
ওয়ানডে সিরিজে টানা তিন টস হারের পর অবশেষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে কয়েন ভাগ্য পাশে পেল বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার দুপুর ২টায় শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ।
টস জিতে লিটন বলেছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির শঙ্কা মাথায় রেখে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিউ জিল্যান্ডকে যত কম রানে সম্ভব আটকে রাখার লক্ষ্য তার দলের।
চোটের কারণে এই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন টম ল্যাথাম। তার জায়গায় দায়িত্ব পাওয়া ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি বলেছেন, ১৭০ রানের বেশি করতে পারলে নিরাপদ মনে করবেন তারা।
তিন পেসারের সঙ্গে দুই স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো মূল দলের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলবেন রিপন মন্ডল।
নিউ জিল্যান্ড একাদশে অভিষেক হয়েছে দুজনের- নাথান স্মিথ ও ম্যাট ফিশার।
বাংলাদেশ একাদশ
লিটন কুমার দাস, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, শেখ মেহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল, শরিফুল ইসলাম
নিউ জিল্যান্ড একাদশ
টিম রবিনসন, কাটেন ক্লার্ক, ড্যান ক্লেভার, নিক কেলি, বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, ম্যাট ফিশার, বেন লিস্টার
No posts available.
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৬ এম
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম

এক বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন অমিত হাসান। অপেক্ষা ছিল শুধু নির্বাচকদের একটি ডাকের। অবশেষে নির্বাচক প্যানেলের চেয়ারম্যান হাবিবুল বাশার সুমনের কাছ থেকে সেই ফোন পেয়েছেন তরুণ মিডল-অর্ডার ব্যাটার।
ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের নহর বইয়ে দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সামনের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচের দলে ডাক পেয়েছেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার। মিরপুরে সোমবারই টেস্ট সিরিজের জন্য অনুশীলনে নেমে পড়বেন নারায়ণগঞ্জের এই তরুণ।
তার আগে রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে মিরপুর যাওয়ার পথে টি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমিত শুনিয়েছেন নিজের লক্ষ্য, উপভোগের মন্ত্রে এগিয়ে যাওয়ার রহস্য, সবার প্রত্যাশা পূরণে নিজের প্রস্তুতিসহ আরও অনেক কথা।
শুরু থেকেই শুরু করি। প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার আনন্দ কেমন?
অমিত: প্রথম যখন জানতে পেলাম, আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো লাগছিল। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে, এটা তো আসলে সবারই স্বপ্ন থাকে। তো খুব ভালো লাগছিল তখন।
কার কাছ থেকে প্রথম পেলেন খবরটা?
অমিত: হাবিবুল বাশার স্যার কল করে প্রথম জানিয়েছেন জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার কথা। তিনি বললেন যে, ‘তুমি পাকিস্তান সিরিজের দলে আছো। বি রেডি, গুড লাক!’ সোমবার অনুশীলনের জন্যও ডেকেছেন।
পরিবারের সঙ্গে নিশ্চয়ই কথা হয়েছে, তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন?
অমিত: বাসায়ই ছিলাম আমি। ডাক পাওয়ার খবরটা জানার পর প্রথমেই আব্বু-আম্মুকে জানিয়েছি। তারা খুব খুশি হয়েছেন। পরিবারের সবাই অনেক আনন্দিত। তাদেরকে বলার পর, তারা অনেক খুশি হয়েছেন।
গত বছর ‘এ’ দলে ডাক পাওয়ার পর বলেছিলেন, ধাপে ধাপে এগোতে চান। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করে ‘এ’ দলে খেলেছেন। ঘরোয়াতে ধারবাহিক পারফর্ম করছেন। এখন কি মনে হয়, ধাপে ধাপে এগিয়ে জাতীয় দলের জন্য তৈরি এখন?
অমিত: অবশ্যই ধাপে ধাপে এগোনোটাই আমার পছন্দ। আমার কাছে বিষয়টা হচ্ছে এমন যে, আমি সবসময় বর্তমানে থাকতে পছন্দ করি। যখন যে ফরম্যাটের ক্রিকেট খেলি বা যেই টুর্নামেন্টটা খেলি সেটা নিয়েই চিন্তা করি। এখন যেমন সামনের সিরিজ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছি।
জাতীয় দলে ডাক পেলেন। সামনে হয়তো টেস্ট অভিষেক হবে। ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো লক্ষ্য ঠিক করেছেন কী?
অমিত: প্রত্যেকটা ক্রিকেটারই আসলে যখন খেলা শুরু করে, একটা স্বপ্ন নিয়ে শুরু করে যে জাতীয় দলে খেলবে, লম্বা সময় জাতীয় দলকে সার্ভিস দেবে। আমারও এরকমই চিন্তাভাবনা। যতটা লম্বা সময় আসলে জাতীয় দলে খেলা যায়।
জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক হান্নান সরকার বলেছিলেন, মুশফিকুর রহিমের অবসরের পর মিডল-অর্ডারের দায়িত্বটা হয়তো আপনারই নিতে হবে। মুশফিকের মতো একজনের শূন্যস্থান পূরণের জন্য নিজেকে কতটা প্রস্তুত মনে করেন?
অমিত: দেখেন মুশফিক ভাই অনেক বড় মাপের ক্রিকেটার। শুধু বাংলাদেশেরই না, বিশ্ব ক্রিকেটেরই একজন কিংবদন্তি তিনি। অনেক লম্বা সময় ধরে উনি দলকে সার্ভিস দিচ্ছেন। আমার তো যাত্রাটা মাত্র শুরু হলো। আমি চেষ্টা করব, (মুশফিক) ভাইয়ের মতো খেলার।
বিসিএলের প্রসঙ্গে যাই। প্রথম রাউন্ডে একাদশে ছিলেন না। জাকের আলি অনিকের কনকাশন বদলি হিসেবে নেমে ১৬২ রান করলেন। এরপর এখন জাতীয় দলে। পেছনে তাকালে কি একটু অদ্ভুতও লাগে যে, সুযোগটা এভাবে এলো!
অমিত: আমি সবসময় রিজিকের ওপর বিশ্বাস করি। যেটা আমার জন্য নির্ধারিত, সেটা যেভাবেই হোক আমার কাছে আসবে।
মাঝপথে সুযোগ পেয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেই ম্যাচ জেতানো ইনিংস। হুট করে আসা সুযোগ কাজে লাগানোর যে মানসিক প্রস্তুতি, সেটা আসলে কীভাবে সম্ভব হলো?
অমিত: আমি দলে থাকি বা না থাকি, সবসময় একই ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করি। ম্যাচ খেলছি নাকি না খেলছি, সেটা নিয়ে চিন্তা করি না। প্রস্তুতির ধরনটা সবসময় একই রাখি। আর এই ম্যাচের সুযোগটা তো আসলে কাকতালীয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনিক ভাইয়া মাথায় ব্যথা পেয়েছিলেন।
একটু পেছনে ফিরি। ২০২১-২২ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে করেছিলেন ৯১২ রান। করোনা-পরবর্তী সময়ে এক মৌসুমে এত রান নেই আর কারও। ২০২৪ সালের জাতীয় ক্রিকেট লিগে ৭৮৫ রান করেছেন। যা দশ বছরের মধ্যে এক লিগে সর্বোচ্চ। ধারাবাহিক রান করেও সুযোগ আসছিল না, অপেক্ষার এই সময়টা কেমন?
অমিত: এসব বিষয় নিয়ে আসলে অত বেশি চিন্তা করি না। আপনি যেটা বললেন যে টানা রান করছি কিন্তু কেউ হয়তো খেয়াল করছে না বা সুযোগ আসছে না, এসব নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। এখন ভালো খেলছি, সুযোগ এসেছে। আলহামদুলিল্লাহ এটাই আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া।
আপনার সুযোগ না পাওয়ার গল্প আরও পুরোনো। একটা সময় পর্যন্ত ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ভাবনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি। আপনার সতীর্থরা পরে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়। অনেকেই জাতীয় দলে এখন নিয়মিত ক্রিকেটার। ওই বিশ্বকাপ খেলতে না পারার আক্ষেপ কি কাজ করে?
অমিত: সত্যি বলতে আমার ওরকম কোনো আক্ষেপই কাজ করে না। বরং ভালো লাগে যে, একসঙ্গে খেলেছি, চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আমাদের ব্যাচ। ওই জায়গাটাই ভালো লাগে, গর্ববোধ করি। আমি দলে ছিলাম না, সেটা নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। ভালো লাগে যে ওই ব্যাচ মানে আমরা সবাই চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। সবাই একটা জায়গায় ভালো জায়গায় আছি মোটামুটি। আলহামদুলিল্লাহ।
শুরুর দিনগুলোতে যদি তাকাই, নারায়ণগঞ্জের সন্তান হলেও ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু থেকেই খেলছেন সিলেটের হয়ে। সেখানেই রাখছেন ধারাবাহিকতার ছাপ। হান্নান সরকার, রাজিন সালেহদের চাওয়ায় ঢাকা বিভাগ ছেড়ে সিলেটে যোগ দেওয়াই কি টার্নিং পয়েন্ট মনে হয়?
অমিত: শুরুটা যেভাবে হয়েছে, ওরকম কিছু (সিলেটে খেলাই ভালো হবে কিনা) চিন্তা করিনি। তবে যখন আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম যে, সিলেটের হয়ে খেললে মানে রাজিন স্যারের সঙ্গে কাজ করে ভালো লাগছে, ভালো কাজ হচ্ছে তো তখন ওই দিকেই থাকলাম। আর সিলেট দলের পরিবেশটাও ভালো। তাই আর বের হওয়ার চিন্তা করিনি।
ক্রিকেটে হাতেখড়ির দিনগুলো সম্পর্কে যদি বলতেন...
অমিত: ছোটবেলায় আমার শুরুটা হয় বড় ভাইয়ের (আমানউল্লাহ) মাধ্যমে। উনিই আমাকে ওই পুরান ঢাকার আরমানিটোলার মাঠে নিয়ে যান প্র্যাকটিস করতে। সেখানে মাহি ভাই নামে একজন প্লেয়ার কাম কোচ ছিলেন, উনার কাছেই প্র্যাকটিস করতাম। সেখান থেকেই যাত্রাটা শুরু।
কোন পর্যায়ে গিয়ে মনে হলো যে, আপনি ক্রিকেটারই হবেন?
অমিত: আসলে নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না, কখন থেকে ক্রিকেটার হওয়ার ভাবনা এলো। ওভাবে চিন্তা করিনি কোনো সময়। সবসময় শুধু চিন্তা করেছি, যখন যেখানে খেলছি, সেটা উপভোগ করব। উপভোগ করতে করতেই আসলে এগিয়ে যাওয়া। এখনও চেষ্টা করি কীভাবে খেলাটা উপভোগ করে ভালো করা যায়।
ধন্যবাদ অমিত। আপনার জন্য শুভকামনা
অমিত: আপনাকেও ধন্যবাদ

আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রথমবারের মতো টেস্টে ডাক পেয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম ও অমিত হাসান। এছাড়া ২০২৪ সালের পর টেস্টে ফিরলেন তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টটি শুরু হবে আগামী ৮ মে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এরপর দুই দল চলে যাবে সিলেটে। যেখানে ১৬ মে থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। সিরিজের দুটি ম্যাচেই ২০২৫-২০২৭ আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের অংশ।
টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা তানজিদ হাসান তামিমের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বেশ উজ্জ্বল রেকর্ড রয়েছে। ২৫ বছর বয়সী এই বাঁহাতির ২৫ ম্যাচে ৪০ গড়ে তিনি করেছেন ১ হাজার ৭৯২ রান।
তামিমের সঙ্গে ডাক পাওয়া অমিতের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০১৯ সালে। ২৩ বছর বয়সী ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটার ৮২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে প্রায় ৪৯ গড়ে রান তুলেছেন।
এদিকে বোলিং আক্রমণে ফিরেছেন দুই পেসার তাসকিন ও শরিফুল। ২০২৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের পর এই প্রথম তাঁরা টেস্ট ফরম্যাটে ফিরলেন। এছাড়া প্রায় এক বছর পর টেস্ট দলে ফিরেছেন অফ-স্পিনার নাঈম হাসান। আর বাদ পড়েছেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ, হাসান মুরাদ, হাসান মাহমুদ ও জাকের আলি অনিক।
তামিমকে টেস্ট দলে সুযোগ দেওয়া নিয়ে জাতীয় নির্বাচক প্যানেলের চেয়ারম্যান কাজী হাবিবুল বাশার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ তুলে আনেন।
‘তানজিদ আমাদের টেস্ট পরিকল্পনার মধ্যেই ছিল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওর রেকর্ড খুব ভালো এবং আমাদের মনে হয়েছে টেস্টে নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগটা ওর প্রাপ্য। ওর টেকনিক বেশ পোক্ত এবং ওর মধ্যে জন্মগত প্রতিভা আছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, সুযোগ পেলে বড় ফরম্যাটেও ও ভালো পারফর্ম করতে পারবে।’
ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণের জন্য অমিত পুরোপুরি ‘উপযুক্ত’ বলছেন হাবিবুল বাশার।
‘অমিত (হাসান) দলে ডাক পেয়েছে কারণ ও আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অন্যতম ধারাবাহিক ব্যাটার। ওর টেম্পারামেন্ট বা মেজাজটা অন্য সবার চেয়ে আলাদা এবং আমরা বিশ্বাস করি টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ও একদম উপযুক্ত। এই ফরম্যাটে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা খুব জরুরি, যা ও দীর্ঘ সময় ধরে দেখিয়ে আসছে।’
আগামী ৩ মে ঢাকায় পা রাখবে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। এরপর কয়েকদিনের প্রস্তুতি শেষে ৮ মে থেকে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। পাঁচ দিনের এই লড়াই চলবে ১২ মে পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে খেলা শুরু হবে।
প্রথম টেস্ট শেষ করে ১৩ মে দুই দল চায়ের শহর সিলেটের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে। সেখানে দুই দিন অনুশীলনের সুযোগ পাবে খেলোয়াড়রা। এরপর ১৬ মে থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ২০ মে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরদিন অর্থাৎ ২১ মে ঢাকা ত্যাগ করবে পাকিস্তান দল।
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের স্কোয়াড :
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক সৌরভ, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, ইবাদত হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, তানজিদ হাসান তামিম, অমিত হাসান।
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। নতুন এই চুক্তিতে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পুরস্কারের পাশাপাশি ব্যর্থতার জন্য বেতন কাটার মতো কঠোর নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে।
এখন থেকে যেকোনো ফরম্যাটে সিরিজ হারলে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ বেতন কেটে নেওয়া হবে। বোর্ড মনে করছে, এই কঠোর সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের মাঠে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে।
এমনকি সিরিজ জয়ের বোনাসকেও কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। আগের নিয়মে র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর দল পর্যন্ত সিরিজ জয়ের বোনাস থাকলেও, এখন তা কমিয়ে শীর্ষ ৪-এ আনা হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে এক নম্বর দলের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে সিরিজ জিতলে পুরো দল পাবে ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। র্যাঙ্কিং অনুযায়ী দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দলের জন্য এই বোনাস যথাক্রমে ১ লাখ ৫ হাজার, ৭৫ হাজার এবং ৬০ হাজার ডলার।
নতুন চুক্তিতে দেশের মাটি এবং বিদেশের মাটিতে জয়ের বোনাসে বড় বৈষম্য রাখা হয়েছে। ওয়ানডে ফরম্যাটে বিদেশের মাটিতে এক নম্বর দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেওয়া হলেও, দেশের মাটিতে একই সাফল্যের জন্য দেওয়া হবে ৭৫ হাজার ডলার। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সব ভেন্যুতে বোনাসের পরিমাণ একই রাখা হয়েছে।
নেতৃত্বের অতিরিক্ত দায়িত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচে অধিনায়ক ১০০০ ডলার এবং টি-টোয়েন্টিতে ৫০০ ডলার বাড়তি সম্মানী পাবেন। এছাড়া আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠতে পারলে দলকে ২৫ হাজার ডলার এবং ২ থেকে ৫ নম্বরে থাকতে পারলে ২০ হাজার ডলার এককালীন বোনাস দেবে বোর্ড।
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্রিকেটারদের হাতে এই নতুন চুক্তিনামা তুলে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড।

ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টিতেও নিউ জিল্যান্ড দলে নেই মূল ক্রিকেটারদের বেশিরভাগ। আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততায় বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দ্বিতীয় সারির দল নিয়েই খেলবে কিউইরা।
তবে এটিকে তেমন সমস্যা মনে করেন না নিউ জিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তার মতে, ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিতে খেলার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে তার দলের ক্রিকেটারদের। সেই অভিজ্ঞতায় ভর করেই টি-টোয়েন্টিতে লড়াই করার আশা ল্যাথামের।
ফেব্রুয়ারি-মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা ইশ সোধি শুধু আছেন বাংলাদেশ সিরিজের দলে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে সোধি ছাড়া আছেন শুধু ল্যাথাম। বাঁহাতি এই ব্যাটারও গত তিন বছরে খেলেছেন শুধু ৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
তবে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেই ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ৭টি ছক্কা মেরে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। এছাড়া নিক কেলি, নাথান স্মিথরাও ওয়ানডে সিরিজে ছিলেন দারুণ ছন্দে। এর বাইরে কাটেন ক্লার্কের মতো রোমাঞ্চকর ব্যাটাররাও আছেন দলে।
আরও পড়ুন
| অধিনায়ক হিসেবে আমি অনেক স্বাধীন: লিটন |
|
তাদের ওপর ভরসা রাখছেন ল্যাথাম। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগের দিন নিজ দলের ক্রিকেটারদের ঘরোয়া অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন কিউই অধিনায়ক।
“আমার মনে হয় (টি-টোয়েন্টি দলটাও) অনেকটা ওয়ানডের মতোই। আমাদের দলের ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা হয়তো কম। তবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের অভিজ্ঞতা অনেক। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিজ্ঞতা কম হলেও, ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে তারা যে অভিজ্ঞতা পেয়েছে, সেটি কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।”
“সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তারা যে সুযোগ পেয়েছে, সেটি টি-টোয়েন্টিতে বয়ে আনতে পারলে দারুণ হবে। আমাদের দলের কয়েকজনের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। যেখানে তারা অনেক ভালো ক্রিকেটারদের মোকাবিলা করেছে, নামি আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে খেলেছে।”
ওয়ানডে সিরিজে প্রথম ম্যাচ জিতেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ হেরে গিয়েছিল নিউ জিল্যান্ড। এবার নতুন আশায় টি-টোয়েন্টির লড়াইয়ের অপেক্ষায় ল্যাথাম।
“আমার মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছেলেদের আছে। সবাই এই ফরম্যাটে খেলতে ভালোবাসে। এটি খুবই গতিময়, বিনোদনে ভরপুর ও আনন্দের ফরম্যাট। তো হ্যাঁ, এই সিরিজটি খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।”
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সন্ধ্যার বদলে দুপুর ২টায় শুরু হবে খেলা।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের ব্যাটিংয়ে বেশ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। গত বছর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে লিটন কুমার দাসের দল। সেই ধারা অব্যাহত রাখতে এবার স্পিনারদের কাছ থেকেও ব্যাটিংয়ে কিছু রানের চাহিদা জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দুপুর ২টায় মাঠে গড়াবে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এর আগে রোববার সকাল থেকে অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজ দলের দুর্বলতা জানাতে গিয়ে স্পিনারদের কাছ থেকে ব্যাটিংয়ের দাবি জানিয়ে রাখেন লিটন।
আরও পড়ুন
| অধিনায়ক হিসেবে আমি অনেক স্বাধীন: লিটন |
|
“দলের দুর্বলতার কথা যদি বলেন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তো আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হয়। তাই ২-১টা উইকেট দ্রুত পড়বেই। তাই আমাদের মূল চিন্তা হলো, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন- মানে যারা স্পিন বোলিং করে, তাদের কাছ থেকে যদি আমরা ব্যাটিংটা পাই... আর অলরাউন্ডাররা যদি ব্যাটিং দিতে পারে, তাহলে একটা ভালো ব্যাটিং অর্ডার তৈরি হবে।”
“বড় দলগুলোতে ৯ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং ডেপথ থাকে। আমরা যদি সেই ডেপথ তৈরি করতে পারি, তবে আমাদের ওপরের ব্যাটসম্যানরা আরও স্বাধীনভাবে নিজেদের খেলা খেলতে পারবে।”
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ বা সাম্প্রতিক সময়ে লেজের সারির ব্যাটারদের কাছ থেকে তেমন রান পায়নি বাংলাদেশ। তাদের কাছ থেকে খুব বেশি চাওয়া নেই অধিনায়ক লিটনেরও। ব্যাটার ও অলরাউন্ডাররা রান করলেই কাজ হয়ে যাবে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
“টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যে ৫ বোলার ধরছি, তাদের মধ্যে শরিফুল (ইসলাম) ও রিপন মন্ডল বাদে বাকিরা মোটামুটি ব্যাটিং পারে। (শরিফুল-রিপন) যদি ৫-৬ রান করে দিতে পারে, তাহলেই হবে। আমরা যে দল তৈরির চেষ্টা করছি, তারা যদি নিজেদের মতো পারফর্ম করতে পারে তবে এই সমস্যা থাকবে না।