২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৩:২০ পিএম

২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর। পরবর্তী বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনে সুদানের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের বাঁচা-মরা ম্যাচ। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই জয় করেন আটলান্টিক পাড়ের ফুটবলযোদ্ধারা। মুহূর্তেই মাঠ ছুঁয়ে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র দেশে। এরই মধ্যে দলনেতা দিদিয়ের দ্রগবার কমান্ডিং হাঁক, 'এসো, জড়ো হও!'
একত্র হলেন সবাই। এক কাতারে দাঁড়ালেন খেলোয়াড়-কোচিং স্টাফ। ড্রেসিংরুম নিস্তব্ধ-পিনপতন নিরবতা। পুরো আইভরি কোস্ট তখন টিভির সামনে, সরাসরি সম্প্রচারে দেখানো হচ্ছিল বিশেষ এই মুহূর্ত।
শান্ত কণ্ঠে দ্রগবা দিলেন যুদ্ধবন্ধের ডাক। আড়ষ্টতা ছাড়াই বলতে শুরু করেন, ‘নারী কিংবা পুরুষ, উত্তর কি দক্ষিণ, পূর্ব কি পশ্চিম; সব আজ এক। আজ প্রমাণ হয়েছে, একাগ্রতা ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা আমাদের বিশ্বকাপের জন্য মনোনীত করেছে। আমরা একসঙ্গে বিশ্বকাপ খেলব।’
দ্রগবার মিনিটখানেকের বক্তব্য জাতীয়ভাবে খ্যাতি এনে তো দিলই, বিশ্বব্যাপী ফলাও করে প্রচার হলো এই সংবাদ। আইভরি কোস্টে সেদিন পুরো দিন-রাত টিভিতে কেবল চলতে থাকল একই ভিডিও। এক হয়ে গেলেন বিদ্রোহী নেতা ও প্রেসিডেন্ট! সমঝোতা স্মারকে সই করলেন দুই নেতা। চিরতরে অবসান হলো যুদ্ধ।
ক্রীড়াতে এমন ঘটনা আরও আছে। আছে বিপরীত দৃশ্যও। অর্থের পেছনে ছুটতে থাকা ভোগবাদী বিশ্বের কাছে এখন বিনোদনের (খেলা) চেয়ে টাকাই মুখ্য। মেটাফরসিসের সেই কীটপতঙ্গে রূপ নিয়েছে এখনকার ক্রীড়া। যা প্রয়োজনের চেয়ে অধিকতর বিরক্তির।
বিশেষত, এখন মাঠে খেলার নামে চলে বানিজ্য—আইসিসি, এসিসির মূখ্য গৌণ লক্ষ্য অর্থের ঝনঝনানি। সম্প্রচার চ্যানেলের টিআরপি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, কর্পোরেট বিলাসিতা—যা অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে উপমহাদেশের ভূরাজনৈতীতেও।
এশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক; সবশেষ ১০-১২টি বৈশ্বয়িক টুনার্মেন্টে ভারত-পাকিস্তান প্রায় একই গ্রুপে। সুডোকুর সহজ চকের মতো কায়দা করে মিলিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। দু'পক্ষের চাওয়ার চেয়েও আয়োজক কমিটির আগ্রহটাই এখানে প্রাধান্য। এটাই বিজনেসের খেল।
ম্যাচের ফল যাই হোক, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস পুঁজি করে অগ্রীম টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার চ্যানেলের হাইপ, স্টেডিয়াম কেন্দ্রিক হোটেল-মোটেল মালিকদের ফুলে ফেঁপে ওঠাও এক প্রকার গোপন মিশন।
ছোট্ট একটি হিসাব—সবশেষ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এটি টেলিভিশনে ২৬ বিলিয়ন মিনিটেরও বেশি দর্শক দেখেন। এর আগে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখেছিল ১৯.৫ বিলিয়ন মিনিট। যা সম্প্রচার সত্ত্ব এবং স্পন্সরশিপ গ্রহীতাদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহের কারণ। চড়ামূল্যে বিক্রি ও নিলামের অন্যতম আকর্ষণ এমন আলোচনা।
দর্শক আগ্রহের সঙ্গে সূত্রপাত আছে অর্থেরও। ক্রিকেট বিষয়ক ভারতীয় ওয়েবসাইট ক্রিক ট্যাকার তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ১৭তম এশিয়া কাপে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এককভাবে প্রায় ১.১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ভারতীয় রুপি) আয় করবে। প্রতিটি ম্যাচ থেকে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের আয় প্রায় ১৮৩ মিলিয়ন পিআর (প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ভারতীয় রুপি)। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ থেকে আয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।
ক্রিকেটের সঙ্গে যাদের সখ্যতা দীর্ঘদিনের, ক্রিকেট যারা বুঝেন বা খোঁজ রাখেন কিংবা স্মৃতিতে রাখেন ৯০ দশকের সাদা-কালো ম্যাচ, তাদের জানারই কথা-উপমহাদেশ তো বটেই, বৈশ্বিক টুনার্মেন্টেও প্রতিবেশি দু'দলকে রাখা হতো আলাদা গ্রুপে। তখন পাকিস্তান-ভারত নিয়ে আলাদা উন্মাদনা ছিল না, তা কিন্তু নয়। উচ্ছ্বাসের সব জমা থাকতো শেষ চার বা শিরোপার মঞ্চের জন্য।
১৯৯২ বলুন আর ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। কথা হতে পারে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কিংবা এশিয়া কাপ নিয়েও—তখন মূলত খেলাটাই হতো। সম্প্রতির বন্ধন আর সম্পর্কের অটুট দৃশ্য ধরা পড়তো প্রায়শঃ। বাইরে যাই হোক, পাকিস্তান-ভারত ক্রিকেটারদের সম্পর্ক ছিল গাঢ়। খেলার বাইরেও আত্মীয় গড়ে ওঠেছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা কিংবা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মাঝে। সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলের বাড়িতে শচীন টেন্ডুলকারদের দাওয়াত গ্রহণ কিংবা পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে রাহুল দ্রাবিড়ের সম্পর্ক। সম্পর্ক ছিল শ্রীলঙ্কার জয়সূরিয়া-জয়াবর্ধনেদের সঙ্গে হাবিবুল বাশার-খালেদ মাহমুদেরও।
সময় বদলেছে। এখন মাঠের খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্পর্ক নষ্টের কারণ। ভারত-পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ; উপমহাদেশীয় চার দেশের খেলা মানেই অলিখিত রাইভাল। যা মাঠ ছাড়িয়ে টেলিভিশনের টকশো কিংবা সাবেকদের তর্কবিতর্কের খোরাক।
এশিয়া কাপের প্রথম মুখোমুখিতে হাত মেলায়নি ভারত-পাকিস্তানের দুই অধিনায়ক সালমান আলি আগা ও সূর্যকুমার যাদব। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচ নিয়ে রীতিমত যুদ্ধ যুদ্ধ রব। আইসিসির দ্বারস্থ পিসিবি। রেফারিকে মাফ চাওয়ানোর বাড়াবাড়ি। দ্বিতীয় সাক্ষাতেও একই দৃশপট। ভুল শুধরানো তো দূরের ব্যাপার, তিক্ততার পারদ ছিল উর্ধ্বে।
ক্রিকেট মাঠের এই নোংরা অধ্যায়ে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার নামও। গত কয়েকবছর ধরে সিংহ-বাঘের খেলা মানেই অঘোষিত যুদ্ধ। নাগিন ড্যান্স, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়, তেড়েফুঁড়ে ছুটে যাওয়া, একে অন্যকে সহ্য না করার প্রবনতা এখন বেশিই দেখা যায়।
বছর দশক আগেও এমন পরিবেশ ছিল না। একটা সুষম প্রীতির বন্ধন দেখা যেত ক্রিকেটে। বাইশ গজের লড়াই কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল।
ক্রমান্বয়ে ফাটল ধরা সম্পর্কগুলোকে আরও উসকে দিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে। অহেতুক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখানোর মিডিয়া ট্রায়াল চলছে হারহামেশা। আয়োজক কমিটিরও একই প্রতিপক্ষকে বারবার মুখোমুখি করানোর অপ্রাণ চেষ্টা। মূলত টিআরপি ধরে রাখতেই একই ঘটনা বারবার দেখানো হয় মিডিয়ায়।
চলতে থাকে আলোচনা সমালোচনা। ফরম্যাটে হয় পরিবর্তন। তদুপরি সম্পর্কগুলো হয় আরো নিম্নমুখী।
অথচ ক্রিকেটে হয়ে উঠতে পারতো শান্তির পায়রা। ক্রীড়া কেবল হাসাতে আর কাঁদাতে জানে না, যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিও ফিরিয়ে আনতে পারে। মনুষ্যত্ব লোপের সঙ্গে একথাও ভুলে গেলো সকলে।
No posts available.
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১১ পিএম
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৬:২৪ পিএম

৪ মে মাঠে গড়াচ্ছে দেশের
ঐতিহ্যবাহী ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল)। মিরপুর জাতীয় স্টেডিয়ামসহ ছয় ভেন্যুতে
অনুষ্ঠিতব্য ৫০ ওভারের এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে ১১ জুন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ডিপিএলের অন্যতম সঙ্গী
হিসেবে থাকছে দেশের শীর্ষ এবং স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ ও ওয়ালটন।
বসুন্ধরা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘বসুন্ধরা সিমেন্ট’ পাওয়ার্ড
বাই স্পন্সর হিসেবে থাকছে ডিপিএলের। আর টাইটেল স্পন্সর ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের
ঘরোয়া, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পৃষ্ঠপোষকতা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি। পূর্বের ন্যায়
এবারও ডিপিএলে যুক্ত হলো বসুন্ধরা ও ওয়ালটন।
২০২৫-২৬ ডিপিএলের ফরম্যাটে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের মতো ডিপিএলে সুপার লিগ থাকছে না। সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে শিরোপা নির্ধারিত হবে। থাকছে রেলিগেশন লিগও। পয়েন্ট টেবিলের নিচে থাকা দুই দল প্রথম বিভাগে নেমে যাবে।
লিগ কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে মোট ৬৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে লিগ পর্যায়ে ৬৬টি ম্যাচ এবং রেলিগেশন লিগে ৩টি ম্যাচ খেলা হবে।
এই বছরের দলবদল অনুষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছিল। কারণ, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন সাবেক বোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেশ কয়েকটি ক্লাব লিগ বয়কটের হুমকি দিলে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠিত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং লিগ আয়োজনের পথ প্রশস্ত হয়।
লিগে অংশগ্রহণকারী ১২টি ক্লাব হলো শিরোপাধারী আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স (ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব), রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড, সিটি ক্লাব ও ঢাকা লেপার্ডস।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠণতন্ত্রের ২১ ধারা প্রয়োগ করে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়েছে। একই দিনে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ঘোষিত এই অ্যাডহক কমিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা আছে অ্যাডহক কমিটির। তবে সে পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে চান না বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল।
আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি সম্প্রতি গণমাধ্যমকে। তবে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁ সম্ভব না হলেও অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত দুই সপ্তাহ বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করতে চান তামিম ইকবাল-
‘তিন তারিখে একটা বোর্ড মিটিং করে সবার সাথে কথা বলে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়ার। প্রক্রিয়া যদি শুরু হয়ে যায়, সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই নির্বাচন হয়ে যায়, যেটা আমাদের ডেডলাইনের অন্তত দুই-তিন সপ্তাহ আগে হবে।’
বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে পোস্টাল ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। গত ৭ এপ্রিল এনএসসি থেকে গণমাধ্যমকে এমনটাই জানানো হয়েছে। তারপরও বিসিবির পরবর্তী নির্বাচনে পোস্টাল ভোটের বিপক্ষে নন তামিম ইকবাল। তবে এক রুমে, সবাই এক সঙ্গে বসে পোস্টাল ভোটের বিপক্ষে তামিম-
‘পোস্টাল ব্যালট যদি পোস্টাল ব্যালটের মতো হয়, তাহলে অবশ্যই থাকতে পারে। এখন যদি একটা রুমে বসে সবাই একসঙ্গে বসে যদি করেন, সেটাই প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাপার, তাই না? পোস্টাল ব্যালট যে নিয়মে আছে, ই-ভোটের যে নিয়ম আছে, ওগুলো ই-ভোটের মতো থাকবে।’
বিসিবির নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম তদন্তে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির সুপারিশমালায় গঠনতন্ত্রে-প্রথম আলো সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনার পক্ষে নন তামিম ইকবাল- ‘অ্যাডহক কমিটির কাজ এটা নয়। এটা নির্বাচিত কমিটি দেখবে।’
অ্যাডহক কমিটিতে থেকে নির্বাচন করলে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদে বহাল থেকে নির্বাচন করবেন বলে মনস্থির করেছেন তামিম ইকবাল-
‘পদত্যাগের কথা আমি ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা করিনি, আমি অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। প্রথমদিন থেকেই আমি বলেছি আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’

ক্রিকেট বোর্ডের সুবিধাভোগী ক্রিকেটারদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। সেন্ট্রাল কন্ট্রাক্ট, ফার্স্ট ক্লাস কন্ট্রাক্ট ক্রিকেটাররা ঘুরে-ফিরে খেলছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন (ডিপিএল), জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০তে। বিসিবি থেকে পাচ্ছে বেতন, ম্যাচ ফি, ক্লাব এবং ফ্রাঞ্চাইজি থেকে পাচ্ছে সম্মানী। অথচ, প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিভাগের ক্রিকেটাররা সারা বছরে মাত্র একটি আসরে পাচ্ছে খেলার সুযোগ। নিচের ধাপের ক্রিকেটারদের পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্রিকেট ম্যাচ খেলার সুবিধা করে দেওয়ার কথা ভাবছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। ঢাকা ক্রিকেট লিগের নিয়মিত আসরের বাইরে একটি দীর্ঘ পরিসরের আসরে খেলার সুযোগ করে দেয়ার পরিকল্পনার কথা বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বিসিবি বস তামিম ইকবাল-
‘বিসিবি এমনভাবে ডিজাইন করা আছে, যারা জাতীয় দলে খেলছেন, তারাই বিপিএল, এনসিএল, বিসিএলে খেলছেন। কিন্তু প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বিভাগে যারা খেলছেন, লিগ ছাড়া তাঁদের কোনো খেলাই নেই। আমরা তাদেরকে কোনো প্লাটফর্ম করে দেইনি। তাই তাদের জন্য কিছু একটা করে দিতে চাই।’
ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের দৃষ্টান্ত এক্ষেত্রে অনুসরন করতে চান তামিম-
‘ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে প্রতিটি কাউন্টি টিমে ফার্স্ট ইলেভেনের পাশে সেকেন্ড ইলেভেন টিম আছে। এনসিএলে প্রতিটি বিভাগের জন্য একটি ফার্স্ট ইলেভেনের পাশে একটি সেকেন্ড ইলেভেন টিম করতে চাইছি। প্রথম একাদশের টিমগুলোর ম্যাচগুলো ৪ দিনের, তবে সেকেন্ড ইলেভেনের টিমগুলোর ম্যাচ হবে ৩ দিনের।’
সেকেন্ড ইলেভেনের খেলোয়াড়দের জন্য থাকবে ম্যাচ ফি। এবং তাঁরা পারফর্ম করে ফার্স্ট ইলেভেনে খেলতে পারবেন, ফার্স্ট ইলেভেনের মধ্যে যারা পারফর্ম করতে ব্যর্থ হবেন, তারা অবনমিত হয়ে খেলবেন সেকেন্ড ইলেভেনে। এমন পরিকল্পনাই বিসিবি বস তামিম ইকবালের-
‘সেকেন্ড ইলেভেনের জন্যও ন্যূনতম ম্যাচ ফি থাকবে। সেকেন্ড ইলেভেন থেকে ফার্স্ট ইলেভেনে খেলার জন্য তাঁরা চ্যালেঞ্জ নিবে। ইংল্যান্ডের পেসার জোফরা আর্চার ইনজুরি থেকে সেরে উঠে কিন্তু সরাসরি কাউন্টির ফার্স্ট ইলেভেনে খেলেননি। তিনি সেকেন্ড ইলেভেনে খেলে জাতীয় দলে ফিরেছেন।’
এ বছর থেকেই ইংলিশ কাউন্টির আদলে এই ফর্মূলায় যাবে প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট আসর, সে আশ্বাস দিয়েছেন তামিম ইকবাল-
‘এর জন্য আমরা বাজেট তৈরি করছি। এ বছর থেকে দেখতে পারবেন।’
দেশের প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট আসর জাতীয় লিগকেও হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনতে চান তামিম ইকবাল- হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিস্টেমে এখন খেলা হচ্ছে না। আমার মনে আছে, লঞ্চে করে বরিশাল যেয়ে জাতীয় লিগ খেলেছি। হয়তবা হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে সব ম্যাচ আয়োজন করতে পারব না। তবে যে সব জায়গায় মাঠ আছে, সে সব জায়গায় হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিস্টেমে খেলা হবে। এই সিজন থেকে দেখতে পাবেন।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে অ্যাড-হক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুতেই মাঠে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের ভোগান্তি কমানোর দিকে নজর দেওয়ার কথা বলেছিলেন তামিম ইকবাল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বড় একটি পদক্ষেপ নিলেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ছাউনিবিহীন পূর্ব গ্যালারিতে বিশেষ ক্যানোপি শেড বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিমের অ্যাড-হক কমিটি। যাতে তপ্ত রোদের মাঝেও কিছুটা স্বস্তিতে খেলা দেখতে পারেন দর্শকরা।
এমনিতে দেশের হোম অব ক্রিকেটের বাকি সব গ্যালারি (শহীদ জুয়েল ও শহীদ মুশতাক স্ট্যান্ড, নর্দার্ন ও সাউদার্ন গ্যালারি, ইন্টারন্যাশনাল লাউঞ্জ ও গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড) মোটামুটি ছাউনি দিয়ে ঢাকা। তাই সেসব গ্যালারিতে রোদে খেলা দেখতে তেমন সমস্যা হয় না।
তবে পূর্ব গ্যালারির পুরোটা উন্মুক্ত। তাই দর্শকদের রোদে পুড়তে হয় অথবা বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। সেখানে টিকিটের দামও থাকে সবচেয়ে কম। পূর্ব গ্যালারিতে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের তাই কিছুটা স্বস্তির খবর দিলেন তামিম।
মিরপুরে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যানোপি শেড বসানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান অ্যাড-হক কমিটির প্রধান তামিম।
“স্টেডিয়ামের যেখানে জায়ান্ট স্ক্রিন, স্কোরবোর্ড আছে, সেখানে কোন শেড নেই। এখানে টিকিটের দাম থাকে সবচেয়ে কম, আর এখানেই দর্শক আসে সবচেয়ে বেশি। এই গরমে বলেন তারা প্রচণ্ড কষ্ট পায় রোদের জন্য।”
“আমরা সবাই সম্মত হয়েছি, এখানে আমরা একটা ক্যানোপি সেটআপ করে দিব প্রায় ২৭ হাজার স্কয়ার ফিটের মতো। এতে পুরো জিনিসটা শেডের ভেতরে এসে যাবে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় স্টেডিয়ামে করা হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আশা করি এই জিনিসটা দ্রুত আপনারা দেখতে পারবেন।”
পূর্ব গ্যালারিতে ক্যানোপি শেডের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এরই মধ্যে ক্লাব হাউজের ছাউনির নিচে পরীক্ষামূলকভাবে বড় ফ্যান লাগিয়েছে বিসিবি। যাতে তীব্র গরমে কিছুটা হলেও আরাম পেতে পারেন মাঠে খেলতে দেখতে আসা দর্শকরা।
এছাড়া স্টেডিয়ামের ছাদে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদার কিছুটা মেটানোর কথাও ভাবছে বিসিবি। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পরামর্শ অনুযায়ী শিগগিরই এটির কাজ শুরু করে দেওয়া হতে পারে।
“মাননীয় ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল ভাইও এই জিনিসটা বলেছেন, আমরাও একমত এটার সঙ্গে যে, আমাদের সোলার সিস্টেম। একটা বড় অংকের টাকা আমাদের দিতে হয় প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল হিসেবে। আমরা চেষ্টা করছি এটা নিয়ে... এখন খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে আছি... আমরা পুরো স্টেডিয়ামের প্রত্যেকটা ছাদে সোলার সিস্টেম করে দেব।”
“এটা পরিবেশের জন্য ভালো। বিদ্যুৎ বাঁচাবে এবং সব কিছু হিসেব করে দেখতে হবে বিনিয়োগের সঙ্গে প্রাপ্তিটা কেমন। সব কিছু হিসেব করে সোলার সিস্টেম বসানো হবে। এটা এখন মাত্র রেকি করা হয়েছে। সব বিবেচনা করে এটা করতে পারলে আমাদের জন্য গর্বের বিষয় হবে।”

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) প্রথমবার খেলতে গিয়েই বাজিমাত করেছেন নাহিদ রানা। গতি, সুইং ও বৈচিত্রময় বোলিংয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তোলা নাহিদ ছিলেন পুরোদস্তর ‘হাড়কিপটে’। এবার পিএসএলের শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চ গতির ঝড় তুলতে পুরোপুরি প্রস্তুত এই ডানহাতি পেসার।
পিএসএলে এবারের আসরে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে রানার দল পেশাওয়ার জালমি। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলে চলতি মাসের ১৪ তারিখ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে দেশে ফিরেছিলেন নাহিদ রানা। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, পিএসএলের বাকি অংশে এই টাইগার পেসারকে আর এনওসি দেবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনাল ম্যাচে খেলার জন্য তাকে আবারও এনওসি দেওয়া হয়।
দেশে ফেরার আগে পিএসএলে ৪ ম্যাচ খেলে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন রানা। বল করেছেন মোট ১৪ ওভার। ওভারপ্রতি মাত্র ৫.৪২ রান খরচ করেন এই গতিতারকা। গড় ১০.৮৫, স্ট্রাইক রেট ১২ অর্থাৎ প্রতি ১২ বলে একটি করে উইকেট নিয়েছেন এই পেসার।
এবারের পিএসএলে বোলারদের মধ্যে সর্বনিম্ন ইকোনমি রেট রানার। দুই নম্বরে থাকা মোহাম্মদ আব্বাস ৩ ম্যাচে ওভারপ্রতি ৫.৭৫ রান খরচ করেছেন আর তিনে থাকা ফখর জামানের ইকোনমি রেট ৫.৮০।
২০২৬ পিএসএল দিয়েই দেশের বাইরের লিগে অভিষেক হয় রানার। প্রথম ম্যাচে অবশ্য খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। তিন ওভার বল করে ৩০ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।

দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই নিজের জাত চেনাতে শুরু করেন রানা। করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে ৪ ওভার বল করে তুলে নেন ৩ উইকেট, ১.৭৫ ইকোনমি রেটে খরচ করেন মাত্র ৭ রান। এই ম্যাচে মোট ২০ টি ডট বল করেন রানা। পিএসএল ইতিহাসের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ডট বল করার রেকর্ডে ভাগ বসান ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ।
এর আগে ২০১৮ সালে মোহাম্মদ নওয়াজ ২০টি ডট বল করে এই রেকর্ডটি গড়েছিলেন। তবে পেসার হিসেবে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ডট বলের রেকর্ডটি এখন এককভাবে রানার নামেই।
লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষে নিজের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে ৩ ওভার বোলিং করে ১৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন রানা। দেশে ফেরার আগে নিজের সবশেষ ম্যাচে মুলতান সুলতান্সের বিপক্ষে ২৪ রান খরচায় তুলে নেন ২ উইকেট।
পিএসএল থেকে দেশে ফিরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও গতির ঝড় তোলেন রানা। তিন ওয়ানডেতে ৮ উইকেট নিয়ে হন সিরিজসেরা।

‘ব্ল্যাক ক্যাপসদের’ বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১০ ওভারের কোটা পূরণ করা রানার ৫৯ টি ডেলিভারিই ছিল ১৪০ কিলোমিটারের ওপরে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তাঁর গড় গতি ছিল প্রায় ১৪৬ কিলোমিটার ঘণ্টায়।
রানার গতি ঝলক আরও একবার দেখা যাবে চলতি পিএসএল ফাইনালে। আগামী ৩ মে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। একটি বড় বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেলার গুরুত্ব বিবেচনা করেই নাকি নাহিদকে ছাড়পত্র দিয়েছে বিসিবি। বোর্ড মনে করছে, বিদেশের মাটিতে এমন হাই-ভোল্টেজ ফাইনালের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা রানাকে মানসিকভাবে আরও পরিপক্ক করে তুলবে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে বড় মঞ্চে পারফর্ম করতে সহায়ক হতে পারে।