
লর্ডস থেকে মিরপুর। ২০০৫ সালের ২৬ মে থেকে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর। সময়ের হিসেবে ৭৪৭৯ দিন। এই লম্বা সময় পেরিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন মুশফিকুর রহিম।
বাংলাদেশের ৩৭তম টেস্টে ৪০তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে অভিষিক্ত মুশফিকুর রহিম পাড়ি দিয়েছেন অনেক চড়াই উতরাই। মুশফিকুর রহিমের টেস্ট অভিষেক থেকে শুরু করে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত খেলেছে ১২০টি টেস্ট, তার মধ্যে মুশফিকুর রহিমের টেস্ট সংখ্যা ১০০! ফিটনেসে কতোটা সজাগ মুশফিকুর রহিম, তার আদর্শ দৃষ্টান্ত এটাই।
শিশুসুলভ চেহারা নিয়ে ১৮ বছর ১৭ দিন বয়সে ক্রিকেটের হোম লর্ডসে মুশফিকুর রহিমের টেস্ট অভিষেকের দিন অভিষেক হয়েছিল পেস বোলার শাহাদত হোসেন রাজীবেরও। ১০ বছর আগে ৩৮ টেস্টে থেমেছে তার টেস্ট ক্যারিয়ার।
আড়াই বছর পর টেস্ট অভিষিক্ত হওয়া তামিমের টেস্ট ক্যারিয়ার থেমেছে আড়াই বছর আগে, ৭০ এ থামতে হয়েছে তাকে। মুশফিকুর রহিমের ২ বছর পর টেস্ট শুরু করে সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ৭১ টেস্টে এসে আটকা পড়েছেন। বছরে যে দেশ গড়ে ৬.২৪ টি টেস্ট খেলাকে নিয়তি বলে মেনে নিয়েছে, সেই দেশের কোনো ক্রিকেটার একদিন টেস্টের সেঞ্চুরি পূর্ণ করবেন-এটা এক সময়ে স্বয়ং মুশফিকুর রহিমও কল্পনা করতে পারেননি।
লর্ডসে টেস্ট অভিষেকের আগে তিনদিনের ওয়ার্ম আপ ম্যাচে সেঞ্চুরি করে বৃটিশ মিডিয়ার আলোচনায় উঠে এসেছিলেন মুশফিকুর রহিম। অথচ, সেই মুশফিকুর রহিমের অভিষেক ইনিংস থেমেছে হোগার্ডের বলে বোল্ড আউটে, ১৯ রানে। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ২৬ মাসে ২ টেস্টের পারফরমেন্স ছিল হতাশাজনক। লর্ডসে ১৯ এবং ৩ রানে থেমে যাওয়ার পর হোম গ্র্যাউন্ড বগুড়ায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে২ ও ০! এমন পারফরমেন্সে টেস্টে টিকে থাকা নিয়ে ছিল অশনি সংকেত। কামব্যাক টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পি সারা ওভালে ২৩৫ মিনিটের সংযমী ব্যাটিংয়ে ৮০ রানের ইনিংসে নির্বাচকদের নজরে এসেও প্রতিদ্বন্দ্বী ধীমান ঘোষের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে হয়েছিল মুশফিককে। ভারতের বিদ্রোহী ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট আসর আইসিএল টি-টোয়েন্টিতে খেলার অপরাধে ধীমান ঘোষের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় টেস্টে টিকে যান মুশফিকুর রহিম। ৩৩তম ইনিংসে এসে দেখেছেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। মিরপুরে ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে সেই ইনিংসের পর ২৬ টেস্ট বিরতি দিয়ে পেয়েছেন সেঞ্চুরি। গল-এ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই সেঞ্চুরিটি আবার বাংলাদেশের প্রথম কোনো ক্রিকেটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন (২০০)। বাংলাদেশের পক্ষে শুধু প্রথম ডাবলই নয়, টেস্টে সর্বোচ্চ ২১৯ রানের হার না মানা ইনিংসটিও তার। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির ভেন্যু মিরপুরে, তিনটি ডাবলের ২টি তার প্রিয় এই ভেন্যুতে। সেই ভেন্যুতেই পূর্ণ করেছেন টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরি।
ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রে, ভারতের সুনীল গাভাস্কার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড, অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বোর্ডার, পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াদাদ,দক্ষিণ আফ্রিকার গ্যারি কারস্টেন, শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়সুরিয়া, নিউ জিল্যান্ডের স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের পর সেঞ্চুরি টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ইতিহাসের রচয়িতা মুশফিকুর রহিম।
তার এই বিশেষ ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে নানা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিজের ৯৯ নম্বর টেস্ট পর্যন্ত রং চটা টেস্ট ক্যাপটি ছিল মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী। শততম টেস্ট উপলক্ষে মুশফিককে বিশেষ ক্যাপ উপহার দিয়েছেন হাবিবুল বাশার।
সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানও দিয়েছেন বিশেষ উপহার। মুশফিকের হাতে স্মারক ক্রেস্ট তুলে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। মুশফিকের প্রথম ও শততম টেস্টের জার্সিতে স্বাক্ষর করা টিমমেটদের জার্সি ফ্রেমে বাধাঁই করে উপহার দিয়েছেন নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং হাবিবুল বাশার সুমন।
মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট-এর বার্তা সারা বিশ্বে পৌছে দিতে পূর্ব গ্যালারিতে বিশাল এক ব্যানার ঝুলিয়েছে বিসিবি। দেশের পক্ষে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট বিশেষ মর্যাদায় উদযাপন করেছে প্রেস বক্সে টেস্ট কভার করা গণমাধ্যম কর্মীরা। টি ব্রেকের সময়ে বিশাল এক কেক কেটে প্রেস বক্সে উদযাপন করা হয়েছে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টের উদযাপন। মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টে প্রেস বক্সে উপস্থিত সাংবাদিকদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টকে সামনে রেখে এই লিজেন্ডারির সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের ছবি প্রেসবক্সে সংরক্ষনের উদ্যোগ নিয়েছেন একদল সিনিয়র সাংবাদিক।
মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট উদযাপন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বাবা-মা, স্ত্রী, পুত্র-কন্যা। টসের পর সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে এমন মাইলফলক স্পর্শ করার অনুভূতি জানাতে গিয়ে মুশফিকুর রহিম বলেছেন-
‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই। আমিও বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক শ ভাগ দেব, যেমনটা সব সময় চেষ্টা করি।’
শতভাগ দিয়েছেন অতীতে, শততম টেস্টেও তার ব্যতিক্রম কিছু দেখছে না সমর্থকরা। শততম টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৯৯ রান নিয়ে আছেন ব্যাটিংয়ে। আর মাত্র ১ রান হলেই ১১ তম ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি দিয়ে সেঞ্চুরি টেস্ট উদযাপন করবেন মুশফিকুর রহিম। ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রে, পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াদাদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের গর্ডন গ্রীনিজ, ইংল্যান্ডের অ্যালেক স্টুয়ার্ট, পাকিস্তানের ইনজামাম উল হক, অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং, দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, ইংল্যান্ডের জো রুট এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে এলিট তালিকায় নাম লেখানোর সামনে এখন দাঁড়িয়ে মুশফিকুর রহিম।
No posts available.
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৩২ পিএম
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ এম

অ্যাশেজ সিরিজে ভরাডুবির পর ইংল্যান্ড দলের শৃঙ্খলা ও সংস্কৃতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। যুক্তরাজ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের অফ-ফিল্ড আচরণ নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফর ও টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবছে ইসিবি।
যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমস ও দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন, অ্যাশেজ চলাকালে একাধিক ক্রিকেটারের নিয়মিত মদ্যপান, গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে থাকা এবং ক্যাসিনো ভ্রমণের তথ্য সামনে আসার পর ইসিবি পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু করেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝের সময়টাতে ক্রিকেটারদের আচরণকে ‘স্ট্যাগ ডু’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ইসিবির আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ড দলের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের মনোযোগ ধরে রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি এড়াতে সফর চলাকালে কারফিউ আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এই নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট সময়ের পর ক্রিকেটারদের বাইরে যাওয়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা হবে।
ইসিবি সূত্র জানিয়েছে, অ্যাশেজে ৪–১ ব্যবধানে সিরিজ হারার পর দলের সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফর এবং টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
দ্য টেলিগ্রাফের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাশেজ চলাকালে ইংল্যান্ড দলের কয়েকজন ক্রিকেটার একাধিকবার ক্যাসিনোতে গেছেন। দলটি যে হোটেলে অবস্থান করছিল, সেটি একটি ক্যাসিনো কমপ্লেক্সের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এসব ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, অ্যাশেজের পর নিউজিল্যান্ডে একটি নাইটক্লাবের বাইরে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক একটি বাক্বিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন। এ ছাড়া নুসায় বেন ডাকেটকে মাতাল অবস্থায় এবং তরুণ ব্যাটার জ্যাকব বেথেলকে ধূমপান করতে দেখা যায়।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝখানে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় দলকে বিশ্রামের জন্য নুসায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়।
এর আগে ২০১৭ সালে বেন স্টোকসের নাইটক্লাব–সংক্রান্ত ঘটনার পর এবং ২০১৭–১৮ সালের অ্যাশেজে ইংল্যান্ড দলে কারফিউ চালু ছিল। ২০২২ সালে অধিনায়ক হওয়ার পর স্টোকস সেই বিধিনিষেধ তুলে নেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলে মনে করছে ইসিবি।
২০২৫–২৬ অ্যাশেজ সিরিজে পার্থ, ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেডে টানা তিন টেস্ট হেরে মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই অ্যাশেজ হাতছাড়া করে ইংল্যান্ড। মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্টে একমাত্র জয় পেলেও সিরিজের সামগ্রিক ব্যর্থতা ঢাকতে পারেনি দলটি। ব্যাটিং ব্যর্থতা ও বোলিংয়ে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে না পারাই পরাজয়ের প্রধান কারণ বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
২২ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কা সফর এবং ৭ ফেব্রুয়ারি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে এই সংকট দ্রুত সামাল দিতে ইসিবির ওপর চাপ বাড়ছে।

জয়ের হ্যাটট্রিক করার পর টানা দুই ম্যাচ হেরে এখন কিছুটা ব্যাকফুটে রংপুর রাইডার্স। জয়ে ফেরার অভিযানে সোমবার সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি তারা।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরেছেন রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। রংপুরকে আগে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
রংপুর রাইডার্স একাদশ
নুরুল হাসান সোহান (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, নাঈম হাসান, কাইল মেয়ার্স, খুশদিল শাহ, ইফতিখার আহমেদ, সুফিয়ান মুকিম।
সিলেট টাইটান্স একাদশ
মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন (উইকেটরক্ষক), তৌফিক খান তুষার, আরিফুল ইসলাম, আফিফ হোসেন ধ্রুব, শহিদুল ইসলাম, ইথান ব্রুকস, মইন আলি, নাসুম আহমেদ, সালমান ইরশাদ, রুয়েল মিয়া

ঐতিহ্যের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে ৪–১ ব্যবধানে হারানো অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের জন্য অপেক্ষা করছে মোটা অঙ্কের বোনাস। ঘরের মাঠে এই সিরিজে আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও দ্রুতই ক্রিকেটারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য আর্থিক পুরষ্কার দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
স্টিভ স্মিথের নেতৃত্বে সিরিজে ১১ দিনেই ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ২০১৭ সাল থেকে অ্যাশেজের ‘ছাইদানি’ নিজেদের কাছে রেখেছে অজিরা। ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে ‘ব্যাগি গ্রিনস’রা মোট ১৬ লাখ মার্কিন ডলার বোনাস ভাগ করে নেবেন।
সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য অজি পেসার মাইকেল নেসার ও অভিষিক্ত ব্যাটার জেক ওয়েদারাল্ডও ব্যক্তিগতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ পেতে যাচ্ছেন। নেসার পুরো সিরিজে ১৫ উইকেট নেন ১৯.৯৩ ইকোনমিতে, আর ওয়েদারাল্ড নিজের প্রথম অ্যাশেজেই নজর কাড়েন দারুণ ব্যাটিংয়ে।
আরও পড়ুন
| ১২ ওভারের ম্যাচে ২৭ চার ও ১৮ ছক্কা |
|
এই দুই ক্রিকেটারের রাজ্য দলের চুক্তির আয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) ন্যূনতম কেন্দ্রীয় চুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। যার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। রাজ্য চুক্তিতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫ হাজার ডলার পাওয়া যায়। ফলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্টভিত্তিক বেতন কাঠামোর শর্ত পূরণ করায় নেসার ও ওয়েদারাল্ড আরও প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ডলার অতিরিক্ত আয় করতে পারেন।
ওয়েদারাল্ড সিরিজ শেষ করেন ২০১ রান নিয়ে, গড় ছিল ২২.৩৩। অবশ্য শেষ তিনটি টেস্টে ভুগতে দেখা গেছে তাকে। গ্যাবায় নিজের প্রথম টেস্টে ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটার।
অ্যাশেজে দাপুটে জয়ের সুবাদে আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ র্যাংকিংয়েও শীর্ষে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। টপকে গেছে নিউজিল্যান্ডকে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড নেমে গেছে সপ্তম স্থানে।
তবে সিরিজের এই সাফল্যের মাঝেই বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্ন ও পার্থ টেস্ট সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় সংস্থাটির আয় কমেছে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি।
এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ ভবিষ্যতে উইকেট প্রস্তুতির দিকে আরও সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দেন। গ্রিনবার্গ বলেছিলেন, ‘সংক্ষিপ্ত টেস্ট ব্যবসার জন্য ভালো নয়। এর চেয়ে স্পষ্ট করে বলার কিছু নেই। ব্যাট ও বলের মধ্যে আরও ভারসাম্য থাকা দরকার।’

ম্যাচ শুরুর আগে আকাশ থেকে অবিরত ঝরল বৃষ্টি। প্রায় তিন ঘণ্টা পিছিয়ে খেলা শুরুর পর যেন সেই আকাশ থেকে নামল ছক্কার বৃষ্টি। প্রকৃতির বাগড়ায় ১২ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে দুই দল মিলে ২৭ চারের সঙ্গে মারল ১৮টি ছক্কা। যেখানে শেষমেশ পাকিস্তানকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ল শ্রীলঙ্কা।
ডাম্বুলায় রোববার তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে ১৪ রানে হারায় শ্রীলঙ্কা। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ১২ ওভারে ১৬০ রানের বিশাল পুঁজি দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। জবাবে দারুণ ব্যাটিং করলেও ১৪৬ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান।
এই জয়ে প্রায় ১৪ বছরের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটাল শ্রীলঙ্কা। নিজেদের ঘরের মাঠে এর আগে সবশেষ ২০১২ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছিল তারা।
শ্রীলঙ্কার জয়ে ১-১ ব্যবধানে শেষ হলো সিরিজ। এর আগে প্রথম ম্যাচ জিতেছিল পাকিস্তান আর বৃষ্টিতে ভেসে যায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।
রান তাড়ায় দ্রুত দুই ওপেনারকে হারায় পাকিস্তান। তবে তিন নম্বরে নেমে তাণ্ডব চালান সালমান আলি আগা। ৫ চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা মেরে ৩৭৫ স্ট্রাইক রেটে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের হয়ে অন্তত ১০ বল বা অন্তত ৩০ রানের ইনিংসে এটি সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট।
সালমানের বিদায়ের পর মোহাম্মদ নাওয়াজ ১৫ বলে ২৮ ও অভিষিক্ত খাজা নাফে ১৫ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কঠিন সমীকরণ মেলাতে পারেনি সফরকারীরা।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৪ উইকেট নেন ভানিন্দু হাসারাঙ্গা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই পাথুম নিসাঙ্কার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে পরের ব্যাটারদের কেউই সময় নষ্ট করেননি। ক্রিজে গিয়েই সবাই খেলেছেন বড় শট। যার ফলে তরতরিয়ে বেড়েছে রান।
কামিল মিশারা ৮ বলে ২০ ও কুশল মেন্ডিস ১৬ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে শুরুটা করে দেন। এরপর ধনঞ্জয় ডি সিলভা ১৫ বলে ২২ ও চারিথ আসালাঙ্কা ১৩ বলে করেন ২১ রান।
ছয় নম্বরে নেমে ইনিংসের গতিই বদলে দেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। বিশাল ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ৯ বলে ৩৭৭.৭৭ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ৩৪ রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অন্তত ৩০ রানের ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের রেকর্ড।
শেষ দিকে ৩ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কার মারে ৮ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন জানিথ লিয়ানাগে। সব মিলিয়ে ১২ ওভারে শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা ১৪ চারের সঙ্গে মারেন ১০টি ছক্কা।
পাকিস্তানের পক্ষে ৩ উইকেট নিলেও ৩ ওভারে ৫৪ রান খরচ করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ১২ ওভারে ১৬০/৬ (নিসাঙ্কা ০, মিশারা ২০, মেন্ডিস ৩০, ধনঞ্জয় ২২, আসালাঙ্কা ২১, শানাকা ৩৪, লিয়ানাগে ২২*, হাসারাঙ্গা ১*; নাসিম ৩-০-৩৫-১, ওয়াসিম ৩-০-৫৪-৩, আবরার ২-০-২২-০, শাদাব ২-০-১৯-০, নাওয়াজ ১-০-৮-১, ফাহিম ১-০-১৯-১)
পাকিস্তান: ১২ ওভারে ১৪৬/৮ (সাহিবজাদা ৯, সাইম ৬, সালমান ৪৫, উসমান ১, নাওয়াজ ২৮, নাফে ২৬, শাদাব ৬, ফাহিম ৯, ওয়াসিম ৭*, নাসিম ১*; থিকশানা ২-০-২৭-০, মালিঙ্গা ২-০-২৭-১, পাথিরানা ৩-০-৩৬-২, হাসারাঙ্গা ৩-০-৩৫-৪, ধনঞ্জয় ২-০-২২-০)
ফল: শ্রীলঙ্কা ১৪ রানে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ

বিপিএলে মোহাম্মদ নবি নতুন নয়। বিপিএল 'টু' থেকে নিয়মিত। এবারের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে বিপিএলের ৯টি সংস্করনে খেলা হয়ে গেছে তার। তবে বিপিএলে ছেলে হাসান ঈসাখিলের অভিষেক হয়েছে রোববার, সিলেটে, ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে খেলার মধ্য দিয়ে।
টসে'র পর ১৯ বছর বয়সী ছেলে হাসান ঈসাখিলের মাথায় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ক্যাপটা যখন পরিয়ে দিলেন ৪১ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ নবি, তখন কে জানতো বাবা-ছেলে হবেন ব্যাটিং পার্টনার, দ্রুততম ফিফটি পার্টনারশিপে রাখবেন তাঁরা দুজন অবদান! বাবা-ছেলের পারফরমেন্সে জয় উদযাপন করবে তাদের দল নোয়াখালী এক্সপ্রেস, এটাও দেখলো সিলেটের দর্শক।
বিপিএলে অলরাউন্ড পারফরমেন্সের সুবাদে নেয়াখালী এক্সপ্রেসে সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ নবি-কে এদিন ছাড়িয়ে গেছে ছেলে হাসান ঈসাখিল।
১৩ মাস আগে নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) অভিষেকে ফিফটি (৫২ বলে ৬৫) উদযাপন করেছেন হাসান ঈসাখিল। সেই ইনিংস থেকে টনিক নিয়ে, বাবার পরিয়ে দেয়া ক্যাপের মর্যাদা দিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ। ৩৫ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ফিফটি উদযাপন করে বিপিএলে অভিষেকে নিজের ইনিংসটাকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করার সমূহ সম্ভাবনাও ছিল তাঁর। বাবার সঙ্গে ৪র্থ উইকেট জুটিতে ২৯ বলে ৫২ রানে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছেলে। ১৭তম ওভারে আফগান পেসার জিয়াউর রহমানকে যেভাবে লং অফের উপর দিয়ে পর পর ২টি ছক্কা মেরেছেন, তাতে হাসান ঈসাখিলের সেঞ্চুরির দিকেই তাকিয়ে ছিল দর্শক। তবে ১৮তম ওভারে আবদুল্লাহ আল মামুনের ফুলটসে থার্ডম্যানে নবি ক্যাচ দিলে (১৩ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৭) বাবার শোকে কাতর ঈসাখিল পরের ওভারে সাইফুদ্দিনের বলে স্ল্যশ করতে যেয়ে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন (৬০ বলে ৭ চার,৫ ছক্কায় ১৫৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৯২)।
বাবা-ছেলের ব্যাটিংয়ে নোয়াখালীর স্কোর উঠেছে ১৮৪/৪। যে স্কোরে ঈসাখিলের ওপেনিং পার্টনার সৌম্য সরকারের ২৫ বলে ৭ চার, ১ ছক্বায় ৪৮, ওপেনিং পার্টনারশিপে ৫৬ বলে ১০১ রানও উল্লেখ করার মতো।
বাংলাদেশের মাটিতে অফ স্পিনে ভেল্কি দেখাতে পারদর্শী মোহাম্মদ নবির বোলিংটাও (৪-০-২৩-২) ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ৪১ রানের জয়ে রেখেছে বিশেষ অবদান। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১২টি দিয়েছেন ডট। ম্যাচে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ঢাকা ক্যাপিটালস অধিনায়ক মিঠুনকে (৩১ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩) শর্ট মিড অফ পজিশনে নবি যে রিটার্ন ক্যাচটি নিয়েছেন, তা সত্যিই অসাধারন। শামীম পাটোয়ারীর ব্যাটটা যখন চওড়া হতে শুরু করেছে (১৬ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ২৯) তখন তাকে লং অফে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন নবি।
এমন এক ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১৪৩ রানে অল আউটে পার্শ্ব চরিত্র ছিলেন পেস বোলার হাসান মাহমুদ (৩.২-০-২১-২) এবং মেহেদী হাসান রানা ( ৪-০-২৫-২)।
যে দলটি টানা ৬ ম্যাচ হারের বৃত্তে ছিল, সেই নোয়াখালী উপযুপরি দ্বিতীয় জয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানী থেকে উপরে ওঠার ভরসা পাচ্ছে।