২২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

১৯ বছর ৫ দিন আগের কথা। ২০০৭ বিশ্বকাপে ত্রিনিদাদে ভারত বধ কাব্য যেদিন (১৭ মার্চ) রচনা করেছে বাংলাদেশ, তার পরের দিন (১৮ মার্চ) ত্রিনিদাদের হোটেলে ঘুম থেকে উঠে পেয়েছি এক দুঃসংবাদ। জ্যামাইকার পেগাসাস হোটেল রুমে পাওয়া গেছে পাকিস্তানের হেড কোচ বব উলমারের মৃতদেহ। ত্রিনিদাদ থেকে জ্যামাইকা আইল্যান্ডের দূরত্ব আকাশপথে ১৯৫০ কিলোমিটার। আকাশপথে এই পথ পাড়ি দিতে লেগে যায় প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা। দৈনিক ইনকিলাব থেকে বিশ্বকাপ ক্রিকেট কভার করতে গিয়েছিলাম। অফিস থেকে টেলিফোন করে বব উলমারের আকষ্মিক মৃত্যুর আপডেট সংবাদ পাঠানোর জন্য বলা হয়েছিল। ক্যারিবিয়ান সব আইল্যান্ডে বিশ্বকাপ কভার করতে ক্যারিকম স্টিকার ভিসা পাসপোর্টে লাগিয়েছিলাম। চাইলেই ভিসা না নিয়ে ত্রিনিদাদ থেকে জ্যামাইকা যেতে পারতাম। কিন্তু ত্রিনিদাদে ২১ মার্চ বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, তাই যেতে পারিনি।
বব উলমারকে কাছ থেকে প্রথম দেখেছি ১৯৯৮ সালে, ঢাকায়। আইসিসি নক আউট বিশ্বকাপে ( পরবর্তীতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হিসেবে স্বীকৃত) দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলকে নিয়ে তার কোচিং দেখেছি। ম্যাচ চলাকালে ঢাকা স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমের বাইরে বসে সারাক্ষণ ল্যাপটপ সামনে রেখে দুই চোখ মাঠ এবং ল্যাপটপে রেখেছেন, তা খুব কাছ থেকে দেখেছি। ক্রিকেট কোচিংয়ে কম্পিউটার এনালিস্টের প্রয়োগ কতোটা জরুরি, তা দেখিয়েছেন বব উলমার। দক্ষিণ আফ্রিকার সে সময়ের অধিনায়ক হ্যানসি ক্রোনিয়ের সঙ্গে তাঁর ছিল দারুণ সম্পর্ক। এই জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে উপহার দিয়েছে আইসিসির মেগা কোনো ইভেন্টের (আইসিসি নক আউট বিশ্বকাপ) প্রথম ট্রফি।
কোচিংয়ে শুধু ল্যাপটপের ব্যবহারই নয়, কিংবা কম্পিউটার এনালিস্টের প্রয়োগই নয়, ব্যাটিংয়ে রিভার্স সুইপের কৌশলটাও শিখিয়েছেন তিনি। উইকেট কিপারকে ক্ষীপ্র করে তুলতে ফুটবলের গোলকিপিং আইডিয়াও প্রয়োগ করেছেন। ইংলিশ হয়েও বাবা ক্লারেন্স উলমার অবিভক্ত বৃটিশ ভারতের রনজি ট্রফিতে খেলেছেন উত্তর প্রদেশের হয়ে। বাবাকে দেখে শৈশবে ক্রিকেট ব্যাট-বল নিয়ে নেমে খেলেছেন ৩৫০টি প্রথম শ্রেনির ম্যাচ, ১৯ টেস্ট, ৬ ওডিআই।
কানপুরে ১৯৪৮ সালে জন্ম নেয়া বব উলমার মাত্র ১০ বছর বয়সে দেখেছেন প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে হানিফ মোহাম্মদের ৪৯৯। ৩৫ বছর পর ওয়ারউইকশায়ারের কোচ হয়ে ড্রেসিংরুমে বসে দেখেছেন ডারহামের বিপক্ষে প্রিয় শিষ্য ব্রায়ান লারার হার না মানা ৫০১।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কোচিংয়ের শুরুটা তাঁর দক্ষিণ আফ্রিকায়, ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯। এই সময়ে আইসিসি নক আউট বিশ্বকাপ ছাড়াও দ্বি-পাক্ষিক সিরিজগুলোতে ছিল তার বলার মতো সাফল্য। টানা ১৫টি টেস্ট সিরিজের মধ্যে ১০টিতে জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উঠিয়ে এনেছিলেন অন্য উচ্চতায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের হয়ে কোচিংয়ে ৫ বছরের সফল অধ্যায় শেষে পেয়েছিলেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচের অফার। তবে সে অফার গ্রহন না করে কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন আইসিসিতে, উন্নয়নশীল ক্রিকেট দেশসমূহের উন্নয়নে করেছেন কাজ। ২০০৪ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের হেড কোচের পদ থেকে জাভেদ মিয়াঁদাদ চাকুরিচ্যুত হলে তার স্থলে বব উলমারকে দেয়া হয় কোচের দায়িত্ব। প্রথম তিন বছর সেই দায়িত্বে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে দিয়েছেন একটার পর একটা সাফল্য। তবে বিশ্বকাপে এসে পাকিস্তান হয়ে গেছে এলোমেলো। ইনজামাম উল হক-এর নেতৃত্বে পাকিস্তান বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৫৪ রানে হেরে। পরের ম্যাচটি ছিল গ্রুপ রাউন্ডের বাধা পেরোনোর জন্য ডু অর ডাই। অথচ, পুঁচকে আয়ারল্যান্ডের কাছে আপসেটের শিকার হতে হলো পাকিস্তানকে। ৩ উইকেটে হেরে গেল পাকিস্তান। ত্রিনিদাদে বসে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় দেখেছি যেদিন, সেদিনই আয়ারল্যান্ডের কাছে পাকিস্তানের অঘটনের খবর পেলাম। বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় হয়ে গেছে। ৪দিন পর আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এমন বিপর্যয় মেনে নিতে পারেননি বব উলমার। ম্যাচে হেরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ল্যাপটপে দিয়েছিলেন প্রচণ্ড এক চাপড়। ম্যাচ হারের পর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের ঝাঁঝালো মন্তব্য কোচ বব উলমারকে তুলেছে অতিষ্ঠ করে। পাকিস্তানের কোচের দায়িত্বে আর রাখা হবে না, তা আঁচ করতে পেরেছেন সেদিনই। ব্যর্থতা এবং অপবাদ নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কোচিং অধ্যায় শেষ করতে হবে, তা মানতে পারছিলেন না। চারপাশের এতোসব ঘটনায় এতোটাই ভেঙ্গে পড়েছিলেন যে, উলমার সেই চাপটা নিতে পারেননি। টিম হোটেলে ঘুমের ঘোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ক্রিকেটে আধুনিক কোচিং পদ্ধতির প্রবর্তক বব উলমার। সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে কোচকে যায়নি দেখা। সকাল ১১টায় হাউজকিপিংয়ের কর্মীরা রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে রুম লকড দেখে দরজার তালা ভেঙ্গে দেখেছেন বিছানায় বব উলমারের নিথর দেহ। জ্যামাইকা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিকসমূহে বব উলমারের এই মৃত্যুকে বলা হয়েছে অস্বাভাবিক। মৃত্যু না হত্যা, এমন প্রশ্নও উঠেছে মিডিয়ায়। ত্রিনিদাদের ইংরেজি দৈনিকের স্পোর্টস পেজে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে সেসব নিউজ।
তাঁর মৃত্যুর চারদিন পর জ্যামাইকার পুলিশ নিশ্চিত তদন্তে নামে। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মার্ক শিল্ডস এই তদন্তের নেতৃত্ব দেন।প্যাথলজিস্ট এরে সেশাইয়ার একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে উলমারকে হাত দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
বব উলমারের মৃত্যু রহস্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে প্রায় তিন মাস। ২০০৭ সালের ১২ জুন, জ্যামাইকা কনস্ট্যাবুলারি ফোর্সের কমিশনার লুসিয়াস থমাস উলমার স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন বলে রিপোর্ট দিলে গবেষণা থেমে যায়।
বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নে কাজ করেছেন বব উলমার। আইসিসির হাই পারফরমেন্স ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন ৩ বছর (২০০১-৩)। ওই সময়ে দুবার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন আইসিসির বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে। কোনোবারই এক সপ্তাহের বেশি থাকেননি ঢাকায়। সে কারণেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের বন্ধু বব উলমারকে নিয়ে স্মৃতিচারণ জানতে ত্রিনিদাদে অবস্থানরত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবং ওপেনার শাহরিয়ার নাফিসের ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। দুজনেই কাছ থেকে দেখা উলমার সম্পর্কে অনেক কিছু বলেছেন। উলমারের কোচিং দর্শন-নুতন নুতন টেকনিকের উদ্ভাবন। তা বলেছেন দুজনই। শাহরিয়ার নাফিসের ব্যাটিংয়ের বেসিক টেকনিকে চেঞ্জ এনেছেন, তাতে শাহরিয়ার নাফিস হয়েছেন উপকৃত। উলমারকে স্মরণ করতে যেয়ে এমনটাই বলেছেন এই বাঁ হাতি ওপেনার। বব উলমারকে নিয়ে হাবিবুল বাশার সুমন এবং শাহরিয়ার নাফিসের বক্তব্য নিয়ে একটা রিপোর্ট দাঁড় করেছিলাম। ২০০০৭ সালের ২০ মার্চ দৈনিক ইনকিলাবের স্পোর্টস পেজে ‘একজন বন্ধু হারালো বাংলাদেশ’-এই শিরোনামে ত্রিনিদাদ থেকে আমার প্রেরিত নিউজটি ছাপা হয়েছিল।
No posts available.
২০ মার্চ ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
২০ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দর্শকবিহীন গ্যালারিতে শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম সংস্করণ। আজ এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী এবারের আসরের সব ম্যাচ হবে শুধু দুই শহর—করাচি ও লাহোরে। শুরুতে ছয়টি ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে আগামী সংস্করণে পেশোয়ারে আরও ম্যাচ আয়োজনের আশা প্রকাশ করেছেন নাকভি।
আগামী ২৬ মার্চ শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে অংশ নেবে আটটি দল, ম্যাচ হবে মোট ৪৪টি। শুরুতে করাচি, লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি, মুলতান, পেশোয়ার ও ফয়সালাবাদ—এই ছয় শহরে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
নাকভি জানান, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পরামর্শের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি কত দিন স্থায়ী হবে, তা অনিশ্চিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দর্শক মাঠে না থাকলে বিভিন্ন শহরে ম্যাচ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এদিকে আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও নিশ্চিত করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান।
দর্শক না থাকায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেবে পিসিবি। ইতিমধ্যে যারা টিকিট কিনেছেন, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন নাকভি।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও দর্শকদের জন্য গ্যালারি খুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়রা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তানে আসতে শুরু করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তবে নকভির দাবি, পাকিস্তানে সরাসরি কোনো নিরাপত্তা সংকট নেই; এটি আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রভাব।
পিসিবি আরও জানিয়েছে, যারা চুক্তি ভেঙে অন্য লিগে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বোর্ডের খণ্ডকালীন কর্মীদের অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝেই দর্শকশূন্য গ্যালারিতে মাঠে গড়াচ্ছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের নতুন আসর।

সিরিজে টিকে থাকতে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। এমন সমীকরণে মাঠে নেমে আজ নিউ জিল্যান্ডকে ১৯ রানে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখন ২-২ সমতা।
দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে ১৮.৫ ওভারে ১৪৫ রানেই গুটিয়ে যায় কিউইদের ইনিংস।
ওয়েলিংটনের স্কাই স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক মহারাজ। শুরুতে উইয়ান মুল্ডারের (০) দ্রুত বিদায়ে বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। আরেক ওপেনার টনি ডি জর্জিকে নিয়ে ৫৬ বলে ৮১ রানের জুটি গড়েন তিনে নামা কনর এস্টারহুইজেন। জর্জি ২৩ রানে ফিরলেও ৩৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন এস্টারহুইজেন। তাঁর ৩৬ বলে ৫৭ রানের ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান আসে রুবিন হারম্যানের ব্যাট থেকে। শেষ দিকে হারম্যান ও জর্জ লিন্ডের ১৮ রানের জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৬৪ রান।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে কাইল জেমিসন ২৯ রানে ২ উইকেট নেন। বেন সিয়ার্স, জাক ফাউলকস ও কোল ম্যাককনচির শিকার ১টি করে উইকেট।
জবাব দিতে নেমে ৯ রান করে ফিরে যান ডেভন কনওয়ের পরিবর্তে কিউই জার্সিতে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা ক্যাটেন ক্লার্ক। আরেক ওপেনার টিম রবিনসন শুরুটা দারুণ করেছিলেন। তাঁর ৩২ রানে বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা।
ড্যান ক্লেভার (২৬) ও নিক কেলি (১৯) চেষ্টা করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে কিউই মিডল অর্ডার। শেষ দিকে কাইল জেমিসন ও জশ ক্লার্কসন চেষ্টা করলেও কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
জেরাল্ড কোয়েটজি ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে কিউইদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। ওটনিয়েল বার্টম্যান, প্রেনেলান সুব্রায়েন ও মহারাজ ২ টি করে উইকেট তুলে নেন।
হাফ সেঞ্চুরি ও ২ টি ক্যাচ ধরে ম্যাচসেরা প্রোটিয়া উইকেট কিপার ব্যাটার এস্টারহুইজেন। ক্রাইস্টচার্চে বুধবার সিরিজ নির্ধারণী পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ড।

২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ কভার করতে যেয়ে ডারবানে জুলু নৃত্য দেখেছি। এক যুগ পরে লন্ডনের ওভালে বাংলাদেশ যেদিন দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি, সেদিন ওভালের প্রধান প্রবেশপথে দর্শকদের স্বাগত জানাতে একদল তরুণ-তরুণী জুলু নৃত্যের সঙ্গে গান-বাজনায় উঠেছে মেতে। দেখে মনে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কাওয়াজুলু নাটাল থেকে এই আদিবাসীদের নিয়ে আসা হয়েছে। কেউ কেউ তো নৃত্যরত অর্ধনগ্ন জুলু তরুণীদের কাছে এসে ছবি তুলে পেয়েছেন অপার আনন্দ।
এই আনন্দটা না জানি বাংলাদেশের জন্য নিরানন্দ হয়, এই শঙ্কাটাই ছিল। ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ৫ ধাপ উপরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা দলটি তখন তারকা সর্বস্ব। ডি ভিলিয়ার্স, ডি কক, ডু প্লেসি, মার্করাম, রাবাদা, ইমরান তাহির- ক্রিকেট বিশ্বে সব বড় বড় নাম। সামারে বাংলাদেশের চেয়ে আড়াই-তিন ঘন্টা পর ইংল্যান্ডে সূর্যাস্ত হয় বলে রোজার সময়টা বেশ বড়। তারপরও মাহমুদউল্লাহ, মিরাজ, মুশফিক রোজা রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছেন। এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়ে করেছেন এই ত্রয়ী ইফতারি!
ঈদ উল ফিতরের ৩ দিন আগে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারানোর গল্পটা এখনও চোখে ঝাপসা হওয়ার কথা নয়। তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাকিব-মুশফিকুরের ১৪২ রানের পার্টনারশিপ, মুশফিকুরের ৮০ বলে ৭৮ রানের পাশে সাকিবের ৮৪ বলে ৭৫ রানে ওভালজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের রেকর্ড ৩৩০/৬ স্কোরও দেখেছে বিশ্ব ২০১৯ সালের ২ জুন।
ওই ম্যাচে অলরাউন্ড পারফরমেন্সের ( ৭৫ রান এবং ১/৫০) জন্য সাকিব ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন। তার চেয়েও বড় কথা, ওডিআই ক্রিকেটে ৫ হাজার রানের পাশে ২৫০ উইকেট শিকারে দ্রুততম রেকর্ডটির মালিকও হয়েছেন সাকিব সেই ম্যাচে। রেকর্ড মাইলস্টোনের পর মিক্সড জোনে নিয়েছিলাম ব্যবহৃত বলে অটোগ্রাফ। শোকেসে সেই বলটি রেখেছি যত্ন সহকারে।
ওই ম্যাচের ২ দিন পর ইংল্যান্ডে ঈদ উল ফিতর, তার পরদিন বাংলাদেশে ঈদ। ইংল্যান্ডে ঈদের দিন প্রিভিউ করার তাড়া, পরদিন ম্যাচের বিস্তারিত লেখার যুদ্ধ। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে মাশরাফির দল। সে কারণেই নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচটি বাংলাদেশের সকল ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে হয়ে উঠেছে মহাগুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি দিন ( ৪ এবং ৫ জুন) বাংলাদেশে ঈদ এর ছুটি, সকল দৈনিক পত্রিকা তালাবদ্ধ। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ প্রিভিউ এবং ম্যাচ রিপোর্টসহ আনুষঙ্গিক সব রিপোর্টে তাই সমর্থকদের চোখ রাখতে হয়েছে টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন মিডিয়ার দিকে। সে সময়ে আমি একটি অনলাইনের স্পোর্টস এডিটরের দায়িত্বে ছিলাম বলে ওই দুই দিন একটু বেশি দৌড়-ঝাঁপ দিতে হয়েছে। লন্ডনে ঈদের জামায়াত পড়তে কখন যাবে বাংলাদেশ দল, ওভালে অনুশীলন করবে কখন, টিম হোটেল, না বাইরে কোথাও ঈদ এর ভুরিভোজের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, এসব বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজারের কাছ থেকে জেনে নিতে হয়েছে। যদিও ঈদ এর নামাজ পড়ার সময় এবং স্থানটা ক্রিকেট দলের নিরাপত্তায় গোপনীয় রেখেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যে হোটেলে উঠেছে, সেই হোটেলটি টেমস নদীর তীরে। ইস্ট লন্ডনের একটি বাসায় একটা রুম ভাড়া এক সপ্তাহের জন্য ভাড়া করে অনুজ ক্রীড়া সাংবাদিক মাহিবুর রহমান হিল্লোলের ( সারাবাংলা ডট নেট-এর ক্রীড়া সম্পাদক) সঙ্গে উঠেছি। ওই বাসার পাশে মসজিদটি লন্ডনের সবচেয়ে বড় মসজিদ। সকাল ৭টা থেকে এক ঘন্টা অন্তর অন্তর ঈদ এর জামায়াত হয় এই মসজিদে। তাই খুব ভোরে ওঠার তাড়া ছিল না। আমাকে একা রেখে হিল্লোল সকাল-সকাল ঈদ এর নামাজ পড়েছে। ফাঁকা বাসায় পাওয়ারফুল চশমা ছাড়া গোসল করতে যেয়ে শ্যাম্পুর ফেনা চোখে লেগে বাথরুমে আমি চিৎপটাং। মাথা পড়েছে ফ্লোরে, পা উপরে।বাথরুম অটো লকড। কিছুই দেখছি না। মাথায় আঘাত এতোটা পেয়েছি যে, আঘাতস্থল গেছে ফুলে। কোনোমতে দরজার লক খুলে বড় ধরণের দূর্ঘটনা এড়াতে পেরেছি। বাসার পাশে ছিল মেডিসিন সেন্টার। সেখান থেকে ডাক্তারকে দেখিয়ে তার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ট্যাবলেট খেয়ে মাথার ব্যাথা উপশম করতে পেরেছি। এর পর ঈদ এর নামাজ পড়ার পর হিল্লোলের সঙ্গে দেখা। অফিসিয়াল প্রেস কনফারেন্স থাকছে না নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন। টিম হোটেলে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা কখন কথা বলবেন,মিডিয়া ম্যানেজার তা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠিয়েছেন। নিউজের পাগল হিল্লোলের তো মাথায় হাত। এক্ষুণি বেরুতে হবে। লন্ডনে ব্লাক ট্যাক্সি দেখতে যেমন রাজকীয়, ভাড়াও অন্য রাইড ট্যাক্সির চেয়ে বেশ বেশি। রাস্তায় বেরিয়ে অন্য কোনো কালারের ট্যাক্সি না পেয়ে ব্লাক ট্যাক্সিতেই উঠতে হলো আমাদেরকে। ট্যাক্সি ড্রাইভার লোকেশন ঠিকমতো চিনছেন না। জিপিএস-এও কাজ হচ্ছে না। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট লন্ডন সফরে আসায় টেমস নদীর এপারের রাস্তা-ঘাটও বেশ নিরাপত্তা বলয়ে। বড়জোর ৬ কিলোমিটার পথ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে যেখানে ট্যাক্সিটি পার্ক করেছে, সেখান থেকেও বাংলাদেশের টিম হোটেলের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। ৩৬ পাউন্ড ( বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫ হাজার ৯১৭ টাকা) বিল দিয়ে ট্যাক্সি থেকে নেমে তাই বিড় বিড় করেছে হিল্লোল।
টিম হোটেলের সামনে এলাহী ব্যাপার। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য লন্ডনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটার পর একটা বড় বড় পাতিলে খাবার আসছে। পোলাও-কোর্মা,জর্দা,রেজালা, পায়েশ আরও কতো কী।বিসিবির তহবিল থেকে কেনা টিকিট বিনে পয়সায় পেয়েছেন যারা, তারা তো বটেই, লন্ডনে বাংলাদেশের সরকার দলীয় রাজনৈতিক কর্মকর্তারাও বিনা বাধায় ঢুকেছেন হোটেলে, তুলেছেন মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিকদের সাথে ছবি! অথচ, টিম হোটেলের ভেতরে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপ কভার করতে আসা গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশাধিকারে দেয়া হয়েছে বাধা। হোটেলের বাইরে প্রচণ্ড বাতাস, বাতাসের তোড়ে শরীরটাই উড়িয়ে নেয়ার যোগাড়। অথচ, হোটেলের বাইরে মিডিয়াকে কাজ করার মতো কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিসিবির তৎকালীন ৪-৫ জন পরিচালক পর্যন্ত গণমাধ্যমকে ঈদ মোবারক বলে খালাস। বাংলাদেশের সঙ্গে লন্ডনের সময়ের ব্যবধান ৫ ঘন্টা, তা মাথায় রেখে সব প্রতিকূলতার মধ্যে বাংলাদেশের মিডিয়াকে থাকতে হয়েছে ব্যস্ত। এরই মধ্যে এর-ওর কাছ থেকে খবর সংগ্রহ করে অনলাইন এবং টিভি মিডিয়ার রিপোর্টাররা রিপোর্ট করেছেন। আমাকেও প্রচণ্ড বাতাসের মধ্যে ল্যাপটপ খুলে একাধিক রিপোর্ট লিখতে হয়েছে। মিডিয়াকে ভোগান্তিতে ফেলে অবশেষে আন অফিসিয়াল প্রেস কনফারেন্সে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে পাঠানো হলো প্রথম ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকা লিটন দাসকে। তাও তো একটা খোরাক পেলো মিডিয়া।
পরদিন বাংলাদেশে ঈদটা হতে পারতো মহা আনন্দের। ওভালে সাকিবের ৬৪ রানে ভর করে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪৪/১০ স্কোর করেও জয়ের সম্ভাবনা ছিল। তবে সেই ম্যাচে বাংলাদেশ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ফিকে হয়েছে মুশফিকুর রহিমের অমার্জনীয় ব্যর্থতায়। একটি নয়, অবধারিত ২টি রান আউট এবং উইকেটের পেছনে একটি ক্যাচ মিস করেছেন এই উইকেট কিপার। উইকেটের পেছনে না দাঁড়িয়ে উইকেটের সামনে এসে রান আউট করার ভুল চেষ্টায় রস টেলরকে ৯ রানের মাথায় অবধারিত রান আউটে ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। সাকিবের বলে সেই রস টেলরের ক্যাচও মুশফিকুর রহিমের হাত থেকে ফসকে গেছে। কেন উইলিয়ামসনকে মাত্র ৬ রানের মাথায় রান আউটে ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগও হাতছাড়া করেছেন মুশফিক। এই রস টেলরই শেষ পর্যন্ত ৯১ বলে ৯২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচটা বাংলাদেশের হাত থেকে ছুটিয়ে নিয়েছেন। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে বাংলাদেশ সেই ম্যাচে হেরেছে ২ উইকেটে।
ঈদ এর দিনে ওই জয়টি পেলে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালের কক্ষপথে থাকতে পারতো বাংলাদেশ দল। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় হাতছাড়া করার কষ্টটা তাই বাংলাদেশকে পুঁড়িয়েছে যন্ত্রনায়।
ঈদ উল ফিতরের উৎসবে পূর্ণতা দেয়ার গল্প অবশ্য আছে বাংলাদেশ দলের। সেই গল্পেও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই ঈদ উল ফিতরের উৎসবটা বাংলাদেশ রাঙিয়েছিল তিনদিন আগে, চট্টগ্রামে প্রোটিয়াদের ৯ উইকেটে হারিয়ে দিয়ে। ওই জয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের (২-১) রেকর্ড করে ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে ৭ এ উঠে ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির টিকিট নিশ্চিত করেছে। তার ঠিক তিনদিন পর সেই চট্টগ্রামে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ ড্র করেছে বাংলাদেশ। সেবার চট্টগ্রামেই ঈদ উল ফিতর পালন করেছে বাংলাদেশ দল। ওয়ানডে এবং টেস্ট কভার করতে আমাকে দুবার ঢাকা থেকে যেতে হয়েছে চট্টগ্রামে।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেকেই সেঞ্চুরি—যে কীর্তি ছিল না কোনো নারী ক্রিকেটারের, সেটিই করে দেখালেন রুয়ান্ডার ১৫ বছর বয়সী ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে। নাইজেরিয়া ইনভিটেশনাল উইমেনস টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ঘানার বিপক্ষে এই বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ক্রিকেটের ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন তিনি।
আজ নাইজেরিয়ার লাগোসে ঘানার বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে ৬৫ বলে ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন উতাগুশিমানিন্দে। এর মাধ্যমে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে সেঞ্চুরি করার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি। এর আগে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ৯৬ রান করে এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি কারেন রোল্টন।
১৫ বছর ২২৩ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের (নারী ও পুরুষ মিলিয়ে) কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ানও এখন উতাগুশিমানিন্দে। তিনি ভেঙে দিয়েছেন উগান্ডার প্রসকোভিয়া আলাকোর রেকর্ড। ২০১৯ সালে মালির বিপক্ষে যখন আলাকো সেঞ্চুরি করেছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর ২৩৩ দিন।
পুরুষ ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত চারজন ব্যাটার অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেও পূর্ণ সদস্য কোনো দেশের খেলোয়াড় এই তালিকায় নেই। পুরুষ ক্রিকেটে কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান ফ্রান্সের গুস্তাভ ম্যাককিওন, যিনি ১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন। উতাগুশিমানিন্দে সেই হিসেবে পুরুষ ক্রিকেটের রেকর্ডকেও পেছনে ফেলে দিলেন।
উতাগুশিমানিন্দের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১০ রানের পাহাড় গড়ে রুয়ান্ডা। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন মার্ভেইল ওয়াসে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে মাত্র ৮৮ রান তুলতে সক্ষম হয় ঘানা। ১২২ রানের বিশাল জয়ে মাঠ ছাড়ে রুয়ান্ডা।

২০ মার্চ এলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট ভক্তদের সামনে তামিমে ইকবালের জন্মদিনটি মনে করিয়ে দেয় সংবাদমাধ্যম। তিন সংস্করণের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫ সেঞ্চুরির মালিক, বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ব্যাটার তামিমের ৩৭তম জন্মদিনটি এবার খুব একটা ঘটা করে পালিত হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঈদ উল ফিতরের আগাম বার্তায় বাংলাদেশের লিজেন্ডারি ক্রিকেটারের জন্মদিন নিয়ে হয়নি তেমন আলোচনা। স্ত্রী আয়েশা আক্তারের পোষ্ট, তামিম ভক্তদের শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরনীয় সব জয়ের নায়ককে স্মরণ করেছে সমর্থকরা।
তামিমের জন্মদিনটি প্রথম আলোচনায় এসেছে ২০০৭ সালে, বিশ্বকাপ চলাকালে। বাঁ হাতি ব্যাটিংয়ের জাদুকর ব্রায়ান লারার জন্মস্থানে বাংলাদেশের এক ব্যাটিং বিস্ময়ের আবির্ভাব সেই বিশ্বকাপে দেখেছে বিশ্ব।
সেকারণেই তামিমের ১৮তম জন্মদিন উদযাপনের নিউজটা পেয়েছে সেবার গুরুত্ব। ত্রিনিদাদের হোটেল হিলটনের লবিতে ঢু মেরেই পেলাম তামিমের জন্মদিন উদযাপনের উত্তাপ। তিনদিন আগে কুইন্স পার্ক ওভালে ৫৩ বলে ৫১ রানের ইনিংসে ভারতকে হারানোর নায়ককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে প্রতিপক্ষ ভারতের সুপার স্টার দ্রাবিড়, সৌরভ, শচিন এসেছেন ছুটে।
তামিমের জন্মদিন এবং জন্মদিনের আশে-পাশের দিনগুলোতে তামিমের কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশ দলের সাফল্য এক সময়ে ছিল অবিচ্ছেদ্য অংশ। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম উভয় ইনিংসে ফিফটির রেকর্ডটা তার ২১তম জন্মদিনে। মিরপুর টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৮৫-এর পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন ৫২। ২০১৭ সালের ১৫ থেকে ১৯ মার্চ কলোম্বোর পি সারা ওভালে বাংলাদেশের শততম টেস্ট জয় দিয়ে রাঙানোর নেপথ্যেও তামিমের ব্যাটিং (৪৯ও ৮২)। চতুর্থ ইনিংসে ১৯১ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জিতেছে তামিমের ৮২ রানে। একদিন পর শততম টেস্ট জয়ের নায়ক তামিমের ২৮তম জন্মদিনটা তাই একটু বেশি উৎসবমুখর ভাবেই পালিত হয়েছে।
২০০৮ সালে আয়ারল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশের নায়ক তামিম ১৯তম জন্মদিন পালন করেছেন একটু বেশি আনন্দে। জন্মদিনে ম্যাচ উইনিং ৪৬ রানের ২ দিন পর ওডিআই ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি (১৩৬) উদযাপন করেছেন তামিম মিরপুরে।
২৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনটা তামিম শুরু করেছিলেন এক সপ্তাহ আগে। তার রেশটা ছিল সেই জন্মবার্ষিকী পালনের ২ দিন পরেও। ২০১২ সালের ১১, ১৬, ২০ ও ২২ মার্চ তামিমের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে স্মরণীয়তম। এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৪, ভারতের বিপক্ষে ৭০, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫৯ রানের পর ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬০! টানা ৪ ফিফটি। ভারতের গ্রেট শচিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি উৎসবকে ম্লান করে দিয়ে সেই ম্যাচে ম্যাচ উইনার তামিম। সেদিন মিরপুর স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বার্থডে বয় ক্যাপ-এ ছিল সয়লাব।
২৮তম জন্মদিনের ৫ দিন পর শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় ১২৭ রানের ইনিংসটিও কাঁপিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকদের। ২০২২ সালে ৩৩তম জন্মদিনটি কেটেছে তামিমের দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে। স্বাগতিক দলের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ১ রানে থেমেছেন তামিম। সেই কষ্টটা লাঘব করেছেন ৩ দিন পর। সেঞ্চুরিয়নে তামিমের ৮৭ রানের হার না মানা ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অবিশ্বাস্যভাবে ৭ উইকেটে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটি থেকে প্রথমবারের মতো ওডিআই সিরিজ জয়ের উৎসব করেছে বাংলাদেশ দল।
জন্মবার্ষিকী বিষাদময় হওয়ার দৃষ্টান্তও দেখেছেন তামিম। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চট্টগ্রামের লোকাল হিরো তামিম নিজের চেনাজানা মাঠে করেছেন হতাশ পারফরমেন্স। হংকংয়ের বিপক্ষে পেয়েছেন ডাক। শুরুর ওই ধাক্কা সামাল দিতে পারেনি বাংলাদেশ। হেরে গেছে বাংলাদেশ হংকংয়ের কাছে।
তারপরও প্লেয়িং ক্যারিয়ারে তামিমের অধিকাংশ জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে আনন্দে, জন্মদিনে তামিম দেশকে দিয়েছেন সুখববর।
২০০৭ বিশ্বকাপে সুপার এইটে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বিরতির সময়ে লাঞ্চ টেবিলে স্যার ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে বসে খেয়েছি লাঞ্চ। তাও আবার এক টেবিলে বসে ক্যারিবিয়ান লিজেন্ডারির সঙ্গে লাঞ্চ করা কম গর্বের নয়। লাঞ্চের ফাঁকে স্যার ভিভ রিচার্ডসের একটা মিনি ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। ব্যাটিংয়ে বিশ্ব শাসন করতে এসেছেন তামিম, সেই ভবিষ্যদ্বানী করেছিলেন ভিভ রিচার্ডস সেই ইন্টারভিউতে। ১৮-পেরুনে একটা ছেলের মধ্যে যে প্রতিভা দেখতে পেয়েছেন, তার বিচ্ছুরণ দেখেছে বিশ্ব পরবর্তীতে। ৭০ টেস্টে ৩৮.৮৯ গড়ে ৫১৩৪ রান, ২৪৩ ওডিআই ম্যাচে ৩৬.৬৫ গড়ে ৮৩৫৭ রান এবং ৭৮ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৪.০৮ গড়ে ১৭৫৮ রান করে নিজের ব্যাটিং সক্ষমতার জানানই দিয়ে গেছেন তামিম ইকবাল। আড়াই বছর আগে সব ধরণের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়েও তাই তামিমের জন্মদিনকে বিশেষভাবে উদযাপনে ভক্তরা থাকে মুখিয়ে।