
সিরিজ আগেই হেরেছে ভারত। শেষ ওয়ানডে ছিল ধবলধোলাই এড়ানোর। পাশাপাশি বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ছন্দে ফেরাটাও দেখতে চেয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সবকিছুই যেন পেল ভারত। সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ৬৯ বল বাকি থাকতে ৯ উইকেটের দাপুটে জয় পেয়েছে সফরকারীরা।
আগের ম্যাচে মন্থর ফিফটি পাওয়া রোহিত আজ পেলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। আগের দুই ম্যাচে ডাক মেরে ফেরা কোহলি আজ ফিফটি করে অপরাজিত ছিলেন। বোলিংয়ে হার্ষিত রানার দুর্দান্ত এক স্পেলেই ধসে পড়ে অজিদের ব্যাটিং।
১৮৩ রানে ৩ উইকেট থেকে হার্ষিতের তোপেরমুখে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ৪৬.৪ ওভারে ২৩৬ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। স্বাগতিকদের দেওয়া ২৩৭ রানের লক্ষ্য ১ উইকেট হারিয়ে অনায়াসে তাড়া করে সফরকারীরা।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ওপেনিং জুটিতে ভালো শুরু পায় ভারত। দুই ওপেনার রোহিত ও অধিনায়ক শুবমান গিল ১০.২ ওভারে যোগ করেন ৬৯ রান। ওয়ানডে নেতৃত্বে অভিষেক সিরিজ করতে পারেননি গিল। আগের দুই ম্যাচ ব্যর্থ হওয়ার পর আজ ফেরেন ২৬ বলে ২৪ রান কের।
দ্বিতীয় উইকেটে কোহলি-রোহিতের ১৭০ বলে ১৬৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৩৮.৩ ওভারে জয় নিয়ে ওঠে ভারত। ৩৩তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করে ১২৫ বলে ১২১ রানে অপরাজিত থাকেন রোহিত। ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও ৩টি ছক্কা। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ৫০ ওভারের ম্যাচে সর্বোচ্চ ৬টি সেঞ্চুরি এখন এই ভারতীয় ওপেনারের। ৫টি করে সেঞ্চুরি কোহলি ও শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারার।
৮১ বলে ৭৪ রান করেন কোহলি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার। এই ইনিংসের সৌজন্যে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এখন কোহলি (১৪২৫৫)। ছাড়িয়ে গেছেন সাঙ্গাকারাকে (১৪২৩৪)। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন জশ হ্যাজলউড।
তার আগে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত শুরু পায় অস্ট্রেলিয়া। ওপেনিং জুটিতে ৯.২ ওভারে তোলে ৬১ রান। ট্রাভিস হেড ফেরেন ২৯ রানে। দলীয় ৮৮ রানে আউট হন আরেক ওপনোর মিচেল মার্শ (৪১)। কার্যকর ইনিংস খেলেছেন ম্যাট রেনশো (৫৬)। অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কোনোলি ও ম্যাথু শর্টরা থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন।
১৮৩ রান পর্যন্ত ৩ উইবেট ছিল অজিদের। সেখান থেকে কোনোলি, ক্যারি ও মিচেল ওয়েনকে ফিরিয়ে ধস নামান হার্ষিত। যার সৌজন্যে ২৩৬ রানে অজিদের আটকে রাখে ভারত। ৩৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন এই পেসার। ম্যাচ ও সিরিজসেরা হয়েছেন রোহিত। আগামী বুধবার থেকে শুরু হবে দুই দলের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
No posts available.
৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬:২৪ পিএম

আইপিএলে গতকাল রাতে খাদের কিনারা থেকে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসকে (এলএসজি) জয় এনে দিয়েছেন মুকুল চৌধুরী। এতেই রাতারাতি ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন সেনসেশনের আলোচনায় এই ব্যাটার। পেশি শক্তি দেখানোর পর জানালেন, প্রতিদিন ১০০-১৫০ ছক্কা মারার অনুশীলন করেন তিনি।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ চার ওভারে লক্ষ্ণৌর প্রয়োজন ছিল ৫৪ রান, উইকেট ছিল ৩টি। শুরুতে ৫ বলে মাত্র ১ রান করা মুকুল পরের ২২ বলে তাণ্ডব চালিয়ে যোগ করেন ৫৩ রান।
সব মিলিয়ে ২৭ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন মুকুল। ইনিংসে ছিল ৭টি ছক্কা ও ২টি চার। মুকুলের অনবদ্য ইনিংসে চড়ে শেষ বলে ৩ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নেয় লক্ষ্ণৌ। নিজেদের মাঠ ইডেন গার্ডেনসে নিশ্চিত জয়ের পথে থাকা ম্যাচ ফসকে যায় কলকাতার।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের পাওয়ার হিটিং সম্পর্কে একটু ধারণা দিলেন মুকুল। হঠাৎ অলৌকিক কোনো শক্তি কাজ করেনি, জানিয়েছেন নিয়মিত অনুশীলনেই এই সফলতা। বললেন,
‘প্রাকৃতিকভাবেই আমার শরীরে অনেক শক্তি আছে। এ ছাড়া প্রতিদিন ১০০-১৫০টি ছক্কা মারার অনুশীলন করি, যা ব্যাটের গতি বাড়াতে সহায়তা করেছে।’
১৭তম ওভারে বৈভব অরোরাকে হেলিকপ্টার শট মারেন মুকুল। মারাটা্ও স্বাভাবকি। হেলিকপ্টার শটে পারদর্শী মহেন্দ্র সিং ধোনিকেই তো আদর্শ মানেন মুকুল। সে প্রসঙ্গ এল সংবাদ সম্মেলনেও,
‘শৈশব থেকেই আমি এই শটটি অনুশীলন করছি। ধোনি ভাই যেভাবে ম্যাচ শেষ করতেন, সেটি আমার খুব প্রিয়। ইয়র্কার বলেও ছক্কা মারলে বোলার ঘাবড়ে গিয়ে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করে, আমি সেই সুযোগটাই নিয়েছি।’
২০২৫-২৬ মৌসুমের সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে রাজস্থানের হয়ে ১৯৩.৮৫ স্ট্রাইক রেটে ১৭৩ রান করার পরই মুকুলের ওপর নজর পড়ে লক্ষ্ণৌর। ২ কোটি ৬০ লাখ রুপিতে তাঁকে দলে ভেড়ানোর পর কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার বলেছিলেন, চার মাসের মধ্যে মুকুল ভারতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ৬ বা ৭ নম্বর ব্যাটার হয়ে উঠবে।
কলকাতার বিপক্ষে জয়ের পর মুকুলের ব্যাপারে কোচ ল্যাঙ্গারের স্তুতি,
‘ওর চোখে আমি ক্ষুধা দেখেছি। সে এখনো অনেক তরুণ। এই জয়টি তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারের জন্য একটি বিশাল মুহূর্ত হয়ে থাকবে।’

ব্যাট হাসছিল না অনেক দিন। সমালোচনার তীরে হচ্ছিলেন বিদ্ধ। জাতীয় দলে বিবর্ণ বাবর আজম পিএসএলেও সুবিধা করতে পারছিলেন না। অবশেষে রুদ্ররূপে দেখা গেল পাকিস্তানের টপ অর্ডারের এই ব্যাটারকে। করাচি কিংসের বিপক্ষে খেললেন ঝোড়ো ইনিংস। দুর্দান্ত ইনিংসে নাম লিখিয়েছেন বিশ্বরেকর্ডেও।
পিএসএলে আজ করাচি কিংসের বিপক্ষে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেটে ২৪৬ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় পেশোয়ার জালমি। কুশল মেন্ডিসের ঝোড়ো সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক বাবর আজমের অপরাজিত হাফ-সেঞ্চুরির পর আব্দুল সামাদের শেষের তাণ্ডবে রানের পাহাড় গড়ে পেশোয়ার জালমি।
স্কোরবোর্ডে কোনো রান না যোগ হতেই প্রথম উইকেট হারনোর পর বাবর আজম ও কুশল মেন্ডিস মাত্র ৯৭ বলে ১৯১ রানের অসাধারণ এক জুটি গড়েন। আব্বাস আফ্রিদির বলে ক্যাচ তোলার আগে ৫২ বলে ১০৯ করেন মেন্ডিস। ১৪ চার ও ৪ ছক্কায় দারুণ এই ইনিংস সাজিয়েছেন লঙ্কার এই ব্যাটার।
অপরপ্রান্তে ৫১ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন বাবর আজম। এই ইনিংস খেলার পথেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরও একটি বিশ্ব রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন ৩১ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই ক্রিকেটে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে ১২,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
মাত্র ৩৩৮ ইনিংসে ১২,০০০ রান পূর্ণ করে বাবর এই বিশ্ব রেকর্ডটি নিজের ঝুলিতে পুরলেন বাবর। এই মাইলফলক স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিস গেইলের বিশ্ব রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন তিনি। গেইল ১২,০০০ রান পূর্ণ করতে খেলেছিলেন ৩৪৩টি ইনিংস। ভারতের বিরাট কোহলি এই উচ্চতায় পৌঁছাতে সময় নিয়েছিলেন ৩৬০টি ইনিংস, আর অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার এই রান পূর্ণ করেছিলেন ৩৬৮টি ইনিংসে। তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে বাবর আজম এখন তালিকার শীর্ষে।
এছাড়া দ্বিতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ১২,০০০ রানের গণ্ডি পার করলেন বাবর। তাঁর আগে একমাত্র পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন শোয়েব মালিক।
১৭তম ওভারে মেন্ডিস ও মাইকেল ব্রেসওয়াল ফেরার পর শেষ দিকে আব্দুল সামাদকে নিয়ে ৪৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন বাবর। সামাদ মাত্র ১২ বলে ৪০ রানের এক ক্যামিও ইনিংস খেলে পেশোয়ারের স্কোরকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান।

অবশেষে আশার আলো দেখা গেল ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে। অচলাবস্থা পেরিয়ে মিলল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আভাস। চলতি মাসের শেষ দিকে বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে মাঠে গড়াবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোকে নিয়ে সভা করেছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির বর্তমান এডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালও।
প্রিমিয়ার লিগের ১২টি ক্লাবের মধ্যে ১০টির প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এই সভায়। ব্যস্ততায় আসতে পারেননি লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের প্রতিনিধি। তবে তাদেরও সভায় আলোচ্য বিষয়গুলোতে সম্মতি আছে বলে জানিয়েছেন অন্য ক্লাবের প্রতিনিধিরা।
সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে শীঘ্রই প্রিমিয়ার লিগ শুরুর ব্যাপারে ইতিবাচক কথা বলেন ক্লাব প্রতিনিধিরা। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিনিধি হয়ে আসা জিয়াউর রহমান তপু জানান, আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে তারিখের মধ্যে শুরু হতে পারে প্রিমিয়ার লিগ।
এর আগে দলবদলের সম্ভাব্য সময় ২২ এপ্রিল। সেদিন নিজেদের স্কোয়াড সাজিয়ে নেবে ক্লাবগুলো।
এমনিতে সাধারণত রাউন্ড রবিন লিগের পর সুপার লিগ দিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণ হলেও, এবার সময় স্বল্পতায় বাদ দেওয়া হবে সুপার লিগ। শুধু সিঙ্গেল লিগের ১১ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে কোন ক্লাবের ঘরে যাবে এবারের ট্রফি।
আগের বছরগুলোতে খেলা হতো তিনটি ভিন্ন মাঠে। ফলে এক রাউন্ডের খেলা শেষ করতে লেগে যেত দুই দিন। এবার তাই ছয়টি মাঠ ব্যবহার করে এক দিনেই একটি করে রাউন্ড শেষ করার পরিকল্পনা বিসিবির।
বসুন্ধরা স্পোর্টিং ক্লাব, পুবেরগাঁও ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (পিকেএসপি), সিলিকন স্পোর্টস ভ্যালি, ক্রিকেটার্স একাডেমিতে হতে পারে এবারের লিগের খেলা।
প্রিমিয়ার লিগের পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য প্রতিটি ক্লাবকে ২৫ লাখ টাকা করে দেবে বিসিবি। এর বাইরে দুপুরের খাবারও সরবরাহ করবে বোর্ড। আর ক্লাবগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম সিসিডিএমের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ক্লাব প্রতিনিধিরা।
এর বাইরে বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি রাউন্ডের মাঝে এক দিন রিজার্ভ ডে রাখার ব্যাপারেও আলোচনা হয় সভায়। তবে এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলবদলের তারিখ বা লিগ শুরুর সূচি যথাসময়ে জানিয়ে দেবে বিসিবি।

ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তের শেষ সাক্ষী সিডি গোপীনাথ ৯৬ বছর বয়সে চেন্নাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ভারতের প্রবীণতম টেস্ট ক্রিকেটার এবং অস্ট্রেলিয়ার নীল হার্ভের পর বিশ্বের দ্বিতীয় প্রবীণতম জীবিত টেস্ট খেলোয়াড় ছিলেন তিনি।
১৯৫২ সালে চেন্নাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত যখন তাদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয় পায়, সেই একাদশের সর্বশেষ জীবিত সদস্য ছিলেন গোপীনাথ। ১৯৩০ সালের ১ মার্চ জন্ম নেওয়া গোপীনাথ ভারত এবং মাদ্রাজের হয়ে ৮টি টেস্ট এবং ৮৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৫১ সালে মুম্বাইয়ের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়। ১৯৬০ সালে ইডেন গার্ডেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলেন।
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টিতে ৯ উইকেট নিয়ে ব্রাজিলিয়ান পেসারের ইতিহাস |
|
সিডি গোপীনাথের মৃত্যুতে তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (টিএনসিএ) গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তারা লিখেছে,
‘শান্তিতে ঘুমান সিডি গোপীনাথ! ভারতীয় ক্রিকেটের একজন প্রকৃত পথিকৃৎ এবং ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়া সেই ঐতিহাসিক দলের শেষ জীবিত সদস্য। আপনার কীর্তি ক্রিকেটের সমৃদ্ধ ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।’
টেস্ট অভিষেকে ৮ নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে গোপীনাথ তাঁর প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ৫০ রান করেছিলেন, যা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর। সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২ রান করেন তিনি, ম্যাচটি ড্র হয়। তবে তাঁর অভিষেক সিরিজের পঞ্চম টেস্টটি ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের এক অনন্য মাইলফলক। চেন্নাইয়ে নিজেদের ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে ইনিংস এবং ৮ রানে হারিয়ে ভারত তাদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয় তুলে নেয়। সেই ম্যাচে গোপীনাথ করেছিলেন ৩৫ রান।
২০২৪ সালে ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐতিহাসিক সেই স্মৃতি রোমন্থন করে গোপীনাথ বলেন,
‘যুক্তরাজ্য থেকে কিছু মানুষ এসে ১৯৫২ সালে ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের ওপর আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। তারা সম্ভবত একটি বই লিখতে বা ভিডিও বানাতে যাচ্ছিলেন। আমি তাদের বললাম—“একটি মাত্র টেস্ট ম্যাচের ওপর আপনারা বই লিখবেন কীভাবে? একটা পুরো মৌসুম বা পাঁচ টেস্টের সিরিজ নিয়ে লিখলে তাও ঠিক ছিল। শুধু এই ম্যাচটা কেন? এত লেখার কী আছে এটা নিয়ে?”
তারা জবাবে বলেছিল,
“না, আমরা মনে করি এই জয়টি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট বা মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা।” একদিক থেকে কথাটি সত্যি ছিল। আর আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি যে, আমি ভারত এবং মাদ্রাজ—উভয় দলের হয়েই এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হতে পেরেছি।’
আরও পড়ুন
| ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে নতুন সিদ্ধান্ত রশিদ খানের |
|
আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম—আপনারা আর কার কার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন? তারা বলল,
'আর কারোরই নয়, কারণ সেই দলের কেউ আর বেঁচে নেই। ওই দলের একমাত্র সদস্য হিসেবে আপনিই বেঁচে আছেন।' তখন আমি মজা করে বলেছিলাম, “তার মানে তো এখন আমি যা খুশি বলতে পারি (যেহেতু প্রতিবাদ করার মতো কেউ বেঁচে নেই)!'"
গোপীনাথ তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করেন ১২ ইনিংসে ২৪২ রান নিয়ে। অন্যদিকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর রেকর্ড ছিল বেশ উজ্জ্বল; সেখানে ৮৩ ম্যাচে ৪২.১৬ গড়ে তিনি ৪২৫৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। গোপীনাথের প্রয়াণের পর, ৯৫ বছর বয়সী চন্দ্রকান্ত পাটানকর এখন ভারতের প্রবীণতম জীবিত টেস্ট ক্রিকেটার। পাটানকর ১৯৫৬ সালে ইডেন গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নতুন ইতিহাস গড়ে ফেললেন লরা কারদোসো। ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই সংস্করণে এক ইনিংসে ৯ উইকেট নিলেন ব্রাজিল নারী ক্রিকেট দলের ২১ বছর বয়সী পেসার।
বতসোয়ানায় বিসিএ কালাহারি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে লেসোথোর বিপক্ষে ম্যাচে ৩ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে ৯ উইকেট নিয়েছেন কারদোসো। নারী ও পুরুষ মিলিয়েই, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে আর কোনো বোলার ৮ উইকেটের বেশি নিতে পারেননি।
গত ডিসেম্বরে মায়ানমায়ারের বিপক্ষে ৪ ওভারে এক মেডেনসহ ৭ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন ভুটান পুরুষ দলের বাঁহাতি স্পিনার সোনাম ইয়েশে। তার রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ব্রাজিলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার কারদোসো।
আরও পড়ুন
| চলে গেলেন ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের শেষ সাক্ষী |
|
মেয়েদের টি-টোয়েন্টিতে এত দিন সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটি ছিল ইন্দোনেশিয়ার রোহমালিয়া রোহমালিয়ার। ২০২৪ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে কোনো রান খরচ না করে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন রোহমালিয়া।
কারদোসোর ইতিহাস গড়ার ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২০২ রান করে ব্রাজিল। দলের পক্ষে ৪১ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন মনিকে মাচাদো। এছাড়া রবার্টা এভেরির ব্যাট থেকে আসে ৩৫ বলে ৪৮ রান।
পরে লেসোথোর ইনিংসে দ্বিতীয় ওভার থেকে তাণ্ডব শুরু করেন কারদোসো। ওভারের শেষ তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক করেন তিনি।
আরও পড়ুন
| ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে নতুন সিদ্ধান্ত রশিদ খানের |
|
পরের ওভারে প্রথম দুই বলে আরও দুই উইকেট নিয়ে টানা ৫ বলে ৫ উইকেটের কীর্তি গড়েন ২১ বছর বয়সী পেসার। ওই ওভারে তিনি নেন আরও দুই উইকেট। অর্থাৎ প্রথম দুই ওভারে ৭ উইকেট পেয়ে যান কারদোসো।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আরও ২ উইকেট নিয়ে ৯ উইকেটের ইতিহাস গড়েন ব্রাজিলিয়ান এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। আর সপ্তম ওভারে মারিয়ান আর্তুর শেষ উইকেটটি নিলে ১৩ রানে গুটিয়ে যায় লেসোথো।