২৪ মার্চ ২০২৫, ৫:১৭ পিএম
বসুন্ধরা ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) ম্যাচ খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া তামিম ইকবাল দিনের এই পর্যায়ে এসে আছেন ভালো অবস্থায়। বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জাতীয় দলের সাবেক ওপেনারের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
সোমবার বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে মোহামেডান এবং শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচের টসের পর প্রথমবার বুকে হালকা ব্যথা অনুভব করেন তামিম। ফিল্ডিংয়ের সময় আবারও বুকে ব্যথা অনুভব করলে সাথে সাথেই মাঠ ছাড়েন তিনি। ঢাকায় এসে চিকিৎসার জন্য এয়ার এম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করা হয় দ্রুত।
তবে তামিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ডাক্তাররা ভ্রমণ করার মত অবস্থানে নেই বলে জানান। এরপর তামিমকে সাভার বিকেএসপির নিকটবর্তী কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পর তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে তার হৃদপিণ্ডের একটি ব্লকেজ দূর করার জন্য তার সফল এনজিওগ্রাম করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
বিবৃতিতে বিসিবি দেশবাসীর কাছে তামিমের আরোগ্য লাভের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি এটাও বলা হয়েছে, তামিমের ভক্তরা তামিমের অবস্থা জানার জন্য হাসপাতালে ভিড় করা থেকে যেন বিরত থাকুন, যাতে এটা হাসপাতালের চিকিৎসা এবং পরিষেবাগুলিকে ব্যাহত না করে।
বিবৃতিতে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ বিকেএসপি এবং কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালের মেডিকেল টিমদের সময়োপযোগী এবং বিশেষজ্ঞ হস্তক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। “এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা সকল চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তামিমের জন্য সবার উদ্বেগই বলে দেয় যে তিনি জাতির কাছে কতটা ভালোবাসা এবং প্রশংসার পাত্র।”
ফারুক আহমেদ আরও বলেছেন, তাদের ও সরকারের তরফ থেকেও সব তামিমের সুস্থতার জন্য সব রকম সাহায্য করা হবে। “প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আমাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছে এবং তাদের কাছে তামিমের অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পাচ্ছে। বিসিবি তামিমের স্বাস্থ্যের দিকে নিবিড় নজর রাখছে এবং হাসপাতালের মেডিকেল টিমের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তামিমের দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত করতে বোর্ড সকল ধরণের সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
No posts available.
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২০ পিএম

তিন অঙ্কের জাদুকরী সংখ্যা স্পর্শ করার আগে কিছুক্ষণ সময় নিয়েছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা। ঘরের মাঠে সতীর্থ ও দর্শকদের করতালি কানে ভেসে আসছিল। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি উদযাপন করতে গিয়ে নিশাঙ্কা হেলমেট খুলে দু’হাত প্রসারিত করে মাঠ মাতালেন। পরে দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন হয়েছিল আরেকটি রান। শেষ পর্যন্ত ১২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কা নিশ্চিত করল সুপার এইট। বিপরীতে ২০০৯ সালের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকেই বাদ পড়ার তেতো অভিজ্ঞতার দোরগোড়ায় অস্ট্রেলিয়া।
পাল্লেকেলেতে আজ শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৮১ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে দুই ওভার বাকি রেখেই জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। মহাকাব্যিক এক সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা হন নিশাঙ্কা। দুর্দান্ত এই ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১০টি চার ও ৫টি ছক্কায়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করা স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা পরের ম্যাচে হারায় ওমানকে। গ্রুপ ‘বি’ তে এবার অস্ট্রেলিয়াকেও বিধ্বস্ত করে শতভাগ জয়ের ধারা বজায় রেখে সুপার এইটের টিকিট কাটলো দাসুন শানাকার দল।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে পারে কালই। আগামীকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের জয়ে বিদায়ঘণ্টা বাজবে অজিদের। এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে হার আর ওমানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ও নেট রান রেটে অনেকটাই পিছিয়ে থাকা মিচেল মার্শের দলের সুপার এইট নিশ্চয়তা দেবে না। অস্ট্রেলিয়ার রান রেট ০.৪১৪ আর জিম্বাবুয়ের ১.৯৮৪। তাতে জিম্বাবুয়ের হারের প্রার্থনার সঙ্গে ওমানের বিপক্ষে বিশাল ব্যবধানে জয় ছাড়া বিকল্প নেই অজিদের।
রান তাড়ায় ৮ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর আর বিপদে পড়েনি শ্রীলঙ্কা। ৩ বলে ১ রান করা কুশল পেরারা ফিরলে দ্বিতীয় উইকেটে পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিসের অসাধারণ এক জুটি জয়ে ভিত গড়ে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বেদম পিটিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৬১ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। ৩৫ বলে ফিফটি করেন মেন্ডিস। অপরপ্রান্তে ৩২ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন নিশাঙ্কা।
৩৮ বলে ৫১ করা মেন্ডিস যখন মার্কাস স্টয়নিসের শিকার হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরছেন, শ্রীলঙ্কার রান তখন ১২.২ ওভারে ১০২। তারপর আর কোনো উইকেটের দেখা পায়নি অস্ট্রেলিয়া। অজি বোলারদের কোনো সুযোগই না দিয়ে পাভান রাথনায়াকাকে নিয়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন লঙ্কানদের জয়ের নায়ক নিসাঙ্কা। ১৫ বলে ২৮ করেন রাথনায়াকে।
এর আগে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালায়। পাওয়ার প্লেতে স্কোরবোর্ডে ৭০ রান তোলেন মিচেল মার্শ-ট্রাভিস হেড। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো শুরু এটি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।
২৭ বলে ফিফটি করেন হেড। ৭ চার ও ২ ছক্কায় অর্ধশত পূর্ণ করা অজি ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৫৬ রান করে আউট হন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারদের মধ্যে ফিফটি ছাড়া সবচেয়ে বেশি ইনিংস বাঁ-হাতি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের। সে লজ্জা শেষ হয়েছে আজ। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল—তাঁর এই ১৩ ইনিংসের ধারার শেষ হয়েছে পাল্লাকেলে।
এই রেকর্ডের আগে একই সংখ্যক ইনিংস ফিফটি ছাড়া ছিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (২০০৫–০৮)। অ্যারন ফিঞ্চ (২০১৮ ও ২০২২), ম্যাথিউ ওয়েড (২০২১) এবং ম্যাট শর্ট (২০২৩–২৬)–এর নামও তালিকায় রয়েছে।
দলীয় ১০৪ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর হঠাৎ খেই হারায় অস্ট্রেলিয়া। ১০৪/০ থেকে ১৩০/৪ হয়ে যায় অজিদের স্কোর। প্রথমে হেডকে আউট করে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফেরান দুশান হেমন্থা। তারপর ৭ বলে ৩ করা ক্যামেরন গ্রিনের উইকেটটি নেন দুনিথ ভাল্লেলেগে। ২০০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করে ২৭ বলে ৫৪ করা অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে নিজের দ্বিতীয় উইকেটটি নেন হেমন্থা। আর টিম ডেভিডকে আউট করেন কামিন্দু মেন্ডিস।
১২.৪ ওভারে ১৩০ করা অস্ট্রেলিয়ার এগোচ্ছিল দুইশোর দিকেই। তবে শুরুর সেই ঝড় সামলে লাগাম টেনে ধরেন লঙ্কান বোলাররা। শেষ সাত ওভারে মাত্র ৫১ রান তুলতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া। টপ অর্ডারের দুর্দান্ত শুরু কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন জশ ইংলিস-গ্লে ম্যাক্সওয়েলরা। ২২ বলে ২৭ করেন ইংলিস আর ১৫ বলে ২২ আসে ম্যাক্সওয়েলের ব্যাট থেকে।
বল হাতে চার ওভারে ৩৭ রান দিয়ে তিন উইকেট নেওয়া হেমন্থা লঙ্কাদের সফলতম বোলার। এছাড়া দুশমান্থা চামেরা নিয়েছেন দুটি। একটি করে শিকার মাহেশ থিকসানা, ভাল্লেলেগে ও মেন্ডিসের।

বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরানো ম্যাচে চোট সমস্যায় নতুন আতঙ্কে শ্রীলঙ্কা। স্পেলের চতুর্থ বলের পরই হামস্ট্রিং চোটে মাঠ ছেড়েছেন মাতিশা পাতিরানা।
আজ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে পাতিরানার হাতে বল তুলে দেন দাসুন শানাকা। চতুর্থ বলের পর হঠাৎ ব্যথা অনুভব করেন ২৩ বর্ষী পেসার। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। ওভারের অবশিষ্ট বল করেন শানাকা।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। যদি পাতিরানা দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকেন, তা দলের জন্য বড় ধাক্কা। শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকেও চোটের কারণে হারিয়েছে।
বাঁচা-মরা ম্যাচে মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড উদ্বোধনী জুটিতে ৮.৩ ওভারে তুলে ফেলেছিলেন ১০৪ রান। এরপর ম্যাচে ফিরে আসে শ্রীলঙ্কা। তারপরও শেষ পর্যন্ত ১৮১ রান করে অস্ট্রেলিয়া। অসিদের হয়ে সর্বোচ্চ রানর ইনিংস খেলেন হেড। ১৩ ম্যাচ পর ফিফটি পাওয়া এই ওপেনার ২৯ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৮ রান। ক্রিজে পাতুম নিশাঙ্কা ও কুসল পেরেরা।
আগামী দেড় মাসের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া আইপিএলে ১৮ কোটি টাকায় পাতিরানাকে দলে ভিড়েয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। বড় কোনো অঘটন ঘটলে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে কপাল পুড়লে কেকেআর ম্যানেজম্যান্টের।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে নেমে একাধিক কীর্তির সাক্ষী হয়েছেন মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড। ১০৪ রানে দুজনের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে, ২৯ বলে ৫৬ রানে হেড ফিরলে।
পাল্লাকেলে আজ কুড়ি কুড়ির বিশেষ এই ম্যাচে পাওয়ার প্লে, উদ্বোধনী জুটি এবং একক কীর্তির পসরা সাজিয়েছেন মার্শ ও হেড।
১০৪ রানের জুটি হেড-মার্শের:
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পঞ্চমবার শতরানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছেন ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শ। এটি পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে ধরা হয়েছে।
এই জুটি অস্ট্রেলিয়ার শুরুতেই শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। যা দলের জন্য বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
হেডের স্বস্তি:
আজ ৫৬ রানের ইনিংস খেলে বাইশগজ ছাড়েন ট্রাভিস হেড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারদের মধ্যে ফিফটি ছাড়া সবচেয়ে বেশি ইনিংস বাঁ-হাতি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের। সে লজ্জা শেষ হয়েছে আজ। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল—তাঁর এই ১৩ ইনিংসের ধারার শেষ হয়েছে পাল্লাকেলে।
এই রেকর্ডের আগে একই সংখ্যক ইনিংস ফিফটি ছাড়া ছিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (২০০৫–০৮)। অ্যারন ফিঞ্চ (২০১৮ ও ২০২২), ম্যাথিউ ওয়েড (২০২১) এবং ম্যাট শর্ট (২০২৩–২৬)–এর নামও তালিকায় রয়েছে।
পাওয়ারপ্লেতে ৭০/০ রান:
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ারপ্লেতে অসিদের ৭০/০ রানের ইনিংস চতুর্থ সর্বোচ্চ। শ্রীলঙ্কার মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর মধ্যে এটি সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স। বিশ্বকাপের ইতিহাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে। এই শক্তিশালী শুরু দলের জন্য বড় স্কোর গড়ার ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের হারের পর সিনিয়র খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট টিম ম্যানেজমেন্ট। দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবর—নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের পরের ম্যাচে বাবর আজম ও শাহিন আফ্রিদিকে বেঞ্চে বসানো হতে পারে।
জিও নিউজের দাবি, নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তান দলে দুই থেকে তিনটি পরিবর্তন আসতে পারে। বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে নিজেদের প্রমাণ করার কথাও ভাবছে ম্যানেজমেন্ট।
কলম্বোতে আগামী বুধবার নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে দলটির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। পাকিস্তান দলের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আজ খেলোয়াড়রা বিশ্রামে রয়েছেন। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের সুপার এইটে পৌঁছাতে এই ম্যাচে জয় খুবই জরুরি। তবে বৃষ্টিতে ম্যাচের ফল ভেস্তে গেলেও পাকিস্তান পরের রাউন্ডে উঠতে পারবে।
ভারতের বিপক্ষে হতাশাজনক ব্যাটিং ও বোলিংয়ের পরই একাদশে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। রবিবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে স্পিন সহায়ক উইকেটে আগে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। কিন্তু ভারতের ইশান কিশানের ঝড়ো অর্ধশতকে ভারত ৫ উইকেটে ১৭৫ রান তোলে। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় তারা।
ভারতের বিপক্ষে স্পিন আক্রমণের ওপর ভরসা করেছিল পাকিস্তান, কার্যত নে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। আবরার আহমেদ তিন ওভারে ৩৮ রান এবং শাদাব খান এক ওভারেই ১৭ রান খরচ করেন—কেউই উইকেট পাননি।
ম্যাচ শেষে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীতের বিপক্ষে দলের হারকে খারাপ দিন বলে উল্লেখ করেছেন।

টস জিতে আগে ব্যাটিং করা ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ২০২ রান। আনকোরা ইতালির জন্য এই রান অসাধ্য বটে। তবে দলটি শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। জয়ের কাছাকাছি গিয়েও তাদের গড়া হয়নি ইতিহাস। তাতেই ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপ থেকে শেষ আট নিশ্চিত করেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
ইডেন গার্ডেন্সে আজ টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ২০২ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। যা ২০২৬ কুড়ি কুড়ির আসরের ষষ্ঠ দুইশ উর্ধ্ব স্কোর। পাহাড়সম রান তাড়া করে জিততে রীতিমতো ইতিহাস গড়তে হতো ইতালিকে। তবে ভয়-ডরহীন ক্রিকেট উপহার দিয়ে হ্যারি ব্রুক বাহিনীকে রীতিমতো ভটকে দিয়েছেন গ্রান্ড স্টুয়ার্ট ও বেন মানেতিরা।
বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া ইতালির শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩১ রান। অঘটন ঘটতে পারত, প্রায়ই জেতার পথে ছিল হ্যারি মানেতিরা। শেষটা সুন্দর হয়নি তাঁদের। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭৮ রান তুলতে পারে ইতালি। তাঁদের ২৪ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড।
আগে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ ব্যাটারই ছিলেন বেশ ধারাবাহিক। দলের সর্বোচ্চ রান উইল জ্যাকসের হলেও দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করেছেন ৭ ব্যাটার। জ্যাকস ২২ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন। সাতটি চার-ছক্কা মারেন তিনি।
জ্যাকস ছাড়া ফিল সল্ট ১৫ বলে ২৮, জ্যাকব বেথেল ২০ বলে ২৩, টম বেন্টন ২১ বলে ৩০, স্যাম কারান ১৯ বলে করেন ২৫ রান ।
জ্যাকসের ২১ বলে করা অর্ধশতকটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি ২০১২ সালে পাল্লেকেলেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইয়ন মরগানের ২৫ বলের ফিফটি এবং ২০২১ সালে দুবাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জস বাটলারের ২৫ বলের ফিফটির রেকর্ড ভেঙেছেন।
রান তাড়ায় নেমে ইতালি তুলতে
পেরেছে ১৭৮ রান। মাত্র ২২ বলে ফিফটি পূরণের পর ২৫ বলে ৬০ রান করে থামেন বেন মানেতি।
গ্রান্ট স্টুয়ার্টের ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে ৪৫ রান। আর ৩৪ বলে ৪৩ রান করেন জাস্টিন
মোস্কা। এছাড়া হ্যারি মানেতি ও জাস্প্রিত সিং ১২ রান করে করেন। ইতালির ইনিংস থামে ১৭৮
রানে।
ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ
তিনটি করে উইকেট নেন জেমি ওভারটন ও স্যাম কারান। জোফরা আর্চার নেন দুটি উইকেট। আর একটি
করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন দুজন বোলার।