
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েক বছর ধরেই বেড়ে চলেছে টেম্বা বাভুমাকে নিয়ে নানা ট্রল-মিমের বাহার। এর কারণ কী? অনেকেই মনে করেন এর পেছনে বড় ভূমিকা ২০২৩ বিশ্বকাপের সেই বিখ্যাত অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলনের ছবি, যেখানে বাভুমা ক্ষনিকের জন্য ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন। আবার অনেকে টেনে আনেন তার সাথে দীর্ঘকায় সতীর্থ মার্কো ইয়ানসেনের একটি ছবি, যেখানে তাদের উচ্চতার ব্যবধান ছিল রীতিমত চোখে পড়ার মত। মূল কারণ যাই হোক, ‘লর্ড বাভুমা’ নামটা অন্তত ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিতই। বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমান জমানায় কাউকে লর্ড বলা মানেই তিনি সবার কাছে কেবলই হাসির পাত্র মাত্র।
বাভুমার যে চরিত্র, তাতে এসবে তিনি একেবারেই কান দেওয়ার লোক নন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে এসেছে অনেক কিংবদন্তি মাপের খেলোয়াড়। সেখানে একদিন তার নাম থাকবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে। তবে লড়াকু একজন ক্রিকেটার হিসেবে তিনি এরই মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করে ফেলেছেন অনেকবারই। সেটাও এমন সব বাঁধা অতিক্রম করে, যার সামনে পড়লে অনেকেই হয়ত খেলাই ছেড়ে দিতেন।
বাভুমা দক্ষিণ আফ্রিকার এই টেস্ট দলের অধিনায়ক, যিনি খুব যে বাজে ফর্মে আছেন, তাও নয়। নেতা হিসেবে দলকে পরিচালনা করার সহজাদ দক্ষতার সাক্ষর রেখেছেন আগেই। পুরো দলের সম্মানও রয়েছে তার প্রতি বেশ। এরপরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সময় অনেকেই বলে উঠেছেন, বাভুমা কীভাবে দলে থাকে? বাভুমা কীভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হয়?
এমন সব প্রশ্ন কেবল এক ফরম্যাটেই নয়, বাকি দুই ফরম্যাটেও বাভুমা যখনই অধিনায়কত্ব করেছেন, এই একই প্রশ্নগুলো তোলা হয়েছে তাকে নিয়ে। দল ভালো করলেও তাকে সমালোচনা করা হয়েছে অহেতুক। আর ব্যাট হাতে খারাপ সময় গেলে তো কথাই নেই। এটা ঠিক যে, দক্ষিণ আফ্রিকা দলে এখনও অনেকেই সুযোগ পান স্কিলের চেয়ে তাদের গায়ের রঙের জন্য। কারণ, নিয়মটা বোর্ডের তরফ থেকেই বেঁধে দেওয়া। তবে বাভুমা কেবল সেটার সুফল পাচ্ছেন, সেটা ভাবলে তার প্রতি হবে বড় অন্যায়ই।
তবে এই যুগে এসে লোকেরা কি ভাববে বা বলবে, সেটার সীমারেখা টানা প্রায় অসম্ভবই। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা জাতীয় দলের অধিনায়ককে লর্ড বলাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাভাবিক ঘটনা। সেখানে তাকে কেন দলে রাখা হয়, সেই প্রশ্ন তোলা তো মামুলি ব্যাপার মাত্রই। আর ১.৬২ মিটার উচ্চতার বাভুমার উচ্চতা নিয়ে হাসিঠাট্টাও তো সবারই প্রিয় বিষয়।
তবে কোহলি-স্মিথ-রুট-উইলিয়ামসন-বাবর বা নিজ দলের এইডেন মার্করামের মত ক্লাসি না হয়েও বাভুমা জানেন কীভাবে আলো কেড়ে নিতে হয়। কারণ তিনি জানেন কীভাবে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করতে হয় সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনালের তৃতীয় দিন ২৮২ রান তাড়ায় তিনি যখন নামেন, তখন ৮ উইকেট হাতে রেখেও জেতার জন্য ফেভারিট ছিল না তার দল।
তার মধ্যে চা বিরতির আগে একটি রান নিতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ে বাভুমার। অনেকক্ষণ ধরে নেন চিকিৎসা। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, হয়ত আপাপত আর ব্যাটিংয়ে নামবেন না তিনি। কারণ, আঘাত নিয়ে নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে যেমন সমস্যা হবে, তিন রান হবে দুই রান, আর দুই রান হয়ে যাবে এক। অন্যদিকে ছন্দে থাকা মার্করামের ওপরও বাড়বে চাপ। তবে অবিশ্বাস্যভাবে হয়নি এর একটিও।
চা বিরতির পর বাভুমা ঠিকই নেমে গেলেন। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামলালেন সাবলীল ব্যাটিংয়ে। হুক-পুল করে গেলেন নিয়মিতই। প্যাট কামিন্সকে হুক করে মারা এক ছক্কায় অনেকটাই যেন নাড়িয়ে দেন প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাস। অন্যদিকে মার্করামকে বাড়তি চাপ না দিয়ে এক-দুই রানও বের করেন দৌড়ে।
তবে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে দৌড়ানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। প্রতিটি রান নিতেই তাই সংগ্রাম করতে হয়েছেন বাভুমাকে। প্রায়ই দেখা গেছে রান নিচ্ছেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে। চোখেমুখে ব্যথা অনুভব যে হচ্ছিল, তা ছিল দৃশ্যমান। এরপরও একটিবারের জন্য হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা চিন্তা হয়নি তার। জুটিতে মার্করামকে সঙ্গ দিয়ে পার করেছেন শতক, নিজে করেছেন ফিফটি।
অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের মরিয়া সব প্রচেষ্টা যেভাবে ওভারের পর ওভার ব্যর্থ করে সলিড ডিফেন্স করেছেন বাভুমা, সেটা ক্রিকেটার হিসেবে তার সামর্থ্যেরই একটা প্রমাণ ছিল। তিনি লর্ড নন, তিনি বিশেষ বিবেচনায় দলে জায়গা পাওয়া কেউ নন, তিনি নন-পারফর্মিং ক্যাপ্টেনও নন - ফাইনালের মঞ্চে প্রতিটি বল মোকাবেলায় বাভুমার চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় যেন মিশে ছিল এই বিষয়গুলোই।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, তারাই বলতে পারবেন যে এই আঘাত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাটাও কতোটা কষ্টের। সেখানে বাভুমা দুই সেশন ব্যাট করেছেন কামিন্স-স্টার্ক-হ্যাজেলউডদের সামনে, লক্ষ্যে অবিচল থেকে। ব্যাটার হিসেবে তিনি হয়ত এবি ডি ভিলিয়ার্স মাপের কেউ নন। তবে বাভুমা ক্রিকেটের সেইসব নিরব চরিত্রদের একজন, যিনি আঁধারে মশাল জালিয়ে এরপর নিজেই মিশে যানা আধারিতে।
তবে বাভুমার সামনে দুর্দান্ত এক সুযোগ এসেছে নিজেকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসার। চতুর্থ দিন যদি তার দল শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে বিজয়ীর বেশে, তাহলে তিনি স্থায়ীভাবেই জায়গা করে নিবেন ইতিহাসে। নিজের অবিস্মরণীয় ইনিংস তো বটেই, সাথে যে যোগ হবে দেশের ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় আইসিসি টুর্নামেন্ট জেতা অধিনায়কের বিরল সম্মানও।
তবে ‘চোকার্স’ খ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকা মিরাকেল ঘটিয়ে যদি এই ফাইনাল হেরেও যায়, তবুও বাভুমা নিজেকে লর্ড থেকে ‘কিং বাভুমা’ হিসেবে রুপান্তর ঘটাতে সক্ষম হবেন। ক্যারিয়ার জুড়ে অসংখ্য লড়াই পার করে আজকের অবস্থানে আসা বাভুমার এই সম্মানটুকু তো প্রাপ্যই, তাই না?
No posts available.

মুম্বাইয়ের গর্জন থামাতে চান স্যাম কারান। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এমন প্রত্যয়ই ব্যক্ত করেছেন ইংল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার।
আজ মুম্বাইয়ে অনুশীলনের আগে কারান বলেন, ছোটবেলায় যে স্বপ্ন দেখতেন, তার একটি ছিল ভারতে ভারতের বিপক্ষে খেলা,
‘শ্রীলঙ্কা থেকে মুম্বাইয়ে উড়ে আসার সময় ভাবছিলাম, ছোটবেলায় কী স্বপ্ন দেখতাম। ভারতের বিপক্ষে ভারতে খেলাটা নিশ্চয়ই তার একটি। এটা দারুণ অভিজ্ঞতা।’
সেমিফাইনালটি হবে ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক সমর্থকদের উপস্থিতিতে গ্যালারি থাকবে সরব—এমনটাই প্রত্যাশা ইংল্যান্ড শিবিরের। তবে সেটিকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন কারান। বললেন,
‘স্টেডিয়াম খুব জোরে গর্জে উঠবে। এটাকে রোমাঞ্চকর সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। যদি গ্যালারি নীরব হয়ে যায়, বুঝতে হবে ইংল্যান্ড ভালো করছে—আমরা সেটাই ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছি।’
চলমান আসরে ইংল্যান্ড দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই নিয়মিত খেলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে। ফলে ভারতীয় দর্শকদের আবেগঘন সমর্থনের সঙ্গে তারা পরিচিত। কারানের মতে, সেই অভিজ্ঞতাই কাজে দেবে। কারন বলেন,
‘আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, আমরা ভারতে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। এখানে খেলতে খেলতে আপনি শব্দকে উপেক্ষা করতে শিখে যান। অবশ্যই পরিবেশটা উপভোগ্য। অনেক তরুণ ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলার।’
কারান আশা করছেন, ম্যাচের পরিস্থিতি এমন হবে যাতে গ্যালারি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যায়,
‘আশা করি স্টেডিয়ামটা নীরব হবে। তবে নিশ্চিতভাবেই খুব জোরে সমর্থন থাকবে। দুইটি দুর্দান্ত দল মুখোমুখি হচ্ছে। গত চার–পাঁচ সপ্তাহের পরিশ্রম আমাদের এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। আশা করি, আমরা আরেক ধাপ এগিয়ে ফাইনালের পথে যেতে পারব।’
সব মিলিয়ে মুম্বাইয়ের উত্তপ্ত পরিবেশেই বড় চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। তবে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে স্বাগতিকদের গ্যালারি স্তব্ধ করেই ফাইনালে উঠতে চায় তারা।

আগামীকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মাড়ে গড়াবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচ। আর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
কুড়ি কুড়ি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ কারা পরিচালনা করবেন, জানিয়ে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি। মঙ্গলবার দু’টি সেমিফাইনালের ম্যাচ রেফারি এবং আম্পায়ারদের নাম জানিয়েছে তারা।
বুধবার ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ডের ম্যাচে মাঠের দুই আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ এবং অ্যালেক্স হোয়ার্থ। কলকাতায় তৃতীয় আম্পায়ার নিতিন মেনন। চতুর্থ আম্পায়ার রড ট্যাকার। ম্যাচ রেফারি জ্যাভগল শ্রীনাথ।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারত ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে ম্যাচে আম্পায়ারিং করবেন ক্রিস গাফানি এবং আলাউদ্দিন পালেকর। তৃতীয় ও চতুর্থ আম্পায়ার যথাক্রমে অ্যাড্রিয়ান হোল্ডস্টক ও পল রাইফেল। ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন অ্যান্ডি পাইক্রফট। এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হ্যান্ডশেক বিতর্কে ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
২০২৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচেও গাফানি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আর আলাউদ্দিন এ বারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দু’টি ম্যাচে আম্পায়ার হিসাবে ছিলেন। ভারত-নেদারল্যান্ডস ম্যাচেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আগামী পরশু দেখা হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ডের। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন মাইকেল ভন।
ভারতের চেয়ে ইংল্যান্ডের স্পিন আক্রমণ ভালো¬—এমনই দাবি করেছেন ভন। সাবেক ইংলিশ অধিনায়কের ‘মজার এক অনুভূতি’ হচ্ছে, মুম্বাইয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয় পেতে পারে ইংল্যান্ড।
বিবিসির টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল পডকাস্টে ভন বলেন, ‘ইংল্যান্ডের স্পিন আক্রমণ ভারতের চেয়ে ভালো। ডসন, রশিদ ও উইল জ্যাকস—স্পিনে এই তিনজনই টুর্নামেন্টের সেরা ত্রয়ী।’
ভারত টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে শুরু করলেও সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে এবং গ্রুপ পর্বেও কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড এখনো পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স দিতে না পারলেও টানা পাঁচ জয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে।
ভনের ভাষায়, ‘ওরা জয়ের পথ খুঁজে নিচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়মরক্ষার ছিল, কিন্তু যেভাবে শেষ পর্যন্ত জিতেছে, সেটা দারুণ প্রচেষ্টা।’
ইংল্যান্ডের স্পিন বিভাগে আছেন আদিল রশিদ, লিয়াম ডসন ও উইল জ্যাকস। ভনের মতে, ভারতের বরুণ চক্রবর্তীকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চাপে ফেলা গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি যথাক্রমে ৪০ ও ৪৭ রান দিয়েছেন।
ভারতের হাতে বিকল্প হিসেবে আছেন বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব, যাঁর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো রেকর্ড রয়েছে। তবে এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র তিন ওভার বল করেছেন তিনি।
ভন বলেন, ‘ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং অসাধারণ। ওদের সতর্কতা চোখে পড়ার মতো। উইকেটের মধ্যে দৌড়ও দারুণ। ছোট ছোট যে বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেগুলো ইংল্যান্ড খুব ভালোভাবে করছে।’তিনি যোগ করেন, ‘আমার ভেতরে একটা মজার অনুভূতি কাজ করছে—মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ড কাজটা করে ফেলতে পারে।’
ওপেনার জস বাটলার টানা পাঁচ ইনিংসে এক অঙ্কে আউট হয়েছেন। ভনের মতে, বাটলার হয়তো টেকনিক নিয়ে বেশি ভাবছেন। ভন বলেন, ‘যখন আপনি ভালো অনুভব করেন না, তখন টেকনিক নিয়ে ভাবেন। কিন্তু জস হ্যান্ড-আই খেলোয়াড়। বলের দিকে তাকাও, প্রতিক্রিয়া দেখাও। বাটলারের র্যাম্প শট দেখা যাচ্ছে না। এই উইকেট ওই শটের জন্য ভালো হতে পারে। ভালো খেললে শুরুতেই সে শট বের করে আনে।’
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ড। ২০২২ সালে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ড ১০ উইকেটে জিতেছিল, ২০২৪ বিশ্বকাপে গায়ানায় জয় পায় ভারত। দুই দলই পরে শিরোপা জিতেছিল।
ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারান বলেন, ২০২২ সালের জয়ই হতে পারে আদর্শ উদাহরণ। নিখুঁত ম্যাচ খুঁজতে গেলে ২০২২ সালের ম্যাচটাই মডেল হতে পারে, বলেন তিনি।
সব মিলিয়ে ভনের মতে, স্পিন, ফিল্ডিং ও ছোট ছোট দিকগুলোতে এগিয়ে থাকাই ইংল্যান্ডকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মুম্বাইয়ের গর্জনমুখর পরিবেশে সেই বিশ্বাস কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পর অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপ, এরপর এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ- পরপর তিনটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে নেই এনামুল হক বিজয়। বিপিএল ও অদম্য টি-টোয়েন্টি থেকে তাকে বাদ দিয়েছে বিসিবি। তবে বিসিএলে নিজ থেকেই খেলেননি অভিজ্ঞ ওপেনার।
শুধু তাই নয়, বিসিবির তরফ থেকে সম্মান ফেরত না পেলে আর কখনও ক্রিকেট খেলবেন না সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়। শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বিকেলে আচমকা ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেছেন একসময়ের জাতীয় দলের ওপেনার।
২০২৪-২৫ মৌসুমের বিপিএলে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলেছিলেন বিজয়। ওই টুর্নামেন্টে ফিক্সিংয়ের সন্দেহভাজন তালিকায় আসে তার নাম। পরে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের পরামর্শ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমের বিপিএলে খেলতে দেওয়া হয়নি বিজয়কে।
তবে এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও, ওই বিপিএলে বিজয়ের ফিক্সিং কাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি বিসিবি। তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সুনির্দিষ্ট কোনো শাস্তির ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। তাই এখন এই বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান ও নিজের হারানো সম্মান ফেরত চান বিজয়।
“আমি সিম্পল একটা কথা বলি, আমার ক্রিকেট খেলার দরকার নাই। যতক্ষণ পর্যন্ত না ওনারা আমাকে সম্মান ফেরত দিচ্ছেন, সসম্মানে সবাইকে জানাচ্ছে যে, বিজয় অপরাধী না, বিজয়ের পারিশ্রমিক শোধ হয়েছে, বিজয়ের সঙ্গে (ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে) যা হয়েছে, এই নামগুলো ভুলে এসেছে, সন্দেহের তালিকায় ছিল এখন জিনিসটা সুন্দর (সমাধান) হয়ে গেছে, সব ধরনের খেলাও খেলতে পারবে। সুন্দর করে বিসিবি যখন বলবে তখন আমি ক্রিকেট খেলব।”
“এমন না যে... এই বিসিএল খেললে এমন কি! এর আগেও আমি বহুত সেঞ্চুরি করেছি। এ মাঠে আমার অনেক সেঞ্চুরি আছে। অন্য জায়গায় যেখানেই খেলি অনেক সেঞ্চুরি আছে। আপনারা অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন, অনেক পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ! আমার এখন সম্মান দরকার। সম্মানের জন্য ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলে আসছি, টাকার জন্য না। সেটা আমি আবার ফেরত পাইতে চাই।”
তাহলে এটা কি অবসরের ঘোষণা কি না, তা জানতে চাওয়া হয় বিজয়ের কাছে। প্রশ্নের উত্তরে প্রচ্ছন সেই ইঙ্গিত দিয়ে রাখেন স্বীকৃত ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৫১টি সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার।
“এটা এক ধরনের যদি বলেন, আমাকে যদি তারা উপযুক্ত সম্মান, ঠিকভাবে না দেয়, আমার কাছে মনে হয় যে আমি (ক্রিকেটে) ফিরব না। আমার দরকার নাই ক্রিকেট খেলার।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সনাথ জয়াসুরিয়া। সাবেক এই ক্রিকেটারের বিদায়ের পর দাসুন শানাকার দলের নতুন হেড কোচ কে হবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপ হতাশাজনকভাবে শেষ হলেও ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই চক কষছে শ্রীলঙ্কা।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠন এবং অভিজ্ঞ ও প্রমাণিত কোনো কোচকে দায়িত্ব দিতে আগ্রহী শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। এসএলসির সে শর্টলিস্টে তিন অভিজ্ঞ কোচ—ট্রেভর বেলিস, অ্যালান ডোনাল্ড ও জনাথন ট্রট।
ট্রেভর শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে পরিচিত মুখ। ২০০৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত লঙ্কান ক্রিকেটের প্রধান কোচ ছিলেন। টম মুডির পর দায়িত্ব নিয়ে দলকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখেছিলেন বেলিস। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকে বিদায় নিলেও ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। শেষ পর্যন্ত রানার্স-আপ হয় শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট সংস্কৃতি ও খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ভালো ধারণা ট্রেভরের।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেস কিংবদন্তি ডোনাল্ড আছেন শর্টলিস্টে। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বোলিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক—দুই পর্যায়েই কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে ডোনাল্ডের।
২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ ছিলেন ডোনাল্ড। তাঁর ট্যাকটিকস ও তরুণ সম্ভাবনাময় পেসারদের গড়ে তোলার ক্ষমতা রয়েছে তার।
ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার জনাথন ট্রট রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায়। ২০২২ সালে আফগানিস্তানের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন তিনি। তাঁর অধীনে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে মোহাম্মদ নবীরা। সেমিফাইনালের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল আফগানিস্তান।
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আফগানিস্তানকে সেমিফাইনালে তুলতে ভূমিকা রাখেন ট্রট। তরুণ প্রতিভা গড়ে তোলা ও লড়াকু দল তৈরি করার দক্ষতা তাকে শ্রীলঙ্কার জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প করে তুলেছে।