
লর্ডস থেকে মিরপুর। ২০০৫ সালের ২৬ মে থেকে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর। সময়ের হিসেবে ৭৪৭৯ দিন। এই লম্বা সময় পেরিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন মুশফিকুর রহিম।
বাংলাদেশের ৩৭তম টেস্টে ৪০তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে অভিষিক্ত মুশফিকুর রহিম পাড়ি দিয়েছেন অনেক চড়াই উতরাই। মুশফিকুর রহিমের টেস্ট অভিষেক থেকে শুরু করে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত খেলেছে ১২০টি টেস্ট, তার মধ্যে মুশফিকুর রহিমের টেস্ট সংখ্যা ১০০! ফিটনেসে কতোটা সজাগ মুশফিকুর রহিম, তার আদর্শ দৃষ্টান্ত এটাই।
শিশুসুলভ চেহারা নিয়ে ১৮ বছর ১৭ দিন বয়সে ক্রিকেটের হোম লর্ডসে মুশফিকুর রহিমের টেস্ট অভিষেকের দিন অভিষেক হয়েছিল পেস বোলার শাহাদত হোসেন রাজীবেরও। ১০ বছর আগে ৩৮ টেস্টে থেমেছে তার টেস্ট ক্যারিয়ার।
আড়াই বছর পর টেস্ট অভিষিক্ত হওয়া তামিমের টেস্ট ক্যারিয়ার থেমেছে আড়াই বছর আগে, ৭০ এ থামতে হয়েছে তাকে। মুশফিকুর রহিমের ২ বছর পর টেস্ট শুরু করে সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ৭১ টেস্টে এসে আটকা পড়েছেন। বছরে যে দেশ গড়ে ৬.২৪ টি টেস্ট খেলাকে নিয়তি বলে মেনে নিয়েছে, সেই দেশের কোনো ক্রিকেটার একদিন টেস্টের সেঞ্চুরি পূর্ণ করবেন-এটা এক সময়ে স্বয়ং মুশফিকুর রহিমও কল্পনা করতে পারেননি।
লর্ডসে টেস্ট অভিষেকের আগে তিনদিনের ওয়ার্ম আপ ম্যাচে সেঞ্চুরি করে বৃটিশ মিডিয়ার আলোচনায় উঠে এসেছিলেন মুশফিকুর রহিম। অথচ, সেই মুশফিকুর রহিমের অভিষেক ইনিংস থেমেছে হোগার্ডের বলে বোল্ড আউটে, ১৯ রানে। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ২৬ মাসে ২ টেস্টের পারফরমেন্স ছিল হতাশাজনক। লর্ডসে ১৯ এবং ৩ রানে থেমে যাওয়ার পর হোম গ্র্যাউন্ড বগুড়ায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে২ ও ০! এমন পারফরমেন্সে টেস্টে টিকে থাকা নিয়ে ছিল অশনি সংকেত। কামব্যাক টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পি সারা ওভালে ২৩৫ মিনিটের সংযমী ব্যাটিংয়ে ৮০ রানের ইনিংসে নির্বাচকদের নজরে এসেও প্রতিদ্বন্দ্বী ধীমান ঘোষের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে হয়েছিল মুশফিককে। ভারতের বিদ্রোহী ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট আসর আইসিএল টি-টোয়েন্টিতে খেলার অপরাধে ধীমান ঘোষের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় টেস্টে টিকে যান মুশফিকুর রহিম। ৩৩তম ইনিংসে এসে দেখেছেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। মিরপুরে ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে সেই ইনিংসের পর ২৬ টেস্ট বিরতি দিয়ে পেয়েছেন সেঞ্চুরি। গল-এ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই সেঞ্চুরিটি আবার বাংলাদেশের প্রথম কোনো ক্রিকেটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন (২০০)। বাংলাদেশের পক্ষে শুধু প্রথম ডাবলই নয়, টেস্টে সর্বোচ্চ ২১৯ রানের হার না মানা ইনিংসটিও তার। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির ভেন্যু মিরপুরে, তিনটি ডাবলের ২টি তার প্রিয় এই ভেন্যুতে। সেই ভেন্যুতেই পূর্ণ করেছেন টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরি।
ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রে, ভারতের সুনীল গাভাস্কার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড, অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বোর্ডার, পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াদাদ,দক্ষিণ আফ্রিকার গ্যারি কারস্টেন, শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়সুরিয়া, নিউ জিল্যান্ডের স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের পর সেঞ্চুরি টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ইতিহাসের রচয়িতা মুশফিকুর রহিম।
তার এই বিশেষ ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে নানা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিজের ৯৯ নম্বর টেস্ট পর্যন্ত রং চটা টেস্ট ক্যাপটি ছিল মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী। শততম টেস্ট উপলক্ষে মুশফিককে বিশেষ ক্যাপ উপহার দিয়েছেন হাবিবুল বাশার।
সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানও দিয়েছেন বিশেষ উপহার। মুশফিকের হাতে স্মারক ক্রেস্ট তুলে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। মুশফিকের প্রথম ও শততম টেস্টের জার্সিতে স্বাক্ষর করা টিমমেটদের জার্সি ফ্রেমে বাধাঁই করে উপহার দিয়েছেন নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং হাবিবুল বাশার সুমন।
মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট-এর বার্তা সারা বিশ্বে পৌছে দিতে পূর্ব গ্যালারিতে বিশাল এক ব্যানার ঝুলিয়েছে বিসিবি। দেশের পক্ষে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট বিশেষ মর্যাদায় উদযাপন করেছে প্রেস বক্সে টেস্ট কভার করা গণমাধ্যম কর্মীরা। টি ব্রেকের সময়ে বিশাল এক কেক কেটে প্রেস বক্সে উদযাপন করা হয়েছে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টের উদযাপন। মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টে প্রেস বক্সে উপস্থিত সাংবাদিকদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টকে সামনে রেখে এই লিজেন্ডারির সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের ছবি প্রেসবক্সে সংরক্ষনের উদ্যোগ নিয়েছেন একদল সিনিয়র সাংবাদিক।
মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট উদযাপন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বাবা-মা, স্ত্রী, পুত্র-কন্যা। টসের পর সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে এমন মাইলফলক স্পর্শ করার অনুভূতি জানাতে গিয়ে মুশফিকুর রহিম বলেছেন-
‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই। আমিও বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক শ ভাগ দেব, যেমনটা সব সময় চেষ্টা করি।’
শতভাগ দিয়েছেন অতীতে, শততম টেস্টেও তার ব্যতিক্রম কিছু দেখছে না সমর্থকরা। শততম টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৯৯ রান নিয়ে আছেন ব্যাটিংয়ে। আর মাত্র ১ রান হলেই ১১ তম ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি দিয়ে সেঞ্চুরি টেস্ট উদযাপন করবেন মুশফিকুর রহিম। ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রে, পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াদাদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের গর্ডন গ্রীনিজ, ইংল্যান্ডের অ্যালেক স্টুয়ার্ট, পাকিস্তানের ইনজামাম উল হক, অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং, দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, ইংল্যান্ডের জো রুট এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে এলিট তালিকায় নাম লেখানোর সামনে এখন দাঁড়িয়ে মুশফিকুর রহিম।
No posts available.

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ফিরছে মুলতান সুলতান্স। নতুন মৌসুমে অভিষেক হতে যাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি শিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ নিজেদের নাম বদলে নিচ্ছে মুলতানের নামে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার পিএসএলের প্রধান নির্বাহী সালমান নাসির এই ঘোষণা দেন। এসময় তার পাশে ছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নতুন সিইও ও সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার গোহার শাহ।
এই বিষয়ে গত সপ্তাহেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নাসির। মুলতান সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, সুখবর আসছে।’ অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
নাসির জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি) নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন গোহর শাহ। এককালীন ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দিতে সম্মত হওয়ায় আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। ফলে দলটির নতুন নাম হচ্ছে মুলতান সুলতান্স।
নাম বদলের ফির বাইরেও নতুন মালিক সিডি ভেঞ্চারস বার্ষিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে উন্নীত করতে রাজি হয়েছে। নাসিরের ভাষ্য, পিএসএলের পরিসরে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে মুলতান সুলতান্স নামটির আলাদা মূল্য রয়েছে।
গত মাসে আগের মালিক আলি তারিন লিজ নবায়ন না করায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিলামে ওঠে। সর্বোচ্চ ২৪৫ কোটি রুপি বার্ষিক ফিতে সেটি কিনে নেয় ওয়ালি টেকনোলজিস। পরে তারা দলটিকে রাওয়ালপিন্ডিতে সরিয়ে নিয়ে ‘পিন্ডিজ’ নাম দেয়।
এতে আট মৌসুমের পথচলার পর কার্যত পিএসএল থেকে মুলতান সুলতান্সের বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল। তবে মালিকানা নিয়ে জটিলতা এবং নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের পর স্ট্যালিয়নজ ফ্র্যাঞ্চাইজির ৯৮ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় সিডি ভেঞ্চারস।
নতুন মালিকানার প্রতিনিধি হিসেবে গোহর শাহ সিইওর দায়িত্ব নেন। পিএসএলের নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স ও নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হায়দ্রাবাদ কিংসমেন।

মুম্বাইয়ের গর্জন থামাতে চান স্যাম কারান। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এমন প্রত্যয়ই ব্যক্ত করেছেন ইংল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার।
আজ মুম্বাইয়ে অনুশীলনের আগে কারান বলেন, ছোটবেলায় যে স্বপ্ন দেখতেন, তার একটি ছিল ভারতে ভারতের বিপক্ষে খেলা,
‘শ্রীলঙ্কা থেকে মুম্বাইয়ে উড়ে আসার সময় ভাবছিলাম, ছোটবেলায় কী স্বপ্ন দেখতাম। ভারতের বিপক্ষে ভারতে খেলাটা নিশ্চয়ই তার একটি। এটা দারুণ অভিজ্ঞতা।’
সেমিফাইনালটি হবে ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক সমর্থকদের উপস্থিতিতে গ্যালারি থাকবে সরব—এমনটাই প্রত্যাশা ইংল্যান্ড শিবিরের। তবে সেটিকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন কারান। বললেন,
‘স্টেডিয়াম খুব জোরে গর্জে উঠবে। এটাকে রোমাঞ্চকর সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। যদি গ্যালারি নীরব হয়ে যায়, বুঝতে হবে ইংল্যান্ড ভালো করছে—আমরা সেটাই ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছি।’
চলমান আসরে ইংল্যান্ড দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই নিয়মিত খেলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে। ফলে ভারতীয় দর্শকদের আবেগঘন সমর্থনের সঙ্গে তারা পরিচিত। কারানের মতে, সেই অভিজ্ঞতাই কাজে দেবে। কারন বলেন,
‘আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, আমরা ভারতে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। এখানে খেলতে খেলতে আপনি শব্দকে উপেক্ষা করতে শিখে যান। অবশ্যই পরিবেশটা উপভোগ্য। অনেক তরুণ ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলার।’
কারান আশা করছেন, ম্যাচের পরিস্থিতি এমন হবে যাতে গ্যালারি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যায়,
‘আশা করি স্টেডিয়ামটা নীরব হবে। তবে নিশ্চিতভাবেই খুব জোরে সমর্থন থাকবে। দুইটি দুর্দান্ত দল মুখোমুখি হচ্ছে। গত চার–পাঁচ সপ্তাহের পরিশ্রম আমাদের এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। আশা করি, আমরা আরেক ধাপ এগিয়ে ফাইনালের পথে যেতে পারব।’
সব মিলিয়ে মুম্বাইয়ের উত্তপ্ত পরিবেশেই বড় চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। তবে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে স্বাগতিকদের গ্যালারি স্তব্ধ করেই ফাইনালে উঠতে চায় তারা।

আগামীকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মাড়ে গড়াবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচ। আর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
কুড়ি কুড়ি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ কারা পরিচালনা করবেন, জানিয়ে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি। মঙ্গলবার দু’টি সেমিফাইনালের ম্যাচ রেফারি এবং আম্পায়ারদের নাম জানিয়েছে তারা।
বুধবার ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ডের ম্যাচে মাঠের দুই আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ এবং অ্যালেক্স হোয়ার্থ। কলকাতায় তৃতীয় আম্পায়ার নিতিন মেনন। চতুর্থ আম্পায়ার রড ট্যাকার। ম্যাচ রেফারি জ্যাভগল শ্রীনাথ।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারত ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে ম্যাচে আম্পায়ারিং করবেন ক্রিস গাফানি এবং আলাউদ্দিন পালেকর। তৃতীয় ও চতুর্থ আম্পায়ার যথাক্রমে অ্যাড্রিয়ান হোল্ডস্টক ও পল রাইফেল। ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন অ্যান্ডি পাইক্রফট। এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হ্যান্ডশেক বিতর্কে ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
২০২৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচেও গাফানি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আর আলাউদ্দিন এ বারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দু’টি ম্যাচে আম্পায়ার হিসাবে ছিলেন। ভারত-নেদারল্যান্ডস ম্যাচেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আগামী পরশু দেখা হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ডের। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন মাইকেল ভন।
ভারতের চেয়ে ইংল্যান্ডের স্পিন আক্রমণ ভালো¬—এমনই দাবি করেছেন ভন। সাবেক ইংলিশ অধিনায়কের ‘মজার এক অনুভূতি’ হচ্ছে, মুম্বাইয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয় পেতে পারে ইংল্যান্ড।
বিবিসির টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল পডকাস্টে ভন বলেন, ‘ইংল্যান্ডের স্পিন আক্রমণ ভারতের চেয়ে ভালো। ডসন, রশিদ ও উইল জ্যাকস—স্পিনে এই তিনজনই টুর্নামেন্টের সেরা ত্রয়ী।’
ভারত টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে শুরু করলেও সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে এবং গ্রুপ পর্বেও কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড এখনো পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স দিতে না পারলেও টানা পাঁচ জয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে।
ভনের ভাষায়, ‘ওরা জয়ের পথ খুঁজে নিচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়মরক্ষার ছিল, কিন্তু যেভাবে শেষ পর্যন্ত জিতেছে, সেটা দারুণ প্রচেষ্টা।’
ইংল্যান্ডের স্পিন বিভাগে আছেন আদিল রশিদ, লিয়াম ডসন ও উইল জ্যাকস। ভনের মতে, ভারতের বরুণ চক্রবর্তীকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চাপে ফেলা গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি যথাক্রমে ৪০ ও ৪৭ রান দিয়েছেন।
ভারতের হাতে বিকল্প হিসেবে আছেন বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব, যাঁর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো রেকর্ড রয়েছে। তবে এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র তিন ওভার বল করেছেন তিনি।
ভন বলেন, ‘ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং অসাধারণ। ওদের সতর্কতা চোখে পড়ার মতো। উইকেটের মধ্যে দৌড়ও দারুণ। ছোট ছোট যে বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেগুলো ইংল্যান্ড খুব ভালোভাবে করছে।’তিনি যোগ করেন, ‘আমার ভেতরে একটা মজার অনুভূতি কাজ করছে—মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ড কাজটা করে ফেলতে পারে।’
ওপেনার জস বাটলার টানা পাঁচ ইনিংসে এক অঙ্কে আউট হয়েছেন। ভনের মতে, বাটলার হয়তো টেকনিক নিয়ে বেশি ভাবছেন। ভন বলেন, ‘যখন আপনি ভালো অনুভব করেন না, তখন টেকনিক নিয়ে ভাবেন। কিন্তু জস হ্যান্ড-আই খেলোয়াড়। বলের দিকে তাকাও, প্রতিক্রিয়া দেখাও। বাটলারের র্যাম্প শট দেখা যাচ্ছে না। এই উইকেট ওই শটের জন্য ভালো হতে পারে। ভালো খেললে শুরুতেই সে শট বের করে আনে।’
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ড। ২০২২ সালে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ড ১০ উইকেটে জিতেছিল, ২০২৪ বিশ্বকাপে গায়ানায় জয় পায় ভারত। দুই দলই পরে শিরোপা জিতেছিল।
ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারান বলেন, ২০২২ সালের জয়ই হতে পারে আদর্শ উদাহরণ। নিখুঁত ম্যাচ খুঁজতে গেলে ২০২২ সালের ম্যাচটাই মডেল হতে পারে, বলেন তিনি।
সব মিলিয়ে ভনের মতে, স্পিন, ফিল্ডিং ও ছোট ছোট দিকগুলোতে এগিয়ে থাকাই ইংল্যান্ডকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মুম্বাইয়ের গর্জনমুখর পরিবেশে সেই বিশ্বাস কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পর অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপ, এরপর এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ- পরপর তিনটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে নেই এনামুল হক বিজয়। বিপিএল ও অদম্য টি-টোয়েন্টি থেকে তাকে বাদ দিয়েছে বিসিবি। তবে বিসিএলে নিজ থেকেই খেলেননি অভিজ্ঞ ওপেনার।
শুধু তাই নয়, বিসিবির তরফ থেকে সম্মান ফেরত না পেলে আর কখনও ক্রিকেট খেলবেন না সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়। শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বিকেলে আচমকা ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেছেন একসময়ের জাতীয় দলের ওপেনার।
২০২৪-২৫ মৌসুমের বিপিএলে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলেছিলেন বিজয়। ওই টুর্নামেন্টে ফিক্সিংয়ের সন্দেহভাজন তালিকায় আসে তার নাম। পরে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের পরামর্শ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমের বিপিএলে খেলতে দেওয়া হয়নি বিজয়কে।
তবে এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও, ওই বিপিএলে বিজয়ের ফিক্সিং কাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি বিসিবি। তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সুনির্দিষ্ট কোনো শাস্তির ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। তাই এখন এই বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান ও নিজের হারানো সম্মান ফেরত চান বিজয়।
“আমি সিম্পল একটা কথা বলি, আমার ক্রিকেট খেলার দরকার নাই। যতক্ষণ পর্যন্ত না ওনারা আমাকে সম্মান ফেরত দিচ্ছেন, সসম্মানে সবাইকে জানাচ্ছে যে, বিজয় অপরাধী না, বিজয়ের পারিশ্রমিক শোধ হয়েছে, বিজয়ের সঙ্গে (ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে) যা হয়েছে, এই নামগুলো ভুলে এসেছে, সন্দেহের তালিকায় ছিল এখন জিনিসটা সুন্দর (সমাধান) হয়ে গেছে, সব ধরনের খেলাও খেলতে পারবে। সুন্দর করে বিসিবি যখন বলবে তখন আমি ক্রিকেট খেলব।”
“এমন না যে... এই বিসিএল খেললে এমন কি! এর আগেও আমি বহুত সেঞ্চুরি করেছি। এ মাঠে আমার অনেক সেঞ্চুরি আছে। অন্য জায়গায় যেখানেই খেলি অনেক সেঞ্চুরি আছে। আপনারা অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন, অনেক পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ! আমার এখন সম্মান দরকার। সম্মানের জন্য ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলে আসছি, টাকার জন্য না। সেটা আমি আবার ফেরত পাইতে চাই।”
তাহলে এটা কি অবসরের ঘোষণা কি না, তা জানতে চাওয়া হয় বিজয়ের কাছে। প্রশ্নের উত্তরে প্রচ্ছন সেই ইঙ্গিত দিয়ে রাখেন স্বীকৃত ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৫১টি সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার।
“এটা এক ধরনের যদি বলেন, আমাকে যদি তারা উপযুক্ত সম্মান, ঠিকভাবে না দেয়, আমার কাছে মনে হয় যে আমি (ক্রিকেটে) ফিরব না। আমার দরকার নাই ক্রিকেট খেলার।”