্তুত রাখার নির্দেশনাই ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। স্পিনারদের সুবিধার কথা ভেবে তো বটেই, বাংলাদেশের পেস ডিপার্টমেন্টকে এডভান্টেজ দিতে মিরপুরে এমন উইকেটই করা হয়েছে প্রস্তুত। পিচের উপর ছোপ ছোপ সবুজ ঘাস, দূর থেকে দেখে বাউন্সি মনে হলেও পিচটা পুরোপুরি ট্রিপিক্যাল বাংলাদেশী। বাংলাদেশ দলের পেস অ্যাটাক যখন হয়ে উঠেছে প্রতিপক্ষের আতঙ্ক, পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ জয়ে নায়ক যারা, তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা না করে কেনো স্লো উইকেট প্রস্তুত করা হলো ? স্পোর্টিং উইকেট স্লো উইকেটে ফিরে যাওয়ার মাশুল দিতে হয়েছে।
বল পড়ে হাঁটুর নিচে নেমেছে শুরু থেকেই। দ্বিতীয় ইনিংসে বরং তা প্রকট হয়েছে। উইকেটের এই বৈশিষ্ট্য নিউ জিল্যান্ড বোলারদের দিয়েছে উৎসাহ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বল্প অভিজ্ঞ পেস বোলার টিকনার (৪/৪০), ন্যাথান স্মিথের (৩/৪৫) বোলিংয়ের পাশে বাঁ হাতি স্পিনার লিনক্স ( ১০-০-৩২-২), অফ স্পিনার ডিন ফক্সফোর্ট (৬-০-২৫-১) বাংলাদেশ ব্যাটারদের হতভম্ব করেছেন। তাতেই অখ্যাত ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া নিউ জিল্যান্ডের কাছে ২৬ রানে হেরে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ।
শ্লো পিচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে সাহস দেখিয়েছেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম। আইপিএল-পিএসএলে সেরাদের রেখে বাংলাদেশ সফরে আসা অনভিজ্ঞ নিউ জিল্যান্ড ২৪৭/৮পর্যন্ত স্কোর টেনে নিয়ে বাংলাদেশকে ফেলেছে পরীক্ষার মুখে। কীভাবে স্কোরটা ২৪৭ পর্যন্ত গেল, তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে রানের জন্য ধুঁকতে থাকা নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৩৮/১। সেখান থেকে ২২০ পর্যন্ত স্কোর টেনে নেয়াটাই তাঁদের জন্য দুরুহ হওয়ার কথা। তবে শেষ পাওয়ার প্লে-তে কিউই ব্যাটাররা যোগ করেছে ৩ উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান। তাতেই বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের চ্যালেঞ্জ দিতে পেরেছে সফরকারী দল।
এই ম্যাচে অনভিজ্ঞ নিউ জিল্যান্ড দলের দুই ব্যাটার নিকোলাস (৮৩ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৬৮), ফক্সফোর্ট (৫৮ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৫৯) পেয়েছেন ফিফটি। মাত্র ৮ রানে ভেঙ্গে দেয়া যেতো যে জুটি, শরীফুলের বলে উইল ইয়ংয়ের ক্যাচ সাইফ হাসান স্লিপে ফেলে দিলে সেই দ্বিতীয় উইকেট জুটি থেমেছে ৭৩ রানে। ১ রানে জীবন ফিরে পাওয়া উইল ইয়ং ইনিংস টেনে নিয়েছেন ৩০ পর্যন্ত।
এমন একটা ম্যাচে নিয়মিত ৫ বোলারের বাইরে কারো হাতে এক ওভারের জন্যও তুলে দেননি অধিনায়ক বল। পিএসএল মাতিয়ে দেশে ফেরা নাহিদ রানা মিতব্যয়ী বোলিং করতে পারেননি। শ্লো পিচে গতির ঝড় তুলতে যেয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের রানের জন্য সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছেন নাহিদ রানা (১০-০-৬৫-১)। ২ উইকেটের বিপরীতে তাসকিনের খরচ সেখানে ওভারপ্রতি ৫.০০ রান। তবে ১৬৪টি ডট বলের ইনিংসে বাংলাদেশের তিন পেসার মিলে দিয়েছেন ১০৯টি ডট। তিন পেসারের উইকেটের সমষ্টি ৫। লেগ স্পিনার রিশাদের প্রথম স্পেলটি (৭-০-৩০-২) নিউ জিল্যান্ডের রানের লাগাম টেনে ধরেছে।
এমন একটা ম্যাচে মোস্তাফিজের অভাবটা টের পেয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট, দর্শক।
ডেথ ওভারে মিতব্যয়ী বোলিংয়ে পরীক্ষিত বাঁ হাতি কাটার মাস্টারের একাদশে না থাকাটা দুর্ভাগ্যজনক। প্লেয়ার্স লিস্টে একাদশে থাকার কথা ছিল তাঁর। তবে ওয়ার্ম আপের সময় মোস্তাফিজ ডান হাঁটুতে অস্বস্তিবোধ করায় টসের আগে তাঁকে একাদশের বাইরে রাখা হয়। তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় আর এক বাঁ হাতি শরীফুল ইসলামকে। এই শরীফুলই ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী (১০-২-২৭-২)। নতুন বলে তাঁর ২ ওভারের প্রথম স্পেলটি ছিল এক কথায় অসাধারন (২-০-২-০)। এন্ড চেঞ্জ করে উইকেটের মুখ দেখেছেন দ্বিতীয় স্পেলে (৩-১-৭-১)। ইনিংসের প্রথম ব্রেক থ্রু-টি তাঁর। শরীফুলের তৃতীয় ডেলিভারিটি ছিল অফ স্ট্যাম্পের উপরে। সেই বলে ক্রস খেলতে যেয়ে সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে বোল্ড নিক কেলি (২৩ বলে ৭)। তৃতীয় স্পেলটিও (৩-১-১০-১) বলার মতো। যে স্পেলে মুহাম্মদ আব্বাসকে এক্সট্রা বাউন্সি ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন (৩০ বলে ১৪)।
২৪৯ রানের চ্যালেঞ্জটা শুরুতেই কঠিন করেছে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা। কিউই পেসার ন্যাথান স্মিথের দ্বিতীয় ওভারে পর পর দুটি ডেলিভারি পিচ করে লো বাউন্সে তানজিদ হাসান তামিম এবং নাজমুল হোসেন শান্ত গেছেন ফিরে। তানজিদ হাসান তামিম পয়েন্টে দিয়েছেন ক্যাচ (৬ বলে ২), শান্ত ব্যাট নামাতে পারেননি, গোল্ডেন ডাক পেয়েছেন ( ১ বলে ০)।
শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছেন তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাইফ হাসান-লিটন। ক্যারিয়ারের ১০ম ওয়ানডে ম্যাচে দ্বিতীয় ফিফটিতে দলকে টেনে নিয়েছেন সাইফ হাসান। তবে ১১৬ বলে ৯৩ রানের এই পার্টনারশিপ ভেঙ্গেছে ও রোর্কের বলে সাইফ হাসানের ভুল শট সিলেকশনে। পুল করে মিড অনে সহজ ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন এই ওপেনার ( ৭৬ বলে ৮ চার, ১ ছক্কায় ৫৭)। ফিফটির সম্ভাবনা দেখিয়ে ৪ রান আগে থেমেছেন লিটন। কিউই অফ স্পিনারের আউট সাইড অফ স্ট্যাম্পে পিচিং ডেলিভারি অপ্রত্যাশিত টার্ন লিটনকে হতভম্ব করেছে। বোল্ড আউটে থেমেছেন লিটন (৬৮ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৪৬)।
৫ম উইকেট জুটিতে হৃদয়-আফিফও দেখিয়েছেন জয়ের স্বপ্ন। তবে এই পার্টনারশিপটি থেমেছে ৫২ রানে। লিনক্সকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে লং অনে আফিফ (৪৯ বলে ২৭) ক্যাচ দিয়ে দলকে ফেলে দিয়েছেন বড় পরীক্ষার মুখে।
নিউ জিল্যান্ড শেষ ৬০ বলে যোগ করেছে ৬২ রান, বাংলাদেশের টার্গেট সেখানে ৬৭। শেষ পাওয়ার প্লে'র রোমাঞ্চে টার্গেট ক্রমশ বেড়েছে।
পেস বোলার টিকনারকে শাফল করে স্কুপ করতে যেয়ে হৃদয় ফিরেছেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে (৫০ বলে ২ বাউন্ডারিতে ৩৭)। তাতেই আস্কিং রান রেট বাড়তে শুরু করেছে। ৩ ওভারের শেষ স্পেলে (৩-০-৮-৪) টিকনার মিরাজ, রিশাদ, শরীফুলকে শিকার করে বাংলাদেশ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস থামিয়ে দিয়েছেন। হেরে যাওয়া ম্যাচে সান্ত্বনা তাওহিদ হৃদয়ের ফিফটি (৬০ বলে ২ চার, ২ ছক্কায় ৫৫)।
বাংলাদেশ বোলারদের সাড়ে তিন ঘন্টার ইনিংস সম্পন্ন করতে লেগেছে সোয়া চার ঘন্টা! ১০ ওয়াইড, ১ নো ডেলিভারিতে ১০ মিনিট এমনিতেই বেশি লেগেছে বাংলাদেশের। এই ১১টি বোনাস বলও গড়ে দিয়েছে ব্যবধান।

শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেনদের দারুণ বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডকে নাগালের মধ্যে রাখল বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটাররা পারলেন না নিজেদের কাজ সারতে। ফলে আশা জাগালেও মিলল না জয়। পরাজয়ে শুরু হলো ওয়ানডে সিরিজ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারায় নিউ জিল্যান্ড। আগে ব্যাট করে তারা পায় ২৪৭ রানের পুঁজি। জবাবে ২২১ রানের গুটিয়ে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।
প্রায় ১৭ মাস পর ফেরার ম্যাচে ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। ব্যাট হাতে ফিফটির দেখা পান সাইফ হাসান ও তাওহিদ হৃদয়। তবে তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভয়াবহ। চতুর্থ ওভারে নাথান স্মিথের পরপর দুই বলে বোল্ড হয়ে যান তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ২ রানের বেশি করতে পারেননি তামিম। আর রানের খাতাই খুলতে পারেননি শান্ত। এ নিয়ে ১৩ ইনিংসে ফিফটি নেই তার।
বাংলাদেশের বিপদ হতে পারত দ্বিতীয় ওভারেই। স্মিথের বলে স্লিপে সাইফ হাসানের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন হেনরি নিকোলস। মাত্র ১ রানে জীবন পেয়ে বাংলাদেশকে চাপ থেকে উদ্ধার করেন সাইফ।
তৃতীয় উইকেটে লিটন কুমার দাসের সঙ্গে সাইফ গড়েন ১১৬ বলে ৯৩ রানের জুটি। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বাংলাদেশ তখন জয়ের ছবি আঁকতে শুরু করে। তখনই হুট করে উইলিয়াম ও'রোকের বলে ক্যাচ আউট হয়ে যান সাইফ।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটিতে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ বলে ৫৭ রান করেন সাইফ। ফিফটির সম্ভাবনা জাগান লিটনও। কিন্তু ডিন ফক্সক্রফটের দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান তিনি ৪৬ রান করে। ফলে তার ফিফটির অপেক্ষা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ ইনিংসে।
এরপর হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। শুরুতে মন্থর ব্যাটিংয়ে রানের চাপ কিছুটা বাড়িয়ে ফেলেন দুজন। মাঝে ৯১ বল কোনো বাউন্ডারি পায়নি বাংলাদেশ। তবে দায়িত্ব নিয়ে উইকেটে টিকে থেকে দলকে এগিয়ে নেন হৃদয় ও আফিফ।
দুজন মিলে ৭৭ বলে পূর্ণ করেন পঞ্চাশ রানের জুটি। এর পরপর জেডেন লেনক্সের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়েন আফিফ। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৯ বলে ২৭ রানের ইনিংস।
আফিফের বিদায়ের পর টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ (১৪ বলে ৬)। পরে একই ওভারে ফিরে যান রিশাদ হোসেন ও শরিফুল ইসলাম। এরপর আর একা পারেননি হৃদয়। ব্যক্তিগত ফিফটিটাই শুধু সান্ত্বনা ছিল তার।
শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৬০ বলে ৫৫ রান করেন হৃদয়।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ৪টি উইকেট নেন ব্লেয়ার টিকনার। স্মিথের শিকার ৩ উইকেট।
ম্যাচের প্রথমভাগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। মোস্তাফিজুর রহমান শেষ মুহূর্তে ছিটকে গেলে প্রায় ১৭ মাস পর ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেয়ে প্রথম আঘাত করেন শরিফুল। সপ্তম ওভারে তিনি বোল্ড করেন নিক কেলিকে।
প্রথম ১০ ওভারে ৩৮ রানের বেশি করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। নবম ওভারে তাদের বিপদ বাড়তে পারত। শরিফুলের বলে স্লিপে উইল ইয়াংয়ের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন সাইফ। ফলে ১ রানে বেঁচে যান ইয়াং।
শুরুর ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়েন নিকোলস ও ইয়াং। রিশাদের বলে রিভার্স সুইপ করতে স্লিপে ক্যাচ দেন ৩০ রান করা ইয়াং।
কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মিরাজ। পরের ওভারে আবার রিশাদের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসেন সেট হয়ে যাওয়া ওপেনার নিকোলস। ৯ চারে তিনি খেলেন ৮৩ বলে ৬৮ রানের ইনিংস।
এরপর দায়িত্ব নেন ন ফক্সক্রফট। ২০২৩ সালের বাংলাদেশ সফরে একমাত্র ম্যাচ খেলা এই স্পিনিং অলরাউন্ডার এদিন চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৫৮ বলে করেন ৫৯ রান। ৩৯তম ওভারে রিশাদের বলে স্লিপে তার ক্যাচ ছেড়ে দেন তামিম। ফলে ২৭ রানে বেঁচে যান তিনি।
শেষ দিকে ২১ রানের অপরাজিত ইনিংসে নিউ জিল্যান্ডকে আড়াইশর কাছে নিয়ে যান নাথান স্মিথ। পুরো ইনিংসে কোনো ছক্কা মারতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড।
পূর্ণ ৫০ ওভারের ম্যাচে ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম কোনো ম্যাচে ছক্কা মারতে পারল না তারা। আর মিরপুরের মাঠে পুরো ৫০ ওভার খেলেও কোনো দলের ছক্কা মারতে না পারার ঘটনা এটিই প্রথম।
ফেরার ম্যাচে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ২৭ রানে ২ উইকেট নেন শরিফুল। সব মিলিয়ে করেন ৪২টি ডট বল। ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নিকোলস ৬৮, কেলি ৭, ইয়াং ৩০, ল্যাথাম ১৪, আব্বাস ১৪, ফক্সক্রফট ৫৯, ক্লার্কসন ৮, স্মিথ ২১*, টিকনার ৭, লেনক্স ১*; তাসকিন ১০-০-৫০-২, শরিফুল ১০-২-২৭-২, মিরাজ ১০-১-৫৪-১, নাহিদ ১০-০-৬৫-১, রিশাদ ১০-০-৪৪-২)
বাংলাদেশ: ৪৮.৩ ওভারে ২২১ (সাইফ ৫৭, তামিম ২, শান্ত ০, লিটন ৪৬, হৃদয় ৫৫, আফিফ ২৭, মিরাজ ৬, রিশাদ ৪, শরিফুল ০, তাসকিন ২, নাহিদ ০*; ও'রোক ৯-০-৫১-১, স্মিথ ৯.৩-১-৪৬-৩, টিকনার ১০-০-৪০-৪, ক্লার্কসন ৪-০-২৭-০, লেনক্স ১০-০-৩২-১, ফক্সক্রফট ৬-০-২৫-১০)
ফল: নিউ জিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী