
টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এর আগে কেবল একবারই টানা ৪ সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। আজ আফগানিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার হবে টানা চার সিরিজ জয়ের নিজেদের আগের রেকর্ড স্পর্শ করল জাকের আলি অনিকের দল।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয়টিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ। আফগানদের দেয়া ১৪৮ রানের লক্ষ্য দুই উইকেট আর পাঁচ বল হাতে রেখেই পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। তাতে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জাকের আলিরা।
প্রথমে বল হাতে আফগানিস্তানের সংগ্রহ বেশিদূর যেতে দেননি বোলাররা। ভালো শুরু পেলেও ঘুরে দাঁড়িয়ে আফগানদের অনেকটা আগের ম্যাচের রানেই আটকে দেয় বাংলাদেশ। এরপর শুরুতে হোঁচট খেলেও মিডল অর্ডারে দৃঢ়তায় জয় পেয়ে যায় বাংলাদেশ। জাকের আলি, নুরুল হাসান সোহান ও শামীম হোসেনের তিনটি ত্রিশার্ধো ইনিংসে আফগানদের হারায় তারা। শেষ দিকে একের পর এক উইকেট পতনে হারের শঙ্কা জাগলেও সোহানের হাল ধরা ২১ বলে ৩১ রানের ইনিংসে জয় পেয়ে যায় বাংলাদেশ।
এ নিয়ে টানা চারটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। শুরুটা হয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে দিয়ে। এরপর পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস বধের পর এবার আফগানিস্তানেকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারাল বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচে টপ-অর্ডারের ব্যাটাররা দারুণ শুরু এনে দিলেও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুরুতেই দলকে বিপদে ফেলে দেন দুই ওপেনার। দলীয় ১৬ রানেই ফিরেন তারা। আগের ম্যাচে ফিফটি করা তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন এবার দু অঙ্কও স্পর্শ করতে পারেননি।
দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে আজমতউল্লাহর বলে বড় শট খেলতে ক্যাচ তুলে দেন তানজিদ হাসান। দৌড়ে এসে দারুণভাবে তালুবন্দি করেন রশিদ খান। আউট হওয়ার আগেও হাঁসফাঁস করছিলেন এই বাঁ হাতি ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৭ বলে ২ রান করে সাজঘরে ফিরেন তিনি।
আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ২ রান করেছেন ৫ বলে। আজমতউল্লাহর দ্বিতীয় শিকার হয়ে এলবিডব্লু হন তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি পারভেজ। এশিয়া কাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া সাইফ হাসান আজ ভালো শুরু পেয়েছিলেন। তবে ইনিংস দীর্ঘ করতে ব্যর্থ হন ২৬ বছর বয়সী ডান হাতি ব্যাটার।
পঞ্চম ওভারের দলের রান যখন ২৪ তখন সাইফকে হারায় বাংলাদেশ। মুজিবকে জায়গা বানিয়ে এক্সট্রা কাভার দিয়ে খেলেছিলেন সাইফ, বল ওপরে উঠে সেদিকউল্লাহর হাতে ক্যাচ। ১৪ বলে ১৮ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে।
টপ অর্ডারদের ব্যর্থতার দিনে জ্বলে ওঠেন মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটার জাকের আলি অনিক ও শামিম হোসেন। এই দু’জনের জুটিতে জয়ের দিকেই ছুটছিল বাংলাদেশ। তবে অধিনায়ক জাকেরকে ফিরিয়ে আবার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রশীদ খান। রশিদের গুগলিতে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন জাকের আলী। তাতে ভাঙে চতুর্থ উইকেট ৫৬ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে ২৫ বলে ৩২ রান করেন জাকের। তাঁর ইনিংসে ছিল ২টি করে চার ও ছয়।
এরপর ১০২ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ম্যাচে ভালোভাবেই ফিরে আফগানিস্তান। নূর আহমেদকে নূর রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বাঁহাতি থেকে ডানহাতি হয়ে গিয়েছিলেন শামীম হোসেন। কিন্তু ব্যাটে–বলে টাইমিং ভালো হয়নি। ডিপ পয়েন্ট থেকে অনেকটা দৌড়ে ভালো ক্যাচ নেন মুজিব। ২২ বলে আসে ৩৩ রান শামীমের ব্যাট থেকে।
১২২ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারালে বিপদ আরো বাড়ে বাংলাদেশের। রশিদ খানের দ্বিতীয় শিকার হন নাসুম আহমেদ। স্কোরবোর্ডে ৫ রান যোগ হতেই পেরেন সাইফুদ্দিন আহমেদ। আজমতউল্লাহ বলে এই অলরাউন্ডার ফেরার পর ঠিক পরের বলে ক্যাচ তুলেন রিশাদ হোসেন। তবে পেছনে গিয়ে হাতে নিতে পারেননি রিশাদ। প্রথম বলে বেঁচে গেলেও পরের বলেই বোল্ড রিশাদ। তিন বলের মধ্যেই বাংলাদেশ হারাল দুই উইকেট।
শেষ ভরসা হিসেবে টিকে ছিলেন আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক নুরুল হাসান সোহান। ১২৯ রানে অষ্টম উইকেট পতনের পর দলকে আর বিপদে পড়তে দেননি তিনি। ২১ বলে ৩১ রানের অপরাজিত ছিলেন তিনি। তবে ম্যাচ জেতা শটটি এসেছে শরীফুল ইসলামের ব্যাট থেকে। ৬ বলে ১১ রান করা এই পেসার আজমতুল্লাহকে চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
এর আগে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে বেশি দূর যেতে দেয়নি বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রানে থামে আফগানদের ইনিংস। এক ম্যাচ আগেই সিরিজ নিশ্চিত করতে তাই গড়পড়তা লক্ষ্যই পায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নেন নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন। ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দেন নাসুম। খরুচে বোলিংয়ে রিশাদ দিয়ে ফেলেন ৪৫ রান।
একাদশে ফেরার ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। আরেক বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে দিয়েছেন ৪০ রান।
আফগানিস্তানের পক্ষে ৩৭ বলে ৩৮ রান করেন ইব্রাহিম জাদরান। রহমানউল্লাহ গুরবাজের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ৩০ রান।
শেষ দিকে মোহাম্মদ নবী ১২ বলে ২০ ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই ১৭ বলে ১৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে দেড়শর কাছে নিয়ে যান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৭/৫ (অতল ২৩, ইব্রাহিম ৩৮, গুরবাজ ৩০, তারাখিল ১, রসুলি ১৪, ওমরজাই ১৯*, নবী ২০*; শরিফুল ৪-০-১৩-১, নাসুম ৪-০-২৫-২, সাইফ উদ্দিন ৪-০-২২-০, মোস্তাফিজ ৪-০-৪০-০, রিশাদ ৪-০-৪৫-২)
বাংলাদেশ: ১৯.১ ওভারে ১৫০/৮ (তামিম ২, ইমন ২, সাইফ হাসান ১৮, জাকের ৩২, শামীম ৩৩, সোহান ৩১*, নাসুম ১১, সাইফ উদ্দিন ৪, রিশাদ ২, শরিফুল ১১*; মুজিব ৪-০-১৮-১, ওমরজাই ৩.১-০-২৩-৪, রশিদ ৪-০-২৯-২, নুর ৪-০-৪০-১, নবী ৩-০-৩২-০, আহমেদজাই ১-০-৮-০)
ফল: বাংলাদেশ ২ উইকেটে জয়ী
No posts available.
১৩ মার্চ ২০২৬, ১১:১৯ পিএম

ভারতীয়
ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আসন্ন নামান অ্যাওয়ার্ডসে কর্ণেল সি.কে.
নাইড়ু আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পাচ্ছেন রাহুল দ্রাবিড়, রজার বিনি ও মিথালি রাজ। দিল্লিতে
রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নামান এওয়ার্ডসে তাদের এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
ভারতের
হয়ে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন দ্রাবিড়। ৫০৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচে
তিনি ২৪ হাজারের বেশি রান করেছেন ও ফিল্ডিংয়ে নিয়েছেন ৪০০-রও বেশি ক্যাচ। তার অধিনায়কত্বে
২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জেতে ভারত।
অবসরের
পর কোচ হিসেবে অনূর্ধ্ব-১৯ দল, ভারত ‘এ’ ও জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলেছেন দ্রাবিড়। তার
কোচিংয়েই ২০২৪ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ভারত।
ভারতের
১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন রজার বিনি। ২৭ টেস্ট ও ৭২টি ওয়ানডে খেলা এই
অলরাউন্ডার ওই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন, যা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে
বড় মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হয়ে আছে।
পরে
তিনি ১৯৮৫ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অব ক্রিকেটজয়ী দলেও ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবনের পর
কোচিং ও প্রশাসনিক দায়িত্বেও কাজ করেছেন বিনি। ২০০০ সালে তার কোচিংয়েই ভারত অনূর্ধ্ব-১৯
বিশ্বকাপ জেতে।
অন্যদিকে
নারী ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ভারতের মুখ ছিলেন মিথালি রাজ। ৩৩৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলা
এই ব্যাটার নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম হিসেবে ১০ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক রান
করেন। তার অধিনায়কত্বেই ভারত দুইবার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায়।
অন্যান্য
পুরস্কারপ্রাপ্তরা
২০২৪-২৫
মৌসুমে পুরুষদের সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের জন্য পলি উমরিগার পুরস্কার পেয়েছেন শুবমান
গিল। নারীদের সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা। একই সঙ্গে ওয়ানডেতে
সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।
নারীদের
ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির পুরস্কার পেয়েছেন দিপ্তি। সেরা আন্তর্জাতিক অভিষেক
(নারী) পুরস্কার জিতেছেন শ্রী চারানি। আর পুরুষদের বিভাগে এই সম্মান পেয়েছেন হার্শিত
রানা।

নাহিদ রানার গতি আর তানজিদ হাসান তামিমের তাণ্ডবে প্রথম ম্যাচ জেতার পর দ্বিতীয়টিতে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। মাজ সাদাকাতের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সঙ্গে দুর্দান্ত বাঁহাতি স্পিনের ফাঁদে পড়ে বড় ব্যবধানে হেরেছে স্বাগতিকরা।
ফলে এখন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে। এই ম্যাচ দিয়েই নির্ধারণ হবে কারা পাবে লাল-সবুজে মোড়ানো সুদৃশ্য ট্রফি। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে সিরিজ নির্ধারণী খেলা।
চলতি সিরিজের আগে ৭৯টি তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে ২-১ ব্যবধানে ফল এসেছে ২৫টি ভিন্ন সিরিজে। বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ১২টি সিরিজ, আর ১-২ ব্যবধানে হেরে গেছে বাকি ১৩ সিরিজে।
এই ২৫ সিরিজের মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ১-১ হয়েছে ১৬ সিরিজে। যেখানে ৮টি সিরিজে জয়ী দলের নাম বাংলাদেশ। বাকি ৮ সিরিজে জিতেছে প্রতিপক্ষ দল।
১-১ থেকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতা ৮ ঘটনার মধ্যে ৬টিতে প্রথম ম্যাচ জেতার পর দ্বিতীয়টি হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ জিতে সিরিজের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
এবার তেমন আরেক চ্যালেঞ্জের সামনে তারা। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টিবিঘ্নিত লড়াইয়ে বাংলাদেশও অলআউট হয়েছে ঠিক ১১৪ রান। শেষ ম্যাচে তাই প্রথম ওয়ানডের পুনরাবৃত্তিই চাইবে স্বাগতিকরা।
গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ানোর শঙ্কায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত তা হতে দেয়নি বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কা বা ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিপক্ষেও দ্বিতীয় ওয়ানডে হারলেও, সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছিল তারা।
এবার ২০২৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেও সেটি করতে পারলে র্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পাবে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে পারলে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে ৯ নম্বরে উঠে যাবে তারা। আর শেষ ম্যাচ হারলে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে থেকে যাবে বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচ জিতে নেওয়ার পরও সিরিজ হারের নজিরও আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। ২০০৮ সালে নিউ জিল্যান্ড ও ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১-০তে লিড নেওয়ার পর বাকি দুই ম্যাচ হেরে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ।
তবে নিশ্চিতভাবেই নিউ জিল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ে নয়, বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা সিরিজের পুনরাবৃত্তির খোজেই থাকবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
মিরপুরে গতকাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে পাকিস্তান। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এসেছে সালমান আলী আগার বিতর্কিত রান আউট প্রসঙ্গ। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।
শুক্রবার টস হেরে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৩৯তম ওভার করতে আসেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ অধিনায়কের করা চতুর্থ বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় খেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অপরপ্রান্তে ৬৪ রানে থাকা সালমান আলি আগা রান নিতে গিয়ে সামনে গিয়ে বলটি এগিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মিরাজের হাতে।
তবে মিরাজ বলটি হাতে নিয়ে দ্রুত স্ট্যাম্পে ভাঙেন এবং রান আউটের আবেদন করেন। আম্পায়ার আউট দিলে সালমান আলি আগা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পাকিস্তানের সাবেক অনেক ক্রিকেটার বিষয়টিকে ফেয়ার প্লে নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুশতাক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মিরাজ কোনো ভুল করেননি এবং তিনি স্রেফ খেলার নিয়মই অনুসরণ করেছেন।
“ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে ড্রেসিংরুম থেকেও বিষয়টি বুঝে উঠতে সময় লেগেছে। বলটি তখনও খেলায় ছিল। সালমান আলী আগা ক্রিজ থেকে বেশ অনেকটা দূরে ছিলেন।”
“সম্ভবত তিনি ভেবেছিলেন বলটি ‘ডেড’ হয়ে গেছে এবং তিনি মিরাজকে বলটি তুলে দিয়ে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। অন্য দিকে মিরাজ সম্পূর্ণ খেলার মধ্যে ছিলেন এবং তিনি সুযোগ দেখা মাত্রই রান আউট করেছেন। মিরাজ কোনো ভুল করেনি।”
মিরপুরের এই পেস সহায়ক এবং চ্যালেঞ্জিং পিচ নিয়ে মুশতাক বলেন, এটি মূলত আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ।
“আমরা এমন পিচ তৈরি করছি কারণ দক্ষিণ আফ্রিকায় আগামী বিশ্বকাপে এমনই কন্ডিশন পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো দল হতে চাইলে যেকোনো কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে হবে।”
প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দুর্দান্ত শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ১২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগামীকাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি জিতে ট্রফি নিজেদের ঘরে রাখতে আশাবাদী মুশতাক।
“আমাদের গত ম্যাচের ভুলগুলো দ্রুত ভুলে যেতে হবে। আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য আছে এবং ছেলেরা যদি নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকঠাক কার্যকর করতে পারে, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা সিরিজ জিতব।”

কাকতালীয়ই বটে। দুই দিন আগে ঠিক ইফতারের সাইরেন বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সিরিজের প্রথম ম্যাচের ফল নিষ্পত্তি হয়েছে। ৪৮ ঘন্টা পরে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের দর্শক যখন ইফতারির পরে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার প্রহর গুনেছেন, তখন রিশাদের বলে মোহাম্মদ ওয়াসিমের আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান অল আউট, ঠিক সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে ইফতারির আজানের ধ্বনি শুনেছে মিরপুরে দর্শক! সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১১৪রানে অল আউট পাকিস্তান, বৃষ্টি বিঘ্নিত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেই স্কোরেই বাংলাদেশকে অলআউট করেছে পাকিস্তান।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে যে দলটিকে ১১৪ রানে ইনিংস গুড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে করেছে ২৭৪/১০! শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া পিচে এই স্কোর প্রত্যাশিতই। ৪৮ ঘন্টা আগে বাংলাদেশ বোলারদের বোলিং তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন হওয়া পাকিস্তান কীভাবে দ্বিতীয় ম্যাচে এতোটা ঘুরে দাঁড়ালো ? এই প্রশ্নের উত্তরে কৃতিত্ব দিতে হবে তাদের ওপেনিং ব্যাটার মাজ সাদাকাত (৪৬ বলে ৭৫), শাহিবজাদা ফারহান (৪৬ বলে ৩১), মিডল অর্ডার মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৯ বলে ৪৪), সালমান আগা (৬২ বলে ৬৪)-কে। প্রথম উইকেট জুটির ৭৮ বলে ১০৩, ৪র্থ উইকেট জুটির ১১৫ বলে ১১৯ রান বড় পুঁজির সহায়ক হয়েছে।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-এর প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ৮৩/০, ওভারপ্রতি রান ৮.৩০। তাসকিন এবং নাহিদ রানার অমিতব্যয়ী প্রথম স্পেলের কারনেই শুরুতে ছিল বাংলাদেশের ছন্দহীন। ২ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেটহী তাসকিনের খরচা ২০, নাহিদ রানা সেখানে উইকেটহীন ৩ ওভারে খরচা করেছে ৩২।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে শর্ট বলের ছড়াছড়িতে পাকিস্তান ব্যাটারদের আঁতকে দিয়েছেন দীর্ঘদেহী তরুণ পেসার নাহিদ রানা। সেই ম্যাচে নামতা গুনে প্রথম ৫ ওভারের প্রতিটিতেই একটি করে শিকার করেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে গতির বোলার। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই রূপে দেখা যায়নি নাহিদ রানাকে। ৩ ওভারের প্রথম স্পেলটি তার খরুচে (৩-০-৩২-০)। যার মধ্যে তৃতীয় ওভারে খরচ করেছেন ২০ রান।
যেভাবে পাকিস্তান ইনিংস শুরু করেছে, তাতে তিনশ প্লাস স্কোরের পূর্বাভাস কিন্তু ছিল। ৪০ ওভার পর্যন্ত রানের গতিটা সেই কক্ষপথেই ছিল। তবে রিশাদের শেষ স্পেলের (১.৩-০-৫-২) সঙ্গে মোস্তাফিজের শেষ স্পেলে (২-০-৮-১) পাকিস্তানকে ২৭৪-এ থামিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ পাওয়ার প্লেতে ৩৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারাতে হয়েছে পাকিস্তানকে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী ছড়িয়েছে আতঙ্ক। দ্বিতীয় ম্যাচে তাসকিন (৮-০-৫৯-১),নাহিদ রানা (১০-০-৫৯-১), মোস্তাফিজ (৯-০-৫৩-১) করেছেন গড়পড়তা বোলিং। ব্যতিক্রম ছিলেন অফ স্পিনার মিরাজ (১০-২-৩৪-২) এবং লেগ স্পিনার রিশাদ (৯.৩-০-৫৬-৩)।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ছিল মাজ সাদাকাতের ওডিআই অভিষেক। ২৮ বলে ১৮ রানের সেই অভিষেক ইনিংসের অতৃপ্তি ঘোঁচাতে দ্বিতীয় ম্যাচের শুরু থেকে টি-২০ আমেজে ব্যাটিং করেছেন। মোস্তাফিজের প্রথম দুই বলে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা মাজ সাদাকাত তাসকিনের এক ওভারে মেরেছেন ২টি ছক্কা। যার মধ্যে একটি নো বলে পুল শটে ছক্কা! নাহিদ রানার প্রথম ওভারে লং অনের উপর দিয়ে তার ছক্কাটির দূরত্ব ছিল ৯৭ মিটার।
৩১ বলে অভিষেক ফিফটি উদযাপন করেছেন মাজ সাদাকাত। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর যখন ৮৫/০, তখন মাজ সাদাকাতের ৬৩। মিরাজের দ্বিতীয় ওভারে স্কুপ করতে যেয়ে টপ এজ হয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন ক্যাচ, ততোক্ষণ ৪৬ বলে ৬ চার, ৫ ছক্কায় ৭৫ রান করেছেন তিনি ১৬৩.০৪ স্ট্রাইক রেটে।
৫০ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৪র্থ উইকেট জুটিতে রিজওয়ানের সাথে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দেয়া সালমান আগা-কে কৌশলে ফিরিয়ে দিয়েছেন মিরাজ। ২০২৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজকে টাইমড আউটে ফিরিয়ে দিয়ে সাকিবের যে দৃষ্টান্তটি এখনো শ্রীলঙ্কা সমর্থকদের চোখে গেম অব স্পিরিটের পরিপন্থি, সেই ছবিটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মিরাজ। ৩৯তম ওভারের ৪র্থ বলে মিরাজকে পাঞ্চ করেছিলেন রিজওয়ান। সেই বলটি ফলো থ্রুতে ধরতে যখন চেষ্টা করেছেন বোলার মিরাজ, তখন পপিন ক্রিজের বাইরে এসে বলটি নন স্ট্রাইক এন্ডের ব্যাটার সালমান আগা মিরাজের ফিল্ডিংয়ে বাধা তৈরি করতে অপচেষ্টা করেছেন। প্রথম ব্যাট দিয়ে বলটি থামাতে চেয়েছেন, পরে মিরাজের সঙ্গে বলটি ধরতে দিয়েছেন পাল্লা। কিন্তু তার সব অপচেষ্টা হয়েছে বিফল। বলটি ডেড হওয়ার আগে মিরাজ অন্ডার আর্ম থ্রো-তে রান আউটে হতভম্ব করেছেন সালমান আগাকে (৬২ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ৬৪)। টিভি আম্পায়ার ধর্মসেনাও এটিকে বৈধ রান আউটের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়মানুযায়ীই রানআউট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।তবে এই আউট নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উষ্মা প্রকাশ করেছেন সালমান আগা। মিরাজের উপর ক্ষুব্ধ হতে দেখা গেছে তাকে, লিটনকে উদ্দেশ্য করেও কিছু একটা বলতে দেখা গেছে সালমান আগাকে। মিরাজও পাল্টা জবাব দিয়েছেন। নিজের ভুলে আউট হয়েও ক্রোধ প্রকাশ করতে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে বাউন্ডারি রোপের সামনে ব্যাট-হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেছেন!
২৭৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা দিয়েছে বিপদসংকেত। ৬.৩ ওভার শেষে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে যখন শিলাবৃষ্টিতে ম্যাচটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা, তখন পাকিস্তান পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি (৩.৩-০-৯-২) এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের (৩-০-১৮-১) বোলিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর ২৭/৩। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে বড় লজ্জার বদলা নেয়ার সংকল্প ফুটে উঠেছে পাকিস্তান ক্রিকেটারদের অভিব্যক্তিতে।
শিলা বৃষ্টির পর আকাশে বজ্রপাতে ফ্লাড লাইটের অনেকগুলো বাল্বও নিভিয়ে দিয়েছে বিসিবি। রাত ৮টা ৫৭ মিনিটে মাঠ পরিদর্শন শেষে পিচ কভার উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, জ্বলেছে সব কটি ফ্লাড লাইটের বাল্ব। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে খেলা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। ৩২ ওভারে বাংলাদেশ দলের টার্গেট দাঁড়িয়েছে ২৪৩ রান। অর্থাৎ অবশিষ্ট ২৫.৩ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১৬ রান। ওভারপ্রতি ৮.৫৩ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে। টি-২০ মেজাজে ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নিয়েই নামতে হত বাংলাদেশ দলকে। পুনরায় খেলা শুরুতে লিটনের ব্যাটিংয়ে সেই মেজাজই দেখেছে দর্শক। তবে বাঁ হাতি স্পিনার মাজ সাদাকাতের ৫ ওভারের একটি স্পেলে (৫-০-২৩-৩) প্রথম বলে দর্শনীয় পুল শটে ডিপ মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে পরের বলে সুইপ করতে যেয়ে এলবিডাব্লুতে কাটা পড়েছেন লিটন দাস (৩৩ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৪৪)। ৪র্থ উইকেট জুটিতে লিটন-হৃদয়ের ৪৮ বলে ৫৪ রানের পার্টনারশিপকে অনুসরণ করতে পারেনি পরবর্তীতে কেউ।
বৃষ্টির পর উইকেটে ধরেছে স্পিন। তাতেই মাজ সাদাকাত চিনিয়েছেন নিজেকে। লিটনকে শিকারে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট শিকার উদযাপন করা মাজ সাদাকাত নিজের তৃতীয় ওভারে আফিফকে ( ১৫ বলে ২ ছক্কায় ১৪)পুল শটে প্রলুব্ধ করে মিড উইকেটে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন। তাঁর ৪র্থ ওভারের শেষ বলে রিশাদ ফ্রন্ট ফুটে ডিফেন্স করতে যেয়ে বোল্ড (৫ বলে ২)।
৭৩ রানে ৩ উইকেটের পর মাজ সাদাকাতের ছোবলে স্কোরটা যখন ১০১/৭, তখনই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারিত হয়ে গেছে। বাকি আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন পেসার হারিস রউফ তার ভয়ংকর শেষ স্পেলে (২.৩-০-৬-৩)। শেষ ৩ উইকেট পড়েছে মাত্র ১১রানে। তাতেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ১১৪ রানে অলআউটের বদলা নিয়েছে পাকিস্তান, সেই ১১৪ রানে বাংলাদেশকে অলআউট করে।

ক্রিকেটে আউট হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তবে কিছু আউট থাকে, যেগুলো নিয়মের চেয়ে বিতর্কের কারণেই বেশি আলোচিত হয়। যার সবশেষ সংযোজন মিরপুরে আজ বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমান আলি আগাকে করা মেহেদি হাসান মিরাজের আউটটি।
গত এক দশকে বাংলাদেশের ম্যাচ ঘিরে এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যা শুধু মাঠেই উত্তেজনা তৈরি করেনি বরং ক্রিকেট বিশ্বেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের সঙ্গে যত বিতর্কিত আউট
অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের 'টাইমড আউট'
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে টাইমড আউট দিলে চরম বিতর্ক হয়। হেলমেটের সমস্যার কারণে মাঠে নামতে দেরি হওয়ায় সাকিবের আপিলে ম্যাথিউসকে টাইমড আউট ঘোষণা করেন আম্পায়ার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ঘটনা।
মুশফিকুর রহিমের 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড'
২০২৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে নির্বিষ এক ডেলিভারি মুশফিকুর রহিম ডিফেন্স করার পর বল যখন স্ট্যাম্পের দিকে যাচ্ছিল, তখন তিনি হাত দিয়ে সেটি সরিয়ে দেন। কিউইদের আবেদনে আম্পায়ার তাকে 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' হিসেবে আউট ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে এ ধরনের আউটের ঘটনা।
টেস্টে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে এই আউট হন মুশফিক। এর আগে ১৯৫১ সালে ওভাল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' আউট হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ওপেনার লেন হাটন।
রোহিত শর্মার নো-বল বিতর্ক
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রুবেল হোসেনের একটি ফুল টস বলে রোহিত শর্মা ক্যাচ দিলেও আম্পায়ার আলিম দার সেটিকে নো-বল ডাকেন। রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি কোমরের নিচে ছিল। সেই ম্যাচে রোহিত জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি করেন এবং বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই সময় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল ক্রিকেটবিশ্বে।
সালমান আলী আগার বিতর্কিত রান আউট
বিতর্কিত আউটের সবশেষ সংযোজন মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজকের (১৩ মার্চ) ম্যাচে। টস হেরে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৩৯ তম ওভার করতে আসেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ অধিনায়কের করা চতুর্থ বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় খেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অপরপ্রান্তে ৬৪ রানে থাকা সালমান আলি আগা রান নিতে গিয়ে সামনে গিয়ে বলটি এগিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মিরাজের হাতে।
তবে মিরাজ বলটি হাতে নিয়ে দ্রুত স্ট্যাম্পে ভাঙ্গেন এবং রান আউটের আবেদন করেন। আম্পায়ার আউট দিলে সালমান আলি আগা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এই ঘটনার পর আবারও ক্রিকেট বিশ্বে 'স্পিরিট অফ ক্রিকেট' নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।