১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:০১ পিএম

ব্যাপক নাটকীয়তার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলেছে পাকিস্তান। তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে পাকিস্তানের সরে আসার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে—এমনটাই জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। সময়মতো হস্তক্ষেপের জন্য তিনি তাঁকে বিশেষ ধন্যবাদও জানান।
পাকিস্তান আগে ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সংহতি জানাতেই এই অবস্থান নেয় তারা। পরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, বিসিবি এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল প্রতিনিধিদের দীর্ঘ আলোচনার পর ৯ ফেব্রুয়ারি সেই সিদ্ধান্ত বদলায় পাকিস্তান।
নাকভির ভাষ্য, শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোন করে দলকে ম্যাচ খেলতে অনুমতি দিতে অনুরোধ করেন। ম্যাচ শেষে সাক্ষাতে তিনি প্রেসিডেন্টকে বলেন,
‘প্রথমেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিন। গতকালের ম্যাচে প্রকৃত নায়ক ছিলেন আপনি, কারণ আপনার কারণেই ২০০ কোটি মানুষ ম্যাচটি উপভোগ করতে পেরেছে। আপনার জন্যই আমরা খেলেছি।’
নাকভি বলেন,
‘ভারতের সঙ্গে খেলা নিয়ে আমাদের বেশ কিছু সমস্যা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আপনার ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে কল করে বললেন, আর কোনো সমস্যা নেই… আমাদের ম্যাচ খেলতেই হবে। এজন্য আপনার কাছে আমি খুবই কৃতজ্ঞ—আপনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’
কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অবশ্য পাকিস্তানের জন্য সুখকর হয়নি ইশান কিশানের ঝকঝকে ৭৭ রানের ইনিংসে ভারত ১৭৫ রান তোলে। জবাবে পাকিস্তান ১১৪ রানে গুটিয়ে যায়।
No posts available.
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পিএম

আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তেজনা এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বিশ্ব ক্রিকেটের বড় টুর্নামেন্টগুলো আয়োজনে। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার চলমান টানাপোড়েনের কারণে ভবিষ্যতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট ভারত থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এমনটাই জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার দৈনিক দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৯ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ছেলেদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ—যেগুলো যৌথভাবে আয়োজন করার কথা ভারত ও বাংলাদেশ, সেগুলো বিকল্পভাবে অস্ট্রেলিয়াতে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এই আলোচনা সামনে এসেছে চলমান ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে। এবারের আসরটি যৌথভাবে আয়োজন করছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্ট চলাকালে পাকিস্তান প্রথমে ১৫ ফেব্রুয়ারির গ্রুপ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কারণ নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারত সফরে যেতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন
| হ্যাটট্রিক জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, সেমি-ফাইনালে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান |
|
তবে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন বন্ধু দেশের অনুরোধ ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর পাকিস্তান সরকার তাদের দলকে ম্যাচে অংশ নিতে অনুমতি দেয়। আলোচনায় অংশ নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, আইসিসি প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জানা গেছে, পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল—এ কারণেই শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলায় ইসলামাবাদ।
ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতায় থামে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরের বড় টুর্নামেন্ট এশিয়া কাপ ২০২৪ থেকেই সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সেই টুর্নামেন্টে এবং সাম্প্রতিক টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচেও ভারতীয় খেলোয়াড় ও অধিনায়ক পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ম্যাচ শেষে প্রচলিত হ্যান্ডশেক করেননি, যা ক্রীড়াঙ্গনে বিরল ঘটনা হিসেবে আলোচনায় আসে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ রয়েছে বহুদিন। সর্বশেষ পাকিস্তান ভারত সফর করেছিল ২০১২–১৩ মৌসুমে। এরপর থেকে দিল্লি রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে তাদের দলকে পাকিস্তান সফরের অনুমতি দেয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তান বোর্ড ও বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া এক ধরনের ‘হাইব্রিড মডেল’-এ সম্মত হয়। ওই ব্যবস্থায় ঠিক হয়, ২০২৪–২০২৭ সম্প্রচার চক্রে দুই দেশ একে অপরের আয়োজিত আইসিসি টুর্নামেন্টে নিজ দেশে খেলবে না; বরং নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ হবে।
আরও পড়ুন
| টিকে থাকবে তো পাকিস্তান, নাকি বাজবে বিদায়ঘণ্টা |
|
ক্রিকেট প্রশাসকদের মতে, দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন বড় আসরের সময়সূচি ও আয়োজন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই আগেভাগেই বিকল্প ভেন্যু নির্ধারণের আলোচনা চলছে।
অস্ট্রেলিয়াকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ভাবার পেছনে অতীত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। দেশটি আগে একাধিক বড় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ সফলভাবে আয়োজন করেছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডের অ্যাডিলেড ওভালের ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন ৪১ হাজার ৫৮৭ দর্শক। আর ২০২২ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেলবোর্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সেই সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার ২৯৩।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি শুধু দ্বিপাক্ষিক সিরিজই বন্ধ করেনি, বৈশ্বিক ক্রিকেট সূচিও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে। দুই দলের মুখোমুখি হওয়া এখন প্রায় একচেটিয়াভাবে আইসিসি বা বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ওপর নির্ভরশীল।
আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না জানালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে আলোচনা জোরালো—রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতের বড় আসরগুলো নিরপেক্ষ বা বিকল্প দেশে সরিয়ে নেওয়ার নজির আরও বাড়তে পারে।

রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে টানা তৃতীয় ম্যাচে জয়ে হ্যাটট্রিক করে ফেলল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট 'এ' দল। একইসঙ্গে নিশ্চিত হলো তাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়নশিপ। এখন সেমি-ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান নারী ক্রিকেট 'এ' দল।
ব্যাংককে বুধবার সকালের ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ৯০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৫১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে পুরো ২০ ওভার খেলেও ৬১ রানের বেশি করতে পারেনি মালয়েশিয়া।
এই জয়ে 'বি' গ্রুপে তিন ম্যাচের সবকটি জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ থেকে সেমি-ফাইনালের অন্য টিকেটের দৌড়ে এখন শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।
আরও পড়ুন
| টিকে থাকবে তো পাকিস্তান, নাকি বাজবে বিদায়ঘণ্টা |
|
ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশকে বড় পুঁজি এনে দেওয়ার কারিগর লতা মন্ডল। পাঁচ নম্বরে নেমে ৪ চারে ৪৪ বলে তিনি করেন ৪৮ রান। এছাড়া শারমিন সুলতানা ২৫ বলে ৩০, ফাহিমা খাতুন ২৪ বলে ২৯ ও সাদিয়া আক্তার ১১ বলে করেন ১৯ রান।
মালয়েশিয়ার পক্ষে ২ উইকেট নেন নুর দানিয়া সুহাদা।
পরে রান তাড়ায় একদম সুবিধা করতে পারেনি মালয়েশিয়া। আট নম্বরে নেমে নুর আরিয়ানা নাটসা ২৪ বলে করেন ২২ রান। দলের আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।
৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ১০ রানে ৩ উইকেট নেন ফাতেমা জাহান। শরিফা খাতুন ১৩ রানে নেন ২ উইকেট।
ব্যাট হাতে ৪৮ রান করার পর ব্যাটিংয়ে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন লতা মন্ডল।
আগামী শুক্রবার দুপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমি-ফাইনাল ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পরাজয়ের মুখ থেকে স্বস্তির জয় আর সবশেষটিতে ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ। মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তাই জিতলেও খুব একটা নিরাপদ অবস্থায় নেই পাকিস্তান। সামনের ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে তাদের ভাগ্য।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠে বুধবার বিকেলে নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘এ’ এটিই তাদের শেষ ম্যাচ। সুপার এইটের টিকেট পেতে ম্যাচটিতে পরাজয় এড়াতে হবে সালমান আলি আগার দলের।
এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচের সবকটি জিতে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সুপার এইট নিশ্চিত হয়েছে শুধু ভারতের। দ্বিতীয় দল হিসেবে সেরা আটের ওঠার দৌড়ে এখন পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র।
এরই মধ্যে ৪ ম্যাচ খেলে ২ জয়ে আপাতত পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে আছে যুক্তরাষ্ট্র। তিন ম্যাচে তাদের সমান জয় নিয়ে নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় তিনে পাকিস্তান।
আরও পড়ুন
| ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখল পিএসজি |
|
এবার কলম্বোতে নামিবিয়ার বিপক্ষে পরাজয় এড়াতে পারলেই যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে যাবে পাকিস্তান। গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় ও টুর্নামেন্টের শেষ দল হিসেবে পেয়ে যাবে সুপার এইটের টিকেট।
তবে হেরে গেলেই বেজে যাবে বিদায়ঘণ্টা। কারণ এরই মধ্যে নেট রান রেটে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে পাকিস্তান। ম্যাচ হারলে আরও ধাক্কা লাগবে নেট রান রেটে। তখন তিন নম্বরে থেকেই বিদায় নিতে হবে তাদের।
এমনিতে শক্তি-সামর্থ্যে নামিবিয়ার চেয়ে অনেক এগিয়েই আছে পাকিস্তান। তবে গত বিশ্বকাপে আইসিসির আরেক সহযোগী সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। এবার তাই নামিবিয়ার বিপক্ষে বাড়তি সতর্কতাই হয়তো নেবে মাইক হেসনের দল।
সুপার এইটের টিকেট নিশ্চিতের লক্ষ্যে নিজেদের একাদশে ৩টি পরিবর্তন আনতে পারে পাকিস্তান। বাদ পড়তে পারেন বাবর আজম, শাদাব খান ও শাহিন শাহ আফ্রিদি। তাদের জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন খাওয়াজা নাফে, ফাখার জামান, নাসিম শাহরা।
পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ: সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম/খাওয়াজা নাফে, শাদাব খান/ফাখার জামান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নাওয়াজ, সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, উসমান তারিক, আবরার আহমেদ
নামিবিয়ার সম্ভাব্য একাদশ: ইয়ান ফ্রাইলিংক, লরেন স্টিনকেম্প, ইয়ান নিকোল লফটি-ইটোন, গেরহার্ড এরাসমাস (অধিনায়ক), জেজে স্মিট, জেন গ্রিন (উইকেটরক্ষক), ডায়লান লেচার, রুবেন ট্রাম্পলম্যান, উইলেম মাইবার্গ, বার্নার্ড স্কোলজ, জ্যাক ব্রাসেল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন বর্জন করেছিলেন যারা, তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে গণমাধ্যমে অসংখ্যবার বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক এবং জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। তবে টেকনোক্রেট কোটায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে বিসিবির পরিচালনা পরিষদ এখনই ভেঙ্গে দেয়ার পক্ষে নন তিনি। যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এই অবস্থান জেনে বিকল্প উপায়ে গঠণতন্ত্রের ত্রুটি বিচ্যুতি বের করে বিসিবিতে বেশ কিছু পরিচালক পদ শুণ্য করতে মাঠে নেমেছেন বিসিবির বাইরে থাকা একদল ক্রীড়া সংগঠক।
নির্বাচিত বোর্ডের উপর সরকারের হস্তক্ষেপ আইসিসি মেনে নিবে না। এমন কিছু হলে বিসিবির উপর আইসিসির নিষেধাজ্ঞাদেশ আসতে পারে। নিকট অতীতে শ্রীলঙ্কার সেই দৃষ্টান্তটি যেনো বাংলাদেশকে পেতে না হয়, সে কারণেই সতর্ক ক্রীড়া প্রশাসন। আইনি প্রক্রিয়ায় বিসিবি সভাপতিসহ ক্যাটাগরি-১ এর ১০ পরিচালকের পদ শুণ্য করার পথে হাঁটছে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা ক'জন ক্রীড়া সংগঠক।
বিসিবির বিদ্যমান গঠণতন্ত্রের ৯.১ এর (ক) ও (খ) ধারায় আঞ্চলিক ও জেলা ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধি মনোনয়নের শর্ত পালন না করে ক্যাটাগরি-১ থেকে পছন্দের কাউন্সিলর তালিকা নিশ্চিত করতে গঠণতন্ত্র পরিপন্থি পথ বেছে নেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। জেলাও বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনার স্বাক্ষরকৃত ফরমে বৈধ প্রক্রিয়ায় বিসিবিতে জমা পড়া ৫৩ জন কাউন্সিলের কাউন্সিলরশিপ বাতিল করে জেলাও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসমূহের এডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়নের চিঠি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভাগীয়/জেলা ক্রীড়া সংস্থা বরাবর দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল গত ১৮ সেপ্টেম্বর। নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর এ ধরণের নির্দেশের বিধান নেই বিসিবির গঠণতন্ত্রে। সে কারণেই গত ২১ সেপ্টেম্বর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট মামলা দায়ের করেছিলেন টাঙ্গাইল, লক্ষীপুর ও গোপালগঞ্জের তিন কাউন্সিলর প্রত্যাশী।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ পরিষদে কাউন্সিলর মনোনয়ন নিয়ে বিসিবি সভাপতির ওই চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করে হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ওই আদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ স্থগিত করেন। এই আদেশেই বিসিবি নির্বাচন সম্পন্ন করে জেলাও বিভাগ থেকে পছন্দের পরিচালক বেছে নিয়েছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে মামলাটি যেহেতু নিষ্পত্তি হয়নি এবং সেহেতু এই মামলা পুনরুজ্জীবিত করে আদালত থেকে ক্যাটাগরি-১ এ নির্বাচিত পরিচালকদের পদ শুণ্য করার আদেশের প্রত্যাশায় এখন বিরোধীরা।
হাইকোর্টের আপীল বিভাগেএই মামলার রায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিপক্ষে গেলে আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাজমুল আবেদিন ফাহিমসহ ক্যাটাগরি-১ এর ১০ পরিচালক পদ শুণ্য হবে। চাইলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কোটার দুটি পদও শুণ্য করতে পারবেন এই সংস্থার চেয়ারম্যান।
আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের (১৯৯৬-২০০১) শেষ দিকে অর্থাৎ ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিসিবির সংরশাধিত গঠনতন্ত্রে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন না নিয়েই পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করে সেই নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ মেয়াদ পূরণ করতে পারেনি। ২০০২ সালের আগষ্ট মাসে হাইকোর্টে একটি রিট মামলায় বিসিবির নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। ওই রিট মামলা থেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন বিসিবির নির্বাচন বর্জনকারী সংগঠকরা।
আগষ্ট বিপ্লবের পর নির্বাচিত সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ বিসিবি পরিচালনা পরিষদের অধিকাংশ দেশত্যাগ করায় অন্তবর্তীকালীন সরকার আমলে এক তৃতীয়াংশ পরিচালকের উপস্থিতি দিয়ে কোরাম পূর্ণ করে বিসিবির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিসিবির পরিচালনা পরিষদে বড় শুণ্যতা এবার দেখা গেলে গঠণতন্ত্রের ১৪.২.১ (গ) ধারা অনুযায়ী সে সব পদে নির্বাচন আয়োজন করে বিএনপি ঘরানার যোগ্য এবং দক্ষ ক্রীড়া সংগঠকদের বিসিবিতে আনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনকে বিতর্কিত করায় নির্বাচন বর্জনকারীদের তোপের মুখে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে অপসারণে আইনি উপায়ও খুঁজছেন তাঁরা। গঠণতন্ত্রের ১৫.২ ধারা অনুযায়ী পর পর ৩টি সভায় অনুপস্থিত থাকলে পরিচালক পদ শুণ্য হবে, বিসিবি সভাপতি এবার পরিবারকে সময় দিতে অস্ট্রেলিয়া সফরের মেয়াদ দীর্ঘ হলে এই আইনকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন বিরোধীপক্ষ। দ্রুত দেশে ফিরে আসবেন বলে পরিচালকদের লিখিত বার্তা অবশ্য দিয়ে গেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে এখন চারদিক থেকে তাকে অপসারনে যে চাপ, সেই চ্যালেঞ্জটা কী নিতে ঢাকায় দ্রুত ফিরবেন বিসিবি সভাপতি ? বিদেশে অবস্থানকালে ভার্চুয়াল সভায় বোর্ড সভায় অংশ নিবেন সভাপতি, এমনটা মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক। পরিস্থিতির মুখে বিসিবির সভা আয়োজনও কঠিন হয়ে পড়ার কথা।
তাহলে কী সভাপতি পদ থেকে বিদায়ের ঘণ্টা ধ্বনী বাজছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। তাঁর বিদায়ের ক্ষণ গননা কী শুরু হয়ে গেছে ? না, আইসিসি থেকে গ্রীন সিগন্যাল পেয়ে এই পদে থেকে যাওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল ? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে দেশের ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সবাই।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট সরকার গঠন করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ গ্রহনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার স্ব স্ব মন্ত্রানালয়ের দায়িত্ব বন্টন করেছে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহনে অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার গুঞ্জন উঠেছে। গত ৬ অক্টোবর বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে তৎকালীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বিএনপির ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক।
সাফ জয়ী এই অধিনায়ককে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার অর্পিত হয়েছে। বিসিবির নির্বাচনে প্রার্থীতা দিয়ে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন যারা, তাদের মধ্যে মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, মীর শাহে আলম নব নির্বাচিত সরকারের প্রতিমন্ত্রী। বিসিবির নির্বাচনে বিএনপি ঘরানার সংগঠকদের সংগঠনের অন্যতম নেতা ইশরাক হোসেনও হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে শুরু থেকে অবৈধ বলে আসছেন তারা। সে কারণেই নব নির্বাচিত বিএনপি সরকারের আমলে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পরিষদের মেয়াদপূর্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মেলবোর্ন চলে যাওয়ায় তাঁর পদ হারানোর শঙ্কাও দেখছে অনেকে। তবে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে কৌশলে ক্রিকেট বোর্ড পূণর্গঠনের কথা ভাবছেন আমিনুল হক। মঙ্গলবার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহনের পর রাতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি- ‘ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এখন একটি দায়িত্বশীল জায়গায় আছি, আমি তাদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব, কীভাবে আমরা ভালো একটি পর্যায়ে যেতে পারি।’ অর্থাৎ বিসিবির বিষয়ে আইসিসির নিয়মের মধ্যে থেকে এগোতে চান ক্রীড়াঙ্গনের নুতন অভিভাবক।