১০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২০ এম

১০ নভেম্বর ২০০০। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে সাজসাজ রব, সবার মাঝে উৎসবের আমেজ। ব্লেজার পরে সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে টস করতে নামলেন নাইমুর রহমান দুর্জয়। নতুন অধ্যায় শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেটের। সোমবার পূর্ণ হলো সেই পথচলার ২৫ বছর।
নানান চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ২৫ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। ২৬তম বছরের প্রথম দিনেই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলবে তারা।
ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করে সবাইকে একরকম তাক লাগিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। চমৎকার ব্যাটিংয়ে ১৪৫ রান করেছিলেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আর সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার খেলেছিলেন ৭১ রানের ইনিংস।
শুরুর ওই ব্যাটিংয়ের আনন্দ বেশি দিন টেকেনি। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসেই বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ৯০ রানে। ইতিহাসের প্রথম ম্যাচের দুই ইনিংসে বিপরীতমুখী এই চিত্র লম্বা সময় ছিল বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন।
অর্থাৎ লম্বা একটা সময় টেস্ট ম্যাচের যে কোনো এক ইনিংসেই শুধু ভালো করত বাংলাদেশ। পুরো চার ইনিংসে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলার কৌশল রপ্ত করতেই বাংলাদেশের লেগে যায় অনেক সময়। যে কারণে প্রথম ৪ বছর ও ৩৪ ম্যাচে ছিল না কোনো জয়।
অবশেষে ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামে হওয়া নিজেদের ৩৫তম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ২২৬ রানে হারিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে জয়ের অনির্বচনীয় স্বাদ পায় বাংলাদেশ। পরে ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্ট ড্র করে প্রথম সিরিজ জয়েরও স্বাদ পায় বাশারের নেতৃত্বাধীন দল।
২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে সিরিজের দুইটি টেস্টই জেতে বাংলাদেশ। যার সৌজন্যে পায় দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট ও সিরিজ জয়ের স্বাদ। তবে ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের কারণে সেই সিরিজটি মূলত দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলেছিল ক্যারিবিয়ানরা।
২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে ও দ্বিতীয় সারির ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া আর কারও বিপক্ষে জয় ছিল না বাংলাদেশের। ওই বছরই ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
২০১৭ সালে নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারায় তারা। পরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পায় নিজেদের ইতিহাসের সেরা জয়। ২০২২ সালে নিউ জিল্যান্ডে গিয়ে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে আসে বাংলাদেশ। আর গত বছর পাকিস্তানকে তাদেরই মাঠে করে হোয়াইটওয়াশ।
গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বেশ উন্নতি করলেও সার্বিকভাবে এই ফরম্যাটে ভালো অবস্থায় নেই বাংলাদেশ। তাই তো প্রথম ২৫ বছরে খেলা ১৫৪ ম্যাচে জয় মাত্র ২৩টি। বিপরীতে তারা হেরেছে ১১২ ম্যাচ। অর্থাৎ গড়ে একটি জয়ের বিপরীতে পরাজয় ৫টি।
টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ২৫ বছরে জয়-পরাজয়ের অনুপাতে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে শুধু জিম্বাবুয়ে ও নিউ জিল্যান্ড। নিজেদের প্রথম ২৫ বছরে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। আর ১১ জয়ের বিপরীতে ৬৫ ম্যাচ হেরেছিল জিম্বাবুয়ে।
এক নজরে সব দলের প্রথম ২৫ বছরের ফলাফল
| দল | ম্যাচ | জয় | ড্র | পরাজয় | জয়-পরাজয় অনুপাত |
| অস্ট্রেলিয়া | ৬১ | ২৪ | ১০ | ২৭ | ০.৮৮৮ |
| ইংল্যান্ড | ৬৯ | ৩৫ | ১০ | ২৪ | ১.৪৫৮ |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | ৪০ | ৮ | ৫ | ২৭ | ০.২৯৬ |
| ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ৪৭ | ১৩ | ১৭ | ১৭ | ০.৭৬৪ |
| নিউ জিল্যান্ড | ৩১ | ০ | ১৮ | ১৩ | ০.০০০ |
| ভারত | ৫২ | ৫ | ২৮ | ১৯ | ০.২৬৩ |
| পাকিস্তান | ৮৭ | ১৫ | ৪৮ | ২৪ | ০.৬২৫ |
| শ্রীলঙ্কা | ১৬৭ | ৪৭ | ৫৭ | ৬৩ | ০.৭৪৬ |
| জিম্বাবুয়ে | ১০২ | ১১ | ২৬ | ৬৫ | ০.১৬৯ |
| বাংলাদেশ | ১৫৪ | ২৩ | ১৯ | ১১২ | ০.২০৫ |
No posts available.
৯ মার্চ ২০২৬, ১০:১৬ এম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের একতরফা জয়ের পর ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে চলছে নানা রকমের আলোচনা। অনেকেই ভারতের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করলেও, ভিন্ন সুর শোনা গেছে পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতারের কণ্ঠে।
তার দাবি, ভারতের উত্থান মূলত ক্রিকেটকে শেষ করে দিয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের সামনে পাত্তাই পায়নি নিউ জিল্যান্ড। দুর্দান্ত ব্যাটিং-বোলিংয়ে কিউইদের ৯৬ রানে হারায় স্বাগতিকরা। এটি ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা।
বেশিরভাগ ক্রিকেট বিশ্লেষক যেখানে ভারতের নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন, সেখানে ভিন্ন পথে হাঁটলেন শোয়েব আখতার। পাকিস্তানি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ট্যাপম্যাডের অনুষ্ঠান গেম অন হ্যায় অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের দাপটকে তুলনা করেন পাড়ার খেলায় ধনী শিশুর সঙ্গে।
আরও পড়ুন
| আফঈদা-মিলিদের সমীহ করছে উজবেকিস্তান |
|
“পাড়া-মহল্লায় সবসময় একজন ধনী ছেলে থাকে, সে গরিব বাচ্চাদের ডেকে বলে- চলো ক্রিকেট খেলি, তবে জিতব কিন্তু আমিই। ভারত আমাদের সঙ্গে ঠিক সেটাই করছে।”
“আট দলের মধ্যে চারটি রাখে, তারপর আবার সেখান থেকে তিনটিকে ডাকে ও সামনে এগিয়ে যায়। শেষে বলে- দেখো, আমি জিতে গেছি। তারা পুরো ক্রিকেটটাই শেষ করে দিয়েছে।”
তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ভক্তই ভারতের বড় জয়ের পর এমন মন্তব্যকে তিক্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
তবে ফাইনালের আগে আখতারের সুর ছিল কিছুটা ভিন্ন। ভারতকে ফেভারিট মানলেও তিনি বলেছিলেন, ক্রিকেটের স্বার্থে নিউ জিল্যান্ডের জেতা উচিত। তার মতে, ভারতের ওপর ১৫০ কোটির বেশি মানুষের প্রত্যাশার চাপ থাকে এবং বড় ফাইনালে সেই চাপ কখনও কখনও প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যক্তিগত মাইলফলক উদযাপনের সময় শেষ- এমনটাই মনে করেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। তার মতে, দলগত খেলায় আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত ট্রফি জেতা, ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়।
রোববার ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, ভারতের ক্রিকেটে এত দিন ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তিনি যত দিন দায়িত্বে আছেন, তত দিন সেই আলোচনায় যেতে চান না।
গম্ভীরের কোচিংয়ে এরই মধ্যে দুটি আইসিসি ট্রফি ও একটি এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। গত বছরের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তার মেয়াদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এসব দলীয় সাফল্য নিয়েই বেশি আলোচনা করতে চান তিনি।
“অনেক দিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে আমরা মাইলফলক নিয়ে কথা বলেছি। আমি আশা করি, আমি যত দিন আছি, তত দিন আমরা মাইলফলক নিয়ে কথা বলব না।”
আরও পড়ুন
| গ্রুপসেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে দ. কোরিয়া, আশা বাঁচিয়ে রাখল ফিলিপাইন |
|
“আপনারা শেষ তিনটি ম্যাচ দেখলেই বুঝতে পারবেন। সঞ্জু কী করেছে- ৯৭*, ৮৯ ও ৮৯। যদি সে মাইলফলকের জন্য খেলত, হয়তো আমরা ২৫০ রান পেতাম না। তাই আপনাদের (গণমাধ্যমের) কাছেও আমার অনুরোধ- মাইলফলক নয়, ট্রফি উদ্যাপন করুন।”
সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল- দুই ম্যাচেই শতকের কাছাকাছি পৌঁছে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটার সাঞ্জু স্যামসন। দুই দিনই তিনি শতকের মাত্র ১১ রান দূরে ছিলেন। তবে সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুবাদে দুই ম্যাচেই ভারতের দলীয় সংগ্রহ আড়াইশ ছাড়ায়।
গম্ভীরের মতে, বিশ্বকাপ জয়ের জন্য এই মানসিকতাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
“কেউ যদি ৯৪ রানে থাকে, সে কি পরের বলেই ছক্কা মেরে শতক করতে সাহস দেখাবে, নাকি কয়েক বল ধরে একশতে পৌঁছানোর কথা ভাববে- এই প্রতিক্রিয়াই আসলে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের খেলোয়াড়েরা অসাধারণভাবে সেটা করেছে।”
এসময় বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব গম্ভীর উৎসর্গ করেছেন তার তিন সাবেক সতীর্থ- রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষণ ও অজিত আগারকারকে।
“রাহুল ভাই ভারতের ক্রিকেটকে দারুণ অবস্থায় রেখে গেছেন। তার অবদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ভিভিএস লক্ষণও নিঃশব্দে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অনেক কাজ করছেন, বিশেষ করে সেন্টার অব এক্সেলেন্সের মাধ্যমে। আর অজিত আগারকার- ও অনেক সমালোচনা সহ্য করে সততার সঙ্গে কাজ করছে।”

ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ এখনও টাটকা। তবে সেখানেই থামতে চান না অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। আহমেদাবাদে রোববারের ফাইনাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, তার পরের লক্ষ্য ২০২৮ অলিম্পিকে সোনা জয়।
নিউ জিল্যান্ডকে ফাইনালে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর সূর্যকুমার বলেন, গত এক মাসের যাত্রাটা দলের জন্য ছিল অসাধারণ। শুরুটা অবশ্য প্রত্যাশামতো হয়নি, তবে খেলাধুলায় এমনটা স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত দল হিসেবে যা অর্জন করেছে, তার প্রতীক এখন তাদের হাতে থাকা ট্রফি। এখান থেকেই পরবর্তী লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলেছেন সূর্যকুমার।
আরও পড়ুন
| স্বপ্নভঙ্গ থেকে বিশ্বকাপ নায়ক: স্যামসনের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন |
|
“পুরো যাত্রাটা আজ পর্যন্ত খুবই বিশেষ ছিল। দল হিসেবে আমরা যা অর্জন করেছি, সেটাই এখন সবার সামনে। এতে আমরা খুব খুশি। এখন আমাদের পরের লক্ষ্য অলিম্পিক স্বর্ণপদক।”
দীর্ঘ ১২৮ বছর পর আবার অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৮ সালের অলিম্পিকে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পুরুষ ও নারী- দুই বিভাগেই ছয়টি করে দল অংশ নেবে।
অলিম্পিক ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে ২০২৮ সালের ১৪ থেকে ২৯ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের পোমোনা শহরে হবে সব ম্যাচ। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের একটি অস্থায়ী ভেন্যু ফেয়ারগ্রাউন্ডস স্টেডিয়ামে।
বর্তমান টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী এশিয়া অঞ্চল থেকে ভারত পুরুষ ও নারী- দুই বিভাগেই যোগ্যতা অর্জনের জন্য ভালো অবস্থানে রয়েছে।
এ মুহূর্তে ভারতীয় পুরুষ দল আইসিসির দুই বড় শিরোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন- আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সূর্যকুমারের মতে, দলের বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর, যখন অধিনায়ক ছিলেন রোহিত শর্মা।
“২০২৪ সালের পর থেকেই সবকিছু বদলে যায়। তখন আমরা ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলছিলাম। সেখান থেকেই বুঝতে পারি, এই দলকে সামনে এগোতে হলে কীভাবে খেলতে হবে। আমরা চাই ২০২৭, ২০২৮, ২০২৯- এভাবেই জয়ের ধারা চালিয়ে যেতে।”

বছরের শুরুতে ভেঙে পড়া একজন ক্রিকেটার। আর দুই মাস না যেতেই বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক হয়ে ওঠা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সাঞ্জু স্যামসনের গল্প যেন নাটকীয় কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য।
গত জানুয়ারির শেষ দিন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ত্রিভ্যান্ড্রামে নিজের ঘরের মাঠে দাঁড়িয়ে প্রায় স্বপ্নভঙ্গের মুহূর্ত দেখেছিলেন স্যামসন। ওপেনার-উইকেটকিপার হিসেবে বিশ্বকাপ একাদশে জায়গা চলে যায় ইশান কিষানের কাছে।
২০২৫ সালের শুরু থেকেই ব্যাট হাতে খারাপ সময় কাটাচ্ছিলেন স্যামসন। এর মধ্যে দলীয় সমন্বয়ের কারণে তাকে মিডল অর্ডারেও নামানো হয়েছিল, যাতে ওপেনিংয়ে জায়গা করে দেওয়া যায় শুবমান গিলকে।
পরে নির্বাচকেরা আবার স্যামসনকে ওপেনিংয়ে ফেরালেও রানের দেখা ছিল না। সেই সুযোগেই জায়গা পাকা করেন ইশান। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রোববার রাতে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক স্যামসন। টানা তিন ম্যাচে ৮০+ রান করে তিনিই জিতেছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার।
সাফল্যের এই স্বীকৃতি গ্রহণ করেন বছরের শুরুর দিকের কঠিন সময়ের কথাই মনে করলেন স্যামসন।
“নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর আমি ভেঙে পড়েছিলাম। পুরোপুরি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। মনে হচ্ছিল, ‘আমার স্বপ্নগুলো তো শেষ হয়ে গেল। এখন আমি আর কী করতে পারি?’”
বিশ্বকাপের শুরুতেও স্যামসনের জায়গা ছিল বেঞ্চে। গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচে অসুস্থ অভিষেক শর্মার বদলি হিসেবে সুযোগ পান তিনি। তবে পরে আবার বেঞ্চেই ফিরতে হয়। কিন্তু টপ অর্ডারের তিনজন বাঁহাতি হওয়ায় অফ স্পিনের বিপক্ষে সমস্যা হচ্ছিল। সেই কারণে দলে ফেরানো হয় স্যামসনকে।
ফিরেই আত্মবিশ্বাসের ঝলক দেখান তিনি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেন ১৫ বলে ২৪ রান। তবে তার আসল বিস্ফোরণটা ঘটে ইডেন গার্ডেন্সে। সুপার এইটের ভার্চুয়াল নকআউট ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন ৫০ বলে ৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।
এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ভুগিয়ে করেছেন ৪২ বলে ৮৯ রান আর ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন ৪৬ বলে ৮৯ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস।
খারাপ সময় পাশ কাটিয়ে আলোয় ফেরার পথে তিনি পরামর্শ পেয়েছেন কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের কাছ থেকে।
“গত কয়েক মাস ধরে আমি নিয়মিত শচীন স্যারের সঙ্গে কথা বলছিলাম। অস্ট্রেলিয়া সফরে যখন দলের বাইরে বসে ছিলাম, তখন ভাবছিলাম- এখন আমার মানসিকতা কী হওয়া উচিত? তখনই আমি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।”
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিনও ফোন করে খোঁজ নিয়েছিলেন টেন্ডুলকার।
“গতকালও তিনি ফোন করেছিলেন- আমি কেমন অনুভব করছি জানতে। তার মতো একজনের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা পাওয়া- এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারি?”
এর আগে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় স্কোয়াডেও ছিলেন স্যামসন, কিন্তু একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। তবে তখন থেকেই পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলতে শুরু করেছিলেন স্টাইলিশ এই ওপেনিং ব্যাটার।
“ঈশ্বরের হয়তো অন্য পরিকল্পনা ছিল। হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে সুযোগ পেলাম আর দেশের জন্য যা পারি করেছি। এটা যেন স্বপ্নের মতো। কথায় বোঝানো কঠিন। ২০২৪ বিশ্বকাপে আমি একটি ম্যাচও খেলিনি, কিন্তু তখন থেকেই কল্পনা করতাম- একদিন এমন মুহূর্ত আসবে। সেই স্বপ্নের জন্যই কাজ করে গেছি।”

ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড গড়েছে ভারত। একইসঙ্গে পরপর দুই বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করার কীর্তিও দেখিয়েছে তারা। সবচেয়ে তিনটি শিরোপার মালিক এখন তারাই।
এই ইতিহাস গড়া সাফল্যের বিশ্বাস ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন থেকেই ছিল হার্দিক পান্ডিয়ার।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে ভারতের সামনে পাত্তা পায়নি নিউ জিল্যান্ড। রোববারের ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে ২৫৫ রানের পাহাড়ে উঠে বসে ভারত। জবাবে মাত্র ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিততে পেরে আনন্দের সীমা নেই হার্দিকের। ম্যাচ শেষে সেই অনুভূতিরই জানান দেন ভারতের তারকা অলরাউন্ডার।
“(ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা) এটি অনেকটা ইমোশনাল। কারণ ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জেতা, সবার উত্তেজনা, রোমাঞ্চ অসাধারণ। এখন মনে হচ্ছে আমরা সহজেই জিতে গিয়েছি। কিন্তু আমরা যে এফোর্ট দিয়েছি... গতকাল থেকেই আমি জানতাম যে, আমরা চ্যাম্পিয়ন।”
গত তিন বছরের মধ্যে হার্দিকের এটি তৃতীয় আইসিসি ট্রফি। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। আর ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়েই ট্রফি ঘরে তুলেছিল তারা।
এবার আরেকটি বিশ্বকাপ জিতে হার্দিক জানিয়েছেন, অন্তত ১০টি শিরোপা জিততে চান তিনি।
“আমার মধ্যে আরও ১০ বছর বাকি আছে ক্রিকেট খেলার। আমার অর্ধেক ক্যারিয়ার শেষ। আরও অর্ধেক বাকি আছে। আমি অন্তত ১০টি শিরোপা জিততে চাই, আইসিসি ও আইপিএল মিলিয়ে। তবে আমার জন্য আইসিসি ট্রফির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।”
“আমি এরই মধ্যে ৩টি ট্রফি জিতেছি। সামনে যে টুর্নামেন্টই খেলব, আমি জিততে চাই। তো আমি মনে করি, সামনের ১০ বছরে আরও অন্তত ৫-৬টি শিরোপা আসবে। এটিই আমার লক্ষ্য।”