
ক্রিকেটবিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করা বৈভব সূর্যবংশীর বয়স এখন ১৫ বছর। আর তাতেই ভারতীয় দলে খেলার দরজা খুলে গেল মারকুটে এই ব্যাটারের। ১৫ বছরে পা দেওয়ার পর, সুর্যবংশী এখন ভারতের সিনিয়র দলে খেলার যোগ্য। আইসিসির ন্যূনতম বয়স যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী জাতীয় দলে খেলতে আর কোনো বাধা নেই তাঁর।
২০২০ সালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ন্যূনতম বয়স নিয়ম চালু করে—‘খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করার’ লক্ষ্যে। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটেও বার্তা স্পষ্ট ছিল, ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখবে না।
এই নিয়েমের আগে ন্যূনতম বয়সের শর্তে পাকিস্তানের হাসান রাজা ১৯৯৬ সালে ১৪ বছর ২২৭ দিনে টেস্টে অভিষেকের মধ্য দিয়ে রেকর্ড গড়েন। রাজার রেকর্ড এখনও অক্ষত থাকলেও, আরেকটি রেকর্ড ভাঙার সুযোগ ভালোভাবেই আছে সূর্যবংশীর। ভারতের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক হয় দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের। ১৬ বছর ২০৫ দিনে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া টেন্ডুলকারের রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়া এখন সুর্যবংশীর জন্য আর অসাধ্য নয়।
২০২৬ সালের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে দেখা যাবে সূর্যবংশীকে। দলটির অধিনায়ক রায়ান পরাগ ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, তরুণ এই ক্রিকেটারকে যেন অপ্রয়োজনীয় চাপ থেকে দূরে রাখা হয়। তার মতে, এত অল্প বয়সে মিডিয়ার বাড়তি মনোযোগ বা চাপ সূর্যবংশীর স্বাভাবিক খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে।
পরাগ আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইপিএল ২০২৬-এ সূর্যবংশীকে ভারতের আরেক ওপেনার জসস্বি জয়সওয়ালের সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলতে দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, একজন অধিনায়ক হিসেবে তার বার্তা হবে- মিডিয়া থেকে কিছুটা দূরে থাকা এবং নিজের খেলাটা উপভোগ করা।
ভারতের নির্বাচকেরা সূর্যবংশীকে দলে নিতে খুব একটা বিলম্ব করার কথা নয়। টেন্ডুলকারের পর অনেক তরুণ প্রতিভাই দ্রুত উপরে উঠে এসেছে, কিন্তু এত অল্প বয়সেই এমন ‘অবশ্যম্ভাবী’ উপস্থিতি খুব কমজনই দেখাতে পেরেছে। সুর্যবংশী শুধু সম্ভাবনাময় নন—তাকে দেখলে মনে হয়, ভারতের জার্সির জন্যই যেন তৈরি হয়ে এসেছে।
মজার ব্যাপার হলো ২০২৩ সালে সুর্যবংশীর দ্রুত উত্থানে প্রতিভার পাশাপাশি ভাগ্যেরও বড় ভূমিকা ছিল। চণ্ডীগড়ে ভিনু মানকড় ট্রফির একটি ম্যাচ—যা ছিল বিসিসিআইয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ ঘরোয়া প্রতিযোগিতা এবং যেখানে নির্বাচক তিলক নাইডুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল খেলা দেখার জন্য—কিন্তু বৃষ্টিতে ভেসে যায় সেই ম্যাচ।
হাতে সময় থাকায় এবং বিহারের এক প্রতিভাবান ছেলের কথা আগেই শুনে রাখা নাইডু, একই সময়ে পাশেই চলা আরেকটি ম্যাচ দেখতে যান। সেই ‘পথবদল’ই হয়ে ওঠে টার্নিং পয়েন্ট। সেখানে তখনো কিশোর না হওয়া সুর্যবংশী ৭৬ বলে ৮৬ রান করে বিহারকে আসামের বিপক্ষে জেতান। সেই ইনিংসই এতটাই নজরকাড়া ছিল যে, এরপরই তার দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে যায়।
ধাপে ধাপে এগোতে গিয়ে প্রতিটি স্তরেই নিজের ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন সুর্যবংশী। ২০২৩ সালের নভেম্বরে অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যালেঞ্জার ট্রফিতে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন তিনি। সেই ফর্মই ধরে রাখেন একই মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত চার জাতি সিরিজে, যেখানে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেন।
তবে ক্রিকেটবিশ্বকে সূর্যবংশী নিজের আসল চেহারা দেখার এক বছর পর। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যুব টেস্টে সুযোগ পেয়ে মাত্র ৫৮ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান সুর্যবংশী—এক ইনিংসেই নিজেকে আলাদাভাবে ঘোষণা করেন। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, আইপিএল হয়তো এখনও তার জন্য একটু বেশি বড় মঞ্চ। এত অল্প বয়সে বিশ্বের সেরা বোলারদের মোকাবিলা করা তার জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে—এমন শঙ্কাও ছিল।
কিন্তু ২০২৫ মৌসুমেই সুর্যবংশী সেই সব সন্দেহ দূর করে দেন। নিজের খেলা প্রথম বলেই, অভিজ্ঞ শার্দুল ঠাকুরকে ছক্কা হাঁকিয়ে জানান দেন নিজের সামর্থ্য। এর কিছুদিন পরই, মাত্র ১৩ বছর বয়সে রাজস্থান রয়্যালস তার পেছনে যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছিল, তার যথার্থতা প্রমাণ করেন তিনি। গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে মাত্র ৩৫ বলে ঝড়ো সেঞ্চুরি করে প্রতিযোগিতামূলক সিনিয়র ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সী সেঞ্চুরিয়ান হয়ে ইতিহাস গড়েন সুর্যবংশী। এরপর তো আর পেছন ফেরে তাকাতে হয়নি তাকে। মাঠে নেমেই মুড়ি-মুড়কির মতো রেকর্ড গড়া সূর্যবংশী এখন শুধু অপেক্ষায় ভারতের জার্সি গায়ে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য।
No posts available.
২৭ মার্চ ২০২৬, ৪:০৪ পিএম
২৭ মার্চ ২০২৬, ৩:০৩ পিএম

গত বছরই খেলোয়াড় হিসেবে আইপিএলের পাঠ চুকিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল। ছক্কার ঝড় তুলতে পারদর্শী ক্যারিবিয় এই ব্যাটার অস্ত্র তুলে রাখলেও ট্রেনিং তো আর জমা দেননি। ১১ মৌসুম কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলা রাসেল এবারের আইপিএলেও এই ফ্রাঞ্চাইজিতেই আছেন। এবার তাঁর দায়িত্ব কেকেআরের ব্যাটারদের শেখানো— কিভাবে বল গ্যালারিতে আছড়ে ফেলতে হবে।
নতুন দায়িত্বের প্রথম দিনেই আন্দ্রে রাসেল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ছিলেন, কেকেআরের ব্যাটারদের নেটে অনুশীলন দেখাচ্ছিলেন, কি করতে হবে তা দেখিয়ে দিচ্ছিলেন এবং কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করছিলেন।
কেকেআরের ওপেনিং ব্যাটার টিম সাইফোর্টের ব্যাটিং স্ট্যান্সে থাকা অবস্থায় বাম কাঁধে ট্যাপ করতে দেখা যায় রাসেলকে। এরপর লেগ সাইডে শট খেলায় সিদ্ধহস্ত ক্যামেরন গ্রিনকে বেশ উপভোগ করছিলেন। পরে কেকেআরের অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের সঙ্গে কথা বলেন।
রামানদীপ সিংহ ও মানীশ পাণ্ডে নেট প্র্যাকটিস করেন রাসেলের তত্ত্বাবধানে। রোভম্যান পাওয়েলকে পুল খেলার সময় পিছনে ফিরে যেতে বলা হয়েছিল। আইপিএলে ঠিক কী করছেন রাসেল রাসেলের কাছে জানতে চাওয়া হলে সাবলীলভাবে উত্তর দিলেন, ‘আমি মানুষকে শেখাই কিভাবে ছয় মারতে হয়।’
মঙ্গলবার কেকেআর রাসেলের অবদানের সম্মানে নং ১২ জার্সি আজীবনের জন্য অবসর পাঠিয়ে দেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডার কেকেআরের হয়ে ১৩৩ ম্যাচ খেলেছেন এবং দুইবার (২০১৪ ও ২০২৪) তাদের শিরোপাজয়ী দলে ছিলেন।
অবসর নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার ব্যাপারে রাসেল বলেন, ‘আমার মানসিকতায় বিশেষ প্রভাব পড়েনি। মূল উদ্দেশ্য হলো সব সেই খেলোয়াড়দেরকে কিছু দিয়ে আসা, যাদের সঙ্গে খেলেছি বা যাদের বিপক্ষে খেলেছি।’
আইপিএল থেকে অবসর নিলেও অবশ্য অন্য ফ্রাঞ্চাইজি লিগগুলোতে খেলছেন রাসেল। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইএল টি-টোয়েন্টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় এসএ২০-তে খেলেছেন তিনি।
আগামীকাল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে আইপিএল। কেকেআর তাদের আইপিএল ২০২৬ অভিযান শুরু করবে ২৯ মার্চ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। গত বছরে তারা ১৪ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৫টি জিতে অষ্টম স্থানে থেকে শেষ করেছিল।

হঠাৎ দেখে মনে হতে পারে, টেস্টের গোলাপি বল কি টি-টোয়েন্টিতে খেলার প্রচলন শুরু হলো! অবশ্য খেলা শুরু হওয়ার সময় সাদাই ছিল বল। তবে ক্রমেই বদলে যেতে থাকল সেই রঙ। পাওয়ার প্লে শেষ হতে হতে বল অনেকটাই গোলাপি রঙ ধারণ করল। টিভি পর্দায় তো বটেই, এমনকি প্রেস বক্স থেকে খালি চোখেই পরিষ্কার ফুটে উঠছিল বলের রঙ পরিবর্তন।
পিএসএলের উদ্বোধনী ম্যাচে গোলাপি বল কাণ্ড নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। লাহোর কালান্দার্স ও হায়দরাবাদ কিংসমেনের ম্যাচের এই ঘটনায় মজা করতেও ছাড়ছেন না অনেকে। রঙ বদলে যাওয়ার কারণে ১৫ ওভারের পর বল বদলাতেও হয়েছে। বল নিয়ে আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মার্নাস লাবুশেনকে। বলের রঙ বদল নিয়ে ম্যাচের পর বিস্ময়ের কথাও বললেন হায়দরাবাদ কিংসমেন অধিনায়ক।
বলের রঙ বদলের এই ঘটনা ইচ্ছাকৃত নয়, দলের পোশাকের রঙ থেকেই এমনটা হয়েছে। মূলত হায়দরাবাদের পোশাকের কারণেই বলের এমন রঙ বদল। পিএসএলের নতুন দলটির পোশাক মেরুন রঙের। এই রঙ নিয়ে সমস্যা নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে জার্সির মান নিয়ে। যেহেতু বল চকচকে করার জন্য পোশাকের সঙ্গে ঘসে থাকেন ক্রিকেটাররা, ম্যাচের শুরু থেকেই পোশাকের রঙ লেগে যেতে থাকে বলের গায়ে। ক্রমে তা গোলাপি বা লালচে মতো হতো থাকে।
ম্যাচ শেষে লাবুশেন বলেন, ‘দ্বিতীয় ওভারের পরই আম্পায়ারদের বলেছিলাম, ‘হচ্ছেটা কি? বল তো পুরো লাল হয়ে গেছে!’ স্পষ্টতই এটা নিশ্চয়ই পোশাক বা ওই জাতীয় কোনো কিছু থেকে হয়েছে। আমি এর আগে এমন কিছু দেখিনি, তবে প্যাডের রঙ বা ব্যাটের কোনো কিছুর সংস্পর্শে এসে বলে রঙ লাগতে দেখেছি। আমি নিশ্চিত, রোববার পরবর্তী ম্যাচের আগেই আমরা এর সমাধান করে ফেলব।’ লাবুশেন জানালেন, এই পোশাকেই খেলা চালিয়ে যেতে কোনো আপত্তি জানাননি আম্পায়াররা।
বল বিতর্কের ম্যাচে বড় হারই দেখেছে হায়দরাবাদ। তিনবারের চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স দারুণভাবে শিরোপা রক্ষার মিশন শুরু করে। ২০ ওভারে ৬ উইকেটে তোলে ১৯৯ রান। বাঁহাতি ওপেনার ফখর জামান ৩৯ বলে ১০টি চারে করেন সর্বোচ্চ ৫৩ রান। তার সঙ্গে ওপেনিংয়ে মোহাম্মদ নাঈম ১৯ বলে ৩০ রান করেন। শেষদিকে উইকেটকিপার ব্যাটার হাসিবুল্লাহ খান ২৮ বলে অপরাজিত ৪০ এবং সিকান্দার রাজা ১০ বলে ২৪ রান করে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে কিংসমেন ২০ ওভারে ১৩০ রানে অলআউট হয়ে যায়।

আইপিএলে মহেন্দ্র সিং ধোনির অবসর নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে ভিন্ন সুর তুলেছেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার যোগরাজ সিং। তাঁর মতে, ধোনির এখনই অবসর নেওয়ার কোনো কারণ নেই; বরং আরও এক দশক খেলা চালিয়ে যাওয়া উচিত।
২০২৬ আইপিএল শুরুর আগে এক সাক্ষাৎকারে যোগরাজ বলেন, ধোনির ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও খেলার প্রতি নিবেদন এখনো প্রশংসনীয়। যারা তাঁকে অবসর নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, তাদের কড়া ভাষায় সমালোচনাও করেন তিনি।
যোগরাজ সিং বলেন, ‘সে (ধোনি) এখনো খেলছে এবং আরও ১০ বছর খেলা উচিত। তার শৃঙ্খলা ও ফিটনেস প্রমাণিত। কে তারা, যারা তাকে অবসর নিতে বলছে?’
অতীতে ধোনির কড়া সমালোচক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন যোগরাজ। এমনকি তিনি তাঁর ছেলে যুবরাজ সিংয়ের ক্যারিয়ার দ্রুত শেষ হওয়ার জন্যও ধোনিকে দায়ী করেছিলেন। তবে এবারে তাঁর বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।
বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। ৪৪ বছর বয়সী ধোনি আইপিএলে এবারের আসরে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে তাঁর পারফরম্যান্সও আগের তুলনায় কমেছে।
ধোনির হাঁটুর চোটের বিষয়টি আগেই জানিয়েছে তাঁর দল চেন্নাই সুপার কিংস। এ কারণে তাঁকে সাধারণত ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে ৭ বা ৮ নম্বরে নামতে দেখা যায়। এতে তাঁর ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়ছে, যা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে।
দলের বর্তমান অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় ধোনির ব্যাটিং অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ম্যাচের শেষের দিকে স্বল্প সময়ের জন্যই ব্যাট হাতে নামবেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ধোনি এখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে রয়েছেন। যদিও তিনি আর কতদিন খেলবেন, তা নির্ভর করছে সময় ও পরিস্থিতির ওপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, তাঁর উপস্থিতি দলকে যেমন অভিজ্ঞতা দিচ্ছে, তেমনি তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগের প্রশ্নটিও সামনে এনে দিচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেট ম্যাচে ‘ইমরান খান’ লেখা টি-শার্ট পরাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে। ঘটনাটি ঘটেছে দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা শেফিল্ড শিল্ডের ফাইনাল ম্যাচে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচের প্রথম দিনে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়ার খেলায় প্রবেশ করতে গেলে লুক ব্রাউন নামের এক দর্শককে আটকে দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তার পরনে ছিল ‘ফ্রি ইমরান খান’ লেখা একটি টি-শার্ট। নিরাপত্তাকর্মীদের দাবি, টি-শার্টটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। এ কারণে তাঁকে মাঠে ঢুকতে হলে সেটি ঢেকে রাখতে বলা হয়।
এ ঘটনায় পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সামনে আসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান। সংস্থাটি জানায়, বিষয়টি পর্যালোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে—সেই দর্শককে মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে তারা এটিও উল্লেখ করে, প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তাকর্মীদের সিদ্ধান্ত নিয়ম অনুযায়ীই ছিল।
আরও পড়ুন
| উদ্বোধনী ম্যাচেই আফ্রিদির বিরল রেকর্ড |
|
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্র বলেন, সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে উদ্বেগ রয়েছে। তাই বিষয়টিকে কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি থাকা ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে দর্শক লুক ব্রাউন জানান, মাঠে প্রবেশে বাধা পাওয়ায় তিনি বিস্মিত হন। যদিও নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ তিনি ভদ্র বলে উল্লেখ করেছেন, তবুও সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষ্য, ক্রিকেট বিশ্বকে ইমরান খানের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
পুরো ঘটনাটি ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক বার্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ কতটা গ্রহণযোগ্য—সে প্রশ্ন আবারও সামনে চলে এসেছে।

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে চ্যাম্পিয়ন দলের মতোই নতুন পিএসএল শুরু করল লাহোর কালান্দার্স। এই টুর্নামেন্টের নতুন দল হায়দরাবাদ কিংসমেনকে উদ্বোধনী ম্যাচে রীতিমতো উড়িয়েই দিল মোস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমনদের দল।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতের ম্যাচে কিংসমেনকে ৬৯ রানে হারিয়েছে কালান্দার্স। আগে ব্যাট করে ১৯৯ রানের বিশাল পুঁজি দাঁড় করায় গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। জবাবে ১৩০ রানে গুটিয়ে যায় এবারই প্রথম পিএসএল খেলতে আসা কিংসমেন।
বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারের মধ্যে ইমনের অত বেশি ভালো কাটেনি প্রথম ম্যাচ। পিএসএলে নিজের অভিষেক ম্যাচে ১৩ বলে ১৪ রান করেন তিনি। আর ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ।
উদ্বোধনী ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে কালান্দার্সের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন ফখর জামান। ৩৯ বলের ইনিংসে ১০টি চার মারেন বাঁহাতি ওপেনার। আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম খেলেন ১৯ বলে ৩০ রানের ইনিংস।
তিন নম্বরে নেমে ৪ রানের বেশি করতে পারেননি আব্দুল্লাহ শফিক। এরপর ক্রিজে গিয়ে মার্নাস লাবুশেনের বলে একটি ছক্কা মারেন ইমন। তবে পরের ওভারে রিলে মেরেডিথের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার।
পরে ঝড় তোলেন হাসিবউল্লাহ খান ও সিকান্দার রাজা। মাত্র ১০ বলে ২৪ রান করেন রাজা। আর ২৪ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলেন হাসিবউল্লাহ। ইনিংসের শেষ দুই বলের জন্য ক্রিজে গিয়ে দুইটি ছক্কা মেরে দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।
কিংসমেনের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন মেরেডিথ ও হাসান খান।
রান তাড়ায় একবারের জন্যও জয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি পিএসএলের নবাগত দলটি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন অধিনায়ক লাবুশেন, সাইম আইয়ুব করেন ১৯ রান। স্বীকৃত ব্যাটারদের সবাই হতাশ করলে বড় পরাজয় সঙ্গী হয় কিংসমেনের।
কালান্দার্সের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন উবাইদ শাহ, হারিস রউফ ও সিকান্দার রাজা।