
গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তামিম ইকবালকে নিয়ে সোমবার দিনভর ছিল উৎকণ্ঠা। দেশের ও দেশের বাইরের অনেক খেলোয়াড়ের মত জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন অনেকেই। দূর থেকে সাকিব আল হাসানও ছিলেন সেই দলে। আর দেশে থাকা তার মা-বাবা স্বশরীরে হাজির হলেন হাসপাতালে তামিমকে দেখতে।
সাকিবের মা শিরিন রেজা ও বাবা খন্দকার মাসরুর রেজা মঙ্গলবার দুপুরে হাজির হন সাভারের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে। গতকাল গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এখানে ভর্তির পর হার্টে রিং পরানো হয় তামিমের।
তামিমের জীবনের কঠিন এই সময়ে সাকিবের মা-বাবার হাসপাতাল পরিদর্শনই বলে দেয়, স্রেফ খেলোয়াড় হিসেবেও সাবেক সতীর্থের পরিবারের কাছে কতোটা আপন তিনি।
গত কয়েক বছরে কিছু ঘটনায় সাকিব ও তামিমের মাঝে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও, দুজন বরাবরই পাশে থেকেছেন একে অন্যের খারাপ সময়ে। সাকিব যখন ব্যাট হাতে কঠিন সময় পার করছিলেন, তখন তামিম বারবার বলেছেন ফর্মে ফিরবেনই সাকিব।
এর এবার বিকেএসপিতে ডিপিএলে ম্যাচ খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া তামিমের পাশে থাকছেন সাকিবও। প্রথমে এক ভিডিও বার্তায় তামিমের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। এরপর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লম্বা এক পোস্টে জানান, নিজের জন্মদিনে তামিমের সুস্থতার তার জন্য সেরা উপহার। এরপর ভাই তামিমের জন্য দোয়া চান দেশবাসীর কাছে।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে তামিমকে। তিনি এখন ভালো আছেন এবং অল্প হাঁটাচলাও করতে পারছেন। তবে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে তিন মাসের মত সময় লাগতে পারে উল্লেখ করেছেন তারা।
No posts available.

পাকিস্তান টেস্ট একাদশে ফিরেছেন বাবর আজম। এই পাকিস্তান সেনসেশনের অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাটিং শক্তিটা বেড়ে যাওয়ারই কথা সফরকারী দলের। সে কারণে ২৭৮ স্কোর পুঁজি নিয়ে প্রথম ইনিংসে লিড নেয়ার পক্ষে একদিন আগেও বাজি ধরার সাহস পাননি অনেকে। অথচ, এই পুঁজি পেয়েই বাংলাদেশ বোলাররা এই চ্যালেঞ্জ ভালই নিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে তাসকিন-মিরাজের স্পেলে পাকিস্তানকে বড় ঝাঁকুনি দিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে তাইজুল এবং টি ব্রেকের পর ১০ বলের এক স্পেলে নাহিদ রানার স্পেলে পাকিস্তানকে ২৩২ রানে অল আউট করে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১১০/৩। শান্ত ১৩ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন। ধীরগতির আউটফিল্ডে রান তোলার কষ্টের দুদিন শেষে বাংলাদেশ ১৫৬ রানে এগিয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। চতুর্থ ইনিংসের পরীক্ষাটা ক্রমেই বড় হচ্ছে পাকিস্তানের।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে অভিজ্ঞ পেসার তাসকিনের ৩ ওভারের এক স্পেলের ( ৩-১-১০-২) পাশে অফ স্পিনার মিরাজের প্রথম স্পেলে (৭-২-১৪-২ ) ৭৪ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান ৪ উইকেট। প্রথম দিন শেষে ২২ রানে উইকেটহীন পাকিস্তানের স্কোর দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ৯৬/৪। ব্যাটিংয়ে আছেন বাবর আজম ৩৭ এবং সালমান আগা ৬ রানে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে পাকিস্তান ১৮২ রানে পিছিয়ে আছে।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘন্টায় ছড়ি ঘুরিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। দারুণ একটি ঘন্টায় পাকিস্তানের তিন ব্যাটারকে ড্রেসিংরুমে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। এই দিনটিতে তাসকিনের ৩ ওভারের স্পেলের (৩-১-১০-২) পাশে মিরাজের ২ বলে ৩৯ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান তিন টপ অর্ডারকে।
প্রথম ব্রেক থ্রু'র জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এদিন মাত্র ৯ বল। দিনের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিটি ছিল ঘন্টায় ১৩৫ কিলোমিটার গতির। তাসকিনের অ্যাঙ্গেল ডেলিভারি ড্রাইভ করতে যেয়ে বোকা বনে গেছেন আবদুল্লাহ ফজল (৯)। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ফার্স্ট স্লিপের ক্যাচটি নিয়েছেন লিটন।
তাসকিন পরের ওভারেও পেয়েছেন উইকেট। তাসকিনের লেট সুইং অন সাইডে ঘোরাতে যেয়ে শর্ট লেগে ব্যাট-প্যাড ক্যাচে বন্দি হয়েছেন মিরপুর টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আজান আইওয়াস (১৩)।
শরীফুলের চেঞ্জে বোলিং করতে এসে শান মাসুদ-বাবর আজমের মধ্যে বোঝাপড়ায় ৩৮ রানের জুটি ভেঙেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর দ্বিতীয় ডেলিভারিতে শর্ট কাভারে দাঁড়ানো বদলি ফিল্ডার নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন অধিনায়ক শান মাসুদ ২৬ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২১ রান)।
দিনের দ্বিতীয় ঘন্টায়ও মিরাজ সফল। নিজের চতুর্থ ওভারে পেয়েছেন দ্বিতীয় উইকেট। সৌদ শাকিলকে (২৮ বলে ৮) সুইপ শট খেলতে প্রলুব্ধ করে এই মিডল অর্ডারকে উইকেটের পেছনে শিকারে পরিণত করেছেন অফ স্পিনার মিরাজ।
দ্বিতীয় সেশনে ১১০ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান ৪ উইকেট। দিনের দ্বিতীয় সেশনে প্রথম ব্রেক থ্রু দিয়েছেন নাহিদ রানা। বড় পার্টনারশিপের পথে এগিয়ে যাওয়া বাবর আজম-সালমান আগার পার্টনারশিপ বিচ্ছিন্ন করেছেন তিনি। নাহিদ রানাকে ফ্লিক করতে যেয়ে মিড অফে ক্যাচ দিয়েছেন পাকিস্তানের ইনিংসে একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিয়ান বাবর আজম (৮৪ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৬৮)। এই সেশনে অবশিষ্ট ৩টি উইকেট শিকার করেছেন তাইজুল। তাঁর ৬ ওভারে একে একে ফিরে গেছেন সালমান আগা (৫৫ বলে ২১), রিজওয়ান (২৭ বলে ১৩) এবং হাসান আলী (১৮)।
মিরপুর টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে নাহিদ রানার ইনসুইং ডেলিভারি ছেড়ে দিয়ে বোকার মতো বোল্ড হয়েছিলেন রিজওয়ান। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসেও করেছেন বোকামি। তাইজুলের গুড লেন্থের আর্ম বল ডিফেন্স করতে যেয়ে ব্যর্থ রিজওয়ানের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক খুঁজে বল স্ট্যাম্পে আঘাত হেনেছে।
টি ব্রেকের পর পাকিস্তান শেষ ২টি পার্টনারশিপে যোগ করতে পেরেছে ২৬ রান। নাহিদ রানার ১০ বলের স্পেলে খুররম শেহহজাত শর্ট লেগে (১০ বলে ১০) দিয়েছেন ক্যাচ। স্লিপে সাজিদ খানকে (২৮ বলে ৩৮) বন্দি করেছেন মুমিনুল।
প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসেও প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। দিনের ৪র্থ ওভারে ডেব্যুটেন্ট তানজিদ হাসান তামিম খুররম শেহজাদকে আগে-ভাগে ব্যাকফুটে খেলতে যেয়ে গালিতে দিয়েছেন ক্যাচ (৭ বলে ৪)।
মুমিনুলকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭৬ রানের পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহামুদুল হাসান জয়। মিরপুর টেস্টে ৮ও ৫ রানে থেমে যাওয়া ওপেনার মাহামুদুল হাসান জয় আব্বাসকে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ৬ষ্ঠ টেষ্ট ফিফটি উদযাপনের ইনিংসটি লম্বা করতে পারেননি। সেই আব্বাসের পরের ওভারে লেগ সাইডে ঘোরাতে যেয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে দিয়েছেন ক্যাচ (৬৪ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৫২)। দিনের অন্তিম মুহূর্তে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন মুমিনুল। খুররম শেহজাদের ৫ম স্ট্যাম্প বরাবর শার্ট বলে থার্ডম্যান দিয়ে খেলতে যেয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন মুমিনুল (৬০ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৩০)।

নাহিদ-তাইজুলদের সম্মিলিত বোলিং আক্রমণে ২৩২ রানে পাকিস্তানকে থামিয়েছে বাংলাদেশ। ৪৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করেছে স্বাগতিকেরা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৭৮ রান।
৮ উইকেটে ২০৬ রানে চা বিরতিতে গিয়েছিল পাকিস্তান। শেষ দুই উইকেট নিতে বাংলাদেশের লেগেছে ২.৪ ওভার। তাইজুল ইসলামকে টানা তিনটি ছক্কা মেরে ব্যবধান কিছুটা কমিয়েছেন সাজিদ খান। তবে পরের ওভারে নাহিদ রানাকে একটি চার মেরে পরের বলেই ফিরতে হয়েছে।
টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের চেয়ে লেজের ব্যাটাররাই স্কোরে ভালো রান যোগ করেছে পাকিস্তানের। হাসান আলী ১৮, নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাজিদ ২৮ বলে ৩৪, খুররম শাহজাদ করেছেন ১০ রান।
টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়েছিলেন বাবর আজম। নাহিদের দারুণ এক গতির বলে ছোঁ মেরে স্বাগতিকদের দারুণ ব্রেক থ্রু এনে দেয়। সাবলীল ব্যাট করতে থাকা বাবরকে ৮৪ বলে ৬৮ রানে ফেরান এই স্পিড স্টার। সৌদ শাকিল (৮), মোহাম্মদ রিজওয়ান (১৩), সালমান আলী আগা (২১) তিনজনই হয়েছেন ব্যর্থ।
বাংলাদেশের নাহিদ রানা ও তাইজুল নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ নেন ২টি করে। পেস ও স্পিন ৫টি করে—সমান ভাগ-ভাটোয়ারাই করেছেন তাঁরা।

প্রথম সেশনের ধারাবাহিকতা ধরে দ্বিতীয় সেশনেও চমৎকার বোলিং করল বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামের স্পিন জাদুতে এখন লিডের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলল স্বাগতিকরা।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৫৫ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান। বাংলাদেশের চেয়ে এখনও ৭২ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা।
দিনের প্রথম সেশনে ৭৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় সেশনে রানের গতি কিছুটা বাড়িয়ে ১১০ রানে ঠিক ৪ উইকেটই হারিয়েছে শান মাসুদের দল।
৪ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতির পর খেলতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিলেন বাবর আজম ও সালমান আলি আগা। দুজন মিলে গড়ে তুলেছিলেন ৬৩ রানের জুটি।
দারুণ ব্যাটিংয়ে পঞ্চাশ পেরিয়ে প্রায় ৪১ মাস ও ৩০ ইনিংস পর সেঞ্চুরির আশাও জাগিয়েছিলেন বাবর আজম। তবে নাহিদ রানার বলে আলগা শটে ক্যাচ আউট হন ৬৮ রান করে।
এরপর তাইজুল শো। বাবরের জুটির সঙ্গী সালমানকে ফেরান তিনি প্রথমে। ২১ রানের বেশি করতে পারেননি সালমান। পরে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ব্যাট-প্যাড হয়ে বোল্ড হন ১৩ রান করা মোহাম্মদ রিজওয়ান।
হাসান আলি বড় শট খেলতে গিয়ে হাওয়ায় ভাসিয়ে ক্যাচ আউট হলে আরও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সেশনের শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণ করে ২২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন সাজিদ খান ও খুররাম শাহজাদ।

প্রথম দিনের খেলা শেষে লিটন কুমার দাস বলেছিলেন, ২৭৮ রানের পুঁজিতে লিড নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তারা। সেই লক্ষ্যে নতুন দিনের প্রথম সেশনে দলকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান। বাংলাদেশের চেয়ে এখনও ১৮২ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা।
৬ ওভারে বিনা উইকেটে ২১ রানে দিনের খেলা শুরু করেছিল পাকিস্তান। প্রথম সেশনের ২৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৫ রানের বেশি করতে পারেনি শান মাসুদের দল।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে চমৎকার ডেলিভারিতে আবদুল্লাহ ফজলকে (৯) কট বিহাইন্ড করেন তাসকিন। নিজের পরের ওভারে আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকেও (১৩) ফেরান অভিজ্ঞ পেসার। বল তার ব্যাটে লেগে প্যাড ছুঁয়ে চলে যায় শর্ট স্কয়ার লেগে থাকা মুমিনুল হকের হাতে।
১০ ওভারে ২৩ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারানোর পর পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন বাবর আজম ও শান মাসুদ। ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে গড়েন তোলেন ৩৮ বলে ৩৮ রানের জুটি।
তবে এই জুটিকে বেশি বড় হতে দেননি মিরাজ। এতে অবশ্য মাসুদের দায়ই বেশি। অফ স্টাম্পের বাইরে নিরীহ এক ডেলিভারিতে কাভারে ক্যাচ দিয়ে বসেন ২৬ বলে ২১ রান করা পাকিস্তান অধিনায়ক।
মাসুদের আগে ফিরতে পারতেন বাবরও। শরিফুল ইসলামের চমৎকার ডেলিভারি তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে অল্পের জন্য লিটনের হাতের ওপর দিয়ে চলে যায়। এছাড়া বেশ কয়েকবার ব্যাটের কানায় লাগলেও বল ফিল্ডারের হাতে যায়নি।
অন্য প্রান্তে ভাগ্য এত সুপ্রসন্ন হয়নি সৌদ শাকিলের। মিরাজের বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটের ওপরের দিকে লেগে হাওয়ায় ভাসিয়ে কট বিহাইন্ড হন বাঁহাতি ব্যাটার।
এরপর সেশনের বাকি ৫ ওভারে আর উইকেট পড়তে দেননি বাবর ও সালমান আলি আগা। দুজন মিলে এখন পর্যন্ত যোগ করেছেন ১৭ রান। বাবর ৫৮ বলে ৩৭ ও সালমান ১৫ বলে ৬ রানে অপরাজিত।

২৭৮ স্কোর নিয়ে প্রথম ইনিংসে লিড নিতে হলে করতে হবে ক্ষুরধার বোলিং। বাংলাদেশ বোলাররা এই চ্যালেঞ্জ ভালই নিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে অভিজ্ঞ পেসার তাসকিনের ৩ ওভারের এক স্পেলের ( ৩-১-১০-২) পাশে অফ স্পিনার মিরাজের প্রথম স্পেলে (৭-২-১৪-২ ) ৭৪ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান ৪ উইকেট। প্রথম দিন শেষে ২২ রানে উইকেটহীন পাকিস্তানের স্কোর দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ৯৬/৪। ব্যাটিংয়ে আছেন বাবর আজম ৩৭ এবং সালমান আগা ৬ রানে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে পাকিস্তান ১৮২ রানে পিছিয়ে আছে।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘন্টায় ছড়ি ঘুরিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। দারুণ একটি ঘন্টায় পাকিস্তানের তিন ব্যাটারকে ড্রেসিংরুমে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। এই দিনটিতে তাসকিনের ৩ ওভারের স্পেলের (৩-১-১০-২) পাশে মিরাজের ২ বলে ৩৯ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান তিন টপ অর্ডারকে।
প্রথম ব্রেক থ্রু'র জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এদিন মাত্র ৯ বল। দিনের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিটি ছিল ঘন্টায় ১৩৫ কিলোমিটার গতির। তাসকিনের অ্যাঙ্গেল ডেলিভারি ড্রাইভ করতে যেয়ে বোকা বনে গেছেন আবদুল্লাহ ফজল (৯)। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ফার্স্ট স্লিপের ক্যাচটি নিয়েছেন লিটন।
তাসকিন পরের ওভারেও পেয়েছেন উইকেট। তাসকিনের লেট সুইং অন সাইডে ঘোরাতে যেয়ে শর্ট লেগে ব্যাট-প্যাড ক্যাচে বন্দি হয়েছেন মিরপুর টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আজান আইওয়াস (১৩)।
শরীফুলের চেঞ্জে বোলিং করতে এসে শান মাসুদ-বাবর আজমের মধ্যে বোঝাপড়ায় ৩৮ রানের জুটি ভেঙেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর দ্বিতীয় ডেলিভারিতে শর্ট কাভারে দাঁড়ানো বদলি ফিল্ডার নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন অধিনায়ক শান মাসুদ ২৬ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২১ রান)।
দিনের দ্বিতীয় ঘন্টায়ও মিরাজ সফল। নিজের চতুর্থ ওভারে পেয়েছেন দ্বিতীয় উইকেট। সৌদ শাকিলকে (২৮ বলে ৮) সুইপ শট খেলতে প্রলুব্ধ করে এই মিডল অর্ডারকে উইকেটের পেছনে শিকারে পরিণত করেছেন অফ স্পিনার মিরাজ।