১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:১৬ পিএম

চলতি বিপিএলে তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেলেন রিপন মন্ডল। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে ক্রিকেটের কঠিন এই কীর্তিতে নাম লেখালেন রাজশাহী ওয়ারয়ির্সের তরুণ পেসার।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৯ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৮ রান করে ঢাকা। শেষ ওভারে বল করতে আসেন প্রথম ৩ ওভারে ২৮ রান দেওয়া রিপন। ওভারের প্রথম তিন বলে মাত্র ৩ রান দেন ছন্দে থাকা পেসার।
পরে চতুর্থ বলে বড় শটের খোঁজে ক্যাচ আউট হয়ে যান সাব্বির রহমান। পরের বলে জিমি নিশামের হাতে ক্যাচ দেন জিয়াউর রহমান শরিফি। আর হ্যাটট্রিক বল ফেরাতে পারেননি তাইজুল ইসলাম। তাকে বোল্ড করে আনন্দে মাতেন রিপন।
চলতি বিপিএলে তার আগে হ্যাটট্রিকের দেখা পান নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মেহেদি হাসান রানা (সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে) ও রংপুর রাইডার্সের মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে)।
সব মিলিয়ে বিপিএল ইতিহাসে ১১তম হ্যাটট্রিক করেছেন রিপন৷ তবে এই ১১টি হ্যাটট্রিক করেছেন মোট ১০ জন বোলার। একমাত্র বোলার হিসেবে দুটি হ্যাটট্রিক করেছেন মৃত্যুঞ্জয়। এর আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ২০২২ সালের বিপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিক করেন তিনি।
এছাড়া স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের বোলারদের ১১তম হ্যাটট্রিক এটি। তবে এই ১১টি হ্যাটট্রিক করেছেন মোট ৯ জন বোলার। মৃত্যুঞ্জয় ছাড়াও আল আমিন হোসেনের আছে দুইটি হ্যাটট্রিকের কীর্তি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশি বোলারদের হ্যাটট্রিক তালিকা
১/ আলআমিন হোসেন (বিসিবি একাদশ) - প্রতিপক্ষ আবাহনী লিমিটেড (২০১৩)
২/ আলআমিন হোসেন (বরিশাল বুলস) - প্রতিপক্ষ সিলেট সুপারস্টারস (২০১৫)
৩/ আলিস আল ইসলাম (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স (২০১৯)
৪/ মানিক খান (প্রাইম দোলেশ্বর) - প্রতিপক্ষ বিকেএসপি (২০১৯)
৫/ কামরুল ইসলাম রাব্বি (ফরচুন বরিশাল) - প্রতিপক্ষ মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী (২০২০)
৬/ আলাউদ্দিন বাবু (ব্রাদার্স ইউনিয়ন) - প্রতিপক্ষ লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ (২০২১)
৭/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স)- প্রতিপক্ষ সিলেট সানরাইজার্স (২০২২)
৮/ শরিফুল ইসলাম (দুর্দান্ত ঢাকা) - প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (২০২৪)
৯/ মেহেদি হাসান রানা (নোয়াখালী এক্সপ্রেস) - প্রতিপক্ষ সিলেট টাইটান্স (২০২৫)
১০/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (রংপুর রাইডার্স) - প্রতিপক্ষ নোয়াখালী এক্সপ্রেস (২০২৬)
১১/ রিপন মন্ডল (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স) - প্রতিপক্ষ ঢাকা ক্যাপিটালস (২০২৬)
বিপিএলে হ্যাটট্রিক তালিকা
১/ মোহাম্মদ সামি (দুরন্ত রাজশাহী) - প্রতিপক্ষ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস (২০১২)
২/ আলআমিন হোসেন (বরিশাল বুলস) - প্রতিপক্ষ সিলেট সুপারস্টারস (২০১৫)
৩/ আলিস আল ইসলাম (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স (২০১৯)
৪/ ওয়াহাব রিয়াজ (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস) - প্রতিপক্ষ খুলনা টাইটানস (২০১৯)
৫/ আন্দ্রে রাসেল (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ চিটাগং ভাইকিংস (২০১৯)
৬/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স) - প্রতিপক্ষ সিলেট সানরাইজার্স (২০২২)
৭/ শরিফুল ইসলাম (দুর্দান্ত ঢাকা) - প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (২০২৪)
৮/ মঈন আলি (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) - প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স (২০২৪)
৯/ মেহেদি হাসান রানা (নোয়াখালী এক্সপ্রেস) - প্রতিপক্ষ সিলেট টাইটান্স (২০২৫)
১০/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (রংপুর রাইডার্স) - প্রতিপক্ষ নোয়াখালী এক্সপ্রেস (২০২৬)
১১/ রিপন মন্ডল (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স) - প্রতিপক্ষ ঢাকা ক্যাপিটালস (২০২৬)
No posts available.
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৫৩ পিএম
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:১০ পিএম
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৫৬ পিএম

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে নেপাল এক স্মরণীয় লড়াই দেখিয়েছে। সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে নেপাল। যদিও ফলাফল তাদের দিকে যায়নি, মন জিতেছে নেপালের ক্রিকেটারদের।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক রোহিত পাউডেল বলেন,
"এমন হার নিয়ে হতাশা আছে, কিন্তু একই সাথে আমি দল নিয়ে গর্বিত। এটা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। আজ মাঠে নামার আগে দলের প্রতি আমার বার্তা একটাই ছিল—আমরা ১১০% দেব, আর তারা পুরোটা দিয়েছে। আমি তাদের নিয়ে গর্বিত।"
বিশ্বকাপে নেপালের পরিকল্পনা ও মনোভাব নিয়ে রোহিত যোগ করেন,
"আমরা এখানে শুধু অংশগ্রহণ করতে আসিনি; আমরা লড়াই করতে এসেছি। আমরা বিশ্বাস করি, যদি সেরা ক্রিকেট খেলি, যেকোনো দলকে হারাতে পারব। আজ আমরা সেরার ক্রিকেট খেলেছি বলে মনে করি।"
শেষ মুহূর্তের পারফরম্যান্সের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,
"ফলাফল আমাদের দিকে যায়নি, কিন্তু প্রচেষ্টার দিক থেকে দেখলে আমি ১০০ শতাংশ দিয়েছি। "
শেষ ওভার পর্যন্ত ভরসা ছিল নেপালের। তবে পেস বোলিং অলরাউন্ডার স্যাম কারান অঘটন ঘটতে দেননি। রোহিত বলেন,
"আমি মনে করি আমরা ডেথ বোলিংয়ে উন্নতি করতে পারি। ইংল্যান্ডও কিছুটা সমস্যায় ছিল, তবে স্যাম কারান খুব ভালো বোলিং করেছে। ডেথ ওভারে ইয়র্কার মারা বোলারদের জন্য কঠিন, তবে আমরা সেখানে উন্নতি করব।"

বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় বড় জুটি গড়লেন রোহিত পাউডেল ও দিপেন্দ্র সিং আইরি। দুজনের ব্যাটে অঘটনের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলল নেপাল। কিন্তু সময়মতো ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড। চমৎকার ডেথ বোলিংয়ে শঙ্কা এড়িয়ে জয় পেল সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে রোববার নেপালকে ৪ রানে হারায় ইংল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ১৮৪ রানের পুঁজি পায় ইংলিশরা। জবাবে জয়ের আশা জাগালেও ১৮০ রানের বেশি করতে পারেনি নেপাল।
দুর্দান্ত বোলিং করে ইংল্যান্ডকে বাঁচিয়ে দেওয়ার নায়ক স্যাম কারান। রোহিত ও আইরির জুটি ভাঙার পর শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেন বাঁহাতি পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
রান তাড়ায় শুরুতে ঝড় তোলেন কুশল ভুর্তেল। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ৪ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা মেরে তিনি করেন ১৭ বলে ২৯ রান। আরেক ওপেনার আসিফ শেখ ৯ বলে ৭ রান করে আউট হন।
এরপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন রোহিত ও আইরি। মাত্র ৫৪ বলে তারা গড়ে তোলেন ৮২ রানের জুটি। একপর্যায়ে লক্ষ্য মাত্রা নেমে আসে ৩৬ বলে ৬২ রানে।
তখন আঘাত হানেন স্যাম কারান। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ২৯ বলে ৪৪ রান করা আইরিকে ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি পেস বোলিং অলরাউন্ডার। পরের ওভারে ৩৪ বলে ৩৯ রান করা রোহিতও ফিরে পিছিয়ে পড়ে নেপাল।
তবে লড়াইয়ে ক্ষান্ত দিতে রাজি হননি লোকেশ বাম। ৩ ওভারে ৪৬ রানের সমীকরণে জফ্রা আর্চারের পরপর দুই বলে তিনি মারেন ছক্কা। ওই ওভার থেকে আসে ২২ রান। ফলে সমীকরণ নেমে আসে ১২ বলে ২৪ রানে।
১৯তম ওভারে লুক উডের প্রথম পাঁচ বলে দুটি চার মেরে দেন লোকেশ। ওই পাঁচ বলে ১৪ রান করে ফেলে নেপাল। তবে শেষ বলে গুলশান ঝা বোল্ড হয়ে গেলে আবার চাপে পড়ে যায় তারা।
শেষ ওভারে ১০ রানের সমীকরণে দুর্দান্ত বোলিং করেন স্যাম কারান। কোনো বাউন্ডারি হজম না করে তিনি দেন মাত্র ৫ রান। হারের শঙ্কা এড়িয়ে জয় পায় ইংল্যান্ড।
৪ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মেরে ২০ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন লোকেশ।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে ফিল সল্টের উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। তবে রানের গতি ঠিক রাখেন জস বাটলার। ৫ চারে ১৭ বলে ২৬ রান করে তিনিও ফিরে গেলে পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনারকে হারায় ইংলিশরা।
চার নম্বরে নামা টম বেন্টনকে এলবিডব্লিউ করেন সন্দ্বীপ লামিচানে।
এরপর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও তিন নম্বর ব্যাটার জ্যাকব বেথেল। দুজন মিলে ৪৫ বলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ৪টি করে চার-ছক্কায় ৩৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে আউট হন বেথেল।
তার বিদায়ের পর কিছুটা কমে আসে রানের গতি। তবে শেষ দিকে আবার ঝড় তোলেন ব্রুক ও উইল জ্যাকস। ৪ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কায় ৩২ বলে ৫৩ রান করেন ব্রুক। আর শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ১ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কায় ১৮ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন জ্যাকস।
নেপালের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন নন্দন যাদব ও দিপেন্দ্র সিং আইরি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৮৪/৭ (সল্ট ১, বাটলার ২৬, বেথেল ৫৫, ব্যান্টন ২, ব্রুক ৫৩, কারান ২, জ্যাকস ৩৯*, আর্চার ১, ডসন ০*; কারান ৩-০-৩৫-০, মাল্লা ৩-০-৩৫-১, আইরি ৩-০-২৩-২, নন্দন ৩-০-২৫-২, লামিচানে ৪-০-২৫-১, ভুর্তেল ৪-০-৪০-০)
নেপাল: ২০ ওভারে ১৮০/৬ (ভুর্তেল ২৯, আসিফ ৭, রোহিত ৩৯, আইরি ৪৪, আরিফ ১০, লোকেশ ৩৯*, গুলশান ১, কারান ০*; উড ৩-০-৩১-১, আর্চার ৪-০-৪২-১, ডসন ৪-০-২১-২, জ্যাকস ২-০-১৭-১ রশিদ ৩-০-৪২-০, কারান ৪-০-২৭-১)
ফল: ইংল্যান্ড ৪ রানে জয়ী

আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আজ আলাদাভাবে লাহোরে পৌঁছেছেন। দুজনই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে পিসিবি।
পিসিবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইমরান খাজার লাহোরে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, তিনি পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। লাহোর বিমানবন্দরে আইসিসির এই কর্মকর্তাকে স্বাগত জানান পিসিবি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমির মীর।
এর আগে পিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, বিসিবি সভাপতি বুলবুলও মহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠক করবেন। লাহোর বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসির, যিনি পিসিবি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টাও, পাশাপাশি পিসিবির অন্যান্য কর্মকর্তারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার একদিন পরই এই উচ্চপর্যায়ের সফরগুলো হলো। ২০ দলের এই টুর্নামেন্টটি শুরু থেকেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ছায়াচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয়। তারপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পাকিস্তান সরকার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত জানায়। কলম্বোয় ১৫ ফেব্রুয়ারি ম্যাচটি হওয়ার সূচি ছিল।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায়, পিসিবির আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার আগেই আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, নির্বাচিত ম্যাচে অংশ না নেওয়ার অবস্থান একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে সব যোগ্য দলকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিযোগিতা করার কথা।
আইসিসি আরও জানায়, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ক্রিকেট ও বৈশ্বিক ক্রিকেট কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসির প্রধান অগ্রাধিকার আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সফল আয়োজন, যা পিসিবিসহ সব সদস্য দেশের যৌথ দায়িত্ব। আইসিসি প্রত্যাশা করে, পিসিবি এমন একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজবে, যাতে সব পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
ডনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক সরকারি সূত্র জানায়, বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতেই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ওই সূত্রের ভাষ্য, আইসিসির বাংলাদেশ বিষয়ক সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট মনে করেই এই অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত, যেখান থেকে সম্প্রচার, স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপন বাবদ কোটি কোটি ডলার আয় হয়। এ কারণে ম্যাচটি না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতি এড়াতে আইসিসি পর্দার আড়ালে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এর মধ্যেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায়। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের মতে, ম্যাচটি না হলে তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি দেশটির পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
পাকিস্তান যদি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেলে, তবে তারা ম্যাচটি বয়কট করায় দুই পয়েন্ট হারাবে এবং নেট রানরেটেও বড় ধাক্কা খাবে। গতকাল নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে পাকিস্তান। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সালমান আলী আগা জানিয়েছেন, সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হলে সেক্ষেত্রেও সরকার সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) শুরুর দিকে ঢাকা মেট্রোর হোম ম্যাচে পাওয়া যেতো বিয়েবাড়ির আমেজ। আবাহনী ক্রিকেট মাঠে ম্যাচ চলাকালে সামিয়ানা টাঙিয়ে, ডেকোরেটরের চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলতো অতিথি ভোজন পর্ব। পোলাও-রেজালা, বিরিয়ানি,জর্দা,বোরহানির সুঘ্রাণ অনুষ্ঠানস্থল ছাড়িয়ে ১০০ মিটার দূরেও আসতো নাকে। মোস্তফা কবির, আবিদ হোসেনরা এখন আর বেঁচে নেই, সিসিডিএম'র সেই বিয়েবাড়ির আমেজও নেই। প্রায় দুই যুগ পর ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সেই পুরোনো আবহ আধুনিক আমেজে ফিরিয়ে এনেছেন মোস্তফা কবির, আবিদ হোসেনদের উত্ততরসূরী ফৈয়াজুর রহমান মিতু।
বিসিবির নির্বাচনকারী বিরোধীরা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ বর্জন করে সিসিডিএমকে বিতর্কিত করতে চেয়েছেন একদল ক্রীড়া সংগঠক। ২০টি ক্লাবের মধ্যে ৮টি ক্লাব প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ বর্জন করায় লিগটি পায়নি পূর্ণতা। যে ৮টি ক্লাব প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ বর্জন করে ক্রিকেটারদের রুটি-রুজির নিশ্চয়তার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে চেয়েছেন যারা, তাদেরকে এক অর্থে জবাব দিতে চেয়ে ওই ৮টি ক্লাবের ক্রিকেটারদের জন্য বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজন করে প্রশংসিত হয়েছে সিসিডিএম। পূর্বাচলের ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে অনুষ্ঠিত ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাজেট নির্ভর সিসিডিএম টি-২০ চ্যালেঞ্জ কাপে পেয়েছে ক্রিকেটাররা সম্মানজনক সম্মানী। রোববার অপরাজিত-অগ্রনীর মধ্যে অনুুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচটি পেয়েছে কার্নিভালে রূপ। ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব গ্র্যাউন্ডের আবহে নিরিবিলি পরিবেশে ম্যাচ ভেন্যুতে তাবুর নিচে সাংবাদিক-অতিথিদের বসার ব্যবস্থা, পাশে উন্মুক্ত পরিবেশে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিরামহীন খাওয়া দাওয়া। পুরনো ঢাকার ঐতিব্যবাহী মুড়ি ভর্তা, ভাপা-ভাজা পিঠা, জিলাপি, পাকোরা, বেগুনি, কুল বরই- যে যার মতো খেয়েছেন। ছিল ঘুড়ি ওড়ানোর সুযোগও। নাটাই হাতে ঘুড়ি উড়িয়ে শৈশব-কৌশরে ফিরে গেছেন বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ। পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান শেষে সিসিডিএম'র কার্নিভাল শেষ হয়েছে দুপুরে বিরিয়ানি, রেজালা, সফট ড্রিকসে অতিথি আপ্যায়ন দিয়ে।
পূর্বাচলের ক্রিকেটার্স একাডেমীতে সিসিডিএম টি-২০ চ্যালেঞ্জ কাপের ফাইনাল কভারে আগ্রহী সাংবাদিকদের জন্য ছিল সিসিডিএম'র বিশেষ ট্রান্সপোর্ট সুবিধাও। এমন একটা দিন ভালই উপভোগ করেছেন উপস্থিত সবাই। পিঠা-পুলির উৎসবের সঙ্গে ফাইনাল দেখার আনন্দ, বিসিবির পাঁচ পরিচালক এবং অতিথিরা এমন আয়োজনে মুগ্ধ। সিসিডিএম চেয়ারম্যান আদনান রহমান দীপনের অনুপস্থিতিতে ভাইস চেয়ারম্যান ফৈয়াজুর রহমান মিতুর পরিকল্পনায় উত্তরা ক্লাবের ক্যাটারিং সার্ভিসকে দিয়ে আয়োজিত এই কার্নিভাল এতোটাই মুগ্ধ করেছে যে, ভবিষ্যতে বড় পরিসরে দিনব্যাপী ক্রিকেট কার্নিভাল আয়োজনের কথা ভাবছেন বিসিবির বেশ কজন পরিচালক।
বাংলাদেশে বসে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের আবহ পেতে চাইলে চলে আসতে পারেন পূর্বাচলে, ক্রিকেটার্স একাডেমী কমপ্লেক্সে। বড়জোর পাঁচ-ছয় একর জায়গা। এই জায়গাতেই পরিকল্পিত মাঠ, প্র্যাকটিস নেট। সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন এবং বাংলাদেশ দলের সেনসেশন পেসার তাসকিন আহমেদ ১০ বছরের লিজে নিয়ে পূর্বাচলে ৩০০ ফুট রাস্তার পাশে ক্রিকেটার্স একাডেমী গড়ে তুলেছেন। ২টি মাঝারি আয়তনের ক্রিকেট মাঠ, ডরমেটরি, অনুশীলন সুবিধা, ছোট-ছোট ড্রেসিং রুম, ক্রিকেটার্স ক্যাফে, ভিডিও করার জন্য উঁচু প্লাটফর্ম স্থাপন করে বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহকে করেছেন আগ্রহী। মাঠ পরিচর্যায় আছেন সার্বক্ষণিক একদল মাঠ কর্মী। সবুজ ঘাসে ছেয়ে যাওয়া মাঠটির ড্রেনেজ সিস্টেম অসাধারণ। বড় ছক্কার শট মাঠের বাইরে গেলে সেই বল কুড়িয়ে আনার জন্যও নিয়োজিত আছেন মাঠকর্মী। আছে একাডেমীর বাইরে কার পার্কিং সুবিধা। দিনে মাত্র ২৫ হাজার টাকায় মাঠ ভাড়া করে সিসিডিএম টি-২০ চ্যালেঞ্জ কাপ আয়োজনে বিসিবি পেয়েছে দারুণ একটা শিক্ষা। ভবিষ্যতে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, দ্বিতীয়-তৃতীয় বিভাগ এবং কোয়ালিফাইং ক্রিকেট, মেয়েদের টুর্নামেন্টের জন্য মাঠ সংকট নিয়ে তেমন একটা দুর্ভাবনা করতে হবে না বিসিবিকে।
যে টুর্নামেন্টকে ঘিরে এই কার্নিভাল, সিসিডিএম টি-২০ চ্যালেঞ্জ কাপের সেই আসরে অগ্রনীকে (১৫৫/৮) ৫ উইকেটে (অপরাজিত ১৫৯/৫) হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে পেয়েছে ট্রফির সঙ্গে ৩ লাখ টাকা প্রাইজমানি। রানার্স আপ অগ্রনী পেয়েছে ২ লাখ টাকা প্রাইজমানি। ফাইনালে অগ্রনীর রিয়াজুল করিম ৪৩, সুহিন ৩১ রান করেছেন। অপরাজিত'র সাগর ৩ উইকেট (৩/৪৩), আসাদুজ্জামান প্রিন্স (২/৩২) ও রায়হান উদ্দিন (২/৩১) ২টি করে উইকেট পেয়েছেন। অধিনায়ক তৌহিদ খান (৩৫ বলে ৪৫) এবং সালেহীন রিফাতের (১৬ বলে ৪০*) ব্যাটিংয়ে ৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতে শিরোপা উৎসব করেছে অপরাজিত।
তবে ফাইনাল কভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের কাছে ম্যাচটি যতোটা নজরে ছিল, তার চেয়ে ক্রিকেট কার্নিভাল হয়েছে বেশি উপভোগ্য।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়িয়ে ঢাকায় তিন দলের টুর্নামেন্ট আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। চার ম্যাচের অদম্য বাংলাদেশ টুর্নামেন্টের ফাইনাল কাল। লিটন দাসদের ধূমকেতু একাদশের বিপক্ষে লড়বে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দুর্বার একাদশ।
বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে ফাইনাল ম্যাচ। নির্বাচনের আগে ব্যস্ত কর্মদিবসেও মাঠ ভর্তি দর্শক আশা করছে বিসিবি। আর এজন্য ম্যাচ ঘিরে রয়েছে নানা আয়োজন। টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচ দেখা যাবে আরও সহজে। কারণ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে এই ম্যাচ রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভিতে সরাসরি খেরা সম্প্রচার করার ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। টি-স্পোর্টসের ইউটিউবেও দেখা যাবে ম্যাচটি।
বিসিবির এই ব্যতিক্রমী টুর্নামেন্টের সঙ্গী হয়ে প্রশংসিত পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশের কসমেটিকস, স্কিনকেয়ার ও হোম কেয়ার পণ্যের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান রিমার্ক এইচবি লিমিটেড। টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল ব্যানার এবং মাঠের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাচ্ছে রিমার্কের বিভিন্ন পণ্যের ব্র্যান্ডিং। আয়োজকদের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে মাঠের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি টুর্নামেন্টের প্রচার ও জনপ্রিয়তাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে রয়েছে দেশসেরা ও জনপ্রিয় একাধিক ব্র্যান্ড—লিলি, অরিক্স, নিওর, টাইলক্স, সানবিট, সিওডিলসহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড। ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে রিমার্ক দীর্ঘদিন ধরেই খেলাধুলা, তারুণ্য এবং ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ‘অদম্য বাংলাদেশ’ টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি।
মাঠে বসে খেলা দেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরা সাপেক্ষে বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগও রাখা হয়েছে। টিকিট কেটে যাঁরা মাঠে ঢুকবেন তাঁদের জন্য রয়েছে মটরসাইকেল জিতে নেওয়ার সুযোগ।