
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত নেতৃত্বধানী রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলেছে দলটি। জয় এসেছে তিনটি ম্যাচে। যার দুটিতে সরাসরি ভূমিকা রিপন মণ্ডলের।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ডান হাতি পেসার রিপন রাজশাহীর হয়ে সবশেষ দুটি ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন। দুটিতেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। ২৯ ডিসেম্বর নিজের প্রথম ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে খেলেছেন তিনি। ম্যাচটিতে ৪ ওভারে ১৩ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। ছিল একটি মেডেন।
নিজেরদ দ্বিতীয় ম্যাচে আরও দুর্দান্ত রিপন। জয় বন্দরের কাছে থাকা রংপুর রাইডার্সের ম্যাচ কেড়ে নেন তিনি। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে খুশদিল ফিরে গেলে ম্যাচ জমিয়ে দেন রিপন। তবে ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে দেন রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। এক বল পর তিনি নেন আরও ২ রান।
২ বলে বাকি থাকে ১ রান। কিন্তু পঞ্চম বলে ফ্লিক করে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন রংপুর অধিনায়ক। শেষ বলে ১ রানের জন্য ব্যাট করতে নামেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সেটি নিতে পারেননি। শর্ট মিড অফ ফিল্ডারের হাতে রেখে রান নিতে গিয়ে রান আউট হন অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাতে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। যা ১২তম বিপিএলে প্রথম।
সুপার ওভারে সুপার ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়েছেন ২২ বর্ষী রিপন। কাইল মেয়ার্সকে বোল্ড করেছেন তিনি, পুরো ওভারে তাঁকে কোনো বাউন্ডারিও মারতে পারেননি রংপুরের ব্যাটসম্যানরা। ৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম বলেই চার মারেন তানজিদ হাসান, পরে দুই বলেই নিয়ে নেন জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান।
এদিন খরুচে হলেও ঠিকই দুই উইকেট তুলে নেন রিপন। সে সঙ্গে আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী বনে যান। আসরে দুই ম্যাচে রিপনের উইকেট ৬টি। তার চেয়ে দুটি উইকেট বেশি পাকিস্তানের ফাহিম আশরাফের। তৃতীয় স্থানটি অবশ্য স্বদেশি হাসান মাহমুদের।
ম্যাচ শেষেও প্রশংসিত হয়েছেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এই পেসার। রংপুর রাইডার্সের সহকারী কোচ ও জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেছেন,
‘রাজশাহী টিমটা খুব চমৎকার। বিশেষ করে রিপন মণ্ডলের প্রশংসা করতেই হবে। যেভাবে সে রিসেন্টলি পারফর্ম করছেন, রিসেন্টলি বাংলাদেশ ‘এ’ টিমের হয়েও আমরা দেখেছিলাম যে সুপার ওভারে সে চমৎকার বল করেছিল। ওই রিদমটাই সে ধরে রেখেছেন।’
রিপনের ইনিংসের শেষ ওভার ও সুপার ওভারের প্রশংসা করেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেছেন,
‘আমি বলবো যে ২০ নম্বর ওভার এবং সুপার ওভারে চমৎকার বল করেছেন রিপন। আমাদের যেই ব্যাটিং লাইনআপ, যেই টিম অবশ্যই আমরা এর থেকে বেটার পারফরম্যান্স আশা করি। মাঝখানে আসলে প্রথম ম্যাচ খেলার পরে আবার দুইদিন খেলা হয়নি। আবার আজকে এসেছি। তো আশা করি যে খুব তাড়াতাড়ি রিকভার করে ফেলবে, ইনশাল্লাহ।’
আশরাফুল আরও বলেছেন,
‘রিপনের পারফরম্যান্স অবশ্যই সিলেক্টররা দেখছেন। তার ব্যাপারে সিলেক্টররা ভালো বলতে পারবেন। এমনিতেই আসলে আমাদের পেস ইউনিটটা কিন্তু খুব ভালো। আপনি যদি দেখেন যে লাস্ট পাঁচ ছয় বছর ধরে আমাদের প্রায় আট-দশটা বলার আছে যারা ১৪০ প্লাসে বল করতে পারে।’
No posts available.
১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের একটি টুর্নামেন্টে ব্যাটিংয়ের সময় হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা ব্যবহার করায় স্থানীয় ক্রিকেটার ফুরকান ভাটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে পুলিশ।
জে অ্যান্ড কে চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ এই ঘটনা ঘটে। জম্মু ট্রেলব্লেজার্সের বিপক্ষে জেকে ১১ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন ফুরকান। ম্যাচ চলাকালে তাঁর হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা সংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনায় জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জেকেসিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
সংস্থাটি জানায়, জে অ্যান্ড কে চ্যাম্পিয়নস লিগ তাদের স্বীকৃত কোনো টুর্নামেন্ট নয় এবং এতে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়রাও জেকেসিএর নিবন্ধিত নন।
এই ঘটনায় টুর্নামেন্টের আয়োজক জাহিদ ভাটকেও তলব করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জম্মু-কাশ্মীরে আয়োজিত দ্বিতীয় বেসরকারি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এটি।

টানা তিন ম্যাচের ব্যস্ত সূচির দিনের শেষটি গড়ালো মিনিট পাঁচেক পর। খেলা কিছুটা দেরিতে গড়ালেও গোল পেতে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের খুব একটা দেরি হলো না। সপ্তম মিনিটে গোলের খাতা খোলেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। ২৩ মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি তহুরা খাতুনের। এরপর একের পর এক ঢাকা রেঞ্জার্স ফুটবল ক্লাবকে গোলবন্যায় ভাসালেন তাঁরা। দুজনেই করলেন হ্যাটট্রিক; তবে কেউ কাউকে ছাড়িয়ে যেতে পারলেন না।
কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার নারী ফুটবল লিগের পঞ্চম ম্যাচে ফরাশগঞ্জকে মোকাবিলা করে ঢাকা রেঞ্জার্স। খেলায় ১০-০ গোলে জেতে ফরাশগঞ্জ। জোড়া হ্যাটট্রিকের ম্যাচে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪টি করে গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুন। একবার করে জালের দেখা পান মনিকা চাকমা ও মারিয়া মান্দা।
সপ্তম মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গোলে এগিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ। মাঝ মাঠ খেকে উড়ে আসা বল পায়ে নামিয়ে তহুরা খাতুন পাস দেন ছোট শামসুন্নাহারকে। দৌড়ে বক্সে ঢুকে প্লেসিং শটে দলকে এগিয়ে দেন জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড।
২৩ মিনিটে ঢাকার গোলকিপার হোমায়রা আক্তার হিমির দৃঢ়তায় গোলবঞ্চিত হয় ফরাশগঞ্জ। বক্সের সামনে তহুরাকে পাস দেন সিনিয়র শামসুন্নাহার। তবে তহুরার শট ঠেকিয়ে দেন প্রতিপক্ষেল গোলকিপার। ফিরতি বলে শামসুন্নাহারের জোরালো শট ঠেকিয়ে দিলেও বল ছিল গোলকিপারের সামনেই; এবার তহুরার আরেকটি প্রচেষ্টাও আটকে দেন হিমি। এ সময় টানা তিনটি সেভ করেন তিনি।
তিন মিনিট পর পোস্টের সেই উঁচু কর্নার দিয়েই জাল কাঁপান তহুরা। বক্সে মারিয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে উঁচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফরাশগঞ্জের নম্বর টেন। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় তারা। ৩৩ মিনিটে অনামিকা ত্রিপুরার বাড়ানো উঁচু বলে হেডে সরাসরি লক্ষ্যভেদ করে শামসুন্নাহার জুনিয়র।
৩৭ মিনিটে দলের চতুর্থ এবং নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। আক্রমনের শুরু মাঝ মাঠ থেকে। মারিয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে ছোট পাসে মনিকাকে দেন তহুরা। এরপর ফরাশগঞ্জ মিডফিল্ডারের কাছ থেকে বল পান শামসুন্নাহার; প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার কল্পনা আক্তার এবং গোলকিপারকে কাটিয়ে প্লেসিং শটে বল জালে জড়ান ছোট শামসুন্নাহার।
৪০ মিনিটে দলের মারিয়ার আড়াআড়ি নিচু শটে বল বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। কয়েক সেকেন্ড পর বক্সের কয়েক গজ সামনে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করেন মারিয়া।
তিন মিনিট পর মনিকার লং বলে মাথা ছোয়াতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র; তবে পেছনে থাকা তহুরা মিস করেননি। বল এক টার্ফে পড়ে লাফিয়ে উঠলে হেডে ব্যবধান ৬-০ করেন তহুরা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে কর্নারের কাছ থেকে বড় শামসুন্নাহারের লং বলে মাথা ছোয়ালেও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ছোট শামসুন্নাহার। তারপরও ৬-০ গোলের বড় লিড নিয়ে বিরতিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ।
বিরতির পর গোলবন্যা শুরু হলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। বাম প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে বক্সে উড়িয়ে মারেন অনামিকা। বা পায়ে বল নিচে নামিয়ে জোরালো শটে টপ কর্নার দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তহুরা। সেই সঙ্গে ম্যাচে নিজের হ্যাটট্রিকও পুরণ করেন এই ফরোয়ার্ড।
৪৯ মিনিটে দলের স্কোরলাইন ৮-০ করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। আক্রমণের সূর বেধে দেন তহুরা। তার কাছ থেকে বল পান মারিয়া। এরপর তার থ্রু পাস ধরে বা পায়ের প্লেসিং শটে গোল করেন শামসুন্নাহার।
৬১ মিনিটে দলের গোল উদযাপনে যোগ দেন মনিকা চাকমা। প্রতিপক্ষের রক্ষণচিড়ে বল বের করেন শামসুন্নাহার, ডিফেন্ডার মৌসুমী আক্তারের আগে বক্সে ঢুকে বা পায়ের কুনাকুনি শটে উঁচু কর্নার দিয়ে জালে বল জড়ান মনিকা। ৯-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার খানিক পর ম্যাচে চার গোল করা শামসুন্নাহার জুনিয়রকে উঠিয়ে নেন ফরাশগঞ্জের কোচ আবু ফয়সাল।
৭৮ মিনিটে মারিয়ার উড়িয়ে মারা বল ফিস্ট করতে গিয়ে পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি ঢাকার বদলি গোলকিপার শিফা আক্তার আসমা। জটলার মধ্য ফাঁকা গোলে শট নেন অনামিকা,তবে কল্পনা আক্তার গোললাইন ক্লিয়ার করেন।
৮৩ মিনিটে এই ম্যাচে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যায় শামসুন্নাহর জুনিয়রকে ধরে ফেলেন তহুরা। মারিয়ার পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে প্রকিপক্ষের গোলকিপারের পাস দিয়ে নিচু শটে জাল খুঁজে পান তিনি। হতভম্ব গোলকিপার দাঁড়িয়ে থেকেই দেখলেন। তাতে গোলের ডাবল ডিজিটে পৌছে যায় ফরাশগঞ্জ।
এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে আনসার ভিডিপি ফুটবল ক্লাবকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে সদ্যপুস্করিণী যুব স্পোর্টিং ক্লাব। পরের ম্যাচে জামালপুরের কাচারিপাড়া একাদশকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় সিরাজ স্মৃতি সংসদ।

শেষ ওভারে প্রয়োজন ৭ রান। চমৎকার বোলিংয়ে মাত্র ৬ রান দিলেন রিপন মন্ডল। রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে।
সেখানেও রিপনকেই বেছে নিল রাজশাহী। চমৎকার বোলিংয়ে সুপার ওভারেও মাত্র ৬ রান দিলেন তরুণ পেসার। যা সহজেই করে ফেলেন রাজশাহীর বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে সুপার ওভারে হেরে গেল রংপুর। মূল ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৫৯ রান করে রাজশাহী। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ঠিক ১৫৯ রানই করে রংপুর।
পরে মূল ম্যাচের শেষ ওভারের মতো সুপার ওভারেও পার্থক্য গড়ে দেন রিপন।
বিপিএলের ১২ সংস্করণের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সুপার ওভার। এর আগে ২০১৯ সালের সংস্করণে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে চিটাগং ভাইকিংস ও ২০২০ সালে সিলেট থান্ডারের বিপক্ষে সুপার ওভারে জিতেছিল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স।
গত নভেম্বরে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়ে পরপর দুটি সুপার ওভার করেছিলেন রিপন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই এবার বিপিএলেও সুপার ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেন তরুণ পেসার।
চার ম্যাচে রাজশাহীর এটি তৃতীয় জয়। দুই ম্যাচে রংপুরের প্রথম পরাজয়।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় রাজশাহী। আলিস আল ইসলামের বলে মিড অন থেকে পেছনে দৌড়ে শেষ মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।
শুরুর ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে পাল্টা আক্রমণ করেন সাহিবজাদা ফারহান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৬৩ বলে ৯৩ রানের জুটি। ৩০ বলে ৪১ রান শান্ত ১৩তম ওভারে রান আউট হয়ে গেলে ভাঙে এই জুটি।
শান্তর বিদায়ের পর থেকে মোড়ক লাগে রাজশাহীর ইনিংসে। শেষের ৪৪ বলে মাত্র ৫৪ রান করতে ৭ উইকেট হারায় তারা। ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৪৬ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন সাহিবজাদা। পরের ব্যাটারদের কেউই তেমন কিছু করতে পারেননি।
রংপুরের পক্ষে ৪৩ রানে ৩ উইকেট নেন ফাহিম আশরাফ। ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন আলিস।
পরে রান তাড়ায় ঝড় তোলার আভাস দিয়ে অল্পেই ফিরে যান লিটন কুমার দাস (১১ বলে ১৬)। তবে দলের ওপর চাপ আসতে দেননি তাওহিদ হৃদয়। তার সঙ্গে এংকরিং করতে থাকেন আরেক ওপেনার দাভিদ মালান।
দুজন মিলে রয়েসয়ে খেলে গড়েন ৭২ বলে ১০০ রানের জুটি। চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন হৃদয়। এরপর বেশি দূর যেতে পারেননি। এসএম মেহেরব হাসানের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন ৩৯ বলে ৫৩ রান করা ব্যাটার।
হৃদয়ের বিদায়ের পর ৪৩ বলে পূর্ণ হয় মালানের পঞ্চাশ। চার নম্বরে নামা কাইল মায়ার্স বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মেহেরবের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অন সীমানায় ধরা পড়েন ক্যারিবিয়ান পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
নিজের শেষ ওভারে মাত্র ২ রান খরচ করে সমীকরণ ২ ওভারে ২০ রান করে দেন মেহেরব। কিন্তু ১৯তম ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর বলে দুটি চার মেরে শেষ ওভারে ৭ রানে নামিয়ে ফেলেন মালান ও খুশদিল শাহ।
শেষ ওভারের দায়িত্ব পড়ে ততক্ষণে ৩ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ফেলা রিপন মন্ডলের ওপর। তার প্রথম বলে খুশদিল ফিরে গেলে রোমাঞ্চ ফেরে ম্যাচে। তবে ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে দেন রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। এক বল পর তিনি নেন আরও ২ রান।
২ বলে বাকি থাকে ১ রান। কিন্তু পঞ্চম বলে ফ্লিক করে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন রংপুর অধিনায়ক। শেষ বলে ১ রানের জন্য ব্যাট করতে নামেন মাহমুদউল্লাহ। সেটি নিতে পারেননি। শর্ট মিড অফ ফিল্ডারের হাতে রেখে রান নিতে গিয়ে রান আউট হন অভিজ্ঞ ব্যাটার।
খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। যেখানে শেষ পর্যন্ত জয় পায় রাজশাহী।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৫৯/৮ (সাহিবজাদা ৬৫, তামিম ২, শান্ত ৪১, মুশফিক ৯, নাওয়াজ ১০, ইয়াসির ৬, তালাত ৬*, মেহেরব ০, সাকিব ৮, রিপন ১*; মায়ার্স ২-০-১১-০, আলিস ৪-০-১৬-২, ফাহিম ৪-০-৪৩-৩, মোস্তাফিজ ৪-০-৩৪-১, নাহিদ ৩-০-২৭-০, খুশদিল ৩-০-২৬-০)
রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৫৯/৬ (মালান ৬৩*, লিটন ১৬, হৃদয় ৫৩, মায়ার্স ৯, খুশদিল ৭, সোহান ৬, মাহমুদউল্লাহ ০; বিনুরা ৪-০-৩১-০, রিপন ৪-০-৪৩-২, সাকিব ৪-০-৩০-১, নাওয়াজ ২-০-২৩-০, মেহেরব ৪-০-১৭-২, তালাত ২-০-১৩-০)
ফল: সুপার ওভারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স জয়ী

ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে শেষ বলে পাওয়া জয় সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি উৎসর্গ করেছে সিলেট টাইটান্স। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই খবর।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৬ রানে হারায় সিলেট। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এটিই ছিল বিপিএলের প্রথম ম্যাচ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর কথা জানায় সিলেট।
“সিলেট টাইটান্স ঢাকার বিপক্ষে তাদের স্মরণীয় জয়টি উৎসর্গ করেছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি, যিনি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইন্তেকাল করেন। এই উৎসর্গকে সম্মান ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে দেখছি আমরা।”
ঢাকার বিপক্ষে জয়টি সিলেটের তিন ম্যাচে দ্বিতীয়। ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে আছে তারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নিজেদের পরের ম্যাচ খেলবে সিলেট।

পরপর দুই ম্যাচে টস জিতলেন নুরুল হাসান সোহান। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে টস জিতে আগের ম্যাচের মতোই আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে আগে ব্যাট করবে রাজশাহী।
এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচ খেলে সহজ জয় পেয়েছে রংপুর। অন্য দিকে তিন ম্যাচে রাজশাহীর জয় দুইটি।
নিজেদের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে রংপুর। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার সুফিয়ান মুকিমের জায়গায় তারা নিয়েছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার কাইল মায়ার্সকে।
রাজশাহী দলেও পরিবর্তন একটি। বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদের পরিবর্তে এসেছে স্পিন অলরাউন্ডার এসএম মেহেরব হাসান।
রংপুর রাইডার্স একাদশ
নুরুল হাসান সোহান (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), লিটন কুমার দাস, তাওহিদ হৃদয়, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাহিদ রানা, আলিস আল ইসলাম, খুশদিল শাহ, ফাহিম আশরাফ, কাইল মায়ার্স, দাভিদ মালান
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স একাদশ
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), ইয়াসির আলি চৌধুরি, এসএম মেহেরব হাসান, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল, সাহিবজাদা ফারহান, মোহাম্মদ নাওয়াজ, হুসাইন তালাত, বিনুরা ফার্নান্দো