
দাপট দেখিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। রবিবার আহমেদাবাদে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৬ রানের বড় জয়ে তৃতীয়বারের মতো কুড়ি কুড়ি ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল সূর্যকুমার যাদবরা। ভারতের এ জয়ের পর বিশেষ বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি।
পাকিস্তানের ২০০৯ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন স্পিন অলরাউন্ডার আফ্রিদি। প্রতিবেশী ভারতের জয়ের পর সেই সময়কার স্মৃতি রোমন্থনের পাশাপাশি সূর্যকুমারদের প্রশংসা করেছেন তিনি।
নিজের এক্সে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে আফ্রিদি বলেন,
‘তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য অভিনন্দন টিম ইন্ডিয়া। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তারা নিখুঁত দল হিসেবে প্রমাণ করেছে। এটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য গর্বের। এমন পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে কেন ভারত এখনো বিশ্ব টুর্নামেন্টে শীর্ষে রয়েছে।’
বোলিং-ব্যাটিং ও ফিল্ডিং—তিন সেক্টরে ভারতের ক্রিকেটাররা সর্বোচ্চটুকু করে দেখিয়েছে। ব্যাটিং সঞ্জু স্যামসন, ইশান কিশান তাদের সেরাটা দেখিয়েছেন। বোলিংয়ে জসপ্রিত বুহমরাহ, আর্শদীপ সিংরা। তার মধ্যে শিবম দুবে ও হার্দিক পাণ্ডিয়ারা দেখিয়েছেন সেরাটা। অভিষেক শর্মা শুরুতে অপফর্মে থাকলেও শেষের দিকে ছিলেন বেশ মানানসই। অধিনায়ক সূর্যকুমারও সময়ের প্রয়োজনে জ্বলেছেন।
ভারতের বেঞ্চের শক্তির প্রশংসা করতে গিয়ে আফ্রিদি বলেন,
‘বিশ্বকাপ শেষ। আমার মতে, ভারতই এই শিরোপার যোগ্য। তাদের দলগত সমন্বয় অসাধারণ। বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়েরাও প্রথম একাদশের মতোই মানসম্পন্ন। তাই আমি সব সময় বলি, আপনার বেঞ্চ শক্তিশালী হতে হবে। ভারতের বেঞ্চ খুবই শক্তিশালী ছিল—সেখান থেকে যেকোনো খেলোয়াড়কে তুলে এনে সহজেই প্রথম একাদশে রাখা যেত। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তারা চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলেছে।’
No posts available.
৯ মার্চ ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
৯ মার্চ ২০২৬, ৭:০১ পিএম

ভারতের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২০২৬ পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গতকাল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়েছে ভারত। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ছিল অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।
তবে উল্টো চিত্রও ছিল। বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। ব্যাট কিংবা বল—কোনোটিতেই নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেননি তাঁরা। উপমহাদেশের কন্ডিশন ও ব্যক্তিগত বাজে ফর্ম- দুটিই বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় অনেকের জন্য। এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে হতাশ করা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে স্পোর্টসক্রীড়ার ‘ফ্লপ একাদশ’।
টপ অর্ডার—ওপেনার হিসেবে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্র্যান্ডন কিং। দারুণ ফর্ম নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছিলেন তিনি, কিন্তু মাঠে তাঁর প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। ছয় ম্যাচে মাত্র দুবার দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন কিং। সব মিলিয়ে করেন ৯২ রান, গড় ১৫.৩৩ ও স্ট্রাইক রেট ১১৬.৪৫। গুরুত্বপূর্ণ সুপার এইট ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে তাঁকে একাদশ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটার জস বাটলারও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে ছন্দহীন ছিলেন। এক পর্যায়ে টানা পাঁচ ম্যাচে এক অঙ্কেই আউট হন তিনি। শেষ পর্যন্ত আট ম্যাচে করেন মাত্র ৮৭ রান। তাঁর গড় ছিল ১০.৮৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১১৬.০০।
পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগাও তিন নম্বরে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। গুরুত্বপূর্ণ সুপার এইট ম্যাচগুলোতেও ব্যাটে বড় অবদান রাখতে ব্যর্থ হন। সাত ম্যাচে তিনি করেন মাত্র ৬০ রান, গড় ১০.০০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩০.৪৩।
মিডল অর্ডার—অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও মার্কাস স্টয়নিসের ব্যর্থতা দলটির বিদায়ে বড় ভূমিকা রাখে। গ্রিন চার ম্যাচে করেন মাত্র ২৪ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চমকপ্রদ হারের ম্যাচে দুই বলেই শূন্য রানে আউট হন তিনি।
স্টয়নিস চার ম্যাচে করেন ৫৫ রান, গড় ১৮.৩৩। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে যথাক্রমে ৬ ও ৪ রানে আউট হন। বল হাতে চার উইকেট নিলেও তার ইকোনমি রেট ছিল ৮.৯৪।
নিউ জিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলও পুরো টুর্নামেন্টে সংগ্রাম করেছেন। নিচের মিডল অর্ডারে খেলতে নেমে নিজের শক্তি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। পাঁচ ম্যাচে করেন ৮০ রান, গড় ২০ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৫।
ভারতের রিঙ্কু সিং ফিনিশারের ভূমিকায় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। দলে দেরিতে সুযোগ পেয়েও প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন। পাঁচ ইনিংসে তিনি করেন মাত্র ২৪ রান, গড় ৮ এবং স্ট্রাইক রেট ৮২.৭৫। পরে তাঁকে বাদ দিয়ে দলে জায়গা দেওয়া হয় সঞ্জু স্যামসনকে।
লোয়ার অর্ডার—স্পিন বিভাগে হতাশ করেছেন নিউ জিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার ও দক্ষিণ আফ্রিকার কেশভ মহারাজ। স্যান্টনারের ইকোনমি ভালো (৬.৬০) হলেও পুরো টুর্নামেন্টে নিতে পেরেছেন মাত্র দুই উইকেট।
মহারাজ ভারতের বিপক্ষে এক ম্যাচে তিন উইকেট নিলেও বাকি সময়ে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। তার গড় ছিল ৩৫.৮০ এবং ইকোনমি ৮.৫২।
পেস বিভাগে দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। টানা তিন ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকার পর পুরো টুর্নামেন্টে নেন মাত্র পাঁচ উইকেট। তাঁর গড় ৪৩.৪০ এবং ইকোনমি ৮.১৩।
নিউ জিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফিও ব্যর্থতার তালিকায় আছেন। ২০২৫ সালে ভালো পারফরম্যান্স করলেও বিশ্বকাপে তা ধরে রাখতে পারেননি। টুর্নামেন্টে তিন উইকেট নেন তিনি, গড় ৫৪.৩৩ এবং ইকোনমি ১০.৮৬। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে যথাক্রমে ৫০ ও ৪২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।
সব মিলিয়ে বড় বড় নাম থাকা সত্ত্বেও ব্যর্থতার এই একাদশই মনে করিয়ে দেয়—বিশ্বকাপের মঞ্চে নামের চেয়ে পারফরম্যান্সই শেষ কথা।

তারুণ্য নির্ভর এক দল নিয়েই বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান। দলের একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটারদের পরিবর্তে উদীয়মান কিংবা নতুন প্রতিভাদের বাজিয়ে দেখার লক্ষ্য সফরকারীদের। তবে ওয়ানডে সংস্করণে অনেক বছরই পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বাবর আজম। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের অনুপস্থিতিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান¬ মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১১ মার্চ। পরের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ও ১৫ মার্চ। তিনটি ম্যাচই হবে ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
৫০ ওভারের সিরিজে পাকিস্তানের দল ঘোষণার পর বাবর আজমকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন বিষয়টিকে কোনো খেলোয়াড়কে ‘ড্রপ’ করা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, এটি মূলত নতুন ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
সিরিজের আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হেসন বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে নতুন খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করার সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়। তাঁর মতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজটি ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করা কয়েকজন ক্রিকেটারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেখার একটি ভালো সুযোগ।
হেসন বলেন, ‘আমি মনে করি না কাউকে বিশেষভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। বরং এটি আমাদের জন্য তরুণ প্রতিভাদের দেখার একটি দারুণ সুযোগ। ক্যালেন্ডারে খুব কম সময়ই থাকে, যখন আমরা সম্ভাবনাময় কয়েকজন খেলোয়াড়কে একসঙ্গে সুযোগ দিতে পারি। অনেক ক্রিকেটার দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলছে এবং এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।’
হেসন আরও বলেন, ঘরোয়া ক্রিকেট ও পাকিস্তান শাহিনস দলে ভালো পারফরম্যান্স করা কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য এই সিরিজটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ, ‘যেমন সাহিবজাদা ফারহান—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো খেলে সে নিজের দাবি জোরালো করেছে। পাশাপাশি ৫০ ওভারের ঘরোয়া ক্রিকেটেও সে ভালো করেছে। আবার শামিল হোসাইন দারুণ সম্ভাবনাময় এক ক্রিকেটার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সে ছিল সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও অসাধারণ খেলেছে। শাহীনস দলের হয়েও তার পারফরম্যান্স ভালো।’
পাকিস্তানের আরেক প্রতিভাবান মায সাদাকাতকে নিয়ে হেসন বলেন, ‘সে অনেক দিন ধরেই দলে সুযোগ পাওয়ার কাছাকাছি ছিল। তাই এই সিরিজে তাদের মতো খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
এদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের ভরাডুবির সঙ্গে ব্যাট হাসেনি বাবর আজমেরও। বিশ্বকাপে চার ম্যাচে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে বলার মতো কিছুই করতে পারেননি ডানহাতি ব্যাটার।
অবশ্য সবশেষ ওয়ানডেতে তাঁর পারফরম্যান্সে মন্দ নয়। এই সংস্করণে সবশেষ তিনি মাঠে নেমেছিলেন গত বছরের নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ঘরের মাঠে ওই সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৯ রান করেন, দ্বিতীয় ম্যাচে অপরাজিত ১০২ রান করেন এবং শেষ ম্যাচে যোগ করেন ৩৪ রান ৩১ বছর বয়সী ব্যাটার। একদিনের ক্রিকেটে পাকিস্তানের হয়ে অন্যতম সফল ব্যাটার বাবর। এখন পর্যন্ত ১৪০ ম্যাচে ৫৩.৭২ গড়ে তিনি করেছেন ৬,৫০১ রান। এর মধ্যে রয়েছে ৩৭টি অর্ধশতক ও ২০টি শতক।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দারুণ একটি ওভার করেও দলকে জেতাতে পারেননি। তবে ম্যাচ শেষের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিন্ন কারণে আলোচনায় নিউ জিল্যান্ডের অলরাউন্ডার জেমস নিশাম। নেপাল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) একটি দলকে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
গতকাল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে ভারত। ম্যাচ একচেটিয়া ভারতের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পাওয়ার-প্লে শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯২ রান তুলে নেয় তারা।
ভারত তখন ২৫০ পেরোনোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তবে ম্যাচে সাময়িক উত্তেজনা ফেরান নিশাম। ইনিংসের ১৬তম ওভারে টানা তিন উইকেট তুলে নেন এই অলরাউন্ডার।
সেই ওভারে প্রথমে ফুলটস বলে বিপজ্জনক সঞ্জু স্যামসনকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তারপর হাফসেঞ্চুরি করা ইশান কিষানকে আউট করেন। পরের বলেই সুর্যকুমার যাদবকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিলেন। সেই ওভারে দেন মাত্র ১ রান। তাতে নিউ জিল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে ভারত। নিশাম শেষ ওভারে দেন ২৪ রান!
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশামের প্রশংসা করে পোস্ট দেয় নেপাল প্রিমিয়ার লিগের দল পুখারা অ্যাভেঞ্জার্স। লেখা হয়, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালের বড় মঞ্চে নেইশামের সেই ওভার ছিল দুর্দান্ত এবং তাদের হয়ে খেলার জন্য তারা গর্বিত।’
তবে সেই পোস্টের জবাবে নিশামের মন্তব্য বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। সংক্ষিপ্ত উত্তরে তিনি লেখেন, ‘ভালো, খেলোয়াড়দের টাকা দিন।’
ধারণা করা হচ্ছে, দলটির কাছে বকেয়া পারিশ্রমিকের বিষয়টিই এভাবে প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন তিনি। গত মৌসুমে নেপাল প্রিমিয়ার লিগে পুখারা অ্যাভেঞ্জার্স সাত ম্যাচের মধ্যে তিনটি জিতে পঞ্চম হয়েছিল।
নিশামের মন্তব্যের পর নেপালের সংবাদমাধ্যম হামরোখেলকুদ জানিয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ইতিমধ্যে খেলোয়াড়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বকেয়া অর্থ আগামীকাল, ১০ মার্চের মধ্যেই পরিশোধ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ভারতের সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কুড়ি কুড়ির আসরে গ্রুপ পর্ব উৎরে সুপার এইটে পা রাখলেও শেষটা সুন্দর হয়নি একই গ্রুপে থাকা পাকিস্তানের। শেষ আট থেকে বিদায় নেয় সালমান আলী আগারা। বলা চলে একটি ব্যর্থ মিশনের সমাপ্তি হয়েছে পাকিস্তানের।
বিশ্বকাপ শেষ হলেও দম ফেলানোর ফুসরত নেই পাকিস্তানের। ১১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে রবিবার ভোররাতে ঢাকায় পা রাখেন শাহীন শাহ আফ্রিদিরা। প্রথমদিন বিশ্রামে থাকলে সোমবার অনুশীলন করেন সফরকারীরা। অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলটির প্রধান কোচ মাইক হেসন জানালেন সিরিজ জয়ের কথা।
পাকিস্তানের প্রধান কোচ বলেন,
‘অবশ্যই আমরা পারি (বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হারাতে)। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের কন্ডিশনে তাদের বিশেষ সম্মান করি। আবারও বলছি, এখানকার কন্ডিশন টি-টোয়েন্টি সিরিজের তুলনায় অনেক ভিন্ন হবে। আমার মনে হয় দুই দলই ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংয়েও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বেশি ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলছে, তাই আমাদের এই দীর্ঘ ফরম্যাটের সাথে খুব দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।’
পাকিস্তানের নিউ জিল্যান্ড কোচ এরপর যোগ করেন,
‘আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো এখানকার পিচের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেয়া। আমাদের সামনে যাই আসুক না কেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, বাংলাদেশের নিজেদের কন্ডিশনে তাদের চ্যালেঞ্জ করার মতো একটি দল আমাদের আছে।’
শাহীন শাহ আফ্রিদীর নেতৃত্বে থাকা পাকিস্তানের ১৫ সদস্যের দলে ৬ জনই নতুন। অভিজ্ঞ ও নতুনের মিশেলে একটি গতিময় দল নিয়ে বাংলাদেশে সফরে পাকিস্তান। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, তারুণ্যনির্ভর দলটি বাংলাদেশে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে পারে। তবে হেসনের মতে, তার দল বেশ সুসংগঠিত।
হেসন বলেন,
“এটা বেশ রোমাঞ্চকর একটি দল। আমাদের দলে কয়েকজন নতুন মুখ আছে, যারা ‘শাহিনস’ দলে ভালো করেছে। তারা জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে পেরে উচ্ছ্বসিত।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফল আশানুরূপ না হলেও শেষ দুটি ওয়ানডে সিরিজে ভালো করেছে পাকিস্তান। কোচ হেসনও বলছেন সে কথা,
‘আমাদের শেষ দুইটি ওয়ানডে সিরিজ খুব ভালো গেছে। আমরা দুটিতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে জিতেছি। ওপেনিং ব্যাটসম্যানরা রান করেছে, যা সব সময়ই দলের জন্য সহায়ক। এবার এই সিরিজে নতুন খেলোয়াড়দের জন্যও একই কাজ করার সুযোগ থাকবে।’
আগামী ১১-১৫ মার্চ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে সিরিজের তিন ওয়ানডে। প্রায় সাড়ে চার মাস পর ওয়ানডে ক্রিকেটে খেলতে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তরা।

পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে বছর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ দলের। সামনে রয়েছে ব্যস্ত সূচি। নিজেদের মাঠে উজ্জ্বল শুরুর অপেক্ষায় স্বাগতিকেরা। সেটি অবশ্য সহজ হওয়ার কথা নয়। প্রায় পাঁচ মাস পর ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন লিটন-মিরাজরা। সবশেষ গত বছর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিলেন।
সব মিলিয়ে সাড়ে তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। মাঝে ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো ছিল নিজেদের প্রস্তুত রাখার মঞ্চ। তবে নিজেদের সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে ছিল তাদের সুখস্মৃতি। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ দল।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় কোচ সিমন্সের,
‘আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটা ভালোভাবে শেষ করেছিলাম এবং সেখান থেকে পিছিয়ে যেতে চাই না। প্রথমত, উইকেটগুলো আগের সিরিজের তুলনায় অনেক ভালো দেখাচ্ছে। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য হলো উন্নতি করা এবং পরের ধাপে এগিয়ে যাওয়া।’
ব্যাটিংয়ে উন্নতির তাগিদ, পাশাপাশি মাঝের ওভারে বোলিং দুর্বলতাও খুঁজে বের করেছেন সিমন্স,
‘শেষ ম্যাচে যেভাবে ব্যাটিং করেছিলাম, সেটাকে ধরে রাখতে চাই। পাশাপাশি কিছু জায়গা ঠিক করতে হবে। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে আমরা খুব ভালো করতে পারিনি। আর বোলিংয়ে মাঝের ওভারগুলোতে আরও বেশি উইকেট নিতে হবে। এই দুই জায়গাতেই আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’
আগামী পরশু মিরপুর শেরেবাংলায় প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান। তাঁর আগে আজ সংবাদ সম্মেলন কক্ষে দলের অবস্থা ও পরিকল্পনার সঙ্গে সিমন্সের কাছে জানতে চাওয়া হয় সাকিব আল হাসান প্রসঙ্গে।
রাজনীতি বাদ দিয়ে ক্রিকেটার সাকিবকে ফেরানো কোনো তথ্য আছে কোচের কাছে? সিমন্স অবশ্য রাখঢাক রাখলেন,
‘আমি ঠিক যতটা শুনেছি বা পড়েছি, আপনারাও ততটাই জানেন। এর বেশি কিছু বলার নেই (সাকিব সম্পর্কে)।’