১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:১৬ পিএম

চলতি বিপিএলে তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেলেন রিপন মন্ডল। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে ক্রিকেটের কঠিন এই কীর্তিতে নাম লেখালেন রাজশাহী ওয়ারয়ির্সের তরুণ পেসার।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৯ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৮ রান করে ঢাকা। শেষ ওভারে বল করতে আসেন প্রথম ৩ ওভারে ২৮ রান দেওয়া রিপন। ওভারের প্রথম তিন বলে মাত্র ৩ রান দেন ছন্দে থাকা পেসার।
পরে চতুর্থ বলে বড় শটের খোঁজে ক্যাচ আউট হয়ে যান সাব্বির রহমান। পরের বলে জিমি নিশামের হাতে ক্যাচ দেন জিয়াউর রহমান শরিফি। আর হ্যাটট্রিক বল ফেরাতে পারেননি তাইজুল ইসলাম। তাকে বোল্ড করে আনন্দে মাতেন রিপন।
চলতি বিপিএলে তার আগে হ্যাটট্রিকের দেখা পান নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মেহেদি হাসান রানা (সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে) ও রংপুর রাইডার্সের মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে)।
সব মিলিয়ে বিপিএল ইতিহাসে ১১তম হ্যাটট্রিক করেছেন রিপন৷ তবে এই ১১টি হ্যাটট্রিক করেছেন মোট ১০ জন বোলার। একমাত্র বোলার হিসেবে দুটি হ্যাটট্রিক করেছেন মৃত্যুঞ্জয়। এর আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ২০২২ সালের বিপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিক করেন তিনি।
এছাড়া স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের বোলারদের ১১তম হ্যাটট্রিক এটি। তবে এই ১১টি হ্যাটট্রিক করেছেন মোট ৯ জন বোলার। মৃত্যুঞ্জয় ছাড়াও আল আমিন হোসেনের আছে দুইটি হ্যাটট্রিকের কীর্তি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশি বোলারদের হ্যাটট্রিক তালিকা
১/ আলআমিন হোসেন (বিসিবি একাদশ) - প্রতিপক্ষ আবাহনী লিমিটেড (২০১৩)
২/ আলআমিন হোসেন (বরিশাল বুলস) - প্রতিপক্ষ সিলেট সুপারস্টারস (২০১৫)
৩/ আলিস আল ইসলাম (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স (২০১৯)
৪/ মানিক খান (প্রাইম দোলেশ্বর) - প্রতিপক্ষ বিকেএসপি (২০১৯)
৫/ কামরুল ইসলাম রাব্বি (ফরচুন বরিশাল) - প্রতিপক্ষ মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী (২০২০)
৬/ আলাউদ্দিন বাবু (ব্রাদার্স ইউনিয়ন) - প্রতিপক্ষ লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ (২০২১)
৭/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স)- প্রতিপক্ষ সিলেট সানরাইজার্স (২০২২)
৮/ শরিফুল ইসলাম (দুর্দান্ত ঢাকা) - প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (২০২৪)
৯/ মেহেদি হাসান রানা (নোয়াখালী এক্সপ্রেস) - প্রতিপক্ষ সিলেট টাইটান্স (২০২৫)
১০/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (রংপুর রাইডার্স) - প্রতিপক্ষ নোয়াখালী এক্সপ্রেস (২০২৬)
১১/ রিপন মন্ডল (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স) - প্রতিপক্ষ ঢাকা ক্যাপিটালস (২০২৬)
বিপিএলে হ্যাটট্রিক তালিকা
১/ মোহাম্মদ সামি (দুরন্ত রাজশাহী) - প্রতিপক্ষ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস (২০১২)
২/ আলআমিন হোসেন (বরিশাল বুলস) - প্রতিপক্ষ সিলেট সুপারস্টারস (২০১৫)
৩/ আলিস আল ইসলাম (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স (২০১৯)
৪/ ওয়াহাব রিয়াজ (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস) - প্রতিপক্ষ খুলনা টাইটানস (২০১৯)
৫/ আন্দ্রে রাসেল (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ চিটাগং ভাইকিংস (২০১৯)
৬/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স) - প্রতিপক্ষ সিলেট সানরাইজার্স (২০২২)
৭/ শরিফুল ইসলাম (দুর্দান্ত ঢাকা) - প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (২০২৪)
৮/ মঈন আলি (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) - প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স (২০২৪)
৯/ মেহেদি হাসান রানা (নোয়াখালী এক্সপ্রেস) - প্রতিপক্ষ সিলেট টাইটান্স (২০২৫)
১০/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (রংপুর রাইডার্স) - প্রতিপক্ষ নোয়াখালী এক্সপ্রেস (২০২৬)
১১/ রিপন মন্ডল (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স) - প্রতিপক্ষ ঢাকা ক্যাপিটালস (২০২৬)
No posts available.
৩ মার্চ ২০২৬, ১০:২১ পিএম
৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ পিএম
৩ মার্চ ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম

ফেবারিট হয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করে ভারত। নিজেদের ডেরায় আরও একবার এই ট্রফি জেতার দারুণ সুযোগও আছে স্বাগতিকদের। ফাইনালের টিকিট কাটতে হলে সূর্যকুমার যাদবদের প্রথম ঠেকাতে হবে ইংল্যান্ডকে। যে ইংল্যান্ড সুপার এইটের সবক’টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে আগামীকাল দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড। পরদিনই ওয়াংখেড়ে ইংলিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। এই ম্যাচে ভারতকে সবচেয়ে বেশি বিপদে ফেলতে পারেন উইল জ্যাকস, এমনটাই মনে করছেন সুনীল গাভাস্কার। ভারতের সাবেক কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের মতে ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চারবার ম্যাচসেরার পুরষ্কার জিতেছেন জ্যাকস। সাত ম্যাচে একটি হাফ-সেঞ্চুরিতে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৯১ রান। বল হাতে সাতটি উইকেটও নিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী অফস্পিনার। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসের সঙ্গে নিয়েছেন দুটি উইকেটও।
দুর্দান্ত ছন্দে ইংলিশ অলরাউন্ডারকে নিয়ে ভারতকে সতর্কই করলেন গাভাস্কার। তাঁর মতে জ্যাকসকে সামলাতে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে সঞ্জু স্যামসন, সূর্যকুমার যাদব এবং হার্দিক পান্ডিয়া-এর পারফরম্যান্সই মূল চাবিকাঠি হবে।
আগামী ৬ মার্চ মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ডিপি ওর্য়াল্ড সেলিব্রেটি গলফ ইভেন্ট-এর আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সুনীল গাভাস্কার। চ্যাম্পস ফাউন্ডেশনের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি সেমি ফাইনালে উইল জ্যাকস-কে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। গাভাস্কার বলেন,
‘যদি পিচে একটু টার্ন থাকে, তাহলে জ্যাকস সত্যিই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন। (সানজু) স্যামসন, সূর্যকুমার বা হার্দিক পান্ডিয়া তাঁকে কিভাবে সামলাবেন, সেটিই মূল বিষয়। সে দুর্দান্ত ছন্দে আছে। সাত নম্বরে তাঁর মতো একজন থাকা বড় সুবিধা—যেমন শিভাম দুবে ভারতের জন্য।’
গাভাস্কার আরও বলেন,
‘হয়তো তিনি দলের বাঁ-হাতের ব্যাটারদের (অভিষেক, তিলক, ডুভে বা অন্য কেউ) বিপক্ষে বেশি বল করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে ডানহাতি ব্যাটারদের ওপরই বাড়তি চাপ থাকবে তাঁর বিরুদ্ধে রান তোলার।’
জ্যাকসকে ভারতীয় অলরাউন্ডার শিভাম দুবের সঙ্গে তুলনা করে গাভাস্কার বলেন,
‘সে ঠিক শিবম ডুভের মতো। ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে আমরা যা দেখেছি, ডুভে এসে এক ওভারে দুইটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের ওপর চাপ কমিয়েছিলেন।’
গাভাস্কার আশা করছেন ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচটি বেশ রোমাঞ্চকর হবে,
‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালের মতোই এটি হবে একটি ‘ক্র্যাকার’ ম্যাচ। দুই দলই সমান শক্তিশালী—ব্যাটিং, বোলিং, মিডল অর্ডার, ফিনিশাররা সব আছে। বৈচিত্র্যও আছে, এবং প্রচুর টি-টোয়েন্টি অভিজ্ঞতা আছে।’

পরপর দুই ম্যাচে নর্থ জোনকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ওয়ানডে সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল সেন্ট্রাল জোন। মিরপুরে মঙ্গলবারের ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর নর্থ জোনকে ৫ উইকেটে হারায় সাইফ হাসান, নাঈম শেখদের সেন্ট্রাল জোন।
অথচ টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে রীতিমতো উড়ছিল শান্তর নর্থ জোন। প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের হারিয়ে ফাইনালের টিকেট পায় সেন্ট্রাল জোন। এবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও লড়াই করতে পারল না নর্থ জোন।
তাওহিদ হৃদয়ের লড়াকু ৯৬ রানের সৌজন্যে ২৩৮ রানের পুঁজি পায় নর্থ জোন। জবাবে সাইফ, নাঈমের ঝড়ো জুটিতে অনায়াসে ম্যাচ জিতে নেয় সেন্ট্রাল।
বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণে আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন হয় নর্থ জোন। এবার তাদের হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল সেন্ট্রাল জোন।
রান তাড়ায় এদিন আর ঝড় তুলতে পারেননি জিসান আলম। ষষ্ঠ ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন ১৭ বলে ১৪ রান করা তরুণ ওপেনার। তবে দলের ওপর আর চাপ আসতে দেননি মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও সাইফ হাসান।
দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মিলে ১৪১ বলে গড়ে তোলেন ১৬৪ রানের জুটি। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, দুজনের জুটিতেই জিতে যাবে সেন্ট্রাল জোন। কিন্তু আশা জাগিয়েও সেঞ্চুরি করতে পারেননি দুজনের কেউই।
রিশাদ হোসেনের লেগ স্পিনে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৭ বলে ৭৮ রান করা নাঈম। পরে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৮ বলে ৮৭ রান করা সাইফকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। সেঞ্চুরি না পেলেও দুজনই মূলত জয়ের ভিত গড়ে দেন।
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৮ বলে ৬) ও ইরফান শুক্কুরও পরে (১৩ বলে ১৪) আউট হয়ে যান৷ তবে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে মাহফিজুল ইসলাম রবিন (২৪ বলে ১৮) দলের শিরোপা নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন।
২টি করে উইকেট নেন রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে তেমন সুবিধা করতে পারেনি নর্থ জোন। জ্বরের কারণে খেলতে পারেননি লিটন কুমার দাস। তার জায়গায় একাদশে ফেরার সুযোগ পেয়ে আবার হতাশ করেন হাবিবুর রহমান সোহান (১৭ বলে ৫)।
আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ভালো শুরু করলেও ইনিংস টানতে পারেননি। ৪ চারে ২২ বলে ২৩ রান করে আউট হন তিনি। শুরুর ধাক্কা সামলে ৫২ রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়।
সাইফ হাসানের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন ৫১ বলে ৩৫ রান করা শান্ত। পাঁচ নম্বরে নেমে এসএম মেহেরব হাসানও (৩৮ বলে ২৮) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একই ওভারে আকবর আলিকে (৩ বলে ০) ফেরান রকিবুল হাসান।
পরে একাই দলকে টেনে নেন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমানের সঙ্গে তিনি যোগ করেন ৬৩ রান। আগের ম্যাচে ঝড় তোলা সাব্বির এদিন ৪৩ বলে করেন ২৪ রান। রয়েসয়ে শুরু করা হৃদয় ফিফটি করেন ৬৯ বলে।
সাব্বিরের বিদায়ের পর রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন হৃদয়। একইসঙ্গে জাগে তার সেঞ্চুরির আশা। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে একদমই সমর্থন পাননি মিডল-অর্ডার এই ব্যাটার। রিশাদ হোসেন ১৮ বলে ১৬ রান করে আউট হন।
ইনিংসের শেষ ওভারে সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে ছিলেন হৃদয়। উইকেট ছিল একটিই। রিপন মন্ডলের প্রথম দুই বলে রান নিতে পারেননি হৃদয়। তৃতীয় বলে তিনি এলবিডব্লিউ হওয়ায় আর সেঞ্চুরি হয়নি। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৯৮ বলে করেন ৯৬ রান।
৪১ রানে ৪ উইকেট নেন রিপন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও রকিবুল হাসানের শিকার ২টি করে উইকেট।

আরও একটি আইসিসির ইভেন্টে ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা আছেন বেশ চাপে। বাবর আজম-সালমান আলী আগাদের হতাশার পারফরম্যান্সে ক্ষুদ্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড শাস্তির সিদ্ধান্তও নেয়। পাকিস্তানের একাধিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন, প্রত্যেক ক্রিকেটারকে গুনতে হবে ৫০ হাজার পাকিস্তানি রুপি। তবে ক্রিকেটারদের এমন শাস্তিও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন শহিদ আফ্রিদি। বাজে পারফরম্যান্সের জন্য আরও কঠিন শাস্তি চান সাবেক এই ক্রিকেটার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে হারের পরই নাকি পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয় দলটির ক্রিকেট বোর্ড। এরপর সুপার এইট থেকে সেমি ফাইনালের টিকিট কাটতে না পেরে ঘরে ফেরার পর তো আর্থিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় আগাদের। এ নিয়ে টানা চারবার আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান।
পাকিস্তানের পারফরম্যান্সের এমন ভরাডুবির জন্য আফ্রিদির মতে যে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে তা আরও বেশি হওয়া উচিত। এমনকি শুধু জরিমানা নয়, পাশাপাশি আফ্রিদি চান কিছু ক্রিকেটারদের শাস্তিস্বরুপ অন্তত দুই বছর দলের বাইরে রাখা উচিত।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভিকে আফ্রিদি বলেন,
‘এটি সিদ্ধান্ত বোঝা কঠিন। এটি সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা। এটা তো সামান্য অর্থ। ৫০ লাখ দিয়ে তুমি কী করবে? এটা তো শাস্তি বলে মনে হয় না।’
আফ্রিদি আরও যোগ করেন,
‘যারা জাতীয় দলের জন্য বাজে পারফরম্যান্স করেছে তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঠানো উচিত এবং এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যাদের কমপক্ষে ২ বছর দলের জন্য খেলা উচিত নয়। যারা খেলতে ব্যর্থ, তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঠাও। আমার মনে হয় এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যারা অন্তত দুই বছর দলের হয়ে না খেলুক। এটুকুই যথেষ্ট।’
এদিকে, পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদ আমিরও। আগার নেতৃত্বাধীন দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় সাবেক এই পেসার বলেন,
‘আমি আমার খোলাখুলি মত দিচ্ছি। বাকিটা ছেড়ে দাও। আমরা আসলে ট্যালেন্টই নেই। যারা এখন খেলছে, তারা ট্যালেন্ট নয়।’
আমির আরও বলেন,
‘যখন কোনো দল আমাদের দেশে হোম সিরিজ খেলতে আসে, তারা তাদের মূল দল পাঠায় না। এটা দেখলে বোঝা যায় তারা আমাদের কতটা গুরুত্ব দেয়। যদি তারা মনে করে, হ্যাঁ, এটা একটি দল, তবে তারা তাদের এ-টিম পাঠায়। তারা সব নতুনদের নিয়েই তাদের দল পাঠায়। যদি নিউজিল্যান্ড ভারত যায়, পুরো দল নিয়েই যাবে। ইংল্যান্ড যাচ্ছে, পুরো দল যাবে। অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে, পুরো দল যাবে। ঠিক তেমনি, তারা যদি আমাদের দেশে আসে, তারা তাদের এ-টিম পাঠায়। তাই বোঝা যায় তারা আমাদের কতটা গুরুত্ব দেয়।’
জরিমানা নিয়ে এখন পর্যন্ত পিসিবি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। ক্রিকেটার ছাড়াও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও তীব্র সমালোচনার মুখে আছে। দল নির্বাচন, পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে দলটির সাবেক অনেক ক্রিকেটারই ক্ষোভ ঝেড়েছেন।

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ফিরছে মুলতান সুলতান্স। নতুন মৌসুমে অভিষেক হতে যাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি শিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ নিজেদের নাম বদলে নিচ্ছে মুলতানের নামে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার পিএসএলের প্রধান নির্বাহী সালমান নাসির এই ঘোষণা দেন। এসময় তার পাশে ছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নতুন সিইও ও সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার গোহার শাহ।
এই বিষয়ে গত সপ্তাহেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নাসির। মুলতান সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, সুখবর আসছে।’ অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
নাসির জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি) নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন গোহর শাহ। এককালীন ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দিতে সম্মত হওয়ায় আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। ফলে দলটির নতুন নাম হচ্ছে মুলতান সুলতান্স।
নাম বদলের ফির বাইরেও নতুন মালিক সিডি ভেঞ্চারস বার্ষিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে উন্নীত করতে রাজি হয়েছে। নাসিরের ভাষ্য, পিএসএলের পরিসরে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে মুলতান সুলতান্স নামটির আলাদা মূল্য রয়েছে।
গত মাসে আগের মালিক আলি তারিন লিজ নবায়ন না করায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিলামে ওঠে। সর্বোচ্চ ২৪৫ কোটি রুপি বার্ষিক ফিতে সেটি কিনে নেয় ওয়ালি টেকনোলজিস। পরে তারা দলটিকে রাওয়ালপিন্ডিতে সরিয়ে নিয়ে ‘পিন্ডিজ’ নাম দেয়।
এতে আট মৌসুমের পথচলার পর কার্যত পিএসএল থেকে মুলতান সুলতান্সের বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল। তবে মালিকানা নিয়ে জটিলতা এবং নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের পর স্ট্যালিয়নজ ফ্র্যাঞ্চাইজির ৯৮ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় সিডি ভেঞ্চারস।
নতুন মালিকানার প্রতিনিধি হিসেবে গোহর শাহ সিইওর দায়িত্ব নেন। পিএসএলের নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স ও নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হায়দ্রাবাদ কিংসমেন।

মুম্বাইয়ের গর্জন থামাতে চান স্যাম কারান। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এমন প্রত্যয়ই ব্যক্ত করেছেন ইংল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার।
আজ মুম্বাইয়ে অনুশীলনের আগে কারান বলেন, ছোটবেলায় যে স্বপ্ন দেখতেন, তার একটি ছিল ভারতে ভারতের বিপক্ষে খেলা,
‘শ্রীলঙ্কা থেকে মুম্বাইয়ে উড়ে আসার সময় ভাবছিলাম, ছোটবেলায় কী স্বপ্ন দেখতাম। ভারতের বিপক্ষে ভারতে খেলাটা নিশ্চয়ই তার একটি। এটা দারুণ অভিজ্ঞতা।’
সেমিফাইনালটি হবে ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক সমর্থকদের উপস্থিতিতে গ্যালারি থাকবে সরব—এমনটাই প্রত্যাশা ইংল্যান্ড শিবিরের। তবে সেটিকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন কারান। বললেন,
‘স্টেডিয়াম খুব জোরে গর্জে উঠবে। এটাকে রোমাঞ্চকর সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। যদি গ্যালারি নীরব হয়ে যায়, বুঝতে হবে ইংল্যান্ড ভালো করছে—আমরা সেটাই ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছি।’
চলমান আসরে ইংল্যান্ড দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই নিয়মিত খেলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে। ফলে ভারতীয় দর্শকদের আবেগঘন সমর্থনের সঙ্গে তারা পরিচিত। কারানের মতে, সেই অভিজ্ঞতাই কাজে দেবে। কারন বলেন,
‘আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, আমরা ভারতে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। এখানে খেলতে খেলতে আপনি শব্দকে উপেক্ষা করতে শিখে যান। অবশ্যই পরিবেশটা উপভোগ্য। অনেক তরুণ ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলার।’
কারান আশা করছেন, ম্যাচের পরিস্থিতি এমন হবে যাতে গ্যালারি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যায়,
‘আশা করি স্টেডিয়ামটা নীরব হবে। তবে নিশ্চিতভাবেই খুব জোরে সমর্থন থাকবে। দুইটি দুর্দান্ত দল মুখোমুখি হচ্ছে। গত চার–পাঁচ সপ্তাহের পরিশ্রম আমাদের এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। আশা করি, আমরা আরেক ধাপ এগিয়ে ফাইনালের পথে যেতে পারব।’
সব মিলিয়ে মুম্বাইয়ের উত্তপ্ত পরিবেশেই বড় চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। তবে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে স্বাগতিকদের গ্যালারি স্তব্ধ করেই ফাইনালে উঠতে চায় তারা।