
যুদ্ধের নাম: অ্যাশেজ
প্রতিপক্ষ: অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড
স্থান: পার্থ, অস্ট্রেলিয়া
কমান্ডার : অস্ট্রেলিয়া (স্টিভেন স্মিথ), ইংল্যান্ড (বেন স্টোকস)
রাত পোহালেই পার্থে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ যুদ্ধ। তার আগের দিন কথার ঝাঁজে গরম ছিল সামাজিক মাধ্যম। চায়ের টেবিল কিংবা বন্ধুর আড্ডায়, খই ফুটিয়েছে ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে যেমন ‘শব্দবোমা’ ছোড়া হয় মুর্হমুহু, ঠিক তেমনি অ্যাশেজ নিয়েও হয়েছে ‘বাকযুদ্ধ’। বরং এখানে যোগ হয়েছে বাড়তি মাত্রা, ‘অ্যাশেজ’, ‘বাজবল’, ‘কৌশল’, ‘ইতিহাস’—দারুণ সব শব্দমালা।
১৮৮২ সালে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড অন্যদের মতোই দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজে লড়ত। দ্বৈরথের শুরু র্যাঙ্কিং নিয়ে। নিজ দেশকে সিংহাসনে বসানোর লড়াই তো ছিলই। ছিল দুদেশের সাংবাদিক ও মিডিয়ার আধিক্য। এরপর ইংল্যান্ডকে 'অ্যাশেজ' (ভস্ম) দিয়েছে’ বলে ইংলিশ সাংবাদিক অ্যাপসলি গ্লিনের স্যাটায়ার কলাম। সাধারণ এক সিরিজ রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আর অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড সিরিজের নাম হয়ে ওঠে ‘অ্যাশেজ সিরিজ’।
অ্যাশেজ কিংবা অ্যাশেস-এর লড়াই যুগের পরিক্রমায় হয়ে ওঠে বিশ্ব ক্রিকেটের মর্যাদার এক লড়াই। ১৮৮২ থেকে ২০২৩; এ সময়ে মোট ৭৩টি অ্যাশেজ সিরিজ খেলেছে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড। প্রথম সিরিজসহ মোট ৩২ সিরিজে জিতেছে অজিরা। ইংল্যান্ডের বেজায় দুঃখ, দীর্ঘ প্রচেষ্টায় মাত্র ১০বার সিরিজ জিতেছে তারা। সিরিজে ড্র হয়েছে ২৮টি।
অ্যাশেজ ভাগ্য এতটাই খারাপ ইংল্যান্ডের, টম টেলর কিংবা ডেভিড কিপ। জো রুট থেকে হালের বেন স্টোকস- ভাগ্যের চাকা বড়ই কচ্ছপে। সেই ১৯৮৭ সালের পর কেবল একবারই অস্ট্রেলিয়া সফরে অ্যাশেজ সিরিজ জিতেছিল ইংল্যান্ড। ওই সিরিজের পর তাসমান সাগর পাড়ের দেশটিতে আর কোনো টেস্ট ম্যাচই জিততে পারেনি ইংলিশরা।
হিসাবটি আরও পরিস্কার করা দরকার, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯ সাল) পর ইংল্যান্ডের কেবল পাঁচটি দল অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ জিততে পেরেছে। গত ৪০ বছরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠে স্রেফ দুইবার এই স্বাদ পেয়েছে তারা। সবশেষ দেড় দশক আগে।
এসবের চেয়েও বড়, গত আট বছর ধরে অ্যাশেজ সিরিজের ট্রফি অস্ট্রেলিয়ার কাছে। সবশেষ ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে সেটি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেনি ইংল্যান্ড। ২-২ সমতায় সিরিজ শেষ করে ট্রফি ধরে রাখে অস্ট্রেলিয়া।
এবার অবশ্য ইতিহাস রচনার ঘোষণা দিয়েছেন বেন স্টোকস। ‘বাজবল’ সঙ্গী করে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে নিজ দেশে ট্রফি ফেরানোর কথা বলেছেন ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরেকটি সিরিজের আগে তিনি জানিয়ে রেখেছেন, এবার ইতিহাস গড়তেই অস্ট্রেলিয়ায় পা রেখেছেন তাঁরা।
তার আগে স্টোকস বলেছেন,
"দেখুন, অস্ট্রেলিয়া এসে তাদের বিপক্ষে খেলা সত্যিই কঠিন। তারা সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী দল। প্রত্যেকেই বেশ ভালো। আমাদের সবারই জানি, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের রেকর্ড কতটা বাজে। কিন্তু, আমাদের সুযোগ রয়েছে এখানে ইতিহাস লেখার।"
২০২৩ সালের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বা ‘বাজবল’ এর স্বাদ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এবারও একই ধাঁচের খেলা দেখতে পাচ্ছেন স্মিথ,
‘‘ম্যাচে এমন সময় আসবে যখন তাদের কয়েকজন ব্যাটার দ্রুত রান করবে। তখন আমাদের হয়তো কিছুটা রক্ষণাত্মক হতে হবে। আবার সুযোগ পেলে আক্রমণেও যেতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’’
স্মিথের চিন্তার কারণ স্বাভাবিক। এই মুহূর্তে দল কিছুটা গড়পড়তার মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা। চোটের কারণে প্রথম টেস্ট থেকেই ছিটকে গেছেন নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এবং বোলার জশ হ্যাজলউড। সুযোগ পাচ্ছেন নতুন দুই মুখ ব্রেনডন ডগেট ও জেক ওয়েদারল্ড। ১৬ টেস্টে উসমান খাজার সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামবেন সপ্তম নতুন পার্টনার।
অস্ট্রেলিয়া তাদের একাদশ ঘোষণা করলেও কিছুটা কৌশল অবলম্বন করেছে ইংল্যান্ড। অ্যাশেজ শুরুর একদিন আগে প্রথম টেস্টের জন্য ১২ জনের দল দেয় সফরকারীরা। পার্থের পিচ কেমন আচরণ করবে, সেই ভাবনায় বিকল্প হিসেবে অফ স্পিনার শোয়েব বাশিরকে দলে রাখে তারা। অর্থাৎ পরিস্থিতি দেখে পূর্ণাঙ্গ একাদশ জানানো হয়ে যুদ্ধের ময়দানে।
ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক বাজবল স্টাইলের খেলা এবং অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণাত্মক কৌশল দেখা যাবে আরও একবার। অস্ট্রেলিয়া যেমন দুর্দান্ত খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে শক্তিশালী, তেমনি ইংল্যান্ডের প্রত্যাশা আক্রমণাত্মক ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস রচনা। দুটি দলই প্রস্তুত, অ্যাশেজের মঞ্চে গর্জে উঠবে। সেই লড়াইয়ের শুরু হতে চলেছে পার্থে। দেখার পালা — কে হবে অ্যাশেজ চ্যাম্পিয়ন। কোন দল রচনা করবে ইতিহাস!
No posts available.
২ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ পিএম
২ মার্চ ২০২৬, ৪:১৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে পাকিস্তান নারী ক্রিকেটারদের দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে লাগাতার পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে দুবাই, সৌদি আরব, ওমানসহ কয়েকটি দেশের বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
যুদ্ধের সংঘাত এবং বিমান বন্দর সাময়িক বন্ধ থাকায় দেশে ফিরতে বিলম্ব হচ্ছে পাকিস্তান নারী দলের ক্রিকেটারদের। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ শেষে সোমবার রাতে ডারবান থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল ফাতিমা সানাদের। কিন্তু বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। বর্তমানে তারা ডারবানেই অবস্থান করছেন।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, আকাশসীমা পুনরায় খোলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়ার পরই দল দেশে ফেরার পথে রওনা দেবে। পিসিবি সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খেলোয়াড়রা দক্ষিণ আফ্রিকাতেই থাকবেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পাকিস্তান নারী দল তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে, যেখানে উভয় সিরিজই ২-১ ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিক দল।

ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। ওমরাহ শেষে শনিবার জেদ্দা থেকে দুবাই হয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল জাতীয় দলের উইকেটকিপার ব্যাটারের। তবে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রাপথে বিঘ্ন ঘটে মুশফিকের। তবে সোমবার নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তিনি।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারই সহধর্মিণী জান্নাতুল কিফায়েত মন্ডি।
তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মুশফিক নিরাপদে বাসায় ফিরে এসেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছেন। যারা আমার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং আমাকে মানসিক সমর্থন দিয়েছেন, সকল আপনজনকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুশফিকের স্ত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক যেন হয়, এ জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন তিনি, ‘আমরা দোয়া করি, ইন শা আল্লাহ, পৃথিবীর পরিস্থিতি খুব শিগগিরই শান্ত ও স্বাভাবিক হয়ে উঠুক।’
রবিবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছিলেন ইসরায়েল-ইরানের সংঘাতে জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে পড়া মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন তিনি। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, রবিবার রাতের ফ্লাইটে মুশফিক দেশে ফিরে আসবেন।

আগামীকাল মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনালে নর্থ জোনের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেন্ট্রাল জোন। তার আগে সোমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন সেন্ট্রাল জোনের অলরাউন্ডার সাইফ হাসান। এসময় তিনি দলের লক্ষ্য এবং ব্যক্তিগত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আগামী সপ্তাহে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। ফলে বিসিএল আসন্ন সিরিজের আগে দেশের ক্রিকেটারদের জন্য ভালো প্রস্তুতির মঞ্চ হতে পারে। সাইফ হাসানও বলছেন সে কথা।
সাইফ বলেন, 'যেহেতু আমরা ফাইনালে উঠেছি এবং একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ বেড়েছে। ওয়ানডে সিরিজের আগে এটা ভালো একটা প্রস্তুতি আমাদের জন্য। আশা করি কালকের ম্যাচটায় আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবো।'
'গত এক-দেড় বছর ওরকম ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাইনি। কিছু ওয়ানডে আমরা পেয়েছি তাও টি-টোয়েন্টির মাঝখানে। এখন যেগুলাই ওয়ানডে সিরিজ আছে অবশ্যই প্রস্তুতিটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।'-যোগ করেন তিনি।
বিসিএলে বাদবাকি ম্যাচগুলো বগুড়া ও রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলেও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিরপুর। শিরোপার মঞ্চে ব্যক্তিগত লক্ষ্য জানাতে গিয়ে সাইফ বলেন,
'বগুড়া-রাজশাহীতে সাধারণত খুব ভালো উইকেট থাকে। আর মিরপুরে কালকে যেহেতু দিবা-রাত্রির ম্যাচ, আশা করি ভালো উইকেট থাকবে। একটা সিরিজের আগে যদি ম্যাচ অনুশীলন থাকে, অবশ্যই খুবই ভালো ব্যাটসম্যান হিসেবে যদি বলি। তাই ম্যাচটি যেখানেই খেলি না কেন, নিজের শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করি।'
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হয়নি বাংলাদেশ দলের। চলতি বছরেও কোনো আইসিসি ইভেন্ট নেই। যদিও আগামী বছর রয়েছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। যেখানে সরাসরি খেলবে টাইগাররাও।
সাইফ বলেন, ‘সবাই আসলে মন খারাপ করেছে (বিশ্বকাপ খেলতে না পেরে)। এখানে অস্বীকার করার কিছু নেই। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই জরুরি।’

সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ঠিকই হারিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু রান রেটের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। তাতেই সালমান আলী আগাদের সেমি-ফাইনাল স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। পাকিস্তানকে টপকে গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে নিউ জিল্যান্ড। তিনটি ম্যাচই জিতে গ্রুপ সেরা হয়েছে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে শনিবার। এখনও থামেনি সমালোচনার ঝড়। শূলে চড়ানো হচ্ছে নির্বাচক, কোচিং স্টাফদের সদস্যদেরও। শোনা গেছে, বিশ্বকাপে ব্যর্থতায় জরিমানা করা হয়েছে ক্রিকেটারদের। জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হচ্ছে কোচিং স্টাফদের। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক আসরে ব্যর্থতায় পিসিবিতে ফাটল ধরেছে।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে দেশটির জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক আন্তর্জাতিক আম্পায়ার আলিম দার। পাকিস্তানের সামা টিভি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আজ।
এক প্রতিবেদনে তারা জানায়, জাতীয় দলের ধারাবাহিক বাজে ফলের কারণে সৃষ্ট উদ্বেগ থেকেই আলিম দার পদত্যাগপত্র জমা দেন। এতে দল পরিচালনা ও নির্বাচকদের ওপর চাপ যে বাড়ছে, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্বকাপে মাঠের ব্যর্থতার পর নির্বাচক প্যানেলে এটিই প্রথম বড় পরিবর্তন। তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন বা কমিটিতে আরও কোনো পরিবর্তন আসছে কি না—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচই পাকিস্তান খেলেছে শ্রীলঙ্কায়। তাদের গ্রুপ পর্বের লড়াইগুলো হয়েছে কলম্বোয়। সুপার এইটের দুটি ম্যাচ খেলেছে তারা পাল্লেকেলেতে।
গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও শেষ চারে খেলতে পারেনি পাকিস্তান। আসরে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। আর এবার এই ব্যর্থতা।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অন্যান্য দেশেও। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে এই সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে, বিসিবির সূত্র বলছে, এই বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
৫০ ওভারের তিনটি ম্যাচ খেলতে ৯ মার্চ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে পাকিস্তানের। শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ১১, ১৩ এবং ১৫ মার্চ হওয়ার কথা ম্যাচগুলো। অনিশ্চয়তার মধ্যে সিরিজটি আলোর মুখ এখন না-ও দেখতে পারে। তবে সূত্র বরাতে জিও সুপার বলেছে ভ্রমণ ঝুঁকি, নিরাপত্তা উদ্বেগ যদি না বাড়ে তবে পাকিস্তান অবশ্যই সফর করবে।
আরও পড়ুন
| নতুন মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে ভারত |
|
এদিকে আসন্ন সিরিজে দল নিয়ে এই সপ্তাহে বসার কথা পাকিস্তান ম্যানেজমেন্টের। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর তারা ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে মনোযোগ দিচ্ছে। আগামী বছর সাদা বলের লঙ্গার ভার্সনের বিশ্বকাপ হবে জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকায়।
সূত্র জানায়, ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের বিপক্ষে সফর দিয়েই ব্যাপক পরিবর্তন আনতে চায় পাকিস্তান। বাবর আজম, মোহাম্মদ নওয়াজ ও সাইম আইয়ুবদের মতো প্রথম পছন্দের ক্রিকেটাররা বাদ পড়তে পারেন। তাদের জায়গায় তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে পাকিস্তানের নির্বাচক প্যানেল। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা আরও ৫-৬ জন ক্রিকেটার বাদ পড়তে পারেন বলে জানায় সূত্র।
বাংলাদেশে আসার আগে সর্বশেষ গত নভেম্বরে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল পাকিস্তান। সেবার ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে আতিথেয়তা দেয় পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়া তিন ম্যাচেই জয়লাভ করে পাকিস্তান।