
২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ১৪ দলের বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে সামনে রেখে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব মিলিয়ে সেরা ৮-এর মধ্যে থাকায় ১০ দলের ২০১৯ এবং ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলেছে বাংলাদেশ দল।
১৪ দলের ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করবে ১০ দল। যার মধ্যে তিন যৌথ স্বাগতিকের মধ্যে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে সরাসরি কোয়ালিফাই করেছে। আইসিসির পূর্ণ সদস্য নয় বলে নামিবিয়াকে কোয়ালিফাইং রাউন্ডের বাধা পেরুতে হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে ছাড়া ৮ দেশ সরাসরি কোয়ালিফাই করবে। এই কোয়ালিফাইংয়ের জন্য আইসিসি বেধে দিয়েছে নিয়ম। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়েকে বাদ দিয়ে থাকতে হবে সেরা ৮-এ। প্রিয় ফরম্যাটের ক্রিকেটে এই চক্রটা মোটেও ভাল কাটছে না বাংলাদেশের। এই চক্রে চলমান সিরিজ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৮টি ওডিআই ম্যাচের মধ্যে হেরেছে ১২টিতে, জয় পেয়েছে সেখানে ৬টি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজ থেকে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে ৬টি সিরিজ, ১৮টি ম্যাচ। যার মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোমে হয়ে যাওয়া চলমান সিরিজের ২ ম্যাচের ফল ১-১।
বাংলাদেশ দল এখন ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে। যেহেতু ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান অবস্থান ৫ নম্বরে, সেহেতু ২০২৭ সালে অনুষ্ঠেয় আইসিসি বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাইয়ের জন্য বাংলাদেশের অবস্থান আপাতত ৯ নম্বরে ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ২০১৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ঠিক উপরে এখন ৯ নম্বরে অবস্থান করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড সেখানে আছে ৮ নম্বরে। বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ঠিক এক ধাপ উপরে থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট বাংলাদেশের সমান, ৭৭। পাকিস্তানের কাছে সিরিজের শেষ ম্যাচ জিতে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ উঠে আসবে ৯-এ। হেরে গেলে অবস্থান অপরিবর্তিত (১০ নম্বর) থাকবে।
আইসিসির চলমান ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে অবশিষ্ট আছে যে ৫টি ওডিআই সিরিজ, ওই ৫টির মধ্যে ২টিতে হোমে খেলবে বাংলাদেশ, অন্য ৩টি অ্যাওয়ে। হোমে আগামী মাসে (এপ্রিল) নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওডিআই সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। মে মাসে হোমে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবতীর্ণ হবে বাংলাদেশ দল। ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে ২-এ থাকা নিউ জিল্যান্ড এবং ৩ নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজ দুটি গুরুত্বপূর্ণ। পরের তিনটি সিরিজের দুটিতে বাংলাদেশ খেলবে র্যাঙ্কিংয়ে নীচে থাকা প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে (১১ নম্বর) এবং আয়ারল্যান্ডের (১৩ নম্বর) বিপক্ষে। এ বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ আইসিসির নির্ধারিত কাট অফ ডেটে বাংলাদেশের সর্বশেষ পরীক্ষা।
২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়ে চোখে সরষের ফুল দেখেছে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কোয়ালিফাইং রাউন্ডের বাধাও টপকাতে পারেনি ক্রিকেট ঐতিহ্যের এই দেশটি। সে কারণেই আইসিসির চলমান চক্রের অবশিষ্ট ১৬টি ওডিআই ম্যাচ বাংলাদেশের সামনে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। র্যাঙ্কিংয়ে উপরের সারির দলকে হারাতে পারলে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হবে। এই সমীকরণটা যখন সামনে এসেছে, তখন হোমে ৭টি ম্যাচকে একটু বেশিই টার্গেট করতে হবে বাংলাদেশ দলকে। সবার আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে রোববার সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় তাই অতি প্রয়োজনীয়।
No posts available.
১০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
১০ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৫৬ পিএম

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী চক্রে 'ওয়ান-অফ টেস্ট' বা একটি ম্যাচের সিরিজগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। মূলত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ১২টি দলে উন্নীত করার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নিউ জিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রজার টুজের নেতৃত্বে আইসিসির একটি বিশেষ দল এই সুপারিশ তৈরি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মে মাসে আইসিসির বোর্ড সভায় এই প্রস্তাব পেশ করা হবে।
গত বছর রজার টুজকে একটি বিশেষ দলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। যার কাজ ছিল ক্রিকেটের বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোকে আরও উন্নত করা। মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিনটি ফরম্যাট এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর ভিড়ে যে ঠাসা সূচি তৈরি হয়েছে, তার একটি সমাধান খোঁজা। এর আগে নভেম্বরে এ দলটি 'দুই স্তরের' একটি টেস্ট মডেল প্রস্তাব করলেও বেশ কিছু পূর্ণ সদস্য দেশ তা নাকচ করে দিয়েছিল।
১২টি দলের এই গ্রুপ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ মডেল নিয়ে পুনরায় হাজির হচ্ছে। এতে বর্তমানে বাদ থাকা তিনটি পূর্ণ সদস্য দেশ— জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান এবং আয়ারল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
২০১৯ সালে যখন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়। তখন এই তিনটি দেশ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সুযোগ পায়নি। তারা টেস্ট খেললেও বর্তমানে চ্যাম্পিয়নশিপের বাকি ৯টি দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ খুব একটা পায় না। গ্রুপটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করবে। সেটি হলো— একটি ম্যাচের টেস্ট সিরিজকেও পয়েন্ট টেবিলের অন্তর্ভুক্ত করা।
বর্তমানে ৯টি দেশ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে দুই বছরে তিনটি হোম এবং তিনটি অ্যাওয়ে সিরিজ খেলে। নতুন এ মডেলে একটি ম্যাচের টেস্ট অন্তর্ভুক্ত হলে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান বা আয়ারল্যান্ড সহজেই লিগে জায়গা করে নিতে পারবে। এখন দেখার বিষয় আইসিসির বোর্ড সভায় এই সুপারিশ গৃহীত হয় কিনা।

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিসিবি সাকিব আল হাসানকে দেশে ফেরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সাকিবকে ফেরানো নিয়ে বিভিন্ন সময় নান মন্তব্য করে আলোচনা সমালোচনারও জন্ম দিয়েছেন অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা ‘ফাঁকা বুলি’ হয়েই থেকেছে।
বর্তমানে বিসিবি চলছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটিকে দিয়ে। আজ মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। সাকিবের ফেরা নিয়ে আগের বোর্ড কেবল ‘স্ট্যান্ডবাজি’ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাকিবের ফেরা নিয়ে আশাবাদী মিঠুন বলেন,
‘সাকিবের দেশে ফেরা সম্ভব— আমি অবশ্যই বিশ্বাস করি। তবে এখানে সরকারের কিছু নমনীয়তা প্রয়োজন। তার যেসব মামলা বা বিষয় আছে, সেগুলো কীভাবে সমাধান করা যায় সে বিষয়ে আগে কাজ করতে হবে।’
মিঠুন যোগ করেন,
‘ক্রিকেটের দিক থেকে তার সক্ষমতা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ নেই। তিনি যদি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দেশে ফিরতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের প্রতিটি দর্শক ও মানুষই খুশি হবে।’
সাকিব ইস্যূ কেবল আলোচনায় থাকার জন্যই জিইয়ে রাখা হয়েছিল বলে মনে করেন মিঠুন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত মনে হয়েছে, সাকিব ভাইয়ের বিষয়ে বাস্তব কাজের চেয়ে ‘স্ট্যান্ডবাজি’ই বেশি হয়েছে। অনেকেই শুধু সংবাদে আসার জন্য তার নাম ব্যবহার করেছেন।
মিঠুন আরও বলেন,
‘আমার মনে হয়, এসব না করে যদি সত্যিই কেউ তার জন্য কিছু করতে চান, তাহলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সঠিক পথে তার যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। যাতে তিনি আবার বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারেন—সেটাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।’
তামিম ইকবালকে নিয়ে হওয়া ১১ সদস্যের এডহক কমিটি নিয়ে আশা দেখছেন মিঠুন। এই কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি নির্বাচিত কমিটি দিবে। দায়িত্বের নেওয়ার পর তামিমের কাজ দেখে আশাবাদী তিনি,
‘তামিম ভাই এবং তার নেতৃত্বে যে কমিটি এসেছে, তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যেভাবে কাজ শুরু করেছেন এবং যেসব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হাত দিয়েছেন, তাতে আমি আশাবাদী। আমার বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে দীর্ঘদিনের যে আশা এবং আক্ষেপ রয়েছে, সেগুলোর অনেকটাই পূরণ হবে।’

ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত এক ওভারে ছয় ছক্কা। সেই কীর্তির নায়ক যুবরাজ সিং জানালেন ঘটনাটির এক ভিন্ন দিক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর তাঁর সই করা একটি জার্সি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড—সম্প্রতি এমনটাই জানতে পেরেছেন তিনি।
২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকান যুবরাজ। বোলার ছিলেন ব্রড। ঘটনাটি নিয়ে সম্প্রতি মাইকেল ভনের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় স্মৃতিচারণ করেন সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার।
সেই সময়ের একটি ঘটনা তুলে ধরে যুবরাজ বলেন,
‘স্টুয়ার্টের বাবা ক্রিস ব্রড আমার কাছে এসে বলেছিলেন, তুমি প্রায় আমার ছেলের ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়েছিলে। আমি তাকে বলেছিলাম, স্যার, আমিও একবার পাঁচটি ছক্কা খেয়েছি, কেমন লাগে জানি। এরপর তিনি বললেন, তোমাকে স্টুয়ার্টের জন্য একটি জার্সিতে সই করতে হবে।’
তারপর জার্সিতে কী লিখেছিলেন, সেটিও জানান যুবরাজ। তাঁর ভাষায়, ‘আমি আমার ভারতের জার্সিতে লিখেছিলাম, আমিও পাঁচটি ছক্কা খেয়েছি। কেমন লাগে জানি। আশা করি তুমি একদিন সেরাদের একজন হবে।’
তবে পরে সেই জার্সির পরিণতি শুনে বিস্মিত হন যুবরাজ। বলেন, ‘সম্প্রতি জেনেছি, ক্রিস যখন জার্সিটা স্টুয়ার্টকে দেয়, সে সেটি ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। সে তখন খুবই রাগান্বিত ছিল, আর সেটা একদমই স্বাভাবিক।’
যদিও সেই হতাশাই পরে শক্তিতে পরিণত করেন ব্রড। এ প্রসঙ্গে যুবরাজ বলেন, ‘সেখান থেকেই সে এক কিংবদন্তি পেসার হয়ে ওঠে। টেস্টে ছয় শতাধিক উইকেট নিয়েছে। সেই মুহূর্তকে সে শক্তিতে পরিণত করেছে এবং দুর্দান্ত বোলার হয়েছে।’
যুবরাজের মতে, ওই এক ওভারের ঘটনাই অনেকের ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারত। তবে ব্রড সেটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা তাঁর মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজকে সামনে রেখে দলে পরিবর্তন এনেছে নিউ জিল্যান্ড। চোটের কারণে ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক ছিটকে যাওয়ায় তাঁর পরিবর্তে দলে ডাকা হয়েছে পেসার বেন লিস্টারকে। দুই বছরের বেশি সময় পর আবার জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন এই বাঁহাতি পেসার।
জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে ডান হাতের আঙুলের মাঝের অংশে গুরুতর কেটে যান ক্লার্ক। সেই চোটের কারণে বাংলাদেশ সফর থেকে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর পরই লিস্টারকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই সংস্করণের দলেই অন্তর্ভুক্ত করে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (এনজেডসি)।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে খেলছেন লিস্টার। সেখান থেকে সরাসরি বাংলাদেশে এসে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। রোববার দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে সিরিজের প্রস্তুতি শুরু করবেন তিনি। আগামী শুক্রবার মিরপুরে শুরু হবে দুই দলের ওয়ানডে সিরিজ।
পেসার বেন সিয়ার্সকে একদিনের সিরিজে পাবে না নিউ জিল্যান্ড। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) শেষ মুহূর্তে ডাক পাওয়ায় বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে সিরিজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে এই পেসারের।
নিউ জিল্যান্ড দল আগামী সোমবার সকালে বাংলাদেশের উদ্দেশে বিমানে চড়বে। সফরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা। এই সিরিজকে সামনে রেখে দল গোছাতে ব্যস্ত নিউ জিল্যান্ড, আর চোট-সংক্রান্ত সমস্যার মধ্যেই নতুন করে সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছেন লিস্টার।

আইপিএলে গতকাল রাতে খাদের কিনারা থেকে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসকে (এলএসজি) জয় এনে দিয়েছেন মুকুল চৌধুরী। এতেই রাতারাতি ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন সেনসেশনের আলোচনায় এই ব্যাটার। পেশি শক্তি দেখানোর পর জানালেন, প্রতিদিন ১০০-১৫০ ছক্কা মারার অনুশীলন করেন তিনি।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ চার ওভারে লক্ষ্ণৌর প্রয়োজন ছিল ৫৪ রান, উইকেট ছিল ৩টি। শুরুতে ৫ বলে মাত্র ১ রান করা মুকুল পরের ২২ বলে তাণ্ডব চালিয়ে যোগ করেন ৫৩ রান।
সব মিলিয়ে ২৭ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন মুকুল। ইনিংসে ছিল ৭টি ছক্কা ও ২টি চার। মুকুলের অনবদ্য ইনিংসে চড়ে শেষ বলে ৩ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নেয় লক্ষ্ণৌ। নিজেদের মাঠ ইডেন গার্ডেনসে নিশ্চিত জয়ের পথে থাকা ম্যাচ ফসকে যায় কলকাতার।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের পাওয়ার হিটিং সম্পর্কে একটু ধারণা দিলেন মুকুল। হঠাৎ অলৌকিক কোনো শক্তি কাজ করেনি, জানিয়েছেন নিয়মিত অনুশীলনেই এই সফলতা। বললেন,
‘প্রাকৃতিকভাবেই আমার শরীরে অনেক শক্তি আছে। এ ছাড়া প্রতিদিন ১০০-১৫০টি ছক্কা মারার অনুশীলন করি, যা ব্যাটের গতি বাড়াতে সহায়তা করেছে।’
১৭তম ওভারে বৈভব অরোরাকে হেলিকপ্টার শট মারেন মুকুল। মারাটা্ও স্বাভাবকি। হেলিকপ্টার শটে পারদর্শী মহেন্দ্র সিং ধোনিকেই তো আদর্শ মানেন মুকুল। সে প্রসঙ্গ এল সংবাদ সম্মেলনেও,
‘শৈশব থেকেই আমি এই শটটি অনুশীলন করছি। ধোনি ভাই যেভাবে ম্যাচ শেষ করতেন, সেটি আমার খুব প্রিয়। ইয়র্কার বলেও ছক্কা মারলে বোলার ঘাবড়ে গিয়ে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করে, আমি সেই সুযোগটাই নিয়েছি।’
২০২৫-২৬ মৌসুমের সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে রাজস্থানের হয়ে ১৯৩.৮৫ স্ট্রাইক রেটে ১৭৩ রান করার পরই মুকুলের ওপর নজর পড়ে লক্ষ্ণৌর। ২ কোটি ৬০ লাখ রুপিতে তাঁকে দলে ভেড়ানোর পর কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার বলেছিলেন, চার মাসের মধ্যে মুকুল ভারতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ৬ বা ৭ নম্বর ব্যাটার হয়ে উঠবে।
কলকাতার বিপক্ষে জয়ের পর মুকুলের ব্যাপারে কোচ ল্যাঙ্গারের স্তুতি,
‘ওর চোখে আমি ক্ষুধা দেখেছি। সে এখনো অনেক তরুণ। এই জয়টি তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারের জন্য একটি বিশাল মুহূর্ত হয়ে থাকবে।’