
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে ব্যাট-বলের লড়াইয়ের পাশাপাশি কথার লড়াই জমেছে বেশ। উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটার লিটন দাস ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান। চতুর্থ দিনে রিজওয়ানকে ঘিরে মাঠের পরিস্থিতি কিছুটা ঘোলাটে হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রিজওয়ানের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে মাতেন লিটন। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও।
সালমান আলী আগার সঙ্গে ব্যাটিংয়ের সময় প্রায় প্রতি বলের আগেই খেলা থামিয়ে কিছু না কিছু আপত্তি তুলছিলেন রিজওয়ান। কখনও সাইট স্ক্রিন, কখনওবা অন্য কোনো বিষয়ে আম্পায়ারকে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন তিনি। এতে বিরক্ত হয়ে একপর্যায়ে লিটন বলে ওঠেন, ‘বারবার খেলা থামিয়ে দিচ্ছো কেন?’ জবাবে রিজওয়ানও বলেন, ‘এটা কী তোমার কাজ! এটা তো আম্পায়ারের কাজ।’
তর্কাতকির পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে থাকে। পালাক্রমে বাড়তে থাকে কথার যুদ্ধ। এক পর্যায়ে উইকেটের পেছন থেকে লিটনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রান করে ফেলেছে, এবার শুরু হবে অভিনয়। ভালোই অভিনয় করছে সে। এসব সবাই জানে এখন!’ আবার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত একই ভাষায় বলেন, ‘অতিরিক্ত অভিনয়ের জন্য ৫০ পয়সা কাটা হবে!’
ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইটকে। মাঠে লিটন-রিজওয়ানের কথোপকথনের অর্থ বুঝতে পারেননি তিনি।
তিনি বলেন,
“কী বলাবলি হচ্ছিল, জানি না। কিন্তু আমি এটা উপভোগ করেছি। মানে… আমি তো অস্ট্রেলিয়ান, তাই না? এতেই হয়তো সবটা বোঝা যায়। আমরা এসব পছন্দ করি। আমার মনে হয়, কিছুটা তর্কাতর্কি থাকা দরকার আছে। সবসময় অবশ্যই নয়। সীমা অতিক্রম করা কাম্য নয়। সীমা না ছাড়ানো এবং এই ধরনের ব্যাপার নিয়ে আমরা কথা বলি। কিন্তু কিছুটা আগ্রাসন তো থাকতেই হবে।”
টেইট আরও যোগ করেন,
“এটা তো টেস্ট ম্যাচ…পাকিস্তান-বাংলাদেশ লড়াই। আমার মনে হয়, ভক্তদের জন্য, আমাদের সবার জন্যই, খেলায় খেলোয়াড়রা কিছুটা প্যাশন দেখাতে চায় এবং লড়াইয়ের মধ্যে চায় পরস্পরকে আউট করতে। সবাই চায় লড়াইয়ে টিকে থাকতে। আমার তো এসব ভালো লাগে।”
No posts available.
চতুর্থ দিন শেষে রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে সিলেট টেস্ট। পঞ্চম দিনে টেনে নেওয়া টেস্টে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার মাত্র ৩টি উইকেট। তাহলেই দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্টে হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা দেওয়ার উৎসব করবে বাংলাদেশ দল। অন্যদিকে আর ১২২ রান যোগ করতে পারলে বিশ্বরেকর্ড করে টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা আনবে পাকিস্তান।
পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৭ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে নির্ভার থাকারই কথা বাংলাদেশ দলের। জিততে হলে বিশ্বরেকর্ড করতে হবে পাকিস্তানকে। অ্যান্টিগায় ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮ রান তাড়া করে টেস্ট জয়ের যে রেকর্ড গড়েছে ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সেই রেকর্ড নিয়ে এখনও হচ্ছে বিস্তর গবেষণা। কারণ, টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের কৃতি নেই অন্য কোনো দলের। পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসে ৪র্থ ইনিংসে ৪শ রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৯৫ রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জয়-ই তাদের চতুর্থ ইনিংসে সেরা সফলতা। চলমান সিলেট টেস্টে সেই পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ দিয়েছে ৪৩৭ রানের মহাচ্যালেঞ্জ।
২১ মাস আগে পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের পর হোমে ফিরতি সিরিজে হোয়াইট ওয়াশে পাকিস্তানকে চোখ রাঙাচ্ছে বাংলাদেশ দল। নাহিদ রানা (২/৫৮), তাইজুল (৪/১১৩) এবং মিরাজের (১/৬২)বোলিংয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের স্কোর ৩১৬/৭। রিজওয়ান ৭৫ এবং সাজিদ খান ৮ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন।
টেস্টের চতুর্থ দিনেও সিলেট স্টেডিয়ামের পিচে ফাটল ধরেনি। প্রথম দিনের মতোই বল পিচ করে স্বাভাবিক বাউন্স নিয়ে আসছে ব্যাটে। এমন একটা দিনে ৭টি উইকেট আদায় করতে যথেষ্ট কৌশলী হতে হয়েছে।
দিনের প্রথম সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ১০২, দ্বিতীয় সেশনে ৩ উইকেট হারিয়ে ৯৯ এবং শেষ সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ১১৬ রান যোগ করেছে পাকিস্তান।
৪৩৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে পাকিস্তান হারিয়েছে ২ উইকেট। প্রথম ঘন্টায় ব্রেক থ্রু দিয়েছেন নাহিদ রানা। তাঁর দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলটি ছিল আউটসাইড অফ শর্ট ডেলিভারি। সেই বলে ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল (২৮ বলে ৬) স্টিয়ার করতে যেয়ে গালিতে মিরাজের হাতে বন্দি হয়েছেন। মিরাজ দারুণ তৎপরতায় লো ক্যাচ নিয়েছেন।
দিনের দ্বিতীয় ঘন্টায় উইকেট পেয়েছেন মিরাজ। মিরাজও উইকেট পেয়েছেন নিজের দ্বিতীয় ওভারে। মিরাজের আর্ম বলে ওপেনার আজান আইওয়াস (৪৯ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২১)এক হাতে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে যেয়ে পরাস্ত, হয়েছেন এলবিপ্ব্লুউ। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে লেগ স্ট্যাম্পে সম্ভাব্য আঘাত ধরা পড়েছে।
দিনের দ্বিতীয় সেশনে পড়েছে পাকিস্তানের ৩ উইকেট। যোগ করতে পেরেছে পাকিস্তান ৯৯ রান। লাঞ্চের পর প্রথম বলে তাইজুলকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কায় বাহাদুরি দেখিয়ে নিজের বিপদ ডেকে এনেছেন বাবর আজম। সেই তাইজুলের ডাউন দ্য লেগ ডেলিভারি খেলতে যেয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন বাবর (৫২ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ৪৭)ক্যাচ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১১৫ বলে ৯২ রানের পার্টনারশিপ ভেঙ্গে যাওয়ার পর ব্যাকফুটে নেমেছে পাকিস্তান। দিনের দ্বিতীয় ড্রিংকসের পরের ২ ওভারে নাহিদ রানার বাউন্সি ডেলিভারিতে সৌদ শাকিল কট বিহাইন্ড (২১ বলে ৬), তাইজুলকে অন সাইডে খেলতে যেয়ে শর্ট লেগে দিয়েছেন ক্যাচ শান মাসুদ (১১৬ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৭১)।
৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে রিজওয়ান-সালমান আগা উইকেটে পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের পার্টনারশিপ চোখ রাঙিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। তবে দিনের খেলা শেষ হওয়ার ২৫ মিনিট আগে বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুলের টার্নিং ডেলিভারিতে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে যেয়ে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে সালমান আগা বোল্ড আউটে থেমে গেলে (১০২ বলে ৬ চার, ১ ছক্কায় ৭১) ১৩৪ রানে পার্টনারশিপটি বিচ্ছিন্ন হয়। তাইজুল পরের ওভারে হাসান আলীকে ফিরিয়েছেন। ফ্রন্ট ফুটে ডিফেন্স করতে যেয়ে হাসান আলী স্লিপে দিয়েছেন ক্যাচ (৬ বলে ০)। সারাদিনে ৭টি উইকেটের ৪টি (৩১-৩-১১৩-৪) পেয়েছেন তাইজুল। শেষ স্পেলটি (১০-২-৩৩-২) ছিল তার দারুণ। একটি উইকেট পেলে টেস্টে ১৮তম বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের মুখ দেখবেন তাইজুল। পেসার নাহিদ রানা পেয়েছেন এদিন ২ উইকেট (১৪-২-৫৮-২)। অন্যটি পেয়েছেন মিরাজ (২০-১-৬২-১)।

ভারতে বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল) আয়োজনের আলোচনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এবার জানা গেল কবে-কোথায় হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার এই টি-টোয়েন্টি লিগ। দেশটির সংবাদমাধ্যম সেন নেটওয়ার্কের প্রতিবেদন, ২০২৬-২৭ মৌসুমের বিগ ব্যাশের উদ্বোধনী ম্যাচটি এই বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে হতে পারে।
ভারতের ক্রিকেট বাজার ধরতে এই পরিকল্পনা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। সম্প্রতি দেশটির একটি প্রতিনিধি দল চেন্নাই সুপার কিংসের মাঠ পরিদর্শন করেন। সেখানে আইপিএলে চেন্নাই ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখেন। সেই সময় বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাস ও তামিলনাডু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক প্রতিনিধি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চেন্নাইয়ের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখছি। চূড়ান্ত কিছু নিশ্চিত না হলেও আমরা বিসিসিআইয়ের সঙ্গে এটি নিয়ে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।‘
বিগ ব্যাশের দলগুলো এই উদ্যোগে বেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ব্রিসবেন হিটের প্রধান নির্বাহী টেরি সোয়েনসন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং আমরা এই উদ্যোগকে পুরোপুরি সমর্থন করি। মাঠের বাইরে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে ব্রিসবেন হিটের দারুণ সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। তাই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার অপেক্ষায় আছি।‘
ব্রিসবেন হিট ছাড়াও মেলবোর্ন রেনেগেডস, মেলবোর্ন স্টার্স ও সিডনি থান্ডারের মতো দলগুলো চেন্নাইয়ে খেলার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিগ ব্যাশের ১৬তম মৌসুমের চূড়ান্ত সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বরের মাঝামাছি এই টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত চলে।
বিগ ব্যাশের ১৫তম মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন পার্থ স্কোর্চার্স। নিয়ম অনুযায়ী পরের মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেই হিসেবে ভারতে উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেওয়া দুটি দলের একটি হিসেবে প্রায় নিশ্চিত পার্থ স্কোর্চার্স।
তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে সিডনি থান্ডার ও মেলবোর্ন রেনেগেডসের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে ভারতে বিগ ব্যাশের সূচি তৈরিতে জটিলতাও দেখা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কোনো শহর থেকে সরাসরি চেন্নাইয়ের বিমান নেই। মেলবোর্ন থেকে দিল্লি ও সিডনি থেকে বেঙ্গালুরুর সরাসরি বিমান রয়েছে। সেটাতে সময় লাগবে ১১-১২ ঘণ্টা।
বিমানের সময় ঠিক করার সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম। অস্ট্রেলিয়া থেকে যদি বিমান সরাসরি চেন্নাইয়ে আসে তা হলে সময় লাগবে ১৩ ঘণ্টা। খেলোয়াড়দের ভ্রমণ ঝক্কি ও বিশ্রামের কথা মাথায় রেখে সূচি ঠিক করতে হবে।
পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৭ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তাই নির্ভার থাকারই কথা বাংলাদেশ দলের। জিততে হলে বিশ্বরেকর্ড করতে হবে পাকিস্তানকে। অ্যান্টিগায় ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮ রান তাড়া করে টেস্ট জয়ের যে রেকর্ড গড়েছে ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সেই রেকর্ড নিয়ে এখনও হচ্ছে বিস্তর গবেষণা। কারণ, টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের কৃতি নেই অন্য কোনো দলের। পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসে ৪র্থ ইনিংসে ৪শ রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৯৫ রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জয়-ই তাদের চতুর্থ ইনিংসে সেরা সফলতা। চলমান সিলেট টেস্টে সেই পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ দিয়েছে ৪৩৭ রানের মহাচ্যালেঞ্জ।
সিলেটে চতুর্থ ইনিংসে ১৭৪-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই কারো। গত বছরের এপ্রিলে এই রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জয়ের রেকর্ডটা জিম্বাবুয়ের। আড়াই বছর আগে সিলেটে ৪র্থ ইনিংসে ৩৩২ রান তাড়া করে বাংলাদেশের কাছে ১৫০ রানে নিউ জিল্যান্ডের হারের সেই অতীত থেকে টনিক নিতে পারে শান্ত এন্ড কোং।
২১ মাস আগে পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের পর হোমে ফিরতি সিরিজে হোয়াইট ওয়াশে পাকিস্তানকে চোখ রাঙাচ্ছে বাংলাদেশ দল। নাহিদ রানা (২/৪৩), তাইজুল (২/৬২) এবং মিরাজের (১/৪১)বোলিংয়ে চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে পাকিস্তানের স্কোর ২০০/৫। পাকিস্তানকে করতে হবে আরও ২৩৮ রান।
৪৩৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে পাকিস্তান হারিয়েছে ২ উইকেট। প্রথম ঘন্টায় ব্রেক থ্রু দিয়েছেন নাহিদ রানা। তাঁর দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলটি ছিল আউটসাইড অফ শর্ট ডেলিভারি। সেই বলে ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল (২৮ বলে ৬) স্টিয়ার করতে যেয়ে গালিতে মিরাজের হাতে বন্দি হয়েছেন। মিরাজ দারুণ তৎপরতায় লো ক্যাচ নিয়েছেন।
দিনের দ্বিতীয় ঘন্টায় উইকেট পেয়েছেন মিরাজ। মিরাজও উইকেট পেয়েছেন নিজের দ্বিতীয় ওভারে। মিরাজের আর্ম বলে ওপেনার আজান আইওয়াস (৪৯ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২১)এক হাতে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে যেয়ে পরাস্ত, হয়েছেন এলবিপ্ব্লুউ। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে লেগ স্ট্যাম্পে সম্ভাব্য আঘাত ধরা পড়েছে।
দিনের দ্বিতীয় সেশনে পড়েছে পাকিস্তানের ৩ উইকেট। যোগ করতে পেরেছে পাকিস্তান ৯৯ রান। লাঞ্চের পর প্রথম বলে তাইজুলকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কায় বাহাদুরি দেখিয়ে নিজের বিপদ ডেকে এনেছেন বাবর আজম। সেই তাইজুলের ডাউন দ্য লেগ ডেলিভারি খেলতে যেয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন বাবর (৫২ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ৪৭)ক্যাচ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১১৫ বলে ৯২ রানের পার্টনারশিপ ভেঙ্গে যাওয়ার পর ব্যাকফুটে নেমেছে পাকিস্তান। দিনের দ্বিতীয় ড্রিংকসের পরের ২ ওভারে নাহিদ রানার বাউন্সি ডেলিভারিতে সৌদ শাকিল কট বিহাইন্ড (২১ বলে ৬), তাইজুলকে অন সাইডে খেলতে যেয়ে শর্ট লেগে দিয়েছেন ক্যাচ শান মাসুদ (১১৬ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৭১)।
অ্যান্টিগায় ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮ রান তাড়া করে টেস্ট জয়ের যে রেকর্ড গড়েছে ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সেই রেকর্ড নিয়ে এখনও হচ্ছে বিস্তর গবেষণা। কারণ, টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের কৃতি নেই অন্য কোনো দলের।
পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৭ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তাই নির্ভার থাকারই কথা বাংলাদেশ দলের। জিততে হলে বিশ্বরেকর্ড করতে হবে পাকিস্তানকে। পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসে ৪র্থ ইনিংসে ৪শ রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৯৫ রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জয়-ই তাদের চতুর্থ ইনিংসে সেরা সফলতা। চলমান সিলেট টেস্টে সেই পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ দিয়েছে ৪৩৭ রানের মহাচ্যালেঞ্জ।
সিলেটে চতুর্থ ইনিংসে ১৭৪-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই কারো। গত বছরের এপ্রিলে এই রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জয়ের রেকর্ডটা জিম্বাবুয়ের। আড়াই বছর আগে সিলেটে ৪র্থ ইনিংসে ৩৩২ রান তাড়া করে বাংলাদেশের কাছে ১৫০ রানে নিউ জিল্যান্ডের হারের সেই অতীত থেকে টনিক নিতে পারে শান্ত এন্ড কোং।
২১ মাস আগে পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের পর হোমে ফিরতি সিরিজে হোয়াইট ওয়াশে পাকিস্তানকে চোখ রাঙাচ্ছে বাংলাদেশ দল। চতুর্থ দিনের প্রথম সেশন শেষে পাকিস্তানের স্কোর ১০১/২। বাবর আজম ২৪ এবং শান মাসুদ ৪১ রানে ব্যাটিংয়ে। ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিংয়ে এই জুটি ইতোমধ্যে ৬০ বলে ৬- রান যোগ করেছে। জয় থেকে বাংলাদেশ ৮ উইকেট দূরে। পাকিস্তানকে করতে হবে আরও ৩৩৬ রান।
৪৩৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে পাকিস্তান হারিয়েছে ২ উইকেট। প্রথম ঘন্টায় ব্রেক থ্রু দিয়েছেন নাহিদ রানা। তাঁর দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলটি ছিল আউটসাইড অফ শর্ট ডেলিভারি। সেই বলে ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল (২৮ বলে ৬) স্টিয়ার করতে যেয়ে গালিতে মিরাজের হাতে বন্দি হয়েছেন। মিরাজ দারুণ তৎপরতায় লো ক্যাচ নিয়েছেন।
দিনের দ্বিতীয় ঘন্টায় উইকেট পেয়েছেন মিরাজ। মিরাজও উইকেট পেয়েছেন নিজের দ্বিতীয় ওভারে। মিরাজের আর্ম বলে ওপেনার আজান আইওয়াস (৪৯ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২১)এক হাতে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে যেয়ে পরাস্ত, হয়েছেন এলবিপ্ব্লুউ। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে লেগ স্ট্যাম্পে সম্ভাব্য আঘাত ধরা পড়েছে।

টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংস ৪১৮-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। সিলেট টেস্ট জিততে হলে অ্যান্টিগায় ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড করতে হবে পাকিস্তানকে। পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসে ৪র্থ ইনিংসে ৪শ রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৯৫ রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জয়-ই তাদের চতুর্থ ইনিংসে সেরা সফলতা। চলমান সিলেট টেস্টে সেই পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ দিয়েছে ৪৩৭ রানের মহাচ্যালেঞ্জ।
সিলেটে চতুর্থ ইনিংসে ১৭৪-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই কারো। গত বছরের এপ্রিলে এই রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জয়ের রেকর্ডটা জিম্বাবুয়ের। আড়াই বছর আগে সিলেটে ৪র্থ ইনিংসে ৩৩২ রান তাড়া করে বাংলাদেশের কাছে ১৫০ রানে নিউ জিল্যান্ডের হারের সেই অতীত থেকে টনিক নিতে পারে শান্ত এন্ড কোং।
২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সফরে স্বাগতিকদের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের অতীত সুখস্মৃতিই ফিরতি টেস্ট সিরিজে বুক চিতিয়ে বাংলাদেশকে খেলতে অনুপ্রাণিত করছে। মিরপুর টেস্টে জয়ের রেশটাই সিলেটে স্মরনীয় প্রাপ্তির জন্য উদ্বুদ্ধ করছে শান্ত'র দলকে। এই প্রথম হোমে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ দল।
১১০/৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করতে এসে বাংলাদেশ তৃতীয় ইনিংস শেষ করেছে ৩৯০/১০-এ। দ্বিতীয় দিন ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দল যোগ করেছে ২৮০রান। তা সম্ভব হয়েছে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি ১৩৭, লিটনের ফিফটি (৬৯), চতুর্থ উইকেট জুটিতে মুশফিক-লিটনের ১৮৮ বলে ১২৩ রান এবং ৭ম উইকেট জুটিতে মুশফিক-তাইজুলের ১২৮ বলে ৭৭ রানে।
সিলেটে তৃতীয় দিনের পিচটা ছিল ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। সবুজ পিচে বল পেয়েছে প্রত্যাশিত বাউন্স। ফলে পাকিস্তান বোলারদের বোলিং খেলতে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়নি বাংলাদেশ মিডল অর্ডারদের।
এদিন প্রথম সেশনে ১ উইকেট হারিয়ে ৯৭, দ্বিতীয় সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ১০৪ এবং শেষ সেশনে ৪ উইকেট হারিয়ে ৮৩ রান যোগ করেছে বাংলাদেশ দল।
তৃতীয় দিনের প্রথম ঘন্টা নির্বিঘ্নে পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের দুই মিডিয়াম পেসার খুররম শেহজাদ এবং মুহাম্মদ আব্বাসের ছোট-ছোট সুইং ডেলিভারি খেলতে সতর্ক থাকতে হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাটারদের। এই ঘন্টায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে হারিয়ে বাংলাদেশ যোগ করেছে ৪০ রান।
দিনের দশম ওভারে খুররম শেহজাদকে ক্রস খেলতে যেয়ে এলবিডাব্লুউতে কাটা পড়েছেন শান্ত (৪৬ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১৫)। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে লেগ স্ট্যাম্পে হিটের ধরা পড়েছে।
১ বল পর লিটন বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন। খুররম শেহজাদের বলে স্লিপে ক্যাচ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন লিটন। ০ রানের মাথায় বেঁচে যাওয়া লিটন খেলছেন লিটনের মতো।
তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় ঘন্টাটা অবশ্য ভালই কাটিয়েছে বাংলাদেশ। এই ঘন্টায় উইকেটহীন ৫৩ রান যোগ করেছে শান্ত'র দল।
লাঞ্চ ব্রেকের সময় ৪৮ রানে ব্যাটিংয়ে থাকা লিটন দাস লাঞ্চ ব্রেকের পর ৫৪তম টেস্টে ২০তম ফিফটি উদযাপন করেছেন। তবে ফিফটির পর ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। পেসার হাসান আলীর আউটসাইড অফ পিচিং ডেলিভারিতে স্ল্যাশ করতে যেয়ে বাউন্ডারি রোপের কাছে ক্যাচে থেমেছেন লিটন (৯২ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৬৯ রান)। ৫ম উইকেট জুটিতে মুশফিককে নিয়ে ১৮৮ বলে ১২৩ রানে রেখেছেন লিটন অবদান।
লিটন ফিরে যাওয়ার পর মুশফিকুর রহিমকে খুব বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি মিরাজ। খুররমের শর্ট অব লেন্থের বল লেগ সাইডে ঘোরাতে যেয়ে বোল্ড আউটে থেমেছেন তিনি (৩৯ বলে ১৯)।
বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন শততম টেস্ট। সেঞ্চুরি টেস্টে বিশ্বের ১১তম ব্যাটার হিসেবে উদযাপন করেছেন সেঞ্চুরি। ৬ মাস আগে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সেই কৃতি গড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে টেস্টে সর্বাধিক সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুলের সেঞ্চুরির সংখ্যাকে (১৩) ছুঁয়েছেন। সোমবার সিলেটে টি ব্রেকের পর মুহাম্মদ আব্বাসকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে মুমিনুলকে টপকে বাংলাদেশের সর্বাধিক টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান (১৪টি) এখন তিনি।
সিলেটে তিন অঙ্কে পৌছে যাওয়ার সংকল্প ছিল মুশফিকুর রহিমের। তৃতীয় দিনে একবারও ভুল করেননি। ১০৩ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৩০তম টেস্ট ফিফটির পর সেঞ্চুরির লক্ষ্যে ব্যাট করেছেন। পরবর্তী ফিফটির জন্য খেলেছেন তিনি ৭৫টি বল। মেরেছেন এই সময়ে ৬টি বাউন্ডারি। খুররম শেহজাদকে এক ওভারে ২টি বাউন্ডারি মেরে ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে মনযোগী মুশফিক ৯০-এর ঘরে বেশিক্ষণ আটকে থাকেননি। শেষ ১০ রানে খেলেছেন তিনি ২৩টি বল। ৯০-এর ফরে অফ স্পিনার সাজিদ খানকে ডাউন দ্য উইকেটে মেরেছেন বাউন্ডারি। ৯৯ থেকে সেঞ্চুরিতে পৌছুঁতে বেছে নিয়েছেন বাউন্ডারি শট।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের এটি ১০ম টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালের আগস্টে রাওয়ালপিণ্ডি টেস্টে ম্যাচ উইনিং ১৯১ রানের ইনিংসের পর এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২ টেস্ট বিরতি দিয়ে করেছেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি উদযাপন। উদযাপনের অভিব্যক্তি সেই নিজস্ব স্টাইল। হেলমেট খুলে পিচের উপর সেজদা দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সন্তুষ্টি প্রকাশের মাধ্যমে করেছেন ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন।
সেঞ্চুরির পর দ্রুতগতিতে রান তোলার চেষ্টা করেছেন মুশফিক। তবে বাংলাদেশের লিড যখন ৪৩৬ রান, তখন সাজিদ খানকে এক হাতে ডাউন দ্য উইকেটে শট নিতে যেয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন মুশফিক (২৩৩ বলে ১২ চার,১ ছক্কায় ১৩৭)।
তৃতীয় ইনিংসে পাকিস্তান বোলারদের মধ্যে মিডিয়াম পেসার খুররম শেহজাদ সবচেয়ে সফল (২০-৩-৮৬-৪)। অফ স্পিনার সাজিদ খান পেয়েছেন ৩ উইকেট (৩৩.২-২-১২৬-৩)।