২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৩:২০ পিএম

২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর। পরবর্তী বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনে সুদানের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের বাঁচা-মরা ম্যাচ। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই জয় করেন আটলান্টিক পাড়ের ফুটবলযোদ্ধারা। মুহূর্তেই মাঠ ছুঁয়ে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র দেশে। এরই মধ্যে দলনেতা দিদিয়ের দ্রগবার কমান্ডিং হাঁক, 'এসো, জড়ো হও!'
একত্র হলেন সবাই। এক কাতারে দাঁড়ালেন খেলোয়াড়-কোচিং স্টাফ। ড্রেসিংরুম নিস্তব্ধ-পিনপতন নিরবতা। পুরো আইভরি কোস্ট তখন টিভির সামনে, সরাসরি সম্প্রচারে দেখানো হচ্ছিল বিশেষ এই মুহূর্ত।
শান্ত কণ্ঠে দ্রগবা দিলেন যুদ্ধবন্ধের ডাক। আড়ষ্টতা ছাড়াই বলতে শুরু করেন, ‘নারী কিংবা পুরুষ, উত্তর কি দক্ষিণ, পূর্ব কি পশ্চিম; সব আজ এক। আজ প্রমাণ হয়েছে, একাগ্রতা ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা আমাদের বিশ্বকাপের জন্য মনোনীত করেছে। আমরা একসঙ্গে বিশ্বকাপ খেলব।’
দ্রগবার মিনিটখানেকের বক্তব্য জাতীয়ভাবে খ্যাতি এনে তো দিলই, বিশ্বব্যাপী ফলাও করে প্রচার হলো এই সংবাদ। আইভরি কোস্টে সেদিন পুরো দিন-রাত টিভিতে কেবল চলতে থাকল একই ভিডিও। এক হয়ে গেলেন বিদ্রোহী নেতা ও প্রেসিডেন্ট! সমঝোতা স্মারকে সই করলেন দুই নেতা। চিরতরে অবসান হলো যুদ্ধ।
ক্রীড়াতে এমন ঘটনা আরও আছে। আছে বিপরীত দৃশ্যও। অর্থের পেছনে ছুটতে থাকা ভোগবাদী বিশ্বের কাছে এখন বিনোদনের (খেলা) চেয়ে টাকাই মুখ্য। মেটাফরসিসের সেই কীটপতঙ্গে রূপ নিয়েছে এখনকার ক্রীড়া। যা প্রয়োজনের চেয়ে অধিকতর বিরক্তির।
বিশেষত, এখন মাঠে খেলার নামে চলে বানিজ্য—আইসিসি, এসিসির মূখ্য গৌণ লক্ষ্য অর্থের ঝনঝনানি। সম্প্রচার চ্যানেলের টিআরপি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, কর্পোরেট বিলাসিতা—যা অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে উপমহাদেশের ভূরাজনৈতীতেও।
এশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক; সবশেষ ১০-১২টি বৈশ্বয়িক টুনার্মেন্টে ভারত-পাকিস্তান প্রায় একই গ্রুপে। সুডোকুর সহজ চকের মতো কায়দা করে মিলিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। দু'পক্ষের চাওয়ার চেয়েও আয়োজক কমিটির আগ্রহটাই এখানে প্রাধান্য। এটাই বিজনেসের খেল।
ম্যাচের ফল যাই হোক, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস পুঁজি করে অগ্রীম টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার চ্যানেলের হাইপ, স্টেডিয়াম কেন্দ্রিক হোটেল-মোটেল মালিকদের ফুলে ফেঁপে ওঠাও এক প্রকার গোপন মিশন।
ছোট্ট একটি হিসাব—সবশেষ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এটি টেলিভিশনে ২৬ বিলিয়ন মিনিটেরও বেশি দর্শক দেখেন। এর আগে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখেছিল ১৯.৫ বিলিয়ন মিনিট। যা সম্প্রচার সত্ত্ব এবং স্পন্সরশিপ গ্রহীতাদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহের কারণ। চড়ামূল্যে বিক্রি ও নিলামের অন্যতম আকর্ষণ এমন আলোচনা।
দর্শক আগ্রহের সঙ্গে সূত্রপাত আছে অর্থেরও। ক্রিকেট বিষয়ক ভারতীয় ওয়েবসাইট ক্রিক ট্যাকার তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ১৭তম এশিয়া কাপে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এককভাবে প্রায় ১.১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ভারতীয় রুপি) আয় করবে। প্রতিটি ম্যাচ থেকে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের আয় প্রায় ১৮৩ মিলিয়ন পিআর (প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ভারতীয় রুপি)। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ থেকে আয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।
ক্রিকেটের সঙ্গে যাদের সখ্যতা দীর্ঘদিনের, ক্রিকেট যারা বুঝেন বা খোঁজ রাখেন কিংবা স্মৃতিতে রাখেন ৯০ দশকের সাদা-কালো ম্যাচ, তাদের জানারই কথা-উপমহাদেশ তো বটেই, বৈশ্বিক টুনার্মেন্টেও প্রতিবেশি দু'দলকে রাখা হতো আলাদা গ্রুপে। তখন পাকিস্তান-ভারত নিয়ে আলাদা উন্মাদনা ছিল না, তা কিন্তু নয়। উচ্ছ্বাসের সব জমা থাকতো শেষ চার বা শিরোপার মঞ্চের জন্য।
১৯৯২ বলুন আর ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। কথা হতে পারে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কিংবা এশিয়া কাপ নিয়েও—তখন মূলত খেলাটাই হতো। সম্প্রতির বন্ধন আর সম্পর্কের অটুট দৃশ্য ধরা পড়তো প্রায়শঃ। বাইরে যাই হোক, পাকিস্তান-ভারত ক্রিকেটারদের সম্পর্ক ছিল গাঢ়। খেলার বাইরেও আত্মীয় গড়ে ওঠেছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা কিংবা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মাঝে। সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলের বাড়িতে শচীন টেন্ডুলকারদের দাওয়াত গ্রহণ কিংবা পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে রাহুল দ্রাবিড়ের সম্পর্ক। সম্পর্ক ছিল শ্রীলঙ্কার জয়সূরিয়া-জয়াবর্ধনেদের সঙ্গে হাবিবুল বাশার-খালেদ মাহমুদেরও।
সময় বদলেছে। এখন মাঠের খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্পর্ক নষ্টের কারণ। ভারত-পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ; উপমহাদেশীয় চার দেশের খেলা মানেই অলিখিত রাইভাল। যা মাঠ ছাড়িয়ে টেলিভিশনের টকশো কিংবা সাবেকদের তর্কবিতর্কের খোরাক।
এশিয়া কাপের প্রথম মুখোমুখিতে হাত মেলায়নি ভারত-পাকিস্তানের দুই অধিনায়ক সালমান আলি আগা ও সূর্যকুমার যাদব। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচ নিয়ে রীতিমত যুদ্ধ যুদ্ধ রব। আইসিসির দ্বারস্থ পিসিবি। রেফারিকে মাফ চাওয়ানোর বাড়াবাড়ি। দ্বিতীয় সাক্ষাতেও একই দৃশপট। ভুল শুধরানো তো দূরের ব্যাপার, তিক্ততার পারদ ছিল উর্ধ্বে।
ক্রিকেট মাঠের এই নোংরা অধ্যায়ে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার নামও। গত কয়েকবছর ধরে সিংহ-বাঘের খেলা মানেই অঘোষিত যুদ্ধ। নাগিন ড্যান্স, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়, তেড়েফুঁড়ে ছুটে যাওয়া, একে অন্যকে সহ্য না করার প্রবনতা এখন বেশিই দেখা যায়।
বছর দশক আগেও এমন পরিবেশ ছিল না। একটা সুষম প্রীতির বন্ধন দেখা যেত ক্রিকেটে। বাইশ গজের লড়াই কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল।
ক্রমান্বয়ে ফাটল ধরা সম্পর্কগুলোকে আরও উসকে দিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে। অহেতুক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখানোর মিডিয়া ট্রায়াল চলছে হারহামেশা। আয়োজক কমিটিরও একই প্রতিপক্ষকে বারবার মুখোমুখি করানোর অপ্রাণ চেষ্টা। মূলত টিআরপি ধরে রাখতেই একই ঘটনা বারবার দেখানো হয় মিডিয়ায়।
চলতে থাকে আলোচনা সমালোচনা। ফরম্যাটে হয় পরিবর্তন। তদুপরি সম্পর্কগুলো হয় আরো নিম্নমুখী।
অথচ ক্রিকেটে হয়ে উঠতে পারতো শান্তির পায়রা। ক্রীড়া কেবল হাসাতে আর কাঁদাতে জানে না, যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিও ফিরিয়ে আনতে পারে। মনুষ্যত্ব লোপের সঙ্গে একথাও ভুলে গেলো সকলে।
No posts available.
২ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ পিএম
২ মার্চ ২০২৬, ৪:১৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে পাকিস্তান নারী ক্রিকেটারদের দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে লাগাতার পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে দুবাই, সৌদি আরব, ওমানসহ কয়েকটি দেশের বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
যুদ্ধের সংঘাত এবং বিমান বন্দর সাময়িক বন্ধ থাকায় দেশে ফিরতে বিলম্ব হচ্ছে পাকিস্তান নারী দলের ক্রিকেটারদের। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ শেষে সোমবার রাতে ডারবান থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল ফাতিমা সানাদের। কিন্তু বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। বর্তমানে তারা ডারবানেই অবস্থান করছেন।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, আকাশসীমা পুনরায় খোলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়ার পরই দল দেশে ফেরার পথে রওনা দেবে। পিসিবি সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খেলোয়াড়রা দক্ষিণ আফ্রিকাতেই থাকবেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পাকিস্তান নারী দল তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে, যেখানে উভয় সিরিজই ২-১ ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিক দল।

ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। ওমরাহ শেষে শনিবার জেদ্দা থেকে দুবাই হয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল জাতীয় দলের উইকেটকিপার ব্যাটারের। তবে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রাপথে বিঘ্ন ঘটে মুশফিকের। তবে সোমবার নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তিনি।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারই সহধর্মিণী জান্নাতুল কিফায়েত মন্ডি।
তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মুশফিক নিরাপদে বাসায় ফিরে এসেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছেন। যারা আমার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং আমাকে মানসিক সমর্থন দিয়েছেন, সকল আপনজনকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুশফিকের স্ত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক যেন হয়, এ জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন তিনি, ‘আমরা দোয়া করি, ইন শা আল্লাহ, পৃথিবীর পরিস্থিতি খুব শিগগিরই শান্ত ও স্বাভাবিক হয়ে উঠুক।’
রবিবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছিলেন ইসরায়েল-ইরানের সংঘাতে জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে পড়া মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন তিনি। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, রবিবার রাতের ফ্লাইটে মুশফিক দেশে ফিরে আসবেন।

আগামীকাল মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনালে নর্থ জোনের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেন্ট্রাল জোন। তার আগে সোমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন সেন্ট্রাল জোনের অলরাউন্ডার সাইফ হাসান। এসময় তিনি দলের লক্ষ্য এবং ব্যক্তিগত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আগামী সপ্তাহে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। ফলে বিসিএল আসন্ন সিরিজের আগে দেশের ক্রিকেটারদের জন্য ভালো প্রস্তুতির মঞ্চ হতে পারে। সাইফ হাসানও বলছেন সে কথা।
সাইফ বলেন, 'যেহেতু আমরা ফাইনালে উঠেছি এবং একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ বেড়েছে। ওয়ানডে সিরিজের আগে এটা ভালো একটা প্রস্তুতি আমাদের জন্য। আশা করি কালকের ম্যাচটায় আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবো।'
'গত এক-দেড় বছর ওরকম ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাইনি। কিছু ওয়ানডে আমরা পেয়েছি তাও টি-টোয়েন্টির মাঝখানে। এখন যেগুলাই ওয়ানডে সিরিজ আছে অবশ্যই প্রস্তুতিটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।'-যোগ করেন তিনি।
বিসিএলে বাদবাকি ম্যাচগুলো বগুড়া ও রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলেও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিরপুর। শিরোপার মঞ্চে ব্যক্তিগত লক্ষ্য জানাতে গিয়ে সাইফ বলেন,
'বগুড়া-রাজশাহীতে সাধারণত খুব ভালো উইকেট থাকে। আর মিরপুরে কালকে যেহেতু দিবা-রাত্রির ম্যাচ, আশা করি ভালো উইকেট থাকবে। একটা সিরিজের আগে যদি ম্যাচ অনুশীলন থাকে, অবশ্যই খুবই ভালো ব্যাটসম্যান হিসেবে যদি বলি। তাই ম্যাচটি যেখানেই খেলি না কেন, নিজের শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করি।'
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হয়নি বাংলাদেশ দলের। চলতি বছরেও কোনো আইসিসি ইভেন্ট নেই। যদিও আগামী বছর রয়েছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। যেখানে সরাসরি খেলবে টাইগাররাও।
সাইফ বলেন, ‘সবাই আসলে মন খারাপ করেছে (বিশ্বকাপ খেলতে না পেরে)। এখানে অস্বীকার করার কিছু নেই। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই জরুরি।’

সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ঠিকই হারিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু রান রেটের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। তাতেই সালমান আলী আগাদের সেমি-ফাইনাল স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। পাকিস্তানকে টপকে গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে নিউ জিল্যান্ড। তিনটি ম্যাচই জিতে গ্রুপ সেরা হয়েছে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে শনিবার। এখনও থামেনি সমালোচনার ঝড়। শূলে চড়ানো হচ্ছে নির্বাচক, কোচিং স্টাফদের সদস্যদেরও। শোনা গেছে, বিশ্বকাপে ব্যর্থতায় জরিমানা করা হয়েছে ক্রিকেটারদের। জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হচ্ছে কোচিং স্টাফদের। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক আসরে ব্যর্থতায় পিসিবিতে ফাটল ধরেছে।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে দেশটির জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক আন্তর্জাতিক আম্পায়ার আলিম দার। পাকিস্তানের সামা টিভি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আজ।
এক প্রতিবেদনে তারা জানায়, জাতীয় দলের ধারাবাহিক বাজে ফলের কারণে সৃষ্ট উদ্বেগ থেকেই আলিম দার পদত্যাগপত্র জমা দেন। এতে দল পরিচালনা ও নির্বাচকদের ওপর চাপ যে বাড়ছে, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্বকাপে মাঠের ব্যর্থতার পর নির্বাচক প্যানেলে এটিই প্রথম বড় পরিবর্তন। তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন বা কমিটিতে আরও কোনো পরিবর্তন আসছে কি না—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচই পাকিস্তান খেলেছে শ্রীলঙ্কায়। তাদের গ্রুপ পর্বের লড়াইগুলো হয়েছে কলম্বোয়। সুপার এইটের দুটি ম্যাচ খেলেছে তারা পাল্লেকেলেতে।
গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও শেষ চারে খেলতে পারেনি পাকিস্তান। আসরে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। আর এবার এই ব্যর্থতা।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অন্যান্য দেশেও। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে এই সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে, বিসিবির সূত্র বলছে, এই বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
৫০ ওভারের তিনটি ম্যাচ খেলতে ৯ মার্চ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে পাকিস্তানের। শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ১১, ১৩ এবং ১৫ মার্চ হওয়ার কথা ম্যাচগুলো। অনিশ্চয়তার মধ্যে সিরিজটি আলোর মুখ এখন না-ও দেখতে পারে। তবে সূত্র বরাতে জিও সুপার বলেছে ভ্রমণ ঝুঁকি, নিরাপত্তা উদ্বেগ যদি না বাড়ে তবে পাকিস্তান অবশ্যই সফর করবে।
আরও পড়ুন
| নতুন মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে ভারত |
|
এদিকে আসন্ন সিরিজে দল নিয়ে এই সপ্তাহে বসার কথা পাকিস্তান ম্যানেজমেন্টের। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর তারা ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে মনোযোগ দিচ্ছে। আগামী বছর সাদা বলের লঙ্গার ভার্সনের বিশ্বকাপ হবে জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকায়।
সূত্র জানায়, ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের বিপক্ষে সফর দিয়েই ব্যাপক পরিবর্তন আনতে চায় পাকিস্তান। বাবর আজম, মোহাম্মদ নওয়াজ ও সাইম আইয়ুবদের মতো প্রথম পছন্দের ক্রিকেটাররা বাদ পড়তে পারেন। তাদের জায়গায় তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে পাকিস্তানের নির্বাচক প্যানেল। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা আরও ৫-৬ জন ক্রিকেটার বাদ পড়তে পারেন বলে জানায় সূত্র।
বাংলাদেশে আসার আগে সর্বশেষ গত নভেম্বরে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল পাকিস্তান। সেবার ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে আতিথেয়তা দেয় পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়া তিন ম্যাচেই জয়লাভ করে পাকিস্তান।