২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের পর এবার কী ঘটবে? পাকিস্তান কী আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কিংবা বড় কোনো শাস্তির মুখোমুখি হবে? না কি ক্রিকেটের নিয়ন্তক সংস্থার শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারবে পাকিস্তান? এই জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানি বলেছেন পাকিস্তানের ‘টিকিটাও ছুঁতে পারবে না’ আইসিসি।
পাকিস্তান সরকার গতকাল আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে জাতীয় দল অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত হাই–ভোল্টেজ ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকার জানায়, তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে, তবে ভারত ম্যাচে দলটি ‘মাঠে নামবে না’।
এ বিষয়ে স্পোর্টস্টারকে এহসান মানি বলেন,
‘সরকারের নির্দেশ মেনে চললে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে ভারত অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ঠিক এই ভিত্তিতেই। এখানে দ্বৈত মানদণ্ড চলতে পারে না। সমস্যার সমাধান না করে আইসিসি কেবল দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে আছে।’
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান মানি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি কার্যত সরকারগুলোর জন্য ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের দরজা খুলে দিয়েছে—বিশেষ করে যখন পিসিবি চেয়ারম্যান নিজেই পাকিস্তান সরকারের একজন মন্ত্রী।
তবে আইসিসি পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সতর্ক করেছে যে, নির্বাচিত ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত শাস্তিমূলক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আইসিসি জানিয়েছে, তারা এখনো পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পায়নি, তবে এমন সিদ্ধান্ত একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড যেন নিজেদের দেশের ক্রিকেটের ওপর এই সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে। এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে, যার সদস্য ও সুবিধাভোগী পাকিস্তান নিজেই।’
জাতীয় নীতির ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা স্বীকার করলেও আইসিসি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেট বা বিশ্বজুড়ে থাকা সমর্থকদের—পাকিস্তানের লাখো ক্রিকেটপ্রেমীদের—স্বার্থে নয়। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তারা চায় পিসিবি সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে এমন একটি “পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান” খুঁজে বের করুক। আইসিসির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করা।
পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডেই হবে পাকিস্তানের সব ম্যাচ।
আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বরাবরই সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াই, যা সর্বোচ্চ বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যা, স্পনসরশিপ আগ্রহ ও সম্প্রচার আয়ের বড় উৎস। ম্যাচটি ওয়াকওভার হলে পূর্ণ পয়েন্ট পাবে ভারত, তবে এতে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আয়োজক সম্প্রচারকারী সংস্থার বিজ্ঞাপন আয় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি রুপি পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
আইসিসির খেলার শর্ত অনুযায়ী, কোনো ম্যাচে ওয়াকওভার দেওয়ার জন্য টসের সময় প্রতিপক্ষ দলকে মাঠে উপস্থিত থাকতে হয়। সে কারণে নির্ধারিত ম্যাচের জন্য ভারতীয় দল কলম্বো সফর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব টসের জন্য মাঠে নামবেন। তবে যদি পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা টসের সময় উপস্থিত না থাকেন, তাহলে ম্যাচ রেফারি আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকওভার ঘোষণা করবেন এবং ভারতকে দুই পয়েন্ট দেওয়া হবে।
এহসান মানির মতে, এই ঘটনায় পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আইসিসি এখনও অর্থনৈতিক বা অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ নিয়ে বিকল্প সিদ্ধান্তও বিবেচনা করছে।
No posts available.
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:১৩ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের পর জরুরি বোর্ড সভা ডেকেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। গতকাল পাকিস্তানের বয়কটের ঘোষণার পর আজ জরুরি ভার্চুয়াল বোর্ড বৈঠক ডেকেছে ক্রিকেটের নিয়ন্তক সংস্থা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের মুখোমুখি হওয়ার কথা পাকিস্তানের। তবে গতকাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির মধ্যে একটি বৈঠক হয়। যেখানে সরকারের বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, জাতীয় দল পুরো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবে, তবে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবে না।
বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে সরাসরি আইসিসি-এর উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি অভিযোগ করেছেন ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবের আইসিসি ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণ করছে।
এদিকে আইসিসি ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে তারা পিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের জন্য অপেক্ষা করছে। পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে আইসিসি। আইসিসি মনে করে, একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সব দল সমান সুযোগ ও নিয়ম মেনে খেলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পাকিস্তান যদি বেছে বেছে কিছু ম্যাচে অংশ নেয়, তবে সেটি টুর্নামেন্টের মূল চেতনা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবে।
বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, তারা সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য যেমন ভালো হবে না, তেমনি পাকিস্তানসহ সারা বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের জন্যও তা হতাশার।
আইসিসির আশা, এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচকের প্রভাবের বিষয়টি পাকিস্তান বিবেচনা করবে, ‘আইসিসি আশা করে যে, পিসিবি তাদের নিজেদের দেশের ক্রিকেটের ওপর এর সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করবে। কারণ এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে, যার সদস্য এবং সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেও।’
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার তাদের একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আইসিসির বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপ শুরুর বাকি এক সপ্তাহেরও কম সময়। এর মধ্যেই দুঃসংবাদ পেল অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামেন্টের
প্রথম অংশে খেলা হবে না তারকা পেসার জশ হেজেলউডের। দেশে বসেই পায়ের পেশির চোটের পুনর্বাসন
প্রক্রিয়া সারবেন তিনি।
হেজেলউড সময়মতো সেরে উঠতে না পারায় আপাতত ট্রাভেলিং রিজার্ভ
হিসেবে শন অ্যাবটকে দলের সঙ্গে যুক্ত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।
গ্লেন
ম্যাক্সওয়েল, নাথান এলিস ও টিম ডেভিড সদ্য সমাপ্ত পাকিস্তান সফরে না থাকলেও মঙ্গলবার
কলম্বোতে বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। আগামী বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে
একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।
গত
মাসের শুরুর দিকে হেজেলউড জানিয়েছিলেন,
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মাঠে ফিরতে পারবেন তিনি। কিন্তু অ্যাশেজ সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ার
পর এবার বিশ্বকাপেও শুরুর অংশে তাকে পাওয়া
নিয়ে রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা।
হেজেলউডের
আগে চোটের কারণে প্যাট কামিন্সকে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যে কারণে চূড়ান্ত দলে বেন ডোয়ার্শিসকে
সুযোগ দিয়েছে তারা। এছাড়া প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া ম্যাথু শর্টকে বাদ দিয়ে নেওয়া হয়েছে
ম্যাট রেনশকে।
অস্ট্রেলিয়া
স্কোয়াডে চোট সমস্যা আছে আরও। হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যার কারণে বিগ ব্যাশে শেষ দুই ম্যাচ
খেলতে পারেননি নাথান এলিস। গত ২৬ ডিসেম্বরের পর আর কোনো ম্যাচ খেলেননি টিম ডেভিড। এছাড়া
অ্যাডাম জাম্পাও ভুগছেন কুচকির সমস্যায়।
কলম্বোতে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। এরপর 'বি' গ্রুপে
জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা ও ওমানের মুখোমুখি হবে তারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড
মিচেল
মার্শ (অধিনায়ক), হাভিয়ের বার্টলেট, কুপার কনোলি, টিম ডেভিড, বেন ডোয়ার্শিস, ক্যামেরন
গ্রিন, নাথান এলিস, জশ হেজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাট কুনেমান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল,
ম্যাট রেনশ, মার্কাস স্টয়নিস, অ্যাডাম জাম্পা, শন অ্যাবট (ট্রাভেলিং রিজার্ভ)

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মোহাম্মদ নওয়াজ। গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি উমর গুলের দীর্ঘদিনের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। পাকিস্তানের হয়ে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নেওয়ার তালিকায় এখন দুজনই শীর্ষে।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে নওয়াজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১১১ রানের রেকর্ড গড়া জয় পেয়েছে পাকিস্তান। চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন এই অলরাউন্ডার। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বার এটি তাঁর ৫ উইকেট শিকার। এর আগে গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমবার পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
এবার বসলেন উমর গুলের পাশে। পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে দুবার করে পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলার এখন এই দুজনই। তালিকায় এরপর আছেন উদীয়মান স্পিনার সুফিয়ান মুকিম, পেসার হাসান আলী এবং অবসর নেওয়া অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম—যাদের প্রত্যেকই একবার করে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।
তবে একটি দিক থেকে নওয়াজের চেয়ে উমর গুল এখনও এগিয়ে। গুল মাত্র ৬০ ইনিংসেই দুবার পাঁচ উইকেট নিতে পেরেছিলেন, যেখানে নওয়াজকে একই মাইলফলক ছুঁতে খেলতে হয়েছে ৮৬ ইনিংস। গুলের চেয়ে ২৬ ইনিংস বেশি লেগেছে নওয়াজের।
পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলারদের তালিকা*
উমর গুল — ২ বার (৬০ ইনিংস)
মোহাম্মদ নওয়াজ — ২ বার (৮৬ ইনিংস)
সুফিয়ান মুকিম — ১ বার (১৯ ইনিংস)
হাসান আলী — ১ বার (৫৬ ইনিংস)
ইমাদ ওয়াসিম — ১ বার (৭৪ ইনিংস)

ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ বর্জনের পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের মধ্যেও আইসিসির নিয়ম মেনেই চলবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে বিসিসিআই জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সব প্রটোকল অনুসরণ করবে।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হওয়ার কথা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের। তবে পাকিস্তান সরকার গতকাল ঘোষণা দিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মাঠে নামবে না। পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তের পর বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ম্যাচ নিয়ে আইসিসি যা নির্দেশ দেবে, ভারত সেটাই মেনে চলবে।
বিসিসিআই সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত দল শ্রীলঙ্কায় যাবে। তারা ম্যাচ-পূর্ব অনুশীলন করবে, সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবে এবং সময়মতো স্টেডিয়ামে পৌঁছে ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে। বিসিসিআইয়ের এক সূত্র বলেছেন, 'ভারত আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নেবে। তারা স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ রেফারির ম্যাচ বাতিলের ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।'
পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে দেশটির সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টে। সেখানে বলা হয়, 'পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হলো। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না।'
পাকিস্তানের এমন অবস্থানকে আইসিসির প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, আইসিসি বিসিসিআইয়ের প্রভাবেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে নাকভির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা আসে।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা চলছিল। ২০ দলের টুর্নামেন্টটি শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের সফর করতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এরপরই পাকিস্তানও টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিয়ে পুনর্বিবেচনা শুরু করে।
এদিকে পাকিস্তানের ঘোষণার পর আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানতে চায়। আইসিসি মনে করছে, নির্বাচিত ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আইসিসি জানিয়েছে, সব যোগ্য দলকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিযোগিতা করার কথা। নির্বাচিত অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টের অখণ্ডতা ও প্রতিযোগিতার চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে।
তারা সরকারগুলোর নীতিগত ভূমিকা সম্মান করে, তবে এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেট ও সমর্থকদের স্বার্থে নয়—বিশেষ করে পাকিস্তানের লাখো ভক্তের জন্যও এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংস্থাটি পিসিবিকে একটি ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সব অংশীজনের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং বিশ্বকাপ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

কেউ ফিফটি না পেলেও সম্মিলিত ব্যাটিং পারফরম্যান্সে বড় পুঁজিই দাঁড় করাল শ্রীলঙ্কা। পরে বোলিংয়ে শুরুটাও করল ইতিবাচক। মাঝে এলো বৃষ্টির বিরতি। তবে সব কিছু ছাপিয়ে টম ব্যান্টন ও হ্যারি ব্রুকের ব্যাটে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে নিলো ইংল্যান্ড।
পাল্লেকেলেতে রোববার রাতে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারায় ইংল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। পরে ইংল্যান্ডের ইনিংসে বৃষ্টি নামলে ডিএলএস পদ্ধতিতে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭ ওভারে ১৬৮ রান। দুই বল বাকি থাকতেই জিতে যায় সফরকারীরা।
এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলল ইংল্যান্ড। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তারা পেল টানা দশম জয়। ২০১৪ সালের মে মাসের পর আর এই সংস্করণে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারেনি লঙ্কানরা।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত শুরু পায় শ্রীলঙ্কা। ১১ ওভারের মধ্যে একশ রান করে ফেলে তারা। পাথুম নিসাঙ্কা ২২ বলে ৩৬, কামিল মিশারা ৩০ বলে ৩৬ ও কুসাল মেন্ডিস করেন ১৭ বলে ৩২ রানের ইনিংস।
চার নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন পবন রত্নায়েকে। ২২ বলের ইনিংসে ৫ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা মারেন তিনি। শেষ দিকে চারিথ আসালাঙ্কার ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ২৮ রান।
ইংল্যান্ডের হয়ে ২ উইকেট নেন জফ্রা আর্চার।
রান তাড়ায় চল্লিশের আগেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। তাদের ইনিংসের অষ্টম ওভারে নামে বৃষ্টি। পরে ঠিক করা হয় নতুন লক্ষ্য।
চার নম্বরে নেমে প্রায় চার বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিফটি করেন ব্যান্টন। শেষপর্যন্ত ৩৩ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৪ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটার।
এছাড়া রান রেটের চাপ সরিয়ে মাত্র ১২ বলে ৩৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ব্রুক। ২ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারেন ইংলিশ অধিনায়ক।
একই মাঠে মঙ্গলবার শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৮৯/৫ (নিসাঙ্কা ৩৪, মিশারা ৩৬, মেন্ডিস ৩২, রত্নায়েকে ৪০, শানাকা ১, আসালাঙ্কা ২৮*, লিয়ানাগে ১*; কারান ২-০-৩১-০, আর্চার ৪-০-৪২-২, জ্যাকস ৪-০-২৪-১, ডসন ৪-০-৩২-১, রাশিদ ৪-০-২৫-১, ওভারটন ২-০-৩০-০)
ইংল্যান্ড: (লক্ষ্য ১৭ ওভারে ১৬৮) ১৬.৪ ওভারে ১৭৩/৪ (সল্ট ১, বাটলার ৩৯, বেথেল ১৩, ব্যান্টন ৫৪*, ব্রুক ৩৬, কারান ২০*; পাথিরানা ৪-০-৪৭-২, শানাকা ৩-০-২৪-১, ওয়েলালাগে ৩-০-৩০-১, মালিঙ্গা ১.২-০-৬-০, হাসারাঙ্গা ৪-০-৪৪-০, লিয়ানাগে ১.২-০-১৮-০)
ফল: ইংল্যান্ড ডিএলএস পদ্ধতিতে ৬ উইকেটে জয়ী