
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আগামী আসরে নিলামের আগে চারজন ক্রিকেটারকে ধরে রাখার সুযোগ আছে ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর। পিএসএলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, ঐতিহ্যবাহী ড্রাফট সিস্টেমের পরিবর্তে নিলাম-ভিত্তিক মডেল আনা হয়েছে।
পিএসএলের পঞ্চম সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন করাচি কিংস রিটেইন খেলোয়াড়দের তালিকা ঘোষণা করেছে। পাকিস্তানের এই ফ্রাঞ্চাইজি লিগের নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির চারজন খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে দলগুলো, যা আগের মৌসুমে সর্বোচ্চ আটজন পর্যন্ত ছিল।
পিএসএলের ১১তম আসরে শাহীন শাহ আফ্রিদি, সিকান্দার রাজা, আবদুল্লাহ শফিক ও মোহাম্মদ নাইমকে ধরে রেখেছে লাহোর কালান্দার্স। গত আসরে এই ফ্রাঞ্চাইজির হয়ে খেলা বাংলাদেশি লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে ছেড়ে দিয়েছে তারা। ওই আসরে ৭ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন রিশাদ। এছাড়া ফখর জামান, হারিস রউফ, জামান খান ও সালমান মির্জার মতো তারকা ক্রিকেটারতেরও ছেড়ে দিয়েছে লাহোর।
কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স রিটেইন করেছে আবরার আহমেদ, উসমান তারিক, হাসান নাওয়াজ এবং শ্যামল হোসেনকে, কিন্তু ছেড়ে দিয়েছে মোহাম্মদ আমির, রাইলি রুশো, মার্ক চ্যাপম্যান, খাওয়াজা নাফে এবং মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রকে।
গত মৌসুমে খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে কারাচি কিংস রিটেইন করেছে হাসান আলী (প্লাটিনাম), খুশদিল শাহ (গোল্ড), আব্বাস আফ্রিদি (ডায়মন্ড) এবং সাদ বেগ (ইমার্জিং)। তবে তারা ছেড়ে দিয়েছে শান মাসুদ, আমের জামাল, শাহনেওয়াজ দাহানিদের।
পিএসএলের নতুন দল শিয়ালকোট স্ট্যালিয়ন্স সরাসরি চুক্তি করেছে স্টিভ স্মিথের সঙ্গে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক প্রথমবারের মতো পিএসএল খেলবেন।
No posts available.
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:১৮ পিএম

জ্যাকব বেথেলের দিনটা ছিল একেবারেই নিজের মতো। ইংল্যান্ডের ২২ বছর বয়সী এই স্পিন অলরাউন্ডার টি-টোয়েন্টিতে এর আগে সেরা বোলিং ছিল ২ উইকেটে ২৭ রান। ক্যান্ডিতে আজ সেই রেকর্ড ভেঙে তিনি তুলে নিলেন ৪ উইকেট, খরচ মাত্র ১১ রান। ৩.১৪ ইকোনোমি রেটে ২৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটাই তাঁর সেরা বোলিং ফিগার।
প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল ইংল্যান্ড। তৃতীয় ম্যাচে দুই দলের লক্ষ্য ছিল ভিন্ন—ইংল্যান্ড চেয়েছিল হোয়াইটওয়াশ, আর শ্রীলঙ্কা খেলেছিল সম্মান বাঁচানোর লড়াই। টস জিতে আগে ব্যাটিং করা হ্যারি ব্রুকদের দলকে ১২৮ রানের বেশি করতে দেননি চামিরারা। তবে জবাবে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত বেথেলের তেলেসমাতিতেই ম্যাচ ও সিরিজ হাতছাড়া হয় স্বাগতিকদের।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শেষ দ্বিপাক্ষিক ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। তবে শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই বেন ডাকেটকে এলবিডব্লিউ করেন দুষ্মন্ত চামিরা। শূন্য রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। পাওয়ার প্লেতেই ৩৫ রানে হারায় টপ অর্ডারের চার ব্যাটার। দশম ওভারের মধ্যে যোগ হয় আরও দুটি উইকেট।
চামিরা ও মাথিশা পাথিরানার আগ্রাসনে যখন ইংল্যান্ড বিপর্যস্ত, তখন দলের হাল ধরেন স্যাম কারান। চারিমার বলে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ৪৮ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। মূলত কারানের এই ইনিংসেই ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৮ রান।
বোলিংয়ে চামিরা নেন ৫ উইকেট, পাথিরানা শিকার করেন ২টি। দুনিথ ভেল্লালাগে ও মহীশ তিকশানা নেন একটি করে উইকেট।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ম্যাচটিকে জটিল করে তোলে শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের মতোই প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় তারা। দ্বিতীয় উইকেটে ৩৩ রানের জুটি গড়লেও দলীয় ৬২ রানে কুশল মেন্ডিস ও পাভান পাথানায়েকে ফিরে গেলে আবার চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলেও শেষ দিকে ম্যাচ জমে ওঠে।
১৮তম ওভারে বেথেল তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিলে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। শেষ ওভারে শেষ উইকেটে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। কিন্তু হিসাব মিলাতে ব্যর্থ হয় তারা। ওই ওভারে নিতে পারে মাত্র ১ রান।
ইংল্যান্ডের হয়ে বেথেল নেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট, উইল জ্যাকসের শিকার ৩টি। আদিল রশিদ, লিয়াম ডসন ও লুক উড নেন একটি করে উইকেট।

সেঞ্চুরি করেছেন দুই দলের অধিনায়কই। তবে বিফলে গেল অস্ট্রেলিয়ার ওলিভার পিকের শতক। শুরুতে হোঁচট খেলেও অধিনায়কের ব্যাটে স্বপ্ন দেখছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে অপরপ্রান্ত থেকে পেলেন না কোনো সমর্থন। শেষ পর্যন্ত বরাবর ১০০ করে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হলেন পিক। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড।
জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ অস্ট্রেলিয়াকে ২৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে থমাস রিউয়ের সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৭ রান তোলে ইংলিশরা। রাত তাড়ায় ৪৭.৩ ওভারে ২৫০ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।
দুর্দান্ত এক শতক হাঁকিয়ে ইংল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেন থমাস রিউ। ১৪ চার ও এক ছক্কায় ১০৭ বল খেলে ১১০ রান করেন উইকেটকিপার ব্যাটার। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড শুরুতে ৬০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। তারপর দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেন রিউ ও ক্যালেব ফ্যালকনার। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৩৫ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ইংলিশদের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ করেন ফ্যালকনার। শেষ দিকে ফারহান আহমেদ অপরাজিত ছিলেন ২৮ রান করে।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে দু’টি করে উইকেট নেন হেইডেন শিলার এবং নাডেন কুরে।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ২৪.২ ওভার শেষে অজিদের স্কোর ছিল ১০৯/২। ওপেনার নিতেশ স্যামুয়েল ৮৩ বলে করেন ৪৭ রান। তবে বাঁহাতি স্পিনার রালফি অ্যালবার্টের বলে টমাস রিউর স্টাম্পিংয়ে স্যামুয়েল আউট হতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
তারপর ম্যানি লামসডেন দ্রুতই অ্যালেক্স লি-ইয়াং ও জেইডেন ড্রেপারকে ফেরান। অস্ট্রেলিয়া মাত্র ২৫ রানের ব্যবধানে মিডল অর্ডারের তিনটি উইকেট হারায়। অলি পিক পাল্টা লড়াই শুরু করেন। ৫৫ বলে অর্ধশতক করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে প্রাণ ফেরান তিনি। ২০৭ রানে অষ্টম উইকেট পতন ঘটলে ইংল্যান্ডের জয় সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি পিক। লামসডেনের এক ওভারে ২২ রান নেন এবং সেবাস্টিয়ান মর্গানের বলে চার্লস লাখমুন্ড আউট হওয়ার পর ৮৫ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
শেষ ১৬ বলে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ২৮ রান, হাতে ছিল মাত্র একটি উইকেট। কিন্তু জেমস মিন্টোর বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে পয়েন্টে বেন মেয়েসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন পিক। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মাতে ইংল্যান্ড শিবির।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক থমাস রিউ বলেন,
‘অনুভূতিটা দারুণ। আমি ছেলেদের বলেছিলাম, এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে। অলি (পিক) যেভাবে ব্যাট করেছে, সেটা অসাধারণ। শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে পারাটা বিশেষ কিছু। শেষদিকে আমি নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু বোলারদের ওপর ভরসা রেখেছিলাম—চাপের মধ্যে ইয়র্কার ঠিকঠাক করার জন্যই ওরা অনুশীলন করেছিল।’
ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে একবার—১৯৯৮ সালে। ২০২২ সালে তারা রানার্সআপ হয়েছিল। আগামীকাল অন্য সেমি ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। শুক্রবার হবে যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল।

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। সহ-আয়োজক ভারতে ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশের আপত্তি জানানো থেকে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের কোনো কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পাকিস্তান।
এরমধ্যে পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। তবে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেওয়া অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন উঠে। আইসিসির নিরপেক্ষতার অভাব কিংবা ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়ে প্রায়ই কঠোর সমালোচনা করেন পাকিস্তানের সাবেক অনেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক। এবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করলেন নতুন একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠনের। তাঁর মতে আইসিসি ভারতের রাজনৈতিক স্বার্থে বন্দি হয়ে গেছে।
খাজা আসিফ এক্সে (টুইটার) এক পোস্টে লিখেছেন,
‘জেন্টেলম্যানদের খেলা ক্রিকেটে চেতনা বজায় রাখতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা দরকার। আইসিসি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের রাজনৈতিক স্বার্থের বন্দি হয়ে গেছে।’
ক্রিকেটে ভারতের অর্থনৈতিক প্রভাব সবচেয়ে বেশি, তাই দেশটি এই খেলায় ব্যাপক প্রভাবশালী। সমালোচকরা বলেন, এই আর্থিক অবদান আইসিসিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীন প্রভাব তৈরি করে।
এই আয় বড় অংশ আসে ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে, যা বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক টি-টোয়েন্টি ফ্রাঞ্চাইজি লিগ। ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে আইপিএলের আয় ১১.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে অনুমান করা হচ্ছে, যা আইসিসির বার্ষিক মোট আয়ের প্রায় ৩৯ শতাংশ।
বিশ্ব ক্রিকেটের ৭০-৮০ শতাংশ আয় আসে ভারতের বাজার থেকে। ভারতের ঘরোয়া মিডিয়া স্বত্বই এখন ৩০০ কোটি ডলারের বেশি। মূলত আইসিসি ভারতকে আলাদা কোনো সুবিধা দেয় না। সম্পূর্ণ গাণিতিক হিসাবের ওপর নির্ভর করে যেখান থেকে অর্থ আসে।
ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত—আইসিসির ‘তিন মোড়ল’—যেকোনো সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখে। এর মধ্যে ভারতের প্রভাবই সবচেয়ে স্পষ্ট, এবং পাকিস্তান প্রায়ই এই অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে আসছে।

দুবাইয়ের এক হোটেলের রান্নাঘরে পেঁয়াজ কাটছিলেন উসমান তারিক। পেঁয়াজের তেজস্ক্রিয়ায় চোখে পানি। লম্বা সময় বসে কাটতে হয়, পিঠেও জমেছে ব্যথা—এটাই ছিল তাঁর প্রতিদিনের রুটিন। শ্রমিকদের ছোট আবাসনে রাত পার, আর ভবিষ্যত ছিল অনিশ্চয়তা। সেই সময় হয়তো কল্পনা করতে পারননি একদিন এই কিচেন থেকে পৌঁছে যাবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে।
ক্যামেরন গ্রিন যখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ব্যঙ্গ করে তাঁর বোলিং অ্যাকশন দেখাল, উসমান হয়তো ভাবল— ‘আবার কি শুরু!’ এক মাস আগে ইংল্যান্ডের ব্যাটার টম ব্যানটনও একই অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু মাঠের এই বিতর্ক তাঁকে বিচলিত করতে পারে না। কারণ জীবন তাঁকে ইতিমধ্যেই শিখিয়েছে— সে গ্ল্যাডিয়েটরের মতো, কঠিন সময় ও কঠিন পরিস্থিতিতে সবসময় লড়াই করে।
পেশোয়ারে বেড়ে ওঠা উসমান ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন সংগ্রামের মুখ। বাবার মৃত্যু এবং আর্থিক সংকট তাঁকে ছোটবেলা থেকেই বড় ঝুঁকি নিতে শিখিয়েছে। কাজের খোঁজে তিনি আফগানিস্তানের কাবুল পর্যন্ত যান। দ্য ন্যাশনালকে উসমানের জীবন সংগ্রামের কথা বলছিলেন ছোটবেলার বন্ধু হাসিব উর রহমান, ‘তুষার পড়ছিল, মেঝেতে বরফ জমেছিল, আর সে চাকরি খুঁজছিল, বিভিন্ন কোম্পানি ঘুরছিল।’
উসমান সহায়তা চেয়েছিল, কিন্তু পরিস্থিতি তত সহজ ছিল না। হাসিব বলেন, ‘আমি আমার বসকে বলেছিলাম ওর জন্য কোনো জায়গা বের করতে, কিন্তু তিনি রাজি হননি। বললাম, আমি যে বেতন পাচ্ছি তার একটি অংশ ওর জন্য দিতে পারেন, অন্তত ওর মন শান্ত হবে। কিন্তু সেটাও কাজ হয়নি।’
পাকিস্তানে ফিরে আসেন উসমান, কিন্তু পরে আবার দুবাই পাড়ি দেয়। সোনাপুরের শ্রমিক আবাসনে হোটেলের রান্নাঘরে পেঁয়াজ কাটার দিনগুলো চলতে থাকে। হাসিব বলেন, ‘পেঁয়াজ কাটা সহজ নয়; চোখে পানি চলে আসে, পিঠেও ব্যথা শুরু হয়।’
পরের চাকরি আসে গাড়ির যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থার ক্রয় বিভাগে। জীবিকা চলছিল, কিন্তু ক্রিকেটের আগ্রহ এখনও নিভে যায়নি। দুবাইয়ের দেইরার রাস্তার ছোট খেলার মাঠে হায়াত রিজেন্সির পাশে উসমান আবার ব্যাট-বল হাতে খেলতে শুরু করেন। তখনই ফাস্ট বোলিং ছেড়ে স্পিনে আসা। লম্বা গড়নের এই স্পিনার, যাঁকে কেউ আগে চিনতেন না, ধীরে ধীরে নিজের আবিস্কৃত বিরল অ্যাকশন ব্যাটারদের জন্য জুজু হয়ে ওঠে।
পিএসএলের ট্যালেন্ট হান্টে অংশ নেয়ার সুযোগ আসে উসমানের। প্রথম ছয় বলেই নির্বাচকদের নজর কাড়েন। কিন্তু চাকরির দায়ে তিনি যেতে পারেন না। তখন মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০১৭ সালে, উদ্যম নিয়ে দুবাইয়ে চাকরি ছেড়ে পাকিস্তানে ফিরে আসেন, পুরোপুরি ক্রিকেটের জন্য।
হাসিব মনে করিয়ে দেন, ‘যখন সে সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে যাচ্ছিল, আমি বলেছিলাম, আমি জানি না তুমি কভাবে বাঁচবে, কারণ তুমি যে চাকরি পেয়েছ সেটা সেরা সুযোগ। কিন্তু সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করল—না, আমি আর পিছনে তাকাব না। চেষ্টা করব এবং আরও কঠোর পরিশ্রম করব। আমি অবশ্যই সফল হব।’
দেশে ফিরে দিন-রাত অনুশীলন করেন উসমান। কঠোর পরিশ্রমই বদলে দিয়েছে ভাগ্য। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সাফল্যের পর পাকিস্তান দলে সুযোগ পান তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচেই হ্যাটট্রিক। গত বছরে নভেম্বরে ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন। তারপর তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছেন।
আইএলটি-টোয়েন্টির ফাইনালে ডেজার্ট ভাইপার্সের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বন্ধু হাসিব, যিনি এখন দুবাইয়ের একটি ফাইন্যান্স কোম্পানিতে হেড অফ কমপ্লায়েন্স, মাঠে বসে সব দেখেছেন। তিনি বললেন, ‘সে সবসময় পরিবারের জন্য কিছু করতে চেয়েছে। ক্রিকেট ছিল তার শেষ সুযোগ, শেষ চেষ্টা। আর সে সেটা করেছে।’
দুবাইয়ের রান্নাঘরের ছোট কিচেন থেকে শুরু হওয়া স্বপ্ন আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছেছে। জীবন তাঁকে শিখিয়েছে লড়াই করতে, আর উসমান সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় সংকল্প এবং আবেগ—এই তিনটি তাঁকে আজ পাকিস্তানের বড় ভরসার জায়গায় নিয়ে এসেছে।

ক্রিকেট ব্যাট তৈরির নিয়মে বড় পরিবর্তন আনছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। আগে যেসব ব্যাটকে ‘অবৈধ’ হিসেবে গণ্য করা হতো, এবার সেগুলোকেও নির্দিষ্ট শর্তে বৈধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা সংস্থাটি।
ইংলিশ উইলোর (কাঠ) দাম বেড়ে যাওয়ায় অপেশাদার ও বিনোদনমূলক ক্রিকেটে ব্যাট কেনা দিন দিন ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। খেলাটিকে সবার জন্য আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এমসিসি।
এমসিসি ঘোষণা দিয়েছে, ক্রিকেট আইনের নতুন সংস্করণে মোট ৭৩টি পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা কার্যকর হবে আগামী চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে।
এবার ওপেন এজ ক্রিকেটেও ব্যবহার করা যাবে ল্যামিনেটেড ব্যাট। আইন ৫.৮–এর অধীনে ‘ব্যাটের ধরন’ সংক্রান্ত সংশোধনে এমসিসি জানিয়েছে, এখন থেকে ওপেন এজ বিনোদনমূলক ক্রিকেটে ব্যবহার করা যাবে ল্যামিনেটেড ব্যাট, যেগুলোকে বলা হয় টাইপ ডি ব্যাট।
এই ব্যাট সর্বোচ্চ তিনটি কাঠের অংশ দিয়ে তৈরি হতে পারে। এর আগে টাইপ ডি ব্যাট শুধু জুনিয়র ক্রিকেটে অনুমোদিত ছিল। কিন্তু ব্যাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার বড়দের ক্রিকেটেও এটি বৈধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ল্যামিনেশনের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যাটের সামনে থাকে ইংলিশ উইলো, আর পেছনে যুক্ত করা হয় তুলনামূলক সস্তা ও কম মানের কাঠ, যেমন কাশ্মীরি উইলো।
টাইপ এ, বি ও সি ব্যাট এক টুকরো উইলো কাঠ দিয়ে তৈরি হয় এবং পেশাদার ক্রিকেটে এগুলোই বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উইলোর বাইরে অন্য কাঠও ব্যবহার করা যাবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাটের মুখের পেছনের অংশে উইলোর পরিবর্তে অন্য কাঠ ব্যবহারেরও অনুমতি দেওয়া হবে।
এমসিসির আইন ব্যবস্থাপক ফ্রেজার স্টুয়ার্ট জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,‘টাইপ ডি ব্যাটের পারফরম্যান্স সুবিধা খুবই সামান্য। নিচের স্তরের ক্রিকেটকে সাশ্রয়ী করতে যদি আমরা কিছু করতে পারি, অথচ খেলাটির স্বাভাবিক গতি ও ভারসাম্য নষ্ট না হয়, তাহলে সেটি যুক্তিসংগত পদক্ষেপ।’
এমসিসির মতে, ইংলিশ উইলোর প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাটের দাম দ্রুত বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে চাহিদা বাড়ায় বিশ্ববাজারে ব্যাটের দাম নাকি প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক শীর্ষ মানের ব্যাটের দাম পৌঁছেছে প্রায় ১ হাজার পাউন্ডে।
স্টুয়ার্ট বলেন, ‘পর্যাপ্ত উইলো আর পাওয়া যাচ্ছে না। তাই টেকসইভাবে যতটা সম্ভব গাছের কাঠ ব্যবহার করতে হবে।’
বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এমসিসি বিকল্প উপকরণ দিয়েও ব্যাট তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে খেলাটির ভারসাম্য নষ্ট হওয়া বা ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা আগে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, উইলোর বদলে বাঁশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
গ্রাফাইট-ব্যাকড ব্যাটও একসময় আলোচনায় ছিল, যদিও তা ২০০৬ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিল। নতুন সংস্করণে আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন থাকছে। যেমন—বহুদিবসীয় ম্যাচে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও ওভার শেষ না হওয়া পর্যন্ত খেলা চলবে। বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে ধরা ক্যাচের ক্ষেত্রে ‘বানি হপ’ কৌশল সীমিত করা হয়েছে।
উইকেটকিপারের গ্লাভস বল ছাড়ার আগে স্টাম্পের সামনে থাকলেও, বল ছাড়ার সময় অবশ্যই পেছনে থাকতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে শর্ট রান করলে ফিল্ডিং দল শাস্তিস্বরূপ পরবর্তী ব্যাটার নির্ধারণ করতে পারবে।
এ ছাড়া ক্রিকেট আইনের ভাষা আরও সহজ করা এবং লিঙ্গভিত্তিক শব্দ বাদ দেওয়ার কাজও সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এমসিসি।