
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট সরকার গঠন করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ গ্রহনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার স্ব স্ব মন্ত্রানালয়ের দায়িত্ব বন্টন করেছে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহনে অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার গুঞ্জন উঠেছে। গত ৬ অক্টোবর বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে তৎকালীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বিএনপির ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক।
সাফ জয়ী এই অধিনায়ককে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার অর্পিত হয়েছে। বিসিবির নির্বাচনে প্রার্থীতা দিয়ে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন যারা, তাদের মধ্যে মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, মীর শাহে আলম নব নির্বাচিত সরকারের প্রতিমন্ত্রী। বিসিবির নির্বাচনে বিএনপি ঘরানার সংগঠকদের সংগঠনের অন্যতম নেতা ইশরাক হোসেনও হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে শুরু থেকে অবৈধ বলে আসছেন তারা। সে কারণেই নব নির্বাচিত বিএনপি সরকারের আমলে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পরিষদের মেয়াদপূর্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মেলবোর্ন চলে যাওয়ায় তাঁর পদ হারানোর শঙ্কাও দেখছে অনেকে। তবে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে কৌশলে ক্রিকেট বোর্ড পূণর্গঠনের কথা ভাবছেন আমিনুল হক। মঙ্গলবার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহনের পর রাতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি- ‘ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এখন একটি দায়িত্বশীল জায়গায় আছি, আমি তাদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব, কীভাবে আমরা ভালো একটি পর্যায়ে যেতে পারি।’ অর্থাৎ বিসিবির বিষয়ে আইসিসির নিয়মের মধ্যে থেকে এগোতে চান ক্রীড়াঙ্গনের নুতন অভিভাবক।
No posts available.
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৮ পিএম
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৫১ পিএম

বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা বললেন সাবেক তারকা গোলরক্ষক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। 'ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা'- এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সারা দেশে খেলাধুলা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য তার।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে চান নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আর সবাইকে খেলাধুলার শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রতি উপজেলায় ১৫ জন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার আশা তার। যারা হবেন মূলত সাবেক ক্রীড়াবিদ।
মিরপুরে নিজ বাসভবনে মঙ্গলবার রাতে দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে এসব পরিকল্পনার কথা বলেন আমিনুল।
নিচে আমিনুল হকের বক্তব্যের চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো
আমি প্রথমেই মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি যে মহান আল্লাহ তাআলা আমাকে আজকে যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে... আমি এই দায়িত্ব আমার সততা, নিষ্ঠার সহিত এবং আপনারা যারা প্রিয় সাংবাদিক রয়েছেন, আমার যারা প্রিয় সংগঠক রয়েছেন, ক্রীড়াবিদ রয়েছেন, খেলোয়াড় রয়েছেন, সকলকে একসাথে নিয়ে আমরা আগামীর একটি সুন্দর ক্রীড়াঙ্গন গড়তে চাই।
যেই ক্রীড়াঙ্গনে পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি সেক্টরে ঐক্যবদ্ধভাবে, সুসংগঠিতভাবে আগামীর বাংলাদেশ স্পোর্টসকে কীভাবে বিশ্ব মানচিত্রে আরও উচ্চ জায়গায় আমরা পৌঁছে দিতে পারি, সেই পরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে আপনারা জানেন যে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আগামীর ক্রীড়াঙ্গনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আগামীর দেশ গড়ার স্পোর্টসের যে কর্মপরিকল্পনা আমরা তৈরি করেছেন, আমি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা প্রতিটি সেক্টরকে আমরা সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই।
আমাদের পরিকল্পনার ভেতরে অন্যতম 'ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা।' আমরা খেলাধুলাকে প্রথমে পেশার আওতায় আনতে চাই। জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে চাই।
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে, আনাচে-কানাচে যে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা রয়েছে, তাদের অন্বেষণ করে আমরা আমাদের যে বিকেএসপিগুলো রয়েছে, সেখানে বা অন্যান্য বিভাগীয় শহরে বিকেএসপি শাখা যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পড়াশোনা এবং খেলাধুলার সকল দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করব। সর্বোপরি খেলাধুলাকে আমরা পেশা হিসেবে যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
আমাদের ঢাকা মহানগর, উত্তর-দক্ষিণসহ সারা বাংলাদেশে খেলার মাঠের অভাব রয়েছে আপনারা সকলেই জানেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই... ঢাকা মহানগরীতে প্রায় ১০০টি ওয়ার্ড রয়েছে, আমরা চেষ্টা করব প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের মধ্যে যদি আমরা করতে নাও পারি, দুটি ওয়ার্ডের মাঝখানে আমরা সরকারিভাবে তিন থেকে চার বিঘা জায়গা অধিগ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খেলার মাঠ আমরা তৈরি করতে চাই। সেই খেলার মাঠের চারপাশে আমরা ওয়াকওয়ে তৈরি করতে চাই যেখানে আমাদের বয়োবৃদ্ধ বাবা-মায়েরা হাঁটার মাধ্যমে তাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে পারেন।
যেহেতু আমি একজন খেলোয়াড় ছিলাম, আমি দেখেছি যে খেলা চলাকালীন সময়ে খেলোয়াড়দের অনেক বেশি কদর থাকে। খেলা ছেড়ে দেওয়ার পরে আমার অনেক খেলোয়াড়রা রয়েছে তারা হতাশাগ্ৰস্ত হয়ে যায়। আমি সেই খেলোয়াড়দের আশান্বিত করতে চাই যে, আমরা খেলা ছেড়ে দেওয়ার পরও আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। আমরা এরই মধ্যে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমরা বিষয়ভিত্তিক ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেব।
যদিও প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হবে না কারণ আমাদের প্রায় বাংলাদেশের সকল মাধ্যমিক থেকে শুরু করে প্রাইমারি, উচ্চমাধ্যমিক এবং আমাদের যে কারিগরি শিক্ষা রয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষা রয়েছে, বিভিন্ন সেক্টর মিলে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজারের ওপরে আমাদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে যদি আমরা পাঁচটি খেলাকে বাধ্যতামূলক করি, সেই বাধ্যতামূলক করতে গিয়ে দেখা যাবে যে আমাদের প্রায় সাড়ে ৭ লাখের ওপরে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়। তবে এই পর্যায়ে আমাদের এত ক্রীড়া শিক্ষক বাংলাদেশে নাই।
যেহেতু আমি অগ্রাধিকার দিব হচ্ছে আমাদের খেলোয়াড়দেরকে, যারা স্পোর্টস ব্যাকগ্রাউন্ডের তাদেরকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে করতে চাই, সেই কারণে আমাদের যে পরিকল্পনাটি রয়েছে, আমরা সারা বাংলাদেশের ৪৯৫টি উপজেলায় রয়েছে, প্রত্যেকটি উপজেলায় আমরা একজন ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ দিব। পাশাপাশি প্রত্যেকটি উপজেলায় আমরা যেহেতু ৬টি ইভেন্টকে বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি, সেখানে প্রত্যেকটি ইভেন্টের জন্য আমরা ৩ জন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেব।
এর মানে একজন হচ্ছে ক্রীড়া অফিসার এবং ১৫ জন হচ্ছে আমাদের ক্রীড়া শিক্ষক। এইভাবে প্রায় আমাদের ৭ হাজার ৯২০ জনের মতো আমাদের ক্রীড়া শিক্ষক আমরা প্রথম পর্যায়ে আমরা আশা করি ইনশাআল্লাহ প্রথম বছরই আমরা চেষ্টা করব আস্তে আস্তে করে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। যাতে আমাদের যারা প্রাক্তন খেলোয়াড় রয়েছে তাদেরও একটি নতুন কর্মসংস্থানের রাস্তা তৈরি হয়।
পাশাপাশি আমাদের খেলোয়াড়দেরকে আমরা প্রতি মাসে সরকারিভাবে তাদের জন্য যাতে একটি পেশাদার মনোভাব তৈরি হয়, তাদেরকে বেতনের আওতায় নিয়ে আসা। এরই মধ্যে সেটি আমাদের আগে থেকেই আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, আমরা ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরু করে আমাদের প্রত্যেকটি ফেডারেশনে যারা ন্যাশনাল প্লেয়ার রয়েছে, প্রতিবছর এটা চেঞ্জ হতে পারে... যারা ন্যাশনাল টিমে থাকবে তাদেরকে সরকারিভাবে বেতনের কাঠামোর ভেতরে নিয়ে আসা। এই হচ্ছে আমাদের মোটামুটি একটি পরিকল্পনা। পাশাপাশি আরও অনেক কিছু পরিকল্পনা রয়েছে সেটা পর্যায়ক্রমে আপনাদের সাথে আলোচনা করব।

আজ চেন্নাইয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের কাছাকাছি গিয়েও হার মানতে হয়েছে কানাডাকে। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে কানাডার তরুণ ওপেনার যুবরাজ সামরা। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে তিনি শুধু ম্যাচেই নয়, রেকর্ডবইয়েও ঝড় তুলেছেন।
বাংলাদেশের সাবেক ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকির গড়া রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে কম বয়সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন যুবরাজ। ওপেনিংয়ে নেমে শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ১১টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৬৫ বলে খেলেন ঝকঝকে ১১০ রানের ইনিংস।
নিজের আদর্শ যুবরাজ সিংহের রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সামরা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন,
“সত্যি বলতে, বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার পর থেকেই মনের ভেতর এই ছবিটা এঁকেছি। প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখেছি—এই মঞ্চে সেঞ্চুরি করব। প্রথম বিশ্বকাপেই সেটা করতে পারা, তাও সবচেয়ে কম বয়সে—এটা আসলেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতোই।”
নামের কারণেই এবারের বিশ্বকাপে যুবরাজকে ঘিরে আলাদা কৌতূহল ছিল। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী তারকা যুবরাজ সিংসের প্রতি ভালোবাসা থেকেই বাবার দেওয়া এই নাম। ছোটবেলা থেকেই যুবরাজ সিংকে আদর্শ মেনে বড় হয়েছেন তিনি—এই গল্প আগেও শুনিয়েছেন নানা সাক্ষাৎকারে।
তিনি বলেন,
“অবিশ্বাস্য লাগছে। ভেতরে এত আবেগ কাজ করছে যে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ছোটবেলা থেকে ইউভরাজ সিংকে আদর্শ মেনেছি। আজ তার নামের সঙ্গে নিজের নাম একই নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হচ্ছে—এটাই বিশেষ।”

বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ক্রীড়া সাংবাদিকদের ওপর আসা অযাচিত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দিলেন আমিনুল হক। তিনি নিশ্চিত করেছেন, বুধবার থেকেই অবাধে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারবেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হুট করেই নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে বিসিবিতে সাংবাদিক প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এটি নিয়ে নির্বাচনের আগে বেশ কয়েক দফায় আলোচনার পরও সমাধান মেলেনি।
এমনকি নির্বাচন হওয়ার পরেও বহাল থাকে বিধিনিষেধ। সোম ও মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টা বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেও স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি পাননি সাংবাদিকরা। বিসিবির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা।
মঙ্গলবার দুপুরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আমিনুল। এদিন রাতে মিরপুরে নিজ বাস ভবনে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে তোলা হয় বিসিবিতে সাংবাদিক প্রবেশাধিকারে দেওয়া বিধিনিষেধের ব্যাপারে।
এর উত্তরে নিজে দায়িত্ব নিয়ে সকল বিধিনিষেধ উঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন আমিনুল।
“আজকের পর থেকে কোন কঠোরতা থাকবে না। আপনারা যেভাবে খেলাধুলাকে লেখনীর মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান... আপনাদের সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই আগামী ক্রীড়াঙ্গনকে গড়ে তুলতে চাই। সেখানে কোন নিষেধ আজকের পর থেকে ইনশাআল্লাহ থাকবে না।”
এসময় আমিনুল জানান, বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম সুজনকে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই ব্যাপারে বলবেন।
“সিইওকে (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) বলে দিচ্ছি যেন কাল থেকে আপনাদেরকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আপনারা ক্রিকেট বোর্ডে যাবেন, এটি আপনাদের। এই প্রতিষ্ঠানে আপনারা স্বাচ্ছন্দ্যে, স্বাধীনভাবে কাজ করবেন। সেখানে আপনাদেরকে কেউ বাধা প্রদান করবে না। আমাদের ক্রিকেট এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের কাছ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা আমি চাই।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সামনেই বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরি সুজনের সঙ্গে কথা বলেন আমিনুল। ওই ফোনকলে বিসিবিতে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
“নিরাপত্তাজনিত কারণে যে আমাদের ক্রীড়া সাংবাদিকদের ক্রিকেট বোর্ডে ঢুকতে দেওয়া হয় না, এটা আগামীকাল থেকে উঠায় ফেলেন। কালকে থেকে ক্রীড়া সাংবাদিকরা অবাধে যাবে ও সুন্দরভাবে কাজ করবে। কোনরকম যাতে তাদেরকে কেউ বাধা না দেয়। ঠিক আছে!”

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পরও ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস হারাননি পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক। সতীর্থদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—দল যদি ভুলগুলো শুধরে নেয়, তবে পরের ধাপে ওঠা মোটেও কঠিন হবে না।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। সুপার এইটে উঠতে হলে শেষ ম্যাচে কাল নামিবিয়াকে হারাতেই হবে সালমান আলী আগার দলকে। হেরে গেলে ‘এ’ গ্রুপে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে থেকেই বিদায় নিতে হবে পাকিস্তানকে। সুযোগ তৈরি হতে পারে নেদারল্যান্ডসের জন্য, যদি তারা আহমেদাবাদে ভারতের বিপক্ষে বড় জয় পায়।
হার সত্ত্বেও আত্মবিশ্বাসী তারিক, গত ম্যাচে করা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা না করলে দলকে উজ্জীবিত করা কঠিন হয়। আমরা আমাদের ভুলগুলো নিয়ে কাজ করেছি, তাই আমার মনে হয় এটা কঠিন কাজ হবে না। একই ভুল আবার না করার দৃঢ় সংকল্প আছে আমাদের।’
ভারতের দেওয়া ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮ ওভারে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি। সমর্থকদের হতাশা নিয়েও কথা বলেন এই স্পিনার। তাঁর ভাষায়,
‘সমর্থকদের হতাশা আমরা অনুভব করতে পারি, কারণ পুরো দেশ এই ম্যাচ দেখে। তাদের কষ্ট আমরাও বুঝি, তবে আমি নিশ্চিত পরেরবার ভারতের মুখোমুখি হলে আমরা আরও ভালো খেলব।’
দলের সিনিয়র তারকাদের বাদ পড়ার গুঞ্জন নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানান তারিক। ব্যাটিং স্তম্ভ বাবর আজম ও পেস আক্রমণের নেতা শাহিন শাহ আফ্রিদি সম্পর্কে তারিক বলেন,
‘আজম ও শাহিন দুজনই পাকিস্তানকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। তাই একটি ম্যাচে ভালো না খেললে তাদের বাদ দেওয়া উচিত নয়।’
নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস ঝরেছে তাঁর কণ্ঠে,
‘আমরা যার বিপক্ষেই খেলি, তাকে হারানোর আত্মবিশ্বাস আমাদের আছে। আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল খেলা ও শিরোপা জেতা—সেটাই অর্জনের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
পরিসংখ্যান বলছে, টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়া হয়েছে মাত্র একবার। সে ম্যাচে জয় পেয়েছে পাকিস্তান।

রাজনৈতিক কারণে অনেক দিন ধরেই কারাগারে পাকিস্তানের ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান। সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে, কারাগারে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পথে সাবেক এই অলরাউন্ডার। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি ক্রিকেটবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া ইমরানের-এর স্বাস্থ্যের বিষয়ে উঠা উদ্বেগকে ‘ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পিসিবি প্রধান নকভি আজ এক সংবাদ সম্মেলনে ইমরানের স্বাস্থ্যের অবনতির দাবি অস্বীকার করে বলেন,
‘তার (ইমরানের) চিকিৎসকরা বললেন, “চমৎকার! আমরা যদি চিকিৎসা করাতাম, আমরা ওভাবে করতামই।’ রাজনৈতিক নেতারা বললেন, “আমরা সন্তুষ্ট, এবং আমরা আমাদের জনগণকে এ বিষয়ে জানাব।’
বিপরীতে ইমরানের বোন আলীমা খান আল জাজিরা-কে জানান যে পাকিস্তান সরকার ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরিবারের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার অনুমোদন দিতে অনীহা দেখিয়েছে চিকিৎসার সময়। তবে নকভি বিষয়টি উল্টো আলীমার ওপর দায় চাপিয়ে দাবি করে, রাজনৈতিক কারণে চিকিৎসা ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করেছে ইমরানের পরিবার।
নকভি বলেন,
‘আমার যা বলতে পারি তা হলো, আলীমা খান সাহিবা তাঁর পার্টিকে বলেছিলেন—যদি আমরা এটা (ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরিবারের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকা) মেনে নিই, বিষয়টি থমকে যাবে। তাঁর কারণে চিকিৎসা পরীক্ষা তিন দিন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।’
এই বিবৃতি আসে ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেব সহ ইমরানের চিকিৎসার দাবিতে ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তান সরকার বরাবর যৌথ বিবৃতি দেওয়ার পর। ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা এবং মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার জন্য পাকিস্তানকে তারা অনুরোধ করেছিলেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে,
‘১৯৯২ ক্রিকেট বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্ব এবং সাফল্যের প্রেক্ষিতে, তাকে মর্যাদাপূর্ণ বন্দিত্ব এবং স্বচ্ছ আইনগত সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।’
২০২৩ সালের আগষ্ট থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খান তাঁর ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, এমনটাই জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম। পিটিআই ও ইমরান খানের পরিবারের সদস্যরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়ার দাবি জানান।