
প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে অবস্থান ছিল সবার নিচে, জয় ছিল মাত্র একটি। সেখান থেকে দ্বিতীয় চক্রে উন্নতি করে বাংলাদেশ জয় পায় চারটি। তবে সামগ্রিক পারফরম্যান্সের চিত্রটা খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নতুন চক্রের প্রথম সিরিজের আগে অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসী সুর নাজমুল হোসেন শান্তর। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, জয় দিয়ে সফর শুরু করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তানে গিয়ে দলটির বিপক্ষে ২-০ তে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে এরপর পরপর দুটি সিরিজে সব ম্যাচেই হেরে যায় ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে ধরা দেয় একটি জয়। এরপর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে জিম্বাবুয়ের সাথে ঘরের মাটিতে দুই ম্যাচের সিরিজে ড্র করে বাংলাদেশ। ফলে সাম্প্রতিক ফর্ম শ্রীলঙ্কা সিরিজে খুব একটা আশা জাগানোর মত নয়।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে শান্ত অবশ্য যথারীতি থাকলেন ইতিবাচকই।
“এই সিরিজের শুরুটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দিক থেকে এটা বড় সুযোগ। আমরা বাংলাদেশে ভালো অনুশীলন করেছি, প্রস্তুতিও ভালো ছিল। আশা করি, প্রতিযোগিতার শুরুটা আমরা ভালোভাবেই করতে পারব। অবশ্যই আমরা জিততে চাই। প্রতিপক্ষের সঙ্গে জেতাই মূল লক্ষ্য। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলে আমরা কিভাবে মাঠের ক্রিকেটে আমাদের খেলাটা খেলব বা প্রয়োগ করব আমাদের পরিকল্পনাগুলো। কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি আমাদের কাজগুলো করতে পারি ঠিকঠাকভাবে তাহলে এখান থেকে ভালো ফলাফল নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
শান্ত আশার কথা শোনালেও জিম্বাবুয়ের সাথে চেনা কন্ডিশনে যেভাবে একটি টেস্টে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ, তা ছিল বিস্ময়করই। কারণ, তাদের প্রতিপক্ষ দল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেই খেলছে না। সাথে দলগতভাবে পিছিয়ে থাকার বিষয় তো ছিলই। সেই দলের সাথে প্রায় পূর্ণশক্তির দল নিয়ে পরাজয় বড় এক ধাক্কাই ছিল শান্তদের জন্য। পরের ম্যাচ জিতে অবশ্য সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশ।
হারের তেতো অভিজ্ঞতা ভুলে জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকে শান্তর কাছে ইতিবাচক প্রাপ্তি ওই ঘুরে দাঁড়ানো জয়ই।
“অতীতে আমরা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে কি সিরিজ খেলেছি তা নিয়ে খুব বেশি আগানো ঠিক হবে না। যদি শেষ ম্যাচের কথা বলেন ভালো স্মৃতি। আগের ম্যাচটা আমরা হেরেছিলাম। পরের ম্যাচটা আমরা যেভাবে কাম ব্যাক করেছিল ঐটাই দলকে মোটিভেটেড করবে।”
এই সিরিজে শান্তর ব্যাটিং পজিশন নিয়ে এখনও রয়ে গেছে ধোঁয়াশা। স্কোয়াডে মাত্র দুজন স্পেশালিষ্ট ওপেনার থাকায় তার ওপেন করার রয়েছে জোর সম্ভাবনা। এই পজিশনে যদিও তার রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। বরং তিন বা চারেই দেখা পেয়েছেন সেরা সব সাফল্যের। তবে লিটন দাসের দলে ফেরার কারণে শান্তকে ওপেনিংয়ে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনাই রয়েছে।
তবে ম্যাচের আগের দিন সেটা খোলাসা করতে চাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক।
“আমার ব্যাটিং পজিশন কোথায় হবে, সেটা এখন বলা যাবে না, কারণ আমি চাই না প্রতিপক্ষ আগে থেকে কোনো ধারণা পেয়ে যাক। কাল আমরা কী কম্বিনেশন নিয়ে খেলতে নামব, সেটার ওপর নির্ভর করে একাদশ সাজানো হবে। এখনও মিরাজের হালকা ঘাম হচ্ছে, তবে ওর উন্নতি হচ্ছে। সব কিছু ওর ফিটনেসের উপর নির্ভর করছে। যদি সে খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে, তাহলে আমরা আরও ভালো একটি কম্বিনেশন নামাতে পারব।”
শ্রীলঙ্কার মাটিতে শান্ত খেলেছিলেন তার ক্যারিয়ার সেরা ১৬৩ রানের ইনিংস। এবারও কি তেমন কিছু সম্ভব? বাঁহাতি এই ব্যাটার চোখ রাখছেন বড় স্কোরের দিকেই।
“আমার ভালো স্মৃতি আছে ক্যান্ডিতে। কিন্তু এখন আমি গলে খেলার সুযোগটা নিতে চাই। এটা আমার জন্য দারুণ সুযোগ। এখানে স্পিন বোলিংই বেশি চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য। আমরা যা শুনেছি বা দেখেছিলাম এখানে আসার আগে। কিন্তু গলে প্রথম দুই দিনে ব্যাটারদের রানটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সেই দুই তিনদিনের দিকেই নজর রাখতে চাই। বড় রান করতে চাই। আমি আশা করি আমরা সেটা করতে পারব।”
No posts available.
১৬ মার্চ ২০২৬, ৬:৩২ পিএম
১৬ মার্চ ২০২৬, ৪:৩০ পিএম
১৬ মার্চ ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
১৬ মার্চ ২০২৬, ৪:০০ পিএম
১৬ মার্চ ২০২৬, ২:৫১ পিএম

আগামী মাসে তিন ম্যাচের
ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের
টি–টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)
এই সফরের সূচি প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের মাটিতে এই প্রথম ওয়ানডে
ও টি-টুয়েন্টি সিরিজ
খেলবে শ্রীলঙ্কা নারী দল।
আগামী ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশে
পৌঁছাবে শ্রীলঙ্কা দল। একইদিন রাজশাহীতে চলে যাবে তারা।
১৮ ও ১৯ এপ্রিল
অনুশীলনের পর ২০ এপ্রিল
রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের বিপক্ষে
প্রথম ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে
সিরিজের বাকি দুটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ২২ ও ২৫ এপ্রিল। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে সকাল
সাড়ে ৯টায়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডের মাঝের দুই দিন অনুশীলন করবে সফরকারীরা।
ওয়ানডে সিরিজ শেষে ২৬ এপ্রিল
সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেবে শ্রীলঙ্কা
দল। মাঝে একদিন অনুশীলনের পর ২৮ এপ্রিল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের
মুখোমুখি হবে তারা। সিরিজের
বাকি দুটি ম্যাচ হবে
৩০ এপ্রিল ও ২ মে,
একই ভেন্যুতে। টি–টোয়েন্টি সিরিজের
সব ম্যাচই শুরু হবে সন্ধ্যা
৬টায়। সিরিজ শেষ করে ৩
মে দেশে ফিরবে শ্রীলঙ্কা
নারী দল।
এর আগে সবশেষ ২০১১
সালে নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
খেলতে বাংলাদেশে এসে ওয়ানডে খেলেছিল
শ্রীলঙ্কা নারী দল। তারও
আগে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ,
পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে
আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিয়েছিল লঙ্কানরা।
সেই সিরিজের শিরোপাও জিতেছিল শ্রীলঙ্কার মেয়েরা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডের লড়াই শেষ হতেই নতুন সিরিজের সূচি জানিয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী মাসে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কিউইদের বাংলাদেশ সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে বিসিবি। ঢাকার মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে সবগুলো ম্যাচ।
সবশেষ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়ানডে ও ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল নিউ জিল্যান্ড। এবার একসঙ্গে দুই সিরিজ খেলতে ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে তারা।
ঢাকায় তিন দিন অনুশীলনের পর মিরপুরে ১৭ এপ্রিল শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজের খেলা। একই মাঠে ২০ এপ্রিল হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ। পরে চট্টগ্রামে চলে যাবে দুই দল। সেখানে ২৩ এপ্রিল মাঠে গড়াবে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।
ওয়ানডে সিরিজের সবগুলো ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ২টায়। আগামী বছরের বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
পরে চট্টগ্রামে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ। সেখান থেকে আবার ঢাকায় ফিরে ২ মে হবে শেষ টি-টোয়েন্টি। এই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৬টায়। আর শেষটি মাঠে গড়াবে দুপুর ২টায়।

বাংলাদেশের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর পাকিস্তান দলের ওপর যারপরনাই বিরক্ত দলটির সাবেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদ। তার মতে, পাকিস্তানকে বারবার ভালোবাসি বলে বলে হারিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। শেহজাদ বলেছেন, কোনো কিছু থেকেই যেন শিক্ষা নিচ্ছে না পাকিস্তান।
২০২৪ সালের আগস্টে পাকিস্তান সফরে খেলতে গিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতে ফিরেছিল বাংলাদেশ। পরে গত বছর ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা।
ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবার সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজেও পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন সংস্করণের সবশেষ সিরিজেই জয়ী দলের নাম এখন বাংলাদেশ। আর এটিই যেন মানতে পারছেন না শেহজাদ।
রোববার সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে পাকিস্তানের ১১ রানের পরাজয়ের পর বানানো ভিডিওতে নিজের রাগ-ক্ষোভ ঝারেন দেশটির সাবেক ওপেনার।
“ক্রিকেটে এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো সহজেই বিশ্বাস করা যায়, আবার কিছু বিষয় আছে যেগুলো একজন ক্রিকেটার হিসেবেও বিশ্বাস করা কঠিন। এমনও দিন এসেছে বাংলাদেশ এখানে (পাকিস্তান) এসে টেস্ট সিরিজ হারিয়ে দিয়েছে। তখনও তারা খুব ভালোবাসা দেখিয়ে, ‘ভালোবাসি’ বলে, খেলাটা আমাদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে জয় নিয়ে চলে গেছে। এরপর আমাদের বেশ অপমানও সহ্য করতে হয়েছে।”
ওই সিরিজ হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিল দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু এগুলোর কিছুই কার্যকর হয়নি বললেন শেহজাদ। তাই তো আরেকবার ভালোবাসি শুনে শুনে বাংলাদেশের কাছে হারতে হয়েছে মনে করেন তিনি।
“তারপর বড় হইচই শুরু হলো। এবার নাকি আর এমন কিছু হবে না, পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাগ্য নাকি বদলে যাবে, বড় বড় সংস্কার হবে। পাঁচজন মেন্টর আনা হলো, তিন স্তরের নতুন কাঠামো বানানো হলো- দেখা যাবে এবার কী হয়। কিন্তু কী হলো? শুধু সময়ই কেটে গেল। একটি করুণ বিশ্বকাপ অভিযানের পরও কোনো বাস্তব পরিবর্তন দেখা গেল না।”
“অদ্ভুতভাবে কিছু তরুণ খেলোয়াড়কে দলে নিয়ে একটি অদ্ভুত কম্বিনেশন বানিয়ে এবার বাংলাদেশে পাঠানো হলো। তারা আবারও ‘ভালোবাসা’ দেখিয়ে, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলে আমাদের হারিয়ে দিয়ে চলে গেল। আমরা বসে বসে বলছি, ‘স্যার, ওরা তো তরুণ খেলোয়াড়… ওরা তো তরুণ’, “ভালো হয়েছে, ভালো হয়েছে।”
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে দুই দল পেয়েছিল একটি করে জয়। তাই শেষ ম্যাচটি ছিল অলিখিত ফাইনাল। যেখানে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ পায় ২৯০ রানের পুঁজি।
এর জবাবে সালমান আলি আগা সেঞ্চুরির পরও ২৭৯ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান। ম্যাচ শেষে তাই টসের সিদ্ধান্তকেই কাঠগড়ায় তুললেন শেহজাদ।
“আমাকে বলুন তো, আজ টস জিতে ফ্লাডলাইটের নিচে বোলিং করলেন না কেন? যখন আপনার পুরো ব্যাটিং লাইনআপ নতুন ও অনভিজ্ঞ ছিল, তখন তো আপনার বোলিং ছিল অভিজ্ঞ। সেটাকে ব্যবহার করে ডিফেন্ড করতে গেলেন না কেন? ফলাফল- ২৯০ রান খেয়ে বসে আছেন।
“এভাবে কী হয়? পৃথিবীর সব দল নিজেদের শক্তির জায়গা ব্যবহার করেই ম্যাচ জেতে। আর আপনারা কী করলেন? সব দায়িত্ব বাচ্চাদের ওপর চাপিয়ে দিলেন। টস জিতেই চুপচাপ বললেন- ‘হেডস, হেডস… খুব ভালো, আমরা আগে বোলিং করব।’ কেন?”
এসময় দল বাছাই প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেহজাদ।
“দলের ভেতরে যখন সিনিয়র খেলোয়াড়রাই এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তরুণরা কী করবে? গাজি ঘড়ি তো নিজে এসে বলেনি, “আমাকে দলে নিন।” বেচারা তো লিগে খেলে যাচ্ছে। সে এখনও পুরোপুরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত নয়, তবু তাকে দলে ঢুকিয়ে দিলেন।”
“হাসিবউল্লাহকে নিচ্ছেন, কিন্তু রোহেল নাজিরকে নিচ্ছেন না- যে আগে থেকেই লাইনে ছিল। কেন এই তরুণদের এত দ্রুত সামনে এনে এক্সপোজ করছেন? এরপর আবার ছয়-আটটা টুইট করিয়ে দেবেন, “বড় ভালো দল বাছাই হয়েছে।”
“আল্লাহর দোহাই লাগে... আপনারা আসলে কী করছেন? এত ম্যাচ খেলার পরও একই পক্ষপাতিত্ব। নিজের লোককে ঢুকিয়ে দাও- এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন।”

শেষ ওভার পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছিল না ম্যাচের ফল কার পক্ষে যাবে। রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত ঘূর্ণি জাদু বদলে দিয়েছে গতিপথ। ১১ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে অসাধারণ জয় পেল বাংলাদেশ দল। ২-১ ব্যবধানে সিরিজও নিজেদের করে নিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
সমর্থক থেকে রাজনৈতিক নেতারাও প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন ক্রিকেটারদের অর্জনে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও বাংলাদেশ দলকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে শুভেচ্ছা বার্তায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
‘গতকাল ১৫ মার্চ রোববার ঢাকার মিরপুর স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আমি এবং আমার দল ও দেশবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় দলগত পারফরম্যান্সের সুফল। জাতির জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি,
‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫ মার্চ এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বাংলাদেশের সাহসী ও মেধাবী ক্রিকেটাররা অসাধারণ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং দলগত ঐক্যের পরিচয় দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১১ রানের জয় এবং সিরিজ নিশ্চিত করা জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।’
এই সিরিজ জয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। এই ধারাবাহিকতা সামনেও বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস শফিকুর রহমানের। জামায়াত আমির বলেন,
‘বাংলাদেশ দলের এই নজরকাড়া পারফরম্যান্স সমগ্র দেশবাসীকে আনন্দিত ও গর্বিত করেছে। খেলাধুলার এই সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করবে। বাংলাদেশ দল ভবিষ্যতেও তাদের এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে দেশের জন্য আরও গৌরব ও সুনাম বয়ে আনবে।’

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর রোববার পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাংলাদেশ দলের সামনের দিনগুলোর জন্যও শুভকামনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
“আমাদের সাহসী তরুণ ক্রিকেটাররা দেখিয়েছে যে নিষ্ঠা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। জাতীয় ক্রিকেট দলের এই অসাধারণ পারফরম্যান্স পুরো জাতিকে গর্বিত করেছে। আমি আশা করি, আমাদের তরুণ প্রজন্মের এই বিজয়যাত্রা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।”
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববারের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে ২৯০ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। জবাবে তাসকিন আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে ২৭৯ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। এ নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল তারা। এই সাফল্যের পরই প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তা পেয়েছে বাংলাদেশ দল।
বিসিবির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ দেওয়া হয়েছে।