৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৫৩ পিএম

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে নেপাল এক স্মরণীয় লড়াই দেখিয়েছে। সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে নেপাল। যদিও ফলাফল তাদের দিকে যায়নি, মন জিতেছে নেপালের ক্রিকেটারদের।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক রোহিত পাউডেল বলেন,
"এমন হার নিয়ে হতাশা আছে, কিন্তু একই সাথে আমি দল নিয়ে গর্বিত। এটা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। আজ মাঠে নামার আগে দলের প্রতি আমার বার্তা একটাই ছিল—আমরা ১১০% দেব, আর তারা পুরোটা দিয়েছে। আমি তাদের নিয়ে গর্বিত।"
বিশ্বকাপে নেপালের পরিকল্পনা ও মনোভাব নিয়ে রোহিত যোগ করেন,
"আমরা এখানে শুধু অংশগ্রহণ করতে আসিনি; আমরা লড়াই করতে এসেছি। আমরা বিশ্বাস করি, যদি সেরা ক্রিকেট খেলি, যেকোনো দলকে হারাতে পারব। আজ আমরা সেরার ক্রিকেট খেলেছি বলে মনে করি।"
শেষ মুহূর্তের পারফরম্যান্সের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,
"ফলাফল আমাদের দিকে যায়নি, কিন্তু প্রচেষ্টার দিক থেকে দেখলে আমি ১০০ শতাংশ দিয়েছি। "
শেষ ওভার পর্যন্ত ভরসা ছিল নেপালের। তবে পেস বোলিং অলরাউন্ডার স্যাম কারান অঘটন ঘটতে দেননি। রোহিত বলেন,
"আমি মনে করি আমরা ডেথ বোলিংয়ে উন্নতি করতে পারি। ইংল্যান্ডও কিছুটা সমস্যায় ছিল, তবে স্যাম কারান খুব ভালো বোলিং করেছে। ডেথ ওভারে ইয়র্কার মারা বোলারদের জন্য কঠিন, তবে আমরা সেখানে উন্নতি করব।"
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২৮ পিএম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২৭ পিএম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৪২ পিএম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২:৫০ পিএম

প্রায় এক মাস পর আবারও মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। প্রতিপক্ষ সফররত নিউ জিল্যান্ড। মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায়।
পাকিস্তানের বিপক্ষে গত ১৫ মার্চ শেষ ওয়ানডে খেলার পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ঘটেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পূর্ববর্তী বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তামিম। পাশাপাশি নতুন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনসহ নির্বাচক প্যানেলেও এসেছে পরিবর্তন।
এই পরিবর্তনের মাঝেই জাতীয় দল ব্যস্ত ছিল অনুশীলন ক্যাম্প নিয়ে। দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স আগেই বলেছিলেন, এসব পরিবর্তন খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলেছে কি না- তা তারাই ভালো বলতে পারবে। তবে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জানালেন, মাঠের বাইরের কোনো কিছুই তাদের মনোযোগ নষ্ট করতে পারেনি।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, “গত তিন সপ্তাহ আমরা খুব ভালোভাবে অনুশীলন করেছি। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে বাইরের বিষয় আমাদের প্রভাবিত করে না। আমাদের কাজ হচ্ছে মাঠে পারফর্ম করা।” তিনি আরও যোগ করেন, “অনুশীলনটা খুব ভালো হয়েছে, আমরা বাইরের বিষয় নিয়ে ভাবিনি।”
এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে সামনে থাকা ২০২৭ বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে (যা অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়)। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে হলে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে নবম বা তার ওপরে থাকতে হবে। তাই এই সিরিজ থেকে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে চান মিরাজ।
তার ভাষায়, “এই সিরিজগুলোতে যদি আমরা আত্মবিশ্বাস পাই, তাহলে আমাদের প্রস্তুতি ভালো হবে। ২০২৩ বিশ্বকাপের আগেও আমরা অনেক ম্যাচ জিতেছিলাম, কিন্তু আসরে ভালো করতে পারিনি। তবে আত্মবিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
সম্প্রতি ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও বেশ ইতিবাচক। একসময় টানা ১১ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেলেও, এখন টানা দুই সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাসী দলটি। তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতে মাঠে নামছে।
অন্যদিকে নিউ জিল্যান্ড এসেছে তুলনামূলক দুর্বল দল নিয়ে, কারণ তাদের অনেক তারকা ক্রিকেটার ব্যস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। তবুও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন।
ল্যাথাম বলেন, “বাংলাদেশ খুবই শক্তিশালী দল। তারা সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে। নিজেদের কন্ডিশনে তারা সবসময়ই ভয়ঙ্কর। আমরা এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।”
প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা যাই হোক, মিরাজের চোখে এই সিরিজ জেতা বড় অর্জনই হবে। তিনি বলেন, “কাউকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেরা চেষ্টা করব। র্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকেও এই সিরিজ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
সব মিলিয়ে, একাধিক পরিবর্তনের পর নতুন উদ্যমে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়—অনুশীলনের সেই প্রস্তুতি মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।

আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য প্রতি
সিরিজে এখন বাংলাদেশকে চোখ রাখতে হচ্ছে র্যাঙ্কিংয়ে। ব্যতিক্রম নয় নিউ
জিল্যান্ড সিরিজও। আর এই সিরিজটিতে
কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে র্যাঙ্কিংয়ে সুখবরই পাবে মেহেদী
হাসান মিরাজের দল।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার শুরু বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের
মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। বেলা ১১টায় মাঠে গড়াবে প্রথম বল।
সিরিজটি শুরুর আগে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯
নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। আর ১১৪ রেটিং
পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে নিউ জিল্যান্ড।
তিন ম্যাচের
সবকটি জিততে পারলে ৬ রেটিং যোগ হবে
বাংলাদেশের। আর ৮৫ রেটিং
নিয়ে ৯ নম্বরেই থাকবে তারা।
তবে ৮৮
পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে থাকা ইংল্যান্ডের
সঙ্গে ব্যবধান কমে আসবে ৩ পয়েন্টে। এছাড়া ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলে বাংলাদেশের রেটিং হবে ৮৩ পয়েন্ট। আর ১-২ ব্যবধানে সিরিজ হেরে গেলেও তাদের হবে ৮০ রেটিং পয়েন্ট।
আর নিউ
জিল্যান্ড যদি তিন ম্যাচের সবকটিই জিতে যায়, তাহলে তাদের যোগ হবে
স্রেফ ১ পয়েন্ট। তখন ১১৫
রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দুইয়েই থাকবে তারা। আর হোয়াইটওয়াশড হলে বাংলাদেশ
হারাবে ১ পয়েন্ট। তবে ৭৮
পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরেই থাকবে তারা।
আগামী বছরের ৩১ মার্চ
তারিখে র্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি
করে চূড়ান্ত হবে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা দলগুলোর নাম। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া র্যাঙ্কিংয়ের অন্য সেরা ৮ দল সরাসরি
খেলবে বিশ্বকাপে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের র্যাঙ্কিং যাই হোক, স্বাগতিক হওয়ায় সরাসরি বিশ্বকাপের আসরে খেলবে তারা। বিশ্বকাপের আরেক স্বাগতিক নামিবিয়া আইসিসির পূর্ণ সদস্য না হওয়ায় তাদেরকে আসতে হবে বাছাই প্রক্রিয়া হয়েই।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ও পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ক্রিকেটে খেলতে ব্যস্ত দলের মূল ক্রিকেটারদের বেশিরভাগ। তাই একরকম বাধ্য হয়েই দ্বিতীয় (অথবা তৃতীয়) সারির দল নিয়েই বাংলাদেশে খেলতে এসেছে নিউ জিল্যান্ড।
তবে মূল দল না হলেও, সিরিজ জয়ের পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে কিউইদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথামের। আর এই বিশ্বাসের উৎস, ২০২৩ সালের বাংলাদেশ সফর। সেবার ওয়ানডে বিশ্বকাপের ঠিক আগে দ্বিতীয় সারির দল নিয়েই বাংলাদেশকে সিরিজ হারিয়েছিল নিউ জিল্যান্ড।
ভারতের অনুষ্ঠিত ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল নিউ জিল্যান্ড। সেবার বিশ্বকাপ স্কোয়াডের মাত্র ৫ ক্রিকেটারকে বাংলাদেশ সফরের দলে রেখেছিল কিউইরা।
লকি ফার্গুসনের নেতৃত্বে খেলতে এসে সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল নিউ জিল্যান্ড। আর বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল প্রথম ম্যাচ।
এবারও দ্বিতীয় সারির দল। যেখানে নেতৃত্বের ভার ল্যাথামের কাঁধে। সিরিজ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাঁহাতি এই ব্যাটার বললেন, মূল ক্রিকেটাররা না থাকলেও এবারও সিরিজ জিততে এসেছেন তারা।
“আমাদের লক্ষ্যটা তো পরিষ্কার, আমরা এখানে এসেছি সিরিজ জিততে। সবার দৃষ্টিকোণ থেকেই, এটাই মূল লক্ষ্য। তবে আমরা জানি, ওই জায়গায় পৌঁছাতে হলে আমাদের সামনে অনেক কাজ বাকি আছে। তাই আমাদের জন্য বিষয়টা হলো- প্রতিটি ম্যাচ থেকে শেখা ও ধীরে ধীরে উন্নতি করা।”
বাংলাদেশে আসার আগে নিউ জিল্যান্ড থেকে বিমানে ওঠার সময়ই সংবাদমাধ্যমে ল্যাথাম বলেছিলেন, এই সিরিজ তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য বড় সুযোগ। সিরিজ শুরুর আগের দিনও একই কথা বললেন তিনি।
ল্যাথামের বিশ্বাস, ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে পারলে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারবে তার দল।
“আমাদের দলে এমন খেলোয়াড় আছে যাদের অভিজ্ঞতা একটু কম, বিশেষ করে এই ধরনের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা কম। তারা যত বেশি বাংলাদেশের মতো জায়গায় সুযোগ পাবে, আমাদের জন্য তত ভালো হবে। আমরা যদি ম্যাচ ধরে ধরে উন্নতি করতে পারি, শেখার প্রক্রিয়াটা চালিয়ে যেতে পারি, সিরিজের শেষ দিকে গিয়ে ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারব।”
এই সিরিজের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে ল্যাথামসহ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে শুধু হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াংয়ের। তবে 'এ' দলের হয়ে বাংলাদেশে খেলে গেছেন নিক কেলি, ড্যান ক্লেভার, ডিক্স ফক্সক্রফট, আদিত্য অশোক, জেডেন লেনক্সরা।
তাদের এই অভিজ্ঞতা বাকিদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার তাগিদ দিলেন ল্যাথাম।
“যখন দলে অভিজ্ঞতা কম থাকে, তখন আমার মতো যারা একটু বেশি খেলেছি, আর যারা এই কন্ডিশনে আগে খেলেছে, তাদের দায়িত্ব হলো নতুনদের যতটা সম্ভব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান ভাগ করে দেওয়া। আমরা অবশ্যই পরিকল্পনা, অনুশীলন আর প্রস্তুতির সব কিছুই ঠিকভাবে করতে চাই। তবে ম্যাচে নামার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- সামনে যা আসবে, সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজের সেরাটা দেওয়া।”
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার বেলা ১১টায় শুরু হবে প্রথম ওয়ানডে। এই সিরিজের সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।

গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পুরোপুরি স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনায় পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সবশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেই সেই পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভালো উইকেটে খেলেছিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
সেই ধারাবাহিকতাই এবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ধরে রাখতে চান বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগের দিন মিরাজ বলেছে, এই সিরিজটিও ভালো উইকেটে খেলার চেষ্টা করবেন তারা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে গত মাসের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। স্পোর্টিং উইকেট বানিয়ে ওই সিরিজে ছিল ব্যাটে-বলে দারুণ লড়াই। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। পরেরটিতে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১১৪ রানে।
আর শেষ ম্যাচে ২৯০ রান করে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর পাকিস্তানকে ২৭৯ রানে থামিয়ে সিরিজ জিতে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। ভালো উইকেটে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শঙ্কা থাকলেও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে একই পথে হাঁটার কথা বলেছেন মিরাজ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার বেলা ১১টায় শুরু হবে প্রথম ওয়ানডে। এর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে উইকেট সম্পর্কে ধারণা দেন মিরাজ।
“পাকিস্তান সিরিজে আমরা খুব ভালো উইকেটে ক্রিকেট খেলেছি। আমরা চেষ্টা করব এই সিরিজটাও ভালো উইকেটে খেলার জন্য। সব কিছু মূলত আপনার পারফরম্যান্সের ওপর। আমরা ট্রু উইকেটে কিন্তু দেখেন (পাকিস্তানের বিপক্ষে) দ্বিতীয় ম্যাচে দ্রুত অল আউট হয়ে গেছি।তবে উইকেট তো ট্রু ছিল। পাকিস্তান প্রথম ম্যাচে ১১৪ রানে অল আউট হয়ে গেছে তবে ট্রু উইকেট ছিল।”
“ক্রিকেটাররা যদি সবাই পারফর্ম করতে পারে... উইকেটটা অনেক সময় মানিয়ে নিয়ে খেলতে হয়। তো আমার কাছে মনে হয়, এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেন্টালিটির ওপরে যে কে কীভাবে অনুশীলন করছে।”

গত
দুই বছরের মধ্যে চারবার রদবদল হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি)। এই সময়ে ভিন্ন
তিন সাবেক অধিনায়ক এসেছেন বোর্ড প্রধানের চেয়ারে। সবশেষ পরিবর্তনের পর এখন বিসিবির
বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল।
বারবার
এই পরিবর্তনে ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রভাব পড়লেও সেটি খুব অবাক করার কিছু নয়। তবে এই
বিষয়ে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, বাইরের এসব পরিবর্তন নিয়ে চিন্তা
করেন না ক্রিকেটাররা।
গত
সপ্তাহে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড ভেঙে বিসিবিতে গঠন করা হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক
কমিটি। যার প্রধান হিসেবে আছেন তামিম। তার বোর্ডের প্রথম সিরিজ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে
ওয়ানডের লড়াই।
সিরিজ
শুরুর আগে বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের
প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কিছু দিন পরপর বোর্ডে পরিবর্তন দলের
ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কিনা। এই প্রশ্নের উত্তর ক্রিকেটারদের কাছ থেকে জানতে বলেছিলেন
বাংলাদেশ কোচ।
পরদিন
অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এলেন অধিনায়ক মিরাজ। তার কাছে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস
করা হলে, কোনোরকম প্রভাবের কথা উড়িয়ে দেন তিনি।
“আমরা তো অনুশীলন করেছি। গত তিন সপ্তাহ আমরা খুবই ভালো অনুশীলন করেছি। আর পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের আসলে বাইরে কী হয়, সেটা এটা আমাদের ওরকম মাথায় তেমন প্রভাব ফেলে না।”
“আমাদের কাজ হলো পারফর্ম করা। আমার মনে হয়, গত তিন সপ্তাহ যেভাবে অনুশীলন হয়েছে এটা আমার কাছে মনে হয়, অনেক ভালো অনুশীলন আমরা করেছি। আর বাইরে কী হয়েছে এটা আমরা কখনও চিন্তা করিনি।”
মিরপুর
শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার বেলা ১১টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের
প্রথম ওয়ানডে। আগামী বছরের বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করতে এই সিরিজটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের জন্য।
তবে
এখনই পুরো সিরিজ নিয়ে না ভেবে, জয় দিয়ে প্রথম ম্যাচটি শুরু করতে চান মিরাজ।
“দেখেন
শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ওভাবে লক্ষ্য ঠিক করা উচিত না। যেহেতু আমাদের তিনটা ম্যাচ
আছে, তো সিরিজ হিসেবে আমাদের প্রথম ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করব ভালো
ক্রিকেট খেলে প্রথম ম্যাচটা জেতার।”