
এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের সেমি-ফাইনাল ম্যাচ। শেষ দুই ওভারে ১২ বলের মধ্যে ৮টিই ইয়র্কার করলেন রিপন মন্ডল। তবু নাটকীয়তার পর ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে। সেখানে পরপর দুটি ইয়র্কার করে দুই উইকেট নিলেন তরুণ পেসার। যা গড়ে দিল বাংলাদেশ 'এ' দলের জয়ের ভিত।
পরে পাকিস্তান শাহিনসের ('এ' দল) বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচেও একের পর এক ইয়র্কার করে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে আটকে রাখেন রিপন। মূল ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রানে নেন ৩ উইকেট। সুপার ওভারে মাত্র ৬ রানের পুঁজি নিয়েও শাহিনসকে তিনি আটকে রাখেন ৪ বল।
অল্পের জন্য এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে ৫ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে রিপনই টুর্নামেন্টের সেরা বোলার। ফাইনাল ম্যাচটি জিততে পারলে হয়তো এবারের টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও জিততেন ২২ বছর বয়সী পেসার।
অথচ বছর দুয়েক আগেও তার বোলিং অ্যাকশন ও বডি এলাইনমেন্ট দেখে জাতীয় দলের এক নির্বাচক বলেছিলেন, 'দেখুন! কতটা এলোমেলো। অনেক কাজ করতে হবে।' সেই কাজ ঠিকই করেছেন রিপন। দুই বছরের অন্তরে নিজের এলাইনমেন্ট ঠিক করে পরিণত হয়েছে ইয়র্কার মেশিনে।
রিপনের মাঝে সম্ভাবনার ঝলক দেখা গিয়েছিল ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেই। বাংলাদেশের হতাশার টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও চমৎকার বোলিংয়ে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশেও জায়গা পেয়েছিলেন রিপন।
এরপর থেকে নিয়মিতই বিসিবির সব প্রোগ্রামে আছেন তিনি। প্রতিদানও দিয়েছেন গত বছরের টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে। বাংলাদেশ এইচপি দলের হয়ে ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা বোলার। ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এবার 'এ' দলের হয়েও।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সফল টুর্নামেন্ট কাটানোর পরও রিপনের আক্ষেপ অবশ্য চ্যাম্পিয়ন হতে না পারায়।
“আলহামদুলিল্লাহ! খুবই ভালো! যেভাবে টুর্নামেন্টটা শুরু করেছি, শেষ করেছি, খুব ভালো। যে পরিশ্রমটা করেছি, আল্লাহ আমাকে (পুরস্কার) দিয়েছেন। দলগত পারফরম্যান্স যদি আরেকটু ভালো হতো, তাহলে আরও ভালো হতো।”
“দলগত পারফরম্যান্সও আলহামদুলিল্লাহ ভালোই হয়েছে। শুধু ফাইনালটা ভাগ্যের বিষয় ছিল। তবে যদি দুই-একজন ব্যাটার আমাদের ক্লিক করে যেতো, তাহলে দৃশ্যপট ভিন্নরকম হতে পারত।”
এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে পরপর দুইটি সুপার ওভার খেলতে হয়েছে বাংলাদেশের। ভারতের বিপক্ষে প্রথম সেমি-ফাইনালের সুপার ওভারে দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেখানেই যেন শেষ করে দেন রিপন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালেও লড়াইটা করেন তিনি। মাত্র ৬ রানের পুঁজি থাকলেও ইয়র্কারের মেলা সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন তিনি। আর কিছু রান বেশি থাকলে হয়তো ফাইনালেও দলকে জিতিয়ে বের হতে পারতেন রিপন।
পরপর দুই ম্যাচে এমন চাপের সময়ে বোলিংয়ের পর রিপন বললেন, এমন মুহূর্তের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন তিনি।
“ফ্রন্টলাইন পেসার হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে। আকবর ভাইয়ের সঙ্গে যেহেতু আমি এর আগেও অনেক ক্যাম্প করেছি, অনেক খেলেছি, উনি জানেন আমার স্ট্রেংন্থটা। উনি আমাকে বলেছেন, এরকম তৈরি থাকতে হবে, টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেও একটা ইতিবাচক বার্তা ছিল যে, তুমি এখানে করবে। তাই আমিও রেডি ছিলাম।”
“আমি যেহেতু টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিও খেলেছি এর আগেও, ওই মাইন্ডে এশিয়া কাপ খেলেছি। তো আমি ঐদিক থেকে রেডি ছিলাম যেন এই পরিস্থিতিতে বল করতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। আর অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টও আমার প্রতি বিশ্বাস ছিল। আমি অবদানটা রাখতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”
পাঁচ ম্যাচে ১১ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রিপন এবার নজর কেড়েছেন মূলত একের পর এক ইয়র্কার করে। টুর্নামেন্টজুড়ে ব্লক হোলে বোলিং করে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের আটকে রেখেছেন তিনি। পুরো আসরে ওভারপ্রতি তার খরচ মাত্র ৬.৭৫ রান।
ইয়র্কার করার ব্যাপারে রিপন জানালেন, নিজের ভাবনায় সবসময় স্বচ্ছ ও অটল থাকেন তিনি।
“এটায় (ইয়র্কারে) আপনার পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে ছক্কা নয় চার। এটা যদি আপনি ভেবে বল করেন, আপনি করতে পারবেন। আমি যখন বল হাতে নেই, আমি চিন্তা করি যে আমি এটা করব মানে এটাই করব। মানে আমি আমার মাঝখানে দ্বিতীয় কোনো অপশন রাখি না, যখন বোলিংটা করি।”
অথচ বছর দুয়েক আগেও বোলিং অ্যাকশন ও বডি এলাইনমেন্ট ঠিক যুতসই ছিল রিপনের। বিসিবির বিভিন্ন প্রোগ্রামে এসব নিয়ে কাজ করে এখন পুরোপুরি সোজা হয়েছে বলছেন তিনি।
“সবশেষ এইচপি ক্যাম্পে এটা নিয়ে একটু কাজ করেছি। আগের ভিডিওগুলো দেখেছি। আমার কাছে এবার মনে হলো একেবারে সোজা (এলাইনমেন্ট), একদম স্টাম্পের মতো সোজা।”
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকেই ইয়র্কার নিয়ে আলাদা করে কাজ করেছেন রিপন। প্রায় তিন-চার বছরের এই পথচলায় দেশি ও বিদেশি কোচদের অবদানও উল্লেখ করলেন তিনি।
“আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো হয়েছে। আল্লাহ সাহায্য করেছেন আর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়েছে। এত দিন ধরে যে পরিশ্রমটা করেছি আমরা অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে... সেখানে তালহা (জুবায়ের) স্যার ছিলেন কোচ। তারপর ডলার (মাহমুদ) ভাই ছিলেন এইচপিতে, তারেক (আজিজ) ভাই ছিল আর স্পেশালি যে আমাদের এইচপির যে বোলিং ডিপার্টমেন্টে হেড ছিলেন কোরি (কলিমোর) ভাই।”
“এই কয়জন খুবই সাহায্য করেছেন আমাকে ইয়র্কারের বিষয়ে। আমি যখন যা চেয়েছি প্র্যাকটিসের পরে মানে কখনও উনারা না করেন নাই। উল্টো সবসময় আমাকে মোটিভেট করতেন উনারা। তো এইজন্য আরকি খুবই ভালো। আমার দিক থেকে মানে আমি তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ।”
No posts available.
৯ মার্চ ২০২৬, ১০:১৬ এম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের একতরফা জয়ের পর ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে চলছে নানা রকমের আলোচনা। অনেকেই ভারতের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করলেও, ভিন্ন সুর শোনা গেছে পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতারের কণ্ঠে।
তার দাবি, ভারতের উত্থান মূলত ক্রিকেটকে শেষ করে দিয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের সামনে পাত্তাই পায়নি নিউ জিল্যান্ড। দুর্দান্ত ব্যাটিং-বোলিংয়ে কিউইদের ৯৬ রানে হারায় স্বাগতিকরা। এটি ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা।
বেশিরভাগ ক্রিকেট বিশ্লেষক যেখানে ভারতের নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন, সেখানে ভিন্ন পথে হাঁটলেন শোয়েব আখতার। পাকিস্তানি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ট্যাপম্যাডের অনুষ্ঠান গেম অন হ্যায় অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের দাপটকে তুলনা করেন পাড়ার খেলায় ধনী শিশুর সঙ্গে।
আরও পড়ুন
| আফঈদা-মিলিদের সমীহ করছে উজবেকিস্তান |
|
“পাড়া-মহল্লায় সবসময় একজন ধনী ছেলে থাকে, সে গরিব বাচ্চাদের ডেকে বলে- চলো ক্রিকেট খেলি, তবে জিতব কিন্তু আমিই। ভারত আমাদের সঙ্গে ঠিক সেটাই করছে।”
“আট দলের মধ্যে চারটি রাখে, তারপর আবার সেখান থেকে তিনটিকে ডাকে ও সামনে এগিয়ে যায়। শেষে বলে- দেখো, আমি জিতে গেছি। তারা পুরো ক্রিকেটটাই শেষ করে দিয়েছে।”
তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ভক্তই ভারতের বড় জয়ের পর এমন মন্তব্যকে তিক্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
তবে ফাইনালের আগে আখতারের সুর ছিল কিছুটা ভিন্ন। ভারতকে ফেভারিট মানলেও তিনি বলেছিলেন, ক্রিকেটের স্বার্থে নিউ জিল্যান্ডের জেতা উচিত। তার মতে, ভারতের ওপর ১৫০ কোটির বেশি মানুষের প্রত্যাশার চাপ থাকে এবং বড় ফাইনালে সেই চাপ কখনও কখনও প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যক্তিগত মাইলফলক উদযাপনের সময় শেষ- এমনটাই মনে করেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। তার মতে, দলগত খেলায় আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত ট্রফি জেতা, ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়।
রোববার ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, ভারতের ক্রিকেটে এত দিন ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তিনি যত দিন দায়িত্বে আছেন, তত দিন সেই আলোচনায় যেতে চান না।
গম্ভীরের কোচিংয়ে এরই মধ্যে দুটি আইসিসি ট্রফি ও একটি এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। গত বছরের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তার মেয়াদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এসব দলীয় সাফল্য নিয়েই বেশি আলোচনা করতে চান তিনি।
“অনেক দিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে আমরা মাইলফলক নিয়ে কথা বলেছি। আমি আশা করি, আমি যত দিন আছি, তত দিন আমরা মাইলফলক নিয়ে কথা বলব না।”
আরও পড়ুন
| গ্রুপসেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে দ. কোরিয়া, আশা বাঁচিয়ে রাখল ফিলিপাইন |
|
“আপনারা শেষ তিনটি ম্যাচ দেখলেই বুঝতে পারবেন। সঞ্জু কী করেছে- ৯৭*, ৮৯ ও ৮৯। যদি সে মাইলফলকের জন্য খেলত, হয়তো আমরা ২৫০ রান পেতাম না। তাই আপনাদের (গণমাধ্যমের) কাছেও আমার অনুরোধ- মাইলফলক নয়, ট্রফি উদ্যাপন করুন।”
সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল- দুই ম্যাচেই শতকের কাছাকাছি পৌঁছে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটার সাঞ্জু স্যামসন। দুই দিনই তিনি শতকের মাত্র ১১ রান দূরে ছিলেন। তবে সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুবাদে দুই ম্যাচেই ভারতের দলীয় সংগ্রহ আড়াইশ ছাড়ায়।
গম্ভীরের মতে, বিশ্বকাপ জয়ের জন্য এই মানসিকতাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
“কেউ যদি ৯৪ রানে থাকে, সে কি পরের বলেই ছক্কা মেরে শতক করতে সাহস দেখাবে, নাকি কয়েক বল ধরে একশতে পৌঁছানোর কথা ভাববে- এই প্রতিক্রিয়াই আসলে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের খেলোয়াড়েরা অসাধারণভাবে সেটা করেছে।”
এসময় বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব গম্ভীর উৎসর্গ করেছেন তার তিন সাবেক সতীর্থ- রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষণ ও অজিত আগারকারকে।
“রাহুল ভাই ভারতের ক্রিকেটকে দারুণ অবস্থায় রেখে গেছেন। তার অবদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ভিভিএস লক্ষণও নিঃশব্দে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অনেক কাজ করছেন, বিশেষ করে সেন্টার অব এক্সেলেন্সের মাধ্যমে। আর অজিত আগারকার- ও অনেক সমালোচনা সহ্য করে সততার সঙ্গে কাজ করছে।”

ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ এখনও টাটকা। তবে সেখানেই থামতে চান না অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। আহমেদাবাদে রোববারের ফাইনাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, তার পরের লক্ষ্য ২০২৮ অলিম্পিকে সোনা জয়।
নিউ জিল্যান্ডকে ফাইনালে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর সূর্যকুমার বলেন, গত এক মাসের যাত্রাটা দলের জন্য ছিল অসাধারণ। শুরুটা অবশ্য প্রত্যাশামতো হয়নি, তবে খেলাধুলায় এমনটা স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত দল হিসেবে যা অর্জন করেছে, তার প্রতীক এখন তাদের হাতে থাকা ট্রফি। এখান থেকেই পরবর্তী লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলেছেন সূর্যকুমার।
আরও পড়ুন
| স্বপ্নভঙ্গ থেকে বিশ্বকাপ নায়ক: স্যামসনের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন |
|
“পুরো যাত্রাটা আজ পর্যন্ত খুবই বিশেষ ছিল। দল হিসেবে আমরা যা অর্জন করেছি, সেটাই এখন সবার সামনে। এতে আমরা খুব খুশি। এখন আমাদের পরের লক্ষ্য অলিম্পিক স্বর্ণপদক।”
দীর্ঘ ১২৮ বছর পর আবার অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৮ সালের অলিম্পিকে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পুরুষ ও নারী- দুই বিভাগেই ছয়টি করে দল অংশ নেবে।
অলিম্পিক ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে ২০২৮ সালের ১৪ থেকে ২৯ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের পোমোনা শহরে হবে সব ম্যাচ। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের একটি অস্থায়ী ভেন্যু ফেয়ারগ্রাউন্ডস স্টেডিয়ামে।
বর্তমান টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী এশিয়া অঞ্চল থেকে ভারত পুরুষ ও নারী- দুই বিভাগেই যোগ্যতা অর্জনের জন্য ভালো অবস্থানে রয়েছে।
এ মুহূর্তে ভারতীয় পুরুষ দল আইসিসির দুই বড় শিরোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন- আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সূর্যকুমারের মতে, দলের বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর, যখন অধিনায়ক ছিলেন রোহিত শর্মা।
“২০২৪ সালের পর থেকেই সবকিছু বদলে যায়। তখন আমরা ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলছিলাম। সেখান থেকেই বুঝতে পারি, এই দলকে সামনে এগোতে হলে কীভাবে খেলতে হবে। আমরা চাই ২০২৭, ২০২৮, ২০২৯- এভাবেই জয়ের ধারা চালিয়ে যেতে।”

বছরের শুরুতে ভেঙে পড়া একজন ক্রিকেটার। আর দুই মাস না যেতেই বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক হয়ে ওঠা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সাঞ্জু স্যামসনের গল্প যেন নাটকীয় কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য।
গত জানুয়ারির শেষ দিন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ত্রিভ্যান্ড্রামে নিজের ঘরের মাঠে দাঁড়িয়ে প্রায় স্বপ্নভঙ্গের মুহূর্ত দেখেছিলেন স্যামসন। ওপেনার-উইকেটকিপার হিসেবে বিশ্বকাপ একাদশে জায়গা চলে যায় ইশান কিষানের কাছে।
২০২৫ সালের শুরু থেকেই ব্যাট হাতে খারাপ সময় কাটাচ্ছিলেন স্যামসন। এর মধ্যে দলীয় সমন্বয়ের কারণে তাকে মিডল অর্ডারেও নামানো হয়েছিল, যাতে ওপেনিংয়ে জায়গা করে দেওয়া যায় শুবমান গিলকে।
পরে নির্বাচকেরা আবার স্যামসনকে ওপেনিংয়ে ফেরালেও রানের দেখা ছিল না। সেই সুযোগেই জায়গা পাকা করেন ইশান। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রোববার রাতে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক স্যামসন। টানা তিন ম্যাচে ৮০+ রান করে তিনিই জিতেছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার।
সাফল্যের এই স্বীকৃতি গ্রহণ করেন বছরের শুরুর দিকের কঠিন সময়ের কথাই মনে করলেন স্যামসন।
“নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর আমি ভেঙে পড়েছিলাম। পুরোপুরি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। মনে হচ্ছিল, ‘আমার স্বপ্নগুলো তো শেষ হয়ে গেল। এখন আমি আর কী করতে পারি?’”
বিশ্বকাপের শুরুতেও স্যামসনের জায়গা ছিল বেঞ্চে। গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচে অসুস্থ অভিষেক শর্মার বদলি হিসেবে সুযোগ পান তিনি। তবে পরে আবার বেঞ্চেই ফিরতে হয়। কিন্তু টপ অর্ডারের তিনজন বাঁহাতি হওয়ায় অফ স্পিনের বিপক্ষে সমস্যা হচ্ছিল। সেই কারণে দলে ফেরানো হয় স্যামসনকে।
ফিরেই আত্মবিশ্বাসের ঝলক দেখান তিনি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেন ১৫ বলে ২৪ রান। তবে তার আসল বিস্ফোরণটা ঘটে ইডেন গার্ডেন্সে। সুপার এইটের ভার্চুয়াল নকআউট ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন ৫০ বলে ৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।
এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ভুগিয়ে করেছেন ৪২ বলে ৮৯ রান আর ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন ৪৬ বলে ৮৯ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস।
খারাপ সময় পাশ কাটিয়ে আলোয় ফেরার পথে তিনি পরামর্শ পেয়েছেন কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের কাছ থেকে।
“গত কয়েক মাস ধরে আমি নিয়মিত শচীন স্যারের সঙ্গে কথা বলছিলাম। অস্ট্রেলিয়া সফরে যখন দলের বাইরে বসে ছিলাম, তখন ভাবছিলাম- এখন আমার মানসিকতা কী হওয়া উচিত? তখনই আমি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।”
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিনও ফোন করে খোঁজ নিয়েছিলেন টেন্ডুলকার।
“গতকালও তিনি ফোন করেছিলেন- আমি কেমন অনুভব করছি জানতে। তার মতো একজনের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা পাওয়া- এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারি?”
এর আগে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় স্কোয়াডেও ছিলেন স্যামসন, কিন্তু একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। তবে তখন থেকেই পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলতে শুরু করেছিলেন স্টাইলিশ এই ওপেনিং ব্যাটার।
“ঈশ্বরের হয়তো অন্য পরিকল্পনা ছিল। হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে সুযোগ পেলাম আর দেশের জন্য যা পারি করেছি। এটা যেন স্বপ্নের মতো। কথায় বোঝানো কঠিন। ২০২৪ বিশ্বকাপে আমি একটি ম্যাচও খেলিনি, কিন্তু তখন থেকেই কল্পনা করতাম- একদিন এমন মুহূর্ত আসবে। সেই স্বপ্নের জন্যই কাজ করে গেছি।”

ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড গড়েছে ভারত। একইসঙ্গে পরপর দুই বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করার কীর্তিও দেখিয়েছে তারা। সবচেয়ে তিনটি শিরোপার মালিক এখন তারাই।
এই ইতিহাস গড়া সাফল্যের বিশ্বাস ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন থেকেই ছিল হার্দিক পান্ডিয়ার।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে ভারতের সামনে পাত্তা পায়নি নিউ জিল্যান্ড। রোববারের ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে ২৫৫ রানের পাহাড়ে উঠে বসে ভারত। জবাবে মাত্র ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিততে পেরে আনন্দের সীমা নেই হার্দিকের। ম্যাচ শেষে সেই অনুভূতিরই জানান দেন ভারতের তারকা অলরাউন্ডার।
“(ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা) এটি অনেকটা ইমোশনাল। কারণ ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জেতা, সবার উত্তেজনা, রোমাঞ্চ অসাধারণ। এখন মনে হচ্ছে আমরা সহজেই জিতে গিয়েছি। কিন্তু আমরা যে এফোর্ট দিয়েছি... গতকাল থেকেই আমি জানতাম যে, আমরা চ্যাম্পিয়ন।”
গত তিন বছরের মধ্যে হার্দিকের এটি তৃতীয় আইসিসি ট্রফি। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। আর ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়েই ট্রফি ঘরে তুলেছিল তারা।
এবার আরেকটি বিশ্বকাপ জিতে হার্দিক জানিয়েছেন, অন্তত ১০টি শিরোপা জিততে চান তিনি।
“আমার মধ্যে আরও ১০ বছর বাকি আছে ক্রিকেট খেলার। আমার অর্ধেক ক্যারিয়ার শেষ। আরও অর্ধেক বাকি আছে। আমি অন্তত ১০টি শিরোপা জিততে চাই, আইসিসি ও আইপিএল মিলিয়ে। তবে আমার জন্য আইসিসি ট্রফির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।”
“আমি এরই মধ্যে ৩টি ট্রফি জিতেছি। সামনে যে টুর্নামেন্টই খেলব, আমি জিততে চাই। তো আমি মনে করি, সামনের ১০ বছরে আরও অন্তত ৫-৬টি শিরোপা আসবে। এটিই আমার লক্ষ্য।”