ক্রিকেট

আরও একবার দেখালেন কেন তিনি ‘আকবর দ্য গ্রেট’

 
শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ
শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ
ঢাকা

১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৩০ এম

news-details
জাতীয় লিগের দুই ট্রফি হাতে চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক আকবর আলি|বিসিবি

বাংলাদেশের ক্রিকেটে আকবর আলি ও ট্রফি- শব্দগুলো ক্রমে একে অপরের সমার্থক হয়ে উঠছে। পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে এরই মধ্যে পাঁচটি ঘরোয়া শিরোপা জিতেছেন বাংলাদেশকে ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক। 


আর এই সাফল্য যে একদমই ফ্লুক নয়, আকবরের দলের ধারাবাহিকতাই সেটির প্রমাণ দেয়। সবশেষ তিনি জিতেছেন জাতীয় ক্রিকেট লিগের চার দিনের সংস্করণের শিরোপা। আর এই কৃতিত্ব অর্জনের পেছনে রয়েছে আকবরদের দীর্ঘ সু-পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।


আট দলের জাতীয় লিগে ছয় রাউন্ড শেষেও কাগজে-কলমে শিরোপা জেতার সম্ভাবনা টিকে ছিল ৬টি দলের। ২ জয় ও ৪ ড্রয়ের সঙ্গে দুটি বোনাস পয়েন্ট পেয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল সিলেট। ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পরেই ছিল নবাগত ময়মনসিংহ। তাই ২৩ পয়েন্ট থাকা রংপুরের জন্য শেষ ম্যাচের সমীকরণ ছিল বেশ জটিল। 


খুলনার বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচটি শুধু জিতলেই হতো না, তাদের চেয়ে থাকতে হতো সিলেট ও ময়মনসিংহ ম্যাচের দিকেও। তবে সবার আগে নিজেদের কাজটা সারার দিকেই মনোযোগ ছিল আকবরের।


মঙ্গলবার জাতীয় লিগের শিরোপা উদযাপন সেরে কিছুটা ফ্রি হওয়ার পর তিনি বললেন, শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া দ্বিতীয় ভাবনা ছিল না রংপুরের।


“আমরা তো তিন নাম্বারে ছিলাম তো ভাবনা ছিলো যে আমাদের জিততেই হবে। যদি জিততে পারি সেক্ষেত্রে হয়তোবা সিলেট আর ময়মনসিংহ খেলায় যদি রেজাল্ট আমাদের পজিটিভে আসে... মানে ওদের রেজাল্ট ওরা না করতে পারে সেক্ষেত্রে (ট্রফি) আমাদেরই আরকি।”


“আমাদের কাছে ছিলো যেটা, ম্যাচটা জিততেই হবে। তো যেহেতু বগুড়াতে খেলা, হিস্টোরিক্যালি বগুড়াতে রেজাল্ট হয়। মানে যেই টিমই করুক, কোনো না কোনো রেজাল্ট হবেই। তাই আমাদের একটাই কথা ছিল যে, ওরা যা করবে আমরা শেষ করব। একটা কথাই ছিল যে, সিচুয়েশন যত কঠিনই হোক আমরা জেতার জন্যই খেলব।”


সেই লক্ষ্যে প্রথম ইনিংসে খুলনার ৩০৮ রানের জবাবে মাত্র ১৭৪ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর আগুনঝরা বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে ৯৬ রানে অল আউট করে দেয় আকবরের দল।


পরে উদীয়মান বাঁহাতি ব্যাটার ইকবাল হোসেনের চমৎকার এক সেঞ্চুরিতে ২৩১ রানের লক্ষ্য অনায়াসেই তাড়া করে ফেলে রংপুর। ফল ৩ জয় ও ৩ ড্রয়ে তাদের ঝুলিতে হয় ৩১ পয়েন্ট।


পরদিন রাজশাহীর কাছে ময়মনসিংহের পরাজয় ও বরিশালের সঙ্গে সিলেটের ড্রয়ে নিশ্চিত হয়ে যায় আকবরের অধিনায়কত্ব ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ট্রফি। 


২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতিয়ে অধিনায়ক হিসেবে আকবরের উত্থান। এরপর ২০২২ সালে জাতীয় ক্রিকেট লিগের চার দিনের সংস্করণে রংপুরের শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি। তার অধিনায়কত্বে ২০২৩ সালে বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণে চ্যাম্পিয়ন হয় নর্থ জোন।


ধারাবাহিকতা ধরে রেখে গত বছর এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের প্রথম আসরেই বাজিমাত করে আকবরের রংপুর। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে চলতি বছরের এনসিএল টি-টোয়েন্টিতেও চ্যাম্পিয়ন হন তারা।


এবার চার দিনের সংস্করণেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঘরোয়া ‘ডাবল’ ট্রফি ঘরে তুলল রংপুর। যা আরও পাকাপোক্ত করল ‘আকবর দ্য গ্রেট’ তকমা।




রংপুরের এই কৃতিত্বের পেছনে রয়েছে তাদের দীর্ঘ পরিকল্পনা। লিগের সূচি পাওয়ার পরই সাত ম্যাচের ভেন্যু ও প্রতিপক্ষ বিবেচনা করে টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেন আকবর, নাসির হোসেন, নাঈম ইসলামরা।


“যখন সূচি পেয়েছি, তখন সিনিয়র কয়েক জনকে সঙ্গে নিয়ে কোচিং স্টাফ যারা ছিল... আমাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা এমনই ছিল যে, আমাদেরকে বগুড়ায় দুইটা ও রাজশাহীর একটা ম্যাচ জিততেই হবে। বাকি খেলাগুলো যদি জিততেও না পারি অন্তত যেন আমরা ড্র করতে পারি।”


যেই কথা সেই কাজ। কুকাবুরা বলে সিলেট ও কক্সবাজারে হওয়া প্রথম দুই রাউন্ডে ঢাকা ও ময়মনসিংহের সঙ্গে ড্র করে দুটি করে পয়েন্ট নিশ্চিত করে রংপুর। পরে ডিউক বলে ফিরলেও কক্সবাজারে তৃতীয় রাউন্ডে সিলেটের সঙ্গেও ড্র হয় তাদের ম্যাচ।


এরপর বগুড়ায় গিয়ে বরিশালকে ৮ উইকেটে হারিয়ে পূর্ণ ৮ পয়েন্ট পায় রংপুর। রাজশাহীর মাঠে খেলতে নেমে পঞ্চম রাউন্ডে তারা হারায় স্বাগতিক রাজশাহীকে।


ষষ্ঠ রাউন্ডের জন্য আবার কক্সবাজারে যায় আকবরের দল। ওই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদ ও ইফরান হোসেনের তোপে মাত্র ৩৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে রংপুর। পরে ম্যাচটি তারা হেরে যায় ইনিংস ব্যবধানে। 


আকবরের মতে, পুরো টুর্নামেন্টে ওই একটি ইনিংসই শুধু তার প্রত্যা্‌শামতো যায়নি। 


“শুধু চট্টগ্রাম ম্যাচটা বাদে আর সব ম্যাচে আমাদের পজিটিভ রেজাল্টই বলবো। কুকাবুরাতে সিলেটের মাঠে খেলা হইছে, কক্সবাজারে খেলা হইছে। ওগুলো ম্যাচে রেজাল্ট বের করা কঠিন।”


“আমরা জানতাম যে আমাদের বগুড়াতে দুইটা খেলা আছে, রাজশাহীতে একটা খেলা আছে। তো এই তিনটা খেলায় রেজাল্ট করতেই হবে আমাদের।”


আর এই ফল পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারিগর মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। রংপুরের জেতা তিন ম্যাচেই ইনিংসে ৫ উইকেট আছে ২৫ বছর বয়সী পেসারের৷ সব মিলিয়ে মাত্র ৭ ইনিংসে তিনি নিয়েছেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ উইকেট। যার সৌজন্যে জিতেছেন লিগের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার।


ব্যাটিংয়ে সম্মিলিত পারফরম্যান্স ছিল দলের সবার। সর্বোচ্চ ৩০০ রান করেন নাঈম ইসলাম। মূলত বোলিং দিয়েই এবারের শিরোপাটি জিতেছে রংপুর। আরও একবার নিজেকে আকবর দ্য গ্রেট হিসেবে প্রমাণ করেছেন অধিনায়ক আকবর।

No posts available.

bottom-logo

ক্রিকেট

প্রথমবার হান্ড্রেডে মোস্তাফিজ, খেলবেন বন্ডের দলে

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

১২ মার্চ ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

news-details

বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ইংল্যান্ডের একশ বলের ক্রিকেট ‘দ্য হান্ড্রেড’ নিলামে দল পেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। টুর্নামেন্টের সামনের সংস্করণে বার্মিংহাম ফিনিক্সের জার্সিতে দেখা যাবে বাংলাদেশের কাটার মাস্টারকে।


লন্ডনে বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হওয়া নিলামের শেষ দিকে গিয়ে দল পান মোস্তাফিজ। তাকে ভিত্তিমূল্য ১ লাখ পাউন্ডেই কিনে নিয়েছে ফিনিক্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি।


মোস্তাফিজের আগে নিলামে নাম উঠেছিল বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের। তবে তার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কোনো দল। তাই হান্ড্রেডে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন মোস্তাফিজই।


একশ বলের এই টুর্নামেন্টে প্রধান কোচ হিসেবে নিউ জিল্যান্ড দলের সাবেক গতি তারকা শেন বন্ডকে পাবেন মোস্তাফিজ। এই দলটিতে নিলামের আগেই সরাসরি চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন জ্যাকব বেথেল, রেহান আহমেদ, মিচেল ওয়েন ও ডনোভান ফেরেইরা। 


দ্য হান্ড্রেডের আগে চলতি বছরের আইপিএল ও পিএসএলেও দল পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তাই এখন পিএসএলে দেখা যাবে তাকে।


আগামী ২১ জুলাই শুরু হবে দ্য হান্ড্রেডের নতুন সংস্করণ। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা বিবেচনায় ইংল্যান্ডের এই টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার অনুমতি পেতে পারেন অভিজ্ঞ পেসার। 

bottom-logo

ক্রিকেট

অভিযোগ অস্বীকার, আইনি নোটিশ পাঠালেন পাকিস্তানি পেসার

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

১২ মার্চ ২০২৬, ৮:০৬ পিএম

news-details

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কায় এক নারীর সঙ্গে অসাদাচরণের অভিযোগ ওঠে সালমান মির্জার বিরুদ্ধে। তবে পাকিস্তানি এই পেসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রচারিত ওই প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ বলে অভিযোগ করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। 


প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান মির্জার আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছিল। এছাড়া সেখানে আরও দাবি করা হয়, আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাকে জরিমানাও করেছিল। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মির্জা এবং এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।


সালমান মির্জার পাঠানো আইনি নোটিশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, পিসিবি তাদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ্যে এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে এবং প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যকে বিদ্বেষপূর্ণ, মনগড়া ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।


নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, মির্জার ওপর কোনো জরিমানাও আরোপ করা হয়নি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই খবরটি প্রকাশ করায় মির্জা, পিসিবি এবং পুরো পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।


এছাড়া ওই প্রতিবেদনে বাঁহাতি এই পেসারকে অসম্মানজনক ও অপেশাদার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে, যা জনসাধারণ ও ক্রিকেট মহলের চোখে তার মর্যাদা কমিয়ে দিয়েছে।


নোটিশে আরও দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও প্রতিবেদক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। যথাযথ যাচাই ছাড়া বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে তথ্য প্রকাশ করে তারা পেশাদার সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন।


১৭টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা মির্জা নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম রক্ষার জন্য আইনি প্রতিকার চাইছেন।


সালমান মির্জা দৃঢ়ভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন এবং প্রকাশ্যে প্রতিবেদনটির সমালোচনা করেছেন। পাকিস্তানি ফাস্ট বোলারের ভাষায় এটি দায়িত্বহীন কাজ যে যাচাই না করা তথ্য প্রচার করা। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, 

‘মিডিয়ায় একটি অবাস্তব খবর প্রচারিত হচ্ছে এবং আমি এই ধরনের সস্তা সাংবাদিকতা দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাচ্ছি। কোনো মিডিয়া হাউস যাচাই না করা কোনো খবর সম্প্রচার করতে পারবে না।’


পিসিবিও অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। বোর্ড সাংবাদিকের কাছ থেকে একটি প্রকাশ্য ক্ষমা দাবি করেছে এবং সতর্ক করেছে যে, বিষয়টি সমাধান না হলে তারা ব্যবস্থা নেবে।

bottom-logo

ক্রিকেট

দ্য হানড্রেডে পাকিস্তানের উসমান ও আবরার

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

১২ মার্চ ২০২৬, ৭:৩১ পিএম

news-details

বিবিসি স্পোর্টসের সংবাদে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বৈকি। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ব্রডকাস্টিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য হানড্রেডে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে টুর্নামেন্টে আইপিএল সংশ্লিষ্ট ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। 


বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী পিকিডিলি লাইটে বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটা থেকে শুরু হওয়া নিলামে এখন পর্যন্ত আইপিএল সংশ্লিষ্ট চার ফ্রাঞ্চাইজির কোনোটি থেকে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের নাম ডাকা হয়নি। দেশটি থেকে কেবল উসমান তারিক ও আবরার আহমেদের প্রতি আগ্রহ দেখানো হয়েছে। 


এক লাখ পাউন্ডের ভিত্তিমূল্যে থাকা উসমান বিক্রি হন ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে। তাকে কিনেছে বার্মিংহ্যাম ফিনিক্স। আর আবরার ডাক পেয়েছেন সানরাইজার্স লিডসে। তাকে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে কেনা হয়েছে। সানরাইজার্স অবশ্য আইপিএল সংশ্লিষ্ট দল।


এর আগে নাম উঠেছিল হারিস রউফ ও শাদাব খানদের নাম। তাদের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কেউ। আর নিলাম শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নাম প্রত্যাহার করে নেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। 


গত দুই বছরে ৪৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৭৮ উইকেট নিয়েছেন উসমান। গড়ে ১৬ রান প্রতি উইকেট এবং প্রতি বল ১.১৫ রান দেন তিনি। তার অনন্য বোলিং অ্যাকশন নতুন বা আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা ব্যাটসম্যানদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারেন।

bottom-logo

ক্রিকেট

দ্য হানড্রেডে দল পাননি রিশাদ

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

১২ মার্চ ২০২৬, ৬:৫২ পিএম

news-details

ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টের নিলামের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন বাংলাদেশের ২৩ ক্রিকেটার। ফাইনাল তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হয়েছিলেন কেবল মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেন। বৈশ্বিক নামি-দামি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলা বাংলাদেশের এই দুই ক্রিকেটারকে নিয়ে বেশ আগ্রহ ছিল সমর্থকদের। তবে নিলামে বাংলাদেশের লেগ স্পিনারকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি কোনো দল।

 

যুক্তরাজ্যের রাজধানী পিকিডিলি লাইটে বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটা থেকে শুরু হয় দ্য হানড্রেডের নিলাম। যেখানে স্পিনারদের ক্যাটাগরিতে ওঠে রিশাদের নাম। কিন্তু তাকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি কোনো দল। শেষ পর্যন্ত অবিক্রিতই থেকে যান রিশাদ।

 

দ্য হান্ড্রেডের নিলামের রিশাদের ভিত্তিমূল্য ধরা হয় ৭৫ হাজার পাউন্ড। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক কোটি ১২ লাখ ৫০ টাকা।

 

রিশাদের সঙ্গে স্পিনার ক্যাটাগরিতে নাম ওঠে জাফের চৌহান, উসমান তারিক এবং আকিল হোসেনের। এখন পর্যন্ত হানড্রেডে সর্বোচ্চ অর্থে বিক্রি হয়েছেন ২১ বছর বয়সী জেমস কোলেস। তিন লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে থাকা দলে ভেড়ায় লন্ডন স্পিরিট।

bottom-logo

ক্রিকেট

পাকিস্তানের গেম প্ল্যানকারীকে গুলি করা উচিত, আক্রমণাত্মক বাসিত

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

১২ মার্চ ২০২৬, ৫:২৪ পিএম

news-details

২০১৫ সালের পর দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হারল পাকিস্তান। বুধবার মিরপুরে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে শাহিন আফ্রিদিদের এই হার নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা শূল্যে চড়াচ্ছেন নির্বাচক, কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টকে। যার সর্বশেষ সংযোজন বাসিত আলি।


সাবেক এই ক্রিকেটার এতটাই ক্ষেপেছেন যে, রীতিমতো পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্টকে গুলি করা উচিত বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, 

“প্রথমেই গুলি করা উচিত সেই মানুষটিকে, যে ব্যাটসম্যানদের বলেছিল প্রথম দশ ওভারে অন্তত ৬০ রান করতে। মনে হয় সে কখনো মাঠে ক্রিকেট খেলেনি, শুধু কাগজে পরিকল্পনা লিখে দেয়। এখানকার পরিস্থিতি কি সে দেখেনি? বাংলাদেশে যে বড় বড় দলও হেরে যায়, সেটাও কি জানত না?”

পাকিস্তানের সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কামরান আকমলের কাছে শাহিন আফ্রিদিদের দলকে ক্লাবের দল মনে হয়েছে। তিনি বলেন, 

“মনে হচ্ছিল এক দল আন্তর্জাতিক মানের আর অন্য দলটা যেন বিশ্বকাপের আগে অনুশীলন করতে নামা কোনো ক্লাব দল। আমি বাসিত আলিকে ফোন করেছিলাম, কিন্তু কী বলব বুঝতে পারছিলাম না।”

সমালোচনা সেখানেই থামাননি তিনি। তার ভাষায়, 

“আল্লাহর কসম, এমন ব্যাটিং ক্লাব ক্রিকেটেও দেখা যায় না। ক্লাবের ক্রিকেটাররাও এত খারাপ ব্যাটিং করে না।”

বাসিত আলি মনে করেন, এই ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় একটি সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন,

“তরুণদের সময় দিতে হবে—এই বিতর্ক এখন শেষ করা উচিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে নতুন খেলোয়াড় আসে, সে প্রস্তুত হয়েই আসে এবং প্রভাব ফেলে। আমাদের ক্রিকেটারদের বুঝতে হবে, এটি কোনো স্থানীয় ক্লাবের মাঠ নয়, আন্তর্জাতিক মানের বড় ভেন্যু।”

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে চারজন নতুন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দুজনই। বাসিত আলির মতে, 

“নতুন খেলোয়াড় এক বা দু’জন করে আনা উচিত, একসঙ্গে চারজনকে নামানো ঠিক নয়।”

আকমল মনে করেন, পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ অবস্থান খুব একটা গুরুত্ব বহন করে না। তিনি বলেন,

“ঘরের মাঠে দুর্বল দলের বিপক্ষে জিতে পয়েন্ট বাড়ানো যায়, কিন্তু বিদেশে গেলে বাস্তবতা দেখা যায়।”

bottom-logo