
এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের সেমি-ফাইনাল ম্যাচ। শেষ দুই ওভারে ১২ বলের মধ্যে ৮টিই ইয়র্কার করলেন রিপন মন্ডল। তবু নাটকীয়তার পর ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে। সেখানে পরপর দুটি ইয়র্কার করে দুই উইকেট নিলেন তরুণ পেসার। যা গড়ে দিল বাংলাদেশ 'এ' দলের জয়ের ভিত।
পরে পাকিস্তান শাহিনসের ('এ' দল) বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচেও একের পর এক ইয়র্কার করে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে আটকে রাখেন রিপন। মূল ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রানে নেন ৩ উইকেট। সুপার ওভারে মাত্র ৬ রানের পুঁজি নিয়েও শাহিনসকে তিনি আটকে রাখেন ৪ বল।
অল্পের জন্য এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে ৫ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে রিপনই টুর্নামেন্টের সেরা বোলার। ফাইনাল ম্যাচটি জিততে পারলে হয়তো এবারের টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও জিততেন ২২ বছর বয়সী পেসার।
অথচ বছর দুয়েক আগেও তার বোলিং অ্যাকশন ও বডি এলাইনমেন্ট দেখে জাতীয় দলের এক নির্বাচক বলেছিলেন, 'দেখুন! কতটা এলোমেলো। অনেক কাজ করতে হবে।' সেই কাজ ঠিকই করেছেন রিপন। দুই বছরের অন্তরে নিজের এলাইনমেন্ট ঠিক করে পরিণত হয়েছে ইয়র্কার মেশিনে।
রিপনের মাঝে সম্ভাবনার ঝলক দেখা গিয়েছিল ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেই। বাংলাদেশের হতাশার টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও চমৎকার বোলিংয়ে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশেও জায়গা পেয়েছিলেন রিপন।
এরপর থেকে নিয়মিতই বিসিবির সব প্রোগ্রামে আছেন তিনি। প্রতিদানও দিয়েছেন গত বছরের টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে। বাংলাদেশ এইচপি দলের হয়ে ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা বোলার। ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এবার 'এ' দলের হয়েও।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সফল টুর্নামেন্ট কাটানোর পরও রিপনের আক্ষেপ অবশ্য চ্যাম্পিয়ন হতে না পারায়।
“আলহামদুলিল্লাহ! খুবই ভালো! যেভাবে টুর্নামেন্টটা শুরু করেছি, শেষ করেছি, খুব ভালো। যে পরিশ্রমটা করেছি, আল্লাহ আমাকে (পুরস্কার) দিয়েছেন। দলগত পারফরম্যান্স যদি আরেকটু ভালো হতো, তাহলে আরও ভালো হতো।”
“দলগত পারফরম্যান্সও আলহামদুলিল্লাহ ভালোই হয়েছে। শুধু ফাইনালটা ভাগ্যের বিষয় ছিল। তবে যদি দুই-একজন ব্যাটার আমাদের ক্লিক করে যেতো, তাহলে দৃশ্যপট ভিন্নরকম হতে পারত।”
এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে পরপর দুইটি সুপার ওভার খেলতে হয়েছে বাংলাদেশের। ভারতের বিপক্ষে প্রথম সেমি-ফাইনালের সুপার ওভারে দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেখানেই যেন শেষ করে দেন রিপন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালেও লড়াইটা করেন তিনি। মাত্র ৬ রানের পুঁজি থাকলেও ইয়র্কারের মেলা সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন তিনি। আর কিছু রান বেশি থাকলে হয়তো ফাইনালেও দলকে জিতিয়ে বের হতে পারতেন রিপন।
পরপর দুই ম্যাচে এমন চাপের সময়ে বোলিংয়ের পর রিপন বললেন, এমন মুহূর্তের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন তিনি।
“ফ্রন্টলাইন পেসার হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে। আকবর ভাইয়ের সঙ্গে যেহেতু আমি এর আগেও অনেক ক্যাম্প করেছি, অনেক খেলেছি, উনি জানেন আমার স্ট্রেংন্থটা। উনি আমাকে বলেছেন, এরকম তৈরি থাকতে হবে, টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেও একটা ইতিবাচক বার্তা ছিল যে, তুমি এখানে করবে। তাই আমিও রেডি ছিলাম।”
“আমি যেহেতু টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিও খেলেছি এর আগেও, ওই মাইন্ডে এশিয়া কাপ খেলেছি। তো আমি ঐদিক থেকে রেডি ছিলাম যেন এই পরিস্থিতিতে বল করতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। আর অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টও আমার প্রতি বিশ্বাস ছিল। আমি অবদানটা রাখতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”
পাঁচ ম্যাচে ১১ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রিপন এবার নজর কেড়েছেন মূলত একের পর এক ইয়র্কার করে। টুর্নামেন্টজুড়ে ব্লক হোলে বোলিং করে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের আটকে রেখেছেন তিনি। পুরো আসরে ওভারপ্রতি তার খরচ মাত্র ৬.৭৫ রান।
ইয়র্কার করার ব্যাপারে রিপন জানালেন, নিজের ভাবনায় সবসময় স্বচ্ছ ও অটল থাকেন তিনি।
“এটায় (ইয়র্কারে) আপনার পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে ছক্কা নয় চার। এটা যদি আপনি ভেবে বল করেন, আপনি করতে পারবেন। আমি যখন বল হাতে নেই, আমি চিন্তা করি যে আমি এটা করব মানে এটাই করব। মানে আমি আমার মাঝখানে দ্বিতীয় কোনো অপশন রাখি না, যখন বোলিংটা করি।”
অথচ বছর দুয়েক আগেও বোলিং অ্যাকশন ও বডি এলাইনমেন্ট ঠিক যুতসই ছিল রিপনের। বিসিবির বিভিন্ন প্রোগ্রামে এসব নিয়ে কাজ করে এখন পুরোপুরি সোজা হয়েছে বলছেন তিনি।
“সবশেষ এইচপি ক্যাম্পে এটা নিয়ে একটু কাজ করেছি। আগের ভিডিওগুলো দেখেছি। আমার কাছে এবার মনে হলো একেবারে সোজা (এলাইনমেন্ট), একদম স্টাম্পের মতো সোজা।”
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকেই ইয়র্কার নিয়ে আলাদা করে কাজ করেছেন রিপন। প্রায় তিন-চার বছরের এই পথচলায় দেশি ও বিদেশি কোচদের অবদানও উল্লেখ করলেন তিনি।
“আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো হয়েছে। আল্লাহ সাহায্য করেছেন আর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়েছে। এত দিন ধরে যে পরিশ্রমটা করেছি আমরা অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে... সেখানে তালহা (জুবায়ের) স্যার ছিলেন কোচ। তারপর ডলার (মাহমুদ) ভাই ছিলেন এইচপিতে, তারেক (আজিজ) ভাই ছিল আর স্পেশালি যে আমাদের এইচপির যে বোলিং ডিপার্টমেন্টে হেড ছিলেন কোরি (কলিমোর) ভাই।”
“এই কয়জন খুবই সাহায্য করেছেন আমাকে ইয়র্কারের বিষয়ে। আমি যখন যা চেয়েছি প্র্যাকটিসের পরে মানে কখনও উনারা না করেন নাই। উল্টো সবসময় আমাকে মোটিভেট করতেন উনারা। তো এইজন্য আরকি খুবই ভালো। আমার দিক থেকে মানে আমি তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ।”
No posts available.
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ এম
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২৯ পিএম

২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিলেন নিউজিল্যান্ড অলরাউন্ডার সুজি বেটস। আর এর মধ্য দিয়েই ইতি ঘটবে নারী টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার।
মে’র শুরুতে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সফরের জন্য দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড ভ্রমণ করবেন কিংবদন্তি সুজি বেটস। এরপরই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে 'হোয়াইট ফার্নস' তাদের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নামবে।
নিজের যাত্রা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বেটস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর কাটানো সময়ের জন্য গর্ব ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, ‘আমি যখন গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের দিকে ফিরে তাকাই, আমি বিশ্বাসই করতে পারি না যে সময় কত দ্রুত কেটে গেছে। নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে এতবার মাঠে নামতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই দলের জন্য প্রতিদিন একজন ভালো মানুষ, সতীর্থ, ক্রিকেটার এবং অ্যাথলেট হওয়ার চেষ্টায় আমি গভীর উদ্দেশ্য এবং আনন্দ খুঁজে পেয়েছি।’
আরও পড়ুন
| ‘দেশের সম্পদ নাহিদ’, যত্ন নিতে বললেন মিরাজ |
|
ক্যারিয়ারের শেষ অংশ বিশ্বকাপ জিতে রাঙাতে চান সুজি বেটস, ‘আমার শেষ একটি মিশন বাকি: ইংল্যান্ডে যাওয়া—এমন একটি জায়গা যেখানে আমার অনেক বিশেষ স্মৃতি রয়েছে—এবং আরেকটি বিশ্বকাপ জয় করা। আমি আমার এই শেষ অভিযানে শক্তির শেষ বিন্দু দিয়ে চেষ্টা করব এবং প্রতিটা মিনিট উৎসর্গ করব এই দলকে এমন ক্রিকেট খেলতে সাহায্য করতে যাতে আমরা এবং আমাদের দেশ গর্ববোধ করতে পারি।’
২০০৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বেটসের ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং এর তিন বছর পর ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায় শুরু হয়। বর্তমানে তিনি ৪,৭১৭ রান নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং ৫,৯৬৪ রান নিয়ে নারী ওয়ানডে-তে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। ২০১১ সালের জুলাইয়ে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রায় সাত বছর নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালে উইজডেন তাকে বিশ্বের সেরা নারী ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
নিজের কাছের মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুজি বেটস বলেন, ‘আমার প্রিয়জন এবং আমার পরিবার—সব সময় পাশে থাকার জন্য তোমাদের ধন্যবাদ। এবং আমার সঙ্গী স্কটি ও তার ছেলেদের বলছি: তোমরা এই দারুণ খেলাটি আমার জীবনে নিয়ে আসা সব চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী হয়ে ছিলে। আমি সেই সব স্টাফ এবং কোচদের প্রতিও বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে চাই যারা বছরের পর বছর ধরে নারী ক্রিকেটের জন্য এত কিছু দিয়েছেন, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তার স্বীকৃতি বা পুরস্কার পাননি।’
নিউজিল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক অ্যামেলিয়া কার বেটসকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছেন। কার বলেন, ‘বড় হওয়ার সময় সুজি আমার রোল মডেল ছিলেন এবং তিনি যখন অধিনায়ক ছিলেন তখন আমি দলে সুযোগ পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করি। আপনি যদি কখনও তার সাথে খেলার সুযোগ পান, তবে জানবেন যে তিনি বিশ্বের অন্যতম নিঃস্বার্থ ক্রিকেটার এবং অন্যতম সেরা সতীর্থ।’

নিউ জিল্যান্ড সিরিজের শুরুটা মন্দ হলেও শেষ দুটি ম্যাচ মনের মতো করে রাঙিয়েছেন নাহিদ রানা। সিরিজের তিন ওয়ানডেতে ১৩৪ রানের বিপরীতে ৮ উইকেট তোলেন ডানহাতি এই ফাস্ট বোলার। প্রথম ম্যাচে অর্থাৎ বাংলাদেশের ব্যর্থতার ম্যাচে ৬৫ রান খরচায় মাত্র একটি উইকেট নিতে পারেন নাহিদ। দ্বিতীয় ম্যাচে দৃশ্যপট পরিবর্তন— একটি দুর্দান্ত ফাইফার। এরপর আজ আরও দুটি উইকেট নেন তিনি।
কিউইদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর আলাদা করে নাহিদ রানার প্রশংসা করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
তিনি বলেন,
‘নাহিদ রানা দেশের জন্য অনেক বড় সম্পদ। আমরা সবাই অবশ্যই চেষ্টা করব ওর যত্ন নিতে। ও যেভাবে মেইনটেইন করছে এটা আসলে একটা টিমের জন্য অনেক অ্যাডভান্টেজ। শেষ দুই সিরিজ যেভাবে বোলিং করেছে পাশাপাশি ও যখন একটা ভালো মোমেন্টাম নিয়ে আসে, আমার কাছে মনে হয় যে, ও এটা ধারাবাহিকতায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ টিম অনেক ম্যাচ জিততে পারবে।’
একটা সময় স্পিনে নির্ভর ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। যেদিন স্পিনাররা ভালো পারফরম্যান্স করতো, সেদিন আশানুরূপ ফল পেত টিম। প্রেক্ষাপট বদলেছে। ছায়া হয়ে থাকা দেশের পেসাররা এখন নিজের আলোয় আলোকিত।
মিরাজ বলেন,
‘দেখেন আমাদের পেস ইউনিট অনেক ভালো বোলিং করছে গত দুই তিন বছর ধরে। আমরা দেশ এবং বাইরে অনেক ম্যাচ জিতেছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ওদের হারিয়েছি। পেস ইউনিট অনেক ভালো ছিল আমার কাছে মনে হয়। একটা টিমের যদি পেস ইউনিট ভালো থাকে তাহলে টিমের মোমেন্টাম চেঞ্জ হয়ে যায় এবং ব্যাটসম্যানরাও যদি ফর্মে থাকে আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের টিমের ভিতরে এখন পেস ইউনিট এবং ব্যাটসম্যানরা যারা আছে, তারা অভিজ্ঞ।’

চোট শঙ্কা ও আসন্ন সিরিজের প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানাকে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) বাকি অংশে অংশগ্রহণের অনুমতি দিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে এ তথ্য জানায় দেশীয় ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওডিআই শেষে জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে বিসিবির মেডিকেল টিম। বোর্ড জানিয়েছে, মোস্তাফিজের কন্ডিশন আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে জরুরি ভিত্তিতে তার ‘স্ক্যান’ করানো হবে। এরপর তিনি বিসিবির মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া (রিহ্যাব) শুরু করবেন।
চোট শঙ্কার কারণে দেশের বাঁ-হাতি পেসারকে দেওয়া অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রত্যাহার করে নিয়েছে বোর্ড। ফলে পিএসএলের বাকি ম্যাচগুলোতে তাকে আর দেখা যাবে না।
নাহিদ রানাকেও পিএসএলের জন্য ছাড়পত্র দিচ্ছে না বিসিবি। মূলত আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগে তাকে প্রস্তুতির সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বোর্ড।
পিএসএলে পেশোয়ার জালমির হয়ে প্রথমবার খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন নাহিদ। চারটি ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৭ উইকেট নেন জাতীয় দলের এই তরুণ ফাস্ট বোলার। মোস্তাফিজ খেলেছেন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে। ৫ ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়ে ৬টি উইকেট নিয়েছেন তিনি।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যর্থতার পর বাকি দুই ম্যাচ রাঙিয়ে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে রাখল বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল লাল সবুজের দল। গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের বীরত্বে ২৬৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা নিউ জিল্যান্ড।
নিউ জিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে ২০১৫ সালের পর প্রথমবার কোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পরও সিরিজ জেতার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এ নিয়ে তৃতীয়বার প্রথম ম্যাচ হারের পরও সিরিজের ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে পারল তারা।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ জানিয়েছেন, সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারের পর কিছুটা চিন্তায় পড়ে যান তিনি। কারণ, প্রথম ম্যাচ হারের পর দ্বিতীয়টি অনেকটা নকআউটে পরিণত হয়। জিতলে টিকে থাকে আশা, হারলে সব শেষ।
মিরাজ বলেন,
‘আমরা অনেক টুর্নামেন্ট খেলতে যাই, নকআউট যে খেলাগুলো হয় বিশেষ করে। সেখানে হারলেই বাদ। তাই আমি মেন্টালি ওভাবে জিনিসটা নিয়েছি। যেহেতু প্রথম ম্যাচ হেরে গিয়েছি। দ্বিতীয় ম্যাচ যদি হেরে যাই তবে সিরিজ হেরে যাব। তাই এটা আমাদের জন্য একটা বড় সুযোগ যে, এটা যদি জিততে পারি তাহলে হয়তো আরেকটা সুযোগ তৈরি হবে।’
বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয় নিয়ে মিরাজ বলেন,
‘অবশ্যই ভালো লাগছে টানা তিনটা সিরিজ জিতেছি এবং আমার কাছে মনে হয় ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বাংলাদেশ জিতছে এটাই অনেক বড় অর্জন আমার কাছে।’
নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরির (১০৫) সঙ্গে লিটন দাসের ৭৬ রান। এরপর বল হাতে মোস্তাফিজুর রহমানের ফাইফার। আজ মিরাজও ছিলেন প্রাণবন্ত। ৮.৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩৬ রান খরচায় দুই উইকেট তোলেন বাংলাদেশ দলপতি। সে সঙ্গে নাহিদ রানাও নিয়েছেন দুই উইকেট। অর্থাৎ দলীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনও দেখা গেছে সিরিজের শেষ ম্যাচে।
মিরাজ বলেন,
‘হ্যাঁ অবশ্যই, শান্ত যেভাবে ব্যাটিং করেছে, আমরা ওর কাছ থেকে এরকমই আশা করি। লিটন দাসও দারুণ খেলেছে। মোস্তাফিজসহ প্রত্যেকটা প্লেয়ার অনেক অভিজ্ঞ। তারা দেশের জন্য অনেক দিন খেলেছে এবং আমার কাছে মনে হয়, পারফরম্যান্স শো করার জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। দিনশেষে দলের রেজাল্টটাই আসল।’

দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৫৫ রানে জিতেছে স্বাগতিকরা। নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি ও মোস্তাফিজুর রহমান ৫ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে রেখেছেন বড় অবদান।
প্রথম ম্যাচ হেরেও বাকি দুইটি জিতে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে কিছু রেকর্ডও লেখা হয়েছে নতুন করে।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক সব রেকর্ড
১৩
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় ১৩ বছর পর ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। মাঝের সময়ে টানা পাঁচ সিরিজ হেরেছে তারা। এর আগে ২০১০ ও ২০১৩ সালে ঘরের মাঠে কিউইদের হোয়াইটওয়াশড করেছিল তারা।
ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
প্রায় ১১ বছর পর প্রথম ম্যাচ হেরেও সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সবশেষ প্রথম ওয়ানডে হারের পরও সিরিজ জিতেছিল তারা। এছাড়া ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও একই কৃতিত্ব দেখায় তারা।
মিরাজের হ্যাটট্রিক
বাংলাদেশের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে টানা ৩টি সিরিজ জিতলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার নেতৃত্বে গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ দল।
টানা ৩ ওয়ানডে সিরিজ জেতা বাংলাদেশি অধিনায়ক
হাবিবুল বাশার সুমন (২০০৭)
সাকিব আল হাসান (২০০৯)
মাশরাফি বিন মুর্তজা (২০১৪-১৬) (টানা ৬ সিরিজ)
মাশরাফি বিন মুর্তজা (২০১৮)
তামিম ইকবাল (২০২১-২২) (টানা ৫ সিরিজ)
মেহেদী হাসান মিরাজ (২০২৫-২৬)
শান্ত-লিটন জুটির রেকর্ড
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে চাপের মুখে চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রানের জুটি গড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।
২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পঞ্চম উইকেটে ২২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান।
শান্তই সেরা
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৯ ওয়ানডে ১ সেঞ্চুরি ও ৪ ফিফটিতে ৩৮৭ রান করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিউইদের বিপক্ষে তার গড় ৫৫.৪৮ ও স্ট্রাইক রেট ৮৪.৬৮।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে অন্তত ৩৫০ রান করা বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে শান্তর গড় ও স্ট্রাইক রেট সবার ওপরে।
অনন্য মোস্তাফিজ
শান্তর সেঞ্চুরির পর ৫ উইকেট নিয়ে বাকি কাজ সারেন মোস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডেতে এটি তার ষষ্ঠ ৫ উইকেট।
বাঁহাতি এই পেসারের অভিষেকের পর ওয়ানডেতে আর কোনো বোলার এর চেয়ে বেশি ৫ উইকেট নিতে পারেননি। তার সমান ৬টি ৫ উইকেট আছে রশিদ খান ও মোহাম্মদ শামির।
আরও মোস্তাফিজনামা
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের চেয়ে বেশি ৫ উইকেট আছে শুধু বিশ্বের ৫ জন পেস বোলারের। তারা হলেন- ওয়াকার ইউনিস (১৩), ব্রেট লি (৯), মিচেল স্টার্ক (৯), লাসিথ মালিঙ্গা (৮) ও গ্লেন ম্যাকগ্রা (৭)।
বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে তার সামনে শুধুই মিচেল স্টার্ক।
নাহিদের অর্জন
তিন ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন নাহিদ রানা। এ নিয়ে পরপর দুই সিরিজে তার হাতেই উঠল সিরিজ সেরার পুরস্কার।
বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে একাধিকবার সিরিজ সেরা হলেন নাহিদ। তার আগের দুজন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও আব্দুর রাজ্জাক।