
২০২৬ সালটা শুরুই হলো দুর্দান্ত এক ইনিংস দিয়ে। অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম টেস্টে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অসাধারণ সেঞ্চুরিতে দারুণ কিছুর বার্তা দিলেন জো রুট। ১৬০ রানের ইনিংস খেলে আবারও জানিয়ে রাখলেন, টেস্ট ক্রিকেটে সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার তিনি।
লাল বলের ক্রিকেটে রুটের পারফরম্যান্স ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে তাঁর সামনে হাতছানি দিচ্ছে একাধিক ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক মাইলফলক—
টেস্টে সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ড
টেস্টে সর্বোচ্চ ফিফটির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন জো রুট। ২৯৭ ইনিংসে তাঁর ফিফটি ৬৬টি। শীর্ষে রয়েছেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকার, যিনি ৩২৯ ইনিংসে ৬৮টি ফিফটি করেছিলেন।
ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করার হার বেশ ভালো রুটের। তবে চলতি বছরেই তিনি শচীন ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ড নিজের করে নিতে পারেন।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ৭ হাজার রান
এ পর্যন্ত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সব চক্রেই খেলেছেন রুট। এই প্রতিযোগিতায় ১৩৫ ইনিংসে তাঁর রান ৬৪৭৪, গড় ৫২.৬৩। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মার্নাস লাবুশেন, যাঁর রান ৪৪৪৭।
আরও পড়ুন
| বেথেলের সেঞ্চুরির পরও পরাজয়ের শঙ্কায় ইংল্যান্ড |
|
৭ হাজার রানে পৌঁছাতে রুটের প্রয়োজন ৫২৬ রান। সাম্প্রতিক ফর্ম ও ম্যাচসংখ্যা বিবেচনায় ২০২৬ সালেই তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছানোর দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।
ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ডাবল সেঞ্চুরি
ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডটি আছে কিংবদন্তি ওয়ালি হ্যামন্ডের নামের পাশে। তিনি ১৪০ ইনিংসে করেছিলেন ৭টি দ্বিশতক। রুটের ডাবল সেঞ্চুরি এখন ৬টি, খেলেছেন ২৯৭ ইনিংস।
২০২৪ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৬২ রানের ইনিংসটি এখনো রুটের সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর। চলতি বছর তিনি হ্যামন্ডের রেকর্ডে ভাগ বসাতে কিংবা ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় ওপরে ওঠার সুযোগ
সিডনির টেস্টে শতরান করে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ৪১তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন রুট। এই তালিকায় তিনি এখন যৌথভাবে তিন নম্বরে রয়েছেন—অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে।
দ্বিতীয় স্থানে আছেন জ্যাক ক্যালিস (৪৫টি সেঞ্চুরি) এবং শীর্ষে শচীন টেন্ডুলকার (৫১টি)। ক্যালিসকে ছাড়িয়ে যেতে রুটের প্রয়োজন আরও পাঁচটি শতক, আর শীর্ষে উঠতে হলে করতে হবে আরও ১১টি সেঞ্চুরি।
টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার সম্ভাবনা
টেস্টে জো রুটের রান ১৩৯৩৭। এই তালিকায় তিনি দ্বিতীয়, শীর্ষে থাকা শচীন টেন্ডুলকারের রান ১৫৯২১। শচীনকে ছাড়িয়ে যেতে রুটের প্রয়োজন আরও ১৯৮৫ রান।
২০২৬ সালের প্রথম টেস্টেই তিনি করেছেন ১৬০ রান। তবে এক ক্যালেন্ডার এত রান করা রুটের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাটার এক বছরে ১৭৮৮ রানের বেশি করতে পারেননি।
সব মিলিয়ে বয়স ৩৫ বয়সী রুটের সামনে ২০২৬ সাল হতে পারে ইতিহাস গড়ার বছর। ফর্ম আর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ইংল্যান্ডের এই ব্যাটার নতুন করে লিখতে পারেন টেস্ট ক্রিকেটের একাধিক রেকর্ড।
No posts available.
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:১৮ পিএম
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৩২ পিএম
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ এম

২০২৬ নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি ইতিমধ্যে ২০১৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মোট বিক্রিকেও ছাড়িয়ে গেছে। আগামী জুনে ইংল্যান্ডে হবে এবারের টুর্নামেন্ট।
বিশ্বকাপ শুরুর পাঁচ মাস আগেই ১ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। আগামী ১২ জুন উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) আশা করছে, ফুটবলে লায়নেসেস ও রাগবি ইউনিয়নে রেড রোজেসের সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই গ্রীষ্মটি যুক্তরাজ্যে নারী ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।
২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছিল স্বাগতিকেরা। লর্ডসে সেই ফাইনালটি ছিল স্মরণীয়। তবে নারীদের ক্রিকেটে বড় অগ্রগতি আসে দ্য হানড্রেড প্রতিযোগিতা চালুর পর।
এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ফেভারিটদের একজন হিসেবে ধরা হলেও সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে দলটি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। গত তিনটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো একটিতেও তারা ফাইনালে উঠতে পারেনি। নতুন কোচ শার্লট এডওয়ার্ডসের অধীনে গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড।
এডওয়ার্ডস মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের মাঠের সমর্থন ইংল্যান্ডকে আবারও শিরোপা জিততে সহায়তা করতে পারে। ২০০৯ সালে প্রথম নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা জিতেছিলেন তিনি।
বিবিসি স্পোর্টকে এডওয়ার্ডস বলেন,
‘ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা দলের জন্য বড় ভূমিকা রাখে। এতে শুধু দলই নয়, পুরো খেলাটাই উপকৃত হয়।’
১২ দলের এবারের টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্ব শুরু করবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, এজবাস্টনে। একই গ্রুপে আছে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আরও দুটি বাছাইপর্ব পেরোনো দল।
আগামী ৫ জুলাই লর্ডসে ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্বকাপ। এ ছাড়া হেডিংলি, ওল্ড ট্রাফোর্ড, দ্য ওভাল, ব্রিস্টল ও সাউদাম্পটনেও ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক ন্যাট স্কিভার–ব্রান্ট বলেন,
‘এত আগেই ১ লাখ টিকিট বিক্রি হওয়া দারুণ রোমাঞ্চকর। ২০১৭ সালের পুরো বিশ্বকাপের চেয়েও বেশি টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে—এটা অবিশ্বাস্য। ওই টুর্নামেন্টটি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নারী ক্রিকেটের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এবার ছয় মাস আগেই এত বেশি টিকিট বিক্রি হওয়া আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।’

অ্যাশেজ সিরিজে ভরাডুবির পর ইংল্যান্ড দলের শৃঙ্খলা ও সংস্কৃতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। যুক্তরাজ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের অফ-ফিল্ড আচরণ নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফর ও টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবছে ইসিবি।
যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমস ও দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন, অ্যাশেজ চলাকালে একাধিক ক্রিকেটারের নিয়মিত মদ্যপান, গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে থাকা এবং ক্যাসিনো ভ্রমণের তথ্য সামনে আসার পর ইসিবি পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু করেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝের সময়টাতে ক্রিকেটারদের আচরণকে ‘স্ট্যাগ ডু’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ইসিবির আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ড দলের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের মনোযোগ ধরে রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি এড়াতে সফর চলাকালে কারফিউ আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এই নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট সময়ের পর ক্রিকেটারদের বাইরে যাওয়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা হবে।
ইসিবি সূত্র জানিয়েছে, অ্যাশেজে ৪–১ ব্যবধানে সিরিজ হারার পর দলের সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফর এবং টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
দ্য টেলিগ্রাফের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাশেজ চলাকালে ইংল্যান্ড দলের কয়েকজন ক্রিকেটার একাধিকবার ক্যাসিনোতে গেছেন। দলটি যে হোটেলে অবস্থান করছিল, সেটি একটি ক্যাসিনো কমপ্লেক্সের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এসব ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, অ্যাশেজের পর নিউজিল্যান্ডে একটি নাইটক্লাবের বাইরে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক একটি বাক্বিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন। এ ছাড়া নুসায় বেন ডাকেটকে মাতাল অবস্থায় এবং তরুণ ব্যাটার জ্যাকব বেথেলকে ধূমপান করতে দেখা যায়।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝখানে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় দলকে বিশ্রামের জন্য নুসায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়।
এর আগে ২০১৭ সালে বেন স্টোকসের নাইটক্লাব–সংক্রান্ত ঘটনার পর এবং ২০১৭–১৮ সালের অ্যাশেজে ইংল্যান্ড দলে কারফিউ চালু ছিল। ২০২২ সালে অধিনায়ক হওয়ার পর স্টোকস সেই বিধিনিষেধ তুলে নেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলে মনে করছে ইসিবি।
২০২৫–২৬ অ্যাশেজ সিরিজে পার্থ, ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেডে টানা তিন টেস্ট হেরে মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই অ্যাশেজ হাতছাড়া করে ইংল্যান্ড। মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্টে একমাত্র জয় পেলেও সিরিজের সামগ্রিক ব্যর্থতা ঢাকতে পারেনি দলটি। ব্যাটিং ব্যর্থতা ও বোলিংয়ে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে না পারাই পরাজয়ের প্রধান কারণ বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
২২ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কা সফর এবং ৭ ফেব্রুয়ারি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে এই সংকট দ্রুত সামাল দিতে ইসিবির ওপর চাপ বাড়ছে।

জয়ের হ্যাটট্রিক করার পর টানা দুই ম্যাচ হেরে এখন কিছুটা ব্যাকফুটে রংপুর রাইডার্স। জয়ে ফেরার অভিযানে সোমবার সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি তারা।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরেছেন রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। রংপুরকে আগে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
রংপুর রাইডার্স একাদশ
নুরুল হাসান সোহান (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, নাঈম হাসান, কাইল মেয়ার্স, খুশদিল শাহ, ইফতিখার আহমেদ, সুফিয়ান মুকিম।
সিলেট টাইটান্স একাদশ
মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন (উইকেটরক্ষক), তৌফিক খান তুষার, আরিফুল ইসলাম, আফিফ হোসেন ধ্রুব, শহিদুল ইসলাম, ইথান ব্রুকস, মইন আলি, নাসুম আহমেদ, সালমান ইরশাদ, রুয়েল মিয়া

ঐতিহ্যের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে ৪–১ ব্যবধানে হারানো অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের জন্য অপেক্ষা করছে মোটা অঙ্কের বোনাস। ঘরের মাঠে এই সিরিজে আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও দ্রুতই ক্রিকেটারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য আর্থিক পুরষ্কার দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
স্টিভ স্মিথের নেতৃত্বে সিরিজে ১১ দিনেই ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ২০১৭ সাল থেকে অ্যাশেজের ‘ছাইদানি’ নিজেদের কাছে রেখেছে অজিরা। ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে ‘ব্যাগি গ্রিনস’রা মোট ১৬ লাখ মার্কিন ডলার বোনাস ভাগ করে নেবেন।
সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য অজি পেসার মাইকেল নেসার ও অভিষিক্ত ব্যাটার জেক ওয়েদারাল্ডও ব্যক্তিগতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ পেতে যাচ্ছেন। নেসার পুরো সিরিজে ১৫ উইকেট নেন ১৯.৯৩ ইকোনমিতে, আর ওয়েদারাল্ড নিজের প্রথম অ্যাশেজেই নজর কাড়েন দারুণ ব্যাটিংয়ে।
আরও পড়ুন
| ১২ ওভারের ম্যাচে ২৭ চার ও ১৮ ছক্কা |
|
এই দুই ক্রিকেটারের রাজ্য দলের চুক্তির আয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) ন্যূনতম কেন্দ্রীয় চুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। যার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। রাজ্য চুক্তিতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫ হাজার ডলার পাওয়া যায়। ফলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্টভিত্তিক বেতন কাঠামোর শর্ত পূরণ করায় নেসার ও ওয়েদারাল্ড আরও প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ডলার অতিরিক্ত আয় করতে পারেন।
ওয়েদারাল্ড সিরিজ শেষ করেন ২০১ রান নিয়ে, গড় ছিল ২২.৩৩। অবশ্য শেষ তিনটি টেস্টে ভুগতে দেখা গেছে তাকে। গ্যাবায় নিজের প্রথম টেস্টে ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটার।
অ্যাশেজে দাপুটে জয়ের সুবাদে আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ র্যাংকিংয়েও শীর্ষে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। টপকে গেছে নিউজিল্যান্ডকে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড নেমে গেছে সপ্তম স্থানে।
তবে সিরিজের এই সাফল্যের মাঝেই বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্ন ও পার্থ টেস্ট সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় সংস্থাটির আয় কমেছে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি।
এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ ভবিষ্যতে উইকেট প্রস্তুতির দিকে আরও সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দেন। গ্রিনবার্গ বলেছিলেন, ‘সংক্ষিপ্ত টেস্ট ব্যবসার জন্য ভালো নয়। এর চেয়ে স্পষ্ট করে বলার কিছু নেই। ব্যাট ও বলের মধ্যে আরও ভারসাম্য থাকা দরকার।’

ম্যাচ শুরুর আগে আকাশ থেকে অবিরত ঝরল বৃষ্টি। প্রায় তিন ঘণ্টা পিছিয়ে খেলা শুরুর পর যেন সেই আকাশ থেকে নামল ছক্কার বৃষ্টি। প্রকৃতির বাগড়ায় ১২ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে দুই দল মিলে ২৭ চারের সঙ্গে মারল ১৮টি ছক্কা। যেখানে শেষমেশ পাকিস্তানকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ল শ্রীলঙ্কা।
ডাম্বুলায় রোববার তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে ১৪ রানে হারায় শ্রীলঙ্কা। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ১২ ওভারে ১৬০ রানের বিশাল পুঁজি দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। জবাবে দারুণ ব্যাটিং করলেও ১৪৬ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান।
এই জয়ে প্রায় ১৪ বছরের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটাল শ্রীলঙ্কা। নিজেদের ঘরের মাঠে এর আগে সবশেষ ২০১২ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছিল তারা।
শ্রীলঙ্কার জয়ে ১-১ ব্যবধানে শেষ হলো সিরিজ। এর আগে প্রথম ম্যাচ জিতেছিল পাকিস্তান আর বৃষ্টিতে ভেসে যায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।
রান তাড়ায় দ্রুত দুই ওপেনারকে হারায় পাকিস্তান। তবে তিন নম্বরে নেমে তাণ্ডব চালান সালমান আলি আগা। ৫ চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা মেরে ৩৭৫ স্ট্রাইক রেটে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের হয়ে অন্তত ১০ বল বা অন্তত ৩০ রানের ইনিংসে এটি সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট।
সালমানের বিদায়ের পর মোহাম্মদ নাওয়াজ ১৫ বলে ২৮ ও অভিষিক্ত খাজা নাফে ১৫ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কঠিন সমীকরণ মেলাতে পারেনি সফরকারীরা।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৪ উইকেট নেন ভানিন্দু হাসারাঙ্গা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই পাথুম নিসাঙ্কার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে পরের ব্যাটারদের কেউই সময় নষ্ট করেননি। ক্রিজে গিয়েই সবাই খেলেছেন বড় শট। যার ফলে তরতরিয়ে বেড়েছে রান।
কামিল মিশারা ৮ বলে ২০ ও কুশল মেন্ডিস ১৬ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে শুরুটা করে দেন। এরপর ধনঞ্জয় ডি সিলভা ১৫ বলে ২২ ও চারিথ আসালাঙ্কা ১৩ বলে করেন ২১ রান।
ছয় নম্বরে নেমে ইনিংসের গতিই বদলে দেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। বিশাল ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ৯ বলে ৩৭৭.৭৭ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ৩৪ রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অন্তত ৩০ রানের ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের রেকর্ড।
শেষ দিকে ৩ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কার মারে ৮ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন জানিথ লিয়ানাগে। সব মিলিয়ে ১২ ওভারে শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা ১৪ চারের সঙ্গে মারেন ১০টি ছক্কা।
পাকিস্তানের পক্ষে ৩ উইকেট নিলেও ৩ ওভারে ৫৪ রান খরচ করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ১২ ওভারে ১৬০/৬ (নিসাঙ্কা ০, মিশারা ২০, মেন্ডিস ৩০, ধনঞ্জয় ২২, আসালাঙ্কা ২১, শানাকা ৩৪, লিয়ানাগে ২২*, হাসারাঙ্গা ১*; নাসিম ৩-০-৩৫-১, ওয়াসিম ৩-০-৫৪-৩, আবরার ২-০-২২-০, শাদাব ২-০-১৯-০, নাওয়াজ ১-০-৮-১, ফাহিম ১-০-১৯-১)
পাকিস্তান: ১২ ওভারে ১৪৬/৮ (সাহিবজাদা ৯, সাইম ৬, সালমান ৪৫, উসমান ১, নাওয়াজ ২৮, নাফে ২৬, শাদাব ৬, ফাহিম ৯, ওয়াসিম ৭*, নাসিম ১*; থিকশানা ২-০-২৭-০, মালিঙ্গা ২-০-২৭-১, পাথিরানা ৩-০-৩৬-২, হাসারাঙ্গা ৩-০-৩৫-৪, ধনঞ্জয় ২-০-২২-০)
ফল: শ্রীলঙ্কা ১৪ রানে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ