১৩ মার্চ ২০২৬, ১১:১৯ পিএম

কাকতালীয়ই বটে। দুই দিন আগে ঠিক ইফতারের সাইরেন বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সিরিজের প্রথম ম্যাচের ফল নিষ্পত্তি হয়েছে। ৪৮ ঘন্টা পরে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের দর্শক যখন ইফতারির পরে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার প্রহর গুনেছেন, তখন রিশাদের বলে মোহাম্মদ ওয়াসিমের আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান অল আউট, ঠিক সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে ইফতারির আজানের ধ্বনি শুনেছে মিরপুরে দর্শক! সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১১৪রানে অল আউট পাকিস্তান, বৃষ্টি বিঘ্নিত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেই স্কোরেই বাংলাদেশকে অলআউট করেছে পাকিস্তান।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে যে দলটিকে ১১৪ রানে ইনিংস গুড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে করেছে ২৭৪/১০! শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া পিচে এই স্কোর প্রত্যাশিতই। ৪৮ ঘন্টা আগে বাংলাদেশ বোলারদের বোলিং তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন হওয়া পাকিস্তান কীভাবে দ্বিতীয় ম্যাচে এতোটা ঘুরে দাঁড়ালো ? এই প্রশ্নের উত্তরে কৃতিত্ব দিতে হবে তাদের ওপেনিং ব্যাটার মাজ সাদাকাত (৪৬ বলে ৭৫), শাহিবজাদা ফারহান (৪৬ বলে ৩১), মিডল অর্ডার মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৯ বলে ৪৪), সালমান আগা (৬২ বলে ৬৪)-কে। প্রথম উইকেট জুটির ৭৮ বলে ১০৩, ৪র্থ উইকেট জুটির ১১৫ বলে ১১৯ রান বড় পুঁজির সহায়ক হয়েছে।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-এর প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ৮৩/০, ওভারপ্রতি রান ৮.৩০। তাসকিন এবং নাহিদ রানার অমিতব্যয়ী প্রথম স্পেলের কারনেই শুরুতে ছিল বাংলাদেশের ছন্দহীন। ২ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেটহী তাসকিনের খরচা ২০, নাহিদ রানা সেখানে উইকেটহীন ৩ ওভারে খরচা করেছে ৩২।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে শর্ট বলের ছড়াছড়িতে পাকিস্তান ব্যাটারদের আঁতকে দিয়েছেন দীর্ঘদেহী তরুণ পেসার নাহিদ রানা। সেই ম্যাচে নামতা গুনে প্রথম ৫ ওভারের প্রতিটিতেই একটি করে শিকার করেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে গতির বোলার। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই রূপে দেখা যায়নি নাহিদ রানাকে। ৩ ওভারের প্রথম স্পেলটি তার খরুচে (৩-০-৩২-০)। যার মধ্যে তৃতীয় ওভারে খরচ করেছেন ২০ রান।
যেভাবে পাকিস্তান ইনিংস শুরু করেছে, তাতে তিনশ প্লাস স্কোরের পূর্বাভাস কিন্তু ছিল। ৪০ ওভার পর্যন্ত রানের গতিটা সেই কক্ষপথেই ছিল। তবে রিশাদের শেষ স্পেলের (১.৩-০-৫-২) সঙ্গে মোস্তাফিজের শেষ স্পেলে (২-০-৮-১) পাকিস্তানকে ২৭৪-এ থামিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ পাওয়ার প্লেতে ৩৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারাতে হয়েছে পাকিস্তানকে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী ছড়িয়েছে আতঙ্ক। দ্বিতীয় ম্যাচে তাসকিন (৮-০-৫৯-১),নাহিদ রানা (১০-০-৫৯-১), মোস্তাফিজ (৯-০-৫৩-১) করেছেন গড়পড়তা বোলিং। ব্যতিক্রম ছিলেন অফ স্পিনার মিরাজ (১০-২-৩৪-২) এবং লেগ স্পিনার রিশাদ (৯.৩-০-৫৬-৩)।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ছিল মাজ সাদাকাতের ওডিআই অভিষেক। ২৮ বলে ১৮ রানের সেই অভিষেক ইনিংসের অতৃপ্তি ঘোঁচাতে দ্বিতীয় ম্যাচের শুরু থেকে টি-২০ আমেজে ব্যাটিং করেছেন। মোস্তাফিজের প্রথম দুই বলে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা মাজ সাদাকাত তাসকিনের এক ওভারে মেরেছেন ২টি ছক্কা। যার মধ্যে একটি নো বলে পুল শটে ছক্কা! নাহিদ রানার প্রথম ওভারে লং অনের উপর দিয়ে তার ছক্কাটির দূরত্ব ছিল ৯৭ মিটার।
৩১ বলে অভিষেক ফিফটি উদযাপন করেছেন মাজ সাদাকাত। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর যখন ৮৫/০, তখন মাজ সাদাকাতের ৬৩। মিরাজের দ্বিতীয় ওভারে স্কুপ করতে যেয়ে টপ এজ হয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন ক্যাচ, ততোক্ষণ ৪৬ বলে ৬ চার, ৫ ছক্কায় ৭৫ রান করেছেন তিনি ১৬৩.০৪ স্ট্রাইক রেটে।
৫০ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৪র্থ উইকেট জুটিতে রিজওয়ানের সাথে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দেয়া সালমান আগা-কে কৌশলে ফিরিয়ে দিয়েছেন মিরাজ। ২০২৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজকে টাইমড আউটে ফিরিয়ে দিয়ে সাকিবের যে দৃষ্টান্তটি এখনো শ্রীলঙ্কা সমর্থকদের চোখে গেম অব স্পিরিটের পরিপন্থি, সেই ছবিটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মিরাজ। ৩৯তম ওভারের ৪র্থ বলে মিরাজকে পাঞ্চ করেছিলেন রিজওয়ান। সেই বলটি ফলো থ্রুতে ধরতে যখন চেষ্টা করেছেন বোলার মিরাজ, তখন পপিন ক্রিজের বাইরে এসে বলটি নন স্ট্রাইক এন্ডের ব্যাটার সালমান আগা মিরাজের ফিল্ডিংয়ে বাধা তৈরি করতে অপচেষ্টা করেছেন। প্রথম ব্যাট দিয়ে বলটি থামাতে চেয়েছেন, পরে মিরাজের সঙ্গে বলটি ধরতে দিয়েছেন পাল্লা। কিন্তু তার সব অপচেষ্টা হয়েছে বিফল। বলটি ডেড হওয়ার আগে মিরাজ অন্ডার আর্ম থ্রো-তে রান আউটে হতভম্ব করেছেন সালমান আগাকে (৬২ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ৬৪)। টিভি আম্পায়ার ধর্মসেনাও এটিকে বৈধ রান আউটের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়মানুযায়ীই রানআউট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।তবে এই আউট নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উষ্মা প্রকাশ করেছেন সালমান আগা। মিরাজের উপর ক্ষুব্ধ হতে দেখা গেছে তাকে, লিটনকে উদ্দেশ্য করেও কিছু একটা বলতে দেখা গেছে সালমান আগাকে। মিরাজও পাল্টা জবাব দিয়েছেন। নিজের ভুলে আউট হয়েও ক্রোধ প্রকাশ করতে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে বাউন্ডারি রোপের সামনে ব্যাট-হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেছেন!
২৭৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা দিয়েছে বিপদসংকেত। ৬.৩ ওভার শেষে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে যখন শিলাবৃষ্টিতে ম্যাচটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা, তখন পাকিস্তান পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি (৩.৩-০-৯-২) এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের (৩-০-১৮-১) বোলিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর ২৭/৩। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে বড় লজ্জার বদলা নেয়ার সংকল্প ফুটে উঠেছে পাকিস্তান ক্রিকেটারদের অভিব্যক্তিতে।
শিলা বৃষ্টির পর আকাশে বজ্রপাতে ফ্লাড লাইটের অনেকগুলো বাল্বও নিভিয়ে দিয়েছে বিসিবি। রাত ৮টা ৫৭ মিনিটে মাঠ পরিদর্শন শেষে পিচ কভার উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, জ্বলেছে সব কটি ফ্লাড লাইটের বাল্ব। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে খেলা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। ৩২ ওভারে বাংলাদেশ দলের টার্গেট দাঁড়িয়েছে ২৪৩ রান। অর্থাৎ অবশিষ্ট ২৫.৩ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১৬ রান। ওভারপ্রতি ৮.৫৩ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে। টি-২০ মেজাজে ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নিয়েই নামতে হত বাংলাদেশ দলকে। পুনরায় খেলা শুরুতে লিটনের ব্যাটিংয়ে সেই মেজাজই দেখেছে দর্শক। তবে বাঁ হাতি স্পিনার মাজ সাদাকাতের ৫ ওভারের একটি স্পেলে (৫-০-২৩-৩) প্রথম বলে দর্শনীয় পুল শটে ডিপ মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে পরের বলে সুইপ করতে যেয়ে এলবিডাব্লুতে কাটা পড়েছেন লিটন দাস (৩৩ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৪৪)। ৪র্থ উইকেট জুটিতে লিটন-হৃদয়ের ৪৮ বলে ৫৪ রানের পার্টনারশিপকে অনুসরণ করতে পারেনি পরবর্তীতে কেউ।
বৃষ্টির পর উইকেটে ধরেছে স্পিন। তাতেই মাজ সাদাকাত চিনিয়েছেন নিজেকে। লিটনকে শিকারে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট শিকার উদযাপন করা মাজ সাদাকাত নিজের তৃতীয় ওভারে আফিফকে ( ১৫ বলে ২ ছক্কায় ১৪)পুল শটে প্রলুব্ধ করে মিড উইকেটে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন। তাঁর ৪র্থ ওভারের শেষ বলে রিশাদ ফ্রন্ট ফুটে ডিফেন্স করতে যেয়ে বোল্ড (৫ বলে ২)।
৭৩ রানে ৩ উইকেটের পর মাজ সাদাকাতের ছোবলে স্কোরটা যখন ১০১/৭, তখনই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারিত হয়ে গেছে। বাকি আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন পেসার হারিস রউফ তার ভয়ংকর শেষ স্পেলে (২.৩-০-৬-৩)। শেষ ৩ উইকেট পড়েছে মাত্র ১১রানে। তাতেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ১১৪ রানে অলআউটের বদলা নিয়েছে পাকিস্তান, সেই ১১৪ রানে বাংলাদেশকে অলআউট করে।
No posts available.
১৪ মার্চ ২০২৬, ৬:৫৩ পিএম
১৪ মার্চ ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম

ভারতের অভিজ্ঞ পেসার জাসপ্রিত বুমরাহর সঙ্গে পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিকের ছায়া খুঁজে পান আকিব জাবেদ। প্রতিবেশী দুই দেশের দুই বোলারকে এক ফ্রেমে আনার পেছনে পাকিস্তান দলের এই নির্বাচকের যুক্তি— দুইজনই একই ভঙ্গিতে বোলিং করে থাকে। পার্থক্য এটুকুই—একজন ধীর এবং অন্যজন দ্রুতগতিতে।
আকিব জানান, বুমরাহর বল করার ধরণ খুবই বিরল। তাঁর অস্বাভাবিক বোলিং ভঙ্গি এবং ভিন্নধর্মী কৌশলের কারণে ব্যাটাররা তাকে সামলাতে হিমশিম খায়।
তিনি বলেন,
‘‘বিশ্বকাপজুড়ে এমন বোলার একজনই—বুমরাহ। কারণ সে অন্যদের মতো নয়। সে সাধারণ বোলারও নয়। তার বোলিং ভঙ্গিও আলাদা। যখন সে বোলিং করতে আসে, আমি প্রায়ই বলি—সে যেন দ্রুতগতির বোলারদের উসমান তারিক।”
আকিবের মতে, অতীতের কিংবদন্তি বোলারদের মতো ব্যক্তিত্ব বা প্রভাব এখনকার ক্রিকেটে খুব কমই দেখা যায়। তিনি বলেন,
“এই বিশ্বকাপে অন্য কোনো দল থেকে এমন আরেকজন বোলারের নাম বলুন, যাকে দেখে মনে হবে সে ওয়াসিম আকরাম বা ওয়াকার ইউনিসদের মতো ঐতিহ্যের ছাপ বহন করছে। এখন আর তেমন কাউকে পাওয়া যায় না।”
সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে মোট ১৪ উইকেট শিকার করেন বুমরাহ। তার অন্যতম সেরা নৈপুণ্য দেখা যায় ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। আহমেদাবাদে চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের ওপর ভর করে ভারত ৯৬ রানে বড় জয় পায় এবং শিরোপা ধরে রাখে। সেই ম্যাচে বুমরাহ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বাজে পারফরম্যান্সের পর ক্রিকেটারদের জরিমানার শাস্তির খবর ছড়িয়ে পড়ে। টুর্নামেন্টে সুপার এইট থেকে বিদায় নেওয়া বাবর আজম-সালমান আগাদের ৫০ লাখ রুপি জরিমানা করার প্রকাশ করে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টিকে শুধুই গুজব বলে উড়িয়ে দিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ১৫ সদস্যের স্কোয়াডের প্রতিটি খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে। তবে পিসিবির মিডিয়া বিভাগের প্রধান আমির মীর এই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন,
‘পিসিবি কখনোই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। পুরো বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব। এ ধরনের জরিমানার কোনো নজির বা বিধান নেই।’
সালমান আলি আগার নেতৃত্বে পাকিস্তানের ভরাডুবিতে ব্যাপক সমালোচনার তৈরি হয়। টানা দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নক-আউট পর্বে যেতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট ৬টি ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার বিপক্ষে জিতলেও হেরে গিয়েছিল ভারতের কাছে।
সুপার এইটে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়। এরপর ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় দলটি। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারালেও ব্যবধান বড় রাখতে না পারায় সেমিফাইনালের আগেই বাদ পড়ে সালমান আগার দল। আগাদের সবচেয়ে বড় হতাশাজনক হার আসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে মাত্র ১১৪ রানে অল-আউট হয়ে ৬১ রানে হারে পাকিস্তান।
হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পিসিবির শাস্তির খবর ছড়িয়ে পড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পাকিস্তানের অনেক সাবেক ক্রিকেটার বিষয়টিকে বাড়াবাড়ি বলছিলেন। অনেকে আবার জরিমানার শাস্তিও যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন।

২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ১৪ দলের বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে সামনে রেখে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব মিলিয়ে সেরা ৮-এর মধ্যে থাকায় ১০ দলের ২০১৯ এবং ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলেছে বাংলাদেশ দল।
১৪ দলের ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করবে ১০ দল। যার মধ্যে তিন যৌথ স্বাগতিকের মধ্যে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে সরাসরি কোয়ালিফাই করেছে। আইসিসির পূর্ণ সদস্য নয় বলে নামিবিয়াকে কোয়ালিফাইং রাউন্ডের বাধা পেরুতে হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে ছাড়া ৮ দেশ সরাসরি কোয়ালিফাই করবে। এই কোয়ালিফাইংয়ের জন্য আইসিসি বেধে দিয়েছে নিয়ম। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়েকে বাদ দিয়ে থাকতে হবে সেরা ৮-এ। প্রিয় ফরম্যাটের ক্রিকেটে এই চক্রটা মোটেও ভাল কাটছে না বাংলাদেশের। এই চক্রে চলমান সিরিজ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৮টি ওডিআই ম্যাচের মধ্যে হেরেছে ১২টিতে, জয় পেয়েছে সেখানে ৬টি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজ থেকে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে ৬টি সিরিজ, ১৮টি ম্যাচ। যার মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোমে হয়ে যাওয়া চলমান সিরিজের ২ ম্যাচের ফল ১-১।
বাংলাদেশ দল এখন ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে। যেহেতু ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান অবস্থান ৫ নম্বরে, সেহেতু ২০২৭ সালে অনুষ্ঠেয় আইসিসি বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাইয়ের জন্য বাংলাদেশের অবস্থান আপাতত ৯ নম্বরে ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ২০১৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ঠিক উপরে এখন ৯ নম্বরে অবস্থান করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড সেখানে আছে ৮ নম্বরে। বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ঠিক এক ধাপ উপরে থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট বাংলাদেশের সমান, ৭৭। পাকিস্তানের কাছে সিরিজের শেষ ম্যাচ জিতে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ উঠে আসবে ৯-এ। হেরে গেলে অবস্থান অপরিবর্তিত (১০ নম্বর) থাকবে।
আইসিসির চলমান ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে অবশিষ্ট আছে যে ৫টি ওডিআই সিরিজ, ওই ৫টির মধ্যে ২টিতে হোমে খেলবে বাংলাদেশ, অন্য ৩টি অ্যাওয়ে। হোমে আগামী মাসে (এপ্রিল) নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওডিআই সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। মে মাসে হোমে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবতীর্ণ হবে বাংলাদেশ দল। ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে ২-এ থাকা নিউ জিল্যান্ড এবং ৩ নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজ দুটি গুরুত্বপূর্ণ। পরের তিনটি সিরিজের দুটিতে বাংলাদেশ খেলবে র্যাঙ্কিংয়ে নীচে থাকা প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে (১১ নম্বর) এবং আয়ারল্যান্ডের (১৩ নম্বর) বিপক্ষে। এ বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ আইসিসির নির্ধারিত কাট অফ ডেটে বাংলাদেশের সর্বশেষ পরীক্ষা।
২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়ে চোখে সরষের ফুল দেখেছে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কোয়ালিফাইং রাউন্ডের বাধাও টপকাতে পারেনি ক্রিকেট ঐতিহ্যের এই দেশটি। সে কারণেই আইসিসির চলমান চক্রের অবশিষ্ট ১৬টি ওডিআই ম্যাচ বাংলাদেশের সামনে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। র্যাঙ্কিংয়ে উপরের সারির দলকে হারাতে পারলে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হবে। এই সমীকরণটা যখন সামনে এসেছে, তখন হোমে ৭টি ম্যাচকে একটু বেশিই টার্গেট করতে হবে বাংলাদেশ দলকে। সবার আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে রোববার সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় তাই অতি প্রয়োজনীয়।

সালমান আগার রান আউট নিয়ে বেশ সরব হয়ে উঠেছে ক্রিকেটাঙ্গন। এমনকি শুধু ক্রিকেটই নয় পাকিস্তানি ব্যাটারের বিতর্কিত এই রান আউট হইচই ফেলে দিয়েছে ক্রিকেটের বাইরের দুনিয়াতেও।
সামাজিক মাধ্যমে ক্রিকেট সমর্থকরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগার রান আউটের আলোচিত এই ঘটনা নিয়ে একটা পক্ষ আবার রসিকতা করার সুযোগও হাতছাড়া করছেন না। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি পুলিশ আবার এককাঠি সরেস।
সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে, পিন্ডি পুলিশ ম্যাচের একটি মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে বলেছে,
‘রাস্তা হোক বা খেলার মাঠ, নিরাপদ থাকতে হলে অন্যের ওপর কম, নিজের ওপর বেশি ভরসা করুন! আপনার নিজ দায়িত্ব এবং সতর্ক আচরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ম্যাচের ৩৯তম ওভারে মিরাজের বলটি সামনে খেলেন স্ট্রাইকের ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান। বল আসে মিরাজের দিকে, তিনি সেটি পা দিয়ে আটকান। এ সময় নন-স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান সালমান একটু এগিয়ে তাঁর ক্রিজের বাইরে চলে যান। বলটি মিরাজ ও সালমানের পায়ের কাছেই ছিল। সালমান বলটি মিরাজের হাতে দিতে একটু ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু সালমান বল ধরার আগেই মিরাজ খুব দ্রুত বল নিয়ে স্টাম্পে মারেন এবং রানআউটের আবেদন করেন। সালমান ক্রিজের বাইরে থাকায় তৃতীয় আম্পায়ার তাঁকে আউট ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সালমান গ্লাভস-হেলমেট ছুড়ে ফেলে মাঠেই ক্ষোভ ঝাড়েন। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ অধিনায়কের খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা নিয়েও। যদিও বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে সালমান ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়মানুযায়ী তিনি রানআউট।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, শুধু অন্যের ওপর ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, তা কেবল খেলা নয়, দৈনন্দিন জীবনেও জরুরি। এই বার্তা ড্রাইভিং লেসনের মতোই—ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, চারপাশে সচেতন থাকুন এবং নিজের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন। পুলিশ জানাচ্ছে, এই মনোভাব আপনাকে এবং অন্যকে নিরাপদ রাখে।
বিতর্কিত ওই রানআউটের পর প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে শাস্তিও পান পাকিস্তানের ব্যাটার সালমান আগা। গ্লাভস ও হেলমেট মাটিতে ছুড়ে মারায় পাকিস্তানি ব্যাটারকে তিরস্কার ও একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে।

চুক্তিবদ্ধ থাকার পরও শেষ
মুহূর্তে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) থেকে সরে দাঁড়ান জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং
মুজারাবানি। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএলে) খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে পিএসএল থেকে সরে
দাঁড়ান তিনি। কলকাতা নাইটরাইডার্স দলে ভিড়িয়েছে তাঁকে। অঙ্গীকার ঠিক না রাখায় মুজারাবানির
বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পিএসএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের
হয়ে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ ছিলেন মুজারাবানি। প্রতিদ্বন্দ্বী একটি লিগে খেলতে গিয়ে
বাধ্যতামূলক চুক্তি ভেঙে দেওয়ায় বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি পিসিবি। বোর্ডের কর্মকর্তারা
মনে করছেন, এটি চুক্তি লঙ্ঘন। মুজারাবানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা
করা হচ্ছে।
গত দুই বছরে পিএসএল ছেড়ে
আইপিএল খেলার সুযোগ নিয়েছেন—এটি দ্বিতীয় ঘটনা। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার করবিন
বশও একইভাবে পাকিস্তানের পেশোয়ার জালমির সঙ্গে চুক্তি থাকার পরও ভারতের লিগে মুম্বাই
ইন্ডিয়ানসে যোগ দেন। পরে চুক্তি ভঙ্গের দায়ে তাঁকে এক বছরের জন্য পাকিস্তানের লিগে
নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে মুজারাবানির ক্ষেত্রে
পাকিস্তান বোর্ড আরও কঠোর শাস্তির বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। এর আগে তিন মৌসুম
পাকিস্তানের লিগে খেলেছেন মুজারাবানি। ২১টি উইকেট রয়েছে তাঁর নামের পাশে। যদিও আইপিএলে
এখনো কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি তাঁর। তবে ২০২৫ আইপিএলে বেঙ্গালুরু দলের সদস্য ছিলেন।
এবার কলকাতা নাইট রাইডার্স
মুজারাবানিকে দলে নিয়েছে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের বদলি হিসেবে। ভারতীয়
ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেষে মোস্তাফিজকে দল থেকে ছাড়তে বাধ্য হয় কলকাতা।
আগামী ২৯ মার্চ ওয়াংখেড়ে
স্টেডিয়ামে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের
এবারের অভিযান। আর নিজেদের মাঠ ইডেন গার্ডেনে তাদের প্রথম ম্যাচ ২ এপ্রিল, প্রতিপক্ষ
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।