
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বাজে পারফরম্যান্সের পর ক্রিকেটারদের জরিমানার শাস্তির খবর ছড়িয়ে পড়ে। টুর্নামেন্টে সুপার এইট থেকে বিদায় নেওয়া বাবর আজম-সালমান আগাদের ৫০ লাখ রুপি জরিমানা করার প্রকাশ করে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টিকে শুধুই গুজব বলে উড়িয়ে দিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ১৫ সদস্যের স্কোয়াডের প্রতিটি খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে। তবে পিসিবির মিডিয়া বিভাগের প্রধান আমির মীর এই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন,
‘পিসিবি কখনোই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। পুরো বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব। এ ধরনের জরিমানার কোনো নজির বা বিধান নেই।’
সালমান আলি আগার নেতৃত্বে পাকিস্তানের ভরাডুবিতে ব্যাপক সমালোচনার তৈরি হয়। টানা দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নক-আউট পর্বে যেতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট ৬টি ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার বিপক্ষে জিতলেও হেরে গিয়েছিল ভারতের কাছে।
সুপার এইটে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়। এরপর ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় দলটি। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারালেও ব্যবধান বড় রাখতে না পারায় সেমিফাইনালের আগেই বাদ পড়ে সালমান আগার দল। আগাদের সবচেয়ে বড় হতাশাজনক হার আসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে মাত্র ১১৪ রানে অল-আউট হয়ে ৬১ রানে হারে পাকিস্তান।
হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পিসিবির শাস্তির খবর ছড়িয়ে পড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পাকিস্তানের অনেক সাবেক ক্রিকেটার বিষয়টিকে বাড়াবাড়ি বলছিলেন। অনেকে আবার জরিমানার শাস্তিও যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন।
No posts available.
১৪ মার্চ ২০২৬, ৬:৫৩ পিএম
১৪ মার্চ ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম

২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ১৪ দলের বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে সামনে রেখে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব মিলিয়ে সেরা ৮-এর মধ্যে থাকায় ১০ দলের ২০১৯ এবং ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলেছে বাংলাদেশ দল।
১৪ দলের ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করবে ১০ দল। যার মধ্যে তিন যৌথ স্বাগতিকের মধ্যে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে সরাসরি কোয়ালিফাই করেছে। আইসিসির পূর্ণ সদস্য নয় বলে নামিবিয়াকে কোয়ালিফাইং রাউন্ডের বাধা পেরুতে হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে ছাড়া ৮ দেশ সরাসরি কোয়ালিফাই করবে। এই কোয়ালিফাইংয়ের জন্য আইসিসি বেধে দিয়েছে নিয়ম। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়েকে বাদ দিয়ে থাকতে হবে সেরা ৮-এ। প্রিয় ফরম্যাটের ক্রিকেটে এই চক্রটা মোটেও ভাল কাটছে না বাংলাদেশের। এই চক্রে চলমান সিরিজ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৮টি ওডিআই ম্যাচের মধ্যে হেরেছে ১২টিতে, জয় পেয়েছে সেখানে ৬টি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজ থেকে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে ৬টি সিরিজ, ১৮টি ম্যাচ। যার মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোমে হয়ে যাওয়া চলমান সিরিজের ২ ম্যাচের ফল ১-১।
বাংলাদেশ দল এখন ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে। যেহেতু ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান অবস্থান ৫ নম্বরে, সেহেতু ২০২৭ সালে অনুষ্ঠেয় আইসিসি বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাইয়ের জন্য বাংলাদেশের অবস্থান আপাতত ৯ নম্বরে ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ২০১৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ঠিক উপরে এখন ৯ নম্বরে অবস্থান করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড সেখানে আছে ৮ নম্বরে। বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ঠিক এক ধাপ উপরে থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট বাংলাদেশের সমান, ৭৭। পাকিস্তানের কাছে সিরিজের শেষ ম্যাচ জিতে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ উঠে আসবে ৯-এ। হেরে গেলে অবস্থান অপরিবর্তিত (১০ নম্বর) থাকবে।
আইসিসির চলমান ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে অবশিষ্ট আছে যে ৫টি ওডিআই সিরিজ, ওই ৫টির মধ্যে ২টিতে হোমে খেলবে বাংলাদেশ, অন্য ৩টি অ্যাওয়ে। হোমে আগামী মাসে (এপ্রিল) নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওডিআই সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। মে মাসে হোমে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবতীর্ণ হবে বাংলাদেশ দল। ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে ২-এ থাকা নিউ জিল্যান্ড এবং ৩ নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজ দুটি গুরুত্বপূর্ণ। পরের তিনটি সিরিজের দুটিতে বাংলাদেশ খেলবে র্যাঙ্কিংয়ে নীচে থাকা প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে (১১ নম্বর) এবং আয়ারল্যান্ডের (১৩ নম্বর) বিপক্ষে। এ বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ আইসিসির নির্ধারিত কাট অফ ডেটে বাংলাদেশের সর্বশেষ পরীক্ষা।
২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়ে চোখে সরষের ফুল দেখেছে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কোয়ালিফাইং রাউন্ডের বাধাও টপকাতে পারেনি ক্রিকেট ঐতিহ্যের এই দেশটি। সে কারণেই আইসিসির চলমান চক্রের অবশিষ্ট ১৬টি ওডিআই ম্যাচ বাংলাদেশের সামনে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। র্যাঙ্কিংয়ে উপরের সারির দলকে হারাতে পারলে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হবে। এই সমীকরণটা যখন সামনে এসেছে, তখন হোমে ৭টি ম্যাচকে একটু বেশিই টার্গেট করতে হবে বাংলাদেশ দলকে। সবার আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে রোববার সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় তাই অতি প্রয়োজনীয়।

সালমান আগার রান আউট নিয়ে বেশ সরব হয়ে উঠেছে ক্রিকেটাঙ্গন। এমনকি শুধু ক্রিকেটই নয় পাকিস্তানি ব্যাটারের বিতর্কিত এই রান আউট হইচই ফেলে দিয়েছে ক্রিকেটের বাইরের দুনিয়াতেও।
সামাজিক মাধ্যমে ক্রিকেট সমর্থকরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগার রান আউটের আলোচিত এই ঘটনা নিয়ে একটা পক্ষ আবার রসিকতা করার সুযোগও হাতছাড়া করছেন না। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি পুলিশ আবার এককাঠি সরেস।
সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে, পিন্ডি পুলিশ ম্যাচের একটি মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে বলেছে,
‘রাস্তা হোক বা খেলার মাঠ, নিরাপদ থাকতে হলে অন্যের ওপর কম, নিজের ওপর বেশি ভরসা করুন! আপনার নিজ দায়িত্ব এবং সতর্ক আচরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ম্যাচের ৩৯তম ওভারে মিরাজের বলটি সামনে খেলেন স্ট্রাইকের ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান। বল আসে মিরাজের দিকে, তিনি সেটি পা দিয়ে আটকান। এ সময় নন-স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান সালমান একটু এগিয়ে তাঁর ক্রিজের বাইরে চলে যান। বলটি মিরাজ ও সালমানের পায়ের কাছেই ছিল। সালমান বলটি মিরাজের হাতে দিতে একটু ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু সালমান বল ধরার আগেই মিরাজ খুব দ্রুত বল নিয়ে স্টাম্পে মারেন এবং রানআউটের আবেদন করেন। সালমান ক্রিজের বাইরে থাকায় তৃতীয় আম্পায়ার তাঁকে আউট ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সালমান গ্লাভস-হেলমেট ছুড়ে ফেলে মাঠেই ক্ষোভ ঝাড়েন। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ অধিনায়কের খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা নিয়েও। যদিও বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে সালমান ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়মানুযায়ী তিনি রানআউট।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, শুধু অন্যের ওপর ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, তা কেবল খেলা নয়, দৈনন্দিন জীবনেও জরুরি। এই বার্তা ড্রাইভিং লেসনের মতোই—ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, চারপাশে সচেতন থাকুন এবং নিজের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন। পুলিশ জানাচ্ছে, এই মনোভাব আপনাকে এবং অন্যকে নিরাপদ রাখে।
বিতর্কিত ওই রানআউটের পর প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে শাস্তিও পান পাকিস্তানের ব্যাটার সালমান আগা। গ্লাভস ও হেলমেট মাটিতে ছুড়ে মারায় পাকিস্তানি ব্যাটারকে তিরস্কার ও একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে।

চুক্তিবদ্ধ থাকার পরও শেষ
মুহূর্তে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) থেকে সরে দাঁড়ান জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং
মুজারাবানি। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএলে) খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে পিএসএল থেকে সরে
দাঁড়ান তিনি। কলকাতা নাইটরাইডার্স দলে ভিড়িয়েছে তাঁকে। অঙ্গীকার ঠিক না রাখায় মুজারাবানির
বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পিএসএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের
হয়ে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ ছিলেন মুজারাবানি। প্রতিদ্বন্দ্বী একটি লিগে খেলতে গিয়ে
বাধ্যতামূলক চুক্তি ভেঙে দেওয়ায় বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি পিসিবি। বোর্ডের কর্মকর্তারা
মনে করছেন, এটি চুক্তি লঙ্ঘন। মুজারাবানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা
করা হচ্ছে।
গত দুই বছরে পিএসএল ছেড়ে
আইপিএল খেলার সুযোগ নিয়েছেন—এটি দ্বিতীয় ঘটনা। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার করবিন
বশও একইভাবে পাকিস্তানের পেশোয়ার জালমির সঙ্গে চুক্তি থাকার পরও ভারতের লিগে মুম্বাই
ইন্ডিয়ানসে যোগ দেন। পরে চুক্তি ভঙ্গের দায়ে তাঁকে এক বছরের জন্য পাকিস্তানের লিগে
নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে মুজারাবানির ক্ষেত্রে
পাকিস্তান বোর্ড আরও কঠোর শাস্তির বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। এর আগে তিন মৌসুম
পাকিস্তানের লিগে খেলেছেন মুজারাবানি। ২১টি উইকেট রয়েছে তাঁর নামের পাশে। যদিও আইপিএলে
এখনো কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি তাঁর। তবে ২০২৫ আইপিএলে বেঙ্গালুরু দলের সদস্য ছিলেন।
এবার কলকাতা নাইট রাইডার্স
মুজারাবানিকে দলে নিয়েছে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের বদলি হিসেবে। ভারতীয়
ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেষে মোস্তাফিজকে দল থেকে ছাড়তে বাধ্য হয় কলকাতা।
আগামী ২৯ মার্চ ওয়াংখেড়ে
স্টেডিয়ামে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের
এবারের অভিযান। আর নিজেদের মাঠ ইডেন গার্ডেনে তাদের প্রথম ম্যাচ ২ এপ্রিল, প্রতিপক্ষ
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

শুক্রবার মিরপুরে বাংলাদেশের
বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে রান আউটের পর গ্লাভস ও হেলমেট মাটিতে ছুড়ে প্রতিক্রিয়া
দেখান সালমান আগা। এ ঘটনায় পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানকে তিরস্কার ও একটি ডিমেরিট পয়েন্ট
দেওয়া হয়েছে। দুই বছরে এটিই তাঁর প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট।
ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশীদের
আরোপ করা ‘অ্যাবিউজিং অব ক্রিকেট ইকুইপমেন্ট’ অভিযোগ সালমান মেনে নেওয়ায় এ নিয়ে আর শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
পাকিস্তান ইনিংসের ৩৯তম
ওভারে মিরাজের বল স্ট্রেইট ড্রাইভ করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ক্রিজে থাকা অবস্থায় বল পা
দিয়ে থামান মিরাজ। একই সময়ে সালমান-মিরাজ দুজনই বলের দিকে হাত বাড়ালেও মিরাজই বলটি
আগে তুলে নেন, এরপর থ্রো করে ভেঙে দেন স্টাম্প। তৃতীয় আম্পায়ার সালমানকে রানআউট ঘোষণা
করেন।
রান আউটের ঘটনায় অতিবিরক্ত
হতে দেখা যায় সালমানকে। তৃতীয় আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত জানানোর আগেই মাঠের ভেতর হেলমেট
ও গ্লাভস মাটিতে ছুড়ে মারেন সালমান।
ঘটনার পর ক্রিকেটবিশ্বে 'স্পিরিট
অফ ক্রিকেট' নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। পক্ষে বিপক্ষে কথা বলছেন বিশ্লেষকরা।
স্বয়ং বাংলাদেশ দলের পাকিস্তানি স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদও সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন,
‘আমার মনে হয় না মিরাজ কোনো ভুল করেছে।’
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন দাস অবশ্য বলেছেন,
‘প্রথমত, এখানে কেউ চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি। এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নিয়মে আছে আউট, এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ নষ্ট হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। যে যার ব্যক্তিগত মতামত দিতে পারে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে আউট।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়
ওয়ানডেতে ফিল্ডিংয়ের সময় বাঁ-কাঁধে গুরুতর চোট পেয়েছেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার হুসাইন
তালাত। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই চোট থেকে সেরে উঠতে তাঁর প্রায় ১২ থেকে ১৪ সপ্তাহ
সময় লাগতে পারে।
ম্যাচ চলাকালীন ফিল্ডিংয়ের
সময় তালাতের বাঁ কাঁধের সংযোগ নড়ে গেছে যায়। ঘটনার পরপরই মাঠেই তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা
দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের
তত্ত্বাবধানে তালাদের ওপর একটি সফল চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়, যার মাধ্যমে কাঁধের
স্থানচ্যুত জোড়াটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাঁর শারীরিক
অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। পরে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী
কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন তালাত। তারপর তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে জাতীয় ক্রিকেট
একাডেমিতে যোগ দেবেন।
পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন
ও অনুশীলনের মাধ্যমে তালাতকে আবার প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় তিন মাসের মধ্যেই মাঠে ফিরতে পারেন এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার।