
১১৪ রানে যখন ইনিংস গুটিয়ে ফেলেছে পাকিস্তান, তখন কী কেউ জানতো ইফতারির আগে শেষ হয়ে যাবে ম্যাচটি ? ইলেকট্রনিক স্কোর বোর্ডে যখন ভেসে উঠেছে, সন্ধ্যা ৬টায় ৪০ মিনিটের ব্রেক, তখন ইফতারির ব্রেকের পর ম্যাচের অবশিষ্ট আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতিই নিয়েছে সবাই। অথচ কি অদ্ভুত ঘটনা, ৬টা ৭ মিনিটে মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওয়াইড ডেলিভারির সঙ্গে সঙ্গে বেজে উঠেছে ইফতারির আজান!
এমন এক অদ্ভুত ম্যাচের নায়ক পেস বোলার নাহিদ রানা, পার্শ্ব নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ-তানজিদ হাসান তামিম। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ছিল এতোদিন মোস্তাফিজুর রহমানের। ২০১৯ বিশ্বকাপে লর্ডসে ১০-০-৭৫-৫ এই বোলিংয়ে প্রশংসার পিঠে খরুচে বোলিংয়ের অপবাদ গায়ে মাখিয়েছেন বাঁ হাতি পেসার মোস্তাফিজ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই ক্রিকেটে সেই বোলিং ছাড়িয়ে বুধবার পেসার নাহিদ রানার ৭ ওভারের স্পেলটি ৭-০-২৪-৫ সেরা।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বোলিংয়ে গতিতে দ্যুতি ছ ড়াচ্ছেন পেস বোলার নাহিদ রানা। ঘন্টায় ১৫১ কিলোমিটার গতিতে বোলিংয়ের রেকর্ড আছে তার। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিণ্ডি টেস্টে তার আগুন বোলিং (৪/৪৪) বাংলাদেশের টেস্ট জয়ের সুখস্মৃতি থেকে টনিক নিয়েছেন নাহিদ রানা মঙ্গলবার।
৪ অভিষিক্তকে নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচে অবতীর্ন পাকিস্তান। বাবর আজমের মতো ওডিআই সেরা ব্যাটার রেখে এসেছে অতিথি দল। তারপরও দলটির নাম পাকিস্তান, টি-২০ বিশ্বকাপে খেলে বাংলাদেশের বিপক্ষে অবতীর্ন যারা। এমন একটি দলের হয়ে অধিনায়কত্ব করতে এসে টসে'র পর শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেছিলেন, এই উইকেটে ২৭০-২৮০ রান করা সম্ভব। ওপেনিং পার্টনারশিপের সংগ্রহ ৪১, তখন শাহিন শাহ'র ভবিষ্যতদ্বানী ফলে যাওয়ার পূর্বাভাসই ছিল। তবে ১০ম ওভারে নাহিদ রানার হাতে বল তুলে দিয়েই অন্য চিত্রটা দেখালেন অধিনায়ক মিরাজ। আশ্চর্য হলেও সত্য, তাঁর প্রথম ৫ ওভারের প্রতিটিতেই ১টি করে উইকেট! যার মধ্যে ৪টি উইকেট পেয়েছেন শর্ট ডেলিভারিতে। শুরুটা করেছেন শাহিবজাদা ফারহানকে দিয়ে। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের পিচিং ডেলিভারিতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে শাহিবজাদা ফারহান বাউন্ডারি মেরেছে দেখে এক বল পর একই ধরনের ডেলিভারি দিয়েছেন, এবং পয়েন্টে পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন শাহিবজাদা ফারহান (৩৮ বলে ২৭)।
নাহিদ রানার দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিটি ছিল শর্ট, পুল করতে যেয়ে শায়মাল দিয়েছেন উইকেট কিপার লিটনকে স্কাই ক্যাচ (৭ বলে ৪)। শর্ট বলে ভীতি ছড়াতে পারছেন দেখে তৃতীয় ওভারের ৪র্থ ডেলিভারিতেও একই কাজটা করেছেন নাহিদ রানা। মাজ সাদাকাতের (২৮ বলে ১৮) গ্লোভসে লেগে ফাইন লেগে ক্যাচে পরিনত তা। ৪র্থ ওভারের ৫ম বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও শর্ট বলে করেছেন পরাস্ত। আউটসাইড এজ হয়ে উইকেট কিপার লিটনের দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে ধরা পড়েছেন রিজওয়ান। নিজের ৫ম ওভারের ৫ম বলটি আবারো শর্ট ডেলিভারি, এবং সালমান আগা (৮ বলে ৫) পুল করতে যেয়ে সিলি পয়েন্টে দিয়েছেন ক্যাচ।
৪১/০ থেকে স্কোরটা হয়ে গেল ৬৯/৫। প্রথম ৫ উইকেটের সব কটিই নাহিদ রানার। সেখান থেকে অফ স্পিনার মিরাজ দ্বিতীয় স্পেলে (৭-০-১৮-৩) ৩ উইকেট, তাসকিন শেষ স্পেলে (২-০-১১-১) ১ উইকেট এবং ৪ বলের শেষ স্পেলে মোস্তাফিজের (০.৪-০-০-১) ১ উইকেটে পাকিস্তান থেমেছে ১১৪/১০-এ। ৩০.৪ ওভারে শেষ অতিথি দল।
টি-২০ ফরমেটে বিপিএল, অদম্য কাপ খেলে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে না পারার কষ্টটা লাঘবের উপায় খুঁজছিল বাংলাদেশ দল। তাই ১১৫ রানের টার্গেট ধীরে সুস্থে নয়, টি-২০ মেজাজে খেলেছে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৮১/১ স্কোর ইফতারির আগে ম্যাচ শেষ করার পূর্বাভাস ছিল। ওভারপ্রতি ৭.৫৮ গড়ে রান নিয়ে ১৫.১ ওভারে শেষ করেছে বাংলাদেশ দল ৮ উইকেটের বিশাল জয়ে। তা সম্ভব হয়েছে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের ১৫৯.৫২ স্ট্রাইক রেটে ৪২ বলে ৭ চার, ৫ ছক্কায় ৬৭ রানের হার না মানা ইনিংসে। যে ঝড়ো ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে লেগেছে তানজিদ হাসান তামিমের মাত্র ৩২ বল।
২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কোয়ালিফাই করতে ২০১৬'র এপ্রিলের মধ্যে ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে সেরা ৮-এ থাকার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল আইসিসি। সেই চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে পেরেছে বাংলাদেশ র্যাঙ্কিংয়ে ৯ থেকে উন্নীত হয়ে ৭ এ উঠে। পাকিস্তানকে ২০১৫ সালে হোমে হোয়াইট ওয়াশের মধ্য দিয়ে শুরুটা করেছে বাংলাদেশ, শক্তিশালী ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজের ট্রফিটা জিতে আইসিসির কঠিন চ্যালেঞ্জে উতরে গেছে বাংলাদেশ। ২০২৭ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে সে বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে ৮ এর মধ্যে থাকতে হবে। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মিশনটাও পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ দিয়ে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচের জয়টি আবার রেকর্ডময়। পাকিস্তানকে এর আগে সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জার ম্যাচটি ছিল ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে, ১৬১ রানে ইনিংস গুড়িয়ে দেয়ার সেই অতীতকে ছাড়িয়ে মঙ্গলবার পাকিস্তানকে অল আউট করেছে ১১৪ রানে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এর আগে উইকেটের ব্যবধানে সর্বোচ্চ জয়টি ছিল মিরপুরে, ২০১৫ সালে ৮ উইকেটে। ২৫১ রান তাড়া করে সেই জয়টি সূচিত হয়েছিল ৩৯.৩ ওভারে। এবার ১১৫ রান তাড়া করে ৮ উইকেটের জয় উদযাপন করেছে বাংলাদেশ মাত্র ৯১ বল খেলে, ২০৯ বল হাতে রেখে!
No posts available.
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:০৩ পিএম

১১ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল, এই ৩২ দিন কী দারুণই না কেটেছে নাহিদ রানার। চাঁপাই-নবাবগঞ্জের এই ছেলেটি কচি আমের সুঘ্রানে পেয়েছেন একটু বেশিই রিদম। শুরুটা শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে আতঙ্ক ছড়ানো বোলিংয়ের মধ্য দিয়ে। শাহিবজাদা ফারহান, শামিল হোসেইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আগাকে হতভম্ব করে ফিরিয়ে দেয়া বোলিং (৭-০-২৪-৫) মনে রাখবে সবাই। পেস বোলিং কোচ শন টেইট শিখিয়ে দিয়েছিলেন-'গতিটাই তোমার সম্পদ, ওটা দিয়েই ঘায়েল করো।' কোচের ওই কথাটিই একটু বেশি পুলকিত করেছে ২৩ বছর বয়সী ছেলেটিকে।
সীমিত ওভারের ম্যাচে বোলারদের প্রতি যেখানে নির্দেশনা একটাই, উইকেট টু উইকেট বোলিং, উইকেটের চেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংটা মূখ্য। সেখানে এই দর্শনটা নাহিদ রানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বলে-কয়ে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন, শর্ট বল আর বাউন্সারে বাঘা-বাঘা ব্যাটারদের কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে পারেন, গত এক মাসে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাহিদ রানা অনবরত। মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওডিআই সিরিজে ৮ উইকেটের কৃতিত্বের ২০ দিন আগে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিক্রি হয়েছিলেন বেজ প্রাইস ৬০ লাখ রুপিতে ( বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা)। এতো কম দরে পেশোয়ার জালমিতে বিক্রি হয়ে সেই ফ্রাঞ্চাইজিকে ৬ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট টেবিলে এককভাবে শীর্ষে উঠিয়েছেন নাহিদ রানা।
গত ৮ এপ্রিল করাচিতে প্রথম ম্যাচে নিজেকে সেভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি। উইকেটহীন ৩০ রান খরচায় তাই ছিলেন অতৃপ্ত। ২৪ ঘন্টা পর নিজেকে বিশ্বমানের বোলার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন নাহিদ রানা। দুটি ম্যাজিক্যাল স্পেলে (২-০-৬-১, ২-১-১-২) করাচি কিংসের বিপক্ষে তার বোলিং ৪-১-৭-৩ এখন পর্যন্ত পিএসএলের চলমান আসরে সেরা মিত্যব্যয়ী। ওভারপ্রতি খরচা ১.৭৫, তার চেয়ে বড় কথা ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ২০টি-ই ডট! ৩টি উইকেটের দুটি বাউন্সারে, একটি ইয়র্কারে!
দুদিন পর একই ভেন্যুতে লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষেও ম্যাচ উইনার (৩-০-১৫-২)। ১৮টি ডেলিভারির মধ্যে ১২টি ডট। বিসিবিকে অনুরোধ করে একদিন বেশি নাহিদ রানার সার্ভিস নিতে পেরেছে পেশোয়ার জালমি। দেশে ফেরার লাগেজ গোছগাছ করে করাচি স্টেডিয়ামে এসেও হোম সিকনেসের ছিটেফোটা দেখা যায়নি তার চোখে-মুখের অভিব্যাক্তিতে। বোনাস সুযোগ পাওয়া ১৩ এপ্রিল রাতে মুলতান সুলতানসের বিপক্ষেও যথারীতি একই চেহারায় হাজির (৪-০-২৪-২)। প্রথম স্পেলে (২-০-১৬-০) ছিলেন অসন্তুষ্ট। শেষ ২৪ বলে ৪৬ রানের টার্গেট যখন অসম্ভব মনে করেনি মুলতান সুলতানস, তখন তাদেরকে পিলে চমকে দিয়েছেন নাহিদ রানা। ১৭তম ওভারে বাউন্সারে আরাফাত মিনহাসকে মিড অফে ক্যাচ দিতে বাধ্য করা ওভারে খরচ করেছেন ৬ রান। ১৯তম ওভারে মোহাম্মদ ইয়াসিরকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে প্রলুব্ধ করা ওভারে খরচ মাত্র ২ রান!
পিএসএল মিশনে ৪ ম্যাচে ৭ উইকেট। করাচি কিংসের বিপক্ষে ১৫৯ রানের জয়ই বলুন কিংবা লাহোর কালান্দাসের বিপক্ষে ৭৬ রানের জয়, মুলতান সুলতানসকে পেশোয়ার জালমির ২৪ রানে হারিয়ে দেয়া-তিনটি বড় জয়ের নায়ক নাহিদ রানা। ৪ ম্যাচে উইকেট পিছু খরচা ১০.৮৫। ৮৪ টি ডেলিভারির মধ্যে ৫২টি ডট! ওভারপ্রতি ইকোনমি মাত্র ৫.৪২।
৬ রাউন্ড শেষে পাকিস্তান সুপার লিগে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের সুনাম নিয়েই ফিরেছেন নাহিদ রানা ঢাকায়।
৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে লাহোর কালান্দার্সে বিক্রি হয়ে হৈ চৈ ফেলে দেয়া বাঁ হাতি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের দিকে ছিল সবার চোখ। ওভারপ্রতি ৭.১৭ রান খরচ করে ৫ ম্যাচে ৬ উইকেট পেয়ে কাটার মাস্টার করেছেন প্রত্যাশিত বোলিং। পেসার শরিফুল ( ৫ ম্যাচে ২ উইকেট), লেগ স্পিনার রিশাদ (৪ ম্যাচে ২ উইকেট) করেছেন গড়পড়তা বোলিং। তবে বাংলাদেশের এই তিন বোলারকে ছাড়িয়ে পিএসএলে বাজিমাত করেছেন নাহিদ রানা। করাচিতেই বইয়ে দিয়েছেন তিনি কালবৈশাখী ঝড়। বাংলা নববর্ষে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের দারুন বার্তা দিয়েছেন ছিপছিপে গড়নের দীর্ঘদেহী এই পেসার।

২০২২ সালে থাইল্যান্ডের কোহ সামুইতে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান কিংবদন্তি ক্রিকেটার শেন ওয়ার্ন। তবে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগস্পিনারের মৃত্যুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। ওয়ার্নের ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তার মতে, ওয়ার্নের অকাল মৃত্যুর পেছনে সম্ভবত সেই ‘তিন বা চারটি’ কোভিড ভ্যাকসিনের হাত ছিল, যা তাকে ‘কাজের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে নিতে হয়েছিল।’
শেন ওয়ার্ন যখন মারা যান, তখন কোভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাব কিছুটা হলেও ছিল। কোয়ারেন্টিন অবস্থা থেকে বেরোলেও অনেকেই প্রতিষেধক হিসেবে টিকা নিয়েছিলেন। যেটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে শিশু ও বৃদ্ধদের। ৫২ বছর বয়সী ওয়ার্নও নিয়েছিলেন টিকা। তাঁর ছেলে জ্যাকসনের দাবি জোর করে টিকা দেওয়াতেই মূলত অজি কিংবদন্তির মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছিল।
কদিন আগে ‘টু ওয়ার্ল্ডস কোলাইড’ নামক এক পডকাস্টে এসেছিলেন জ্যাকসন। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে ওয়ার্নের মৃত্যুতে করোনা টিকার কোনো প্রভাব ছিল কি না। উত্তরে জ্যাকসন বলেন,
‘আমি নিশ্চিত এখানে টিকা জড়িত ছিল।বাবার যদি আগে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকেও টিকার কারণে সেটা প্রকট হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। খবরটা পেয়েই আমার মনে হচ্ছিল কোভিডের টিকার কথা।’
জ্যাকসন বলেন, ‘(বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে) ফোনটা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই আমার প্রথম মনে হয়েছিল—এর জন্য সরকার দায়ী। আমি তৎক্ষণাৎ কোভিড এবং ভ্যাকসিনকে দায়ী করেছিলাম।’ জ্যাকসন জানান, সে সময় মেমোরিয়াল সার্ভিসে (স্মরণসভা) নিজের মনের এই কথাগুলো বলে ফেলা থেকে তিনি নিজেকে কোনোমতে আটকে রেখেছিলেন।
জ্যাকসন আরও বলেন,
‘সেদিন চুপ থাকাটাই হয়তো বুদ্ধিমানের কাজ ছিল, কারণ ওগুলো বললে আজ আমি অন্যরকম এক পরিস্থিতিতে থাকতাম। কিন্তু আমি মনে মনে ঠিক এমনটাই অনুভব করছিলাম।’
কিংবদন্তি বাবার জীবনযাত্রার বর্ণনা দিতে গিয়ে জ্যাকসন জানান,
‘শেন ওয়ার্ন ধূমপান বা মদ্যপান করলেও মোটামুটি স্বাস্থ্যকর জীবনই যাপন করতেন। তিনি বলেন, ‘বাবা তখন সুস্থ ছিলেন, হাসিখুশি ছিলেন। অনেক দিন পর তাকে খুব ভালো দেখাচ্ছিল। হ্যাঁ, তিনি ধূমপান ও মদ্যপান করতেন, কিন্তু আশি-নব্বই বছর বয়সী অনেক মানুষ বাবার চেয়েও অনেক বেশি এগুলো করেন (তবুও বেঁচে আছেন)।’
শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর পর থাই পুলিশ তাঁর ঘর থেকে কিছু ওষুধ সরিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগও উঠেছিল। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত কিংবদন্তির শরীরে উত্তেজক ওষুধও পাওয়া গিয়েছিল। তবে তাঁর ছেলে জ্যাকসন তা অস্বীকার করেছেন।
৮০০ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী মুত্তিয়া মুরালিধরন। এই তালিকায় লঙ্কান কিংবদন্তির পরই শেন ওয়ার্ন। ১৪৫ টেস্টে নিয়েছেন ৭০৮ উইকেট। ৩৭ বার নিয়েছেন ইনিংসে পাঁচ উইকেট। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন ১০ বার। ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত কিংবদন্তি লেগস্পিনার পেয়েছেন ২৯৩ উইকেট।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে অগ্রণী ভূমিকা রেখে জিতেছিলেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কার। বিশ্বকাপের সেরা হওয়ার পর এবার ‘আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ’ নির্বাচিত হয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। মার্চ মাসের সেরার পুরষ্কার জিতলেন ভারতীয় ওপেনার। মার্চের সেরা নারী ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছেন নিউ জিল্যান্ড অলরাউন্ডার অ্যামেলিয়া কার।
সতীর্থ জাসপ্রিত বুমরাহ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কনর এস্তেহেইজেনকে পেছনে ফেলে আইসিসির মাসসেরা হলেন স্যামসন। প্রথমবার আইসিসির এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি। দারুণ এই সম্মাননা পাওয়ার পর স্যামসন তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন, ‘আইসিসি প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ পুরস্কার জেতাটা সত্যিই এক অসাধারণ অনুভূতি। বিশেষ করে আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় এক সময়ে এই স্বীকৃতিটা এল। ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অংশ হতে পারা ছিল আমার কাছে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। সেই মুহূর্তের বিশালতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে আমার কিছুটা সময় লেগেছে।’
সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞা স্বীকার করে স্যামসন আরও যোগ করেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এটি একটি রোমাঞ্চকর সময়, কারণ এখন আমাদের দলে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। আমি যে সুযোগ পেয়েছি এবং সতীর্থ ও কোচিং স্টাফরা আমার ওপর যে আস্থা ও সমর্থন রেখেছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তাদের কারণেই আমি মাঠে নিজের সেরাটা দিতে পেরেছি।’
বিশ্বকাপের শুরুর দিকে সঞ্জু নিয়মিত একাদশে ছিলেন না। তবে সুপার এইট-এর বাঁচা-মরার লড়াইগুলোতে শেষ পর্যন্ত তাকে দলে ডাকা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৪ রান দিয়ে শুরু করার পর, এই ওপেনার ব্যাট হাতে এতটাই আলো ছড়ান যে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
১ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও, তার অপরাজিত ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি ভারতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে দেয়। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর করা ঝোড়ো ৮৯ রানের ইনিংস ভারতকে ২৫৩/৭ রানের পাহাড়সম পুঁজি এনে দেয়। ৫ মার্চের সেই ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড মাত্র ৭ রানে হারের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
এরপর আহমেদাবাদে শিরোপা ধরে রাখার মিশনেও (ফাইনাল) তার ব্যাট থেকে আসে ঠিক একই —৮৯ রান। ৩১ বছর বয়সী উইকেটকিপিং ব্যাটারের অসাধারণ ইনিংসে ভর করেই ভারত ৯৬ রানের বিশাল জয় নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
মার্চে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে স্যামসন মোট ২৭৫ রান সংগ্রহ করেন। এই সময়ে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল অবিশ্বাস্য ১৩৭.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল চোখ ধাঁধানো ১৯৯.২৭। বিশ্বমঞ্চে এই ওপেনারের এমন দানবীয় পারফরম্যান্স তাকে কেবল টানা দুই ম্যাচে 'প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ'-এর পুরস্কারই এনে দেয়নি, পাশাপাশি আইসিসি টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২০-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে।
মার্চের বিশ্বসেরা অ্যামেলিয়া কার ব্যাট-বলের দাপটে জিতলেন আইসিসি মাসসেরার মুকুট। নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার অ্যামেলিয়া কার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত একটি মাস পার করে আইসিসি নারী মাসসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন।
ব্যাট এবং বল—উভয় বিভাগেই অ্যামেলিয়া ছিলেন অনন্য। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে মাত্র ৩ ম্যাচে তিনি শিকার করেছেন ১৬টি উইকেট! এর মধ্যে এক ম্যাচেই মাত্র ৩৪ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি, যা তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। পাশাপাশি ব্যাট হাতেও তিনি দলের বড় শক্তি ছিলেন। ওয়ানডে সিরিজে ছিলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। তিন ম্যাচে ৪৬.৬৭ গড়ে তিনি করেছেন ১৪০ রান।

পিএসএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলার কথা ছিল তাঁর। তবে ফ্রাঞ্চাইজি এই লিগটির সঙ্গে চুক্তি ছেড়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেন ব্লেসিং মুজাবারানি। জিম্বাবুয়ের পেসারের এমন সিদ্ধান্তে আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পেলেন মুজাবারানি। পিএসএলের পরবর্তী দুটি আসর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাকে।
লোভনীয় প্রস্তাব পেয়ে আইপিএলে যোগ দিতে পিএসএল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন মুজাবারানি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেয় কলকাতা। চোটের কারণে আইপিএল থেকে ছিটকে যান ভারতীয় পেসার হর্ষিত রানাও। মূলত বোলিংয়ে তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণ করতেই তাকে দলে নেওয়া হয়।
এই শাস্তির বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিএসএল কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে, টুর্নামেন্টের মর্যাদা ও অখণ্ডতা সকল অংশগ্রহণকারীর ধারাবাহিক এবং নৈতিক আচরণের ওপর নির্ভর করে।
পিএসএল-এর পেশাদার পরিবেশ রক্ষায় এই দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লিগ কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর যে, এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে টিকে থাকবে যেখানে চুক্তির নিশ্চয়তাকে সম্মান করা হয় এবং যেখানে সকল খেলোয়াড় ও এজেন্টের আচরণ টুর্নামেন্টের মর্যাদাকে ফুটিয়ে তোলে।
আধুনিক ক্রিকেটের সূচির জটিলতাগুলো পিএসএল কর্তৃপক্ষ উপলব্ধি করলেও, তারা নৈতিক কাঠামোর বিষয়ে কোনো আপস করবে না। এই কাঠামোই মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রতি ন্যায্যতা এবং লিগের দল গঠন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। পিসিবি নিশ্চিত করেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা চুক্তি লঙ্ঘনের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে এবং আগামী দুটি পিএসএল মৌসুমে তা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
পিসিবি জানায়, চুক্তিবদ্ধ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে খেলোয়াড়ের ব্যর্থতার বিষয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ শৃঙ্খলামূলক পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের মতে, এ ধরনের আচরণ লিগের পেশাদার কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পিসিবি পিএসএল-এর চুক্তিবদ্ধ চুক্তির মর্যাদা রক্ষা এবং উচ্চমানের পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
পিসিবি-র মতে, পেশাদার ক্রিকেট চলে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং চুক্তির নিশ্চয়তার ওপর ভিত্তি করে। এই ক্ষেত্রে, পারিশ্রমিক ও কাঠামোসহ সব অপরিহার্য শর্তাবলীতে স্পষ্ট প্রস্তাব এবং দ্ব্যর্থহীন সম্মতি থাকা সত্ত্বেও, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় একটি সাংঘর্ষিক প্রস্তাবের পক্ষে সেই বাধ্যবাধকতাগুলোকে উপেক্ষা করেছেন।
পিসিবি গুরুত্বারোপ করে বলেছে যে, একবার লিখিতভাবে প্রয়োজনীয় শর্তাবলীতে একমত হওয়ার পর তা একটি বাধ্যতামূলক চুক্তিতে পরিণত হয়। কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই এ ধরনের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার চেষ্টা চুক্তিবদ্ধ কর্তব্যের লঙ্ঘন এবং বিশ্বব্যাপী পেশাদার খেলাধুলা পরিচালনাকারী নীতিমালার পরিপন্থী।
এবারের আইপিএলে কেকেআরের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন মুজাবারানি। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ৩৪ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ৪১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

জয়ের জন্য মুলতান সুলতান্সের প্রয়োজন ৪৬ রান। পেশাওয়ার জালমিকে জেতানোর দায়িত্ব পড়ল দুই বাংলাদেশি পেসার শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার কাঁধে। ডেথ ওভারে চমৎকার বোলিং করলেন দুই পেসার। অনায়াসেই জিতে গেল পেশাওয়ার।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) সোমবার রাতে মুলতানকে ২৪ রানে হারিয়েছে শরিফুল-নাহিদদের পেশাওয়ার। আগে ব্যাট করে ১৯৬ রান করে পেশাওয়ার। জবাবে বাংলাদেশের দুই পেসারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৭২ রানের বেশি করতে পারেনি মুলতান।
চলতি পিএসএলে এটিই ছিল শরিফুল ও নাহিদের শেষ ম্যাচ। তাদের ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ১২ এপ্রিল। তবে ১৩ তারিখ ম্যাচ থাকায় বাড়তি আরেক দিন ছুটি চেয়ে নেন দুই পেসার। আর সেই ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে দারুণ জয়ই উপহার দিলেন তারা।
৬ ম্যাচে ৫ জয় ও এক পরিত্যক্ত ম্যাচসহ ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই এখনও পেশাওয়ার। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে মুলতান।
দেশে ফেরার আগে শেষ ম্যাচটিতে ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। শরিফুল কোনো উইকেট না পেলেও, ৪ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ২৭ রান। শেষের ৪ ওভারে ৪৬ রানের সমীকরণে তারা দুজন মিলে ৩ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১৩ রান।
সব মিলিয়ে পিএসএলে নিজের অভিষেক আসরে ৪ ইনিংসে মাত্র ১০.৮৫ গড় ও ৫.৪২ ইকোনমি রেটে ৭টি উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। টুর্নামেন্টে অন্তত ১ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে তার ইকোনমিই সেরা। আর শরিফুল ৫ ইনিংসে ওভারপ্রতি ৭.৯৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।
পিএসএল অধ্যায় শেষ করে এবার মঙ্গলবার সকালে দেশে ফেরার কথা রয়েছে নাহিদ ও শরিফুলের। এর আগে রোববার সকালে একসঙ্গে পিএসএল থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন।
আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হবে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এর জন্য বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিক অনুশীলন শুরু করবে বাংলাদেশ। ওয়ানডের লড়াই শেষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে দুই দল।