
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ সংস্করণ শুরু হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর। সময়ের হিসাবে খুব বড় প্রস্তুতির সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাত্র তিন মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের ঘোষণা আসার পর থেকেই বিপিএলকে ঘিরে আলোচনা, সমালোচনা আর শঙ্কা—সবই একসঙ্গে চলেছে। একই সময়ে বিশ্বের অন্যান্য বড় ফ্রাঞ্চাইজি লিগ শুরু হওয়ায় তারকাসংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিপিএলের সময়সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে চলছে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি–টোয়েন্টি এবং পাকিস্তান–শ্রীলঙ্কার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ফলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার যেসব ক্রিকেটার প্রতিবছর বিপিএলের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন, এবার তাদের অনেককেই পাওয়া যাচ্ছে না। এতে টুর্নামেন্টের জৌলুস কিছুটা হলেও কমেছে—এমন ধারণা ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় একটি অংশের।
বাস্তবতা হলো, বিপিএল একেবারেই তারকাহীন নয়। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যেই এমন কয়েকজন আছেন, যারা ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতার কারণে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। পাশাপাশি কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটারও আছেন, যারা বড় লিগে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। এবারের বিপিএলে যাদের পারফরম্যান্সের দিকে বিশেষ নজর থাকবে, সেই সাত ক্রিকেটারকে নিয়েই এই বিশেষ প্রতিবেদন—‘বিপিএলের সাত তারা’।
মোস্তাফিজুর রহমান, কাটার ও স্লোয়ারের রাজা:
বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান আজ আর শুধু দেশীয় ক্রিকেটের তারকা নন, তিনি আন্তর্জাতিক ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটেরও পরিচিত মুখ। আইপিএল, আইএলটি–টোয়েন্টি, এলপিএল—প্রায় সব জায়গাতেই তার পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। কাটার আর স্লোয়ারে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করা এই পেসার বিপিএলের ১২তম আসরে খেলছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে।
বিপিএলে এখন পর্যন্ত ৮২ ম্যাচ খেলে মোস্তাফিজের উইকেট সংখ্যা ১০৫। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তিনি চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। সামনে সুযোগ রয়েছে রুবেল হোসেনের (১১০) এবং তাসকিন আহমেদের (১২৭) উইকেটসংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ার।
সাম্প্রতিক সময়ে আইপিএলে একদিনে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দল পাওয়া কিংবা আইএলটি–টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ২০২৫–২৬ বিপিএলে মোস্তাফিজকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ বেশ উঁচুতেই।
তাসকিন আহমেদ, ইতিহাস ছোঁয়ার পথে:
২০২৪–২৫ মৌসুমে দুর্বার রাজশাহী দল হিসেবে খুব একটা সফল না হলেও তাসকিন আহমেদ ছিলেন উজ্জ্বল। জাতীয় দলের এই ডানহাতি পেসার ২৫ উইকেট নিয়ে মৌসুমসেরা হন। ধারাবাহিক গতি, আগ্রাসন আর উন্নত লাইন–লেংথ তাকে এবারের বিপিএলের অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে বিবেচনায় রাখছে।
তাসকিন এবার খেলবেন রাজধানীর দল ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি এলপিএল ও আইএলটি–টোয়েন্টিতে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত করেছে। বিপিএলে সাত মৌসুমে অংশ নিয়ে তাসকিনের মোট উইকেট ১২৭টি। আর মাত্র ২৩টি উইকেট পেলেই তিনি ছাড়িয়ে যাবেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা সাকিব আল হাসানকে এবং হয়ে উঠবেন বিপিএলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী।
রেকর্ডের হাতছানি নিঃসন্দেহে তাসকিনকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে। দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত এই মাইলফলকও তাকে নজরকাড়া পারফরম্যান্সে উজ্জীবিত করতে পারে।
নাইম শেখ, রান দিয়েই জবাব :
নাইম শেখের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়—এ কথা বাস্তব সত্য। বাংলাদেশ দলের জার্সিতে ৩৮টি টি–টোয়েন্টিতে তার গড় মাত্র ২৩.৮৮। কিন্তু বিপিএল এবং ঘরোয়া লিগে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নাইমকে দেখে ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিশেষ করে ২০২৪–২৫ মৌসুমে তিনি যেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন।
গত আসরে ১১ ম্যাচে ৫১১ রান করে ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি অর্ধশতক তার ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার প্রমাণ। আগের সেরা ৩৫৯ রানকে অনেক পেছনে ফেলে দেওয়া এই পারফরম্যান্সই তাকে নিলামে একমাত্র কোটি টাকার বেশি দামের খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
বন্দর নগরীর দল নাইমকে দলে ভিড়িয়েছে বড় প্রত্যাশা নিয়ে। বিপিএলে নাইমের গড় ২৭.৯৪—যা টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে মোটেও খারাপ নয়। এবারের আসরেও তার ব্যাট থেকে বড় ইনিংস প্রত্যাশা করাই স্বাভাবিক।
ডেভিড মালান, নির্ভরতার প্রতীক :
ইংল্যান্ডের ডেভিড মালান বিশ্বের প্রায় সব বড় ঘরোয়া লিগেই পরিচিত নাম। বিপিএলেও তার আলাদা অবস্থান রয়েছে। পাঁচ মৌসুমে পাঁচটি ভিন্ন দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। এবারের আসরে ষষ্ঠবারের মতো রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে দেখা যাবে এই বাঁহাতি ওপেনারকে।
বিপিএলে মালানের পরিসংখ্যানই তার গুরুত্ব বোঝাতে যথেষ্ট। ৩৭ ইনিংসে ১১৮৬ রান, গড় প্রায় ৪০। একটি সেঞ্চুরি ও আটটি অর্ধশতক তার মারমুখী কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের প্রমাণ। বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাকে রংপুরের জন্য নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত করেছে।
হাবিবুর রহমান সোহান, সম্ভাবনার গল্প :
রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে ৩৫ বলে অপরাজিত সেঞ্চুরি ছুঁয়ে হাবিবুর রহমান সোহান নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। পাঁচ ইনিংসে ৫৭ গড়ে ২২৮ রান করে ছিলেন আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার। তার সাহসী ও আগ্রাসী ব্যাটিং চোখে পড়েছে অনেকের।
২০২২–২৩ বিপিএল থেকে নিয়মিত হলেও এখনও নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেননি সোহান। ১২ ইনিংসে করেছেন মাত্র ১২৮ রান, সবশেষ আসরে ব্যাটিংয়ের সুযোগও পাননি। তবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস মিনি নিলামে তাকে দলে নিয়েছে বড় প্রত্যাশা নিয়ে। সাম্প্রতিক ফর্ম যদি বিপিএলে ফলাতে পারেন, সোহান হয়ে উঠতে পারেন আসরের ‘এক্স–ফ্যাক্টর’।
তানজিদ তামিম, ছক্কার রাজা :
ছক্কা আর তানজিদ তামিম—এই দুই যেন এখন সমার্থক। ২০২৫ সালে ৩৮ ম্যাচে ৭৫টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি বৈশ্বিক তালিকায় দশম, আর বাংলাদেশিদের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন। আগ্রাসী ব্যাটিংই তার প্রধান শক্তি।
২০২৪–২৫ মৌসুমে তানজিদ ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। ১৪ ইনিংসে ৪২.৫৮ গড়ে ৪৮৫ রান, একটি সেঞ্চুরি ও চারটি অর্ধশতক তাকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকে পরিণত করে। গত মৌসুমে ঢাকার হয়ে খেলা এই বাঁহাতি ওপেনারকে দলে নিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স যে ঝুঁকি নেয়নি, তা আগের পারফরম্যান্সেই প্রমাণিত।
আজমতউল্লাহ ওমরজাই, অলরাউন্ড সমাধান :
আফগানিস্তানের আজমতউল্লাহ ওমরজাই ২০২১–২২ আসর থেকে বিপিএলের নিয়মিত মুখ। পেস অলরাউন্ডার হওয়ায় তার চাহিদা সব লিগেই বেশি। সেই কারণেই আইপিএলের ১৯তম আসরের জন্য তাকে রিটেইন করেছে পাঞ্জাব কিংস।
আইপিএলের পাশাপাশি আইএলটি–টোয়েন্টি, এসএ টি–টোয়েন্টি ও এলপিএলেও নিয়মিত খেলছেন তিনি। বিপিএলে এবার আজমত খেলবেন সিলেট টাইটানসের হয়ে। এর আগে রংপুর ও ঢাকার জার্সিতে তাকে দেখা গেছে। বিপিএলে তার সংগ্রহ ২৬০ রান ও ২২ উইকেট—যা স্পষ্ট করে দেয়, ব্যাট কিংবা বল—দু’দিক থেকেই তিনি ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারেন।
তারকাসংকট, আন্তর্জাতিক সূচির চাপ ও দীর্ঘদিনের নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই সাত ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সই অনেকটা নির্ধারণ করবে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের রং, উত্তাপ, প্রতিযোগিতার মান ও দর্শক গ্রহণযোগ্যতার ভবিষ্যৎ।
No posts available.
২ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ পিএম
২ মার্চ ২০২৬, ৪:১৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে পাকিস্তান নারী ক্রিকেটারদের দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে লাগাতার পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে দুবাই, সৌদি আরব, ওমানসহ কয়েকটি দেশের বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
যুদ্ধের সংঘাত এবং বিমান বন্দর সাময়িক বন্ধ থাকায় দেশে ফিরতে বিলম্ব হচ্ছে পাকিস্তান নারী দলের ক্রিকেটারদের। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ শেষে সোমবার রাতে ডারবান থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল ফাতিমা সানাদের। কিন্তু বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। বর্তমানে তারা ডারবানেই অবস্থান করছেন।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, আকাশসীমা পুনরায় খোলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়ার পরই দল দেশে ফেরার পথে রওনা দেবে। পিসিবি সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খেলোয়াড়রা দক্ষিণ আফ্রিকাতেই থাকবেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পাকিস্তান নারী দল তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে, যেখানে উভয় সিরিজই ২-১ ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিক দল।

ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। ওমরাহ শেষে শনিবার জেদ্দা থেকে দুবাই হয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল জাতীয় দলের উইকেটকিপার ব্যাটারের। তবে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রাপথে বিঘ্ন ঘটে মুশফিকের। তবে সোমবার নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তিনি।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারই সহধর্মিণী জান্নাতুল কিফায়েত মন্ডি।
তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মুশফিক নিরাপদে বাসায় ফিরে এসেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছেন। যারা আমার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং আমাকে মানসিক সমর্থন দিয়েছেন, সকল আপনজনকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুশফিকের স্ত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক যেন হয়, এ জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন তিনি, ‘আমরা দোয়া করি, ইন শা আল্লাহ, পৃথিবীর পরিস্থিতি খুব শিগগিরই শান্ত ও স্বাভাবিক হয়ে উঠুক।’
রবিবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছিলেন ইসরায়েল-ইরানের সংঘাতে জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে পড়া মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন তিনি। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, রবিবার রাতের ফ্লাইটে মুশফিক দেশে ফিরে আসবেন।

আগামীকাল মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনালে নর্থ জোনের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেন্ট্রাল জোন। তার আগে সোমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন সেন্ট্রাল জোনের অলরাউন্ডার সাইফ হাসান। এসময় তিনি দলের লক্ষ্য এবং ব্যক্তিগত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আগামী সপ্তাহে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। ফলে বিসিএল আসন্ন সিরিজের আগে দেশের ক্রিকেটারদের জন্য ভালো প্রস্তুতির মঞ্চ হতে পারে। সাইফ হাসানও বলছেন সে কথা।
সাইফ বলেন, 'যেহেতু আমরা ফাইনালে উঠেছি এবং একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ বেড়েছে। ওয়ানডে সিরিজের আগে এটা ভালো একটা প্রস্তুতি আমাদের জন্য। আশা করি কালকের ম্যাচটায় আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবো।'
'গত এক-দেড় বছর ওরকম ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাইনি। কিছু ওয়ানডে আমরা পেয়েছি তাও টি-টোয়েন্টির মাঝখানে। এখন যেগুলাই ওয়ানডে সিরিজ আছে অবশ্যই প্রস্তুতিটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।'-যোগ করেন তিনি।
বিসিএলে বাদবাকি ম্যাচগুলো বগুড়া ও রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলেও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিরপুর। শিরোপার মঞ্চে ব্যক্তিগত লক্ষ্য জানাতে গিয়ে সাইফ বলেন,
'বগুড়া-রাজশাহীতে সাধারণত খুব ভালো উইকেট থাকে। আর মিরপুরে কালকে যেহেতু দিবা-রাত্রির ম্যাচ, আশা করি ভালো উইকেট থাকবে। একটা সিরিজের আগে যদি ম্যাচ অনুশীলন থাকে, অবশ্যই খুবই ভালো ব্যাটসম্যান হিসেবে যদি বলি। তাই ম্যাচটি যেখানেই খেলি না কেন, নিজের শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করি।'
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হয়নি বাংলাদেশ দলের। চলতি বছরেও কোনো আইসিসি ইভেন্ট নেই। যদিও আগামী বছর রয়েছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। যেখানে সরাসরি খেলবে টাইগাররাও।
সাইফ বলেন, ‘সবাই আসলে মন খারাপ করেছে (বিশ্বকাপ খেলতে না পেরে)। এখানে অস্বীকার করার কিছু নেই। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই জরুরি।’

সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ঠিকই হারিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু রান রেটের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। তাতেই সালমান আলী আগাদের সেমি-ফাইনাল স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। পাকিস্তানকে টপকে গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে নিউ জিল্যান্ড। তিনটি ম্যাচই জিতে গ্রুপ সেরা হয়েছে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে শনিবার। এখনও থামেনি সমালোচনার ঝড়। শূলে চড়ানো হচ্ছে নির্বাচক, কোচিং স্টাফদের সদস্যদেরও। শোনা গেছে, বিশ্বকাপে ব্যর্থতায় জরিমানা করা হয়েছে ক্রিকেটারদের। জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হচ্ছে কোচিং স্টাফদের। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক আসরে ব্যর্থতায় পিসিবিতে ফাটল ধরেছে।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে দেশটির জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক আন্তর্জাতিক আম্পায়ার আলিম দার। পাকিস্তানের সামা টিভি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আজ।
এক প্রতিবেদনে তারা জানায়, জাতীয় দলের ধারাবাহিক বাজে ফলের কারণে সৃষ্ট উদ্বেগ থেকেই আলিম দার পদত্যাগপত্র জমা দেন। এতে দল পরিচালনা ও নির্বাচকদের ওপর চাপ যে বাড়ছে, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্বকাপে মাঠের ব্যর্থতার পর নির্বাচক প্যানেলে এটিই প্রথম বড় পরিবর্তন। তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন বা কমিটিতে আরও কোনো পরিবর্তন আসছে কি না—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচই পাকিস্তান খেলেছে শ্রীলঙ্কায়। তাদের গ্রুপ পর্বের লড়াইগুলো হয়েছে কলম্বোয়। সুপার এইটের দুটি ম্যাচ খেলেছে তারা পাল্লেকেলেতে।
গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও শেষ চারে খেলতে পারেনি পাকিস্তান। আসরে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। আর এবার এই ব্যর্থতা।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অন্যান্য দেশেও। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে এই সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে, বিসিবির সূত্র বলছে, এই বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
৫০ ওভারের তিনটি ম্যাচ খেলতে ৯ মার্চ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে পাকিস্তানের। শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ১১, ১৩ এবং ১৫ মার্চ হওয়ার কথা ম্যাচগুলো। অনিশ্চয়তার মধ্যে সিরিজটি আলোর মুখ এখন না-ও দেখতে পারে। তবে সূত্র বরাতে জিও সুপার বলেছে ভ্রমণ ঝুঁকি, নিরাপত্তা উদ্বেগ যদি না বাড়ে তবে পাকিস্তান অবশ্যই সফর করবে।
আরও পড়ুন
| নতুন মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে ভারত |
|
এদিকে আসন্ন সিরিজে দল নিয়ে এই সপ্তাহে বসার কথা পাকিস্তান ম্যানেজমেন্টের। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর তারা ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে মনোযোগ দিচ্ছে। আগামী বছর সাদা বলের লঙ্গার ভার্সনের বিশ্বকাপ হবে জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকায়।
সূত্র জানায়, ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের বিপক্ষে সফর দিয়েই ব্যাপক পরিবর্তন আনতে চায় পাকিস্তান। বাবর আজম, মোহাম্মদ নওয়াজ ও সাইম আইয়ুবদের মতো প্রথম পছন্দের ক্রিকেটাররা বাদ পড়তে পারেন। তাদের জায়গায় তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে পাকিস্তানের নির্বাচক প্যানেল। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা আরও ৫-৬ জন ক্রিকেটার বাদ পড়তে পারেন বলে জানায় সূত্র।
বাংলাদেশে আসার আগে সর্বশেষ গত নভেম্বরে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল পাকিস্তান। সেবার ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে আতিথেয়তা দেয় পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়া তিন ম্যাচেই জয়লাভ করে পাকিস্তান।