২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০১ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফেভারিট ভারতকে ছাড়াই হয়তো দেখতে হবে সেমি ফাইনাল। আগামীকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে হারলেই ঘরের মাঠে কেবল দর্শক বনে যেতে হবে ভারতের সমর্থকদের। সুপার এইটে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকদের মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে আলোচনায় ‘ডিউ ফেক্টর’। শিশিরের ঝামেলা থেকে বাঁচতে এই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা ‘ডিউ কিউর’ নামের নতুন এক রাসায়নিক ব্যবহার করা হবে।
চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত। সন্ধ্যার সময় মাঠে জমে থাকা আর্দ্রতা বা শিশির নিয়ে বিপাকে পড়তে দুই দলই। আর এই সমস্যা মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে রাসায়নিক ব্যবহারের পদক্ষেপ।
তবে শিশিরের এই সমস্যায় নাও পড়তে পারে ভারত-জিম্বাবুয়ে। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিপাকের আউটফিল্ড নতুন করে বসানোর সময় তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এই রাসায়নিক আমদানি করে, যা মেজর লিগ বেসবলের বিভিন্ন ভেন্যুতেও বহুল ব্যবহৃত।
ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ও বুধবার দুপুরে গ্রাউন্ড স্টাফরা পানি মিশিয়ে ‘ডিউ কিউর’ আউটফিল্ডে স্প্রে করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরেও এটি প্রয়োগ করা হবে, যাতে ম্যাচ শুরুর আগেই এর পূর্ণ কার্যকারিতা পাওয়া যায়। প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত সূত্র জানিয়েছে, একবার স্প্রে করার পর ঘাসের পাতায় আর আর্দ্রতা থাকে না; ভেজা ভাব দ্রুত শোষিত হয়ে ঘাস শুকনো হয়ে যায়।
বুধবার ভারতের দীর্ঘ অনুশীলন শেষে ক্রিকেটাররা শিশিরের সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করতে মাঠে কিছুটা সময় অতিরিক্ত কাটান। জানা গেছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট এবং এ নিয়ে বড় কোনো উদ্বেগ নেই। ভবিষ্যতে সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও ‘ডিউ কিউর’ ব্যবহার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে আগামী মাসে আইপিএল শুরু হলে সব ভেন্যুতে এটি বাধ্যতামূলক করার চিন্তাভাবনা করছে বিসিসিআই। কারণ অনেক ম্যাচর ফল নির্ধারণে বড় প্রভাবক হয়েছে এই শিশির।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের গ্রুপ ‘টু’তে থাকা ভারত পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে নেট রান রেটেও বড় ধাক্কা খেয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দল। তাতে গ্রুপের বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও সেমি নিশ্চিত হবে না তাদের। সমীকরণ মেলাতে তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি দলগুলোর ফলের দিকেও।
No posts available.
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৮ পিএম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:১৬ পিএম

কলম্বোতে বিশ্বকাপ সুপার এইটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ চার ওভারে নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটাররা তুলেছে ৭০ রান। যদিও ৮৪ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দলটি, সেখানে দুই অলরাউন্ডার—কল ম্যাকনকি ও মিচেল স্যান্টনার উদ্ধার করেছেন কিউইদের। ৪৭ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়ে তারা দলের ইনিংসকে শক্তিশালী করেছেন।
ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে স্যান্টনার করেছেন ২৬ বলে ৪৭ রান, অপরাজিত ছিলেন ২৩ বলে ৩১ রান করা ম্যাকনকি। এই জুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাত নম্বর উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল মাইক হাসি ও স্টিভ স্মিথের। ০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭৪ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। আজ নিউ জিল্যান্ড রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশকে লজ্জার হাত থেকে রেহাই দিয়েছে।
শতরানের নিচে ছয় উইকেট হারানোর পর ১৬০-এর বেশি রান তোলা দলগুলোর মধ্যে নিউ জিল্যান্ডের কীর্তি অনন্য। এর আগে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নামিবিয়া ৯৩ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর ১৬৩/৭-এ পৌঁছেছিল। ২০০৭ সালে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড ম্যাচে প্রোটিয়াররা ৯৪ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর ১৫৪ রান করেছিল। ২০২১ সালে দুবাইয়ে আফগানিস্তান আফগানিস্তান-পাকিস্তান ম্যাচে ৭৬ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর ১৪৭ রানে ইনিংস শেষ করেছিল। এবার এই সব ঘটনা অতিক্রম করে নিউ জিল্যান্ড ইতিহাস গড়েছে।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনা ছাড়তে হয়েছিল লিওনেল মেসিকে। সময়ের প্রয়োজনে পাড়ি জমিয়েছিলেন বার্সেলোনায়। স্পেনের এই জায়ান্ট ক্লাবেই তাঁর বেড়ে ওঠা, তারকাখ্যাতি পাওয়া, ফুটবল দুনিয়ায় চূড়ায় ওঠা।
২০০৫ সালেই আলবিসেলেস্তেদের হয়ে অভিষেক হয়েছিল মেসির। পরের বছর বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমে গোল-অ্যাসিস্টও পেয়ে যান। তবে ফিফার অনুমতি সাপেক্ষে মেসি চাইলে ২০১০ সালের আসরে দল পাল্টে স্প্যানিশদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারতেন। কারণ দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর। আর্জেন্টিনার পাশাপাশি তিনি স্পেনেরও নাগরিক।
বার্সার যুব একাডেমিতে বেড়ে ওঠার সময়, স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ মেসির প্রতি আগ্রহ দেখায়। স্পেনে উদীয়মান এক তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য এমন আগ্রহ স্বাভাবিকই বলা যায়। এমনকি স্পেনকে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ও ২০১২ সালের ইউরো জেতানো কোচ ভিসেন্তে ডেল বস্কো জানিয়েছিলেন, মেসিকে স্পেনের হয়ে খেলতে রাজি করার জন্য সব চেষ্টা করেছিল ফেডারেশন।
স্পেনের হয়ে খেলার সব সুযোগ পেয়েও একটি কারণেই আর্জেন্টিনাকে বেছে নেন মেসি। দেশপ্রেম নামক শব্দের কাছে নতি স্বীকার করেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক নাহুয়েল গুসমানের পডকাস্ট 'মিরো দে আট্রাসে' উপস্থিত হয়ে এমনটাই জানিয়েছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
মেসি তাঁর কিশোর বয়সের বেশির ভাগ সময় স্পেনে কাটালেও, আর্জেন্টিনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সবসময়ই দৃঢ় ছিল। ইন্টার মায়ামির তারকা বলেন, ‘আমার হৃদয় সবসময় আর্জেন্টিনার সঙ্গে ছিল।’
মেসির মুখ থেকেই শোনা যাক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই সিদ্ধান্তের গল্প, ‘আসলে, একটা মুহূর্ত ছিল এই প্রসঙ্গে কথা উঠেছিল। আমি তখন ইতোমধ্যেই বার্সার হয়ে খেলছিলাম, এবং তারা সেটা ইঙ্গিত দিয়েছিল, প্রস্তাব দিয়েছিল… যা স্বাভাবিক, তাই না? এমনটা অনেক প্রতিভাবান কিশোরের সঙ্গে হয়। সেই সময়, যদিও আমি আর্জেন্টাইন, আমি খুব ছোটবেলায় বার্সেলোনায় চলে এসেছিলাম এবং তাদের যুব সিস্টেমে বেশিরভাগ অনুশীলন করেছি, তাই সম্ভাবনা ছিল। এমনটা ঘটতে পারত। কিন্তু না, আমি সবসময়… আমার হৃদয় সবসময় আর্জেন্টিনার সঙ্গে ছিল।’
২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা যখন জার্মানির বিপক্ষে ফাইনাল হারে, তখনও অনেকেই তাঁর জাতীয় দল নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। এমনকী এমন কথাও উঠেছিল যে, তিনি স্পেনের হয়ে খেললে হয়তো আরও সহজে জয় পেতেন। কিন্তু মেসি কখনো তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করেননি। ৩৮ বছর বয়সী মহাতারকা সবসময় বিশ্বাস করতেন যে একদিন আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে শিরোপা জিতবেন।
এরপরের ইতিহাস তো সবারই জানা। কোপা আমেরিকা-বিশ্বকাপ-কোপা আমেরিকা, এভাবেই টানা তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে পূর্ণতা দিয়েছেন মেসি।

বিশ্বকাপের সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরেছে ভারত। দেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হার। এই হারের ফলে ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং দলের নেট রান রেটেও লেগেছে বড় ধাক্কা। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন দলকে প্রতিটি ম্যাচে জিততে হবে টাইটেল রেসে টিকে থাকার জন্য।
এই হারের পর ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জেরেকর প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের কৌশলকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। বিশেষ করে ওয়াশিংটন সুন্দরকে পঞ্চম নম্বরে তুলে আনার সিদ্ধান্ত তিনি সমালোচনা করেছেন। মঞ্জেরেকরের মতে, সুন্দরকে সহ-অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেলের উপরে রাখা অনেকটাই অতিরিক্ত ছিল এবং আগেই বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। দলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তবে পারফরম্যান্স দেখলে তা কার্যকর হয়নি।
মঞ্জেরেকর বলেন, “কাইলাস জীবনের কথা মনে আছে? আগে এক ওষুধ সব সমস্যার জন্য ব্যবহার হতো—সিরদার ব্যথা বা পেটের সমস্যা। গৌতম গম্ভীরও সব সমস্যার জন্য ওয়াশিংটনকে ব্যবহার করছেন। ব্যাটিং সমস্যা? ওয়াশিংটন। বোলিং সমস্যা? ওয়াশিংটন। আজ পঞ্চম নম্বরে প্রমোট করা হলো, তারপর সপ্তম নম্বরে নামলেন রিঙ্কু সিং ও হার্দিক পাণ্ডিয়া। এটা অতিরিক্ত হয়ে গেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “পেস বল ভুলে যান, স্লো বলের দিকে নজর দিন। ব্যাটাররা স্লো বল বা স্পিন সামলাতে পারছে না। অধিনায়কই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।”
দলের সামনে এখন জিম্বাবুয়ের সঙ্গে পরবর্তী ম্যাচ, যা তাদের টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জয়ই নয়, নেট রান রেটও ঠিক রাখতে হবে। প্রতিটি সিদ্ধান্তই এখন ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে।

প্রায় ২২ বছর আগের কথা। ২০০৩–০৪ মৌসুমে ব্রিসবেন টেস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আম্পায়ার স্টিভ বাকনর ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটারকে বিরুদ্ধে একটি এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়া দেন। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, জ্যাসন গিলেস্পি-র বলটি তাঁর প্যাডের একটু বেশি উঁচুতে লেগেছিল, তাতে আম্পায়ারের ওই নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্কি।
টেন্ডুলকারকে এলবিড্লু আউট দেওয়ার সেই ঘটনার ২২ বছর পর বাকনার স্বীকার করেছেন, ওই ইনিংসে টেন্ডুলকারকে আউট দেওয়াটা তার ভুল ছিল এবং তিনি সেই ভুল মেনে নিয়েছেন। ভারতের প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে নিজের ইনিংসের তৃতীয় বলেই এলবিডব্লিউ হন টেন্ডুলকার। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলটি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু ব্রিসবেনের পিচে বলের মুভমেন্ট বুঝতে না পেরে সেটি প্যাডে লাগে, তাও কিছুটা উঁচুতে। গিলেস্পি ও উইকিপার অ্যাডান গিলক্রিস্ট-এর জোরালো আপিলের সঙ্গে সতীর্থদের সমর্থন পেয়ে বাকনার আউটের সিদ্ধান্ত দেন, যদিও পরবর্তী রিপ্লেতে সেটিকে ভুল সিদ্ধান্ত বলেই মনে হয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাকনার বলেন, টেন্ডুলকারকে এলবিডব্লিউ দেওয়াটা যে ভুল ছিল, তা তিনি জানেন। আজও মানুষ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে—কেন আউট দেওয়া হয়েছিল, তিনি সত্যিই আউট ছিলেন কি না। তবে জীবনে ভুল হতেই পারে, তিনি সেই ভুল মেনে নিয়েছেন এবং জীবন এগিয়ে গেছে।
টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ে বাকনার আরও একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেন। ২০০৫ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনস-এ পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে আব্দুল রাজ্জাক-এর একটি বল ব্যাটে স্পর্শ না করেই টেন্ডুলকারকে অতিক্রম করেছিল। তবু ক্যারিবিয়ান আম্পায়ার তাকে আউট ঘোষণা করলে সেটিও তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
২০০৯ সালে আম্পায়ারিং থেকে অবসর নেওয়া স্টিভ বাকনর ১২৮টি টেস্ট ও ১৮১টি ওয়ানডে ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি ১৯৯২ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত টানা পাঁচটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালেও আম্পায়ার হিসেবে ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই আম্পায়ার তরুণ বয়সে জ্যামাইকার হয়ে ফুটবলও খেলেছিলেন। এমনকি ১৯৮৮ সালে এল সাভাদর ও নেদারল্যান্ডস-এর মধ্যকার একটি ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ম্যাচে রেফারির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
২০০৫ সালে ইডেন গার্ডেনস-এ ভারত–পাকিস্তান টেস্টে ম্যাচ পরিচালনার মধ্য দিয়ে বাকনার বিশ্বের প্রথম আম্পায়ার হিসেবে ১০০ টেস্টে দায়িত্ব পালনের অনন্য কীর্তিও গড়েন।
বাকনার এক ঘণ্টার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন কিভাবে তিনি আম্পায়ার হলেন। শুনে নেওয়া কিংবদন্তি এই আম্পায়ারের মুখ থেকেই, ‘আসলে, ১৯৭২ সালে প্রথম পরীক্ষায় পাশ করার পর আমি ১৩ বছর ক্রিকেট খেলেছি। পরে চোট পেয়ে আমি নিজেকে বলেছিলাম, খেলাধুলার দিন শেষ। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম খেলাধুলা বাদ দিয়ে আম্পায়ারিং-এ মন দেব। তবে এরমধ্যেই আমি খেলায়ও ছিলাম, আম্পায়ারিং-এও। কিন্তু পরে আম্পায়ারিং আরও বেশি মজার মনে হলো। এগুলোই আমার সেই সময়ের ভাবনা।’

নিউ জিল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার—সুপার এইটের প্রথম দুই ম্যাচে জয় না পাওয়ায় সেমি-ফাইনালে ওঠার পথ অনেক কঠিন হয়ে গেছে পাকিস্তানের। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতলে সর্বসাকুল্যে সালমান আলী আগাদের পয়েন্ট হবে তিন। সেমি-ফাইনালে ওঠার জন্য এই পয়েন্ট মোটিও যথেষ্ট নয়।
এমতবস্থায় পাকিস্তানের সেমিফাইনালে ওঠা পুরোপুরি অন্য ম্যাচের ফল আর অনুকূল আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড ইতোমধ্যেই চার পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। বাকি একটি জায়গার জন্য লড়াই চলছে নিউ জিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে।
ভারতের সাবেক পেসার ইরফান পাঠান সামাজিক মাধ্যম এক্সে লেখেন, পাকিস্তান দল চাপ সামলাতে পারে না, আর এর পেছনে কারণ তাদের মিডিয়ার ট্রল। তাঁর মতে, এই মিডিয়া দলকে সত্যিকারের সমর্থন না দিয়ে সব সময় খেলোয়াড়দের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে—সবকিছুই নাকি ‘রিচ’ বা আলোচনায় থাকার জন্য।
পাঠান আরও বলেন, ভারত কোনো ম্যাচ হারলে পাকিস্তানের মিডিয়া তখন ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিড় জমায়। কিন্তু নিজেদের দল হারলেই তারা ‘ইঁদুরের মতো গায়েব’ হয়ে যায়। তিনি যোগ করেন, ভারতীয়রা পাকিস্তানকে নিয়ে তেমন মাথাই ঘামায় না—যদি না নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ নিয়ে কাজ করতে হয়।