৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:১৬ পিএম

দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল ২০২৫ সাল। বছরজুড়ে ঘটন-অঘটন, আলোচনা-সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক আর নানান ইস্যুতে ব্যস্ত ছিল দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। মাঠের ক্রিকেটে কখনও হেসেছেন, কখনও হতাশায় ডুবেছেন লিটন কুমার দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজরা। আর মাঠের বাইরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত রেখেছেন ফারুক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তামিম ইকবাল বা জাহানারা আলমরা।
সব কিছু মিলিয়ে ২০২৫ সালে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রেই ছিল ক্রিকেট। নতুন বছর শুরুর আগে একনজরে দেখে নেওয়া যাক বিগত বছরে ক্রিকেটের আলোচিত সব কিছু।
মাঠে মিশ্র পারফরম্যান্স
নিজেদের প্রিয় সংস্করণ ওয়ানডেতেই বছরজুড়ে বেশি অচেনা ছিল বাংলাদেশ দল। বছর শুরু হয়েছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দিয়ে। যেখানে প্রত্যাশা ছিল নতুন বছরের সূচনা হবে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে। কিন্তু পাকিস্তানে সেই টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সুযোগ ছিল, প্রস্তুতিও ছিল- ফলটা আসেনি।
পুরো বছরে ওয়ানডে খেলেছে ১১টি। জয় এসেছে মাত্র তিনটিতে, হেরেছে সাত ম্যাচে, একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত। পরিসংখ্যানের এই খসড়া চিত্রই বলে দেয়, কীভাবে নিজেদের প্রিয় ফরম্যাটে পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ।
টেস্ট ক্রিকেটে ফলাফল তুলনামূলক ভালো দেখালেও তাতে স্বস্তি পুরোপুরি আসে না। ছয় টেস্টে তিন জয়, দুই হার ও একটি ড্র- সংখ্যার হিসেবে ভারসাম্য থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন।
বছরের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু, পরের টেস্টে জিতে সিরিজ সমতায় শেষ। জুনে শ্রীলঙ্কা সফরে একটি টেস্ট ড্র, অন্যটিতে হার। বছর শেষ হয়েছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে—তবে প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় সেটিও বড় অর্জন হিসেবে ধরা কঠিন।
টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচের সংখ্যা আর পারফরম্যান্স- দুটোই ছিল চোখে পড়ার মতো। এক বছরে বাংলাদেশ খেলেছে ৩০টি টি-টোয়েন্টি, যা আগে কখনও হয়নি। ১৫টি জয়, ১৪টি হার ও একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত-জয়ের হার ৫১.৭২ শতাংশ। দলীয় ফলাফল ওঠানামায় ভরা হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন একাধিক ক্রিকেটার।
ব্যাটাররা মিলিয়ে করেছেন ২৩টি ফিফটি। এক বছরে সর্বোচ্চ আটটি ফিফটির রেকর্ড গড়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। রান করেছেন সর্বোচ্চ ৮১৪, হাঁকিয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে এক বছরে সর্বোচ্চ ৪১টি ছক্কা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকালে ছক্কায় তার ওপরে ছিলেন শুধু ভারতের অভিষেক শর্মা ও পাকিস্তানের সাহিজদা ফারহান। রানেও এগিয়ে কেবল অভিষেক শর্মা ও জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেট।
বোলিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক আসে মোস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে। সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে তিনি বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির কীর্তি গড়েন- ১৫৮ উইকেট নিয়ে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে উইকেটের ফিফটি পূরণ করেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন, যা তার উত্থানের ইঙ্গিত দেয়।
অধিনায়কত্বে নাটকীয়তা
২০২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ২০২৫ সালের শুরুতেও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনিই ছিলেন তিন ফরম্যাটের দায়িত্বে। কিন্তু নতুন বছরের শুরুর দিকেই শান্ত জানিয়ে দেন, টি-টোয়েন্টিতে আর অধিনায়কত্ব করবেন না তিনি। পরে এই ফরম্যাটে লিটন কুমার দাসকে অধিনায়কত্ব দেয় বিসিবি।
এরপর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্যর্থতার পর তাকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে দায়িত্ব দেওয়া দেয়। সেই ক্ষোভ থেকেই হয়তো শ্রীলঙ্কা সফরের দুই টেস্ট শেষ করে লাল বলের ক্রিকেটের অধিনায়কত্বও ছেড়ে দেন শান্ত। তবে এর চার মাস পর আবার শান্তকেই টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয় বিসিবি।
ফলে তিন ফরম্যাটে এখন বাংলাদেশের অধিনায়ক তিন জন- টেস্টে শান্ত, ওয়ানডেতে মিরাজ ও টি-টোয়েন্টিতে লিটন। এছাড়া তিন ফরম্যাটে ভিন্ন তিন জন সহ-অধিনায়কও আছে এখন দলে- টেস্টে মিরাজ, ওয়ানডেতে শান্ত ও টি-টোয়েন্টিতে সাইফ হাসান।
বিসিবির নির্বাচন
ক্রিকেট মাঠের বাইরেও বছরটি ছিল অস্থিরতায় ভরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেন বোর্ডের পরিচালকেরা।
ফারুক আহমেদ পদ হারানোর পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেন আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অক্টোবরে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি পূর্ণ মেয়াদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান।
বোর্ড নির্বাচনে বুলবুল ছাড়াও জয়লাভ করেন আরও তিন সাবেক ক্রিকেটার ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট ও আব্দুর রাজ্জাক।
বুলবুলের অধীনে নতুন বোর্ডে প্রথম বড় ধাক্কা আসে ঘরোয়া ক্রিকেটে। প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায় আটটি ক্লাব। এছাড়া ৪০টি বেশি ক্লাব ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। যা দেশের ক্রিকেট কাঠামোর ভেতরের অসন্তোষের চিত্র স্পষ্ট করে।
শত টেস্টের ক্লাবে মুশফিক
বছরের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে নভেম্বরে। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলেন মুশফিকুর রহিম। শুধু ম্যাচ খেলেই থেমে থাকেননি, ব্যাট হাতে তুলে গড়েছেন অভিজাত এক কীর্তি।
প্রথম ইনিংসে ১০৬ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ রানে অপরাজিত- শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা বিশ্বের মাত্র ১১তম ব্যাটার হিসেবে নিজেকে যুক্ত করেছেন অভিজাত তালিকায়। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই কীর্তি আলাদা করে জায়গা করে নেয়, একটি মিশ্র বছরের মাঝে হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম।
মাহমুদউল্লাহর বিদায়
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ করে দেশে ফিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দেন অভিজ্ঞ ব্যাটার ও সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। এর আগেই অবশ্য টি-টোয়েন্টি (২০২৪) ও টেস্ট (২০২১) থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি। গত মার্চে ওয়ানডেকেও বিদায় জানিয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ।
টেস্টে ৫০ ম্যাচে ২ হাজার ৯১৪ রান, ওয়ানডেতে ২৩৯ ম্যাচে ৫ হাজার ৬৮৯ রান ও টি-টোয়েন্টিতে ১৪১ ম্যাচে ২ হাজার ৪৪৪ রান নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে মাহমুদউল্লাহর। এছাড়া বল হাতে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার ঝুলিতে আছে ১৬৬ উইকেট।
সাকিবের ইউটার্ন, অবসরের নতুন সিদ্ধান্ত
২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকেই থমকে আছে সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। গত ১৮ মাসে একবারের জন্যও দেশে আসতে পারেননি তিনি। তাই ধরেই নেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক অধ্যায় হয়তো শেষ।
তবে বছরের শেষ দিকে 'বিয়ার্ড বিফোর ক্রিকেট' পডকাস্টে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন সাকিব নিজেই। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো ফরম্যাট থেকেই অবসর নেননি। বরং দেশে ফিরে একটি করে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে বিদায় নিতে চান তিনি।
মাঠেই তামিমের হার্ট অ্যাটাক, জাকি-হাসানের বিদায়
২০২৫ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ম্যাচ শুরুর আগে মাঠেই হার্ট অ্যাটাক করেন তামিম ইকবাল। গুরুতর অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যান বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। তবে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ট্রেনার ইয়াকুব চৌধুরি ডালিম ও সাভারের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাণপন চেষ্টায় নতুন জীবন পান দেশসেরা এই ওপেনার।
তামিমের মতোই মাঠে হার্ট অ্যাটাক করেন জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশালের ফিজিও হাসান আহমেদ ও বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলি জাকি। গত অক্টোবরে মাঠে হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেন হাসান আর ডিসেম্বরে পরপারে পাড়ি জমান জাকি।
নারী ক্রিকেটে তোলপাড়
বছরের শেষ ভাগে এসে যৌন হয়রানির ভয়াবহ ও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা পেসার জাহানারা আলম। বোর্ডের নারী ক্রিকেট বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদ ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক-ম্যানেজার ও জাতীয় দলের সাবেক পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ আনেন জাহানারা। এছাড়া নারী দলের বর্তমান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও করেন তিনি।
জাহানারার দেখাদেখি জাতীয় দলের আরও কয়েকজন ক্রিকেটারও যৌন হয়রানিসহ আরও কিছু অভিযোগ করেন। যা নিয়ে তোলপাড় পড়ে যায় দেশের ক্রিকেটে। আপাতত এটি নিয়ে তদন্ত করছে বিসিবি। কয়েক দফা তদন্তের মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন বছরের শুরুর দিকে হয়তো পাওয়া যেতে পারে চূড়ান্ত প্রতিবেদন।
বিপিএলে নতুন আশা
অনেকটা তাড়াহুড়োর মধ্যে ২০২৫ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেট আয়োজন করে সুনামের বদলে দুর্নামই কুড়িয়েছে বিসিবি। ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পারিশ্রমিক পরিশোধে গড়িমসি ও অব্যবস্থাপনার নানান অভিযোগে জর্জরিত হয় বিপিএলের ১১তম আসর।
সেসব থেকে শিক্ষা নিয়ে ১২তম সংস্করণের আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিবি। সব দলের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ও গ্যারান্টি অর্থ নিয়ে রেখেছে তারা। এর মাঝেও টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন সরে দাঁড়ায় চট্টগ্রাম রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে একদমই সময় নষ্ট না করে চট্টগ্রামের দায়িত্ব নিয়ে নেয় বিসিবি।
এর বাইরে এবারের বিপিএলের আগে ফিরিয়ে আনা হয় নিলাম পদ্ধতি। যেখানে সর্বোচ্চ ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। এছাড়া ব্রডকাস্টিংয়ের মান উন্নয়নে টিপিটি গ্লোবালের সঙ্গে চুক্তি, ম্যাচ ফিক্সিং রোধে আইসিসি ও সিআইডির সহায়তা নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতিসহ আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। যা বিপিএল নিয়ে নতুন করে আশা দেখাচ্ছে।
No posts available.
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ এম
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২৯ পিএম

২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিলেন নিউজিল্যান্ড অলরাউন্ডার সুজি বেটস। আর এর মধ্য দিয়েই ইতি ঘটবে নারী টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার।
মে’র শুরুতে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সফরের জন্য দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড ভ্রমণ করবেন কিংবদন্তি সুজি বেটস। এরপরই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে 'হোয়াইট ফার্নস' তাদের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নামবে।
নিজের যাত্রা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বেটস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর কাটানো সময়ের জন্য গর্ব ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, ‘আমি যখন গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের দিকে ফিরে তাকাই, আমি বিশ্বাসই করতে পারি না যে সময় কত দ্রুত কেটে গেছে। নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে এতবার মাঠে নামতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই দলের জন্য প্রতিদিন একজন ভালো মানুষ, সতীর্থ, ক্রিকেটার এবং অ্যাথলেট হওয়ার চেষ্টায় আমি গভীর উদ্দেশ্য এবং আনন্দ খুঁজে পেয়েছি।’
আরও পড়ুন
| ‘দেশের সম্পদ নাহিদ’, যত্ন নিতে বললেন মিরাজ |
|
ক্যারিয়ারের শেষ অংশ বিশ্বকাপ জিতে রাঙাতে চান সুজি বেটস, ‘আমার শেষ একটি মিশন বাকি: ইংল্যান্ডে যাওয়া—এমন একটি জায়গা যেখানে আমার অনেক বিশেষ স্মৃতি রয়েছে—এবং আরেকটি বিশ্বকাপ জয় করা। আমি আমার এই শেষ অভিযানে শক্তির শেষ বিন্দু দিয়ে চেষ্টা করব এবং প্রতিটা মিনিট উৎসর্গ করব এই দলকে এমন ক্রিকেট খেলতে সাহায্য করতে যাতে আমরা এবং আমাদের দেশ গর্ববোধ করতে পারি।’
২০০৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বেটসের ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং এর তিন বছর পর ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায় শুরু হয়। বর্তমানে তিনি ৪,৭১৭ রান নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং ৫,৯৬৪ রান নিয়ে নারী ওয়ানডে-তে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। ২০১১ সালের জুলাইয়ে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রায় সাত বছর নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালে উইজডেন তাকে বিশ্বের সেরা নারী ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
নিজের কাছের মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুজি বেটস বলেন, ‘আমার প্রিয়জন এবং আমার পরিবার—সব সময় পাশে থাকার জন্য তোমাদের ধন্যবাদ। এবং আমার সঙ্গী স্কটি ও তার ছেলেদের বলছি: তোমরা এই দারুণ খেলাটি আমার জীবনে নিয়ে আসা সব চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী হয়ে ছিলে। আমি সেই সব স্টাফ এবং কোচদের প্রতিও বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে চাই যারা বছরের পর বছর ধরে নারী ক্রিকেটের জন্য এত কিছু দিয়েছেন, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তার স্বীকৃতি বা পুরস্কার পাননি।’
নিউজিল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক অ্যামেলিয়া কার বেটসকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছেন। কার বলেন, ‘বড় হওয়ার সময় সুজি আমার রোল মডেল ছিলেন এবং তিনি যখন অধিনায়ক ছিলেন তখন আমি দলে সুযোগ পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করি। আপনি যদি কখনও তার সাথে খেলার সুযোগ পান, তবে জানবেন যে তিনি বিশ্বের অন্যতম নিঃস্বার্থ ক্রিকেটার এবং অন্যতম সেরা সতীর্থ।’

নিউ জিল্যান্ড সিরিজের শুরুটা মন্দ হলেও শেষ দুটি ম্যাচ মনের মতো করে রাঙিয়েছেন নাহিদ রানা। সিরিজের তিন ওয়ানডেতে ১৩৪ রানের বিপরীতে ৮ উইকেট তোলেন ডানহাতি এই ফাস্ট বোলার। প্রথম ম্যাচে অর্থাৎ বাংলাদেশের ব্যর্থতার ম্যাচে ৬৫ রান খরচায় মাত্র একটি উইকেট নিতে পারেন নাহিদ। দ্বিতীয় ম্যাচে দৃশ্যপট পরিবর্তন— একটি দুর্দান্ত ফাইফার। এরপর আজ আরও দুটি উইকেট নেন তিনি।
কিউইদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর আলাদা করে নাহিদ রানার প্রশংসা করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
তিনি বলেন,
‘নাহিদ রানা দেশের জন্য অনেক বড় সম্পদ। আমরা সবাই অবশ্যই চেষ্টা করব ওর যত্ন নিতে। ও যেভাবে মেইনটেইন করছে এটা আসলে একটা টিমের জন্য অনেক অ্যাডভান্টেজ। শেষ দুই সিরিজ যেভাবে বোলিং করেছে পাশাপাশি ও যখন একটা ভালো মোমেন্টাম নিয়ে আসে, আমার কাছে মনে হয় যে, ও এটা ধারাবাহিকতায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ টিম অনেক ম্যাচ জিততে পারবে।’
একটা সময় স্পিনে নির্ভর ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। যেদিন স্পিনাররা ভালো পারফরম্যান্স করতো, সেদিন আশানুরূপ ফল পেত টিম। প্রেক্ষাপট বদলেছে। ছায়া হয়ে থাকা দেশের পেসাররা এখন নিজের আলোয় আলোকিত।
মিরাজ বলেন,
‘দেখেন আমাদের পেস ইউনিট অনেক ভালো বোলিং করছে গত দুই তিন বছর ধরে। আমরা দেশ এবং বাইরে অনেক ম্যাচ জিতেছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ওদের হারিয়েছি। পেস ইউনিট অনেক ভালো ছিল আমার কাছে মনে হয়। একটা টিমের যদি পেস ইউনিট ভালো থাকে তাহলে টিমের মোমেন্টাম চেঞ্জ হয়ে যায় এবং ব্যাটসম্যানরাও যদি ফর্মে থাকে আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের টিমের ভিতরে এখন পেস ইউনিট এবং ব্যাটসম্যানরা যারা আছে, তারা অভিজ্ঞ।’

চোট শঙ্কা ও আসন্ন সিরিজের প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানাকে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) বাকি অংশে অংশগ্রহণের অনুমতি দিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে এ তথ্য জানায় দেশীয় ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওডিআই শেষে জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে বিসিবির মেডিকেল টিম। বোর্ড জানিয়েছে, মোস্তাফিজের কন্ডিশন আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে জরুরি ভিত্তিতে তার ‘স্ক্যান’ করানো হবে। এরপর তিনি বিসিবির মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া (রিহ্যাব) শুরু করবেন।
চোট শঙ্কার কারণে দেশের বাঁ-হাতি পেসারকে দেওয়া অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রত্যাহার করে নিয়েছে বোর্ড। ফলে পিএসএলের বাকি ম্যাচগুলোতে তাকে আর দেখা যাবে না।
নাহিদ রানাকেও পিএসএলের জন্য ছাড়পত্র দিচ্ছে না বিসিবি। মূলত আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগে তাকে প্রস্তুতির সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বোর্ড।
পিএসএলে পেশোয়ার জালমির হয়ে প্রথমবার খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন নাহিদ। চারটি ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৭ উইকেট নেন জাতীয় দলের এই তরুণ ফাস্ট বোলার। মোস্তাফিজ খেলেছেন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে। ৫ ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়ে ৬টি উইকেট নিয়েছেন তিনি।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যর্থতার পর বাকি দুই ম্যাচ রাঙিয়ে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে রাখল বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল লাল সবুজের দল। গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের বীরত্বে ২৬৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা নিউ জিল্যান্ড।
নিউ জিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে ২০১৫ সালের পর প্রথমবার কোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পরও সিরিজ জেতার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এ নিয়ে তৃতীয়বার প্রথম ম্যাচ হারের পরও সিরিজের ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে পারল তারা।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ জানিয়েছেন, সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারের পর কিছুটা চিন্তায় পড়ে যান তিনি। কারণ, প্রথম ম্যাচ হারের পর দ্বিতীয়টি অনেকটা নকআউটে পরিণত হয়। জিতলে টিকে থাকে আশা, হারলে সব শেষ।
মিরাজ বলেন,
‘আমরা অনেক টুর্নামেন্ট খেলতে যাই, নকআউট যে খেলাগুলো হয় বিশেষ করে। সেখানে হারলেই বাদ। তাই আমি মেন্টালি ওভাবে জিনিসটা নিয়েছি। যেহেতু প্রথম ম্যাচ হেরে গিয়েছি। দ্বিতীয় ম্যাচ যদি হেরে যাই তবে সিরিজ হেরে যাব। তাই এটা আমাদের জন্য একটা বড় সুযোগ যে, এটা যদি জিততে পারি তাহলে হয়তো আরেকটা সুযোগ তৈরি হবে।’
বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয় নিয়ে মিরাজ বলেন,
‘অবশ্যই ভালো লাগছে টানা তিনটা সিরিজ জিতেছি এবং আমার কাছে মনে হয় ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বাংলাদেশ জিতছে এটাই অনেক বড় অর্জন আমার কাছে।’
নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরির (১০৫) সঙ্গে লিটন দাসের ৭৬ রান। এরপর বল হাতে মোস্তাফিজুর রহমানের ফাইফার। আজ মিরাজও ছিলেন প্রাণবন্ত। ৮.৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩৬ রান খরচায় দুই উইকেট তোলেন বাংলাদেশ দলপতি। সে সঙ্গে নাহিদ রানাও নিয়েছেন দুই উইকেট। অর্থাৎ দলীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনও দেখা গেছে সিরিজের শেষ ম্যাচে।
মিরাজ বলেন,
‘হ্যাঁ অবশ্যই, শান্ত যেভাবে ব্যাটিং করেছে, আমরা ওর কাছ থেকে এরকমই আশা করি। লিটন দাসও দারুণ খেলেছে। মোস্তাফিজসহ প্রত্যেকটা প্লেয়ার অনেক অভিজ্ঞ। তারা দেশের জন্য অনেক দিন খেলেছে এবং আমার কাছে মনে হয়, পারফরম্যান্স শো করার জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। দিনশেষে দলের রেজাল্টটাই আসল।’

দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৫৫ রানে জিতেছে স্বাগতিকরা। নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি ও মোস্তাফিজুর রহমান ৫ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে রেখেছেন বড় অবদান।
প্রথম ম্যাচ হেরেও বাকি দুইটি জিতে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে কিছু রেকর্ডও লেখা হয়েছে নতুন করে।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক সব রেকর্ড
১৩
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় ১৩ বছর পর ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। মাঝের সময়ে টানা পাঁচ সিরিজ হেরেছে তারা। এর আগে ২০১০ ও ২০১৩ সালে ঘরের মাঠে কিউইদের হোয়াইটওয়াশড করেছিল তারা।
ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
প্রায় ১১ বছর পর প্রথম ম্যাচ হেরেও সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সবশেষ প্রথম ওয়ানডে হারের পরও সিরিজ জিতেছিল তারা। এছাড়া ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও একই কৃতিত্ব দেখায় তারা।
মিরাজের হ্যাটট্রিক
বাংলাদেশের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে টানা ৩টি সিরিজ জিতলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার নেতৃত্বে গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ দল।
টানা ৩ ওয়ানডে সিরিজ জেতা বাংলাদেশি অধিনায়ক
হাবিবুল বাশার সুমন (২০০৭)
সাকিব আল হাসান (২০০৯)
মাশরাফি বিন মুর্তজা (২০১৪-১৬) (টানা ৬ সিরিজ)
মাশরাফি বিন মুর্তজা (২০১৮)
তামিম ইকবাল (২০২১-২২) (টানা ৫ সিরিজ)
মেহেদী হাসান মিরাজ (২০২৫-২৬)
শান্ত-লিটন জুটির রেকর্ড
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে চাপের মুখে চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রানের জুটি গড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।
২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পঞ্চম উইকেটে ২২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান।
শান্তই সেরা
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৯ ওয়ানডে ১ সেঞ্চুরি ও ৪ ফিফটিতে ৩৮৭ রান করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিউইদের বিপক্ষে তার গড় ৫৫.৪৮ ও স্ট্রাইক রেট ৮৪.৬৮।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে অন্তত ৩৫০ রান করা বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে শান্তর গড় ও স্ট্রাইক রেট সবার ওপরে।
অনন্য মোস্তাফিজ
শান্তর সেঞ্চুরির পর ৫ উইকেট নিয়ে বাকি কাজ সারেন মোস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডেতে এটি তার ষষ্ঠ ৫ উইকেট।
বাঁহাতি এই পেসারের অভিষেকের পর ওয়ানডেতে আর কোনো বোলার এর চেয়ে বেশি ৫ উইকেট নিতে পারেননি। তার সমান ৬টি ৫ উইকেট আছে রশিদ খান ও মোহাম্মদ শামির।
আরও মোস্তাফিজনামা
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের চেয়ে বেশি ৫ উইকেট আছে শুধু বিশ্বের ৫ জন পেস বোলারের। তারা হলেন- ওয়াকার ইউনিস (১৩), ব্রেট লি (৯), মিচেল স্টার্ক (৯), লাসিথ মালিঙ্গা (৮) ও গ্লেন ম্যাকগ্রা (৭)।
বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে তার সামনে শুধুই মিচেল স্টার্ক।
নাহিদের অর্জন
তিন ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন নাহিদ রানা। এ নিয়ে পরপর দুই সিরিজে তার হাতেই উঠল সিরিজ সেরার পুরস্কার।
বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে একাধিকবার সিরিজ সেরা হলেন নাহিদ। তার আগের দুজন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও আব্দুর রাজ্জাক।