
অল্পের
জন্য ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ক্রিকেটের নতুন মৌসুমের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হতে পারলেন
না সাইফ হাসান। সম্ভাবনা জাগিয়েও ৯৬ রানে রানআউটে কাটা পড়লেন বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের
ওপেনার। আর দারুণ খেলতে খেলতে ভুল আউটের শিকার হলেন দলটির অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান।
পিকেএসপিতে
সোমবার ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ ডিপিএল পাওয়ার্ড বাই বসুন্ধরা সিমেন্ট-র উদ্বোধনী দিনে
গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। সাইফ হাসান ও ফজলে মাহমুদ
রাব্বির ফিফটিতে ৫ উইকেটে ২৮০ রানের সংগ্রহ পেয়েছে তারা।
সেঞ্চুরি
পেয়ে যেতে পারতেন সাইফ। কিন্তু শেষ দিকে গিয়ে আয়েশি ভঙ্গিতে রান নিতে গিয়ে কপাল পোড়ে
বসুন্ধরার ওপেনারের। একই ওভারে আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তে ছক্কার বদলে আউট হয়ে ফিরতে
হয় সোহানের।
টস
হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৬ রান যোগ করেন ইমরানউজ্জামান ও সাইফ। ৮ চারে
৫৬ বলে ৩০ রান করে আউট হন ইমরানউজ্জামান। এরপর ম্যারাথন জুটি গড়েন সাইফ ও ফজলে রাব্বি।
তৃতীয়
উইকেট জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ১৩৩ রান। ২টি করে চার-ছক্কা মারলেও মন্থর ব্যাটিংয়ে
পঞ্চাশ করতে ৮৪ বল খেলে ফেলেন সাইফ। অন্য দিকে ফজলে রাব্বি ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৩ বলে
করেন ফিফটি।
দলকে
দুইশর কাছে রেখে আউট হন ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৯ বলে ৭২ রান
করা ফজলে রাব্বি। এরপর দলের হাল ধরেন সাইফ ও সোহান। দুজন মিলে ৬৭ বলে গড়েন ৭১ রানের
জুটি।
ইনিংসের
৪৯তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার তানভিরের শর্ট বল পুল করে দেন সোহান। ডিপ মিড উইকেটে লাফিয়ে
ক্যাচ নেন রাফিউজ্জামান রাফি। তবে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি চলে যান সীমানার ওপারে। এর
আগে অবশ্য বল হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন।
পরে
সীমানার ভেতরে ঢোকার আগেই বাউন্ডারির বাইরে মাটিতে পা থাকা অবস্থায় ক্যাচ নেন রাফি।
এর সঙ্গে সঙ্গেই আউটের উদযাপন শুরু করেন তিনি। তবে সংশয় থাকায় মাঠ ছেড়ে যাননি সোহান।
বরং আম্পায়ারদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে থাকেন তিনি।
ততক্ষণে
রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায়, দ্বিতীয়বার ক্যাচ নেওয়ার সময় বাউন্ডারির বাইরে মাটিতে ছিল
রাফির পা। তাই নিয়ম অনুযায়ী, ছক্কাই পাওয়ার কথা সোহানের।
তবে
টুর্নামেন্টে কোনো থার্ড আম্পায়ারের সুযোগ না থাকায় ফিল্ডারের কথার ওপরেই ভরসা রাখতে
হয় মাঠের দুই আম্পায়ারের। আর রাফি বারবার আউটের কথা বলায় আউট ঘোষণা করা হয় সোহানকে।
২
চার ও ১ ছক্কায় ৪১ বলে ৪৩ রান করে ফিরতে হয় বসুন্ধরা অধিনায়কের।
এক
বল পরে লং অফের দিকে খেলে ২ রান নেওয়ার চেষ্টায় শেষ দিকে খানিক ধীর হয়ে যান সাইফ। তাতেই
ঘটে বিপদ। বেলস ফেলে তাকে সেঞ্চুরি মিসের হতাশায় ডোবান উইকেটরক্ষক ফারজান আহমেদ আলিদ।
৩টি
করে চার-ছক্কা মেরে ১২৬ বলে ৯৬ রান করেন সাইফ।
গুলশান
ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন আব্দুর রহিম ও তানভির।
No posts available.
৪ মে ২০২৬, ১২:৪৮ এম

নাহিদ রানা স্বপ্নের মতো করেই দিনপাতি করছেন। লাল-সবুজ জার্সিতে প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরানো এই তরুণ পেসার পিএসএলেও জ্বলেছেন আপন মহিমায়। পাঁচ ম্যাচে ৫.৪৪ ইকোনমি রেটে ৯ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ফাইনালে তার অনিন্দ্য সুন্দর পারফরম্যান্সের গুণে ৯ বছরের ট্রফি খরা ঘুচিয়েছে পেশোয়ার জালমি। ম্যাচ শেষে তাই সতীর্থ অ্যাডন হার্ডি প্রশংসা করতে ভুলেননি নাহিদের।
বাংলাদেশি পেসারকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই অলরাউন্ডার বলেন,
‘হ্যাঁ, (কতটা ভালো) একদমই তাই। আমি বলতে চাচ্ছি, সে মাত্র তিন দিন আগে বিমান থেকে নামল এবং আজকেও দুর্দান্ত গতিতে বল করল। করাচিতে যখন সে ১৫১ কিমি গতিতে বল করছিল, তখন ব্যাটারদের জন্য সেটা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।’
আর কদিন পরই বাংলাদেশ সফরে আসবে পাকিস্তান। এ কথাটা স্মরণ করারেন হার্ডি। তিনি বলেন,
‘আমি জানি এক সপ্তাহ পরেই তার (নাহিদ) টেস্ট ম্যাচ আছে; এটাও জানি যে বাবর সম্ভবত তার মুখোমুখি হতে চাইবে না। তাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। আমি দেখতে পাচ্ছি সে বিশ্বের যেকোনো প্রতিযোগিতায় ঘুরে ঘুরে খেলছে; তার মতো মাপের একজন খেলোয়াড়কে সবাই সানন্দে গ্রহণ করবে। আমি তার জন্য খুবই আনন্দিত।’
পিএসএলের এবারের আসরের আগে নিলাম থেকে ৬০ লাখ রুপিতে নাহিদকে দলে নেয় পেশোয়ার। সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করেছেন । ম্যাচ শেষে তার অনুভূতি,
‘আমি এটি সত্যিই উপভোগ করলাম। গত বছর আমি এসেছিলাম কিন্তু খেলিনি। এ বছর আমি এসেছি এবং এটি সত্যিই উপভোগ করেছি। আমি কেবল আমার পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে এবং দলের জন্য একটি প্রভাবশালী পারফরম্যান্স করতে চেয়েছিলাম। আমি আমার পারফরম্যান্স ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, তাই আমি খুশি।’

প্রথম ওভারে কিছুটা খরুচে ছিলেন। ঘুরে দাঁড়াতে একদমই সময় নিলেন নাহিদ রানা। বাকি তিন ওভারের একটিতে মেডেনসহ প্রতিপক্ষের ওপর যেন স্টিমরোলার চালালেন বাংলাদেশের এই ফাস্ট বোলার।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রবিবার রাতে পিএসএলের ফাইনালে ৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ২২ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন নাহিদ। তার ইকোনমি রান রেট ছিল ৫.৫০। দারুণ এই বোলিংয়ের কারণে সুপার পাওয়ার অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার জিতে নিয়েছেন নাহিদ। আর্থিক পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন তিন লাখ পাকিস্তানি রুপি।
পিএসএল ফাইনালে মেডেন ওভার করা মাত্র তৃতীয় পেসার নাহিদ রানা। তার আগে ২০২১ সালে ইমরান খান ও ২০২৪ সালে এই কীর্তি গড়ে দেখান খুশদিল শাহ। দুজনই ছিলেন মুলতান সুলতান্সের জার্সিতে।
পিএসএলের চার ম্যাচ খেলে দেশে ফেরা নাহিদের ফাইনাল ম্যাচ খেলার কথাই ছিল না। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে খেলার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তবে পেশোয়ার ফাইনালে উঠলে অনুমতি পান নাহিদ। শেষ পর্যন্ত অংশ নেন পাকিস্তানের ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিতে।
পিএসএলে নাহিদ ৫ ম্যাচে ৫.৪৪ ইকোনমি রেটে ৯ উইকেট নিয়েছেন। তার বিশেষ অবদানের কারণেই ফাইনাল জিতে ৯ বছরের ট্রফি খরা ঘুচিয়েছে পেশোয়ার।

শুরুতে বল হাতে পার করলেন ক্যারিয়ার সেরা দিন। পরে চাপের মুখে ব্যাট হাতে দিলেন দায়িত্বশীলতার পরিচয়। চমৎকার ব্যাটিংয়ে পেলেন ফিফটির স্বাদ। ব্যাটিং-বোলিংয়ের এই যুগলবন্দীতে পিএসএল ফাইনালে ইতিহাস গড়ে ফেললেন অ্যারন হার্ডি।
লাহোরে রোববার হায়দরাবাদ কিংসমেনকে হারিয়ে পাকিস্তান সুপার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পেশাওয়ার জালমি। নাহিদ রানা, বাবর আজমদের শিরোপা জয়ের ম্যাচে নায়ক হার্ডি। অস্ট্রেলিয়ার এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার বল হাতে ৪ উইকেটের পর ব্যাটিংয়ে করেন অপরাজিত ৫৬ রান।
ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ক্রিকেটার ফাইনাল ম্যাচে বল হাতে ৪ উইকেট ও ব্যাটিংয়ে ফিফটির দেখা পেলেন।
এত দিন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের ফাইনালে সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের রেকর্ড ছিল শাহিন শাহ আফ্রিদির। ২০২৩ সালের পিএসএল ফাইনালে ব্যাট হাতে মাত্র ১৫ বলে ৪৪ রান করার পর বোলিংয়ে ৫১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন লাহোর কালান্দার্সের অধিনায়ক।
সব মিলিয়ে যে কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে সেরা অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সের রেকর্ড করিম জানাতের। ২০২৪ সালে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনালে ব্যাট হাতে ১০৭ রানের পর বোলিংয়ে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নেন আফগান পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

পিএসএলের ফাইনালে পঞ্চম ওভারে মার্নাস লাবুশেনকে ফিরিয়ে হায়দরাবাদের ইনিংসে ধস নামানোর শুরুটা করেন হার্ডি। পরে দশম ওভারে হাসান খানকে ফিরিয়ে হায়দরাবাদের ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও শেষ করে দেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা।
আর শেষ দিকে ১৮তম ওভারে নিজের কোটা পূর্ণ করতে এসে প্রথম বলেই প্রতিপক্ষের সর্বোচ্চ ৫৪ রান করা সাইম আইয়ুবকে আউট করেন হার্ডি। ওভারের শেষ বলে আকিফ জাভেদকে কট বিহাইন্ড করে হায়দরাবাদের ইনিংস গুটিয়ে দেন তিনি।
পরে রান তাড়ায় মাত্র ৭ রানে ২ উইকেট পড়ার পর প্রথম ওভারে ব্যাটিংয়ে নামতে হয় হার্ডির। কিছুক্ষণ পর কুশল মেন্ডিস ও মাইকেল ব্রেসওয়েলও ফিরলে মাত্র ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পেশাওয়ার।
সেখান থেকে আব্দুল সামাদকে নিয়ে ৮৫ রানের জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন হার্ডি। শেষ পর্যন্ত খেলে ৯ চারে ৩৯ বলে ৫৬ রানের অপরাজিত থেকে পেশাওয়ারের শিরোপার নায়ক হয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।

গতির বোলিংয়ে মুগ্ধতা ছড়াতে এসেছেন নাহিদ রানা। গতিতে প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটারদের পর্যুদস্ত করে একটার পর একটা উৎসবের উপলক্ষ এনে দিচ্ছেন বাংলাদেশের এই পেসার। দেশের মাটিতে পর পর ২টি ওডিআই সিরিজ জয়ের নায়কের পারফরমেন্সে দুটি সিরিজ জয়ে হেসেছে বাংলাদেশ।হোমে ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে উপরের সারির দল পাকিস্তান-নিউ জিল্যান্ডকে ২-১ এ সিরিজ হারিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে পিএসএলের ট্রফিতেও দিলেন হাত নাহিদ রানা!
গত ১১ মার্চ থেকে ৩ মে, সময়ের হিসাবে ৫৩ দিন। এই সময়টা কী দারুণই না কেটেছে পেস বোলার নাহিদ রানার। চাঁপাই-নবাবগঞ্জের এই ছেলেটি এই ৫৩ দিনে খেলেছেন ১১টি ম্যাচ, ৬টি ৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশে ৫টি ফ্রাঞ্চাইজি টি-২০। এই ১১টি ম্যাচের মধ্যে একটি মাত্র ম্যাচ বাদ দিলে প্রতিটি ম্যাচেই দেখেছেন উইকেটের মুখ। ঘন্টায় ১৫১ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে বিশ্বসেরা পেসারদের পর্যন্ত বিস্মিত করেছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে গত মার্চে ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট (৫/২৪), এপ্রিলে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও ৫ উইকেট (৫/৩২)! দুটি সিরিজেই নামতা গুনে ৮টি করে উইকেট এবং উভয় সিরিজে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার জিতেছেন লম্বা ছিপছিপে গড়নের এই ছেলেটি।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) মাত্র ৬০ লাখ রুপির (বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৩৮১ টাকা) বেজ প্রাইসে পেশোয়ার জালমি নাহিদ রানাকে কিনে করেছে বাজিমাত। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের আগে ৪ ম্যাচ, নিউ জিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর শেষে পিএসএল-এর ফাইনালে খেলার অনাপত্তিপত্র পাওয়া এই ছেলেটি ১১তম পিএসএলএ সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার। দেশের বাইরে এই প্রথম কোনো ফ্রাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগকে স্মরনীয় করে রেখেছেন। পিএসএলে ৫ ম্যাচে ১০.৮৮ গড়ে ৯ উইকেট। ওভারপ্রতি তাঁর খরচ মাত্র ৫.৪৪, পিএসএলের এই আসরে সবচেয়ে মিতব্যয়ী।
পিএসএলে তার অভিষেকটা হয়নি প্রত্যাশিত, উইকেটহীন ৩০ রান খরচা নিজের কাছেও লাগেনি ভাল। দ্বিতীয় ম্যাচে বিস্ময়কেও হার মানিয়েছে তার বোলিং (৪-১-৭-৩)। করাচি কিংসের সাদ বেগ, খুশদিল শাহ, অ্যাডাম জাম্পাকে শিকারের ওই ম্যাচে ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ২০টি দিয়েছেন ডট! পিএসএলের তৃতীয় ম্যাচে লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষে ৪-০-১৫-২, চতুর্থ ম্যাচে মুলতানস সুলতানের বিপক্ষে ৪-০-২৪-২।
এমন এক বোলারকে না নিয়ে ফাইনালে খেলার কথা কল্পনা করবে কী করে পেশোয়ার জালমি। তাই নাছোড়বান্দার মতো বিসিবিতে জ্বালাতন করে ফাইনালের জন্য নাহিদ রানাকে নিয়েই ছেড়েছে বাবর আজমের দল। লাহোরে দর্শক ভর্তি স্টেডিয়ামে নাহিদ রানার প্রথম ডেলিভারিটি ছিল ঘন্টায় ১৪৭.৪ কিলোমিটার। শেষ ডেলিভারিটি তাঁর ঘন্টায় ১৪৫ কিলোমিটার। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে সর্বোচ্চ গতি ছিল ১৪৮। ঘন্টায় তার বোলিংয়ের গড় গতি ছিল কতো জানেন ? ১৪১.২ কিলোমিটার।
কমেন্ট্রি বক্সে বসে মাইক্রোফোন হাতে গ্রেট পেস বোলার ওয়াসিম আকরাম পর্যন্ত নাহিদ রানার গতি, সুইং, বাউন্স, ইয়র্কার ডেলিভারি দেখে মুগ্ধ।
ফাইনালে প্রথম ওভারটি তাঁর ভাল হয়নি, সাইম আইয়ুবের হাতে পর পর ২ ডেলিভারিতে ছক্কা এবং চার খাওয়া সেই ওভারে নাহিদ রানার খরচা ১৩ রান। দ্বিতীয় স্পেলে (১-০-৫-১) ছন্দ ফিরে পাওয়া নাহিদ রানা অজি টি-টোয়েন্টি সেনসেশন ম্যাক্সওয়েলকে বানিয়েছেন বোকা। ওই ওভারের প্রথম ডেলিভারিটি ছিল তাঁর শর্ট, সেই বলে মিড অফ ফিল্ডার ফারহান ইউসুফের হাতে ক্যাচ প্র্যাকটিস করে গোল্ডেন ডাক পেয়েছেন ম্যাক্সওয়েল (১ বলে ০)। ইনিংসের ১৪তম ওভারে তৃতীয় স্পেলটি ছিল স্বপ্নময় (১-১-০-১)। মেডেন উইকেটের ওই ওভারের ৫ম বলে হুনাইন শাহকে ব্লকহোলে ইয়র্কার ডেলিভারিতে মিডল স্ট্যাম্পে আঘাত হেনেছেন। পরের ডেলিভারিটিও ছিল ইয়র্কার।
ইনিংসের ১৭ তম ওভারে তার শেষ স্পেলটি ছিল ১-০-৪-০। ওই ওভারের প্রথম ডেলিভারিতে ইয়র্কারে কোনোমতে বেঁচে গেছেন ফাইনাল ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান (৫০ বলে ৫৪) সাইম আইয়ুব। আম্পায়ার আহসান রাজা দিয়েছিলেন এলবিডাব্লুউর সিদ্ধান্ত। তবে বল ট্র্যাকিংয়ে পিচিং আউটসাইড লেগ বলে তৃতীয় উইকেট হাতছাড়া হয়েছে নাহিদ রানার।
ফাইনাল ম্যাচে পেশোয়ার জালমির অ্যারন হার্ডি পেয়েছেন সর্বাধিক ৪ উইকেট (৪-০-৭-৪)। তবে পিএসএলের ফাইনালে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং (৪-১-২২-২) করেছেন নাহিদ রানা। ওভারপ্রতি খরচ মাত্র ৫.৫০। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১৫টি দিয়েছেন ডট। প্রথম ওভারে ১৩ রান খরচায় যার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলার কথা, সেই নাহিদ রানা শেষ তিন ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ৯ রান। নাহিদ রানার এমন মিতব্যয়ী বোলিংয়ে হায়দারাবাদ কিংসম্যান পাড়ি দিতে পারেনি ২০ ওভার। ১৮ ওভারে থেমেছে তাঁদের ইনিংস (১২৯/১০)। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে যে দলটির ৬৯/২, সেই দলটি অবশিষ্ট ১২ ওভারে ৬০ রানে হারিয়েছে ৮ উইকেট!
ফাইনালে ম্লান হতে বসেছিল নাহিদ রানার দ্যুতি। গোল্ডেন ডাক পেয়ে (১ বলে ০) ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়া অধিনায়ক বাবর আজমের হতাশা আচ্ছন্ন করেছিল দলটির উপর। স্কোরশিটে ৪০ উঠতে ৪ ব্যাটারকে হারিয়ে ফ্যাকাশে হয়ে পড়া নাহিদ রানার মুখচ্ছবিটা বদলে দিয়েছেন আবদুল সামাদ-অ্যারন হার্ডি। ৫ম উইকেট জুটিতে তাদের ৫৯ বলে ৮৫ রানে ২৮ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতে ট্রফি জয়ের উল্লাস করেছে নাহিদ রানার দল পেশোয়ার জালমি। ফিনিশার অ্যারন হার্ডি (৩৮বলে ৯চার-এ ৫৬*) দলকে জিতিয়ে ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। আবদুল সামাদ থেমেছেন ফিফটি থেকে ২ রান আগে ( ৩৩ বলে ৩ চার, ৪ ছক্কায় ৪৮)।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে মঞ্চটা সাজিয়ে দিলেন নাহিদ রানা ও অ্যারন হার্ডি। পরে ছোট লক্ষ্যে টপ-অর্ডারের ব্যর্থতায় কিছুটা চাপে পড়ল পেশাওয়ার জালমি। এবার ব্যাট হাতে দায়িত্ব নিলেন হার্ডি। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সে চ্যাম্পিয়ন হলো পেশাওয়ার।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনালে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে ৫ উইকেটে হারায় পেশাওয়ার। আগে ব্যাট করে মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদ। জবাবে ১৫.২ ওভারে ম্যাচ জিতে যায় বাবর আজমের দল।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বার পিএসএলের শিরোপা জিতল পেশাওয়ার। এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এরপর আরও তিনবার ফাইনাল খেললেও ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। প্রায় ৯ বছর পর সর্বোচ্চ সাফল্য পেল তারা।
অন্য দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রূপকথার গল্প লেখার পথে অনেকটা এগিয়ে গেলেও শেষ বাধা উৎরাতে পারল না হায়দরাবাদ। প্রথম চার ম্যাচ হেরে বিদায়ের শঙ্কা থেকে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়ে ফাইনালে ওঠে প্রথমবার পিএসএল খেলতে আসা দলটি। কিন্তু শিরোপার লড়াইয়ে আর পারল না তারা।
ফাইনাল ম্যাচে পেশাওয়ারের জয়ে বড় অবদান নাহিদ ও হার্ডির। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি খেলতে বাংলাদেশ থেকে উড়ে যাওয়া তরুণ গতিতারকা নাহিদ ৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ২২ রানে নিয়েছেন ২টি উইকেট।
পিএসএল ফাইনালে মেডেন ওভার করা মাত্র তৃতীয় বোলার নাহিদ। তার আগে ২০২১ সালে ইমরান খান ও ২০২৪ সালে এই কীর্তি গড়ে দেখান খুশদিল শাহ। দুজনই ছিলেন মুলতান সুলতান্সের জার্সিতে।

আর ব্যাটে-বলে নাহিদকেও ছাড়িয়ে গেছেন হার্ডি। চমৎকার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথমে ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। পরে চাপের মুখে ব্যাট করতে নেমে ৫৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ফাইনালে ব্যাট হাতে ফিফটি ও বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়ার ইতিহাস গড়লেন হার্ডি।
তুলনামূলক সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ হারিস (৩ বলে ৬) ও বাবর আজম (১ বলে ০) ধরেন ড্রেসিং রুমের পথ। শুরুতেই ২ উইকেট নিয়ে হায়দরাবাদ শিবিরে আশা দেখান মোহাম্মদ আলি।
পরে চতুর্থ ওভারে কুশল মেন্ডিস (৮ বলে ৯) ও পঞ্চম ওভারে মাইকেল ব্রেসওয়েলও (৫ বলে ৪) আউট হয়ে গভীর খাঁদে পড়ে যায় পেশাওয়ার। তাদের স্কোর বোর্ডে তখন ৪ উইকেটে মাত্র ৪০ রান।
সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন হার্ডি ও আব্দুল সামাদ। দুজন মিলে ৬০ বলে গড়েন ৮৫ রানের জুটি। জয় থেকে মাত্র ৫ রান বাকি থাকতে ড্রেসিং রুমে ফেরেন ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৪ বলে ৪৮ রান করা সামাদ।
শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৯ চারে ৩৯ বলে ৫৬ রান করে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন হার্ডি।
ম্যাচের প্রথমভাগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে মাজ সাদাকাতের (৬ বলে ১১) উইকেট হারায় হায়দরাবাদ। তবে চাপ সামলে পাল্টা আক্রমণ করেন মার্নাস লাবুশেন ও সাইম আইয়ুব। ৪.৩ ওভারে পঞ্চাশ পূর্ণ করে ফেলে হায়দরাবাদ।
পঞ্চম ওভারেই লাবুশেনকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন হার্ডি। ১২ বলে ২০ রান করে ফেরেন হায়দরাবাদ অধিনায়ক। পরে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নাহিদের বলে ছক্কা-চার মেরে ১৩ রান নিয়ে নেন সাইম।
পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৬৯ রান করে তখন পর্যন্ত উড়ছিল হায়দরাবাদ। তবে সপ্তম ওভার থেকেই শুরু হয় তাদের পতন। ওভারের তৃতীয় বলে উসমান খানকে (৬ বলে ৮) ফেরান সুফিয়ান মুকিম। আর শেষ বলে ইরফান খান (২ বলে ১) হন রান আউট।
পরের ওভারে চমৎকার গতিময় ডেলিভারিতে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ক্যাচ আউট করেন নাহিদ। একই ওভারে কুশল পেরেরা রান আউট হয়ে গেলে যেন চোখের পলকে ২ উইকেটে ৭১ থেকে ৬ উইকেটে ৭৩ রানের দলে পরিণত হয় হায়দরাবাদ।
এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন সাইম। স্রোতের বিপরীতে দারুণ এক ফিফটি করেন বাঁহাতি টপ-অর্ডার ব্যাটার। তাকে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করলেও সফল হননি হাসান খান (৭ বলে ১২)।
১৮তম ওভারে হার্ডির তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়ে নবম ব্যাটার হিসেবে ড্রেসিং রুমে ফেরেন সাইম। তার ব্যাট থেকে আসে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫০ বলে ৫৪ রান।
পেশাওয়ারের পক্ষে বল হাতে ২৭ রানে ৪ উইকেট নেন হার্ডি। আর ৪ ওভারে এক মেডেনসহ ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন নাহিদ।
সব মিলিয়ে দেশের বাইরে প্রথমবার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে নেমে ৫ ম্যাচে ১৮ ওভার বোলিং করে মাত্র ৫.৪৪ ইকোনমি রেটে ৯ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। টুর্নামেন্টে অন্তত ১ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে তার ইকোনমিই সবার সেরা।