
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা—তিনজনই নামের মতো পারফরম্যান্স করেছেন। সবচেয়ে সফল ছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি।
নাহিদ বোলিংয়ে আসার আগ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। তার হাতে যখন মেহেদী হাসান মিরাজ বল তুলে দেন, তখন থেকেই তুরুপের তাসের মতো উইকেট পড়তে থাকে পাকিস্তানের। শেষ পর্যন্ত ১২৪ রানে থেমে যায় অতিথিদের যাত্রা।
উইকেটে সদ্ব্যব্যহার করে পেসের সঙ্গে বাউন্স এবং বুদ্ধি খাটিয়ে পাকিস্তানের প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটারকে ফেরান নাহিদ। পাকিস্তানে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ থেকে পিছিয়ে পড়ার পেছনে বড় ভূমিকা নাহিদের। ম্যাচ শেষে তাকে নিয়ে অতিথি দলের কোচ মাইক হেসন জানা, নাহিদের ভবিষ্যত উজ্বল। সে বেশ সম্ভবনাময়।
পাকিস্তানের কোচ বলেন,
‘আসলে তাকে সরাসরি বোলিং করতে আজই প্রথম দেখলাম। টিভিতে অবশ্য অনেকবার দেখেছি। ওয়ার্ম-আপেও তাকে বেশ ভালো লাগছিল। সে উইকেটে জোরে বল করে, সিম ভালোভাবে ব্যবহার করে এবং ক্রস-সিমেও বল করে। আমার কাছে সে খুবই সম্ভাবনাময় এক বোলার মনে হয়েছে। আর আজ একদিনের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া তো সত্যিই বিশেষ একটি পারফরম্যান্স। তাই সে যে স্বীকৃতি পাচ্ছে, সেটার পুরোপুরি যোগ্য।’
No posts available.
১১ মার্চ ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম

শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে বাংলাদেশ সিরিজে দলে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বাবর আজমের। এখনও পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে না খেলা ৬ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করে পাকিস্তান। পিসিবির এমন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ওয়ানডে অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি জানিয়েছিলেন, তরুণদের সুযোগ করে দিতেই বাবর একাদশে নেই।
শাহিন যতরকম ব্যাখ্যা দেন না কেন, দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হাপিত্যেশের মধ্যদিয়েই গেছেন বাবর। পাকিস্তানের ভরাডুবির পেছনে অভিজ্ঞদের অপফর্ম অনেকটাই দাবি। যার কারণে, নতুন করেই ভাবতে হচ্ছে পাকিস্তানকে এবং বাবরকে।
বিশ্বকাপের আগে সবশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন বাবর। তবে ফরম্যাট পরিবর্তন হতেই খোলসবন্দি হয়ে পড়েন তিনি। ফলে পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে খেলবেন না। সেখান থেকে নাম সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের স্যামা টিভির খবরে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় টি–টোয়েন্টি কাপ থেকে বিরতি নিয়েছেন বাবর। মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে কিছুদিন পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাতে চান তিনি।
জানা গেছে, নিজের ফর্ম ফিরে পেতে এবং মানসিক চাপ কমাতে তিনি জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে পুনর্বাসন ও অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন বাবর। লক্ষ্য একটাই—আসন্ন পিএসএলের জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা। একাডেমিতে অনুশীলনের সময় তার সঙ্গে কাজ করছেন সতীর্থ ক্রিকেটার হাসান আলী ও সালমান মির্জা।

আগুনে বোলিংয়ে পাকিস্তানকে অল্পেই গুঁড়িয়ে দিলেন নাহিদ রানা। পরে ছোট লক্ষ্যে তাণ্ডব চালালেন তানজিদ হাসান তামিম। দুই তরুণের উজ্জ্বল নৈপুণ্যে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে ১৫.১ ওভারে ম্যাচ জিতে নেয় স্বাগতিকরা।
ম্যাচে দুই দল মিলে খেলেছে ৪৫.৫ ওভার। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের এটিই সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ওয়ানডে ম্যাচ। এর আগে ২০১১ সালে ৫৬.১ ওভারে শেষ হয়ে গিয়েছিল দুই দলের ওয়ানডে।
২০১৮ সালের এশিয়া কাপের এই প্রথম পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে জিতল বাংলাদেশ। একইসঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল তারা।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে ১৬১ রানে পাকিস্তানকে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ।
পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে বাংলাদেশকে জয় এনে দেওয়ার কারিগর নাহিদ। টানা ৭ ওভারের স্পেলে মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন ২৩ বছর বয়সী পেসার। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এটি।
রান তাড়ায় প্রথম দুই ওভারে অতিরিক্ত থেকেই ১১ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে আলতো শটে আউট হয়ে যান সাইফ হাসান।
শুরুর ধাক্কা সামলে পাল্টা আক্রমণ করেন তানজিদ হাসান তামিম। একের পর এক বাউন্ডারি মেরে মাত্র ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি করেন বাঁহাতি ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৬৭ বলে তিনি গড়েন ৮২ রানের জুটি।
জয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে কট বিহাইন্ড হয়ে যান ৩৩ বলে ২৭ রান করা শান্ত। পরে লিটন কুমার দাসকে নিয়ে ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়েন তামিম। ৭ চার ও ৫ ছক্কায় মাত্র ৪২ বলে তিনি করেন ৬৭ রান।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রয়েসয়ে শুরু করেন পাকিস্তানের দুই অভিষিক্ত ওপেনার মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহান। প্রথম ৯ ওভারে কোনো উইকেট পড়তে দেননি তারা।
দশম ওভারে প্রথমবার আক্রমণে এসেই ধস নামান নাহিদ। তার প্রথম ওভারের শেষ বলে স্ল্যাশ করতে গিয়ে পয়েন্টে সহজ ক্যাচ তুলে দেন সাহিবজাদা। পরের ওভারে তার গতিময় ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন আরেক অভিষিক্ত শামিল হোসেন। সহজ ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।
তরুণ পেসারের পরের ওভারে আরেকটি গতিময় ডেলিভারির শিকার মাজ সাদাকাত। বুক বরাবর ধেয়ে আসা বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ডিপ থার্ড ম্যানে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন ১৮ রান করা অভিষিক্ত ওপেনার।
পরে ইনিংসের অন্যতম সেরা ডেলিভারিটি করেন নাহিদ। ফোর্থ স্টাম্পে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে খোঁচা দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন। এরপর সালমান আগাকে ফিরিয়ে পূর্ণ হয় নাহিদের ৫ উইকেট।
টানা পাঁচ ওভারে ৫ উইকেট নেওয়ার পর নাহিদকে আরও দুই ওভার করান অধিনায়ক মিরাজ। নাহিদের সপ্তম ওভারে আসে আরেকটি উইকেটের সুযোগ। কিন্তু ফাহিম আশরাফের বিপক্ষে রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। তাই ষষ্ঠ উইকেট পাওয়া হয়নি তরুণ পেসারের।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে কোনো ম্যাচে প্রতিপক্ষের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের উইকেট নিলেন নাহিদ। প্রথম পাঁচ ব্যাটার না হলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত বছর প্রথম ৫ উইকেটের সবকটি একাই নেন রিশাদ হোসেন।
নাহিদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ ম্যাচে ছিল মোট ৫ উইকেট। এবার ষষ্ঠ ম্যাচে প্রথম ৫ ওভারেই তিনি নিলেন ৫টি উইকেট।
এছাড়া মিরপুরে প্রায় ১১ বছর পর ৫ উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার। এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ।
নাহিদের আগে দেশের মাঠে পেসারদের মধ্যে সবশেষ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। ২০২৩ সালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন তরুণ পেসার।
পরে নাহিদ আর না পেলেও উইকেট শিকারে যোগ দেন মিরাজ। চমৎকার ডেলিভারিতে পাকিস্তানের চতুর্থ অভিষিক্ত ব্যাটার আব্দুল সামাদকে ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক। পরে একই ওভারে হুসাইন তালাত ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকেও আউট করেন মিরাজ।
নতুন স্পেলে ফিরে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ক্যাচ আউট করেন তাসকিন আহমেদ। মাত্র ৮২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। সেখান থেকে একাই দলকে এগিয়ে দেন ফাহিম আশরাফ।
দশম উইকেটে আবরার আহমেদকে নিয়ে ৩২ রানের জুটি গড়েন ফাহিম। যেখানের আবরারের অবদান ১০ বলে শূন্য রান। নতুন স্পেলে ফিরে ৩১তম ওভারে ফাহিমকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে অলআউট করে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ বলে ৩৭ রান নেন ফাহিম।
নাহিদের ৫ উইকেট ছাড়াও টানা ১০ ওভারের স্পেলে ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন মিরাজ।

শুরুর গতি-বাউন্সের ঝড় তুললেন নাহিদ রানা। তার টানা ৫ উইকেটের পর যোগ দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের চমৎকার বোলিংয়ে পাকিস্তানকে বেশি দূর যেতে দিল না বাংলাদেশ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে গেল পাকিস্তান। সিরিজে লিড নিতে বাংলাদেশের সামনে এখন মামুলি লক্ষ্য।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে ১৬১ রানে পাকিস্তানকে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ।
পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কারিগর নাহিদ। টানা ৭ ওভারের স্পেলে মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন ২৩ বছর বয়সী পেসার। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রয়েসয়ে ইতিবাচক শুরুই করেন পাকিস্তানের দুই অভিষিক্ত ওপেনার মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহান। প্রথম ৯ ওভারে কোনো উইকেট পড়তে দেননি তারা।
দশম ওভারে প্রথমবার আক্রমণে এসেই ধস নামান নাহিদ। তার প্রথম ওভারের শেষ বলে স্ল্যাশ করতে গিয়ে পয়েন্টে সহজ ক্যাচ তুলে দেন সাহিবজাদা। পরের ওভারে তার গতিময় ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন আরেক অভিষিক্ত শামিল হোসেন। সহজ ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।
তরুণ পেসারের পরের ওভারে আরেকটি গতিময় ডেলিভারির শিকার মাজ সাদাকাত। বুক বরাবর ধেয়ে আসা বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ডিপ থার্ড ম্যানে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন ১৮ রান করা অভিষিক্ত ওপেনার।
পরে ইনিংসের অন্যতম সেরা ডেলিভারিটি করেন নাহিদ। ফোর্থ স্টাম্পে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে খোঁচা দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন। এরপর সালমান আগাকে ফিরিয়ে পূর্ণ হয় নাহিদের ৫ উইকেট।
টানা পাঁচ ওভারে ৫ উইকেট নেওয়ার পর নাহিদকে আরও দুই ওভার করান অধিনায়ক মিরাজ। নাহিদের সপ্তম ওভারে আসে আরেকটি উইকেটের সুযোগ। কিন্তু ফাহিম আশরাফের বিপক্ষে রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। তাই ষষ্ঠ উইকেট পাওয়া হয়নি তরুণ পেসারের।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে কোনো ম্যাচে প্রতিপক্ষের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের উইকেট নিলেন নাহিদ। প্রথম পাঁচ ব্যাটার না হলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত বছর প্রথম ৫ উইকেটের সবকটি একাই নেন রিশাদ হোসেন।
নাহিদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ ম্যাচে ছিল মোট ৫ উইকেট। এবার ষষ্ঠ ম্যাচে প্রথম ৫ ওভারেই তিনি নিলেন ৫টি উইকেট।
এছাড়া মিরপুরে প্রায় ১১ বছর পর ৫ উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার। এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ।
নাহিদের আগে দেশের মাঠে পেসারদের মধ্যে সবশেষ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। ২০২৩ সালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন তরুণ পেসার।
পরে নাহিদ আর না পেলেও উইকেট শিকারে যোগ দেন মিরাজ। চমৎকার ডেলিভারিতে পাকিস্তানের চতুর্থ অভিষিক্ত ব্যাটার আব্দুল সামাদকে ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক। পরে একই ওভারে হুসাইন তালাত ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকেও আউট করেন মিরাজ।
নতুন স্পেলে ফিরে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ক্যাচ আউট করেন তাসকিন আহমেদ। মাত্র ৮২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। সেখান থেকে একাই দলকে এগিয়ে দেন ফাহিম আশরাফ।
দশম উইকেটে আবরার আহমেদকে নিয়ে ৩২ রানের জুটি গড়েন ফাহিম। যেখানের আবরারের অবদান ১০ বলে শূন্য রান। নতুন স্পেলে ফিরে ৩১তম ওভারে ফাহিমকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে অলআউট করে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ বলে ৩৭ রান নেন ফাহিম।
নাহিদের ৫ উইকেট ছাড়াও টানা ১০ ওভারের স্পেলে ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন মিরাজ।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার
পর আইসিসি র্যাঙ্কিংয়েও বড় লাফ দিল ভারতের একাধিক ক্রিকেটার। টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটারদের
র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দুই স্থানই এখন চ্যাম্পিয়ন ভারতের দখলে। শীর্ষে আরও পোক্ত হয়েছেন
অভিষেক শর্মা আর দুইয়ে উঠে এসেছেন ইশান কিশান। তবে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে রাজত্ব হারিয়েছেন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া বরুণ চক্রবর্তী। ভারতীয় স্পিনারকে হটিয়ে
এক নম্বরে এখন রশিদ খান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের
১০ম আসরে ব্যাট হাতে একের পর এক ব্যর্থতার গল্প লিখছিলেন অভিষেক। তবে শিরোপার মঞ্চে
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জ্বলে উঠেন বাহাতি ব্যাটার। ফাইনালে কিউইদের বিপক্ষে ২১
বলের ৫২ রানের বিধ্বসী ইনিংস
খেলা অভিষেকের রেটিং পয়েন্ট এখন ৮৭৫।
একই ম্যাচে ২৫ বলে ৫২ করেন
ইশান কিশান। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে
খেলেন ১৮ বলের ৩৯ রানের ইনিংস।
দুই ধাপ উপরে উঠে আসা ২৭ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার ৮৭১ রেটিং নিয়ে সতীর্থ অভিষেকের
ঘাড়ে নিঃস্বাস ফেলছেন তিনি। ইংল্যান্ডের ফিল
সল্ট ও পাকিস্তানের সহিবজাদা
ফারহানকে পেছনে ফেলেছেন ইশান কিশান। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে
শেষবার একই দলের দুই ব্যাটার
পাকিস্তানের বাবর
আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান
এক–দুই নম্বরে ছিলেন।
শীর্ষস্থান থেকে মাত্র
চার পয়েন্টের ব্যবধান পিছিয়ে থাকা কিশানের সামনে সুযোগ রয়েছে বিরাট কোহলি, সুর্যকুমার যাদব ও অভিষেক শর্মার
পর চতুর্থ ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে এক নম্বরে ওঠার।
নিউজিল্যান্ড ওপেনার টিম সেইফার্ট সেমিফাইনালে
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৮ ও ভারতের
বিপক্ষে ফাইনালে ৫২ রানের ইনিংসের
পরে র্যাঙ্কিংয়ে চার
ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ষষ্ঠ স্থানে
উঠেছেন। অন্যদের মধ্যে বড় লাফ দিয়েছেন—ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল (১৭ ধাপ, ১৬তম), বিশ্বকাপের প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট
সঞ্জু স্যামসন (১৮ ধাপ, ২২তম), শিবম
দুবে (৪ ধাপ, ২৭তম),
এবং উইল জ্যাকস (৮
ধাপ, ৫৮তম)।
বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের
স্পিনার ররুণ চক্রবর্তী শীর্ষস্থান
হারিয়েছেন। যদিও সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ
উইকেটশিকারী ছিলেন তিনি (৯ ম্যাচে ১৪
উইকেট)। চার বছরের
বেশি সময় ধরে শীর্ষে
থাকা আফগানিস্তানের তারকা রশিদ খান আবারও প্রথম স্থানে ফিরে পেলেন। ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ
সেমিফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে দুই উইকেট নিয়ে
চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন।
ভারতের ফাস্ট বোলার জাসপ্রিত বুমরাহ, ফাইনালে মাত্র ১৫ রান দিয়ে চার উইকেট
নিয়ে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ
হওয়ার পর র্যাঙ্কিংয়ে
এক ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ
স্থানে এই পেসার। তাঁর সতীর্থদের মধ্যে এগিয়েছেন অক্ষর
প্যাটেল (৬ ধাপ, ১৭তম),
হার্দিক পান্ডিয়া (৪ ধাপ, ৪৬তম)।

সালমান আলি আগার কোমরের ওপরের উচ্চতায় শর্ট বল করলেন নাহিদ রানা। অন সাইডে খেলার চেষ্টা করলেন পাকিস্তানি ব্যাটার। কিন্তু ঠিকঠাক ব্যাটে হয়নি তার। শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে দুবারের চেষ্টায় তালুবন্দী করলেন তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ৫ ওভারে ৫ উইকেট হয়ে গেল নাহিদের।
দুর্দান্ত বোলিংয়ে গতি ও বাউন্সের ঝড় তুলে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট নিলেন নাহিদ। মিরপুরে বুধবার দুপুরের ম্যাচে তরুণ পেসারের গতিময় বোলিংয়ের সঙ্গে বাউন্সের মিশেলে নাস্তানাবুদ হলেন পাকিস্তানের প্রথম পাঁচ ব্যাটার।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে কোনো ম্যাচে প্রতিপক্ষের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের উইকেট নিলেন নাহিদ। প্রথম পাঁচ ব্যাটার না হলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত বছর প্রথম ৫ উইকেটের সবকটি একাই নেন রিশাদ হোসেন।
নাহিদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ ম্যাচে ছিল মোট ৫ উইকেট। এবার ষষ্ঠ ম্যাচে প্রথম ৫ ওভারেই তিনি নিলেন ৫টি উইকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পাওয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার তিনি। এর আগে ২০১৯ বিশ্বকাপে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
এছাড়া মিরপুরে প্রায় ১১ বছর পর ৫ উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার। এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ।
নাহিদের আগে দেশের মাঠে পেসারদের মধ্যে সবশেষ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। ২০২৩ সালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন তরুণ পেসার।
দশম ওভারে প্রথম আক্রমণে আসেন নাহিদ। ওভারের শেষ বলে সাহিবজাদা ফারহানকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু দেন ২৩ বছর বয়সী পেসার। পরের ওভারে তার গতিময় ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন আরেক অভিষিক্ত শামিল হোসেন। সহজ ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।
তরুণ পেসারের পরের ওভারে আরেকটি গতিময় ডেলিভারির শিকার মাজ সাদাকাত। বুক বরাবর ধেয়ে আসা বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ডিপ থার্ড ম্যানে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন ১৮ রান করা অভিষিক্ত ওপেনার।
পরে ইনিংসের অন্যতম সেরা ডেলিভারিটি করেন নাহিদ। ফোর্থ স্টাম্পে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে খোঁচা দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন। এরপর সালমান আগাকে ফিরিয়ে পূর্ণ হয় নাহিদের ৫ উইকেট।
টানা পাঁচ ওভারে ৫ উইকেট নেওয়ার পর নাহিদকে আরও দুই ওভার করান অধিনায়ক মিরাজ। নাহিদের সপ্তম ওভারে আসে আরেকটি উইকেটের সুযোগ। কিন্তু ফাহিম আশরাফের বিপক্ষে রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। তাই ষষ্ঠ উইকেট পাওয়া হয়নি নাহিদের।
নাহিদের তাণ্ডবের পর উইকেট শিকারে যোগ দেন মিরাজ নিজেই। তিনি নেন পরের ৩টি উইকেট। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৩ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৮১ রান।