
ক্রিকেটকে যুগে যুগে অনেক মহাতারকা উপহার দিয়ে আসছে পাকিস্তান। কিংবদন্তি ইমরান খান, শোয়েব আক্তার, ওয়াকার ইউনুস থেকে শহীদ আফ্রিদি এরপর হালের বাবর আজম। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বক্রিকেটে সেরাদের কাতারে নাম লিখিয়েছেন তাঁরা। পাকিস্তানের পাইপলাইনে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার এখন দূত্যি ছড়ানোর অপেক্ষায় আছেন। তাদের মধ্যে ভবিষ্যত সুপারস্টার হওয়ার মতো কি আছেন কেউ?
দক্ষিণ আফ্রিকা সাবেক পেসার ওয়েইন পারনেল বেছে নিলেন পাকিস্তানের এক তরুণ অলরাউন্ডারকে। তাঁর মতে উদীয়মান এই ক্রিকেটারের পাকিস্তানের পরবর্তী মহাতারকা হওয়ার সব ধরণের প্রতিভাই আছে।
মায সাদাকাত। স্পিনিং অলরাউন্ডার। সবশেষ পাকিস্তান শাহিনসের হয়ে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস চ্যাম্পিয়নশিপ-এ নিজের জাত চিনিয়েছেন। এখন খেলছেন নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল)-এ জানকপুর বোল্টসের হয়ে। এই দলের অধিনায়ক সাবেক অভিজ্ঞ প্রোটিয়া পেসার পারনেল।
২০ বছর বয়সী সাদাকাত বোল্টসের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩টি ম্যাচ খেলেছেন। ৩১.৬৬ গড়ে করেছেন ৯৫ রান, স্ট্রাইক রেটে ১৭৯.২৪। বাঁহাতি এই ওপেনার সবশেষ গতকাল চিতওয়ান রিনোসের বিপক্ষে ৩০ বলে ৬৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। বল হাতেও বেশ কার্যকর বাঁহাতি অর্থোডক্স এই বোলার। ৬.৫০-এ দারুণ ইকোনোমি রেটে ২৬ গড়ে নেয়েছেন ৩ উইকেট।
বোল্টের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্সে অধিনায়ক পারনেলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন সাদাকাত। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পারনেল মাযের সঙ্গে একটি সেলফি শেয়ার করে ক্যাপশন লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের পরবর্তী সুপারস্টার (মায সাদাকাত)।’
সবশেষ এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস চ্যাম্পিয়নশিপে সাদাকাতের পাফরম্যান্সেই স্পষ্ট কতটা প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার তিনি। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত অবদানে টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের শিরোপা জেতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে জিতেছেন ‘প্লেয়ার অব দ্যা টুর্নামেন্ট’।
আট দলের এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এই সাদাকাতই। চোখধাঁধানো ১২৯ গড়ে ৫ ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২৫৮ রান। করেছেন দুটি অপরাজিত হাফ-সেঞ্চুরি। ৭.৪২ গড়ে বল হাতে নিয়েছেন ৭ উইকেট। ইকোনমি রেট আরও চমকজাগানিয়া, ৪.৩৩!
এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপপর্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইন্ডিয়া ভারতের বিপক্ষেই সবচেয়ে সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন সাদাকাত। বল হাতে মাত্র ১২ দিয়ে ২ উইকেট নেওয়ার পর ৪৭ বলে ৭৯ রানের অসাধারণ এক অপরাজিত ইনিংস খেলেন।
পারফরম্যান্সের এই ধারা বজায় রেখে সাদাকাত কত দূরে যান সেটাই দেখার। ওয়েইন পারনেলের ভবিষ্যতবাণী বাস্তবে রূপ দিয়ে সাদাকাত পাকিস্তানের মহাতারকা হতে পারার বিষয়টা সময়ের হাতেই ছেড়ে দেওয়া যাক।
No posts available.
১৩ মার্চ ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম
১৩ মার্চ ২০২৬, ৮:৩০ পিএম

ক্রিকেটে আউট হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তবে কিছু আউট থাকে, যেগুলো নিয়মের চেয়ে বিতর্কের কারণেই বেশি আলোচিত হয়। যার সবশেষ সংযোজন মিরপুরে আজ বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমান আলি আগাকে করা মেহেদি হাসান মিরাজের আউটটি।
গত এক দশকে বাংলাদেশের ম্যাচ ঘিরে এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যা শুধু মাঠেই উত্তেজনা তৈরি করেনি বরং ক্রিকেট বিশ্বেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের সঙ্গে যত বিতর্কিত আউট
অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের 'টাইমড আউট'
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে টাইমড আউট দিলে চরম বিতর্ক হয়। হেলমেটের সমস্যার কারণে মাঠে নামতে দেরি হওয়ায় সাকিবের আপিলে ম্যাথিউসকে টাইমড আউট ঘোষণা করেন আম্পায়ার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ঘটনা।
মুশফিকুর রহিমের 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড'
২০২৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে নির্বিষ এক ডেলিভারি মুশফিকুর রহিম ডিফেন্স করার পর বল যখন স্ট্যাম্পের দিকে যাচ্ছিল, তখন তিনি হাত দিয়ে সেটি সরিয়ে দেন। কিউইদের আবেদনে আম্পায়ার তাকে 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' হিসেবে আউট ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে এ ধরনের আউটের ঘটনা।
টেস্টে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে এই আউট হন মুশফিক। এর আগে ১৯৫১ সালে ওভাল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' আউট হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ওপেনার লেন হাটন।
রোহিত শর্মার নো-বল বিতর্ক
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রুবেল হোসেনের একটি ফুল টস বলে রোহিত শর্মা ক্যাচ দিলেও আম্পায়ার আলিম দার সেটিকে নো-বল ডাকেন। রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি কোমরের নিচে ছিল। সেই ম্যাচে রোহিত জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি করেন এবং বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই সময় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল ক্রিকেটবিশ্বে।
সালমান আলী আগার বিতর্কিত রান আউট
বিতর্কিত আউটের সবশেষ সংযোজন মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজকের (১৩ মার্চ) ম্যাচে। টস হেরে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৩৯ তম ওভার করতে আসেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ অধিনায়কের করা চতুর্থ বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় খেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অপরপ্রান্তে ৬৪ রানে থাকা সালমান আলি আগা রান নিতে গিয়ে সামনে গিয়ে বলটি এগিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মিরাজের হাতে।
তবে মিরাজ বলটি হাতে নিয়ে দ্রুত স্ট্যাম্পে ভাঙ্গেন এবং রান আউটের আবেদন করেন। আম্পায়ার আউট দিলে সালমান আলি আগা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এই ঘটনার পর আবারও ক্রিকেট বিশ্বে 'স্পিরিট অফ ক্রিকেট' নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

২৭৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা দিয়েছে বিপদসংকেত। ৬.৩ ওভার শেষে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে যখন শিলাবৃষ্টিতে ম্যাচটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা, তখন পাকিস্তান পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি (৩.৩-০-৯-২) এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের (৩-০-১৮-১) বোলিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর ২৭/৩। তাহলে কী প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে বড় লজ্জার বদলা নেয়ার সংকল্প পাকিস্তানের ?
তবে শিলা বৃষ্টির পর আকাশে বজ্রপাতে ফ্লাড লাইটের অনেকগুলো বাল্বও নিভিয়ে দিয়েছে বিসিবি। রাত ৮টা ৫৭ মিনিটে মাঠ পরিদর্শন শেষে পিচ কভার উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, জ্বলেছে সব কটি ফ্লাড লাইটের বাল্ব। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে খেলা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। ৩২ ওভারে বাংলাদেশ দলের টার্গেট দাঁড়িয়েছে ২৪৩ রান। অর্থাৎ অবশিষ্ট ২৫.৩ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১৬ রান। ওভারপ্রতি ৮.৫৩ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে। টি-২০ মেজাজে ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নিয়েই নামতে হবে বাংলাদেশ দলকে।

বাংলাদেশের ইনিংসের ৫.৪তম ওভারে ঘটেছে বড় ধরণের ইনজুরির ঘটনা। পাকিস্তান পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিমকে লিটন দাস কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরেছেন। ওই বাউন্ডারি বাঁচাতে যেয়ে বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়েছেন ফিল্ডার হুসেইন তালাত। বাউন্ডারি রোপ পেরিয়ে ভিআইপি গ্যালারির দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খান তিনি। বিসিবির মিডিয়া রিলিজ বলছে, আঘাতটা লেগেছে তার সোলডারে, তাই সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন পড়েছে। তাই অ্যাম্বুলেস যোগে সঙ্গে সঙ্গে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
কেনো এমন হলো ? এটাই প্রশ্ন।
এরশাদ সরকারের আমলে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে ফুটবল এবং অ্যাথলেটিক্স খেলার কথা মাথায় রেখে। ১৯৮৮ সালে ফুটবল দিয়ে অভিষেক হওয়া এই স্টেডিয়ামটিতে ১৯৯৩ সালে সাফ গেমসকে সামনে রেখে বসেছে অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক। সে কারণে ২০০৫ সালে আয়তকার এই স্টেডিয়ামটিকে ক্রিকেট ভেন্যুতে রূপান্তরে বিসিবিকে পড়তে হয়েছে সমস্যায়। পূর্ব গ্যালারি এবং পশ্চিম প্রান্তের ভিআইপি গ্যালারির ফেন্সিং ভেঙ্গে স্কোয়ার লেগ, এবং কভার পজিশনে মাঠের আয়তন আইসিসির গাইডলাইন অনুযায়ী বানাতে হয়েছে। মূল স্টেডিয়ামের কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন এনে এই দুই পজিশনে গ্যালারির দুটি ধাপও ভেঙ্গে ফেলতে হয়েছে। তারপরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য ব্যবহৃত ৩, ৪ এবং ৫ নম্বর পিচ থেকে বাউন্ডারি রোপের দূরত্ব দেশের অন্যসব ক্রিকেট ভেন্যুর তুলনায় ছোট।
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের কিউটের বদিউল আলম খোকন অবশ্য বলেছেন আইসিসির গাইডলাইন অনুযায়ী বাউন্ডারি রোপ থেকে দেয়ালের দূরত্ব রাখা হয়েছে-
‘ আইসিসির শর্ত অনুযায়ী বাউন্ডারি রোপ থেকে গ্যালারির দেয়ালের দূরত্ব ১০ ফুট থাকতে হবে। সেই হিসাব করে এই ম্যাচে সেন্টার উইকেট থেকে কভার পজিশনে মাঠের দূরত্ব ৬৮ মিটার রেখে বাউন্ডারি রোপ থেকে ফেন্সিংয়ের দূরত্ব ২.৭৪ মিটার রাখা হয়েছে।’
আইসিসির শর্ত অনুযায়ী সেন্টার উইকেট থেকে কভার-স্কোয়ার লেগে বাউন্ডারির দূরত্ব ৬০ মিটার রাখলেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেখানে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের মাঠের আয়তন সেখানে লং অন-লং অফে ৭০ মিটার, পূর্ব দিকে স্কয়ার লেগ-কভার পজিশনে ৬৪ মিটার, পশ্চিম প্রান্তে কভার-স্কোয়ার লেগে সেখানে ৬৮ মিটার। অর্থাৎ যে পজিশনে তালাত ইনজুরিতে পড়েছেন, সেই পজিশনে মাঠ ৮ মিটার ছোট করলেও আইসিসির আপত্তি থাকতো না। আর যদি মাঠের এই পজিশনের আকার ছোট না করা যায়, তাহলে দুই টিমের দুই ড্রেসিং রুমের পাশে থাকা ফেন্সিং ওয়াল ভেঙ্গে ফেলাটাই উত্তম। তা না হলে ভবিষ্যতে হুসেইন তালাতের মতো ইনজুরিতে পড়তে পারেন আরও কেউ কেউ।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে যে দলটিকে ১১৪ রানে ইনিংস গুড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে করেছে ২৭৪/১০! শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া পিচে এই স্কোর প্রত্যাশিতই। ৪৮ ঘন্টা আগে বাংলাদেশ বোলারদের বোলিং তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন হওয়া পাকিস্তান কীভাবে দ্বিতীয় ম্যাচে এতোটা ঘুরে দাঁড়ালো ? এই প্রশ্নের উত্তরে কৃতিত্ব দিতে হবে তাদের ওপেনিং ব্যাটার মাজ সাদাকাত (৪৬ বলে ৭৫), শাহিবজাদা ফারহান (৪৬ বলে ৩১), মিডল অর্ডার মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৯ বলে ৪৪), সালমান আগা (৬২ বলে ৬৪)-কে। প্রথম উইকেট জুটির ৭৮ বলে ১০৩, ৪র্থ উইকেট জুটির ১১৫ বলে ১১৯ রান বড় পুঁজির সহায়ক হয়েছে।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-এর প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ৮৩/০, ওভারপ্রতি রান ৮.৩০। তাসকিন এবং নাহিদ রানার অমিতব্যয়ী প্রথম স্পেলের কারনেই শুরুতে ছিল বাংলাদেশের ছন্দহীন। ২ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেটহী তাসকিনের খরচা ২০, নাহিদ রানা সেখানে উইকেটহীন ৩ ওভারে খরচা করেছে ৩২।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে শর্ট বলের ছড়াছড়িতে পাকিস্তান ব্যাটারদের আঁতকে দিয়েছেন দীর্ঘদেহী তরুণ পেসার নাহিদ রানা। সেই ম্যাচে নামতা গুনে প্রথম ৫ ওভারের প্রতিটিতেই একটি করে শিকার করেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে গতির বোলার। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই রূপে দেখা যায়নি নাহিদ রানাকে। ৩ ওভারের প্রথম স্পেলটি তার খরুচে (৩-০-৩২-০)। যার মধ্যে তৃতীয় ওভারে খরচ করেছেন ২০ রান।
যেভাবে পাকিস্তান ইনিংস শুরু করেছে, তাতে তিনশ প্লাস স্কোরের পূর্বাভাস কিন্তু ছিল। ৪০ ওভার পর্যন্ত রানের গতিটা সেই কক্ষপথেই ছিল। তবে রিশাদের শেষ স্পেলের (১.৩-০-৫-২) সঙ্গে মোস্তাফিজের শেষ স্পেলে (২-০-৮-১) পাকিস্তানকে ২৭৪-এ থামিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ পাওয়ার প্লেতে ৩৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারাতে হয়েছে পাকিস্তানকে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী ছড়িয়েছে আতঙ্ক। দ্বিতীয় ম্যাচে তাসকিন (৮-০-৫৯-১),নাহিদ রানা (১০-০-৫৯-১), মোস্তাফিজ (৯-০-৫৩-১) করেছেন গড়পড়তা বোলিং। ব্যতিক্রম ছিলেন অফ স্পিনার মিরাজ (১০-২-৩৪-২) এবং লেগ স্পিনার রিশাদ (৯.৩-০-৫৬-৩)।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ছিল মাজ সাদাকাতের ওডিআই অভিষেক। ২৮ বলে ১৮ রানের সেই অভিষেক ইনিংসের অতৃপ্তি ঘোঁচাতে দ্বিতীয় ম্যাচের শুরু থেকে টি-২০ আমেজে ব্যাটিং করেছেন। মোস্তাফিজের প্রথম দুই বলে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা মাজ সাদাকাত তাসকিনের এক ওভারে মেরেছেন ২টি ছক্কা। যার মধ্যে একটি নো বলে পুল শটে ছক্কা! নাহিদ রানার প্রথম ওভারে লং অনের উপর দিয়ে তার ছক্কাটির দূরত্ব ছিল ৯৭ মিটার।
৩১ বলে অভিষেক ফিফটি উদযাপন করেছেন মাজ সাদাকাত। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর যখন ৮৫/০, তখন মাজ সাদাকাতের ৬৩। মিরাজের দ্বিতীয় ওভারে স্কুপ করতে যেয়ে টপ এজ হয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন ক্যাচ, ততোক্ষণ ৪৬ বলে ৬ চার, ৫ ছক্কায় ৭৫ রান করেছেন তিনি ১৬৩.০৪ স্ট্রাইক রেটে।
৫০ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৪র্থ উইকেট জুটিতে রিজওয়ানের সাথে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দেয়া সালমান আগা-কে কৌশলে ফিরিয়ে দিয়েছেন মিরাজ। ২০২৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজকে টাইমড আউটে ফিরিয়ে দিয়ে সাকিবের যে দৃষ্টান্তটি এখনো শ্রীলঙ্কা সমর্থকদের চোখে গেম অব স্পিরিটের পরিপন্থি, সেই ছবিটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মিরাজ। ৩৯তম ওভারের ৪র্থ বলে মিরাজকে পাঞ্চ করেছিলেন রিজওয়ান। সেই বলটি ফলো থ্রুতে ধরতে যখন চেষ্টা করেছেন বোলার মিরাজ, তখন পপিন ক্রিজের বাইরে এসে বলটি নন স্ট্রাইক এন্ডের ব্যাটার সালমান আগা মিরাজের ফিল্ডিংয়ে বাধা তৈরি করতে অপচেষ্টা করেছেন। প্রথম ব্যাট দিয়ে বলটি থামাতে চেয়েছেন, পরে মিরাজের সঙ্গে বলটি ধরতে দিয়েছেন পাল্লা। কিন্তু তার সব অপচেষ্টা হয়েছে বিফল। বলটি ডেড হওয়ার আগে মিরাজ অন্ডার আর্ম থ্রো-তে রান আউটে হতভম্ব করেছেন সালমান আগাকে (৬২ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ৬৪)। টিভি আম্পায়ার ধর্মসেনাও এটিকে বৈধ রান আউটের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়মানুযায়ীই রানআউট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।তবে এই আউট নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উষ্মা প্রকাশ করেছেন সালমান আগা। মিরাজের উপর ক্ষুব্ধ হতে দেখা গেছে তাকে, লিটনকে উদ্দেশ্য করেও কিছু একটা বলতে দেখা গেছে সালমান আগাকে। মিরাজও পাল্টা জবাব দিয়েছেন। নিজের ভুলে আউট হয়েও ক্রোধ প্রকাশ করতে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে বাউন্ডারি রোপের সামনে ব্যাট-হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেছেন!
২৭৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা দিয়েছে বিপদসংকেত। ৬.৩ ওভার শেষে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে যখন শিলাবৃষ্টিতে ম্যাচটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা, তখন পাকিস্তান পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি (৩.৩-০-৯-২) এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের (৩-০-১৮-১) বোলিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর ২৭/৩। তাহলে কী প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে বড় লজ্জার বদলা নেয়ার সংকল্প পাকিস্তানের ? এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ( রাত ৮টা ১৫ মিনিট) খেলা পুনরায় শুরু হয়নি। ফ্লাড লাইটের অনেকগুলো বাল্বও নিভে গেছে।

বাংলাদেশের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দারুণ শুরু করে পাকিস্তান। এরমধ্যে ষষ্ঠ ওভারে বাধে বিপত্তি। লিটন দাসের চার থামাতে গিয়ে কাঁধে চোট পান পাকিস্তানের অলরাউন্ডার হুসাইন তালাত। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তালাতের চোট নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। মাঠেই দলের মেডিকেল স্টাফ তাকে সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। প্রাথমিক মূল্যায়নের পর, তাকে বিস্তারিত পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর পরের ওভারেই বৃষ্টি আর বজ্রপাতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ৬.৩ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ২৭ রান করেছে বাংলাদেশ।
ঘটনা বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের। অফ-স্টাম্পের একটু বাইরে গুড লেন্থের মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিটি লিটন দারুণভাবে অফ-সাইডে পাঞ্চ করলেন। কাভার থেকে সেটা চার হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য ছোটেন পাকিস্তানি ফিল্ডার হুসাইন তালাত। ছুটে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনের কাছ থেকে ফ্লিট করে বলটি ভেতরে টেনে পাঠান, তবে শেষ পর্যন্ত সেটা চার হয়ে যায়। বরং তালাত নিজে গুরুতর আহত হন।
বল মাঠের ভিতরে পাঠানোর পর নিজেকে সামলাতে পারেননি তালাত। বাউন্ডারি লাইনের কাছে থাকা গ্যালারির দেওয়ালে আঘাত লাগার পরে ঘুড়ে পড়ে যান। মাথায় ও ঘাড়ে বাজেভাবে আঘাত পান ৩০ বছর বয়সী ব্যাটার। ম্যাচ রেফারি, ফিজিও ও মেডিকেল টিম দ্রুত তালাতের কাছে পৌছান। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় তিনি উঠতেও পারছিলেন না।
পরে তালাতকে স্ট্রেচারে করে স্টেডিয়ামের মূল গেটে নেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এরপর সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পিসিবি জানিয়েছে, চোটের প্রকৃতি এবং মাত্রা চিকিৎসকেরা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে নির্ধারণ করবেন।