২৫ মার্চ ২০২৫, ২:৫৩ পিএম

অনেকটা সময় ধরেই নিয়মিতভাবে স্বাধীনতা দিবসের প্রদর্শনী ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই ধারায় এবারও সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে এই ম্যাচটি আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিসিবি ঘোষণা করেছে ম্যাচের সময়সূচী ও স্কোয়াড। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১০ ওভারের ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে।
বাংলাদেশ লাল একাদশ:
আকরাম খান, হাবিবুল বাশার সুমন, হান্নান সরকার, সজল চৌধুরী, সানোয়ার হোসেন, মেহরাব হোসেন অপি, ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স, মোহাম্মদ সেলিম, নাজমুল হোসেন, ডলার মাহমুদ, নিয়ামুর রাসুদ রাহুল, আবদুর রাজ্জাক, গোলাম ফারুক সুরু, সাজ্জাদ আহমেদ শিপন, এএসএম রকিবুল হাসান।
বাংলাদেশ সবুজ একাদশ:
মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, জাবেদ ওমর বেলিম, খালেদ মাসুদ পাইলট, আতাহার আলী খান, শাহরিয়ার নাফীস আহমেদ, এহসানুল হক সিজান, মোহাম্মদ রফিক, হারুন অর রশিদ লিটন, তালহা জুবায়ের, হাসিবুল হোসেন শান্ত, হাসানুজ্জামান, মুশফিকুর রহমান বাবু, জাকির হোসেন, জামাল উদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ আলী।
No posts available.
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৪৩ পিএম

জয়ের জন্য মুলতান সুলতান্সের প্রয়োজন ৪৬ রান। পেশাওয়ার জালমিকে জেতানোর দায়িত্ব পড়ল দুই বাংলাদেশি পেসার শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার কাঁধে। ডেথ ওভারে চমৎকার বোলিং করলেন দুই পেসার। অনায়াসেই জিতে গেল পেশাওয়ার।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) সোমবার রাতে মুলতানকে ২৪ রানে হারিয়েছে শরিফুল-নাহিদদের পেশাওয়ার। আগে ব্যাট করে ১৯৬ রান করে পেশাওয়ার। জবাবে বাংলাদেশের দুই পেসারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৭২ রানের বেশি করতে পারেনি মুলতান।
চলতি পিএসএলে এটিই ছিল শরিফুল ও নাহিদের শেষ ম্যাচ। তাদের ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ১২ এপ্রিল। তবে ১৩ তারিখ ম্যাচ থাকায় বাড়তি আরেক দিন ছুটি চেয়ে নেন দুই পেসার। আর সেই ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে দারুণ জয়ই উপহার দিলেন তারা।
৬ ম্যাচে ৫ জয় ও এক পরিত্যক্ত ম্যাচসহ ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই এখনও পেশাওয়ার। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে মুলতান।
দেশে ফেরার আগে শেষ ম্যাচটিতে ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। শরিফুল কোনো উইকেট না পেলেও, ৪ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ২৭ রান। শেষের ৪ ওভারে ৪৬ রানের সমীকরণে তারা দুজন মিলে ৩ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১৩ রান।
সব মিলিয়ে পিএসএলে নিজের অভিষেক আসরে ৪ ইনিংসে মাত্র ১০.৮৫ গড় ও ৫.৪২ ইকোনমি রেটে ৭টি উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। টুর্নামেন্টে অন্তত ১ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে তার ইকোনমিই সেরা। আর শরিফুল ৫ ইনিংসে ওভারপ্রতি ৭.৯৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।
পিএসএল অধ্যায় শেষ করে এবার মঙ্গলবার সকালে দেশে ফেরার কথা রয়েছে নাহিদ ও শরিফুলের। এর আগে রোববার সকালে একসঙ্গে পিএসএল থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন।
আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হবে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এর জন্য বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিক অনুশীলন শুরু করবে বাংলাদেশ। ওয়ানডের লড়াই শেষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে দুই দল।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের জট খোলার পর এবার প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) শুরুরও ঘোষণা দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের পর প্রায় আড়াই বছর বিরতি দিয়ে আবার মাঠে গড়াবে চার দলের এই টুর্নামেন্ট।
তবে লম্বা সময় পর আবার মাঠে গড়ালেও, একসঙ্গে পুরো টুর্নামেন্ট হবে না। বরং এক রাউন্ড খেলার পর দেওয়া হবে প্রিমিয়ার লিগের বিরতি। এরপর আবার হবে বাকি দুই রাউন্ডের খেলা। বিরতির আগে প্রথম রাউন্ডের খেলা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল।
এক বিবৃতিতে সোমবার রাতে বিসিএলের চার দিনের সংস্করণের ১২তম আসরের সূচি ও চার স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। প্রথম রাউন্ডের খেলা হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও এর একাডেমি মাঠে।
প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে মূল মাঠে লড়বে সেন্ট্রাল জোন ও ইস্ট জোন। আর একাডেমি মাঠে খেলবে নর্থ জোন ও সাউথ জোন। বাকি দুই রাউন্ডের সূচি প্রিমিয়ার লিগের ওপর নির্ভর করে যথাসময়ে ঘোষণা করবে বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটি।
বিসিএলের ৪ দিনের সংস্করণ দিয়ে আবার দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরবেন এনামুল হক বিজয়। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় ক্রিকেট লিগের চার দিনের সংস্করণে খেলার পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, বিসিএল ওয়ানডে ও অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপে রাখা হয়নি তাকে।
টুর্নামেন্টের চার দলে অধিনায়কত্ব করবেন মার্শাল আইয়ুব (সেন্ট্রাল জোন), মুমিনুল হক (ইস্ট জোন), মোহাম্মদ মিঠুন (সাউথ জোন) ও আকবর আলি (নর্থ জোন)। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ থাকায় জাতীয় দলের সাদা বলের ক্রিকেটাররা প্রথম রাউন্ডে খেলতে পারবেন না।
সেন্ট্রাল জোন স্কোয়াড
সাদমান ইসলাম অনিক, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, আশিকুর রহমান শিবলি, মার্শাল আইয়ুব (অধিনায়ক), মাহফিজুল ইসলাম রবিন, জিসান আলম, আব্দুল মজিদ, শুভাগত হোম চৌধুরি, রকিবুল হাসান, আবু হায়দার রনি, এনামুল হক, আনিসুল ইসলাম ইমন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সুমন খান, ইকবাল হোসেন ইমন
ইস্ট জোন স্কোয়াড
মাহমুদুল হাসান জয়, জাকির হাসান, অমিত হাসান, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), শাহাদাত হোসেন দীপু, ইয়াসির আলি চৌধুরি, মুশফিকুর রহিম, আসাদুল্লা আল গালিব, জাকের আলি অনিক (উইকেটরক্ষক), ইবাদত হোসেন চৌধুরি, তোফায়েল আহমেদ, নাঈম হাসান, হাসান মুরাদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইফরান হোসেন
নর্থ জোন স্কোয়াড
সাব্বির হোসেন, আজিজুল হাকিম তামিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইকবাল হোসেন, আকবর আলি (অধিনায়ক), তানবীর হায়দার, প্রীতম কুমার, এসএম মেহেরব হাসান, তাইজুল ইসলাম, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, সানজামুল ইসলাম, রবিউল হক, মুশফিক হাসান, রহিম আহমেদ, আসাদুল্লাহ হিল গালিব
সাউথ জোন স্কোয়াড
ইফতেখার হোসেন ইফতি, এনামুল হক বিজয়, ফজলে রাব্বি মাহমুদ, মোহাম্মদ মিঠুন (অধিনায়ক), সালমান হোসেন ইমন, কালাম সিদ্দিকি এলিন, মইন খান, রিজান হোসেন, আবু জায়েদ চৌধুরি রাহী, সামিউন বশির রাতুল, রুয়েল মিয়া, আব্দুল হালিম, ওয়াসি সিদ্দিকি, আশরাফুল হাসান, সফর আলি

বিসিবির নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর অনিশ্চয়তা কেটে গেল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের তারিখ ঘোষণা করেছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)।
বিসিবি সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগামী শনি ও রবিবার দলবদলের দিন ধার্য করা হয়েছে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সিসিডিএম কার্যালয়ে ওই দুই দিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে দলবদলের আনুষ্ঠানিকতা।
লিগে অংশ নেওয়া ১২টি দল—আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স, রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, সিটি ক্লাব ও ঢাকা লিওপার্ডস।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে কিছুটা স্বস্তি পেতেই পারেন সাইফ হাসান। সাম্প্রতিক সময়ের ব্যর্থতা ঝেরে ফেলার আভাস তিনি দিলেন নিজেদের মধ্যকার প্রস্তুতি ম্যাচে। রানের দেখা পেলেন সৌম্য সরকার। আর চমৎকার বোলিং করলেন তাসকিন আহমেদ।
প্রায় এক সপ্তাহের অনুশীলন ক্যাম্পের পর সোমবার নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দল ও এর আশপাশের ক্রিকেটাররা। যেখানে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান সাইফ ও সৌম্য। আর বোলিংয়ে আগুন ঝরান তাসকিন, তানজিম হাসান সাকিব।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন টিম 'এ' নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে করে ২৯২ রান। জবাবে নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্বাধীন টিম 'বি' ৩৬.৩ ওভারে মাত্র ১৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায়।
টিম 'এ'-র হয়ে অবশ্য সাইফ ছাড়া আর কেউই বড় রানের দেখা পাননি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলে ৬ চারের সঙ্গে ৮টি ছক্কা মেরে ১৩৩ বলে ১৩৮ রান করেন সাইফ। সাম্প্রতিক সময়ের ব্যর্থতার পর এই ইনিংস হয়তো তার ঘুরে দাঁড়ানোয় বড় ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া আফিফ হোসেন ধ্রুব ৪৮ বলে ৩৪, তাওহিদ হৃদয় ৩৬ বলে ২৫, নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৫ বলে ১২, তানজিদ হাসান তামিম ৬ বলে ৭ রান করেন। শেষ দিকে মিরাজ ১২ বলে ২০ ও সাকিব ১৩ বলে ২৭ রান করে দলকে তিনশর কাছে নিয়ে যান।
বল হাতে ২টি করে উইকেট নেন ইবাদত হোসেন চৌধুরি ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
পরে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম বলে আউট হন মাহমুদুল হাসান জয়। সৌম্য সরকার ৯ চারে ৫৫ রান করতে খেলেন ৮৫ বল। এর বাইরে মাহিদুল ইসলাম অঙ্ক ৩৫ বলে ২৪, সোহান ২০ বলে ১৫, জাকের আলি অনিক ৭ বলে করেন শূন্য রান।
শেষ দিকে শামীম হোসেন ২৭ বলে ৩১ ও নাসুম আহমেদের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ১৮ রান।
তাসকিন ৬ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। এছাড়া মিরাজ ও সাকিবের শিকার ২টি করে উইকেট।
আগামী ১৭ এপ্রিল শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। খেলা শুরু বেলা ১১টায়। এই সিরিজের সব খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।

সত্তর, আশি, নব্বই দশকে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিবি) চলতো কীভাবে? বিদেশ সফরের খরচ বহন করতো কে? বিসিবিতে টাকার গাছের চারাটা কারা লাগিয়েছেন? বর্তমান প্রজন্মকে তা জানানো দরকার।
আর্থিক টানাপোড়েনে থাকা স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম দুই দশকে ঢাকা ক্রিকেট লিগে ম্যাচ বল পর্যন্ত কেনার সামর্থ ছিল না বিসিসিবির। লিগের ম্যাচে আম্পায়ার-স্কোরারদের লাঞ্চটা পর্যন্ত দিতে পারতো না বিসিসিবি। দুই দল ভাগ করে খাওয়াতো আম্পায়ার-স্কোরারদের। ঢাকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টিকিট বিক্রি থেকে আয় দিয়ে সারা বছর চলতো বিসিসিবির কার্যক্রম। ঈদ এলে বিসিসিবির কর্মচারিদের বোনাসের যোগানটা আসতো বিসিসিবির কার্যনির্বাহী সদস্যদের চাঁদায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিদেশ সফরের খরচ নির্বাহে হাত পাততে হতো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) দিকে। ১৯৭৯ সালে আইসিসি ট্রফিতে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বেজ ক্যাম্পটা হয়েছে নৌবাহিনীর সদর দফতরে, তা তৎকালীন বিসিবি সভাপতি কমোডোর মুজিবুর রহমানের বিশেষ উদ্যোগে। বিসিসিবিতে সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি হিসেবে ৭ বছর ছিলেন কে জেড ইসলাম। ওনার অটোবায়োগ্রাফি 'ক্রিকেটের নির্মাণ' লিখতে যেয়ে জেনেছি অনেক অজানা তথ্য। নিজ হাতে বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি লিখে বিশেষ ডিসকাউন্ট অফারে বাংলাদেশ দলের জন্য টিকিটের বন্দোবস্ত করেছেন। এই হ্রাসকৃত মূল্যে পুরো টিমের টিকিটের টাকাটাও নিজ দিয়েছেন ! যে লোকটি নিজের প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল-এর স্পন্সরে দেশব্যাপী স্কুল ক্রিকেট প্রবর্তন করেছেন, স্কুল ক্রিকেটের সমুদয় খরচ টানা ১৬ বছর বহন করেছেন, ক্রিকেট দলের বিদেশ সফরের খরচটা তিনি বহন করবেন, এটাই তো স্বাভাবিক।
আর্থিক টানাপোড়েনে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্নের পরিধিটা বৈশ্বিক আসর পর্যন্ত যাবে, সত্তর-আশি দশকে কল্পচোখেও কী কেউ দেখেছেন? টিনের বালতিতে ওয়াসার সাপ্লাই পানিতে লেবু, গুড় মিশিয়ে সরবত বানিয়ে প্লাস্টিকের গ্লাসে করে ড্রিকংস ব্রেকের সময়ে তা পান করে মহাতৃপ্ত ক্রিকেটাররাও অতোটা স্বপ্ন দেখেননি। দেখবেন কী করে? আউটার স্টেডিয়ামে কংক্রীটের পিচে পুরোনো ক্রিকেট বল আকৃতি পরিবর্তনের পরও সেলাই দিয়ে অনুশীলন করে, কিংবা ম্যাচে একটি ম্যাচ ব্যাট আর ২ জোড়া মাত্র প্যাড সম্বল করে ক্রিকেট মাঠে ক্লাবকে জড়ো করা ছিল যাদের জন্য কঠিন কাজ, আজ তারা দেখছেন ক্লাবগুলোর বিত্ত-বৈভব।
কীভাবে ক্রিকেটকে ঘিরে স্বপ্নের পরিধিটা ছুঁয়েছে আকাশ? শৈশব-তারুণ্যে ক্রিকেট সমর্থক হিসেবে মাঠে নিয়মিত হাজিরা দেয়ার পর তিন দশকের ক্রীড়া সাংবাদিকতা জীবনে ক্রিকেটের বিবর্তনের পুরো গল্পটাই বলতে পারব। বিবর্তনের গল্পে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করতে হবে যাদেরকে, তাদের অগ্রভাগে থাকবেন রাইসউদ্দিন আহমেদ-রেজা-ই-করিম জুটি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের খেলার দরজাটা খুলে দিয়েছেন তাঁরাই। আইসিসির সহযোগী সদস্যপদটা আদায় করে নিয়েছেন তারাই। এর পর আসবেন আমিনুল হক মনি নামের এক মেধাবি সংগঠক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ছেড়ে ক্রিকেট অন্তপ্রাণ এই মানুষটির আইডিয়ায় প্রবর্তিত হয়েছে সার্ক ক্রিকেট। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা 'এ' দলের সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের আত্মবিশ্বাস নিয়েছে বাড়িয়ে। ১৯৯৭ সালের মার্চ-এপ্রিলে আইসিসি ট্রফির আসর বসবে মালয়েশিয়ায়, তখন থাকবে ভরা বর্ষা মৌসুম। খেলাগুলো হবে অ্যাস্ট্রো টাফে। তা জেনে বিসিসিবির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক আমদানী করেছিলেন বেশ কিছু অ্যাস্ট্রো টার্ফ। ন্যাচারাল পিচের বদলে এই অ্যাস্ট্রো টার্ফে প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ আয়োজন করেছিলেন। ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফির পূর্ব প্র্রস্তুতিটা দেশের মাটিতেই নিতে পেরেছে ক্রিকেটাররা, তাঁর এই পরিকল্পনায়।
১৯৯৭ সালের নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হলে বিসিসিবি সভাপতি পদে সাবের হোসেন চৌধুরীকে নিযুক্ত করাটাও ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠানোর টার্নিং পয়েন্ট। জাতীয় দলের ক্রিকেট কোচের খরচ নির্বাহ করার সঙ্গতি ছিল না তৎকালীন বিসিসিবির। পরিস্থিতির মুখে এনএসসির শরনাপন্ন হয়ে মাসে ৫ হাজার মার্কিন ডলার বেতনে ক্যারিবিয়ান লিজেন্ডারি স্যার গর্ডন গ্রীনিজকে দিয়েছিলেন ২ বছরের জন্য নিয়োগ। দায়িত্ব নিয়েই গর্ডন গ্রীনিজ ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন-
'উপমহাদেশের তিনটি দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা আইসিসির পূর্ণ সদস্য। এই তিনটি দেশই বিশ্বকাপের ট্রফি জিতেছে। তাহলে বাংলাদেশ কেনো আইসিসি ট্রফি জিততে পারবে না ?'
এই কথাটি ক্রিকেটারদের মাথায় ভালভাবে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ছোঁয়াতেই বদলে গেছে ক্রিকেট দল।
১৯৯৪ সালে কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিতে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথম রাউন্ডে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে হেরে রানার্স আপ হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ পেয়েছে কঠিন দুই প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস-কেনিয়া। নেদারল্যান্ডসের কাছে ৪৭ রানে এবং কেনিয়ার কাছে ১৩ রানে হেরে বাংলাদেশ দলের বিদায় আইসিসি ট্রফির পরবর্তী আসরে দিয়েছে সতর্কবার্তা।
১৯৯৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ওই তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিয়েছে মধুর প্রতিশোধ। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১১০ রানে, নেদারল্যান্ডসকে ৩ উইকেটে এবং কেনিয়াকে ২ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ জিতেছে আইসিসি ট্রফি। মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুরের কিলাত ক্লাবে বিজয় উল্লাসে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিল আইসিসি ট্রফি জয়টাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের বাঁক বদলের গল্প রচনা করেছে । বিসিসিবি থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নামকরন করে দেশের ক্রিকেটকে অন্য উচ্চতায় তুলতে চেয়েছেন সাবের হোসেন চৌধুরী। আইসিসি ট্রফি জয়ের পর আকাশপথে ক্রিকেটারদের ভ্রমন সুবিধা ইকোনমি ক্লাস থেকে বিজনেস ক্লাসে উন্নীত করেছেন তিনি। ক্রিকেটারদের পে রোলে এনেছেন তিনি।
নব্বই দশকে এশিয়া কাপ খেলে পেপসি থেকে যেখানে বিসিসিবি পেতো ২৫ হাজার মার্কিন ডলার, আইসিসি ট্রফি জয়ের পর সেই অঙ্ককে চারগুনে উন্নীত করেছেন সাবের হোসেন চৌধুরী। ২০০৪ সাল থেকে এশিয়া কাপের অ্যাপিয়ারেন্স মানি'র অঙ্ক ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার সমান পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
আইসিসি ট্রফি জয়ের ২৯তম বর্ষপূর্তি আজ। বিসিবিতে নেই সেই ট্রফি জয়ী দলের অধিনায়ক আকরাম খান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তাঁর হার না মানা ৬৮ রানের ইনিংসটাই বাংলাদেশের ক্রিকেটে বাঁক বদলের গল্পের প্রথম অধ্যায়। 'এক ধাপ পেরুলেই বিশ্বকাপ'-স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে অবতীর্ন হওয়ার আগে একটি দৈনিকের এমন শিরোনাম দেখে শিহরিত হয়েছিলাম। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে খালেদ মাসুদ পাইলটের ৯৬ বলে ৭০ রানের ইনিংসের কল্যানে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৭২ রানে জয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ দল নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের টিকিট। অবশিষ্ট ছিল আইসিসি ট্রফির শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন। রিজার্ভ-ডে-তে গড়ানো ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে যখন টার্গেট দাঁড়ায় ২৫ ওভারে ১৬৬, সেই ফাইনালে জয়ের আশা বাংলাদেশ সমর্থকদের ক'জনইবা করেছে? টেল এন্ডার রফিককে ওপেনিংয়ে নামিয়ে গর্ডন গ্রীনিজ খেলতে চেয়েছিলেন জুয়া। সেই জুয়ায় জিতেছে বাংলাদেশ। শেষ বলে লেগ বাই এর সুবাদে হাসিবুল হোসেন শান্ত'র দৌঁড়ের সঙ্গে সঙ্গে কিলাত ক্লাব মাঠটা দখল করে উৎসব করেছে প্রবাসীরা। যে উৎসবের ছাঁট ছুটে এসেছে বাংলাদেশে। দিনভর রঙ, কাঁদা ছিটিয়ে, মিস্টি বিতরণ করে অন্য এক উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে রাজধানীতে।
এমন একটা ইতিহাস রচনার পরদিন ছিল বাংলা নববর্ষ। রমনা বটমূলে ইলিশ-পান্থা উৎসব কিংবা ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসব ছাপিয়ে জনতার ঢল নেমেছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। চাটার্ড ফ্লাইটে কুয়ালামপুর থেকে ঢাকায় ক্রিকেট দলের অবতরণের দৃশ্যটাও কল্পনাতীত। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টারমার্কে ক্রিকেট দলকে বরণে উপচে পড়েছে জনতা। সেখান থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পথে ক্রিকেটারদের কীভাবে আনা হয়েছে, বাংলাদেশ বেতার সেই ধারাবিবরনী দিয়েছে। শেষটা ছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর নাগরিক সম্বর্ধনা। নাগরিক সম্বর্ধনায় ইতিহাস রচনার নায়কদের কাছ থেকে দেখার সে কী আনন্দ। যে সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে নগদ অর্থ পুরস্কারে ক্রিকেট দল হয়েছে সম্মানিত। নাগরিক সম্বর্ধনায় কোচ গর্ডন গ্রীনিজ পেয়েছেন বাংলাদেশের অনারারী সিটিজেনশিপ। ওই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যের একটি লাইন ছিল-'লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান, দিস ভিক্টরি ইজ ফর ইউ।' যা ২৯ বছর পর এখনো কানে বাজে।
রাজনৈতিক মামলায় নাইমুর রহমান দুর্জয় এখন কারাগারে। ওই দলের আর এক ক্রিকেটার বিসিবি সভাপতি পদ হারিয়ে মেলবোর্নে চলে গেছেন। খালেদ মাসুদ পাইলটও বিসিবির অফিস থেকে ভয়ে পালিয়ে গেছেন। ভেঙ্গে যাওয়া বোর্ডের সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ বিসিবি থেকে নির্বাসিত। আইসিসি ট্রফি জয়ী ওই দলের সদস্যদের মধ্যে বিসিবির অন্তবর্তীকালীন কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আতাহার আলী। স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে মোহাম্মদ রফিক, আম্পায়ার্স কমিটিতে এনামুল হক মনি, নির্বাচক হিসেবে হাসিবুল হোসেন শান্ত এবং বিসিবির প্যানেল কোচ হিসেবে আছেন সাইফুল ইসলাম।
দেখতে দেখতে কেটে গেছে ২৯টি বছর। তবে আজ থেকে ২৯ বছর আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বাঁক বদলের গল্পটা যারা লিখেছেন, তাদেরকে কি এই প্রজন্মের কাছে ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কিংবা ক্রীড়া মন্ত্রানালয়?