
একাধিকবার এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেও চ্যাম্পিয়নের তালিকায় নেই বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবার ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্যে গেছেন লিটন দাসরা। ২০২৫ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হওয়ায়, কাজটা সহজ হওয়ারও কথা নয়।
চ্যাম্পিয়ন হতে পারে যেকোনো দল। তবে বাংলাদেশকে উপেক্ষা করলে ‘বড়’ ভুল করবে দলগুলো- টি স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপকালে গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ ক্রিকটে বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও নারী বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যূহাইরাহ মৌ।
টানা তিন সিরিজ জিতে এশিয়া কাপে পা রেখেছে বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি থাকার কথা। তবুও বর্তমানে দলের অবস্থা আসলে কেমন? এশিয়া কাপ নিয়ে দল কতটা আশাবাদী?
নাজমুল আবেদীন ফাহিম: আমার কাছে মনে হয়, এখন আমাদের যে দল, এই দলটা বেশ গোছানো এবং ওরা জানে ওদের কি করতে হবে। এটা একটা শক্তির জায়গা আমাদের দলের জন্য এবং দলটা আত্মবিশ্বাসী। এটা শুধু এই জন্য না- আমরা গত তিনটা সিরিজ জিতেছি সেজন্য না। প্রত্যেক ইন্ডিভিজুয়াল ক্যাপাসিটি ওরা এখন অনুমান করতে পারে। ওরা যে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, আমাদের দলে অনেক আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় আছে এটা তারা জানে এবং ওরা ওদের ভূমিকাগুলো জানে। আমি খুব আশাবাদী। তারপরে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ তুমি জানো না, কি কি হয়। কিন্তু আমি খুবই আশাবাদী।
কেউ কেউ এখন বাংলাদেশকে ছোট করে দেখছে। দেশের বাইরের বিভিন্ন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা খেলোয়াড়দের যোগ্যতা ও অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। সে ব্যাপারে কি কিছু বলতে চান?
ফাহিম: কেউ যদি বাংলাদেশ দলকে উপেক্ষা করে তাহলে খুব ভুল করবে। এটা আমি বলতে পারি। আশা করব যে বাংলাদেশ দল ভালো করবে। আমরা একটা জিনিস কিন্তু কনসিস্টেন্টলি দেখতে পাচ্ছি যে আমাদের টপ অর্ডার রান হচ্ছে। এটা কিন্তু যদি আমরা তিন মাস চার মাস ছয় মাস আগেও দেখতাম, আমরা যেহেতু সব সময় ফেল করছি। কিন্তু গত তিন মাসে বা গত দু-মাসে আমরা দেখেছি আমাদের টপ পারফর্ম করছে। আমাদের বোলারদের পারফরম্যান্স কিন্তু খুবই প্রশংসনীয়। আমি খুব আশাবাদী এখন দেখতে হবে নির্দিষ্টি দিনে আমরা কেমন করি। আমরা মানসিকভাবে কি অবস্থায় থাকি, আমি আশাবাদী।
টপ অর্ডারের রানের কথা বললেন। সবশেষ নেদারল্যান্ডস সিরিজে বড় শট দেখিয়ে প্রশংসায় ভেসেছে বাংলাদেশ দল। টপ অর্ডারও রান পাচ্ছে বেশ কিছু সময় ধরে। সত্যিই কি এখন বলা যায় যে পাওয়ার হিটিংয়ে উন্নতি চলে এসেছে দলে?
ফাহিম: আমি কয়েক দিন আগে দেখছিলাম একটা ডাটা দেখছিলাম যেখানে বাংলাদেশের সম্প্রতি সিক্স হিটিং এবিলিটি অন্যান্য অনেক দেশের কাছাকাছি আছে। আমরা পাওয়ার হিটিংয়ে সম্প্রকি ভালো করেছি। পাওয়ার হিটিংয়ে কাজ করার আগে থেকেই। তারপরও আমি বলব, আমরা সবাই হয়তো ওই মানের পাওয়ার হিটার না। সেখানে যারা একটু পিছিয়ে আছে তাদের জন্য এই এই কাজগুলো কাজে আসবে। আমরা পাওয়ার হিটিং কোচকে নিয়ে এসে ছিলাম, তার উপস্থিতি, পাশাপাশি যারা ভালো হিট করে তারা হয়তো কিছুটা লাভবান হয়েছে।
এটাতো অনুশীলনের ব্যাপার। সব সময় চেষ্টা করার ব্যাপার এটা করতেই থাকবে। এটা হয়তো এখন আমাদের যারা কোচ আছে তাদের অধীনে ওই কোচ যা করিয়ে গেছে সেটা চালিয়ে যাবে। আমাদের ইচ্ছা আছে আমরা ভবিষ্যতে যখন সময় সুযোগ মতো যখন ওদের ট্রেনিংয়ের প্রোগ্রামগুলো চলবে, শুধু জাতীয় দল না অন্যান্য অনূর্ধ্ব-১৫ হোক এইচপি হোক তখনও এই ধরনের কোচকে নিয়ে আসব।
অল্প সময়েও পাওয়ার হিটিং কোচের সঙ্গে কাজ করে ভালোই ফল পেয়েছে দল। সামনে টাইগারদের উন্নতিতে বিসিবির এমন আরো উদ্যোগের সম্ভাবনা আছে?
ফাহিম: শুধু পাওয়ার হেটিং কোচ না স্পেশালিস্ট হয়তো একজন লেগ স্পিন কোচ খুব বড় উঁচু মানের একজন লেগ স্পিন কোচ হোক কিংবা একজন ফাস্ট বোলিং কোচ হোক, শর্ট সময়ের জন্য নিয়ে আসব। আমাদের টপ র্যাংকিং প্লেয়ার যারা আছে এলিট প্লেয়ার যারা আছে তাদেরকে নিয়ে যেন কাজ করতে পারে। আমরা ধরে নিয়েছিলাম আমাদের সিনিয়র প্লেয়ার যারা আছে এস্টাবলিশ প্লেয়ার যারা আছে ডেফিনেটলি তারা যোগ্য এবং তাদের উপরই আমাদের নির্ভরশীলতা বেশি থাকবে। অন্যরা ভালো হলেও তারা পাশে পাশেই একটা সহ অবস্থান অবস্থায় থাকবে। আসলে এভাবে একটা দল তৈরি হতে পারে না কিন্তু। ১১ জনের খেলায় ১১ জনকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। এখানে সবাই হিরো, এখানে পার্শ্বচরিত্র বলে কিছু নেই কিন্তু।
অনেক পরিচিত নাম ছাড়াই এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ। সাকিব-তামিমসহ অনেক সিনিয়র প্লেয়ারই নাই এখন দলে। তাঁদের না থাকার কোনো প্রভাব কি দেখেন দলে? সেই সিনিয়রদের দায়িত্ব কি ঠিকঠাক বর্তমান খেলোয়াড়েরা নিতে পারছে?
ফাহিম: আমার মনে হয় এই দলটাতে এখন পার্শ্বচরিত্রে কেউ নেই। এখানে তানজিম সাকিবও ওই লাস্টে গিয়ে হয়তো ১২ বলে গিয়ে যদি ২৫ রান করতে পারে তাহলে হয়তো আমরা ম্যাচ জিতবো। সে সেটা জানে এবং সেভাবে সে তৈরি হচ্ছে। সো সবাই ইম্পর্টেন্ট এখানে যে খেলছে এমনকি যে খেলছে না সেও। তো প্রত্যেকে যার যার রোল সম্পর্কে অবগত আছে এবং প্রত্যেকেই সে চেষ্টাটাই করবে এবং টিম কালচারটাই ওরকম এখন, যে কেউ সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ না। সেটা লিটন কুমার দাস ই হোক কিংবা তাওহীদ হৃদয় হোক কিংবা তাসকিন হোক। সবাই গুরুত্বপূর্ণ।
তিন তিনবার ফাইনাল খেলে হৃদয়ভাঙা হার জুটেছে এশিয়া কাপে। বাংলাদেশের জন্য তাই এই মঞ্চ একটু বেশি আবেগের। বাংলাদেশ কি এবার এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে?
ফাহিম: আমি যেই আত্মবিশ্বাস দেখছি, আত্মবিশ্বাস তো এমনি এমনি হয় না। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মধ্যে যে আস্থার ব্যাপারটা আছে, নিজেকে নিয়ে যে আস্থা এবং দলের যেই আবহ ড্রেসিং রুমে আবহ সবকিছু মিলে আমি আশাবাদী এই দলটাই এশিয়া কাপে ভালো খেলবে। এটা সবার ভালো লাগবে। বাংলাদেশের খেলা সবার ভালো লাগবে। ফল কি হবে এটা বলা যায় না যে আমরা কি চ্যাম্পিয়ন হতে পারব কি পারব না এটা আমি জানি না এভাবে বলাটা খুব মুশকিল।
তবে যদি ফাইনাল খেলি আমরা খুব অবাক হব না। এটা মানে হঠাৎ করে হয়ে গেল এমন হবে না। আমরা যদি ফাইনাল খেলি নিজের যোগ্যতায় আমরা ফাইনাল খেলব। সে যোগ্যতা আমাদের আছে, আমরা ফাইনাল খেলার যোগ্যতা রাখি অনেক ইভেন্টে আমরা ভারতকে অবশ্যই হারাতে পারি।
No posts available.

বেলজিয়ামভিত্তিক ইউরোপীয় টি–টোয়েন্টি লিগে (ইইউটি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম) নাম লিখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ ব্যাটার রাসি ফন ডার ডুসেন। ২০২৬ সালে শুরু হতে যাওয়া এই লিগের জন্য নিবন্ধন করা প্রথম বড় তারকাই তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ইউরোপের নতুন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিজের আগ্রহের কথা জানান ফন ডার ডুসেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা ইইউটি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম লিগের প্রথম আসর হওয়ার কথা আগামী বছরের মে–জুনে। ছয়টি দল নিয়ে আয়োজন করা হবে এই টুর্নামেন্ট, যেখানে অংশ নেবে অ্যান্টওয়ার্প, ব্রুজ, লুভেন, লিয়েজ, গেন্ট ও ব্রাসেলস শহরের প্রতিনিধিরা। লিগটির অ্যাম্বাসাডর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান।
বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এসএ-টোয়েন্টিতে এমআই কেপটাউনের হয়ে খেলছেন ডুসেন। গত বছরের মেগা নিলামে তাঁকে আবার দলে ফেরায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। চলতি মৌসুমে পাঁচ ইনিংসে ১৩৮ রান করে তিনি এখন পর্যন্ত সপ্তম সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৩৩.৯৮, যা শীর্ষ দশ রানসংগ্রাহকের মধ্যে সবচেয়ে কম।
এর আগে ২০২৫–২৬ মৌসুমের সিএসএ টি–টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জেও ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ছিলেন ডুসেন। ছয় ইনিংসে ২৭৫ রান করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডুসেনের সবশেষ উপস্থিতি ছিল ২০২৫ সালের আগস্টে। অস্ট্রেলিয়া সফরে দক্ষিণ আফ্রিকার সাদা বলের দলে ছিলেন তিনি এবং তিনটি টি–টোয়েন্টির মধ্যে দুটিতে খেলেন। ওয়ানডেতে তাঁর শেষ ম্যাচ ছিল ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। আর টেস্ট ক্রিকেটে ২০২২ সালের পর আর দেখা যায়নি তাঁকে।
২০২২ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ার–সেরা দুই নম্বরে উঠেছিলেন ডুসেন। সে বছর নয় ম্যাচে ৪৭৬ রান করেছিলেন, গড় ছিল ৭৯.৩৩ এবং স্ট্রাইক রেট ১০০.৪২। করেছিলেন দুটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটি।

এবারের বিপিএলে দারুণ ছন্দে আছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। আর পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা এই ফ্রাঞ্চাইজিটির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছিলেন অ্যাডাম রসিংটন। তবে চট্টগ্রামের জন্য বড় দুঃসংবাদ, দলটির ইংলিশ এই ব্যাটার চোটে পড়ে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন।
গতকাল সিলেটে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের সময় ওই চোট পান রসিংটন। বিনুরা ফার্নান্দোর খানিকটা লাফিয়ে ওঠা বল আঘাত করে অ্যাডাম রসিংটনের আঙুলে, ব্যাথায় কাতর হয়ে ওঠা এই ব্যাটার মাঠে শুশ্রূষার পর আবার ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন যান। তবে খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। পুরোনো চোটের জায়গাতেই নাকি আবার আঘাত পেয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
বিপিএলের এবারের আসরে আর খেলার সুযোগ না থাকায় নিজ দেশের ফিরছেন রসিংটন এক ভিডিওবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবাল খান। নাফিস জানান,
‘রসিংটনের যে আঙুলে চোট লেগেছে সেখানে আগেও চোট ছিল তার। গতকাল ইনজুরির পর আঙুলের স্ক্যান করানো হয়। তাকে ২ সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। আর সে কারণেই এবার দেশে ফিরে যাচ্ছেন তিনি। নাফিস জানিয়েছেন, রসিংটনের জায়গায় বিকল্প ব্যাটারের সন্ধান শুরু করে দিয়েছে চট্টগ্রাম।’
বিপিএলে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান করেছেন রসিংটন। প্রথমবার বিপিএল খেলতে এসে ৬৫.৫০ গড় ও ১৩৯.৪৫ স্ট্রাইক রেটে ২৫৮ রান করেছেন তিনি। মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গে বেশ কার্যকর উদ্বোধনী জুটি গড়ে তুলেছিলেন রসিংটন। এছাড়া উইকেটের পেছনেও অসাধারণ ৩২ বছর বয়সী ক্রিকেটার। এক ম্যাচে চার স্টাম্পিংয়ের রেকর্ডও করেছেন।
এবারের বিপিএল শুরুর আগে মালিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা গেলেও টুর্নামেন্ট শুরুর পর সবাইকে চমকে দিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলে ৫ জয় নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আছে ফ্রাঞ্চাজিটি। এরমধ্যেই সেরা তারকাকে হারানো বড় ধাক্কাই দলটির জন্য। চট্টগ্রামের পরের ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার মিরপুরে নোয়াখালীর বিপক্ষে।

দুইদিন আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন উসমান খাজা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটার। অবসরের দু’দিন পর বিগ ব্যাশে মাঠে নেমেই ম্যাচসেরা হলেন খাজা।
ব্রিসবেনে আজ প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ডেভিড ওয়ার্নারের ৮২ রানের ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ১৮০ রান তোলে সিডনি থান্ডার। জবাবে উসমান খাজার ৪৮ বলে ৭৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের নৈপুণ্যে ২২ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় ব্রিসবেন হিট।
রান তাড়ায় ম্যাট রেনশোর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন খাজা। ম্যাচে ৩০ বলে ফিফটি তুলে নেন তিনি। খাজার ৭৮ রানের ইনিংসে ছিল ৭ টি চার ও ৩ টি ছক্কা।
জয় থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতে আউট হন ব্রিসবেন হিট অধিনায়ক খাজা। সাজঘরে ফেরার সময় দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান সদ্য বিদায়ী ওপেনারকে।
গত ২ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায়ের ইতি টানার ঘোষণা দেন খাজা। সিডনিতে অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্ট খেলার মধ্য দিয়ে ঘরের মাঠ থেকে ৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন তিনি।
টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ৮৮ ম্যাচে ৬,২২৯ রান করেছেন খাজা। ওয়ানডেতে ৪০ ম্যাচে করেছেন ১৫৫৪ রান, টি-টোয়েন্টিতে ৯ ম্যাচে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই বাঁহাতি ওপেনার করেছেন ২৪১ রান।
বিগ ব্যাশে ৮ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বরে ব্রিসবেন হিট। ১৪ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে উসমান খাজার ব্রিসবেন হিট।

ক্রিকেট খেলতে খেলতেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ভারতের ক্রিকেটার খাওলহরিং লালরেমরুয়াতা। বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলার সময় হঠাৎ মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩৮ বছর।
রাইডার্স ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খালেদ মেমোরিয়াল দ্বিতীয় বিভাগ স্ক্রিনিং টুর্নামেন্টে খেলছিলেন লালরেমরুয়াতা ভেঙনুয়াই। সাইরাং রেলস্টেশনের কাছে সুয়াকা ক্রিকেট মাঠে ম্যাচ চলাকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মিজোরাম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (সিএএম) জানিয়েছে, ম্যাচ চলাকালীন লালরেমরুয়াতা স্ট্রোক করেন। দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
উইকেটকিপার হিসেবে খেলা লালরেমরুয়াতা মিজোরামের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে দুটি ও সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে সাত ম্যাচ খেলেছেন। ২০১৮ সালে মেঘালয়ের বিপক্ষে তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়। সবশেষ ২০২২ সালে নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়েও পরিচিত মুখ ছিলেন লালরেমরুয়াতা। বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলার পাশাপাশি মিজোরামের সিনিয়র টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় লালরেমরুয়াতার পরিবার ও মিজোরাম ক্রিকেট মহলের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মিজোরামের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী লালনঘিংলোভা হামারও।

রংপুর রাইডার্সের শীর্ষস্থান নিশ্চিত নাকি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের লজ্জার রেকর্ড থেকে রেহাই—বিপিএলের আজ বিপরীত সমীকরণ মাথায় রেখে খেলতে নেমেছিল দু’দল। শেষ পর্যন্ত সম্মান রক্ষা হয়েছে প্রথমবার বিপিএলে অংশ নেওয়া নোয়াখালীর। টানা ছয় ম্যাচে হারের পর সপ্তম ম্যাচে ৯ রানে জয় পেয়েছে হায়দার আলীর নেতৃত্বাধীন দলটি।
তুমুল আগ্রহ-উদ্দীপনা ও দর্শক সমর্থন নিয়ে প্রথমবার বিপিএল ক্রিকেট খেলতে এসে একের পর এক শুধু ব্যর্থতাই দেখছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। একে একে টানা ছয়টি ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্টে সবার নিচে রয়েছে বিপিএলের নবাগত দলটি। ২০১২ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম সংস্করণে টানা সাত ম্যাচ পরাজয়ের পর অষ্টম ম্যাচে গিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল সিলেট রয়্যালস। টানা হারের সেই লজ্জার রেকর্ডে ভাগ বসানোর শঙ্কা ছিল নোয়াখালীর। তবে অবশেষে জয় পেয়ে সেই অপ্রীতিকর রেকর্ড এড়াল তারা।
শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান করে নোয়াখালী। জবাবে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৯ রানে থামে রংপুর।
এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে উন্নতি হয়নি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। ষষ্ঠ নম্বরেই অবস্থান করছে দলটি। আজ জিতলে ১০ পয়েন্ট হতো রংপুর রাইডার্সের। নেট রান রেটে ভর করে বন্দর নগরীর ফ্রাঞ্চাইজিকে পেছনে ফেলার সুযোগ ছিল তাদের। তবে দুই পয়েন্ট না পাওয়া দুইয়েই অবস্থান করছে রংপুর।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো ছিল না রংপুরের। দলীয় ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় তারা। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বলে লিটন দাস বোল্ড হওয়ার পর ডেভিড ম্যালানকে বোল্ড করেন স্পিনার নবী।
অবশ্য দুই ওপেনারকে হারানোর পরও পথ হারায়নি রংপুর। তৃতীয় উইকেটে ৫১ বলে ৬৩ রান যোগ করেন তাওহিদ হৃদয় ও ইফতিখার আহমেদ। তাদের দুর্দান্ত এই জুটি শেষ হয় জহির খানের বলে ৩১ বলে ৩৭ করা ইফতিখার আউট হলে।
১৪.৫ ওভারে ১০০ রান তোলার পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেটও হারায় রংপুর। সবশেষ তিন ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করা এই ব্যাটার আউট হন ৮ বলে ৯ করে। আরও ৭ রান যোগ হতেই উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া হৃদয়ও আউট হয়ে সমীকরণ কঠিন করে ফেলেন রংপুরের। পঞ্চম উইকেট পতনের পর জয়ের জন্য শেষ চার ওভারে রংপুরের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ রান।
এবারের বিপিএলে ব্যর্থতার ধারা বজায় রাখেন সোহান। মেহেদী হাসান রানার বলে ৬ বলে ৪ রান করে আউট হয়ে দলকে আরও বিপদে ফেলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। আট নম্বর ব্যাটার হিসেবে মাঠে নামেন মৃত্যুঞ্জয়।
এরপর রংপুরকে জেতানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিলেও ব্যর্থ হন খুশদিল শাহ। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় ২৩ রান। বিলাল সামির করা ১৯তম ওভারে ৮ রান তোলার পর শেষ ওভারে লক্ষ্য দাড়ায় ১৫ রান।
নোয়াখালীর হয়ে শেষ ওভার করতে আসেন আগের তিন ওভারে ২১ রান দিয়ে এক উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ। মাত্র পাঁচ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে নোয়াখালীকে প্রথম জয় এনে দেন তিনি। তাঁর করা প্রথম ডেলিভারিতেই ১৬ বলে ২৪ করা খুশদিল আউট হন সৌম্য সরকারের ক্যাচ হয়ে। পরের বলে সিঙ্গেল নেওয়ার পর তৃতীয় বলে আউট হন মৃত্যুঞ্জয়ও। দশ নম্বরে নামা মোস্তাফিজ চার মেরে রংপুরকে আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসে নোয়াখালীই।
টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শেষ দিকে ব্যাটিং ধসের কবলে পড়ার আগে শুরুটা মন্দ ছিল না নোয়াখালীর। প্রথম ৬ ওভারে তারা তুলেছিল ৬৬ রান। তবে ১৬ বলে ৩০ রান করা হাবিবুর রহমান সোহান, আর ২৭ বলে ৩১ করা সৌম্য সরকারের শুরুটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় নোয়াখালী।
প্রথম ২ ওভারেই ২৫ রান তুলে নোয়খালী। রংপুর পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর প্রথম ওভার থেকে এসেছে দলটি তোলে ১৪ রান। এরপর ডানহাতি স্পিনার ইফতিখার আহমেদের ওভার থেকে এসেছে ১১।
আক্রমণে এসেই নোয়াখালীর ওপেনিং জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর প্রথম বলেই ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে টেনে বোল্ড হয়েছেন শাহাদাত হোসেন। ৮ বলে ৩ চারে ১৪ রান করেছেন এই ব্যাটার।
দ্বিতীয় উইকেটে সোম্য-সোহানের ৪৫ রানের জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন সুফিয়ান মুকিম। ৩০ রান করা হাবিবুর পাকিস্তানি স্পিনাররের বলে লং অনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর জোড়া আঘাত করেন রংপুরের স্পিনার খুশদিল শাহ। ওভারের প্রথম বলে ৩১ রান করা সৌম্যকে ফেরানোর পর দ্বিতীয় বলে বোল্ড করেন মোহাম্মদ নবীকে।
স্কোরবোর্ডে আর ৫ রান যোগ হতেই আরেক ব্যাটার সাজঘরের পথ ধরেন। ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার গতিতে করা নাহিদ রানার শর্ট বলটি থেকে কোনোভাবে বাঁচতে চেয়েছিলেন হায়দার আলী। তবে বল গ্লাভসে লেগে চলে যায় উইকেটকিপার নুরুল হাসানের হাতে। ৪ বলে ১ রান করেছেন হায়দার।
৮৯ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া নোয়াখালীকে এরপর পথ দেখান জাকের আলী ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ধীরলয়ে ব্যাটিং করা জাকের করেন ৩৮ বলে ৩৭ আর অঙ্কনের ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে ২৮ রানের ইনিংস।
দলীয় ১৩৮ রানে টানা দুই বলে জাকের ও মেহেদীকে ফেরানোর হাসান মাহমুদকেও আউট করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে এই পেসার নিজেই ক্যাচটা নিতে পারেননি। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের সফলতম বোলার তিনি।
মোস্তাফিজ না পারলেও হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি। একমাত্র বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিপিএলে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের মালিক হলেন তিনি। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে মাহিদুল, চতুর্থ বল মেহেদী রানা ও পঞ্চম বলে বিলাল সামিকে আউট করেন মৃত্যুঞ্জয়। ২.৫ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। এর আগে ২০২২ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এই বাঁহাতি পেসার।
মৃত্যুঞ্জয়ের হ্যাটট্রিকের দিন গতির ঝড় তুলে ৪ ওভারে ১৭ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট নেন নাহিদ। বাঁহাতি স্পিনার খুশদিল শাহ ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।