
কী ফিল্ডিং, কী ব্যাটিং-দুই ডিপার্টমেন্টে-ই তানজিদ হাসান তামিম ম্যাচ উইনার। ১৫তম ওভারে রিশাদের তৃতীয় বলে সুইপ করেছিলেন আইরিশ ব্যাটার ডিলানি। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ নিয়ে মুখে ফুটে উঠেছে তানজিদ হাসান তামিম। সেই থেকে আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে শেষ ৫ টি উইকেটের সব ক'টিতে রেখেছেন অবদান। ফিরিয়েছেন ওই ৫ ব্যাটারকে ক্যাচে!
এমন কৃতিত্বে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে ক্যাচের বিশ্ব রেকর্ড হয়ে গেছে। ২০২৩ সালে মালদ্বীপের জানাকা মালিন্দা ২০২৩ সালে কাতারের দোহায় ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে কাতারের বিপক্ষে ৫টি ক্যাচ নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। এ বছরের সেপ্টেম্বরে সুইডেনের সাদিক সাহাক আইল অব ম্যান সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৫টি ক্যাচ নিয়ে মালিন্দার রেকর্ডে বসিয়েছিলেন ভাগ। তবে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশসমূহের প্রথম ফিল্ডার হিসেবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৫ ক্যাচের রেকর্ডটা করেছেন শুধু তানজিদ হাসান তামিম।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে ফিল্ডিংয়ে এতোটা ফুরফুরে তানজিদ হাসান তামিম ব্যাটিংয়েও ছিলেন চনমনে। মোস্তাফিজ (৩/১১), রিশাদের (৩/২১) বোলিংয়ে ১১৭ রানে সফরকারী দলকে অল আউট করার পার্শ্ব চরিত্র তানজিদ হাসান তামিম বছরের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটে ঝড় তুলেছেন। ক্রেইগ ইয়ংকে ১৪তম ওভারের প্রথম বলে মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কার চুমোয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১তম ফিফটি উদযাপনে লেগেছে তার ৩৪টি বল। ৩৬ বলে ৪ বাউন্ডারি, ৩ ছক্কায় শোভিত ৫৫ রানের হার না মানা ইনিংসে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের আন্তর্জাকিতক ক্রিকেটে বছরটি করে রেখেছেন স্মরণীয়। এ বছর ২৭ ম্যাচে ৩২.৯৫ গড় এবং ১৩৫.২৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিংয়ে করেছেন ৭৭৫ রান। ২০২৫ সালে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ব্যাটারদের মধ্যে তানজিদ হাসান তামিমের উপরে এখন পর্যন্ত আছেন শুধু জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেট (২৫ ম্যাচে ৯৩৬ রান)।
বছরে ২৭ ম্যাচে ৮ ফিফটির মধ্যে সর্বশেষ ৩টি চট্টগ্রামে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬১ এবং ৮৯ রানের ইনিংসের পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে করেছিলেন হতাশ (২ এবং ৭)। সিরিজের শেষ ম্যাচে তানজিদ হাসান তামিম চিনিয়েছেন নিজের জাত।
বছরের শেষ ম্যাচে সপ্রতিভ প্রত্যাবর্তনে লেগ স্পিনার রিশাদ নিজেকে তুলেছেন বেশ উচ্চতায়। বছরে বাংলাদেশ দলের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩ উইকেটে (৩/২১) ২০২৫ সালে ২৫ ম্যাচে রিশাদের উইকেট সংখ্যা ৩৩। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদের উপরে আছেন শুধু ২ জন, পাকিস্তানের মোহাম্মদ নেওয়াজ (২৬ ম্যাচে ৩৬ উইকেট) এবং নিউ জিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফি ( ২১ ম্যাচে ৩৫ উইকেট)।
বছরের শেষ টি-টোয়েন্টি জিতে ২০২৫ সালে ৩০ ম্যাচে ১৫ জয়ে থামলো বাংলাদেশ। ৯টি দ্বি-পাক্ষিক সিরিজের ৫টির ট্রফি জয়েও হাততালি পেলো ক্রিকেট দল।
অতীতে সিরিজের ফল নির্ধারণী শেষ ম্যাচটিতে জয়ের চেয়ে হারের সংখ্যা ভারী বলে এই ম্যাচেও ছিল দুর্ভাবনা। চট্টগ্রামে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইট ওয়াশের লজ্জাটাও র্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ নিচে থাকা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে ফেলে দিয়েছিল দুশ্চিন্তায়। তবে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ দলের জন্য সহায়ক হয়েছেন কিউরেটর টনি হেমিং, জাহিদ রেজা বাবু। প্রথম দুই ম্যাচের চেয়ে শ্লো উইকেট প্রস্তুত করে দিয়ে বাংলাদেশ বোলারদের কাজটা সহজ করে দিয়েছেন এই জুটি।
টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথম ৫ ওভারে শেখ মেহেদী, শরিফুল, সাইফউদ্দিনের উপর ভালই চড়াও হয়েছিলেন আইরিশ টপ অর্ডাররা। তবে চতুর্থ ওভারে ক্রস খেলতে যেয়ে আইরিশ ওপেনার টিম টেক্টর বোল্ড (১০ বলে ২ চার, ১ ছক্কায় ১৭) এবং ৬ষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজকে ডিফেন্স করার পরও বল গড়িয়ে গড়িয়ে স্ট্যাম্পে আঘাত হানার দৃশ্য থেকে হ্যারি টেক্টর (৬ বলে ৫) হতভম্ব হলে আইরিশদের জারিজুরি থেমে যায়।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে'র ৬ ওভারে ৫১/২ স্কোরের পরও ১১৭ রানে আয়ারল্যান্ডকে থামিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। তা সম্ভব হয়েছে ইনিংসের দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে-এর ৯ ওভারে (৭ম থেকে ১৫) কিপ্টে বোলিংয়ে। যে ৯ ওভারে স্কোরকার্ডে উঠেছে মাত্র ২৯ রান, হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড ৩ উইকেট। ইনিংসের ১২তম ওভারে রিশাদের গুগলি না বুঝে সুইপ করতে যেয়ে স্কোয়ার লেগে পল স্টার্লিং ক্যাচ দিলে (২৭ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ২৮) বড় পুঁজির আশা ছেড়ে দেয় আয়ারল্যান্ড।
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ উইকেটহীন কাটানোর যন্ত্রনা সিরিজের শেষ ম্যাচে লাঘব করেছেন মোস্তাফিজ (৩-০-১১-৩)। ১ ওভারের প্রথম স্পেলে ১ উইকেট (১-০-১-১)-এ শেষ পাওয়ার প্লে-তেও ভয়ংকর রূপ ছড়িয়েছেন মোস্তাফিজ। শেষ পাওয়ার প্লে'র ৫ ওভারে মোস্তাফিজের একটা স্পেল (১-০-২-২) এর পাশে শরিফুলের ১ ওভারের স্পেল (১-০-৪-১) এবং সাইফউদ্দিনের ৫ বলের স্পেল (০.৫-০-৩-১) আইরিশ ব্যাটারদের অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
আইরিশদের ১১৮ রানের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ জিতেছে ৮ উইকেটে, ৩৮ বল হাতে রেখে। ওপেনিং পার্টনারশিপের ২৪ বলে ৩৮ এবং অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটির ৫০ বলে ৭৩ রানে সহজ জয়ে ২-১ এ সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। তবে ১৯ রানে সাইফ এবং ৭ রানে লিটনের থেমে যাওয়ার জন্য ওই দুই টপ অর্ডারই দায়ী। ইনিংসের ৪র্থ ওভারের ৩য় বলে ফাইন লেগের উপর দিয়ে মেরেছেন সাইফ হাসান ছক্কা, পরের বলকে এক্সট্রা কভার দিয়ে বাউন্ডারি। ওই ওভারের শেষ বলে ছক্কার শটে প্রলুব্ধ হয়ে দিয়েছেন ক্যাচ মিড অনে (১৪ বলে ২ চার, ১ ছক্কায় ১৯)। অধিনায়ক লিটন সেট হওয়ার আগে তাড়াহুড়া করেছেন। হ্যারি টেক্টরকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে ডিপ মিড উইকেটে দিয়েছেন ক্যাচ (৬ বলে ৭)।
তবে তানজিদকে দেখে ফিনিশারের ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন ( ২৬ বলে ১ চার, ৩ ছক্কায় ৩৩*)। ইয়ংকে স্কোয়ার লেগে বাউন্ডারি দিয়ে উইনিং রানটি এসেছে তার ব্যাট থেকে।
No posts available.
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৩২ পিএম
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ এম

অ্যাশেজ সিরিজে ভরাডুবির পর ইংল্যান্ড দলের শৃঙ্খলা ও সংস্কৃতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। যুক্তরাজ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের অফ-ফিল্ড আচরণ নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফর ও টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবছে ইসিবি।
যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমস ও দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন, অ্যাশেজ চলাকালে একাধিক ক্রিকেটারের নিয়মিত মদ্যপান, গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে থাকা এবং ক্যাসিনো ভ্রমণের তথ্য সামনে আসার পর ইসিবি পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু করেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝের সময়টাতে ক্রিকেটারদের আচরণকে ‘স্ট্যাগ ডু’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ইসিবির আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ড দলের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের মনোযোগ ধরে রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি এড়াতে সফর চলাকালে কারফিউ আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এই নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট সময়ের পর ক্রিকেটারদের বাইরে যাওয়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা হবে।
ইসিবি সূত্র জানিয়েছে, অ্যাশেজে ৪–১ ব্যবধানে সিরিজ হারার পর দলের সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফর এবং টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
দ্য টেলিগ্রাফের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাশেজ চলাকালে ইংল্যান্ড দলের কয়েকজন ক্রিকেটার একাধিকবার ক্যাসিনোতে গেছেন। দলটি যে হোটেলে অবস্থান করছিল, সেটি একটি ক্যাসিনো কমপ্লেক্সের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এসব ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, অ্যাশেজের পর নিউজিল্যান্ডে একটি নাইটক্লাবের বাইরে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক একটি বাক্বিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন। এ ছাড়া নুসায় বেন ডাকেটকে মাতাল অবস্থায় এবং তরুণ ব্যাটার জ্যাকব বেথেলকে ধূমপান করতে দেখা যায়।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝখানে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় দলকে বিশ্রামের জন্য নুসায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়।
এর আগে ২০১৭ সালে বেন স্টোকসের নাইটক্লাব–সংক্রান্ত ঘটনার পর এবং ২০১৭–১৮ সালের অ্যাশেজে ইংল্যান্ড দলে কারফিউ চালু ছিল। ২০২২ সালে অধিনায়ক হওয়ার পর স্টোকস সেই বিধিনিষেধ তুলে নেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলে মনে করছে ইসিবি।
২০২৫–২৬ অ্যাশেজ সিরিজে পার্থ, ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেডে টানা তিন টেস্ট হেরে মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই অ্যাশেজ হাতছাড়া করে ইংল্যান্ড। মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্টে একমাত্র জয় পেলেও সিরিজের সামগ্রিক ব্যর্থতা ঢাকতে পারেনি দলটি। ব্যাটিং ব্যর্থতা ও বোলিংয়ে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে না পারাই পরাজয়ের প্রধান কারণ বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
২২ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কা সফর এবং ৭ ফেব্রুয়ারি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে এই সংকট দ্রুত সামাল দিতে ইসিবির ওপর চাপ বাড়ছে।

জয়ের হ্যাটট্রিক করার পর টানা দুই ম্যাচ হেরে এখন কিছুটা ব্যাকফুটে রংপুর রাইডার্স। জয়ে ফেরার অভিযানে সোমবার সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি তারা।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরেছেন রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। রংপুরকে আগে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
রংপুর রাইডার্স একাদশ
নুরুল হাসান সোহান (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, নাঈম হাসান, কাইল মেয়ার্স, খুশদিল শাহ, ইফতিখার আহমেদ, সুফিয়ান মুকিম।
সিলেট টাইটান্স একাদশ
মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন (উইকেটরক্ষক), তৌফিক খান তুষার, আরিফুল ইসলাম, আফিফ হোসেন ধ্রুব, শহিদুল ইসলাম, ইথান ব্রুকস, মইন আলি, নাসুম আহমেদ, সালমান ইরশাদ, রুয়েল মিয়া

ঐতিহ্যের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে ৪–১ ব্যবধানে হারানো অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের জন্য অপেক্ষা করছে মোটা অঙ্কের বোনাস। ঘরের মাঠে এই সিরিজে আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও দ্রুতই ক্রিকেটারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য আর্থিক পুরষ্কার দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
স্টিভ স্মিথের নেতৃত্বে সিরিজে ১১ দিনেই ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ২০১৭ সাল থেকে অ্যাশেজের ‘ছাইদানি’ নিজেদের কাছে রেখেছে অজিরা। ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে ‘ব্যাগি গ্রিনস’রা মোট ১৬ লাখ মার্কিন ডলার বোনাস ভাগ করে নেবেন।
সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য অজি পেসার মাইকেল নেসার ও অভিষিক্ত ব্যাটার জেক ওয়েদারাল্ডও ব্যক্তিগতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ পেতে যাচ্ছেন। নেসার পুরো সিরিজে ১৫ উইকেট নেন ১৯.৯৩ ইকোনমিতে, আর ওয়েদারাল্ড নিজের প্রথম অ্যাশেজেই নজর কাড়েন দারুণ ব্যাটিংয়ে।
আরও পড়ুন
| ১২ ওভারের ম্যাচে ২৭ চার ও ১৮ ছক্কা |
|
এই দুই ক্রিকেটারের রাজ্য দলের চুক্তির আয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) ন্যূনতম কেন্দ্রীয় চুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। যার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। রাজ্য চুক্তিতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫ হাজার ডলার পাওয়া যায়। ফলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্টভিত্তিক বেতন কাঠামোর শর্ত পূরণ করায় নেসার ও ওয়েদারাল্ড আরও প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ডলার অতিরিক্ত আয় করতে পারেন।
ওয়েদারাল্ড সিরিজ শেষ করেন ২০১ রান নিয়ে, গড় ছিল ২২.৩৩। অবশ্য শেষ তিনটি টেস্টে ভুগতে দেখা গেছে তাকে। গ্যাবায় নিজের প্রথম টেস্টে ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটার।
অ্যাশেজে দাপুটে জয়ের সুবাদে আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ র্যাংকিংয়েও শীর্ষে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। টপকে গেছে নিউজিল্যান্ডকে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড নেমে গেছে সপ্তম স্থানে।
তবে সিরিজের এই সাফল্যের মাঝেই বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্ন ও পার্থ টেস্ট সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় সংস্থাটির আয় কমেছে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি।
এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ ভবিষ্যতে উইকেট প্রস্তুতির দিকে আরও সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দেন। গ্রিনবার্গ বলেছিলেন, ‘সংক্ষিপ্ত টেস্ট ব্যবসার জন্য ভালো নয়। এর চেয়ে স্পষ্ট করে বলার কিছু নেই। ব্যাট ও বলের মধ্যে আরও ভারসাম্য থাকা দরকার।’

ম্যাচ শুরুর আগে আকাশ থেকে অবিরত ঝরল বৃষ্টি। প্রায় তিন ঘণ্টা পিছিয়ে খেলা শুরুর পর যেন সেই আকাশ থেকে নামল ছক্কার বৃষ্টি। প্রকৃতির বাগড়ায় ১২ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে দুই দল মিলে ২৭ চারের সঙ্গে মারল ১৮টি ছক্কা। যেখানে শেষমেশ পাকিস্তানকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ল শ্রীলঙ্কা।
ডাম্বুলায় রোববার তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে ১৪ রানে হারায় শ্রীলঙ্কা। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ১২ ওভারে ১৬০ রানের বিশাল পুঁজি দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। জবাবে দারুণ ব্যাটিং করলেও ১৪৬ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান।
এই জয়ে প্রায় ১৪ বছরের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটাল শ্রীলঙ্কা। নিজেদের ঘরের মাঠে এর আগে সবশেষ ২০১২ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছিল তারা।
শ্রীলঙ্কার জয়ে ১-১ ব্যবধানে শেষ হলো সিরিজ। এর আগে প্রথম ম্যাচ জিতেছিল পাকিস্তান আর বৃষ্টিতে ভেসে যায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।
রান তাড়ায় দ্রুত দুই ওপেনারকে হারায় পাকিস্তান। তবে তিন নম্বরে নেমে তাণ্ডব চালান সালমান আলি আগা। ৫ চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা মেরে ৩৭৫ স্ট্রাইক রেটে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের হয়ে অন্তত ১০ বল বা অন্তত ৩০ রানের ইনিংসে এটি সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট।
সালমানের বিদায়ের পর মোহাম্মদ নাওয়াজ ১৫ বলে ২৮ ও অভিষিক্ত খাজা নাফে ১৫ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কঠিন সমীকরণ মেলাতে পারেনি সফরকারীরা।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৪ উইকেট নেন ভানিন্দু হাসারাঙ্গা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই পাথুম নিসাঙ্কার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে পরের ব্যাটারদের কেউই সময় নষ্ট করেননি। ক্রিজে গিয়েই সবাই খেলেছেন বড় শট। যার ফলে তরতরিয়ে বেড়েছে রান।
কামিল মিশারা ৮ বলে ২০ ও কুশল মেন্ডিস ১৬ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে শুরুটা করে দেন। এরপর ধনঞ্জয় ডি সিলভা ১৫ বলে ২২ ও চারিথ আসালাঙ্কা ১৩ বলে করেন ২১ রান।
ছয় নম্বরে নেমে ইনিংসের গতিই বদলে দেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। বিশাল ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ৯ বলে ৩৭৭.৭৭ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ৩৪ রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অন্তত ৩০ রানের ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের রেকর্ড।
শেষ দিকে ৩ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কার মারে ৮ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন জানিথ লিয়ানাগে। সব মিলিয়ে ১২ ওভারে শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা ১৪ চারের সঙ্গে মারেন ১০টি ছক্কা।
পাকিস্তানের পক্ষে ৩ উইকেট নিলেও ৩ ওভারে ৫৪ রান খরচ করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ১২ ওভারে ১৬০/৬ (নিসাঙ্কা ০, মিশারা ২০, মেন্ডিস ৩০, ধনঞ্জয় ২২, আসালাঙ্কা ২১, শানাকা ৩৪, লিয়ানাগে ২২*, হাসারাঙ্গা ১*; নাসিম ৩-০-৩৫-১, ওয়াসিম ৩-০-৫৪-৩, আবরার ২-০-২২-০, শাদাব ২-০-১৯-০, নাওয়াজ ১-০-৮-১, ফাহিম ১-০-১৯-১)
পাকিস্তান: ১২ ওভারে ১৪৬/৮ (সাহিবজাদা ৯, সাইম ৬, সালমান ৪৫, উসমান ১, নাওয়াজ ২৮, নাফে ২৬, শাদাব ৬, ফাহিম ৯, ওয়াসিম ৭*, নাসিম ১*; থিকশানা ২-০-২৭-০, মালিঙ্গা ২-০-২৭-১, পাথিরানা ৩-০-৩৬-২, হাসারাঙ্গা ৩-০-৩৫-৪, ধনঞ্জয় ২-০-২২-০)
ফল: শ্রীলঙ্কা ১৪ রানে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ

বিপিএলে মোহাম্মদ নবি নতুন নয়। বিপিএল 'টু' থেকে নিয়মিত। এবারের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে বিপিএলের ৯টি সংস্করনে খেলা হয়ে গেছে তার। তবে বিপিএলে ছেলে হাসান ঈসাখিলের অভিষেক হয়েছে রোববার, সিলেটে, ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে খেলার মধ্য দিয়ে।
টসে'র পর ১৯ বছর বয়সী ছেলে হাসান ঈসাখিলের মাথায় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ক্যাপটা যখন পরিয়ে দিলেন ৪১ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ নবি, তখন কে জানতো বাবা-ছেলে হবেন ব্যাটিং পার্টনার, দ্রুততম ফিফটি পার্টনারশিপে রাখবেন তাঁরা দুজন অবদান! বাবা-ছেলের পারফরমেন্সে জয় উদযাপন করবে তাদের দল নোয়াখালী এক্সপ্রেস, এটাও দেখলো সিলেটের দর্শক।
বিপিএলে অলরাউন্ড পারফরমেন্সের সুবাদে নেয়াখালী এক্সপ্রেসে সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ নবি-কে এদিন ছাড়িয়ে গেছে ছেলে হাসান ঈসাখিল।
১৩ মাস আগে নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) অভিষেকে ফিফটি (৫২ বলে ৬৫) উদযাপন করেছেন হাসান ঈসাখিল। সেই ইনিংস থেকে টনিক নিয়ে, বাবার পরিয়ে দেয়া ক্যাপের মর্যাদা দিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ। ৩৫ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ফিফটি উদযাপন করে বিপিএলে অভিষেকে নিজের ইনিংসটাকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করার সমূহ সম্ভাবনাও ছিল তাঁর। বাবার সঙ্গে ৪র্থ উইকেট জুটিতে ২৯ বলে ৫২ রানে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছেলে। ১৭তম ওভারে আফগান পেসার জিয়াউর রহমানকে যেভাবে লং অফের উপর দিয়ে পর পর ২টি ছক্কা মেরেছেন, তাতে হাসান ঈসাখিলের সেঞ্চুরির দিকেই তাকিয়ে ছিল দর্শক। তবে ১৮তম ওভারে আবদুল্লাহ আল মামুনের ফুলটসে থার্ডম্যানে নবি ক্যাচ দিলে (১৩ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৭) বাবার শোকে কাতর ঈসাখিল পরের ওভারে সাইফুদ্দিনের বলে স্ল্যশ করতে যেয়ে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন (৬০ বলে ৭ চার,৫ ছক্কায় ১৫৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৯২)।
বাবা-ছেলের ব্যাটিংয়ে নোয়াখালীর স্কোর উঠেছে ১৮৪/৪। যে স্কোরে ঈসাখিলের ওপেনিং পার্টনার সৌম্য সরকারের ২৫ বলে ৭ চার, ১ ছক্বায় ৪৮, ওপেনিং পার্টনারশিপে ৫৬ বলে ১০১ রানও উল্লেখ করার মতো।
বাংলাদেশের মাটিতে অফ স্পিনে ভেল্কি দেখাতে পারদর্শী মোহাম্মদ নবির বোলিংটাও (৪-০-২৩-২) ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ৪১ রানের জয়ে রেখেছে বিশেষ অবদান। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১২টি দিয়েছেন ডট। ম্যাচে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ঢাকা ক্যাপিটালস অধিনায়ক মিঠুনকে (৩১ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩) শর্ট মিড অফ পজিশনে নবি যে রিটার্ন ক্যাচটি নিয়েছেন, তা সত্যিই অসাধারন। শামীম পাটোয়ারীর ব্যাটটা যখন চওড়া হতে শুরু করেছে (১৬ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ২৯) তখন তাকে লং অফে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন নবি।
এমন এক ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১৪৩ রানে অল আউটে পার্শ্ব চরিত্র ছিলেন পেস বোলার হাসান মাহমুদ (৩.২-০-২১-২) এবং মেহেদী হাসান রানা ( ৪-০-২৫-২)।
যে দলটি টানা ৬ ম্যাচ হারের বৃত্তে ছিল, সেই নোয়াখালী উপযুপরি দ্বিতীয় জয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানী থেকে উপরে ওঠার ভরসা পাচ্ছে।