১৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

টেস্ট অভিষেকের ১৬ বছর ৪ মাস ৫ দিন পর ১০০ টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই মাইলস্টোন টেস্টকে বিশেষ মর্যাদায় উদযাপনে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সাধ্যমত চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের শততম টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখতে মাঠে খেলা গড়ানোর আগে বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট।
খেলা শুরুর আধঘণ্টা আগে টসের পর দুই দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম-রঙ্গনা হেরাথ নিজেদের মধ্যে পতাকা বদল করেছেন। এরপর ঠিক প্যাভিলিয়নের সামনে শততম টেস্ট উদযাপনে বিশেষ আয়োজন পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেজে ওঠেছে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত। এর সঙ্গে উত্তোলন করা হয় দুই দেশের পতাকা ও আইসিসিরি পতাকা। শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও বিসিবি সভাপতি বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ১০০তম টেস্ট উপলক্ষে ঢাকা থেকে ক্রিকেটারদের জন্য আনা নীল রঙের ব্লেজার এবং বিশেষ টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দেয়া হয় ঐতিহাসিক টেস্টে প্রতিনিধিত্বকারীদের। দু’প্রান্তে বাংলাদেশের পতাকা নেড়ে একদল শিশু-কিশোর নীল গালিচায় ক্রিকেটারদের গার্ড অব অনার দিয়েছে।
বাংলাদেশের শততম টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ পদক তৈরি করে রেখেছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। সেই পদকগুলো ক্রিকেটারদের গলায় পরিয়ে দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতি সুমাথিপালা। বিশেষভাবে তৈরি করা মেডেলগুলোতে লেখা ছিল- ‘কংগ্রাচুলেশন অন দ্য সেঞ্চুরি টেস্ট ম্যাচ প্লেড বাই বাংলাদেশ।’
এছাড়া লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড বিসিবির তৎকালীন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকেও দিয়েছে বিশেষ উপহার। হাতির একটি মূর্তিকে রূপালি রঙের প্রলেপ দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে কাচের বক্সের ফ্রেম আকারে তুলে দেয়া হয় বিসিবি সভাপতির হাতে। এক ফ্রেমে দুই দল বন্দি হয়েছে ফটোসেশনে, পরে উড়েছে লাল-সুবজ রঙের বেলুন।
নিউ জিল্যান্ডের ডানেডিনে বাংলাদেশের ৫০তম টেস্ট উদযাপনে শুধু স্বাক্ষীই নয়, ওই টেস্ট স্মরণীয়ভাবে উদযাপনে ঢাকা থেকে আমার আইডিয়া এবং বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেট ফ্যান ক্লাব বেঙ্গল টাইগার্সের অর্থায়নে ৫০টি চাবির রিং, এবং দুটি ক্রেষ্ট বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেই টেস্টের প্রথম দিনে লাঞ্চ ব্রেকের সময় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়কে দিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল এবং নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক ভেট্টরির হাতে আমি এবং দুর্জয় তুলে দিয়েছিলাম ওই দুটি বিশেষ ক্রেস্ট। বাংলাদেশের ৫০তম টেস্ট কভার করতে যাওয়া বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ড সাংবাদিকদের সবাইকে এবং দুদলের ক্রিকেটারদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম বিশেষ স্মারক চাবির রিং।
শততম টেস্টকে সামনে রেখে গণমাধ্যমের অজান্তে এমন কিছুর পরিকল্পনা ছিল এবং তা বাস্তবায়ন করেছি। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের তৎকালীন সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন ভাইকে রাজি করিয়ে ১০০টি চাবির রিং বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমার পরিকল্পনায় শততম টেস্ট উপলক্ষ্যে একটা বিশেষ কেকও অর্ডার দিয়ে বানিয়েছিলেন তিনি। শততম টেস্টের আগের রাতে একটা সৌজন্য ডিনারে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবং বাংলাদেশ থেকে শততম টেস্ট কভার করতে আসা সাংবাদিকদের সম্মানে আপ্যায়িত করেছিলেন তিনি। বিসিবি থেকে যে উদ্যোগ নেয়ার কথা, সেই উদ্যোগটা মামুন ভাই নিয়ে বিপদে পড়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজার এবং বিসিবির তৎকালীন পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন ক্ষুব্ধ হয়ে কেকের উপর চালিয়েছেন ক্রোধ! উপস্থিত সাংবাদিক, ক্রিকেটাররা হতভম্ব হয়েছেন তার এই আচরণে। অথচ, পরদিন বেঙ্গল টাইগার্সের সাব্বির আহমেদ রুবেল, গোলাম ফারুক ফটিকের সঙ্গে মুশফিকুর রহিম এবং রঙ্গনা হেরাথকে ম্যাচ ভেন্যুতে দিয়েছি শততম টেস্টের বিশেষ ক্রেস্ট, তখন কিন্তু ওই ক্রেস্ট দিতে এগিয়ে এসেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন।
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া মিলিয়ে বাংলাদেশের শততম টেস্টে কভার করেছেন যেসব সাংবাদিক, তাদের সবার নাম এবং স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি। টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশের শততম টেস্ট স্কোয়াডের সবার অটোগ্রাফ নিয়েছি। এসব দিয়ে বিশেষ ডিজাইনেকাঠের উপর লেজার কাটিং করে স্মরণীয় স্মৃতি সংগ্রহে রেখেছি। টেস্ট সিরিজের ট্রফিটি ঢাকা থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই সিরিজের টাইটেল স্পন্সরশিপ করা আবু নেওয়াজ সোহাগ। আমার উচ্ছ্বাস দেখে ট্রফিতে আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। শততম টেস্ট জয়ের সেই ট্রফিকে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ফটো সেশনের আগেই কিন্তু ট্রফিটি উঠেছিল আমার হাতে!
১৯ মার্চ, ২০১৭-কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের শততম টেস্ট জয় দিয়ে উদযাপন। এমন একটি দিন, এমন একটি গর্বিত মাইলস্টোন কেনো বিসিবিকে মনে করিয়ে দিতে হবে, কেনো দিনটি বিশেষ মর্যাদায় উদযাপিত হবে না ? এটাই প্রশ্ন।
No posts available.
১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৫০ পিএম

ভারতের পেশাদার টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নাম ব্যবহারকে অবৈধ দাবি করে করা এক জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছেন কেরালা হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড তাদের আয়োজিত লিগের জন্য ‘ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ’ নামটি বেআইনিভাবে ব্যবহার করছে। আবেদনকারী আশিক কারোথ, যিনি নিজেকে সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন, এ দাবি তোলেন।
প্রধান বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি শ্যাম কুমার ভি এমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ যুক্তি নাকচ করে দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আবেদনকারী সম্প্রতি জানতে পেরেছেন যে এই লিগটি দেশের আনুষ্ঠানিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়—যদিও এটি বহু বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
রায়ে আদালত বলেন, উত্থাপিত যুক্তির মধ্যে কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাই এটিকে জনস্বার্থ মামলা হিসেবে চালিয়ে নেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
আইপিএল আয়োজন ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও এসেছে। কর্ণাটক সরকার ২০২৬ মৌসুমে বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে দলটির প্রথম শিরোপা জয়ের পর স্টেডিয়ামে পদদলিত হওয়ার ঘটনার কারণে কয়েক মাস অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা শেষে সরকার এই অনুমতি দেয়।
সূচি অনুযায়ী, এবারের আসর শুরু হবে ২৮ মার্চ। উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু মুখোমুখি হবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের।

আয়ারল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন পল স্টার্লিং। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ৩৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ওপেনার বলেছেন, ‘নতুন এক অধ্যায়ে যাওয়ার জন্য এখনই সঠিক সময় বলে মনে হয়েছে।’
২০২৩ সালে সাদা বলের ক্রিকেটে আয়ারল্যান্ডের অধিনায়কত্ব পান স্টার্লিং। চলতি বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি। তবে সেই আসরে চোটের কারণে মাঝপথেই তাঁর অভিযান থেমে যায়।
এক বিবৃতিতে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড জানিয়েছে, টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়লেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবেই থাকবেন স্টার্লিং। পাশাপাশি ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্বও চালিয়ে যাবেন তিনি।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে ভালোভাবে ভেবেছেন বলেও জানিয়েছেন স্টার্লিং। আয়ারল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়াকে তিনি নিজের জন্য বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেছেন,
'নিজ দেশের অধিনায়ক হওয়া গর্বের, একই সঙ্গে বড় দায়িত্বের। এই দায়িত্ব পালনের সময় যাদের সমর্থন পেয়েছি, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।'
সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, বোর্ড কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্টার্লিং। তাঁর ভাষায়,
'বিশ্বের যেখানেই খেলি, সমর্থকদের সমর্থন আমাদের অনুপ্রাণিত করে।'
টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব ছাড়লেও আয়ারল্যান্ডের হয়ে নিজের অবদান রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার,
'খেলোয়াড় হিসেবে আমার এখনও অনেক লক্ষ্য আছে। মনে করি, এই সিদ্ধান্ত আমাকে নিজের খেলায় আরও মনোযোগী হতে সাহায্য করবে।'
স্টার্লিং আরও মনে করেন, দলের জন্যও এটি নতুন পথে হাঁটার সময়। নতুন অধিনায়কের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন,
'নতুন অধিনায়ক তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনা ও দর্শন নিয়ে দলকে এগিয়ে নেবেন—আমি তাঁর পাশে থাকব।'
স্টার্লিংকে দারুণ নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল আসরে দলকে নেতৃত্ব দেওয়াই এখন স্টার্লিংয়ের প্রধান লক্ষ্য।
চলতি বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা প্রথম আইরিশ ক্রিকেটারও হয়েছেন স্টার্লিং। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৮-এর টিকিট আগেই নিশ্চিত করা আয়ারল্যান্ড এখন নতুন অধিনায়কের অধীনে পরবর্তী অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জুনে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই সেই যাত্রা শুরু হওয়ার কথা।

ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক হয়েও আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারেন জসপ্রিত বুমরাহ। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কেন্দ্রীয় চুক্তি কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের কারণে বছরে প্রায় ২ কোটি রুপি কম আয় হতে পারে এই পেসারের।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বুমরাহ। আট ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে ছিলেন যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ৪ উইকেটে ১৫ রানের বিধ্বংসী স্পেল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। টুর্নামেন্টজুড়েই বুমরাহর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেন।
তবে মাঠের এই সাফল্যের বিপরীতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিসিসিআই সম্প্রতি তাদের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সর্বোচ্চ ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি বাতিল করেছে। আগে এই ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা বছরে ৭ কোটি রুপি পেতেন। এই তালিকায় ছিলেন বুমরাহও ।
এই সিনিয়র ক্রিকেটারদের কেউ কেউ নির্দিষ্ট ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বুমরাহই কার্যত একমাত্র সব ফরম্যাটে নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির দাবিদার ছিলেন। কিন্তু নতুন কাঠামোয় সেই স্তরটি তুলে দেওয়ায় তাঁকে এখন ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে, যেখানে বার্ষিক পারিশ্রমিক ৫ কোটি রুপি—অর্থাৎ আগের তুলনায় ২ কোটি রুপি কম।
তবে বিষয়টি চূড়ান্ত নয় বলেই জানা গেছে। বিসিসিআইয়ের ভেতরে চুক্তি কাঠামো পুনর্বিবেচনার আলোচনা চলছে। বিশেষ করে, সব ফরম্যাটে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যেন আর্থিক মূল্যায়ন যথাযথ হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বুমরাহর মতো ক্রিকেটারের আয় কমে যাওয়া নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এদিকে এই পরিবর্তন শুধু বুমরাহ নয়, আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন এখনো নিচের ‘সি’ ক্যাটাগরিতে আছেন, যদিও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন।
সব মিলিয়ে বুমরাহ এখনো ভারতের বোলিং আক্রমণের অন্যতম স্তম্ভ। চুক্তির এই পরিবর্তনে সাময়িক আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা থাকলেও ভবিষ্যতে সংশোধিত কাঠামো বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে তা পুষিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য একটি বড় প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে—দলের কাঠামো বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কীভাবে খেলোয়াড়দের ন্যায্য আর্থিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।

পাকিস্তানের সালমান আলি আঘা আইসিসি পুরুষদের ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ার সেরা নবম স্থানে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বোলারদের তালিকায় আবারও শীর্ষ দশে ফিরেছেন। সবশেষ সাপ্তাহিক হালনাগাদে এমনটাই জানিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি।
সম্প্রতি বাংলাদেশে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে গেছে পাকিস্তান। মিরপুরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডেতে ৬৪ ও ১০৬ রানের দারুণ ইনিংস খেলায় সালমান ১৮তম স্থান থেকে উঠে যৌথভাবে নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতের লোকেশ রাহুলের সঙ্গে। আর প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ২৯ রানে ৩ উইকেট এবং ৩৪ রানে ২ উইকেট নেওয়ায় মিরাজ ৯ ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠেছেন।
অলরাউন্ডার তালিকাতেও উন্নতি করেছেন এই দুজন। সালমান যৌথভাবে দশম স্থানে উঠেছেন, আর মিরাজ দুই ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আছেন আফগানিস্তানের আজমাতুল্লাহ ওমরজাই।
এদিকে বাংলাদেশের তানজিদ হাসান তামিম সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করে ৩১ ধাপ এগিয়ে ৫৫তম স্থানে উঠেছেন। এছাড়া তাওহিদ হৃদয় দুই ধাপ এগিয়ে ৩২তম এবং লিটন দাস ১০ ধাপ এগিয়ে ৮২তম স্থানে পৌঁছেছেন।
বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে ৪৯ রানে ৪ উইকেট নেন। তাতে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ৪০তম থেকে উঠে ২৮তম স্থানে এসেছেন এই ডানহাতি পেসার। পাশাপাশি মুস্তাফিজুর ১৩ ধাপ এগিয়ে ৪৭তম এবং নাহিদ রানা ৬৫ ধাপ এগিয়ে ৯৮তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে না যাওয়ার রহস্য অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটির ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর |
|
পাকিস্তানের পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফ এক ধাপ করে এগিয়ে যথাক্রমে ১৭ ও ১৯ নম্বরে উঠেছেন। তিন ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছেন শাহীন, আর দুই ম্যাচে ৬ উইকেট রউফের। তাঁদের আগে পাকিস্তানের একমাত্র বোলার হিসেবে ১৩তম স্থানে আছেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ।
অন্যদিকে, আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৪ ওভারে ৮ রান খরচায় এক উইকেট এবং ও ভারে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। তাতে শর্টার ফরম্যাটের বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে ২৪তম থেকে ১৩তম স্থানে উঠেছেন বাঁহাতি স্পিনার স্যান্টনার।
নিউ জিল্যান্ডের পেসার লকি ফার্গুসন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হ্যামিল্টনে দ্বিতীয় ম্যাচে ১৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ৬৯তম থেকে ৫১তম স্থানে উঠে এসেছেন। আর দক্ষিণ আফ্রিকার ওটনেইল বার্টম্যান ২ ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে ৯৬তম থেকে ৭৩তম স্থানে উঠেছেন। এছাড়া নিউ জিল্যান্ডের ওপেনার ডেভন কনওয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে ৬০ রান করে ৭০তম স্থানে উঠে এসেছেন।

১৭ মার্চ বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটি স্মরণীয় দিন। ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এই দিনে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দিয়ে অবিশ্বাস্য কৃতি গড়েছে। ত্রিনিদাদের কুইন্স পার্ক ওভালে সেই জয়ের সেই স্বাক্ষী আমিসহ বাংলাদেশের ৮ ক্রীড়া সাংবাদিক। স্মৃতির ঝাঁপি থেকে সেই জয়ের অপ্রকাশিত গল্পটাই টি-স্পোর্টসের পাঠকদের কাছে তুলে ধরছি।
ফ্লাইটটা ছিল ঢাকা-দোহা-লন্ডন-টোবাগো। একটু বোকামিই করেছি আমাদের তিন সাংবাদিক ( দৈনিক ইনকিলাবের শামীম চৌধুরী, আজকের কাগজের মহিউদ্দিন পলাশ, এসটিভির জোনায়েত হোসেন) এবং বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম। ত্রিনিদাদ এবং টোবাগো একটি দেশ, সুতরাং টোবাগোর টিকিট কাটলে ট্যাক্সিতে করে সেখান থেকে ত্রিনিদাদে যেতে পারব, এটাই ধরে নিয়েছিলাম। গল্পটা পরে বলছি। বিশেষ ডিসকাউন্টে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় ফ্লাইট টিকিটটা কেটেছিলাম। ঢাকা থেকে সকাল ৬টার ফ্লাইটে ওঠার পর আমাদের ৪ যাত্রীকে ঢাকা-দোহা রুটে ইকোনমি ক্লাস থেকে উন্নীত করে বিজনেস ক্লাসে বসিয়ে দেয়া হলো। আপ্যায়ন সুবিধাও পেলাম আমরা বিজনেস ক্লাসের। ভ্রমনের শুরুটা রোমাঞ্চ দিয়ে। দোহায় ১১ ঘন্টা ট্রানজিট। এই সময়টা বিমানবন্দরে বসে কাটাতে হয়নি। তখন কাতার এয়ারওয়েজের লম্বা সময়ের ট্রানজিট যাত্রীরা পেতো দোহায় হোটেল সুবিধা। সেই সুবিধা পেয়েছি আমরা। বিমানবন্দর থেকে হোটেল এবং হোটেল থেকে পুনরায় বিমানবন্দরে আমাদের পৌছে দিয়েছে হোটেলের ট্রান্সপোর্ট। যাত্রাপথে পরিচয় হয়েছে তৌসিফ নামের এক বাংলাদেশীর সঙ্গে। ঢাকায় একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডার এই ছেলেটিও তার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতে ত্রিনিদাদে যাচ্ছেন। এবং ভুলক্রমে তার রুটের গন্তব্যও টোবাগো। দোহা থেকে লন্ডন গ্যাটউইক পৌছে দেড় ঘন্টার ট্রানজিটে দৌড়ের উপর ছিলাম। স্মোকার্স জোনে ঢুকে দেখি এলাহী কাণ্ড। গায়ে গায়ে দাঁড়িয়ে ধুমপায়ীরা করছে ধুমপান। ধুঁয়ার কুণ্ডলী এতোটাই যে, সামনে দাঁড়ানো ধুমপায়ীর চেহারা পর্যন্ত ধূসর। ধুমপায়ী না হয়েও জোনায়েত আমাদের সঙ্গ দিতে এসেছে। পর পর দুটি সিগারেট টেনে বন্ধু পলাশ এবং রাবিদকে নিয়ে যখন বিমানের বোর্ডিং গেটে পৌছে গেলাম, তখন চেক ইন-এর সময়ে জুনায়েত প্যান্টের পকেট, কেবিন ব্যাগে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না পাসপোর্ট। দ্রুত বোর্ডিং গেটে চেক ইন কাউন্টারে বলা হলো জোনায়েতের পাসপোর্ট মিসিংয়ের খবরটা এনাউন্স করতে। ইংল্যান্ডের ইমিগ্রেশন আইনে পাসপোর্ট হারনো মহা অপরাধ। অনেকে ব্রিটেনে থেকে যেতে এই অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকে, সে কারণেই আমরা একটু বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। কোথায় পাসপোর্ট হারিয়ে যেতে পারে, তার সম্ভাব্য স্থান হতে পারে স্মোকার্স জোন। কিন্তু ভার্জিন আটলান্টিক বিমানে আমাদের তিনজনের বোর্ডিং হয়ে গেছে বলে জোনায়েতকে এটাই দৌঁড়ে যেতে হলো সেখানে। কিন্তু আমরাও নাছোড়বান্দা, যতোক্ষণ পর্যন্ত না জোনায়েত পাসপোর্ট নিয়ে আসে, ততোক্ষন পর্যন্ত আমরা ফ্লাইটে ঢুকব না। আমাদের জন্য ফ্লাইটটা নির্ধারিত সময় পার করে ছেড়েছে। স্মোকার্স জোন থেকে জোনায়েত পাসপোর্ট উদ্ধার করে উসাইন বোল্টের গতিতে দৌড়ে বোর্ডিং গেটে এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শুকিয়ে যাওয়া মুখগুলো ভরে উঠেছে বিশ্বজয়ের হাসিতে।
ফ্লাইটে উঠে দেখি জাম্বো জেটটির ইকোনমি ক্লাসের অধিকাংশ আসন ফাঁকা। ফলে এক একজন চারটি করে আসন নিয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পাড়ি দিয়েছি আটলান্টিক মহাসাগর। করেছি নাক ডাকার কম্পিটিশন। সাড়ে ১১ ঘন্টা জার্নি শেষে টোবাগোতে ল্যান্ডিংয়ের সময়ে মনে হলো এই বুঝি ক্যারিবিয়ান সী'র নীল জলরাশির উপর ফ্লাইটটি নামিয়ে দেয়া হলো।
ভার্জিন আটলান্টিক ফ্লাইট থেকে নেমে টোবাগোর এয়ারপোর্ট দেখে তো অবাক। ছোট্ট একটা টিনশেডের এয়ারপোর্ট। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে নেই কম্পিউটার। ম্যানুয়ালি পাসপোর্ট চেক করে ছেড়ে দিচ্ছে যাত্রীদের।
টোবাগো পৌছে জানতে পারলাম, ত্রিনিদাদ আর একটি পৃথক আইল্যান্ড! ওখানে যেতে হবে সী ফেরিতে করে। ট্যাক্সিতে করে যখন ফেরি ধরার উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলাম, তখন ট্যাক্সি ড্রাইভার টোবাগোর এক একটি বিল্ডিংয়ের বর্ননা দিতে থাকলেন। একটি ৪ তলা ভবন দেখিয়ে বললেন, এটাই এখানকার সবচেয়ে উচুঁ ভবন। ৫৫ হাজার মানুষের আইল্যান্ড টোবাগোতে একটা ৪ তলা ভবন, এটাই বা কম কিসের ? একটা ফেরি মিস করে পরেরটায় উঠতে পেলাম। দ্রুতগতির ফেরিতে সাড়ে তিন ঘন্টার সমুদ্র পথ পাড়ি। ফেরি না বলে ছোটখাটো ত্রুজ শিপ বলাই ভাল। ওই ফেরিতে কেএফসি-ম্যাগডোনালসের মতো খাবার দোকান আছে, আছে বার। ফেরির চারতলায় দাঁড়িয়ে দেখছি ক্যারিবিয়ান সী'র সৌন্দর্য, সমুদ্রের ঢেউ থেকে নোনতা পানির ছিটা লাগছে গায়ে। বাতাসের সঙ্গে প্রচণ্ড ঢেউ। ১ মিনিটের মধ্যে সিগারেটের আগুন ফিল্টারে চলে আসছে।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে ত্রিনিদাদ সমুদ্র বন্দরে এসে অভিভূত আমরা সবাই। রাবিদের রুম যেহেতু বাংলাদেশের টিম হোটেলে, ফিল্ডিং কোচ সালাউদ্দিনের সঙ্গে রুম শেয়ার করবে, তাই রাবিদ চিন্তা মুক্ত। কিন্তু আমরা তিনজনের কেউ হোটেল বুকিং দেইনি। আমাদেরকে খুঁজতে হবে হোটেল। যেহেতু বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিনিদাদের সময়ের ব্যবধান ১০ ঘন্টা, আগেভাগে নিউজ না পাঠালে অফিস থেকে কথা শুনতে হবে, তাই ত্রিনিদাদ সমুদ্র বন্দরে নেমে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, রাবিদের সঙ্গে টিম হোটেলে যেয়ে টিমের যাকে পাব, তার সঙ্গে কথা বলে প্রিভিউ করব। ত্রিনিদাদের হোটেল হিলটনে বাংলাদেশ-ভারতের আবাসন। একসঙ্গে দুদলের খেলোয়াড়দের দেখা সাক্ষাৎ। টিম হোটেলের খুব কাছাকাছি একটি ভারতীয় রেস্টুরেন্টে দুদলই রাতের ডিনার করে। ঠিক ডিনারের উদ্দেেশ্যে যখন টিম হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়বে বাংলাদেশ দল, তখন বাংলাদেশ অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনকে থামিয়ে প্রিভিউ রিপোর্টের কিছু তথ্য নিয়ে রাখলাম। তখনই সৌরভ, দ্রাবিড়ের সঙ্গে সুমনের হাই-হ্যালো দেখলাম।
টিম হোটেলে যেয়ে জানতে পারলাম, বাংলাদেশ থেকে আসা অগ্রবর্তী সাংবাদিক দলের ৪ জন উঠেছে ব্রায়ান লারার বিলাসবহুল বাড়ি ন্যাগস হিলের টপ-এ একটা অভিজাত হোটেলে। এক রুমের ভাড়া ১৪০ ডলার। টাকার অঙ্ক যা-ই হোক, সেই হোটেলে চেক ইন করলাম আমরা তিন সাংবাদিক। ওই হোটেলের খুব কাছাকাছি থাকেন একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার, ত্রিনিদাদে সে-ই আমাদের পথ প্রদর্শক। রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। বাংলাদেশের সঙ্গে সময় মিলিয়ে নিউজ পাঠানোর তাড়া।
এখানে একটা কথা বলতে হবে। আমি সবেমাত্র কম্পিউটারে লেখা শিখেছি। ল্যাপটপে কম্পোজ করা শিখিনি। ঢাকা থেকে যেদিন ত্রিনিদাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছি, সেদিনই আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবন থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি একটি এইচপি ব্রান্ডের ল্যাপটপ। বাংলা বিজয় কী বোর্ডের স্টিকার কিনে, সেখান থেকে একটা একটা করে অক্ষর ল্যাপটপের কী বোর্ডে লাগিয়েছি কম্পোজের জন্য। লিখতে লিখতে রাত পেরিয়ে গেছে। পরদিন সকাল ৬টায় হোটেলের বিজনেস সেন্টারে ১০ ডলার পে করে নিউজগুলো ই-মেইলে যখন পাঠানো শেষ, তখন শহীদুল আজম ভাই দিলেন দুঃসংবাদ, সড়ক দুর্ঘটনায় মানজারুল রানা এবং সেতুর মৃত্যুখবর। মাত্র ২২ বছর ৩১৬ দিন বয়সে মর্মান্তিক মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে মৃত্যুর রেকর্ডটা শোকাবহ পরিবেশ তৈরি করেছে। সকালের নাস্তা বাদ দিয়ে আমরা তিন সাংবাদিক ট্যাক্সিতে করে আগে টিম হোটেল, পরে অনুশীলন ভেন্যু কুইন্স পার্ক ওভালে গেলাম। প্রিয় বন্ধু হারানোর বেদনায় অনুশীলন বাদ দিয়ে মাশরাফি ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন, গায়ে জ্বর। ভারতের বিপক্ষে তার ম্যাচে খেলাটাই তাই ছিল অনিশ্চিত। এমন একটা শোকাবহ পরিবেশ দেখে আইসিসিকে বলে মানজারুল রানার স্মরণে ম্যাচের আগে ১ মিনিট নীরবতা পালনে টিম ম্যানেজার আলী আসিফ খানকে অনুরোধ করলাম। উনি আমার সেই অনুরোধ রেখেছেন। সঙ্গে কালো ব্যাজ ধারণ করে খেলেছে দুদল।
তখন ছিল ত্রিনিদাদে কার্নিভাল। অর্ধগ্ন হয়ে বিচিত্র পোশাকে ক্যারিবিয়ান তরুনীরা আমাদেরকে কুইন্স পার্ক ওভালে স্বাগত জানালো। ট্রিনি পোজ নামে স্টেডিয়াম ঘেঁষে একদল গান বাজনা গাইছে, চলছে হিন্দি গানও। স্টেডিয়ামের আবহ ভারতের মতো। প্রেস বক্সে এবং মিডিয়া ট্রিবিউনের প্রায় পুরোটা দখল ভারতীয় সাংবাদিকদের। টসে জিতে ভারত যখন ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বাংলাদেশকে রান পাহাড়ে চাপা দেয়ার গর্জন ভারত থেকে বিশ্বকাপ কভার করতে আসা সাংবাদিকদের। আগের বিশ্বকাপে (২০০৩) তারা ফাইনালিস্ট। সঙ্গেত কারনে 'বি' গ্রুপে তারা ফেভারিট। এই গ্রুপে থাকা শ্রীলঙ্কা ২০০৩ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালিস্ট। এমন এক গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের কোয়ালিফাই করে সুপার এইটে ওঠা অসম্ভবই বটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে একদিন থাকা মানে কম করে হলেও ১০০ ডলার খরচ। অন্যের খেলা কভারের কোনো মানে হয় না। বাংলাদেশ গ্রুপ রাউন্ডে থেমে যাবে, তা ধরে নিয়ে আমি, বন্ধু মহিউদ্দিন পলাশ এবং অনুজ জোনায়েত গ্রুপ রাউন্ড শেষে ঢাকা ফেরার টিকিট কনফর্ম করেছিলাম। কিন্তু একি! সৌরভ, দ্রাবিড়, শচীন, শেভাগ, যুবরাজ, ধোনী, হরভাজনকে নিয়ে গড়া সর্বকালের সেরা ভারত ক্রিকেট দলকে কি বিপর্যস্ত হতেই না দেখলাম। গায়ে জ্বর নিয়ে পেসার মাশরাফি (৯.৩-২-৩৮-৪), দুই বাঁ হাতি স্পিনার রাজ্জাক রাজ ( ১০-২-৩৮-৩), মোহাম্মদ রফিকের (১০-২-৩৫-৩) তোপে ছিন্নভিন্ন ভারতের ইনিংস গুটিয়ে গেল মাত্র ১৯১ রানে। এই বিপর্যস্থ চেহারার মধ্যেও সৌরভ খেললেন ৬৬ রানের ইনিংস। ধোনি, আগারকার, হরভাজন রানের মুখই দেখলেন না সেই ম্যাচে।
শ্লো এবং টার্নিং উইকেটে ১৯২ রান তাড়া করাও কম নয়। কারণ, জহির খান, আগারকারের মতো পেস অ্যাটাকের পাশাপাশি হরভাজন, যুবরাজের স্পিন চোখ রাঙানোর কথা। অথচ, সেই ম্যাচে আমাদের তিন তরুণ তামিম, মুশফিক, সাকিব জ্বলে উঠলেন ব্যাটিংয়ে। ১৮ বছর হতে তখন ৩ দিন বাকি। সেই তামিমের ইনিংসটি ছিল এক কথায় চোখ ধাঁধানো। ইনিংসের চতুর্থ বলে জহির খানকে স্কোয়ার লেগ দিয়ে তামিম বাউন্ডারি মেরে জানিয়ে দিলেন, আপসেটের পথে ভারত। মুনাফ প্যাটেলের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আসার আগে তামিমের নামের পাশে ৫৩ বলে ৫১। ৭ চারের পাশে ২টি ছক্কা। ছক্কা দুটি একটি মুনাফ প্যাটেলকে, অন্যটি জহির খানকে। মুনাফ প্যাটেলকে ছক্কা মেরেছেন তামিম ডাউন দ্য উইকেটে, জহির খানকে লং অনের উপর দিয়ে। মুশফিক শেষ পর্যন্ত ফিনিশার রোল প্লে করেছেন, ১০৭ বলে ৫৬ রানে ছিলেন অপরাজিত। হরভাজন সিংকে স্ট্রেইট এবং যুবরাজ সিংকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে মুশফিকুর রহিমের ছক্বাটি এখনও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মিডল অর্ডারে দলকে লিড দিতে সাকিবের ৮৩ বলে ৫৩ রানের ইনিংসটি পেয়েছে হাততালি। যে ইনিংসে হরভাজন সিংকে লং অফের উপর দিয়ে ছক্বাটি বিস্মিত করেছে সবাইকে। ৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে বাংলাদেশের জয়ে মিডিয়া ট্রিবিউনে থাকা ভারতীয় সাংবাদিকরা বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপ কভার করতে আসা সাংবাদিকদের তাৎক্ষনিকভাবে অভিনন্দিত করেছেন।
এই ম্যাচে হেরে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের অস্ট্রেলিয়ান কোচ গ্রেগ চ্যাপেল এবং অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড় পড়েছেন ভারত মিডিয়ার ঝাঁঝালো প্রশ্নের মুখে। এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল- 'দেশে কী ঠিক ঠাক মতো ফিরতে পারবে ভারত ক্রিকেট দল ?' ওই প্রশ্ন প্রকারান্তরে উসকে দিয়েছিল ভারতের উগ্র ক্রিকেট সমর্থকদের। রাঁচিতে ধোনির বাড়ি পুঁড়িয়ে দিয়েছে সেই উগ্র সমর্থকরা।
বাংলাদেশের কাছে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ হেরে গ্রুপ রাউন্ড থেকে বিদায়ঘন্টা বেজেছে ভারতের। ভারত থেকে যারা ভারতের ম্যাচ দেখতে যারা অগ্রীম টিকিট কেটে, হোটেল বুকিং দিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের কাছে ৫ উইকেটে হারের পর তারা বাতিল করেছেন তাদের সিডিউল। ফলে শেয়ার বাজারের দরপতনের মতো পতন হয়েছে বিশ্বকাপের। হোটেলে যে রুমের ভাড়া ছিল ১৫০ ডলার, তা এক লাফে নেমেছে ৮০ ডলারে।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের অপ্রত্যাশিত এই জয়ে আমি এবং বন্ধু পলাশ ফ্লাইটের রিটার্ন টিকিট পিছিয়ে নিয়েছি।
একটা কথা অপ্রকাশি থেকে গেছে। কেনো এভাবে অপ্রত্যাশিত জয় পেলো বাংলাদেশ ? ব্যক্তিগত এই প্রশ্নে বাংলাদেশ অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন মুচকি হেসে বলেছিলেন- 'দাদা'র ( সৌরভ গাঙ্গুলি) ইনিংসে ( ১২৯ বলে ৬৬) আমরা জিতেছি । অনুরোধ করেছিলেন, এই কথাটা যেনো রিপোর্টে না লিখি। ১৯ বছর পর লিখতে হলো সেই কথাটি।