
সাঞ্জু স্যামসন, ইশান কিষান ও অভিষেক শর্মার তাণ্ডবে আড়াইশ ছাড়ানো পুঁজি পেল ভারত। এরপর যা একটু লড়াই করলেন টিম সেইফার্ট। তাকে থামিয়ে ম্যাচ আর জমতেই দিল না স্বাগতিকরা। নিউ জিল্যান্ডকে অল্পেই গুঁড়িয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারায় ভারত। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান করে ভারত। জবাবে ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে পরপর দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। এছাড়াও ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা প্রথম দলও হয়ে গেল তারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতের এটি তৃতীয় শিরোপা। এর আগে ২০০৭ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এই সংস্করণের বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ শিরোপার রেকর্ড। এর বাইরে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আছে ২টি করে বিশ্বকাপ ট্রফি।
এ নিয়ে দুটি ফাইনালে হারল ভারত। এর আগে ২০২১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল তারা।
ইতিহাস গড়া শিরোপাটি রেকর্ড গড়েই জিতেছে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের হিসেবে এটি ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। চলতি বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্বে তারা নামিবিয়াকে হারিয়েছিল ৯৩ রানে।
বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় পরাজয় এটি। গত বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের কাছে তারা হেরেছিল ৮৪ রানে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের এটিই সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। আগের রেকর্ডও ছিল ভারতের। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭৬ রান করেছিল তারা। সেদিন ৭ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।
এ নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সাতবার আড়াইশর বেশি রান করল ভারত। পাঁচবারের বেশি নেই আর কোনো দলের। এছাড়া এক টুর্নামেন্টে তিনবার আড়াইশ করা দ্বিতীয় দল ভারত। ২০২৪ সালের আইপিএলে তিনবার আড়াইশ করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
সাতবারের মধ্যে শুধু ২০২৬ সালেই চারবার আড়াইশর বেশি রান করেছে ভারত। যে কোনো দলের জন্য এক পঞ্জিকাবর্ষে এটিই সর্বোচ্চ।
শুধু সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরই নয়, ফাইনাল ম্যাচে বিশ্ব রেকর্ডের ছড়াছড়ি করেছে ভারত। যার বড় কারিগর ওপরের সারির তিন ব্যাটার অভিষেক, স্যামসন ও ইশান।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভার রয়েসয়ে খেলেন অভিষেক ও স্যামসন। তৃতীয় ওভার থেকে শুরু হয় তাণ্ডব। তৃতীয় ও চতুর্থ ওভার মিলিয়ে তারা নেন ৩৯ রান। ৪ ওভারে পূর্ণ হয়ে যায় ভারতের পঞ্চাশ রান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল বা ফাইনালে এর চেয়ে দ্রুত দলীয় পঞ্চাশের রেকর্ড নেই আর কোনো দলের।
পাওয়ার প্লের শেষ দুই ওভারেও থামাথামির কোনো নাম নেই। একই গতিতে এগিয়ে ওই দুই ওভার থেকে আরও ৪১ রান নেন দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯২ রান করে ফেলে ভারত। বিশ্বকাপের পাওয়ার প্লেতে এটিই সর্বোচ্চ স্কোর।
আগের ম্যাচগুলোতে অফফর্মে থাকা অভিষেক এদিন মাত্র ১৮ বলে করেন ফিফটি। বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে এটিই দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল চলতি বিশ্বকাপেই ফিন অ্যালেন ও জ্যাকব বেথেলের (১৯ বলে)।
অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলে ৯৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রাচিন রবীন্দ্র। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড। ২০০৯ সালে পাকিস্তানের দুই ওপেনার কামরান আকমল ও শাহজাইব হাসানের ৪৮ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।
শুরুতে তাণ্ডব চালিয়ে ৬ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কা মেরে ২১ বলে ৫২ রান করেন অভিষেক।
এরপর তিন নম্বরে নেমে অভিষেকের দেখানো পথেই এগোতে থাকেন ইশান। আগের দুই ম্যাচে ফিফটি করা স্যামসন এদিনও পেয়ে যান পঞ্চাশের দেখা।
বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে ফিফটি করা বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার স্যামসন। আগের দুজন শহিদ আফ্রিদি (২০০৯) ও বিরাট কোহলি (২০১৪)।
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৭.২ ওভারেই ১০০ করে ফেলে ভারত। বিশ্বকাপের নক আউটে এটিই দ্রুততম দলীয় ১০০ রানের রেকর্ড। চলতি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭.৫ ওভারে ১০০ রান করে রেকর্ডটি ছিল নিউ জিল্যান্ডের।
দুই ওপেনারের ঝড় থামতে না দিয়ে উল্টো আরও তাণ্ডব চালিয়ে ৩ চারের সঙ্গে ৪ ছক্কায় ২৩ বলে ফিফটি করে ফেলেন ইশান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলের প্রথম তিন ব্যাটার পেল ফিফটির স্বাদ।
স্যামসনের সঙ্গে ইশানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১৫ ওভারেই দুইশ করে ফেলে ভারত। মনে হচ্ছিল ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার করা ২৬০ রানের রেকর্ড হয়তো ভেঙে ফেলবে তারা। কিন্তু ১৬তম ওভারে স্যামসন, ইশান ও সূর্যকুমারকে আউট করে দেন জিমি নিশাম।
৫ চারের সঙ্গে ৮টি ছক্কা মেরে ৪৬ বলে ৮৯ রান করে আউট হন স্যামসন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে মাত্র ৫ ইনিংসে তার ছক্কা ২৪টি। এক বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।
ইশানের ব্যাট থেকে আসে ৪টি করে চার-ছক্কায় ২৫ বলে ৫৪ রান। রানের খাতাই খুলতে পারেননি ভারত অধিনায়ক। নিশামের ওই ওভারের ধাক্কা লাগে পরের তিন ওভারেও। ১৬ থেকে ১৯ ওভার পর্যন্ত ৪ ওভারে মাত্র ২৮ রান করতে ৪ উইকেট হারায় ভারত।
পরে শেষ ওভারে নিশামের ওপর ঝড় বইয়ে দেন শিবাম দুবে। বাঁহাতি ব্যাটার ৩ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মেরে শেষ ওভার থেকে নিয়ে নেন ২৪ রান। দলকে পার করে দেন আড়াইশ রানের ঘর। মাত্র ৮ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন দুবে।
ওভারে ৩ উইকেট নিলেও সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ৪৬ রান খরচ করে ফেলেন নিশাম। ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রান খরচ করে নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে কিপটে বোলার ছিলেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। আর ২ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে লকি ফার্গুসন।
রান তাড়ায় আর্শদিপ সিংয়ের প্রথম ওভারেই বিধ্বংসী ফিন অ্যালেনের ক্যাচ ছেড়ে দেন দুবে। পরের ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২১ রান নিয়ে নেন আরেক ওপেনার টিম সেইফার্ট। মনে হচ্ছিল, সেমি-ফাইনালের মতোই ঝড় তুলবেন দুই ওপেনার।
কিন্তু তৃতীয় ওভারে আক্রমণে এসে বিপজ্জনক অ্যালেনকে ফেরান অক্ষর প্যাটেল। পরের ওভারের প্রথম বলেই রাচিন রবীন্দ্রকে আউট করে দেন জাসপ্রিত বুমরাহ। অনেকটা দৌড়ে সামনে লাফিয়ে চমৎকার ক্যাচ নেন ইশান।
নিজের পরের ওভারে গ্লেন ফিলিপ্সকে বোল্ড করে নিউ জিল্যান্ডকে আরও চাপে ফেলে দেন বাঁহাতি স্পিনার অক্ষর। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৫২ রান করতে ৩ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো কোণঠাসাই হয়ে পড়ে কিউইরা।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন সেইফার্ট। ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ২৩ বলে ফিফটি করে ফেলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তবে এরপর আর ইনিংস টেনে বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি।
বরুণ চক্রবর্তীর বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ইশানের আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন ২৬ বলে ৫২ রান করা সেইফার্ট। তার আগেই পান্ডিয়ার বলে বোল্ড হয়ে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন মার্ক চ্যাপম্যান। মাত্র ৭২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে যেন ছিটকেই যায় নিউ জিল্যান্ড।
ষষ্ঠ উইকেটে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন স্যান্টনার ও ড্যারেল মিচেল। দুজন মিলে মাত্র ২৮ বলে গড়েন ৫২ রানের জুটি। ১৩তম ওভারে অক্ষরের প্রথম বলে স্যান্টনারের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন হার্দিক। তবে ওই ওভারেই ইশানের তৃতীয় ক্যাচ হয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরেন ১১ বলে ১৭ রান করা মিচেল।
এরপর আর ম্যাচে তেমন কিছু বাকি ছিল না। নিজের শেষ স্পেলে বোলিং করতে এসে প্রথম ওভারে জিমি নিশাম ও ম্যাট হেনরিকে বোল্ড করেন বুমরাহ। পরের ওভারে ৪৩ রান করা স্যান্টনারকেও বোল্ড করেন অভিজ্ঞ পেসার।
পরে ১৯তম ওভারে অভিষেকের বলে জ্যাকব ডাফি ক্যাচ আউট হলে নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের শিরোপা।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করে ৪ উইকেট নেন বুমরাহ। অক্ষরের শিকার ২৭ রানে ৩ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২০ ওভারে ২৫৫/৫ (স্যামসন ৮৯, অভিষেক ৫২, ইশান ৫৪, হার্দিক ১৮, সূর্যকুমার ০, তিলক ৮*, দুবে ২৬*; হেনরি ৪-০-৪৯-১, ফিলিপ্স ১-০-৫-০, ডাফি ৩-০-৪২-০, ফার্গুসন ২-০-৪৮-০, স্যান্টনার ৪-০-৩৩-০, রবীন্দ্র ২-০-৩২-১, নিশাম ৪-০-৪৬-৩)
নিউ জিল্যান্ড: ১৯ ওভারে ১৫৯ (সেইফার্ট ৫২, অ্যালেন ৯, রবীন্দ্র ১, ফিলিপ্স ৫, চ্যাপম্যান ৩, মিচেল ১৭, স্যান্টনার ৪৩, নিশাম ৮, হেনরি ০, ফার্গুসন ৬*, ডাফি ৩; আর্শদিপ ৪-০-৩২-০, হার্দিক ৪-০-৩৬-১, অক্ষর ৩-০-২৭-৩, বুমরাহ ৪-০-১৫-৪, বরুণ ৩-০-৩৯-১, অভিষেক ১-০-৫-১)
ফল: ভারত ৯৬ রানে জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন
No posts available.
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ এম
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২৯ পিএম

২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিলেন নিউজিল্যান্ড অলরাউন্ডার সুজি বেটস। আর এর মধ্য দিয়েই ইতি ঘটবে নারী টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার।
মে’র শুরুতে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সফরের জন্য দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড ভ্রমণ করবেন কিংবদন্তি সুজি বেটস। এরপরই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে 'হোয়াইট ফার্নস' তাদের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নামবে।
নিজের যাত্রা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বেটস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর কাটানো সময়ের জন্য গর্ব ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, ‘আমি যখন গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের দিকে ফিরে তাকাই, আমি বিশ্বাসই করতে পারি না যে সময় কত দ্রুত কেটে গেছে। নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে এতবার মাঠে নামতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই দলের জন্য প্রতিদিন একজন ভালো মানুষ, সতীর্থ, ক্রিকেটার এবং অ্যাথলেট হওয়ার চেষ্টায় আমি গভীর উদ্দেশ্য এবং আনন্দ খুঁজে পেয়েছি।’
আরও পড়ুন
| ‘দেশের সম্পদ নাহিদ’, যত্ন নিতে বললেন মিরাজ |
|
ক্যারিয়ারের শেষ অংশ বিশ্বকাপ জিতে রাঙাতে চান সুজি বেটস, ‘আমার শেষ একটি মিশন বাকি: ইংল্যান্ডে যাওয়া—এমন একটি জায়গা যেখানে আমার অনেক বিশেষ স্মৃতি রয়েছে—এবং আরেকটি বিশ্বকাপ জয় করা। আমি আমার এই শেষ অভিযানে শক্তির শেষ বিন্দু দিয়ে চেষ্টা করব এবং প্রতিটা মিনিট উৎসর্গ করব এই দলকে এমন ক্রিকেট খেলতে সাহায্য করতে যাতে আমরা এবং আমাদের দেশ গর্ববোধ করতে পারি।’
২০০৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বেটসের ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং এর তিন বছর পর ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায় শুরু হয়। বর্তমানে তিনি ৪,৭১৭ রান নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং ৫,৯৬৪ রান নিয়ে নারী ওয়ানডে-তে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। ২০১১ সালের জুলাইয়ে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রায় সাত বছর নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালে উইজডেন তাকে বিশ্বের সেরা নারী ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
নিজের কাছের মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুজি বেটস বলেন, ‘আমার প্রিয়জন এবং আমার পরিবার—সব সময় পাশে থাকার জন্য তোমাদের ধন্যবাদ। এবং আমার সঙ্গী স্কটি ও তার ছেলেদের বলছি: তোমরা এই দারুণ খেলাটি আমার জীবনে নিয়ে আসা সব চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী হয়ে ছিলে। আমি সেই সব স্টাফ এবং কোচদের প্রতিও বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে চাই যারা বছরের পর বছর ধরে নারী ক্রিকেটের জন্য এত কিছু দিয়েছেন, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তার স্বীকৃতি বা পুরস্কার পাননি।’
নিউজিল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক অ্যামেলিয়া কার বেটসকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছেন। কার বলেন, ‘বড় হওয়ার সময় সুজি আমার রোল মডেল ছিলেন এবং তিনি যখন অধিনায়ক ছিলেন তখন আমি দলে সুযোগ পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করি। আপনি যদি কখনও তার সাথে খেলার সুযোগ পান, তবে জানবেন যে তিনি বিশ্বের অন্যতম নিঃস্বার্থ ক্রিকেটার এবং অন্যতম সেরা সতীর্থ।’

নিউ জিল্যান্ড সিরিজের শুরুটা মন্দ হলেও শেষ দুটি ম্যাচ মনের মতো করে রাঙিয়েছেন নাহিদ রানা। সিরিজের তিন ওয়ানডেতে ১৩৪ রানের বিপরীতে ৮ উইকেট তোলেন ডানহাতি এই ফাস্ট বোলার। প্রথম ম্যাচে অর্থাৎ বাংলাদেশের ব্যর্থতার ম্যাচে ৬৫ রান খরচায় মাত্র একটি উইকেট নিতে পারেন নাহিদ। দ্বিতীয় ম্যাচে দৃশ্যপট পরিবর্তন— একটি দুর্দান্ত ফাইফার। এরপর আজ আরও দুটি উইকেট নেন তিনি।
কিউইদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর আলাদা করে নাহিদ রানার প্রশংসা করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
তিনি বলেন,
‘নাহিদ রানা দেশের জন্য অনেক বড় সম্পদ। আমরা সবাই অবশ্যই চেষ্টা করব ওর যত্ন নিতে। ও যেভাবে মেইনটেইন করছে এটা আসলে একটা টিমের জন্য অনেক অ্যাডভান্টেজ। শেষ দুই সিরিজ যেভাবে বোলিং করেছে পাশাপাশি ও যখন একটা ভালো মোমেন্টাম নিয়ে আসে, আমার কাছে মনে হয় যে, ও এটা ধারাবাহিকতায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ টিম অনেক ম্যাচ জিততে পারবে।’
একটা সময় স্পিনে নির্ভর ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। যেদিন স্পিনাররা ভালো পারফরম্যান্স করতো, সেদিন আশানুরূপ ফল পেত টিম। প্রেক্ষাপট বদলেছে। ছায়া হয়ে থাকা দেশের পেসাররা এখন নিজের আলোয় আলোকিত।
মিরাজ বলেন,
‘দেখেন আমাদের পেস ইউনিট অনেক ভালো বোলিং করছে গত দুই তিন বছর ধরে। আমরা দেশ এবং বাইরে অনেক ম্যাচ জিতেছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ওদের হারিয়েছি। পেস ইউনিট অনেক ভালো ছিল আমার কাছে মনে হয়। একটা টিমের যদি পেস ইউনিট ভালো থাকে তাহলে টিমের মোমেন্টাম চেঞ্জ হয়ে যায় এবং ব্যাটসম্যানরাও যদি ফর্মে থাকে আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের টিমের ভিতরে এখন পেস ইউনিট এবং ব্যাটসম্যানরা যারা আছে, তারা অভিজ্ঞ।’

চোট শঙ্কা ও আসন্ন সিরিজের প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানাকে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) বাকি অংশে অংশগ্রহণের অনুমতি দিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে এ তথ্য জানায় দেশীয় ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওডিআই শেষে জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে বিসিবির মেডিকেল টিম। বোর্ড জানিয়েছে, মোস্তাফিজের কন্ডিশন আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে জরুরি ভিত্তিতে তার ‘স্ক্যান’ করানো হবে। এরপর তিনি বিসিবির মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া (রিহ্যাব) শুরু করবেন।
চোট শঙ্কার কারণে দেশের বাঁ-হাতি পেসারকে দেওয়া অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রত্যাহার করে নিয়েছে বোর্ড। ফলে পিএসএলের বাকি ম্যাচগুলোতে তাকে আর দেখা যাবে না।
নাহিদ রানাকেও পিএসএলের জন্য ছাড়পত্র দিচ্ছে না বিসিবি। মূলত আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগে তাকে প্রস্তুতির সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বোর্ড।
পিএসএলে পেশোয়ার জালমির হয়ে প্রথমবার খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন নাহিদ। চারটি ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৭ উইকেট নেন জাতীয় দলের এই তরুণ ফাস্ট বোলার। মোস্তাফিজ খেলেছেন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে। ৫ ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়ে ৬টি উইকেট নিয়েছেন তিনি।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যর্থতার পর বাকি দুই ম্যাচ রাঙিয়ে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে রাখল বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল লাল সবুজের দল। গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের বীরত্বে ২৬৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা নিউ জিল্যান্ড।
নিউ জিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে ২০১৫ সালের পর প্রথমবার কোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পরও সিরিজ জেতার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এ নিয়ে তৃতীয়বার প্রথম ম্যাচ হারের পরও সিরিজের ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে পারল তারা।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ জানিয়েছেন, সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারের পর কিছুটা চিন্তায় পড়ে যান তিনি। কারণ, প্রথম ম্যাচ হারের পর দ্বিতীয়টি অনেকটা নকআউটে পরিণত হয়। জিতলে টিকে থাকে আশা, হারলে সব শেষ।
মিরাজ বলেন,
‘আমরা অনেক টুর্নামেন্ট খেলতে যাই, নকআউট যে খেলাগুলো হয় বিশেষ করে। সেখানে হারলেই বাদ। তাই আমি মেন্টালি ওভাবে জিনিসটা নিয়েছি। যেহেতু প্রথম ম্যাচ হেরে গিয়েছি। দ্বিতীয় ম্যাচ যদি হেরে যাই তবে সিরিজ হেরে যাব। তাই এটা আমাদের জন্য একটা বড় সুযোগ যে, এটা যদি জিততে পারি তাহলে হয়তো আরেকটা সুযোগ তৈরি হবে।’
বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয় নিয়ে মিরাজ বলেন,
‘অবশ্যই ভালো লাগছে টানা তিনটা সিরিজ জিতেছি এবং আমার কাছে মনে হয় ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বাংলাদেশ জিতছে এটাই অনেক বড় অর্জন আমার কাছে।’
নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরির (১০৫) সঙ্গে লিটন দাসের ৭৬ রান। এরপর বল হাতে মোস্তাফিজুর রহমানের ফাইফার। আজ মিরাজও ছিলেন প্রাণবন্ত। ৮.৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩৬ রান খরচায় দুই উইকেট তোলেন বাংলাদেশ দলপতি। সে সঙ্গে নাহিদ রানাও নিয়েছেন দুই উইকেট। অর্থাৎ দলীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনও দেখা গেছে সিরিজের শেষ ম্যাচে।
মিরাজ বলেন,
‘হ্যাঁ অবশ্যই, শান্ত যেভাবে ব্যাটিং করেছে, আমরা ওর কাছ থেকে এরকমই আশা করি। লিটন দাসও দারুণ খেলেছে। মোস্তাফিজসহ প্রত্যেকটা প্লেয়ার অনেক অভিজ্ঞ। তারা দেশের জন্য অনেক দিন খেলেছে এবং আমার কাছে মনে হয়, পারফরম্যান্স শো করার জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। দিনশেষে দলের রেজাল্টটাই আসল।’

দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৫৫ রানে জিতেছে স্বাগতিকরা। নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি ও মোস্তাফিজুর রহমান ৫ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে রেখেছেন বড় অবদান।
প্রথম ম্যাচ হেরেও বাকি দুইটি জিতে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে কিছু রেকর্ডও লেখা হয়েছে নতুন করে।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক সব রেকর্ড
১৩
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় ১৩ বছর পর ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। মাঝের সময়ে টানা পাঁচ সিরিজ হেরেছে তারা। এর আগে ২০১০ ও ২০১৩ সালে ঘরের মাঠে কিউইদের হোয়াইটওয়াশড করেছিল তারা।
ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
প্রায় ১১ বছর পর প্রথম ম্যাচ হেরেও সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সবশেষ প্রথম ওয়ানডে হারের পরও সিরিজ জিতেছিল তারা। এছাড়া ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও একই কৃতিত্ব দেখায় তারা।
মিরাজের হ্যাটট্রিক
বাংলাদেশের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে টানা ৩টি সিরিজ জিতলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার নেতৃত্বে গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ দল।
টানা ৩ ওয়ানডে সিরিজ জেতা বাংলাদেশি অধিনায়ক
হাবিবুল বাশার সুমন (২০০৭)
সাকিব আল হাসান (২০০৯)
মাশরাফি বিন মুর্তজা (২০১৪-১৬) (টানা ৬ সিরিজ)
মাশরাফি বিন মুর্তজা (২০১৮)
তামিম ইকবাল (২০২১-২২) (টানা ৫ সিরিজ)
মেহেদী হাসান মিরাজ (২০২৫-২৬)
শান্ত-লিটন জুটির রেকর্ড
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে চাপের মুখে চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রানের জুটি গড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।
২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পঞ্চম উইকেটে ২২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান।
শান্তই সেরা
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৯ ওয়ানডে ১ সেঞ্চুরি ও ৪ ফিফটিতে ৩৮৭ রান করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিউইদের বিপক্ষে তার গড় ৫৫.৪৮ ও স্ট্রাইক রেট ৮৪.৬৮।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে অন্তত ৩৫০ রান করা বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে শান্তর গড় ও স্ট্রাইক রেট সবার ওপরে।
অনন্য মোস্তাফিজ
শান্তর সেঞ্চুরির পর ৫ উইকেট নিয়ে বাকি কাজ সারেন মোস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডেতে এটি তার ষষ্ঠ ৫ উইকেট।
বাঁহাতি এই পেসারের অভিষেকের পর ওয়ানডেতে আর কোনো বোলার এর চেয়ে বেশি ৫ উইকেট নিতে পারেননি। তার সমান ৬টি ৫ উইকেট আছে রশিদ খান ও মোহাম্মদ শামির।
আরও মোস্তাফিজনামা
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের চেয়ে বেশি ৫ উইকেট আছে শুধু বিশ্বের ৫ জন পেস বোলারের। তারা হলেন- ওয়াকার ইউনিস (১৩), ব্রেট লি (৯), মিচেল স্টার্ক (৯), লাসিথ মালিঙ্গা (৮) ও গ্লেন ম্যাকগ্রা (৭)।
বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে তার সামনে শুধুই মিচেল স্টার্ক।
নাহিদের অর্জন
তিন ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন নাহিদ রানা। এ নিয়ে পরপর দুই সিরিজে তার হাতেই উঠল সিরিজ সেরার পুরস্কার।
বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে একাধিকবার সিরিজ সেরা হলেন নাহিদ। তার আগের দুজন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও আব্দুর রাজ্জাক।