৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে ভূমিকা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সামনের সিরিজে ফ্লাডলাইটের ব্যবহার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
পূর্ব নির্ধারিত সূচিতে ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে সোমবার বাংলাদেশে আসার কথা নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দলের। ওই সিরিজের ওয়ানডে ম্যাচগুলো শুরুর কথা ছিল দুপুর ২টায়। আর টি-টোয়েন্টি সিরিজের খেলা হওয়ার কথা ছিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে।
এমনটা হলে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ইনিংসের পুরোটা আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচের দুই ইনিংসই খেলা হতো ফ্লাডলাইটের আলোয়। তাই এই সূচিতে বদল আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিমের বোর্ড।
বুধবার এডহক কমিটির প্রথম বোর্ড সভার পর সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানিয়েছেন তামিম।
“আপনারা জানেন বাংলাদেশ সরকার উৎসাহ দিচ্ছে যে, আমরা যতটুকু সম্ভব ইলেকট্রিসিটি যেন সেভ করতে পারি, সবাই মিলে অ্যাজ আ নেশন, যতটুকু সহায়তা করতে পারি। এগুলো মাথায় রেখে আমরা নিউ জিল্যান্ডের ম্যাচের সময় পরিবর্তন করছি। আমরা যতটুকু পারব, চেষ্টা করব যতটা কম সম্ভব কৃত্রিম আলোয় খেলার।”
“সুনির্দিষ্ট সময়টা এখনই বলছি না, তবে একটা ধারণা দিতে পারি। যেরকম ওয়ানডে ম্যাচগুলো হয়তো ১১টা বা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হতে পারে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়তো ২টা বা আড়াইটা থেকে হতে পারে। কারণ বিদ্যুৎ নিয়ে যখন সরকার সবাইকে বলছে এটা করতে, ক্রিকেট বোর্ড, ক্রিকেটার এবং আমাদের সবার উচিত নিজেদের ভূমিকা রাখা। যদি (কৃত্রিম) আলো ব্যবহার করতেও হয়, যত মিনিমাম কম ব্যবহার করা যায়, যাতে বিদ্যুৎ বাঁচাতে পারি আমরা।”
যথাসময়ে নিউ জিল্যান্ড সিরিজের খেলা শুরুর সময় জানিয়ে দেবে বিসিবি।
No posts available.
৮ এপ্রিল ২০২৬, ৭:১৯ পিএম

ম্যাচ চলাকালে একটি রান-আউটের সিদ্ধান্ত। সেটি ঘিরে তর্ক। পরে মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত। স্থানীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক আম্পায়ার।
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে গত রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমদাহ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানা গেছে এই খবর। নিহত আম্পায়ারের নাম অজিত বাবু। সহ–আম্পায়ার বুদুমুরি চিরঞ্জীবীর সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনা করছিলেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাচ চলাকালে একটি রান-আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। দুই আম্পায়ার পরিস্থিতি সামাল দিয়ে মাঠের উত্তেজনা প্রশমিত করেন। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আবারও সেই বিরোধ নতুন করে শুরু হয়।
বিশাখাপত্তনমের সার্কেল ইনস্পেক্টর মাল্লেশ্বর রাও বলেন, মাঠের ঘটনা মিটে যাওয়ার পর এক দর্শক আম্পায়ার ও খেলোয়াড়দের গালিগালাজ শুরু করেন। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম কান্তা কিশোর (২৬)। তিনি ম্যাচে খেলোয়াড় ছিলেন না, দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, ম্যাচ শেষে ‘বিষয়টি মীমাংসা’ করার কথা বলে আম্পায়ারদের অন্য একটি স্থানে ডেকে নেন কিশোর। সেখানে পৌঁছানোর পর আবারও তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে হঠাৎ ছুরি বের করে দুই আম্পায়ারের ওপর হামলা চালান কিশোর।
অজিত বাবুকে বুকে ছুরিকাঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে বাচাতে এগিয়ে গেলে সহ-আম্পায়ার চিরঞ্জীবীসহ আরও একজন আহত হন।
অজিত বাবুর পরিবারের অভিযোগ, ম্যাচ চলাকালেই কিশোর উত্তেজিত আচরণ করছিলেন এবং পরে মদ্যপ অবস্থায় ফিরে এসে হামলা চালান।
নিহতের ভাই বলেন, ‘সে (কিশোর) চিৎকার করছিল, তর্ক করছিল। হঠাৎ পকেট থেকে ছুরি বের করে অজিতের বুকে আঘাত করে।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলার পর অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা করা হলেও তিনি পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় অজিত বাবুকে প্রথমে ভিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় পরে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অজিত বাবুর বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোর এখনো পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বড় জনসমাগম হওয়া এসব টুর্নামেন্টে নিরাপত্তা জোরদার এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে একটার পর একটা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। সত্যি বলতে কী, এসব তদন্তের অধিকাংশই দেখেনি আলোর মুখ। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফিক্সিং নিয়ে ৯শ পৃষ্ঠার রিপোর্ট বাক্সবন্দী করে রেখেছে বিসিবি। শুধু রেড ফ্লাডে থাকা ৮ ক্রিকেটারকে বিপিএলে অংশগ্রহন থেকে বিরত রেখেছে বিসিবি। নারী ক্রিকেটার জাহানারার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও প্রকাশ করেনি বিসিবি। তদন্ত রিপোর্টে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় শুধুমাত্র নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক মুঞ্জুরুল ইসলামকে বিসিবির সকল কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে গত রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ( এনএসসি) জমা দিয়েছে তদন্ত রিপোর্ট। তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে গত মঙ্গলবার বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম খুঁজে পেয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করেছে এনএসসি।
তদন্ত কমিটির একজন সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী তদন্ত রিপোর্টের যে সামারি পেপার জমা দেওয়া হয়েছে, তার পৃষ্টা সংখ্যা ৩৪। তদন্ত কাজে যে সব রেফারেন্স রিপোর্টের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে, তার পৃষ্টা সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে এক হাজার। তবে এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সামনে তদন্ত রিপোর্টের উপর তাদের পর্যালোচনামূল রিপোর্ট পড়েছেন এবং পরবর্তীতে সংবাদ মাধ্যমে পিডিএফ কপি পাঠিয়েছে এনএসসি, তার পৃষ্টা সংখ্যা ১১। পঠিত এই ১১ পৃষ্টার পর্যালোচনা অভিযোগের পৃষ্টা সংখ্যা ৯, অবশিষ্ট ২ পৃষ্টা প্রস্তাবনা। তদন্ত কমিটির পেশকৃত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে ৬টি ধারায় মোট ২৩টি অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে এনএসসি।
এসব অভিযোগ কারা করেছেন, তাদের সবার নাম উল্লেখ করেনি এনএসসি। শুধুমাত্র অভিযোগের উৎস হিসেবে শরিফুল আলম এবং অন্যান্য কাউন্সিলরদের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের কাউকে কাউকে শুনানীতে হাজির হতে হয়েছে, কেউ লিখিত জবাব দিয়েছেন। অথচ, তাদের বক্তব্য কিন্তু পঠিত হয়নি। এমনকি সংবাদমাধ্যমকে তদন্ত রিপোর্টের উপর যে পর্যালোচনামূলক রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, সেই পিডিএফ কপিতে কোথাও তদন্ত কমিটির কারো সীল-স্বাক্ষর নেই।
তাঁর উপর তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে কমিটি প্রধানের বক্তব্যের সঙ্গে দুদিন পর তদন্ত রিপোর্টের উপর যে পর্যালোচনামূলক রিপোর্ট এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) পড়েছেন, তার মধ্যে মিল খুঁজে পাননি অনেকে। এ কারণেই তদন্ত রিপোর্টের উপর পর্যালোচনা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের সামারির পুরোটা সংবাদ মাধ্যমকে বিলি করলে কেটে যেতো এই ধোঁয়াশা। সমালোচনা এড়াতে এ পথে হাঁটাই ছিল উত্তম।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের ঘটনাটি ২৩ বছর আগে ঘটেছে। দক্ষিণ আফ্রিকয় অনুষ্ঠিত ২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যাচ্ছে-তাই পারফরমেন্সে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল আলী আসগার লবির নেতৃত্বাধীন বিসিবি। ৮০ দশকের শুরুতে বিসিবির সাবেক সভাপতি কমোডোর (অব.) মুজিবুর রহমান এবং তৎকালীন সচিব সৈয়দ শামীম হাসানকে নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্ট দেখেছে আলোর মুখ। প্রায় ২ মাস তদন্ত করে, বিশ্বকাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেককে জেরা করে ২০০৩ সালের ২৭ মে বিসিবিতে জমা দিয়েছিলেন তাঁরা।
পরদিন হোটেল সোনারগাঁয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল ইংরেজিতে লেখা ৩৪ পৃষ্টার তদন্ত রিপোর্টের সামারি। ছিল সূচিপত্র। যে সামারি রিপোর্টে ২ সদস্যের তদন্ত কমিটির সীল স্বাক্ষর ছিল। ফলে তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে ছড়ায়নি বিভ্রান্তি। তদন্ত রিপোর্টে চোখ বুলিয়ে সংবাদ মাধ্যম তাৎক্ষনিকভাবে যা জানার তা জেনে নিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিসিবি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। মনে আছে ওই রিপোর্টটি যখন প্রকাশ করা হয়, তখন রাজধানীতে বইয়ে গেছে কালবৈশাখী ঝড়। ফলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সংখ্যা ছিল বড়জোর বিশ জন।
ওই তদন্ত রিপোর্টে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট, টিম ম্যানেজার এ এস এম ফারুক এবং কোচ মহসীন কামাল হয়েছেন অভিযুক্ত। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে পাইলট হারিয়েছেন ক্যাপ্টেনসি, এ এস এম ফারুক স্থায়ীভাবে হারিয়েছেন টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পাকিস্তানী কোচ মহসীন কামালকে ভদ্রচিতভাবে বিদায় দিয়েছে বিসিবি। ওই তদন্ত কমিটির সুপারিশমালা বাস্তবায়নে পেশাদার বোর্ড পরিচালনার ফর্মূলা দেওয়া হয়েছিল।
বোর্ড পরিচালনার কাঠামো পর্যন্ত দিয়েছিলেন তারা। তাদের সেই সুপারিশমালা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করেছে বিসিবি। বিসিবি নিয়োগ দিয়েছে সিইও। জিম্বাবুইয়ান ম্যাক দুদিয়াকে এই দায়িত্ব দিয়ে পেশাদারী বোর্ড ম্যানেজম্যান্ট প্রবর্তন করেছে বিসিবি।
একটি তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে এতো পরিবর্তন ? বোর্ড পরিচালনায় পেশাদারিত্ব প্রবর্তন-সত্যিই স্যালুট দিতে হবে দুই সদস্যের ওই তদন্ত কমিটিকে। বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়ম খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে গঠনতন্ত্র ব্যাপকভাবে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশমালাকে গুরুত্ব দিয়ে বিসিবির অ্যাডহক কমিটি যদি তাদের মেয়াদকালে গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে পারে, তাহলে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী বোলিংয়ের পর আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর কলকাতা লখনৌ সুপারজায়ান্টসের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি। এবার তার গন্তব্য ‘নিজের মাঠ’ ইডেন গার্ডেন্স- যেখানে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে নামার আগে বাড়তি সুবিধা দেখছেন তিনি।
ইডেনে বৃহস্পতিবার আইপিএলে মুখোমুখি হবে কলকাতা ও লখনৌ। টানা তিন ম্যাচ হেরে চাপে থাকা কলকাতার জন্য ম্যাচটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই ম্যাচের আগে কেকেআরকে সতর্কবার্তা শুনিয়ে রাখলেন লখনৌর পেসার শামি।
মঙ্গলবার বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের তৃতীয় আসরের উন্মোচনী অনুষ্ঠানে কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে ও সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে হুঙ্কারই দিয়ে রাখেন শামি।
“ইডেন গার্ডেন্সে খেললে সব সময়ই হোম অ্যাডভান্টেজ থাকে। আমি জানি কন্ডিশন কেমন, উইকেট কীভাবে আচরণ করে- কারণ অনেক সময় কাটিয়েছি সেখানে। আমি যদি এখানে কেকেআরের বিপক্ষে খেলি, তাহলে 'লোকাল' হওয়ায় কিছুটা বাড়তি সুবিধা তো থাকবেই।”
সানরাইজার্সের বিপক্ষে লখনৌর জয়ে বড় ভূমিকা ছিল শামির। মাত্র ৯ রান খরচায় ২ উইকেট নেওয়ার পথে করেছিলেন ১৮টি ডট বল। রিশাভ পান্তের নেতৃত্বাধীন দলটি সেই ম্যাচে পায় মৌসুমের প্রথম জয়।
চোট কাটিয়ে ফেরার পর ঘরোয়া ক্রিকেটেও দারুণ ধারাবাহিক শামি। সদ্য সমাপ্ত রঞ্জি ট্রফিতে ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের একজন- ৩৭ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ১৬.৭২ গড়ে। জম্মু ও কাশ্মীরের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৯০ রানে ৮ উইকেট নেওয়ার মতো দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও ছিল তার।
তবু এখনও জাতীয় দলে ফেরা হয়নি এই অভিজ্ঞ পেসারের। তবে তাতে হতাশ নন শামি। বরং এটি নিয়ে খানিক রসিকতাই করলেন তিনি।
“আমরা তো শ্রমিক মানুষ, আমাদের কাজ শুধু বল করে যাওয়া। জীবনে উত্থান-পতন থাকবে, চোটও থাকবে। কিন্তু মাটির কাছাকাছি থেকে পরিশ্রম করার কথা ভুললে চলবে না। বেশি 'ফ্যান্সি' জিনিসের পেছনে ছুটলে সেটাই দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়। এখন সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে ব্যস্ত।”
উত্তর প্রদেশে জন্ম হলেও বাংলার প্রতি নিজের টান আবারও স্পষ্ট করেছেন শামি। বাংলাকেই আখ্যা দিয়েছেন নিজের ‘কর্মভূমি’ হিসেবে।
“আমি কৃষক পরিবারে জন্মেছি, শেকড় ভুলিনি। ক্রিকেটার হিসেবে আমার ক্ষুধা এখনও আছে। আবার ওই পর্যায়ে খেলতে চাইলে সেই তাড়নাটা থাকতে হবে। আমার কাছে ঘরোয়া ক্রিকেট সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। আমি সব সময় এটাকে গুরুত্ব দিই।”
“জন্ম উত্তর প্রদেশে হলেও বাংলা আমার কর্মভূমি। যত দিন আমার মধ্যে খেলার শক্তি থাকবে, তত দিন বাংলার হয়েই খেলব।”

এশিয়া ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এশিয়া কাপের আদলে টুর্নামেন্ট চালুর উদ্যেগ নিয়েছে আফ্রিকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ)। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আফ্রিকান ক্রিকেটের বাণিজ্যিক প্রসার এবং নিজস্ব তহবিল সংগ্রহ করতে চায় সংস্থাটি।
গত বছরের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের প্রধান তাভেংওয়া মুকুলানিকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার মাধ্যমে এসিএ পুনর্গঠিত হয়। বর্তমানে তারা আর্থিকভাবে লাভজনক বিভিন্ন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে, তবে ২০২৭ সালের আগে এই টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা কম।
আরও পড়ুন
| কথা নয়, কাজে প্রমাণ দিতে চান তামিম |
|
আফ্রিকা কাপের সাফল্যের জন্য মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দল দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণকে বাধ্যতামূলক মনে করছে এসিএ। তবে প্রোটিয়াদের ব্যস্ত সূচিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) অনুযায়ী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের দম ফেলার সময় নেই। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ) নীতিগতভাবে এই টুর্নামেন্টের পক্ষে থাকলেও, তারা তাদের পূর্ণ শক্তির দল পাঠাতে পারবে কি না, তা নির্ভর করছে নতুন এফটিপির ওপর।
আফ্রিকা কাপ শুরুর আগে চলতি বছর জিম্বাবুয়েতে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের আলোচনা চলছে। ভিক্টোরিয়া ফলসে নবনির্মিত মোসি-ওয়া-তুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে নামিবিয়ার খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগস্টের এই সিরিজটি ওয়ানডে ফরম্যাটে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সিরিজের আয়ের একটি অংশ এসিএ-র তহবিলে জমা হবে, যা প্রস্তাবিত আফ্রিকা কাপের প্রচার হিসেবে কাজ করবে।
গত এক বছরে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সফরের বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার আগ্রহ বেড়েছে। ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ার নতুন মাঠে ম্যাচ খেলেছে প্রোটিয়ারা। ১৮ মাস পর যৌথভাবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু তামিম ইকবালের। তিনি এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির প্রধান। মঙ্গলবার আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপরই দায়িত্ব দেওয়া হয় তামিমদের।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপরই সন্ধ্যায় নতুন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। আর রাতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পরিচালক তামিম।
দায়িত্বপ্রাপ্তির পর তামিম কমিটির প্রধান এবং লক্ষ্য হিসেবে বিসিবির সুনাম ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কথা বলেন। একইসঙ্গে তিন মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয়, সবকিছু নিয়েই কাজ করবেন বলে জানান তিনি। এসময় তামিম আরও জানান, কথা নয়, বরং কাজ করে দেখাতে চায় তার টিম।
বাংলাদেশ দলের সাবেক ওপেনার বলেন, ‘ক্রিকেট আমাদের গর্বের ব্যাপার। বিসিবিতে যারা চাকরি করতেন বা করেন, তারা যখন দেশের বাইরে যান প্রাউডলি বলেন যে, ‘আমি বিসিবিতে চাকরি করি।’ এখন আমি নিশ্চিত না যে, এই কথাটা তারা কি গর্ব করে বলতে পারেন? যে ধরনের কার্যক্রম গত এক-দেড় বছরে হয়েছে। তাই ওই প্রাউডনেসটা আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।’
বিসিবির সম্মান ফিরিয়ে আনাতে হলে প্লেয়ারদের সঙ্গে যেমন প্রয়োজন সুসম্পর্ক, তেমনই স্টেকহোল্ডারদেরও সম্মান করা জরুরি বলে মনে করেন তামিম। তার মতে ভুল সবারই হয়। এসব শুধরে এগিয়ে যেতে চায় তার কমিটি।
তামিম বলেন, ‘প্লেয়ারদের সম্মান করতে হবে। স্টেকহোল্ডার যারা আছেন, সবাইকে আমাদের সম্মান করতে হবে। এটাই আমাদের মূল কাজ হবে। আমাদের উই উইল চেঞ্জ ফর বেটারমেন্ট, জাস্ট কথা বলার বলা না। আমরা চেষ্টা করব আমাদের ভুল হবে। আমাদের, আমাদের টিমে যারা আছেন তাদেরও ভুল হবে। ওই ভুল থেকে আমরা শিখব আবার আমরা চেষ্টা করব। এটাই হলো আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’