
কী ফিল্ডিং, কী ব্যাটিং-দুই ডিপার্টমেন্টে-ই তানজিদ হাসান তামিম ম্যাচ উইনার। ১৫তম ওভারে রিশাদের তৃতীয় বলে সুইপ করেছিলেন আইরিশ ব্যাটার ডিলানি। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ নিয়ে মুখে ফুটে উঠেছে তানজিদ হাসান তামিম। সেই থেকে আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে শেষ ৫ টি উইকেটের সব ক'টিতে রেখেছেন অবদান। ফিরিয়েছেন ওই ৫ ব্যাটারকে ক্যাচে!
এমন কৃতিত্বে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে ক্যাচের বিশ্ব রেকর্ড হয়ে গেছে। ২০২৩ সালে মালদ্বীপের জানাকা মালিন্দা ২০২৩ সালে কাতারের দোহায় ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে কাতারের বিপক্ষে ৫টি ক্যাচ নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। এ বছরের সেপ্টেম্বরে সুইডেনের সাদিক সাহাক আইল অব ম্যান সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৫টি ক্যাচ নিয়ে মালিন্দার রেকর্ডে বসিয়েছিলেন ভাগ। তবে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশসমূহের প্রথম ফিল্ডার হিসেবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৫ ক্যাচের রেকর্ডটা করেছেন শুধু তানজিদ হাসান তামিম।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে ফিল্ডিংয়ে এতোটা ফুরফুরে তানজিদ হাসান তামিম ব্যাটিংয়েও ছিলেন চনমনে। মোস্তাফিজ (৩/১১), রিশাদের (৩/২১) বোলিংয়ে ১১৭ রানে সফরকারী দলকে অল আউট করার পার্শ্ব চরিত্র তানজিদ হাসান তামিম বছরের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটে ঝড় তুলেছেন। ক্রেইগ ইয়ংকে ১৪তম ওভারের প্রথম বলে মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কার চুমোয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১তম ফিফটি উদযাপনে লেগেছে তার ৩৪টি বল। ৩৬ বলে ৪ বাউন্ডারি, ৩ ছক্কায় শোভিত ৫৫ রানের হার না মানা ইনিংসে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের আন্তর্জাকিতক ক্রিকেটে বছরটি করে রেখেছেন স্মরণীয়। এ বছর ২৭ ম্যাচে ৩২.৯৫ গড় এবং ১৩৫.২৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিংয়ে করেছেন ৭৭৫ রান। ২০২৫ সালে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ব্যাটারদের মধ্যে তানজিদ হাসান তামিমের উপরে এখন পর্যন্ত আছেন শুধু জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেট (২৫ ম্যাচে ৯৩৬ রান)।
বছরে ২৭ ম্যাচে ৮ ফিফটির মধ্যে সর্বশেষ ৩টি চট্টগ্রামে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬১ এবং ৮৯ রানের ইনিংসের পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে করেছিলেন হতাশ (২ এবং ৭)। সিরিজের শেষ ম্যাচে তানজিদ হাসান তামিম চিনিয়েছেন নিজের জাত।
বছরের শেষ ম্যাচে সপ্রতিভ প্রত্যাবর্তনে লেগ স্পিনার রিশাদ নিজেকে তুলেছেন বেশ উচ্চতায়। বছরে বাংলাদেশ দলের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩ উইকেটে (৩/২১) ২০২৫ সালে ২৫ ম্যাচে রিশাদের উইকেট সংখ্যা ৩৩। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদের উপরে আছেন শুধু ২ জন, পাকিস্তানের মোহাম্মদ নেওয়াজ (২৬ ম্যাচে ৩৬ উইকেট) এবং নিউ জিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফি ( ২১ ম্যাচে ৩৫ উইকেট)।
বছরের শেষ টি-টোয়েন্টি জিতে ২০২৫ সালে ৩০ ম্যাচে ১৫ জয়ে থামলো বাংলাদেশ। ৯টি দ্বি-পাক্ষিক সিরিজের ৫টির ট্রফি জয়েও হাততালি পেলো ক্রিকেট দল।
অতীতে সিরিজের ফল নির্ধারণী শেষ ম্যাচটিতে জয়ের চেয়ে হারের সংখ্যা ভারী বলে এই ম্যাচেও ছিল দুর্ভাবনা। চট্টগ্রামে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইট ওয়াশের লজ্জাটাও র্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ নিচে থাকা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে ফেলে দিয়েছিল দুশ্চিন্তায়। তবে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ দলের জন্য সহায়ক হয়েছেন কিউরেটর টনি হেমিং, জাহিদ রেজা বাবু। প্রথম দুই ম্যাচের চেয়ে শ্লো উইকেট প্রস্তুত করে দিয়ে বাংলাদেশ বোলারদের কাজটা সহজ করে দিয়েছেন এই জুটি।
টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথম ৫ ওভারে শেখ মেহেদী, শরিফুল, সাইফউদ্দিনের উপর ভালই চড়াও হয়েছিলেন আইরিশ টপ অর্ডাররা। তবে চতুর্থ ওভারে ক্রস খেলতে যেয়ে আইরিশ ওপেনার টিম টেক্টর বোল্ড (১০ বলে ২ চার, ১ ছক্কায় ১৭) এবং ৬ষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজকে ডিফেন্স করার পরও বল গড়িয়ে গড়িয়ে স্ট্যাম্পে আঘাত হানার দৃশ্য থেকে হ্যারি টেক্টর (৬ বলে ৫) হতভম্ব হলে আইরিশদের জারিজুরি থেমে যায়।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে'র ৬ ওভারে ৫১/২ স্কোরের পরও ১১৭ রানে আয়ারল্যান্ডকে থামিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। তা সম্ভব হয়েছে ইনিংসের দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে-এর ৯ ওভারে (৭ম থেকে ১৫) কিপ্টে বোলিংয়ে। যে ৯ ওভারে স্কোরকার্ডে উঠেছে মাত্র ২৯ রান, হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড ৩ উইকেট। ইনিংসের ১২তম ওভারে রিশাদের গুগলি না বুঝে সুইপ করতে যেয়ে স্কোয়ার লেগে পল স্টার্লিং ক্যাচ দিলে (২৭ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ২৮) বড় পুঁজির আশা ছেড়ে দেয় আয়ারল্যান্ড।
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ উইকেটহীন কাটানোর যন্ত্রনা সিরিজের শেষ ম্যাচে লাঘব করেছেন মোস্তাফিজ (৩-০-১১-৩)। ১ ওভারের প্রথম স্পেলে ১ উইকেট (১-০-১-১)-এ শেষ পাওয়ার প্লে-তেও ভয়ংকর রূপ ছড়িয়েছেন মোস্তাফিজ। শেষ পাওয়ার প্লে'র ৫ ওভারে মোস্তাফিজের একটা স্পেল (১-০-২-২) এর পাশে শরিফুলের ১ ওভারের স্পেল (১-০-৪-১) এবং সাইফউদ্দিনের ৫ বলের স্পেল (০.৫-০-৩-১) আইরিশ ব্যাটারদের অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
আইরিশদের ১১৮ রানের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ জিতেছে ৮ উইকেটে, ৩৮ বল হাতে রেখে। ওপেনিং পার্টনারশিপের ২৪ বলে ৩৮ এবং অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটির ৫০ বলে ৭৩ রানে সহজ জয়ে ২-১ এ সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। তবে ১৯ রানে সাইফ এবং ৭ রানে লিটনের থেমে যাওয়ার জন্য ওই দুই টপ অর্ডারই দায়ী। ইনিংসের ৪র্থ ওভারের ৩য় বলে ফাইন লেগের উপর দিয়ে মেরেছেন সাইফ হাসান ছক্কা, পরের বলকে এক্সট্রা কভার দিয়ে বাউন্ডারি। ওই ওভারের শেষ বলে ছক্কার শটে প্রলুব্ধ হয়ে দিয়েছেন ক্যাচ মিড অনে (১৪ বলে ২ চার, ১ ছক্কায় ১৯)। অধিনায়ক লিটন সেট হওয়ার আগে তাড়াহুড়া করেছেন। হ্যারি টেক্টরকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে ডিপ মিড উইকেটে দিয়েছেন ক্যাচ (৬ বলে ৭)।
তবে তানজিদকে দেখে ফিনিশারের ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন ( ২৬ বলে ১ চার, ৩ ছক্কায় ৩৩*)। ইয়ংকে স্কোয়ার লেগে বাউন্ডারি দিয়ে উইনিং রানটি এসেছে তার ব্যাট থেকে।
No posts available.
৫ মার্চ ২০২৬, ১২:১৮ এম
৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচের পর সুপার এইটেও ৩ ম্যাচ- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচ জিতে রীতিমতো আকাশে উড়ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমি-ফাইনালে তাদের এক ঝটকায় মাটিতে নামিয়ে এনেছে নিউ জিল্যান্ড। প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করামের কাছে এটি মুখে চড় খাওয়ার মতো অনুভূতি।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের সামনে পাত্তাই পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। মার্কো ইয়ানসেনের ঝড়ো ফিফটিতে ১৬৯ রানের পুঁজি দাঁড় করালেও, ফিন অ্যালেনের তাণ্ডবে সেটিকে মামুলিই বানিয়ে দেয় কিউইরা। মাত্র ১২.৫ ওভারে জিতে ফাইনালে উঠে যায় নিউ জিল্যান্ড।
ম্যাচ শেষে তাই আক্ষেপ ও হতাশা একদমই লুকালেন না মার্করাম।
“হ্যাঁ অবশ্যই অনেক বেশি হতাশার, অনেক বড় (ধাক্কা)। এটি হয়তো মুখে চড় মারার মতো নয়, কিন্তু তেমনই অনুভূত হচ্ছে। তবে হ্যাঁ, এটির কারণেই দিন শেষে আমাদের আরও শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে ও দল হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রোটিয়া অধিনায়ক আগেই বুঝতে পেরেছিলেন ইডেন গার্ডেন্সের উইকেট ভালো থাকবে এবং প্রথাগত পদ্ধতিতে খেলতে পারলে ১৯০ রানের আশপাশে করা সম্ভব। কিন্তু ওপরের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১৬৯ রানের বেশি করতে পারেনি তারা।
পরে ফিন অ্যালেন ১০ চারের সঙ্গে ৮ ছক্কায় ৩৩ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলে গড়েন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। এই উইকেটে যথেষ্ট রান করতে না পারার কারণেই পরাজয়ের কথা বললেন মার্করাম।
“দল হিসেবে এটি পর্যালোচনা করব। আমরা বুঝতে পারছিলাম উইকেট ভালো থাকবে। তাই দ্রুত মানিয়ে নিয়ে, প্রথাগতভাবে খেলে গেলেও হতো। কোনোভাবে ১৯০ রান করতে পারলেও হয়তো ম্যাচে থাকা যেত। এই ফলে হতাশ। তবে ছেলেদের নিয়ে আমি গর্বিত। তারা টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ খেলেছে।”

জয়ের জন্য বাকি ১ রান আর ফিন অ্যালেনের সেঞ্চুরি করতে প্রয়োজন ৪ রান। মার্কো ইয়ানসেনের বলে বাউন্ডারি মেরে দিলেন অ্যালেন। হয়ে গেল ইতিহাসগড়া সেঞ্চুরি আর ফাইনালের টিকেট পেয়ে গেল নিউ জিল্যান্ড।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম সেমি-ফাইনাল ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৯ উইকেটে জেতে নিউ জিল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ১২.৫ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয় কিউইরা।
নিউ জিল্যান্ডকে অনায়াস জয় এনে দেওয়ার নায়ক অ্যালেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের কচুকাটা করে ১০ চারের সঙ্গে ৮টি ছক্কা মেরে মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে বিধ্বংসী কিউই ওপেনার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এটিই। আগের দ্রুততম সেঞ্চুরি ছিল দ্য ইউনিভার্স বস, ক্রিস গেইলের (৪৭ বলে)।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল নিউ জিল্যান্ড। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২১ সালের বিশ্বকাপেও শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে উঠেছিল তারা। তবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয়নি তাদের।
অন্য দিকে গত আসরের ফাইনাল হেরে যাওয়ার পর চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব ও সুপার এইটে টানা সাত ম্যাচ জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু সেমি-ফাইনালের বাধা পার করে আর ফাইনালে উঠতে পারল না এইডেন মার্করামের দল।
রান তাড়ায় পাওয়ার প্লেতে ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করে ফেলেন নিউ জিল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। ভাগ্যের ছোঁয়াও অবশ্য পান দুজন। প্রথম ওভারে মার্কো ইয়ানসেনের বলে অল্পের জন্য কট বিহাইন্ড হননি সেইফার্ট।
পরের ওভারে কাগিসো রাবাদার বলে আবার ক্যাচ দেন সেইফার্ট। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে ক্যাচটি নিতে পারেননি কুইন্টন ডি কক ও দেওয়াল্ড ব্রেভিস। জীবন পেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটিং শুরু করেন সেইফার্ট। তৃতীয় ওভারে ইয়ানসেন ও পঞ্চম ওভারে রাবাদার বলে মারেন একটি করে চার-ছক্কা।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে টর্নেডো বইয়ে দেন আরেক ওপেনার অ্যালেন। করবিন বশের বলে ছক্কার পর টানা ৪টি চার মেরে নিয়ে নেন ২২ রান। প্রথম ৬ ওভারে ৮৪ রান করে ফেলে নিউ জিল্যান্ড।
পাল্লা দিয়ে রান তোলার মিশনে ২৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন সেইফার্ট। আর তাকে ছাড়িয়ে যান অ্যালেন।
নবম ওভারে কেশব মহারাজের বলে ছক্কা-চার মেরে মাত্র ১৯ বলে পঞ্চাশ করেন সেইফার্ট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে এটিই দ্রুততম ফিফটি।
পরের ওভারে ভাঙে বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটি। রাবাদার দারুম ডেলিভারিতে বোল্ড আউট হয়ে ফেরেন ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ বলে ৫৮ রান করা সেইফার্ট।
এরপর আর তেমন সময় নেননি অ্যালেন। রাচিন রবীন্দ্রর সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মাত্র ২২ বলে ৫৬ রান যোগ করেন এই ওপেনার। যেখানে রবীন্দ্রর অবদান ১১ বলে ১৩ রান। বাকি রান একাই করে দলকে জেতান অ্যালেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একদমই ভালো ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। দ্বিতীয় ওভারে কোল ম্যাকঙ্কির পরপর দুই বলে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান কুইন্টন ডি কক (৮ বলে ১০) ও রায়ান রিকেল্টন (১ বলে ০)।
শুরুর চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নেন এইডেন মার্করাম ও দেওয়াল্ড ব্রেভিস। তবে রানের গতি বাড়াতে পারেননি দুজন। ৪৩ রানের জুটি গড়ে তারা খেলেন ৩৫ বল। রাচিন রবীন্দ্রর বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে ড্যারেল মিচেলের দারুণ ক্যাচে আউট হন মার্করাম (২০ বলে ১৮)।
ডেভিড মিলার বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ৬ রান করে আউট হন তিনি। লম্বা সময় ক্রিজে থেকে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৭ বলে ৩৪ রান করে আউট হন ব্রেভিস। মাত্র ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় কিউইরা।
সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন মার্কো ইয়ানসেন ও ট্রিস্টান স্টাবস। পাল্টা আক্রমণে দুজন মিলে ৪৮ বলে গড়ে তোলেন ৭৩ রানের জুটি। যেখানে ইয়ানসেনই রাখেন বড় অবদান। আর স্টাবসের ব্যাট থেকে আসে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৪ বলে ২৯ রান।
শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে ২৯ বলে ৫৫ রান করেন ইয়ানসেন। তার ব্যাটেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় প্রোটিয়ারা। যদিও শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য এটি শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন ম্যাট হেনরি, রবীন্দ্র ও ম্যাকঙ্কি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মনের মতো করে কাটিয়েছেন পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। সাত ম্যাচে দুই সেঞ্চুরিতে তাঁর রান ৩৮৩। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেটের চেয়ে ৯১ রান বেশি করেছেন তিনি। কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের ফল পেয়েছেন ফারহান।
বুধবার প্রকাশিত আইসিসির সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন ফারহান। পাকিস্তানের ওপেনারের রেটিং পয়েন্ট তাঁর ক্যারিয়ারসেরা ৮৪৮। শীর্ষে থাকা অভিষেকের রেটিং পয়েন্ট ৮৭৪। অর্থাৎ অভিষেকের সঙ্গে ফারহানের পার্থক্য এখন ২৬ পয়েন্টের। দুইয়ে ওঠার পথে ফারহান পেছনে ফেলেন ইংল্যান্ডের ফিল সল্টকে। তিনে থাকা এই ইংলিশ ব্যাটসম্যানের রেটিং পয়েন্ট ৮০৩।
বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব শেষ হওয়ার পর ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে আরও পরিবর্তন এসেছে। ভারতের ইশান কিশান (চতুর্থ) ও তিলক বার্মা (ষষ্ঠ) দুজনই এক ধাপ করে এগিয়ে সেরা দশে জায়গা পোক্ত করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও এক ধাপ উঠে এখন অষ্টম।
জিম্বাবুয়ের বেনেট টুর্নামেন্টে ২৯২ রান করে ছয় ধাপ এগিয়ে ১১ নম্বরে উঠেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার রায়ান রিকেল্টন ১৩তম ও এইডেন মার্করাম ১৬তম স্থানে উঠে এসেছেন।
বোলারদের তালিকায়ও একই চিত্র। ভারতের স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী শীর্ষে থাকলেও রশিদ খানের সঙ্গে তাঁর মাত্র ১৮ রেটিং পয়েন্ট দূরত্ব। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১২ উইকেট নেওয়া এই স্পিনারের পেছনে আছেন পাকিস্তানের আবরার আহমেদ। যিনি দুই ধাপ এগিয়ে তিন নম্বরে উঠে এসেছেন।
ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ (সপ্তম) ও আর্শদীপ সিং (১৩তম) দুজনই উন্নতি করেছেন। ইংল্যান্ডের লিয়াম ডসন ও দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিদি র্যাঙ্কিংয়ে ওপরে উঠেছেন।
অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। হার্দিক পাণ্ডিয়া এক ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। পেছনে ফেলেছেন পাকিস্তানের সায়েম আইয়ুবকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডারও বড় লাফ দিয়েছেন। আট ধাপ এগিয়ে এখন ১১ নম্বরে।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সুপার এইট পর্বেই বিদায়—পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও অস্থিরতার ঝড়। হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অধিনায়কত্ব, কোচিং ও দল পরিচালনা, সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ।
জিও সুপারের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালেই পাকিস্তানের কয়েকজন ক্রিকেটার প্রধান কোচ মাইক হেসনের আচরণ নিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কর্মকর্তাদের কাছে।
ড্রেসিংরুমে অস্বস্তি?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচের কঠোর ও একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ অস্বস্তিকর করে তোলে। অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দল পরিচালনার প্রায় সব ক্ষেত্রে হেসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে ক্রিকেটারদের একাংশ অসন্তুষ্ট ছিলেন।
বিশ্বকাপে সালমান আলী আগার নেতৃত্বাধীন দলটি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল ও ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলর কাছে বড় ব্যবধানে হারে। ব্যাটিং–বোলিং দুই বিভাগেই ছিল অসংগতি। মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে ড্রেসিংরুমের অস্থিরতার যোগ আছে কি না, সেটিও এখন আলোচনায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচক প্যানেল ও অধিনায়ক—কেউই নাকি হেসনের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে পারেননি। টিম ম্যানেজমেন্টে তাঁর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ছিল বলেও দাবি সূত্রগুলোর।
বোর্ডের পর্যালোচনা, তবে…
পিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে। টুর্নামেন্ট–সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর কোচের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
কারণ, হেসনের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছে বোর্ড। প্রধান কোচের পদে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নীতিতে আপাতত অনড় পিসিবি। ফলে সমালোচনা ও অভিযোগের মধ্যেও দায়িত্বে টিকে যেতে পারেন এই নিউ জিল্যান্ডের কোচ।
বিশ্বকাপ–ব্যর্থতার পর জরিমানা, নেতৃত্ব পরিবর্তন কিংবা কোচিং স্টাফে রদবদল—সবই এখন আলোচনার টেবিলে। পাকিস্তান ক্রিকেট কোন পথে হাঁটবে, সেটাই দেখার।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভরাডুবির পর সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ উঠেছিল। কঠোর আচরণ, এক হাতে দলের নিয়ন্ত্রণ, বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, টিম ম্যানেজমেন্টও জানিয়েছিল অস্বস্তির কথা।

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে
সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় যৌথভাবে তিন আছেন বরুণ চক্রবর্তী। তবে সর্বোচ্চ উইকেট
নেওয়া এই ‘রহস্য স্পিনারকে’ নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় ভারত। এই বোলার যে দেদারসে রান বিলিয়েই
যাচ্ছেন। ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে আবির্ভাব ঘটা বরুণই এখন রান বিলি করছেন প্রতি ম্যাচে।
আর ব্যাটারদের বেদড়ক মার খেয়ে নাকি ঘুরে দাড়ানোর পরিবর্তে উল্টে হতভম্ব হয়ে যান বরুণ।
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব আর
সুপার এইট মিলিয়ে ৭ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী। এই সাত ম্যাচে ২৪ ওভার
করা ৩৪ বছর বয়সী স্পিনারের ইকোনোমি রেট ৭.৬৬। সবশেষ সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে
অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালে ৪০ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন বরুণ। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার
বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচে ছিলেন আরও খরুচে, ৪৭ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।
বরুণের যে চার ওভারের ওপর
ভারত ভরসা করত, সেই চার ওভারই এখন চিন্তার কারণ। লাইন লেংথ ঠিক রাখতে না পেরে নিয়মিতই
ব্যাটারদের পিটুনি খাচ্ছেন তিনি। ব্যাটাররা তাঁর ওপর হলেই নার্ভাস হয়ে পড়েন বরুণ, এমনটাই
মনে করেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ কৈফ।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে
কৈফ বলেছেন, ব্যাটাররা এখন বরুণের খেলা বোঝে এবং তিনি আর ভারতের ‘রহস্য স্পিনার’ নন।
রান খাওয়ালে বরুণ নার্ভাস হয়ে পড়েন এবং তার প্রাকৃতিক উইকেট-টু-উইকেট লেন্থের পরিবর্তে
প্যাডের দিকে বল করতে শুরু করেন।
কৈফ বলেন,
‘এখন অনেক ব্যাটাররা আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে আসছে, ঠিক জানে কিভাবে বরুণকে মোকাবিলা করতে হবে। আর এখানেই তার একটি ছোট সমস্যা দেখা দেয়। আমি লক্ষ্য করেছি, যখন তাকে রান খাওয়ানো হয়, তখন সে কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়ে। প্রতিক্রিয়ায় তা দেখা যায়। উইকেট-টু-উইকেট লেন্থের পরিবর্তে সে প্যাডের দিকে বল করতে শুরু করে।’
কৈফ পরামর্শ দেন,
বরুণকে আরও বেশি লেগ স্পিন করতে হবে এবং ব্যাটাররা কেন তাকে খেলা সহজ মনে করছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি খুব কম লেগ স্পিন করছেন। লেগ স্পিনের ওপর কাজ করতে হবে, কারণ এখন ব্যাটররা তার গুগলির জন্য অপেক্ষা করছে। বল স্টাম্পের দিকে আসছে, তাই তারা এটিকে অফ-স্পিনারের মতো ধরে নেয় এবং ভেতরে ঘুরবে মনে করে। তাই অনেকেই তাকে লং-অন বা সরাসরি ব্যাটে সহজে মারতে পারছে।’
বরুণকে আরও বেশি লেগ স্পিন করতে হবে এবং ব্যাটাররা কেন তাকে খেলা সহজ মনে করছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করেন,
‘এই বিশ্বকাপে আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি খুব কম লেগ স্পিন করছেন। লেগ স্পিনের ওপর কাজ করতে হবে, কারণ এখন ব্যাটররা তার গুগলির জন্য অপেক্ষা করছে। বল স্টাম্পের দিকে আসছে, তাই তারা এটিকে অফ-স্পিনারের মতো ধরে নেয় এবং ভেতরে ঘুরবে মনে করে। তাই অনেকেই তাকে লং-অন বা সরাসরি ব্যাটে সহজে মারতে পারছে।’
এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপে ভারতের সব ম্যাচেই খেলেছেন বরুণ। কুলদীপ যাদবের পরিবর্তে তাঁর ওপরই ভরসা
রেখেছে ভারত। আগামীকাল সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা।
ফাইনাল নিশ্চিতের মঞ্চে নিজের চেনা রূপ দেখাতে পারেন কি না বরুণ সেটাই দেখার এখন।