
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েক বছর ধরেই বেড়ে চলেছে টেম্বা বাভুমাকে নিয়ে নানা ট্রল-মিমের বাহার। এর কারণ কী? অনেকেই মনে করেন এর পেছনে বড় ভূমিকা ২০২৩ বিশ্বকাপের সেই বিখ্যাত অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলনের ছবি, যেখানে বাভুমা ক্ষনিকের জন্য ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন। আবার অনেকে টেনে আনেন তার সাথে দীর্ঘকায় সতীর্থ মার্কো ইয়ানসেনের একটি ছবি, যেখানে তাদের উচ্চতার ব্যবধান ছিল রীতিমত চোখে পড়ার মত। মূল কারণ যাই হোক, ‘লর্ড বাভুমা’ নামটা অন্তত ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিতই। বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমান জমানায় কাউকে লর্ড বলা মানেই তিনি সবার কাছে কেবলই হাসির পাত্র মাত্র।
বাভুমার যে চরিত্র, তাতে এসবে তিনি একেবারেই কান দেওয়ার লোক নন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে এসেছে অনেক কিংবদন্তি মাপের খেলোয়াড়। সেখানে একদিন তার নাম থাকবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে। তবে লড়াকু একজন ক্রিকেটার হিসেবে তিনি এরই মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করে ফেলেছেন অনেকবারই। সেটাও এমন সব বাঁধা অতিক্রম করে, যার সামনে পড়লে অনেকেই হয়ত খেলাই ছেড়ে দিতেন।
বাভুমা দক্ষিণ আফ্রিকার এই টেস্ট দলের অধিনায়ক, যিনি খুব যে বাজে ফর্মে আছেন, তাও নয়। নেতা হিসেবে দলকে পরিচালনা করার সহজাদ দক্ষতার সাক্ষর রেখেছেন আগেই। পুরো দলের সম্মানও রয়েছে তার প্রতি বেশ। এরপরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সময় অনেকেই বলে উঠেছেন, বাভুমা কীভাবে দলে থাকে? বাভুমা কীভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হয়?
এমন সব প্রশ্ন কেবল এক ফরম্যাটেই নয়, বাকি দুই ফরম্যাটেও বাভুমা যখনই অধিনায়কত্ব করেছেন, এই একই প্রশ্নগুলো তোলা হয়েছে তাকে নিয়ে। দল ভালো করলেও তাকে সমালোচনা করা হয়েছে অহেতুক। আর ব্যাট হাতে খারাপ সময় গেলে তো কথাই নেই। এটা ঠিক যে, দক্ষিণ আফ্রিকা দলে এখনও অনেকেই সুযোগ পান স্কিলের চেয়ে তাদের গায়ের রঙের জন্য। কারণ, নিয়মটা বোর্ডের তরফ থেকেই বেঁধে দেওয়া। তবে বাভুমা কেবল সেটার সুফল পাচ্ছেন, সেটা ভাবলে তার প্রতি হবে বড় অন্যায়ই।
তবে এই যুগে এসে লোকেরা কি ভাববে বা বলবে, সেটার সীমারেখা টানা প্রায় অসম্ভবই। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা জাতীয় দলের অধিনায়ককে লর্ড বলাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাভাবিক ঘটনা। সেখানে তাকে কেন দলে রাখা হয়, সেই প্রশ্ন তোলা তো মামুলি ব্যাপার মাত্রই। আর ১.৬২ মিটার উচ্চতার বাভুমার উচ্চতা নিয়ে হাসিঠাট্টাও তো সবারই প্রিয় বিষয়।
তবে কোহলি-স্মিথ-রুট-উইলিয়ামসন-বাবর বা নিজ দলের এইডেন মার্করামের মত ক্লাসি না হয়েও বাভুমা জানেন কীভাবে আলো কেড়ে নিতে হয়। কারণ তিনি জানেন কীভাবে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করতে হয় সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনালের তৃতীয় দিন ২৮২ রান তাড়ায় তিনি যখন নামেন, তখন ৮ উইকেট হাতে রেখেও জেতার জন্য ফেভারিট ছিল না তার দল।
তার মধ্যে চা বিরতির আগে একটি রান নিতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ে বাভুমার। অনেকক্ষণ ধরে নেন চিকিৎসা। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, হয়ত আপাপত আর ব্যাটিংয়ে নামবেন না তিনি। কারণ, আঘাত নিয়ে নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে যেমন সমস্যা হবে, তিন রান হবে দুই রান, আর দুই রান হয়ে যাবে এক। অন্যদিকে ছন্দে থাকা মার্করামের ওপরও বাড়বে চাপ। তবে অবিশ্বাস্যভাবে হয়নি এর একটিও।
চা বিরতির পর বাভুমা ঠিকই নেমে গেলেন। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামলালেন সাবলীল ব্যাটিংয়ে। হুক-পুল করে গেলেন নিয়মিতই। প্যাট কামিন্সকে হুক করে মারা এক ছক্কায় অনেকটাই যেন নাড়িয়ে দেন প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাস। অন্যদিকে মার্করামকে বাড়তি চাপ না দিয়ে এক-দুই রানও বের করেন দৌড়ে।
তবে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে দৌড়ানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। প্রতিটি রান নিতেই তাই সংগ্রাম করতে হয়েছেন বাভুমাকে। প্রায়ই দেখা গেছে রান নিচ্ছেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে। চোখেমুখে ব্যথা অনুভব যে হচ্ছিল, তা ছিল দৃশ্যমান। এরপরও একটিবারের জন্য হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা চিন্তা হয়নি তার। জুটিতে মার্করামকে সঙ্গ দিয়ে পার করেছেন শতক, নিজে করেছেন ফিফটি।
অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের মরিয়া সব প্রচেষ্টা যেভাবে ওভারের পর ওভার ব্যর্থ করে সলিড ডিফেন্স করেছেন বাভুমা, সেটা ক্রিকেটার হিসেবে তার সামর্থ্যেরই একটা প্রমাণ ছিল। তিনি লর্ড নন, তিনি বিশেষ বিবেচনায় দলে জায়গা পাওয়া কেউ নন, তিনি নন-পারফর্মিং ক্যাপ্টেনও নন - ফাইনালের মঞ্চে প্রতিটি বল মোকাবেলায় বাভুমার চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় যেন মিশে ছিল এই বিষয়গুলোই।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, তারাই বলতে পারবেন যে এই আঘাত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাটাও কতোটা কষ্টের। সেখানে বাভুমা দুই সেশন ব্যাট করেছেন কামিন্স-স্টার্ক-হ্যাজেলউডদের সামনে, লক্ষ্যে অবিচল থেকে। ব্যাটার হিসেবে তিনি হয়ত এবি ডি ভিলিয়ার্স মাপের কেউ নন। তবে বাভুমা ক্রিকেটের সেইসব নিরব চরিত্রদের একজন, যিনি আঁধারে মশাল জালিয়ে এরপর নিজেই মিশে যানা আধারিতে।
তবে বাভুমার সামনে দুর্দান্ত এক সুযোগ এসেছে নিজেকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসার। চতুর্থ দিন যদি তার দল শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে বিজয়ীর বেশে, তাহলে তিনি স্থায়ীভাবেই জায়গা করে নিবেন ইতিহাসে। নিজের অবিস্মরণীয় ইনিংস তো বটেই, সাথে যে যোগ হবে দেশের ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় আইসিসি টুর্নামেন্ট জেতা অধিনায়কের বিরল সম্মানও।
তবে ‘চোকার্স’ খ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকা মিরাকেল ঘটিয়ে যদি এই ফাইনাল হেরেও যায়, তবুও বাভুমা নিজেকে লর্ড থেকে ‘কিং বাভুমা’ হিসেবে রুপান্তর ঘটাতে সক্ষম হবেন। ক্যারিয়ার জুড়ে অসংখ্য লড়াই পার করে আজকের অবস্থানে আসা বাভুমার এই সম্মানটুকু তো প্রাপ্যই, তাই না?
No posts available.
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৭ পিএম
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৬:০৯ পিএম
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৫:১৬ পিএম

ফাস্ট বোলিং কাহাকে বলে এবং উহা কত প্রকার ও কী কী? দুনিয়ার অনেকেই আমাদের শিখিয়েছেন এর সংজ্ঞা। আপাতত নাহিদ রানা শেখাবেন পুরো ক্রিকেট দুনিয়াকে। বাড়াবাড়ি নাকি বাস্তবতা?
নিউ জিল্যান্ডের সাথে এক ম্যাচে ১০ ওভারে মাত্র একটা বল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের কমে করেছিলেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে গড় গতি প্রায় ১৪৬ কিলোমিটার ঘণ্টায়। এর আগে এক ম্যাচে ১৫০.২ কিলোমিটার ঘণ্টায় সর্বোচ্চ। সবশেষ বিপিএলে ১৫১.৪ কিলোমিটার ঘণ্টায় বল করতেও দেখেছিলাম। অবিশ্বাস্য না?
আজ চট্টগ্রামে নজরে এলো মাঠে বিশেষ মনোযোগী, সাগরিকার ২২ গজকে আপন করে নেওয়ার চেষ্টা, আড্ডায় এখন রানাই যেনো বড় টপিক। অতো গতি নিয়ে কেউ বল করলে কী করে অস্বীকার করা যায়? না, এই ভুলটি করবেন না প্লিজ।
রত্নের যত্ন নিন। প্রায়শই বিশ্রামে রাখতে হচ্ছে রানাকে। বিসিবি তা বুঝে? না বুঝে আর উপায় কী? সাবেক উইন্ডিজ পেইস তারকা ইয়ান বিশপ অনেক আগেই দিয়ে রেখেছিলেন যে পরামর্শ। বিশপের এক টুইট ছিল এমন,
'বাংলাদেশকে কিছু একটা করতে হবে। সেরা স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং বিশেষজ্ঞ ও ডায়েটিশিয়ানকে চাকরি দিতে হবে। নাহিদ রানা ও তাদের ফাস্ট বোলিং দলটাকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। নাহিদের গতি খুবই প্রশংসনীয়।'
গতির রেকর্ড ভাঙতে চান, এমন কিছুই কখনো বলেন না। তবে আরও গতি কী নাহিদ রানা দেখাবেন না? ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের আশেপাশে নিয়মিত? জানেন গতিই তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। গতির সাথে আপোষ নেই। শন টেইটদের চোখে তাই রানা দারুণ বুদ্ধিমান কিংবা ফিল সিমন্সের কাছে অমূল্য। চট্টগ্রামে আজ বাংলাদেশ পেস বোলিং কোচ শন টেইট বলেছেন,
'নাহিদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, সে বুদ্ধিমান ছেলে। এই মুহূর্তে ব্যাপারটাকে খুব বেশি জটিল না করে আমি মনে করি, সে যেভাবে বল করছে এবং তার জন্য যা কাজে দিচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে ভালো।'
ছোটবেলার কোচও সুযোগ পেলেই মাতেন রানা বন্দনায়। প্রথম দিন থেকেই নাহিদ রানাকে দেখে আসছেন একই গতিতে। টেপ টেনিস থেকেই বিপ্লব। অ্যাকশনে সামান্য বদল, রানা যেনো গতি দিয়ে নতুন দিনের গানই লিখতে এসেছেন এদেশের ক্রিকেটে। পেস বোলিং কোচ আলমগীর কবিরের মুখে শোনা,
'প্রথম দিনেই মনে হয়েছিল রানা কিছু একটা করবে। টেপ টেনিস খেলতো, বয়স কম ছিল। অনেক গতি ছিল শুরু থেকেই। একটু বোলিং অ্যাকশন চেঞ্জ করেছিল ছোটবেলায়। আশাকরি সামনেও দারুণ করবে ও।'
ম্যাচে একেকটা বাউন্সার, একেকটা উইকেট! রানা ঠিক কতখানি ভালো? এই গল্পটাও আপনার জানা দরকার।
সেবার জিম্বাবুয়ে এলো বাংলাদেশ। শন উইলিয়ামস বললেন,
'এখনকার দিনে অনেক বোলারই আছে দ্রুতগতিতে বল করতে পারে। দুনিয়ায় শুধু একজনই জোরে বল করে না। আমরা এটার জন্য প্রস্তুত। আমাদের কাছে বোলিং মেশিন আছে, যা মানুষের চেয়ে দ্রুতগতিতে বল করে।'
জিম্বাবুয়ের সাথে দারুণ করে নাহিদ রানা জানালেন তিনি মেশিনের চেয়েও ভালো!
মাঠের লড়াই অনেকের জন্য, কেবলই একটা সাধারণ ম্যাচ। রানার জন্য তারচেয়েও অনেকটা বেশি। চোটে ভয়? ধুর ছাই! দিনের প্রথম বলটা যে গতিতে, শেষটাও একই গতিতে।
'ইনজুরি কখনও বলে-কয়ে আসে না। আর আপনি যদি যুদ্ধে নামেন, তবে গুলি তো আপনার গায়ে লাগবেই। সেই রকম যদি ক্রিকেট খেলেন তো ইনজুরি আসবেই, ইনজুরিতে পড়বেন এটা স্বাভাবিক'
দুদিন আগেই বলেছিলেন রানা।
চোটে ভয় পেলে কি আর নাহিদ রানা হওয়া যায়? পেইস ইজ পেইজ ইয়ার।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ইতিহাসে ষষ্ঠ বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেছেন তরুণ পেসার আলী রাজা। বুধবার করাচি কিংসের বিপক্ষে শেষ ওভারে হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি।
লাহোরে প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮২ রান সংগ্রহ করে করাচি। ইনিংসের শেষ ওভারে রাজার হাতে বল তুলে দেন পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক বাবর আজম। ওভারের চতুর্থ বলটি ‘ওয়াইড’ হলেও সেই বলে রান আউট হয়ে ফেরেন আব্বাস আফ্রিদি। ওয়াইড হওয়ায় রাজার হাতে আরও তিনটি বৈধ বল বাকি ছিল। পরের বলে খুশদিল শাহ ইয়র্কর সামলাতে গিয়ে ‘হিট আউট’ হন। পঞ্চম বলে আরও একটি দুর্দান্ত ইয়র্করে শহীদ আজিজের মিডল স্টাম্প উপড়ে ফেলেন এই তরুণ তুর্কি।
টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজা শেষ বলে ঘণ্টায় ১৪৯.১ কিলোমিটার গতিতে এক বিধ্বংসী ফুল টস করেন। হাসান আলী সেই গতির কাছে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হলে পূর্ণ হয় আলী রাজার ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক। পিএসএলের ইতিহাসে সপ্তম বোলার (রান আউটসহ ধরলে) হিসেবে হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন তিনি এবং টুর্নামেন্টের কনিষ্ঠতম বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন। শেষ পর্যন্ত ৪১ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন আলী।
২০২৪ সালে পেশাদার ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া আলী রাজা এ বছরের শুরুতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে নজর কেড়েছিলেন। সেখানে মাত্র ৯.০৭ গড়ে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি, যা ছিল টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ। সম্প্রতি ‘উইজডেন ক্রিকেট মান্থলি’র বিশ্বের সেরা ৪০ তরুণ ক্রিকেটারের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন এই পেসার। এখন পর্যন্ত ১৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার ঝুলিতে আছে ২৫টি উইকেট।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান নির্বাহী কমিটিকে আগামী রবিবারের মধ্যে পদত্যাগ করে নতুন প্রশাসনের জন্য পথ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোর্ডের একজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগে চরমে। বর্তমানে সংস্থাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন চারবারের নির্বাচিত সভাপতি শাম্মি সিলভা।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এসএলসির ওই কর্মকর্তা বলেন,
‘একজন সাবেক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকারের নেতৃত্বে শিগগিরই একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। জনগণের তীব্র অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করে শ্রীলঙ্কা। ঘরের মাঠে খেলা টুর্নামেন্টটিতে শ্রীলঙ্কা সুপার এইট থেকে বিদায় নিলে সমর্থকদের মধ্যে বোর্ডের আমূল পরিবর্তনের জোরালো দাবি ওঠে।

ওপরের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতা সামলে চমৎকার ব্যাটিং করলেন আকবর আলি ও প্রিতম কুমার। দুই ব্যাটারই পেলেন সেঞ্চুরির স্বাদ। অন্য মাঠে আরেক ম্যাচে একই সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেন মুশফিকুর রহিম ও অমিত হাসান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে দ্বিতীয় দিন দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন আকবর ও প্রিতম। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ১৫১ রানে অপরাজিত প্রিতম। আর ১২১ রানে আউট হয়েছেন আকবর।
দুজনের সেঞ্চুরির সৌজন্যে দ্বিতীয় দিন শেষে দক্ষিণাঞ্চলের চেয়ে ৬৫ রানে এগিয়ে উত্তরাঞ্চল। আগে ব্যাট করে ৩১৪ রানে অলআউট হয় দক্ষিণাঞ্চল। আর এখন পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৭৯ রান করেছে উত্তরাঞ্চল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে বিনা উইকেটে ১৬ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে উত্তরাঞ্চল। দিনের শুরুতে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫), সাব্বির হোসেন (১৮) ও ইকবাল হোসেন (৯)।
মাত্র ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন আকবর ও প্রিতম। ম্যারাথন এই জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ২৩৩ রান। দিনের শেষ সেশনে গিয়ে আকবরের বিদায়ে ভাঙে বিশাল এই জুটি।
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরিতে ১৫ চার ও ২ ছক্কায় ১৫৮ বলে ১২১ রান করেন উত্তরাঞ্চলের অধিনায়ক।
আকবর ফিরলেও অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন প্রিতম। তবে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি এসএম মেহেরব হাসান (২) ও তানবীর হায়দার (১৯)। তবে দিনের শেষ দিকে উইকেট পড়তে দেননি প্রিতম ও সানজামুল ইসলাম। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৪৯ রান যোগ করেন তারা।
দিন শেষে ১৬ চার ও ২ ছকায় ১৮৪ বলে ১৫১ রানে অপরাজিত প্রিতম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার পঞ্চম সেঞ্চুরি। সানজামুলের সংগ্রহ ৩৯ বলে ২২ রান।
অমিত-মুশফিকের ফিফটি
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিন শেষে মধ্যাঞ্চলের চেয়ে ৬৪ রানে পিছিয়ে রয়েছে পূর্বাঞ্চল। তবে অমিত ও মুশফিকের ব্যাটে দারুণ অবস্থায় তারা। দ্বিতীয় দিন শেষে পূর্বাঞ্চলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৪৩ রান। এর আগে ৩০৭ রানে অলআউট হয় মধ্যাঞ্চল।
৬ উইকেটে ২৭২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে মধ্যাঞ্চল। দিনের দ্বিতীয় ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন আবু হায়দার রনি। আগের দিন ৯০ রান করা পেস বোলিং অলরাউন্ডার আর এদিন কোনো রান যোগ করতে পারেননি।
তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটার আশিকুর রহমান শিবলিও সম্ভাবনা জাগিয়ে সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ৯ চার ও ১ ছক্কায় ১৮২ বলে ৮৬ রান করে আউট হন তিনি। সব মিলিয়ে এদিন ৩৫ রানের বেশি করতে পারেনি মধ্যাঞ্চল।
পূর্বাঞ্চলের পক্ষে ৫৪ রানে ৪ উইকেট নেন ইবাদত হোসেন চৌধুরি। এছাড়া ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন তোফায়েল আহমেদ।
এরপর ব্যাট করতে নেমে বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি জাকির হাসান (১৩) ও মুমিনুল হক (১৫)। তৃতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন মাহমুদুল হাসান জয় ও অমিত। ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৪ রান করে আউট হন জয়।
এরপর আর উইকেট পড়তে দেননি অমিত ও মুশফিক। দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে যোগ করেছেন ১১৫ রান। দিন শেষে ১৫৭ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত অমিত। আর ৮৩ বলে ৫৯ রানে নতুন দিন শুরু করবেন মুশফিক।

প্রথম দুই ওয়ানডেতে একটি করে জয় বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের। ১-১ সমতায় থাকায় সিরিজ ছড়াচ্ছে রোমাঞ্চ। চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম কাল অঘোষিত ফাইনালে দেখা হচ্ছে মিরাজ-লাথামদের।
তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়াও দারুণ খেলছে নিউ জিল্যান্ড। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে উইলিয়াম ও’রুরকি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিরিজ জয়ই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আজ এই পেসার কিছুটা হুঙ্কারই ছুঁড়লেন, ‘অবশ্যই, আমরা এখানে এসে সিরিজ জিততে চাই এবং বিষয়টি নিয়ে আমরা সবাই বেশ রোমাঞ্চিত। সবাই খুব ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা কাল মাঠে নিজেদের সেরাটা দেব এবং সিরিজ জেতার লক্ষ্যেই নামব।’
সাগরিকার উইকেট ঐতিহ্যগতভাবেই ব্যাটিং সহায়ক। তবে এবার পিচে কিছুটা ঘাসের ছোঁয়া দেখছেন এই কিউই দীর্ঘদেহী পেসার। উইকেট ও আউটফিল্ড প্রসঙ্গে বলেন, ‘মাঠ বেশ শুকনোই মনে হচ্ছে। তবে উইকেটটি দেখে আমার ভালো লেগেছে, মনে হলো বেশ কিছু ঘাস আছে। আশা করি গতি ও বাউন্স দুটোই পাওয়া যাবে। আসল চিত্র কালকেই বোঝা যাবে।’
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে আসা পরিবর্তনের বিষয়টিও নজর কেড়েছে রুরকির। এক সময় স্পিন-নির্ভর থাকলেও বর্তমানে নাহিদ রানার মতো গতির বোলার ও মোস্তাফিজুর রহমানের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ বাংলাদেশের পেস ইউনিট। রুরকি বললেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তারা ভালো মানের পেস উইকেট বানাবে। তাদের বর্তমানে বেশ ভালো কিছু পেসার আছে। গত ম্যাচে রানা খুব ভালো করেছে, মোস্তাফিজের মতো বিশ্বমানের বোলারও সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তাদের পেস আক্রমণ এখন বেশ শক্তিশালী।’
নিউ জিল্যান্ডের এই বর্তমান দলটি বেশ তরুণ, যাদের অনেকেরই বাংলাদেশে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। তবুও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে জয়ের পথ খুঁজছেন তারা। রুরকি বলেন, ‘আমাদের অনেকেরই আগে বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তাই আমরা জানতাম যে প্রতিটা দিন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হবে। কালও আমরা উইকেটের আচরণ দ্রুত বুঝে নিয়ে সেই অনুযায়ী সেরা পরিকল্পনাটি ঠিক করার চেষ্টা করব।’
কিউইদের হুঙ্কারের বিপরীতে বাংলাদেশ দলও প্রস্তুত। প্রথম ওয়ানডে হারলেও দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। ১১ বছর পর আবারও ব্লাকক্যাপস বধের হাতছানি স্বাগতিকদের সামনে।