
নূরিস্তানি ওমরজাইয়ের বড় পরিচয় তিনি আফগানিস্তানের একজন মিডিয়াম ফার্স্ট বোলার। যে গুণ তাঁকে আলোচনায় এনেছে, তা হলো নিঁখুত লাইন লেন্থে বোলিংয়ের দক্ষতা। স্ট্যাম্প টু স্ট্যাম্প বল করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে উইকেটশিকারিদের তালিকায় শীর্ষে এখন ওমরজাই।
যুবা বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপে আফগানিস্তান। দুই ম্যাচে দুই জয় তোলা আফগানরা গ্রুপের শীর্ষে। বুধবারের ম্যাচে তারা তানজানিয়াকে ৮৫ রানে থামিয়ে দিয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উইকেট না হারিয়ে ২৫ রান সংগ্রহ করেছে আফগানিস্তান। বলা চলে জয়ের পথেই দলটি।
এদিন ওমরজাই একে একে পাঁচটি উইকেট তুলে নেন তানজানিয়ার। ৭ ওভার বোলিং করেন তিনি। ১.২৮ ইকোনমি রেটে খরচ করেন মাত্র ৯ রান। ছিল দুটি মেডেন ওভার। দলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ইকোনমি রেট ওমরজাইয়ের।
বিশ্বকাপে এর আগে দুই ম্যাচের একটি ১৬ রান খরচায় ৪ উইকেট এবং অন্যটিতে ৫১ রান খরচায় ১ উইকেট নেন ওমরজাই।
টুর্নামেন্টে ওমরজাইয়ের উইকেট ১০টি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের হেনিল প্যাটেল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভাইটেল লুইস। দুজনের ৬টি করে উইকেট। যদিও তাঁরা ওমরজাই থেকে একটি ম্যাচ কম খেলেছেন।
No posts available.
২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:২১ পিএম

ইংল্যান্ডের তিন ক্রিকেটার ভার্সেস নিউ জিল্যান্ডের দুই ক্রিকেটার, দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে এই লড়াইটাই দেখতে চেয়েছিলেন দর্শকরা। তবে ইংল্যান্ডের ক্রিস ওকস-সাম বিলিংস-মঈন আলীর সঙ্গে নিউ জিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামস-জেমি নিশামের লড়াই ছাড়িয়ে হিরো শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্ডো। তাঁর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের (৪-০-১৯-৪) দুটি স্পেল (২-০-৩-২ এবং ২-০-১৭-২ ) গড়ে দিয়েছে কোয়ালিফাইয়ার টু'র ব্যবধান। ১২ রানে জিতে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে রাজশাহী ওরিয়র্স।
ফাইনালে রাজশাহী ওরিয়র্স উঠলে দেখা যাবে কিউই লিজেন্ডারি কেন উইলিয়ামসনকে, এমনটাই গণমাধ্যমকে জানিয়েছে এই ফ্রাঞ্চাইজি। তবে প্রথম কোয়ালিফাইয়ারে চট্টগ্রাম রয়্যালসের কাছে হারের খবর পেয়ে ২ দিন আগে যুক্ত হয়েছেন রাজশাহী ওরিয়র্সের টেন্টে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ঢাকায় নেমেছেন সকালে। হালকা বিশ্রামে ফুরফুরে হয়ে চলমান বিপিএলের সবচেয়ে বড় তারকা নেমেছেন রাজশাহী ওরিয়র্সের হয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে। পেশাদার ক্রিকেটার বলেই ভ্রমন ক্লান্তি তার চোখে-মুখে ফুটে ওঠেনি। রাজশাহী ওরিয়র্সের চ্যালেঞ্জিং স্কোরে (১৬৫/৯) রেখেছেন অবদান এই কিউই সুপারস্টার। ৩৮ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ৪৫ রানের হার না মানা ইনিংস শুধু উপহার দেননি, ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে স্বদেশী জেমি নিশামকে নিয়ে ৫০ বলে ৭৭ রানে দিয়েছেন নেতৃত্ব।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ওরিয়র্স ব্যাটিং পাওয়ার প্লে এবং শেষ পাওয়ার প্লে-কে লাগিয়েছে কাজে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে'র প্রথম ৬ ওভারে শাহিবজাদা ফারহান-তানজিদ হাসান তামিমের চওড়া ব্যাটে রাজশাহীর স্কোর ৬১/১। শেষ পাওয়ার প্লে-র ৩০ বলে সেখানে ৫ উইকেট হারিয়ে ৪৯ যোগ করেছে রাজশাহী।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে খালিদের উপর চড়াও হয়ে ১ ছক্কা, ২ বাউন্ডারি মেরেছেন শাহিবজাদা ফারহান। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারে অফ স্পিনার মঈন আলীকে ৩টি ছক্কা মেরেছেন তানজিদ হাসান তামিম। সালমান ইরশাদের বলে অফ সাইডে খেলতে যেয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছেন শাহিবজাদা ফারহান (২১ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ২৬)। বাঁ হাতি স্পিনার নাসুমের সেকেন্ড স্পেলে লফটেড শট নিতে যেয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম (১৫ বলে ১ চার, ৪ ছক্কায় ৩২)। ইনিংসের মাঝপথে রানের জন্য ধুঁকেছে রাজশাহী ওরিয়র্স। ৭ম থেকে ১৫, এই ৯ ওভারে ৫৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছে রাজশাহী। দুই এন্ডে অফ স্পিনার মিরাজ, বাঁ হাতি স্পিনার নাসুমকে স্বাচ্ছন্দে খেলতে পারেনি রাজশাহীর মিডল অর্ডাররা। নাসুমের দ্বিতীয় স্পেলটি (৩-০-১২-২) ছিল প্রশংসিত। টানা ৪ ওভারের এক স্পেলে (৪-০-২৩-২) পর পর ২টি ডেলিভারিতে শান্তকে বোল্ড (১০ বলে ৭) এবং মুশফিকুর রহিমকে রিটার্ন ক্যাচে (১ বলে ০) ফিরিয়ে দিয়ে রাজশাহীর বড় স্কোরের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন মিরাজ। ইনিংসের শেষ দিকে মিডিয়াম পেসার সালমান ইরশাদের শেষ স্পেলটি (১-০-৭-২)ও রাজশাহীর প্রত্যাশিত স্কোরের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯তম ওভারে ওকসকে ডিপ কভারের উপর দিয়ে ছক্কা মারতে যেয়ে ক্যাচ দিয়ে অবধারিত ফিফটি হাতছাড়া করেছেন জেমি নিশাম (২৬ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৪৪)।
ওভারপ্রতি ৮.২৫ রানের চ্যালেঞ্জে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ব্যাকফুটে ছিল সিলেট টাইটান্স। শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্ডোর প্রথম স্পেলে (২-০-৩-২) জাকির (৩ বলে ০) এবং আরিফুল (৬ বলে ০) ফিরে গেলে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে স্কোরটা দাঁড়ায় ৩৭/২। সেখান থেকে পারভেজ হোসেন ইমন-সাম বিলিংসের ৪৭ বলে ৬৯ রানে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সিলেট টাইটান্স।
তানজিদ হাসান সাকিবের বলে ২ রানের কল সাম বিলিংস দিয়ে বিপদ ডেকে আনেন। রান আউটে কাটা পড়ে ফিফটি হাতছাড়া করেন পারভেজ হোসেন ইমন (৩৪ বলে ৫ চার, ২ ছক্কায় ৪৮)। পর পর দুই ওভারে অফ স্পিনার রুবেলের বলে মঈন আলি বোল্ড আউটে (৪ বলে ৭) এবং মিডিয়াম পেসার আবদুল গাফফার সাকলায়েনের বলে সুইপ করতে যেয়ে ডি মিড উইকেটে সাম বিলিংস ক্যাচ দিলে (২৮ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৩৭) শেষ পাওয়ার প্লে'র ৩০ বলে ৪৭ রানের টার্গেটের সামনে দাঁড়ায় সিলেট টাইটান্স। এখান থেকে শেষ পাওয়ার প্লে-তে তানজিম হাসান সাকিবের ফুলটসে আফিফ (১২ বলে ২ চার, ১ ছক্কায় ২১) ফিরে গেলে ব্যাটনটা ঠিকমতো হাতের মুঠোয় নিতে পারেনি মিরাজ-খালেদ কিংবা ওকস। ১৮তম ওভারে বিনুরা ফার্নান্ডোর প্রথম বলে পয়েন্টে মিরাজ ক্যাচ (১৩ বলে ৯), ২ বল পর ডিপ মিড উইকেটে খালেদ (২ বলে ৪) ফিরে গেলে ওকসের পক্ষে চ্যালেঞ্জটা কঠিন হয়ে যায়। শেষ ওভারে ২৪ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে পারেননি ওকস ( ১০ বলে ১৫)।

ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন জিমি নিশাম। তাকে দারুণ সঙ্গ দিলেন বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা কেন উইলিয়ামসন। আর বল হাতে একাই প্রতিপক্ষকে নাচিয়ে ছাড়লেন বিনুরা ফার্নান্দো। তিন বিদেশির হাত ধরে বিপিএলের ফাইনালে উঠে গেল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সিলেট টাইটান্সকে ১২ রানে হারায় নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল। ১৬৬ রানের লক্ষ্যে ৮ উইকেটে ১৫৩ রানের বেশি করতে পারেনি আগের দিন অবিশ্বাস্য জয় পাওয়া সিলেট।
একই মাঠে শুক্রবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মুখোমুখি হবে রাজশাহী। বিপিএলে ২০১৬ ও ২০২০ সালের পর আবার ফাইনালে উঠল রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজি।
রান তাড়ায় সিলেটের শুরুটা ছিল যাচ্ছেতাই। রানের খাতা খোলার আগেই বিনুরা ফার্নান্দোর বলে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান জাকির হাসান ও আরিফুল ইসলাম। মাত্র ৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সিলেট।
শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়েন পারভেজ হোসেন ইমন ও স্যাম বিলিংস। ৫ চারের সঙ্গে ২ ছক্কায় ৩৪ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলেন ইমন। দূর্ভাগ্যজনক রানআউটে বিদায়ঘণ্টা বাজে তার।
পরে কিছু করতে পারেননি মইন আলি। আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বলে ক্যাচ আউট হয়ে যান ৩৭ রান করা বিলিংস। ২৮ বলের ইনিংসে ৩ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা মারেন ইংলিশ ব্যাটার।
ছয় নম্বরে নেমে আফিফ হোসেন ধ্রুব চেষ্টা করেন। কিন্তু তানজিম হাসান সাকিবের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হন ১২ বলে ২১ রান করা বাঁহাতি ব্যাটার। ৯ রান করতে ১৩ বল খেলে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাতে চাপ বেড়ে যায় দলের ওপর।
এরপর এই ম্যাচে আর একা দলকে পার করতে পারেননি ওকস। শেষ ওভারে ২৬ রানের সমীকরণে একটির বেশি ছক্কা মারতে পারেননি ইংলিশ অলরাউন্ডার।
রাজশাহীর পক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন বিনুরা। সাকলাইন ১৯ রানে নেন ১ উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো শুরু করেন রাজশাহীর দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম। পাওয়ার প্লেতে রাজশাহী করে ফেলে ১ উইকেটে ৬১ রান।
পঞ্চম ওভারে আউট হন ২১ বলে ২৬ রান করা সাহিবজাদা। আর পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর একই পথ ধরেন ১৫ বলে ৩২ রান করা বাঁহাতি ওপেনার। মইন আলির এক ওভারেই ৩টি ছক্কা মারেন তিনি।
এরপর দুই ওভারের মধ্যে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, এসএম মেহেরব হাসান ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় রাজশাহী। পরপর দুই ম্যাচে 'গোল্ডেন ডাক' নিয়ে আউট হন মুশফিক।
সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নেন এই ম্যাচ দিয়েই বিপিএল অভিষেক হওয়া কেন উইলিয়ামসন ও জিমি নিশাম। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৫০ বলে ৭৭ রানের জুটি। ১৯তম ওভারে ফেরেন ৪৪ রান করা নিশাম। ২৬ বলের ইনিংসে ৪ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মারেন বাঁহাতি ব্যাটার।
শেষ পর্যন্ত আর আউট হননি উইলিয়ামসন। ১ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মারেন নিউ জিল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটার।
সিলেটের পক্ষে ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন সালমান ইরশাদ। সমান রান খরচ করে মেহেদী হাসান মিরাজও ধরেন ২ শিকার। নাসুম আহমেদ ২ উইকেটের জন্য দেন ২০ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৬৫/৯ (সাহিবজাদা ২৬, তামিম ৩২, উইলিয়ামসন ৪৫*, শান্ত ৭, মুশফিক ০, মেহেরব ০, নিশাম ৪৪, সাকলাইন ১, সাকিব ৫, রুবেল ১; ওকস ৪-০-৩৮-১, খালেদ ৩-০-৪১-০, নাসুম ৪-০-২০-২, সালমান ৪-০-২৩-৩, মইন ১-০-১৮-০, মিরাজ ৪-০-২৩-২)
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৫৩/৮ (ইমন ৪৮, জাকির ০, আরিফুল ০, বিলিংস ৩৭, মইন ৭, আফিফ ২১, মিরাজ ৯, ওকস ১৫* খালেদ ৪, নাসুম ৬*; বিনুরা ৪-০-১৯-৪, সাকিব ৪-০-৩৩-১, রুবেল ৩-০-৩৩-১, সাকলাইন ৪-০-১৯-১, মেহেরব ১-০-১৫-০, নিশাম ৪-০-৩২-০)
ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ১২ রানে জয়ী

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে বারবার বিশ্বকাপ ভেন্যু বদলানোর কথা বলেছে বাংলাদেশ।
সামনের মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বোর্ড সভা করে আইসিসি। যেখানে সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতের মাঠেই হবে। কারণ বাংলাদেশ দলের ভারতে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই।
সিদ্ধান্ত জানানো আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে উল্লেখ করেন আইসিসির এক মুখপাত্র। বাংলাদেশের ম্যাচ সব ভারতে রাখার পেছনে কারণ ব্যাখ্যা করে ওই মুখপাত্রের পুরো বক্তব্য নিচে দেওয়া হলোঃ
“গত কয়েক সপ্তাহে বিসিবির সঙ্গে ধারাবাহিক ও গঠনমূলক আলাপ করেছে আইসিসি। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এই সময়ে আইসিসির পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ভেন্যুভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও আয়োজক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তাসহ বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছে। এসব মূল্যায়নে সর্বসম্মতভাবে বলা হয়েছে, ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য হুমকি নেই।”
“এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিসিবি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। বারবার একজন ক্রিকেটারের একটি ঘরোয়া লিগে (আইপিএল) অংশগ্রহণ সংক্রান্ত একক, বিচ্ছিন্ন ও সম্পর্কহীন ঘটনার সঙ্গে (বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি) যুক্ত করেছে। টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা কাঠামো বা আইসিসি মেনস টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের শর্তাবলির সঙ্গে এই বিষয়টির কোনো সম্পর্ক নেই।”
“আইসিসির ভেন্যু ও সূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নিরপেক্ষ হুমকি মূল্যায়ন, আয়োজক দেশের নিশ্চয়তা এবং টুর্নামেন্টের সম্মত অংশগ্রহণ শর্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। যা অংশগ্রহণকারী সব দেশের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করে- এমন কোনো স্বতন্ত্র নিরাপত্তা প্রতিবেদন না থাকায় আইসিসি ম্যাচ স্থানান্তর করতে অক্ষম।”
“এমনটি করলে অন্যান্য দল ও বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক ও সূচিগত জটিলতা তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে এমন নজির সৃষ্টি হবে যা আইসিসির নিরপেক্ষতা, ন্যায্যতা ও শাসনব্যবস্থার অখণ্ডতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। আইসিসি সদিচ্ছার ভিত্তিতে কাজ করতে, অভিন্ন মান বজায় রাখতে এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
গত ৩ জানুয়ারি ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামনের আইপিএলে খেলতে পারবেন না মোস্তাফিজুর রহমান। তাই ৯ কোটি ২০ কোটি রুপিতে নিলামে কিনে নিলেও, বাঁহাতি কাটার মাস্টারকে বাদ দিয়ে দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স।
এই ঘটনার জের ধরে গত ৪ জানুয়ারি, বিসিবির পক্ষে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে সামনের মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। প্রায় আড়াই সপ্তাহ পর এবার সেই দাবি না মানার ঘোষণা দিল আইসিসি। একইসঙ্গে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াকে এই প্রসঙ্গে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলল তারা।

বার্সেলোনার ২০২৫-২৬ উইয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের যাত্রা অম্ল-মধুর। ছয় ম্যাচে তিন জয়ে কাতালানদের অবস্থান ১৫তম। রাউন্ড অব সিক্সটিনে অবস্থান পোক্তের ইঁদুর-বিড়াল দৌড়ে হান্সি ফ্লিকদের হাতে অবশিষ্ট দুটি ম্যাচ।
বার্সেলোনার শীর্ষ আটে থেকে শেষ ষোলোতে প্রবেশ, নাকি ৯ থেকে ২৪ এর মধ্য থেকে প্রতিযোগীতায় টিকে থাকা—এর উত্তর মিলবে আগামী দুই ম্যাচ শেষে। যার প্রথমটি (বার্সার সপ্তম ম্যাচ) আজ। প্রতিপক্ষ স্লাভিয়া প্রাহা। চেক রিপাবলিকের এই ক্লাব এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগে কোনো ম্যাচ জেতেনি।
প্রাহার মাঠ ফরচুনা এরিনাতে বাংলাদেশ সময় রাত দুইটা শুরু হওয়া ম্যাচের আগে লিগে ৬ ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে এবং তিনটিতে হেরেছে স্বাগতিকরা। সমান ম্যাচ খেলে তিনটিতে জিতেছে ন্যু ক্যাম্পের ক্লাব। হেরেছে দুইটি এবং ড্র করেছে একটি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে অবস্থা খারাপ হলেও নিজেদের সবশেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে প্রাহা। সবশেষ নরওয়ের ক্লাব বার্নের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে তারা। আর বার্সেলোনা টানা জয়ের পর লা লিগায় নিজেদের সবশেষ ম্যাচ রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে।
দুদলের মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য এগিয়ে বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাব দুপক্ষের প্রথম ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল। ২০১৯ সালে সবশেষ ম্যাচটি অবশ্য ড্র হয়েছিল। তৃতীয় দেখায় কি হয় সেটাই দেখার বিষয়।
প্রাহার বিপক্ষে বার্সার হয়ে দেখা যাবে রাফিনিয়াকে। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখানো ব্রাজিল তারকা চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন। এ ম্যাচে থাকছেন না ফেরান তরেস। নিষেধাজ্ঞার জন্য নেই লামিনে ইয়ামাল। চোটের জন্য লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে যাওয়া গাভি ও আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন নেই স্বাভাবিকভাবেই।
প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দূর্বল হলেও ফ্লিক মনে করেন চ্যাম্পিয়নস লিগ সবসময়ই প্রেসারের। ম্যাচ শুরুর আগে কাতালান কোচ বলেন,
‘প্রাহার ডিফেন্ড খুবই ভালো। তাদের প্রেসগুলো দুর্দান্ত। তবে আমাদের শেষ দুই ম্যাচ জিততেই হবে। সবকিছু ভেবেই আমরা সেখানে যাব। আর চ্যাম্পিয়নস লিগ এমই, এখানে সব সময় প্রেসার।’
বার্সার মতো চ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি হতে পেরে যার পর নাই আনন্দিত প্রাহার কোচ জিন্দরিখ ত্রপিশোভস্কি।
কাতালানদের আতিথ্য দেওয়াটা দারুণ অভিজ্ঞতার বলেন তিনি,
‘আমার জন্য বার্সেলোনার সঙ্গে খেলা একদম অসাধারণ অভিজ্ঞতা। যদি কেউ আমাকে ১৮–১৯ বছর বয়সে বলতো যে, আমি তাদের সঙ্গে মুখোমুখি হবো, আমি সেটা অসম্ভব মনে করতাম। এটা আমার কাছে সত্যিই বড় আনন্দের বিষয়। কারণ বার্সেলোনা দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের সেরা দল এবং সেরা খেলোয়াড় ও কোচদের নিয়ে খেলে। তারা আসলে বিশ্ব ফুটবলের প্রতীক।’

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল আইসিসি। সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সব ম্যাচ ভারতের মাঠেই হবে। আগে ঘোষিত সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা।
বুধবার দুপুরের পর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করা আইসিসি বোর্ড সভার পর নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত।বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সভায় থাকা সদস্য দেশগুলোর বেশিরভাগ বাংলাদেশের বিপক্ষে অর্থাৎ ভেন্যু না বদলানোর পক্ষেই ভোট দিয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার জেরে গত ৪ জানুয়ারি প্রথমবার ভারতের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে যেত অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এরপর নানান সময়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কথাও স্পষ্ট করে বলে তারা।
তবে বুধবারের আইসিসি সভায় বাংলাদেশের দাবি টিকল না। আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে, বাংলাদেশের সব খেলা ভারতেই রাখার কথা জানিয়ে দিয়েছে আইসিসি। এই সভায় বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানোয নিয়ে করণীয় বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব ধরনের মূল্যায়ন ও স্বতন্ত্র পর্যালোচনা করার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব মূল্যায়নে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতে টুর্নামেন্টের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, গণমাধ্যমকর্মী, কর্মকর্তা, সমর্থকদের জন্য কোনো হুমকি নেই।
সভার পর আইসিসি বোর্ড জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর এতটা কাছাকাছি সময়ে এসে সূচি পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত নয়। কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকা সত্ত্বেও এমন পরিবর্তন ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টগুলোর জন্য একটি নজির স্থাপন করতে পারে।