
আইসিসি স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোন ফরম্যাটে জয় দিয়ে অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশের, জানেন ? এর উত্তর টি-টোয়েন্টি। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত বাংলাদেশকে এই ফরম্যাটের ক্রিকেটের জন্য যথার্থ, এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেকে সময়ের সেরা প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের ধারনাকে সত্যি বলে জানিয়ে দিয়েছে আশরাফুল-আফতাব-সাকিব-মাশরাফি-রাজ্জাক-সৈয়দ রাসেলরা।
অবচেনতমনে বাংলাদেশের সব ব্যাটারের প্রতিটি বলে খেলার প্রবনতা যখন দৃশ্যমান, তখন ২০ ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য আদর্শ, এমন বিশ্লেষনই ছিল বিশেষজ্ঞদের। তবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২ দশকে দাঁড়িয়ে পরিসংখ্যান কিন্তু বলছে উল্টোটা। হয়ে যাওয়া ২১৪টি ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৮৪টি। সাফল্যাঙ্ক ৪০.৬৫%।
আশ্চর্য হলেও সত্য, টেস্ট-ওডিআই-টি-টোয়েন্টি, আইসিসির সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের অবস্থান ৯ নম্বর। অর্থাৎ সব ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের একটা অভিন্ন বেঞ্চ মার্ক দাঁড়িয়ে গেছে। এবার মহাসুযোগ ছিল টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ৯ থেকে ৮-এ উঠে আসা। নিউ জিল্যান্ডকে সিরিজের শেষ ম্যাচে হারিয়ে দিতে পারলেই শ্রীলঙ্কাকে হটিয়ে ৮-এ উঠতে পারতো বাংলাদেশ। শনিবার সেই সুযোগটি হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ দল। এই জয়টা পেলে মাহমুদউল্লাহ (৪৩ ম্যাচে ১৬ জয়), সাকিব আল হাসানকে ( ৩৯ ম্যাচে ১৬ জয়) টপকে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক জয়ের রেকর্ডটা গড়তে পারতেন লিটন দাস। এখন এই মাইলস্টোনে প্রতীক্ষা বেড়েছে তাঁর।
সত্যি বলতে কী, সাদা বলের দুই ফরম্যাটের ক্রিকেটেই বাংলাদেশ দলকে ভরসা দিচ্ছে বোলিং সাইড। ২ পেসার, ৩ স্পিনার ফর্মূলা থেকে বেরিয়ে এসে তিন পেসার, দুই স্পিনারে কম্বিনেশন সেট করেও এই ডিপার্টমেন্টটা বিশ্বমানের। ফিল্ডিং কখনো কখনো প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেলেও অধিকাংশ সময়ে গড়পড়তা। স্ট্যাম্পিং মিস, হাত থেকে ক্যাচ ফসকে যাওয়া-এটাও দর্শকের কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
ব্যাটিংটা বড্ড বেশি অধারাবাহিক। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পরাশক্তিদের কাতারে দাঁড়ানোর মতো নয়। প্রথমে ব্যাট করে ২শ স্কোর করতে পেরেছে বাংলাদেশ ৫টি-তে। ২শ' প্লাস রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ১টি।
এই ২০ বছরে ৯৩ ক্রিকেটারের মাথায় উঠেছে টি-টোয়েন্টি ক্যাপ। যাদের মধ্যে ব্যাটিং গড়ে নুরুল হাসান সোহান এবং তানজিদ হাসান তামিম ছাড়া ৩০-এর ঘরে গড় নেই কারো। ক্যারিয়ার রেকর্ডসে স্ট্রাইক রেট ১৩০-এর ঘরে মাত্র দু'জন, মাশরাফি এবং পারভেজ হোসেন ইমন।
কেনো বাংলাদেশের ব্যাটিং সাইড টি-টোয়েন্টির পরাশক্তিদের কাতারে আসতে পারছে না ? হোমে তাদের জন্য অনুকূল উইকেট দিতে পারছে না বিসিবি, এটা হতে পারে একটা কারন। আইপিএল, পিএসএল-এর চলমান আসরে যেখানে নামতা গুনে স্কোর ২শ হচ্ছে, ২শ-আড়াইশ' রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড অহরহ, সেখানে বিপিএলে ২শ কালে ভদ্রে।
পাওয়ার হিটিং কোচের দাওয়াইয়েও কাজ হয়নি। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে, শেষ পাওয়ার প্লে-তে স্কোর হচ্ছে না প্রত্যাশিত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের ডট বলের সংখ্যাটাও একটু বেশি। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বোলিং অলরাউন্ডারের অভাবটাও টের পেয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস। সাইফউদ্দিন, তানজিদ হাসান তামিমের বিগ হিটের ক্ষমতা আছে। তারপরও মাঠে সেই সক্ষমতার ধারাবাহিকতা নেই। স্পিনার ক্যাটাগরিতে একাদশে থাকবেন যারা, তাদেরকে অলরাউন্ডার ভূমিকায় দেখতে চান লিটন। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাম্প্রতিক এবং নিকট অতীতের প্রেক্ষাপটে এই অভাবটাই অনুভব করছেন তিনি। রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদীর ব্যাটে সেই দায়িত্ববোধটা দেখতে চাইছেন অধিনায়ক লিটন দাস।
বছরওয়ারী হিসেবে গত বছর রেকর্ড ৩০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এই ৩০ ম্যাচে ১৫ জয়ও ছিল মোটামুটি প্রশংসিত। ওই বছরটিতে চিনিয়েছেন টপ অর্ডার তানজিদ হাসান তামিম (২৭ ম্যাচে ৭৭৫ রান, ৩২.২৯ গড় , ১৩৫.২৫ স্ট্রাইক রেট)। লেগ স্পিনার রিশাদও ৩৩ উইকেট পেয়ে ছিলেন বছরসেরা টি-টোয়েন্টি বোলারদের শীর্ষ তালিকায়।
তবে এ বছরের শুরুটা হয়েছে হতাশা দিয়ে। সরাসরি কোয়ালিফাই করেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি বাংলাদেশ দলকে দেয়নি অন্তবর্তীকালীন সরকার। ফলে এই বছরে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা কমে গেছে অনেক। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টি একটি ম্যাচ খেয়ে ফেলায় ৩ থেকে সিরিজটি নেমে এসেছে ২-এ। আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে এ বছর বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ আর মাত্র ৬টি ম্যাচ।
তবে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করেও ২ বছর পর অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছে বাংলাদেশ। সরাসরি কোয়ালিফাইড ১২ দলে নাম আছে বাংলাদেশের। সুতরাং স্বস্তি নিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিক বাংলাদেশ দল, এটাই সবার প্রত্যাশা। ২০২৮ সালটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আর একটি মাইলস্টোনের সামনে দাঁড়িয়ে। ১২৮ বছর পর অলিম্পিকে যুক্ত হচ্ছে ক্রিকেট। যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলসে একটু হিসাব করে খেলতে পারলেই পদকের সম্ভাবনা। অলিম্পিকে পদকহীন থাকার অপবাদ থেকে বেরিয়ে আসার চ্যালেঞ্জটা ক্রিকেটারদের মাথায় ঢুকলেই মঙ্গল। এশিয়ান গেমসে একমাত্র স্বর্ণপদক জয়ের সুখবর দিয়েছে ক্রিকেটাররা ২০১০ সালে, চীনের গুয়াংজু-তে। আশরাফুলদের সেই অতীত থেকে টনিক নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের সামনে গ্রেটেশ শো অন আর্থ থেকে দারুণ কিছু অর্জনের স্বপ্ন দেখতেই পারি আমরা। লক্ষ্য পূরণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির পরিকল্পনা নিতে হবে বিসিবিকে।
No posts available.
২ মে ২০২৬, ৮:০৭ পিএম

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রেকর্ড ভাঙা-গড়া যার নিত্যদিনের কাজ, সেই বাবর আজমের ক্যারিয়ারে আছে বড় এক শূন্যতা। জাতীয় দল কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ—অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বাদ এখনো পাননি এই তারকা ব্যাটার। সেই দীর্ঘ আক্ষেপ আর ট্রফি খরা ঘুচানোর স্বপ্ন নিয়ে আগামীকাল পিএসএলের মেগা ফাইনালে নামছে বাবরের পেশোয়ার জালমি।
হায়দরাবাদ কিংস মেন-এর বিপক্ষে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)-এর ১১তম আসরের ফাইনালের আগে নিজের মনের কথা জানালেন পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক বাবর আজম। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় এই মেগা ফাইনালের আগে বাবর স্বীকার করেছেন, অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরা তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাবর বলেন,
‘শিরোপা জেতা প্রতিটি অধিনায়কের স্বপ্ন, আমারও তাই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের পরিকল্পনাগুলো মাঠে ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করা, বিষয়গুলোকে সহজ রাখা এবং চাপকে মাথায় চড়তে না দেওয়া।’
২০১৯ সালে পাকিস্তানের সাদা বলের ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর বাবর আজম বিশ্বকাপসহ মোট ছয়টি বহুজাতিক টুর্নামেন্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু একবারও ‘গ্রিন শার্ট’দের শিরোপার স্বাদ দিতে পারেননি তিনি।
পিএসএলেও বাবরের অধিনায়কত্বের ভাগ্য এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের মতোই। ২০২২ সাল থেকে করাচি কিংস এবং পেশোয়ার জালমিকে নিয়ে চারটি মৌসুম পার করলেও এখন পর্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই শিরোপাটি জেতা হয়নি তাঁর।
পিএসএলে অধিনায়ক হিসেবে বাবরের শুরুটা ছিল বেশ তিক্ত। তাঁর অধীনে সপ্তম আসরে ১০টি লিগ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জিতে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে ছিল করাচি কিংস। এরপর তিনি পাড়ি জমান ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন দল পেশোয়ার জালমিতে। গত বছর দশম আসরে তাঁর দল পঞ্চম স্থানে থেকে শেষ করলেও এর আগের দুই আসরে দলকে প্লে-অফে তুলেছিলেন তিনি।
তবে এবারের পিএসএলে পেশোয়ার জালমি যেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। লিগ পর্বে দলটি মাত্র একটি ম্যাচে হারের মুখ দেখেছে। এরপর কোয়ালিফায়ারে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ৭০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দাপট দেখিয়েই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাবরের দল।
চলতি মৌসুমে জালমির সাফল্যের নেপথ্যে মূল কারিগর বাবর আজম। পিএসএলে এবার ১০ ইনিংসে ৮৪ গড়ে করেছেন ৫৮৮ রান। চলতি আসরে দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরি করা বাবর পিএসএলের এক আসরে যৌথভাবে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন। এবার অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম পিএসএল শিরোপা জিতলেই ষোলোকলা পূর্ণ করবেন।
দীর্ঘদিনের এই শিরোপা খরা কাটানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাবর জানান, ট্রফি জেতা প্রতিটি অধিনায়কেরই স্বপ্ন। তবে এ নিয়ে বাড়তি চিন্তা করে নিজেদের ওপর চাপ বাড়াতে চান না ৩১ বছর বয়সী ব্যাটার। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন দলটিকে যেভাবে শিরোপার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন, ফাইনালে ঠিক সেই স্বাভাবিক ছন্দেই খেলার পরামর্শ দিয়েছেন সতীর্থদের।
বাবর বলেন,
‘এটি একটি নতুন ম্যাচ, ফাইনাল; তাই এখানে চাপের ধরণটাও ভিন্ন হবে। আপনাকে ইতিবাচক থাকতে হবে এবং অতিরিক্ত চিন্তা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নতুন করে বাড়তি কিছু করার নেই, আমরা এ পর্যন্ত যেভাবে ক্রিকেট খেলে এসেছি, ঠিক সেভাবেই খেলতে চাই।’
অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রায়ই ধেয়ে আসা সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন বাবর। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এসব নিয়ে তিনি মোটেও ভাবেন না,
‘সমালোচনার কথা যদি বলেন, তবে আপনি পারফর্ম করেন বা না করেন—সমালোচনা সবসময়ই থাকবে। তাই আমি এসব দিকে একদমই মনোযোগ দিই না।’

টসের আগে অর্ধেকের বেশি ভরে গেল গ্যালারি। খেলার মাঝপথ আসতে প্রায় ফুল হাউজ হয়ে গেল শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম। ম্যাচ শেষে জয়ের আনন্দ না পেলেও, অনেক দিন পর মাঠে ভরা গ্যালারি দেখে কৃতজ্ঞতা জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস।
সাম্প্রতিক সময়ে গত কয়েক সিরিজে নানা কারণে প্রায় খালি গ্যালারির সামনেই খেলতে হয়েছে লিটন, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্তদের। ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা সিলেট- যে কোনো ফরম্যাটে খেলা হোক না কেন, পুরো ভরত না গ্যালারি।
সেদিক থেকে ব্যতিক্রম নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি। মিরপুরে দুপুরেই প্রায় ভরে যায় গ্যালারি। তাদের অবশ্য আনন্দের উপলক্ষ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। লিটনের কিছু শট আর শরিফুলের দারুণ বোলিং ছাড়া বাকি সময় নীরবেই থাকতে হয় দর্শকদের।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে সঞ্চালকের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব সেরে নিজ থেকেই দর্শকদের প্রতি ধন্যবাদ জানান লিটন।
“ধন্যবাদ। অনেক দিন পর মাঠটা অনেক... ভালো লেগেছে যে আপনারা এসেছেন। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আশা করি পরেরবার যখন আসবেন... আমাদের সাপোর্ট করবেন এবং আমরা আপনাদের হাসিমুখে বিদায় দিতে পারব। আবারও ধন্যবাদ।”
পরে সংবাদ সম্মেলনেও আসে দর্শকের প্রসঙ্গ। তখন বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ভরা গ্যালারি দেখে আনন্দিত তিনি।
“খুবই ভালো। সত্যি কথা খুবই খুশি। আমার মনে হয়, আবার আমাদের দর্শকরা আমাদেরকে সাপোর্ট করছে। ঘরের মাঠে দর্শকরা সাপোর্ট করলে একটু আলাদা সুবিধা থাকেই।”
“আশা করব, দর্শকরা আবার আসবে মাঠে খেলার জন্য। দর্শক হচ্ছে একটা প্রাণ। তারা যদি আমাদেরকে সাপোর্ট করে আমাদের খেলার জন্য জিনিসটা সহজটা হয়ে যায় অনেকটা।”

সকালে রোদের দেখা মিললেও হুট করেই আধার নেমে এলো মিরপুরের আকাশে। তা দেখেই নিজেদের পরিকল্পনা বদলে ফেলল নিউ জিল্যান্ড। আগে ব্যাটিংয়ের বদলে ফিল্ডিং নিয়ে বাংলাদেশকে তারা অল্পে আটকে রাখল। পরে সহজেই জিতে নিলো ম্যাচ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবারের ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারায় নিউ জিল্যান্ড। বৃষ্টিতে ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। জবাবে ১১.৪ ওভারে ম্যাচ জিতে যায় কিউইরা।
অথচ নিজেদের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী টস জিতে আগে ব্যাটিং নিতো নিউ জিল্যান্ড। কিন্তু টস হওয়ার কিছুক্ষণ আগে হুট করে আকাশ কালো হয়ে গেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখে তাৎক্ষণিক বদলে যায় তাদের ভাবনা।
কয়েনভাগ্য পাশে পেয়ে ফিল্ডিং নেন নিক কেলি। পরে বৃষ্টি নামার আগে ৬.৪ ওভারে বাংলাদেশের ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচে এগিয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড। যেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। অনায়াস জয় পায় কেলির দল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কিউই অধিনায়ক কেলিও বলেন বৃষ্টির কারণে ম্যাচে প্রভাব পড়ার কথা।
“হ্যাঁ! আমি মনে করি (বৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল)। বৃষ্টি নামার আগে আমরা টস নিয়ে কথা বলছিলাম। তখন সিদ্ধান্ত হয়েছিল, (টস জিতলে) আমরা ব্যাটিং নেব। এরপর আবহাওয়া একটু গুমোট হয়ে গেল। এটি দেখেই আমরা বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিই।”
বৃষ্টিতে ১ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর আবার ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ। ততক্ষণে কমে যায় ৫ ওভার। বাকি থাকা ৮.২ ওভারের পুরোটা খেলতে পারেনি লিটন কুমার দাসের দল। বিরতির পর ৭.৪ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে মোটে ৫২ রান করতে পারে তারা।
পরে ১৫ ওভারে ১০৩ রানের লক্ষ্যে শুরুতে দ্রুত ৪ উইকেট হারালেও বেভন জ্যাকবসের ঝড়ে অনায়াস জয়ে সিরিজের ট্রফি ভাগাভাগি করে কিউইরা।
সংবাদ সম্মেলনে কেলিও বললেন, বৃষ্টির কারণে বাড়তি সুবিধাই পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড।
“এরপর উইকেটের আচরণও যেমন দেখা গেল... আর একটা বিরতির পর নেমে যখন দেখবেন ৫ ওভার কমে গেছে, সবসময়ই কাজটা কঠিন। আপনি যদি আগেই জানতেন ১৫ ওভারের খেলা, তাহলে হয়তো শুরু থেকেই আরও আগ্রাসী খেলবেন। তো এটিই ছিল টসের সিদ্ধান্তের কারণ। আমরা ভাগ্যবান যে টস জিতেছি।”

আইপিএলের পুরো মৌসুম থেকে ছিটকে পড়ার পর এবার জাতীয় দলের জার্সিতেও মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে ভারতের দুই পেসার হর্ষিত রানা ও আকাশ দীপকে। ঘরের মাঠে আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা বলের সফর থেকেও বাদ পড়তে যাচ্ছেন দুই পেসার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিসিসিআইয়ের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ম্যাচ-ফিটনেস ফিরে পেতে হর্ষিত রানা ও আকাশ দীপের আরও বেশ খানিকটা সময় লাগবে। আকাশ বর্তমানে পিঠের ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল হর্ষিত রানাকে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের এই দুই পেসার চোটের কারণে চলতি আইপিএল-ও খেলতে পারছেন না।
বিসিসিআই-এর এক সূত্র ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘আকাশ এবং হর্ষিতের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ঠিকঠাকই চলছে, তবে মাঠে ফেরার ছাড়পত্র পাওয়ার আগে এখনো অনেকটা পথ বাকি। আফগানিস্তান বা যুক্তরাজ্য সফরের আগে তাদের ফিট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা এখন কেবল শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করছেন। এরপর জগিং, স্প্রিন্ট এবং সবশেষে 'রিটার্ন টু প্লে' (আরটিপি) প্রোটোকল অনুযায়ী স্কিল নিয়ে কাজ করবেন তারা।’
আকাশ দীপকে মূলত লাল বলের (টেস্ট) বিশেষজ্ঞ পেসার হিসেবে দেখা হলেও, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হর্ষিত রানা নির্বাচকদের ভাবনায় বেশ ভালোভাবেই আছেন। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ১৪ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে ভারতের সফলতম ওয়ানডে বোলার ছিলেন হর্ষিত। অন্যদিকে গত বছর বার্মিংহামে 'অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার' সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছিলেন আকাশ দীপ।
হর্ষিতের চেয়েও আকাশ দীপের পুরোপুরি ফিট হতে বেশি সময় লাগতে পারে। তাতে আফগানিস্তান বা ইংল্যান্ড সফর নয়, আগামী আগস্টে ঘরোয়া ক্রিকেটের মৌসুম শুরুর টুর্নামেন্ট 'দলীপ ট্রফি' হতে পারে তাদের মাঠে ফেরার আসল মঞ্চ।
রানার ছিটকে যাওয়া ভারতের জন্য বড় এক ধাক্কাই। সামনেই রয়েছে তাদের ১১টি সাদা বলের ম্যাচের দীর্ঘ এক সূচি। যদিও সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হর্ষিতের বদলি হিসেবে মোহাম্মদ সিরাজকে দেখা গেছে, তবে ২০২৭ বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় নির্বাচকদের নজরে এখন আরও বেশ কিছু নাম রয়েছে। বিশেষ করে এবারের আইপিএলে অসাধারণ পারফর্ম করা আনশুল কাম্বোজ, মোহসিন খান এবং প্রিন্স যাদবরা যেভাবে নিজেদের উইকেট শিকারি হিসেবে প্রমাণ করেছেন, তাতে তাদের জাতীয় দলে অভিষেক বা প্রত্যাবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অবশ্য ইংল্যান্ডের মাটিতে নতুন বলের কার্যকারিতা এবং কন্ডিশন বিবেচনায় মোহাম্মদ সিরাজ ও প্রসিধ কৃষ্ণাই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন। প্রসিধের বাড়তি বাউন্স এবং সিরাজের নতুন বল সুইং করানোর ক্ষমতা তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে। এর পাশাপাশি অভিজ্ঞ মোহাম্মদ শামি নতুন বলে এখনও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। ইংল্যান্ড সফরের আগে নির্বাচকরা অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রাখতে চাইলে শামিও হর্ষিতের কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন।

আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই মেগা টুর্নামেন্টের জন্য দল ঘোষণা করেছে ভারত। স্কোয়াডে ফিরেছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ইয়াস্তিকা ভাটিয়া ও স্পিনার রাধা ইয়াদব। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দলে ডাক পেয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে গতির ঝড় তোলা পেসার নন্দনী শর্মা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল ভারত। সেই সফরের দলে ছিলেন না এই তিন ক্রিকেটার।
শনিবার মুম্বাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ও প্রধান নির্বাচক অমিতা শর্মা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেন।
দলে ফেরার লড়াইয়ে থাকা অলরাউন্ডার আমানজোত কৌর পিঠের চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও তিনি খেলতে পারেননি। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর জানিয়েছেন, আমানজোতকে আরও চার থেকে পাঁচ মাস মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। অন্যদিকে, তার বদলি হিসেবে সুযোগ পাওয়া কাশভী গৌতমও চোটে পড়েছেন। ডান হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে তাঁকেও পাচ্ছে না ভারত।
আমানজোত ও কাশভীর অনুপস্থিতিতে কপাল খুলেছে রাধা ইয়াদবের। গত বছর ইংল্যান্ড সফরের পর বাদ পড়লেও অভিজ্ঞ এই স্পিনারকে আবারও বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকা অনুষ্কা শর্মা ও উমা ছেত্রীর জায়গা হয়নি এই স্কোয়াডে।
হাঁটুর গুরুতর চোট কাটিয়ে দীর্ঘ সময় পর মাঠে ফিরছেন ইয়াস্তিকা ভাটিয়া। গত বছরের আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে তিনি শেষবার খেলেছিলেন। অক্টোবরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রায় ২০ মাস পর তিনি আবারও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াতে যাচ্ছেন।
এদএবারের দল ঘোষণায় সবচেয়ে আলোচিত নাম নন্দনী শর্মা। সবশেষ নারী প্রিমিয়ার লিগে (ডব্লিউপিএল) দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে ১৭টি উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। গুজরাট জায়ান্টসের বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট শিকার ছিল এবারের আসরের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। মূলত সঠিক লাইন-লেন্থ এবং গতির বৈচিত্র্যের কারণেই নির্বাচকদের নজরে এসেছেন এই তরুণ পেসার।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই তিন ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত। ২৮ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া সেই সিরিজের জন্য এই একই স্কোয়াড বহাল থাকবে।
বিশ্বকাপে ভারতের মূল অভিযান শুরু হবে ১৪ জুন, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে। বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হবে সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচ। লর্ডসে ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। ওয়ানডে ফরম্যাটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও ভারত এখনো নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারেনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত দল:
হারমানপ্রীত কৌর (অধিনায়ক), স্মৃতি মান্ধানা (সহ-অধিনায়ক), শেফালি ভার্মা, জেমিমাহ রদ্রিগেজ, দীপ্তি শর্মা, রিচা ঘোষ (উইকেটরক্ষক), অরুন্ধতী রেড্ডি, রেণুকা সিং, ক্রান্তি গৌড়, শ্রী চারাণী, শ্রেয়াঙ্কা পাতিল, ভারতী ফুলমালী, ইয়াস্তিকা ভাটিয়া (উইকেটরক্ষক), নন্দনী শর্মা ও রাধা ইয়াদব।